12/01/2018
যতদূর জানি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল প্রথমে ছিল মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রোজেক্টের একটা অংশ। ঐ বিভাগের শিক্ষকেরাই ক্লাশ নিতেন জুবেরী ভবনে। পরে সেকেন্ড আর্টস বিল্ডিং আর মন্নুজান হলের মাঝে টিনশেড স্কুল বিল্ডিং তৈরি হয়।
স্বাধীনতার পরের বছর, '৭২ সালে আমি ঐ টিনশেড স্কুলেই ভর্তি হই। স্কুলের নাম তখন ছিল "রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষামূলক শিক্ষায়তন"!
স্কুলে পড়ার সময় আমরা তিন ধরনের খাতা ব্যবহার করতাম।
পুরো সাদা পাতার খাতায় করতাম অংক আর ড্রয়িং। বড় বড় দাগটানা খাতায় বাংলা - সমাজ - বিজ্ঞান - ধর্ম লেখা চলত। শুধুমাত্র ইংরেজী খাতায় লাল আর নীল রঙের খুব চিকণ দাগ টানা থাকত। 'হায়দার' নামের একটা খাতা পাওয়া যেত যার ছিল শক্ত আর টেকসই মলাট - জরুরী লেখাগুলোর জন্য বাজার থেকে ঐ খাতা কিনতাম।
সম্ভবত '৭৬ সালে, আমি যখন ক্লাশ সিক্স, স্কুল থেকে মলাটে স্কুলের নাম লেখা খাতা হাতে পেলাম। সে সময়ে স্কুলের নাম লেখা খাতা আমাদের কাছে ছিল অপ্রত্যাশিত স্বপ্ন পূরণের মত। বারবার ছুঁয়ে দেখেও যা বিশ্বাস হতনা, নতুন কাউকে না দেখিয়ে শান্তি পেতামনা।
স্কুলের অফিসে খাতা কিনতে পাওয়া যেত।
স্কুল আর জুবেরী ভবনের মাঝে যে বিশাল মাঠ, সেই মাঠে পুকুরের কাছাকাছি দুটো দোকান ছিল যেখান থেকে আমরা খাতা - পেন্সিল এসব ছাড়াও টিফিনের সময় বিশেষ করে চাটনি, হজমী এসব কিনতে যেতাম। ঐ দোকানেও স্কুলের নাম লেখা খাতা বিক্রির জন্য রেখে দিত।
তখন শিষ পেনের প্রচলন শুরু হয়নি। পেন্সিল ছাড়ার পরই কালির কলম ব্যবহার শুরু হয়ে যেত। রাজশাহীতে "এভারেডি" নামে একটা কালি পাওয়া যেত। চ্যাপ্টা ছোট্ট কাচের বোতলে ভরা কালো রঙ কালি। সাহেববাজারের বিশেষ কিছু দোকানে সাজানো থাকত কালো - নীল - সবুজ আর লাল রঙের কালী ভরা দোয়াত।
স্কুলে কালো ছাড়া আর কোন রঙের কালি ব্যবহার করার প্রয়োজন পরতনা।
কিন্ত আমার আব্বা ছিলেন কলম আর কালির ব্যাপারে প্রচন্ড শৌখিন। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত আব্বার অন্যতম শখ ছিল বিভিন্ন ধরনের কলম কেনা। আব্বা কাউকে উপহার হিসেবেও দামী ও নতুন ধরনের কলম দিতে ভালবাসতেন।
স্কুলের ঐ খাতাগুলো ছিল বেশ সাদামাটা।
সেজন্য খাতার উপরে, প্রথম পাতায়, আর শেষ পাতায় আব্বার সংগ্রহ থেকে বিভিন্ন কালারের কালিভরা কলম নিয়ে এভাবে, যাকে বলে "মনের মাধুরী " মিশিয়ে ছবি আঁকতাম। এছাড়া কখনও বা কাঁচের চূড়ি বা স্কেল দিয়ে দাগ টেনে টেনে খাতার সাদা পাতা ভরে আল্পনাও করতাম।
আজ ছুটির দিনে আলমারি গুছাতে যেয়ে এক কোনায় পেয়ে গেলাম '৭৮ সালের, আমার ক্লাশ এইটের একটা বাংলা খাতা।
কতশত স্মৃতিই না মনে পড়ে গেল খাতার পাতা উল্টাতে যেয়ে!!
লিখেছেন - নাজনীন সুলতানা (এসএসসি ১৯৮১ ব্যাচ)