07/10/2020
খেলনাঃ শিশুর বয়স যখন ০ থেকে ৬ মাস
ঘরে একজন নতুন অতিথির জন্ম মানেই আমাদের চোখে ভেসে উঠে ডায়াপার, ফিডার, বিছানা ভর্তি কাঁথা কাপড় ইত্যাদি। আর আমরা যারা জন্মেছি আর বড় হয়ে উঠেছি আশি বা নব্বই এর দশকে মফঃস্বলে তাদের বাসায় নতুন বাচ্চা মানে কাঁথা, কাপড়, সরিষার তেলের গন্ধ ভরা বিছানা, কাপড়, কাজল, পাউডার এইতো। বিশেষ করে বয়স যখন ০ থেকে ৬ খেলনার ব্যাপারটা কিন্তু তখন কার ও কাছেই মুখ্য থাকেনা। মা বাবা অথবা বাসার আর সবাই ব্যস্ত থাকে বাচ্চার মৌলিক বিষয় যেমন খাবার, ঘুম, প্রসাব পায়খানা এইসব নিয়ে। কিন্তু আসলে এইগুলোই কি সব? বিশাল প্রশ্ন। আপনি জানেন কি আপনার বাচ্চার বেড়ে উঠার বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ন ধাপ আছে এই সময়টার মাঝে।এই ছয় মাসে ই আপনার শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসিক বৃদ্ধির ও বেশ কিছু মাইলফলক থাকে। এই সময়টাতে সে মোটর ডেভেলপমেন্ট এর পাশাপাশি তার অনুভুতি, সংবেদনশীলতা এবং আবেগীয় বিষয়গুলোর ও উন্নতি সাধিত হয়। দেখা শোনা আর স্পর্শের মত ইন্দ্রিয় সংশ্লিষ্ট বিষয় গুলো তাকে এইসব উন্নয়নের ধাপে সামনে এগিয়ে নেয়। এই সবই তো প্রাকৃতিক নিয়মে ঠিকঠাক হয়ই তাহলে আলাদা করে ভাবার কি আছে? হ্যাঁ ঠিকই ভাবছেন তবে সত্যি আলাদা করে ভাবার অনেক কিছুই আছে। কিছু বিষয় আছে যা এই ধরনের বৃদ্ধি গুলোকে নিয়ন্ত্রন করে এবং সহায়ক ভুমিকা ও রাখে। প্রথমেই আশি স্পর্শের বিষয়ে । আপনার ছোট সোনামণি দৃষ্টিসীমা খুব বেশী দূর না হলেও স্পর্শের অনুভুতি কিন্তু তীব্র। সে আপনার ভালোই বোঝেন যখন কোলে নিলেই তার কান্না থেমে যাই বা বিছানাই রাখলেই যখন তারস্বরে চিৎকার করে উঠে। এই সময়টাই তাই স্পর্শ হয়ে উঠতে পারে তাকে আনন্দ দেবার অনন্য মাধ্যম। আপনার হাত দিয়ে তার ছোট ছোট হাত এর আঙুল গুলি স্পর্শ করুন। দেখুন সে কিভাবে আঁকড়ে ধরে। এই কাজ আমরা সবাই করি। এরপর দৃষ্টি শক্তি। খুব বেশী দুরের বস্তু তে ফোকাস করতে না পারলেও এই সময়ে রঙ, ঔজ্জ্বল্য এই বিষয়গুলো তাদের কে বেশ আকৃষ্ট করে। খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন সিলিং এ ঝোলানো কোন উজ্জ্বল রঙ এর খেলনা, ঘরের উজ্জ্বল রঙ এর পর্দা এসবের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে আপনার সোনা মনি, আবার কখন ও বা তাকিয়ে হাসি ও দেয়। ভেবেছেন কি কেন? শব্দ; এর কথা না বললেই না। মায়ের গলার আওয়াজ খুব অল্পেই চিনে যাই এই পিচ্চিগুলো। আর এই সবই বলে দেয় তার কোন ইন্দ্রিয় কতটা অনুভুতিপ্রবন হয়ে উঠছে। আপনি যেহেতু চান আপনার সন্তানের এই সব অনুভুতি বা আবেগীয় বিষয়গুলোর নিশ্চিত এবং সুন্দর বিকাশ তাই বাড়তি কিছু সাহায্য আপনি করতেই পারেন। আর সেই অনুষঙ্গই হতে পারে সময় উপযোগী খেলা বা খেলনা।
৪ মাস বয়সের মধ্যে আপনার বাচ্চা তার দুই হাত নাড়িয়ে নির্দিষ্ট কিছু ধরার চেষ্টা করতে পারে, ধরতে পারে, তবে বস্তুর উপরিভাগ এর বিভিন্ন রকমের পার্থক্য অনুভব করতে আর ও কিছুদিন সময় লাগতে পারে। তাই সহজে ধরা যাই এমন রঙিন কোন বস্তু খুব সহজেই তাকে আকৃষ্ট করবে। ছোট আকারের বল, ঝুনঝুনি এসব আমরা সাধারনত এই সময়েই দেই। শুধু খেলনা দিলেই হবেনা, আপনাকে হতে হবে তার খেলার সাথী ও। খেলনা গুলো কে নাড়ানো, বিভিন্ন রঙ এর খেলনা পরিবর্তন করা আর তা নাড়িয়ে শব্দ তৈরী করুন, হয়ে উঠুন আপনার সোনামনির সবথেকে কাছের বন্ধু এই ছোট বেলা থেকেই। এই বয়সী বাচ্চাদের জন্য আপনি যেমন নিজে পছন্দ করে ঘরে থাকা উপকরন দিয়ে খেলনা বানিয়ে নিতে পারেন ঠিক তেমনি বাজার থেকে ও কিনে আনতে পারেন। বিভিন্ন রঙ এর কাপর দিয়ে বাসায় বানিয়ে ফেলতে পারেন আপনার বাচ্চার জন্য প্লেম্যাট, সাথে স্ট্যান্ড লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে পারেন ছোট কাপড়ের বল, ঝুনঝুনি অথবা আকর্ষনীয় কোন আকৃতির বস্তু, যা সহজেই বাতাসে নড়বে এবং মৃদু শব্দ হবে। বাজার থেকে কেনার ব্যপারে একটু সাবধানী হতে হবে। খেয়াল রাখবেন যেন তা আপনার সোনামনির জন্য কোন স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারন না হয় বা কোন দুর্ঘটনা না ঘটে। তাহলে আর দেরী কেন? আজি পরিকল্পনা করুন আর শুরু করুন। এই সংক্রান্ত আরো তথ্য সমৃদ্ধ লেখা আসছে সামনে। সাথে থাকুন।
04/10/2020