06/06/2025
#কোরবানির_শিক্ষা:
আসুন সংক্ষেপে কোরবানির শিক্ষা সম্পর্কে কিছু চিন্তা করি;
√মুলত কোরবানির কথা হলে- আমাদের জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ্ এবং তার জীবন দর্শনটাই আমাদের সামনে আসে। আল্লাহ্ তার মুমিন বান্দাকে পরীক্ষার কষ্টিপাথরে বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন মাধ্যমে যাচাই বাছাই করে নেন। মুলত আল্লাহ তার সেরা সৃষ্টির মহিমার নমুনা দেখাতেই এরকম পরিক্ষা নিয়ে থাকেন। কারণ সৃষ্টিপূর্ব সময়ে ফেরেশতারা যখন আদম সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন আল্লাহ আলাম তাদের বলেন; ''আমি যা জানি,তোমরা তা জান না''।
√অতএব আল্লাহ সুবহানাল্লাহু তায়ালা- এমনি এমনি মুমিনদের জুলুম নির্যাতন দিয়ে পরীক্ষা নেন না।ফেরেশতাকুলদের তার সৃষ্টির মহত্ত্ব বোঝাতেই এরকম পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। ঠিক এমনি ভাবেই - হযরত ইব্রাহিম(আ:) এর উপর বিভিন্ন সময়ে,বিভিন্ন ভাবে পরিক্ষা নিয়েছেন। তন্মধ্যে নমরূদ কর্তৃক আগুনে নিক্ষেপ, স্ত্রী-সন্তানকে নির্জনে নির্বাসন ও দূর্জন এলাকায় বিপদসংকুল পরিবেশে এক আল্লাহর ভরসার রেখে চলে আসা এবং সর্বপরি নিজের প্রাণপ্রিয় সন্তানকে নিজের হাতে কোরবানীর মত দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেও বিচ্যুতি করেননি।এরকম আরও অনেক অনেক পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন তিনি যা স্বয়ং আল্লাহর হুকুমে তিনি পালন করেছেন।
√Friends let's come to the point;
তখন তো নবী রাসুলকে আল্লাহ্ বিভিন্ন ওহির মাধ্যমে হুকুম করেছেন। কিন্তু যেহেতু আর কোন নবী রাসুল দুনিয়াতে আসবে না, এবং ওহীও নাযিল হবে না, তাহলে আমদের বেলায় পরিক্ষার ক্ষেত্রে কোথায় থেকে- কি ভাবে হুকুম পাব। অনেকেই নি:সন্দেহে বলবেন -কোরআন। হ্যা ঠিক তাই, আমাদের কোরআনকে বুঝতে হবে। আপনি যেমন কোন ইংরেজি পত্রিকা না বুঝে পড়বেন না, ঠিক কোরআন না বুঝে পড়লে তাতে কোরআনের হুকুম কায়েম সম্ভব নয়।আর মানতে হলে অবশ্যই আগে চিন্তা করতে হবে, কি মানব কিভাবে মানব - তা জানতে হবে। আর জানার একমাত্র উৎস হলো কোরআর ও রাসুলের সুন্নাহ্।
√এখন আসুন চিন্তা করি - ইব্রাহিম আ: যেমন তার সবচেয়ে প্রিয়বস্তু-তার সন্তানকে কোরবানি করল, তখন কোরবানির গুরুত্ব ও পটভূমি কেমন ছিল:-
বাবা যেমন এক আল্লাহর হুকুম কায়েম করতে সন্তানকে কোরবানী করছে। ঠিক তেমনি মা তার সন্তানকে এক আল্লাহর হুকুম পালনের কথা ভেবে, বুকে পাথর চেপে সন্তানকে তার বাবার হাতে তুলে দিচ্ছে। আর ছেলেও এক আল্লাহর হুকুম অক্ষরে অক্ষরে পালন করার জন্য এবং নিজেকে ধৈর্যশীল পাবার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। আর বলছে তার রক্তমাখা জামাকাপড় যেন তার জনম দু:খী মাকে হস্তান্তর করা হয়। এইবার ভাবুনতো কোরবানী কি শুধু ইব্রাহিম আ: একাই করল? না - এই যে মা, সন্তান এরাও করল?
তো এবার ভাবুন এক্ষেত্রে, আল্লাহ তার মোমিনদের কি শিক্ষা দিচ্ছেন -এই কোরবানীর মাধ্যমে। শিক্ষা হলো এই যে;
১। দুনিয়ার সকল বাবা- আল্লাাহর রাস্তায় প্রয়োজনে নিজ সন্তানকে কোরবানী কর।
২। দুনিয়ার সকল মা- তোমরা আল্লাহর রাস্তায় সন্তানকে মায়াজাল ছিড়ে হলেও কোরবানী কর।
৩। দুনিয়ার সকল সন্তান - তোমরা আল্লাহর দ্বীনের জন্য সকল বন্ধনকে তুচ্ছ করে বেড়িয়ে পড়।
বন্ধুরা; এখানে কোরবানী বলতে গর্দান নামানোকেই বুঝবেন না। কোরবানী হলো আত্মত্যাগ। আল্লাহর দ্বীনের জন্য সর্বাত্বক ত্যাগের গুরুত্ব বোঝাতেই এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে।
√এখন আসুন বর্তমান সময়ে আমাদের অবস্থায়:-
আমরা অনেক ভাইয়ের ক্ষেত্রে বলতে শুনি যে; পরিবার থেকে বাবা-মা নিষেধ করে কিংবা বাধা ও ভীতি দেখায়, আরও কত কি?ভেবে দেখুন- আল্লাহ্ কত প্রজ্ঞাসম্পন্ন! এরকম হাজারও প্রতিবন্ধকতা আসবে এবং সেক্ষেত্রে মোমিনেরা যাতে বিচলিত না হয় এবং আল্লাহর হুকুমতই যেন প্রাধান্যপূর্ণ হয়, সেজন্যই আল্লাহ্ তার নবী রাসুল দিয়ে যুগে যুগে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যেন মোমিনেরা হতাশ না হয়। দেখুন সূরা বাকারার ১৫৫-১৫৬"আর নিশ্চয়ই আমরা ভীতি,অনাহার, প্রাণ ও সম্পদের ক্ষতির মাধ্যমে এবং উপার্জন ও আমদানী হ্রাস করে তোমাদের পরীক্ষা করবো।এ অবস্থায় যারা ধৈর্য ধরে এবং যখনই কোন বিপদ আসে বলে; আমরা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর দিকেই ফিরে যেতে হবে- তাদের সুসংবাদ দিয়ে দাও''।
তাই আসুন-যেহেতু আল্লাহ্ বলেছেন যে; ''আমি জ্বীন ও মানব জাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি''। তাই সকল বাধা, প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে - এক আল্লাহকে রাজী খুশি করতে, দ্বীনের জন্য বেড়িয়ে পড়ি।আসুন কোরআনকে আকড়ে ধরি, আল-কোরআনের সমাজ গড়ি।
ক্বুল "ইন্নাস সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহইয়ায়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।"
[আল আনআমঃ আয়াত নং ১৬২]
قُلْ إِنَّ صَلَاتِى وَنُسُكِى وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِى لِلَّهِ رَبِّ الْعٰلَمِينَ
অর্থঃ আপনি বলুনঃ আমার নামায, আমার কোরবাণী এবং আমার জীবন ও মরন বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে।
কোরবানির ত্যাগের শিক্ষায় উদ্ভাসিত হোক প্রতিটি মুমিন মুসলমানের হৃদয়। আল্লাহ্ তায়ালা সবার কুরবানি কবুন। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে এত টুকুতেই ইতি টানলাম।
ঈদ মোবারক