I am Muslim
ALLAH
www.azadservice.com/category/ধর্ম-জীবন/
youtube.com/@azadislamicbd/videos?disable_polymer=1
22/02/2026
হাদিসের আলোকে সাহরির ফজিলত
রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহরির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাও; কেননা সাহরিতে রয়েছে বরকত।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
এই সংক্ষিপ্ত হাদিসে সাহরির ফজিলত অত্যন্ত সুস্পষ্ট। সাহরির মধ্যে এমন এক বরকত নিহিত, যা শুধু খাদ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা সময়, ইবাদত, স্বাস্থ্য ও জীবনের নানা ক্ষেত্রে বিস্তৃত।
অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমাদের রোজা ও আহলে কিতাবের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরি।’ (সহিহ মুসলিম)
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, সাহরি ইসলামের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এবং উম্মতে মুহাম্মদির জন্য বিশেষ সম্মান।
সাহরির বরকত ও কল্যাণ
সাহরির বরকত বহুমাত্রিক। প্রথমত, সাহরি রোজাদারকে দৈহিক শক্তি জোগায়, যা সারা দিন ইবাদত ও কর্মে সহায়ক। দ্বিতীয়ত, সাহরির সময় মানুষ ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর স্মরণে মশগুল হয়, দোয়া করে, ইস্তিগফার করে।
আল্লাহ তাআলা শেষ রাতে বান্দার দোয়া কবুল করেন—এ কথা কোরআন ও হাদিসে বারবার উল্লেখ এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনা করে।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ১৮)
সাহরির সময় মূলত সেই শেষ রাতের অন্তর্ভুক্ত, যখন ইস্তিগফার ও দোয়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।
ফেরেশতাদের দোয়া ও রহমত
হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা সাহরি গ্রহণকারীদের জন্য দোয়া করেন।’ (মুসনাদে আহমাদ) এটি সাহরির এক অসাধারণ ফজিলত। যে ব্যক্তি সাহরি খায়, তার জন্য আল্লাহর রহমত ও ফেরেশতাদের দোয়া বর্ষিত হয়।
অল্প সাহরিও সুন্নত
অনেক মানুষ মনে করে, সাহরি না খেলেও রোজা রাখা যাবে। যদিও রোজা শুদ্ধ হয়, তবে সাহরি বর্জন করা সুন্নত পরিত্যাগের শামিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহরিতে অল্প কিছু হলেও গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সাহরি করো।’ এ থেকে বোঝা যায়, সাহরির মূল উদ্দেশ্য খাবারের পরিমাণ নয়; বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আদেশ পালন।
সাহরি ও তাকওয়া অর্জন
রমজানের মূল লক্ষ্য তাকওয়া অর্জন। সাহরি সেই তাকওয়ার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ফজরের আগে ঘুম ত্যাগ করে সাহরি খাওয়া আত্মসংযম, নিয়মানুবর্তিতা ও আল্লাহভীতির বাস্তব প্রশিক্ষণ। এটি বান্দাকে আল্লাহর আদেশের প্রতি অনুগত হতে শেখায়।
স্বাস্থ্যগত উপকারিতা
ইসলামের প্রতিটি বিধানের মধ্যেই মানুষের কল্যাণ নিহিত। সাহরি স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও অত্যন্ত উপকারী। এটি শরীরকে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার জন্য প্রস্তুত করে, পানিশূন্যতা কমায় এবং দুর্বলতা থেকে রক্ষা করে। আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যার দৃষ্টিতেও সাহরি রোজাদারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সাহরি অবহেলা করার কুফল
যারা নিয়মিত সাহরি পরিত্যাগ করে, তারা শুধু সুন্নতের সওয়াব থেকেই বঞ্চিত হয় না; বরং অনেক সময় রোজার মধ্যে ক্লান্তি, বিরক্তি ও অস্থিরতার সম্মুখীন হয়। এতে ইবাদতে মনোযোগ কমে যেতে পারে। অথচ সাহরি এই সমস্যাগুলো অনেকাংশে দূর করে।
বরকতময় সুন্নত
সাহরি রমজানের এক গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় সুন্নত। এটি শুধু খাদ্য গ্রহণের বিষয় নয়; বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ইবাদত, যার সঙ্গে জড়িত রয়েছে আল্লাহর রহমত, ফেরেশতাদের দোয়া, তাকওয়া অর্জন এবং শারীরিক-মানসিক কল্যাণ। কোরআন ও হাদিসে সাহরির যে গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, তা আমাদের সাহরি পালনে আরো যত্নবান হতে উৎসাহিত করে। তাই প্রত্যেক রোজাদারের উচিত সাহরিকে অবহেলা না করে নিয়মিত পালন করা এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও অফুরন্ত সওয়াব অর্জনের চেষ্টা করা।
লেখক : মুহতামিম, জহিরুল উলুম মহিলা মাদরাসা, গাজীপুর
05/02/2026
দারিদ্র্য ও বেকারত্বের সমস্যা শুধু আধুনিক বিশ্বের নয়, অতীতেও ছিল। রসুল (সা.) এর সমাধানে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর প্রথম নির্দেশনা ছিল-বেকার ব্যক্তিরা বসে না থেকে যেকোনো ধরনের কাজ ও পেশায় নিয়োজিত থাকা। নবীরাও বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তাঁরা মানুষের সামনে কর্মের এবং হালাল উপার্জনের উচ্চমানের আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।
যেমন রসুল (সা.) হজরত দাউদ (আ.)-এর ক্ষেত্রে বলেন, ‘নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কখনো কেউ খায়নি। আল্লাহর নবী দাউদ (আ.) নিজ হাতে উপার্জন করে খেতেন’ (সহিহ বুখারি)।
কোনো বৈধ কাজই তুচ্ছ নয়
ad
রসুল (সা.) সব (বৈধ) কর্মকেই সম্মান, মর্যাদা ও গুরুত্বের চোখে দেখতেন। কেননা মানুষের কাছে হাত পাতা এবং তাদের সামনে লাঞ্ছিত হওয়ার চেয়ে নিজে কাজ করে খাওয়াই উত্তম। এ বিষয়টি রসুল (সা.) তাঁর হাদিসে ফুটিয়ে তুলেছেন এভাবে-
‘তোমাদের কেউ যদি পিঠে করে কাঠের বোঝা বয়ে আনে এবং তা বিক্রি করে, যার মাধ্যমে আল্লাহ তার চেহারাকে (ভিক্ষা করার লাঞ্ছনা থেকে) রক্ষা করেন, তার জন্য এটাই উত্তম-মানুষের কাছে হাত পেতে বেড়ানোর চেয়ে। যে হাত পাতার ফলে মানুষ তাকে কিছু দিতেও পারে, আবার নাও দিতে পারে।’ (সহিহ বুখারি)।
অর্থনৈতিক প্রকল্প তৈরিতে উৎসাহ প্রদান
রসুল (সা.) বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রকল্প তৈরির ব্যাপারে অনুপ্রাণিত করেছেন। তাদের বর্গা চাষের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। যেমন দরিদ্র ও নিঃস্ব অবস্থায় মদিনায় আগত মুহাজির মুসলমানদের সঙ্গে আনসার সাহাবীরা করেছিলেন।
এ বিষয়ে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, আনসার সাহাবিরা রসুল (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, ‘আমাদের এবং আমাদের ভাইদের (মুহাজিরদের) মধ্যে খেজুরের বাগান ভাগ করে দিন।’
নবীজি (সা.) বললেন, ‘না।’
তখন তারা মুহাজিরদের বললেন, ‘আপনারা আমাদের বাগানে কাজ করুন, আমরা আপনাদের বাগানের ফলের মধ্যে অংশীদার করে নেব।’ তখন মুহাজিররা বললেন, ‘আমরা শুনলাম এবং মানলাম; অর্থাৎ তারা এই প্রস্তাবে রাজি হলেন (সহিহ বুখারি)।
স্বনির্ভরতার এক চমৎকার গল্প
দারিদ্র্য ও বেকারত্ব নিরসনের এসব নীতি-আদর্শ ও মূল্যবোধ সাহাবায়ে কেরামের জীবনে দারুণভাবে জাগিয়ে তুলতেন রসুল (সা.)। এ ক্ষেত্রে চমৎকার ও একটি শিক্ষণীয় গল্প ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ আছে।
হজরত আনাস (রা.) বর্ণিত : একবার এক ব্যক্তি এসে নবীজি (সা.)-এর কাছে হাত পাতল। নবীজি (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমার ঘরে কি কিছু নেই?’
লোকটি বলল, ‘একটি গালিচা আছে, যার কিছু অংশ আমরা পরিধান করি এবং কিছু অংশ বিছিয়ে রাখি। একটি পাত্রও আছে, তাতে আমরা পানি পান করি।’
নবীজি (সা.) বললেন, ‘সেগুলো আমার কাছে নিয়ে এসো।’
লোকটি সেগুলো নিয়ে এলে মহানবী (সা.) তা হাতে নিয়ে বললেন, ‘এ দুটি কে ক্রয় করবে?’
এক ব্যক্তি বলল, ‘আমি এগুলো এক দিরহামে ক্রয় করব।’
নবীজি (সা.) তখন আরও দুইবার অথবা তিনবার বললেন, ‘কেউ কি এর অধিক মূল্য দেবে?’
আরেকজন বলল, ‘আমি দুই দিরহামে নেব।’
নবীজি (সা.) তখন ওই ব্যক্তিকে জিনিস দুটি দিয়ে তার থেকে দিরহাম দুটি গ্রহণ করলেন। এরপর সেই ব্যক্তিকে তা প্রদান করে বললেন, ‘এক দিরহাম দিয়ে খাবার কিনে পরিবার-পরিজনকে দাও এবং আরেক দিরহামে একটি কুঠারের ফলা কিনে আমার কাছে নিয়ে এসো।’
লোকটি তাই করল। এবার নবীজি (সা.) নিজ হতে সেই লৌহ কুঠারে একটি হাতল লাগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘যাও, তুমি এটা দিয়ে কাঠ কেটে বাজারে বিক্রি করো এবং পনেরো দিন অতিবাহিত হওয়ার আগে আমার সঙ্গে আর দেখা করবে না।’
লোকটি কুঠার হাতে চলে গেল। কাঠ কেটে বাজারে বিক্রি করতে লাগল। পনেরো দিন পার হলে সে নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলো। ইতোমধ্যে সে দশ দিরহাম উপার্জন করেছে। সে এর থেকে কিছু দিয়ে কাপড় এবং কিছু দিয়ে খাবার কিনল। এবার নবীজি (সা.) তাকে বললেন, ‘ভিক্ষার কারণে কেয়ামতের দিন মুখমণ্ডলে দাগ নিয়ে ওঠার চেয়ে এটাই তোমার জন্য উত্তম।’ এরপর নবীজি (সা.) আরও বললেন, তিন ব্যক্তি ছাড়া কারও জন্য অন্যের কাছে হাত পেতে বেড়ানো বৈধ নয়। ১. প্রচণ্ড দরিদ্র ব্যক্তি, ২. ঋণে জর্জরিত ব্যক্তি এবং ৩. যার ওপর রক্তপণ আছে, অথচ সে তা পরিশোধ করতে অক্ষম। (সুনানে আবু দাউদ : ১৬৪১)।
Azad Bd Azad service Online Shopping Dropshipping Buisness I am Muslim Independent Service
Dropshipping Buisness I am Muslim Azad service Online Shopping Azad Bd Independent Service
Azad service Azad Bd Dropshipping Buisness Online Shopping
বাংলাতে আরবি শিখানো
10/01/2026
বাংলাতে আরবি শেখানো Azad Bd
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Address
Rajshahi