13/08/2026
৩৮২ জনে ৩৮২ জনই A+ এর আদ্যোপান্তঃ
এসএসসি পরীক্ষায় নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৮২ জনের সবাই এ+ পাওয়ার পর ঐ স্কুলের প্রশংসার পাশাপাশি টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখিয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া বা টিসি দিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়ার অনেক অভিযোগ ফেসবুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এসএসসি পরীক্ষায় ক্যাডেট কলেজগুলোর পাশাপাশি প্রতিটি জেলার জিলা স্কুল, সরকারি গার্লস স্কুলগুলো সবসময় ভালো রেজাল্ট করে।এছাড়া কিছু নামি-দামি স্কুল যেমন ভিকারুননিসা, রেসিডেন্সিয়াল মডেল সহ আরও কিছু প্রাইভেট স্কুলও ভালো রেজাল্ট করে। ঢাকার বাহিরেও কিছু স্কুল আছে যেমন নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল।
জেলা স্কুলগুলোতে এবং ক্যাডেট কলেজগুলোতে যারা টেস্ট পরীক্ষা দেয় বেশিরভাগই চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়।
তাহলে নাছিমা কাদির মোল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪৮৩ জনের মধ্যে ১০১ জন শিক্ষার্থী টেস্টে ফেল করলো কেন? যে স্কুলে ৩৮২ জন A+ পায়,সেই স্কুলে টেস্টে বাদ যাওয়া একজনও কি A গ্রেড বা বি,সি গ্রেড পাওয়ার মতো যোগ্য ছিল না?
একটা বিদ্যালয় পাঁছ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের তৈরি করে শেষ বছর এসে টেস্ট পরীক্ষা দিয়ে ১০১ জন ৩৩% এর কম নম্বর পেয়ে পাশ না করে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে না বা ৩৪% নম্বর পেয়ে টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর জাদুর বলে এসএসসি পরীক্ষায় A+ পেয়ে যাবে এটা কখনোই বিশ্বাসযোগ্য নয়।
এখানে ২টা বিষয় হতে পারে। প্রথমত তারা টেস্ট পরীক্ষায় এমন শিক্ষার্থীদের বাছাই করে যারা A+ পাওয়ার উপযোগী। A, A-, B ব C গ্রেড পাওয়ার উপযোগী কেউ টেস্টে পাশ করলেও তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয় না শুধুমাত্র শতভাগ বা এর কাছাকাছি A+ পেয়ে সারাদেশে নামকরা বিদ্যালয়ের তালিকায় নাম তোলার জন্য।
দ্বিতীয়ত্ব যেটা হতে পারে,টেস্টের পর যে শিক্ষার্থীরা A+ পাবে না বলে মনে হবে তাদেরকে টিসি দিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া এবং টিসি দেওয়া বিদ্যালয়ের সাথে কোন ব্যবসায়িক চুক্তি থাকা। টেস্টের পর টিসি দেওয়ার নিয়ম আছে কিনা আমার জানা নেই। তবে নাছিমা কাদির মোল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে এমন একজন অভিভাবকের কাছে এটাই শুনেছি।
অপশন যেটাই হোক ১০১ জন শিক্ষার্থীকে ৫ বছর পড়িয়ে টেস্টে উত্তীর্ণ হওয়ার যোগ্য করে গড়ে তুলতে না পারা তাদের চরম ব্যর্থতাই প্রমাণ করে। এই ১০১ জন শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের সাথে ৫ বছর ধরে প্রতারণা করা হয়েছে বলে মনে হয়। কারণ এতো কঠোর ও নিয়ম-শৃঙ্খলার মাঝে থেকে পাঁচ বছর পড়ার পর টেস্ট পরীক্ষায় এসে খারাপ করবে এটা ঐ স্কুলের সাথে যায় না।
যাইহোক, বর্তমানে A+ এর প্রতিযোগিতায় নেমে নামি-দামি স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন শেষ করে দিচ্ছে না তো! এই A+ শুধু প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার জন্য নয় কি? বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই ভাববার অবকাশ রয়েছে।