বিদ্যালয় থেকে বলছি

বিদ্যালয় থেকে বলছি

Share

আজকের শিশু আগামীর কর্ণধার। তাদের সঠিক মানুষ করে গড়ে তোলাই আমাদের দায়িত্ব।

21/06/2026

রিডিং পড়া না পারার কারণ :
১। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত না আসা।
২। শিক্ষার্থীদের খাতা ও কলম না আনা।
৩। বাড়িতে শিক্ষার্থীদের পড়ার অনুশীলন না করা।
৪। আত্মীয়, অনুষ্ঠান, আড্ডা, মোবাইল, ভ্রমণের পিছে অধিক সময় শিক্ষার্থীদের ব্যয় করা।
৫। অভিবাবক সমাবেশে দুর্বল শিক্ষার্থীর অভিবাবক না আসা।
৬। শিক্ষকের শাসনকে বেআইনি বলে দুর্বল শিক্ষার্থীদের অভিবাবক উচ্চ মহলে অভিযোগ করা।
৭। বারবার রিডিং কৌশল শেখানো পদ্ধতি পরিবর্তন করতে সরকারি মেথড চালু করা।
৮। শিক্ষার্থীদের খাদ্যাভ্যাস অস্বাস্থ্যকর হওয়া।
৯। দীর্ঘক্ষণ শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বন্দী রাখা। শিক্ষার্থীদের প্রায় ৯৯% অভিবাবক কিন্ডারগার্টেন এর মত সাথে সাথে যুক্ত না থাকা।
১০। বিভিন্ন ধরণের শিশুকে একই পদ্ধতিতে পাঠ শিখানো। পাঠ্যপুস্তক শিশুদের জন্য আকর্ষণীয় না হওয়া।
১১। ৫ ম শ্রেণি পাসের সার্টিফিকেট ছাড়াই ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করা।
১২। ভর্তি হয়ে বিনা অনুমতিতে মাদ্রাসা,কিন্ডারগার্টেন পাশ দিতে চলে যাওয়া,,পাস দিয়ে পুনরায় ২ /৩ বছর পর ফিরে আসা ছাত্র।

এ সব সমস্যার সাথে শিশুর পারিবারিক, সামাজিক অশান্তির প্রভাব ও অনেক শিক্ষকের আন্তরিক প্রচেষ্টার অভাব তো রয়েছেই। বেখবর ও অযত্নে বেড়া উঠা এই শিশুরা
প্রাইমারিতে রিডিং পড়া না পারার জন্য শিক্ষক কি একক ভাবে দায়ী থাকবেন?
দেখবেন ক্ষমতা যেন মাজলুম শিক্ষকদের জুলুমের অস্ত্র না হয়!

15/06/2026
14/06/2026

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি স্থানীয় প্রশাসনের হাতে দিলে দুর্নীতি বাড়বে!!
আপনার কি মনে হয়??

Photos from বিদ্যালয় থেকে বলছি's post 11/06/2026

রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীদের অভাবনীয় সাফল্য: খরচ ও বিজ্ঞাপন ছাড়াই ৪৫০+ টিভি চ্যানেল দেখার অ্যাপ ‘TURETA’ আবিষ্কার

রাজশাহী কলেজের দর্শন বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষ (২০২৪-২৫) শিক্ষাবর্ষের একদল মেধাবী শিক্ষার্থীর হাত ধরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যুক্ত হলো এক নতুন দিগন্ত। বিভাগের শিক্ষার্থী তামজিদ, উজ্জল, আকাশ, রেজওয়ানা, তানজিলা, ইভা, মোসাদ্দেক মিলে যৌথভাবে তৈরি করেছে ‘TURETA’ নামের একটি অসাধারণ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন।

অ্যাপটির মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:

৪৫০+ লাইভ চ্যানেল: অ্যাপটিতে দেশি-বিদেশি ৪৫০টিরও বেশি টিভি চ্যানেল সম্পূর্ণ সরাসরি (লাইভ) সম্প্রচার করা হয়।

বিজ্ঞাপনমুক্ত অভিজ্ঞতা: কোনো প্রকার বিজ্ঞাপনের ঝামেলা ছাড়াই দর্শকরা নিরবচ্ছিন্নভাবে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন।

সম্পূর্ণ বিনামূল্যে: অ্যাপটি ব্যবহার করতে কোনো সাবস্ক্রিপশন ফি বা অতিরিক্ত খরচের প্রয়োজন নেই।

মেগা স্পোর্টস কভারেজ: চলমান ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রতিটি ম্যাচ এই অ্যাপের মাধ্যমে সম্পূর্ণ লাইভ এবং হাই-ডেফিনিশনে উপভোগ করা যাচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের এই যুগান্তকারী ও জনকল্যাণমুখী উদ্ভাবনকে আন্তরিক সাধুবাদ জানিয়েছেন দর্শন বিভাগের প্রধান ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সহ বিভাগের সকল শিক্ষক মণ্ডলী। শিক্ষকদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির এমন সৃজনশীল চর্চা অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মাঝেও অনুপ্রেরণা জোগাবে।

তরুণ এই উদ্ভাবকদের এমন দারুণ উদ্যোগের জন্য আমরা অত্যন্ত গর্বিত। ‘TURETA’ অ্যাপের সাফল্য এবং এই তরুণ প্রতিভাদের আগামী দিনের পথচলা আরও উজ্জ্বল ও গৌরবময় হোক—এই শুভকামনা নিরন্তর।
https://www.facebook.com/share/14fdRHxrf2Y/

11/06/2026

"আমার বাচ্চা তো জিনিয়াস!"—অত্যন্ত মেধাবী বা 'গিফটেড' হওয়াটা কি সত্যিই আশীর্বাদ, নাকি এক নীরব স্নায়বিক লড়াই?
.....

আপনার ৫ বছরের বাচ্চাটি হয়তো এখনই ক্লাস ফাইভের অংক অনায়াসে মিলিয়ে দিচ্ছে। কিংবা সে হয়তো সারা দিন সৌরজগৎ, ব্ল্যাকহোল বা ডাইনোসরের বিলুপ্তি নিয়ে এমন সব বৈজ্ঞানিক কথা বলছে, যা শুনে আত্মীয়-স্বজনরা অবাক হয়ে বলছেন, "আপনার বাচ্চা তো একটা জিনিয়াস! ও তো বড় হয়ে আইনস্টাইন হবে!"

চারপাশের এই প্রশংসায় বাবা-মা হিসেবে আপনার বুক হয়তো গর্বে ফুলে ওঠে। কিন্তু এই মেডেলের উল্টো দিকের অন্ধকার গল্পটা শুধু আপনিই জানেন।

যে বাচ্চাটি ব্ল্যাকহোলের থিওরি বোঝে, সে হয়তো নিজের জুতার ফিতা বাঁধতে গিয়ে রোজ হাউমাউ করে কাঁদে। অথবা শার্টের কলারের সামান্য ঘষা লাগলে বা রুটিনের একটু এদিক-সেদিক হলে সে এমন ভয়াবহ জেদ বা মেল্টডাউন (Meltdown) শুরু করে, যা সামলাতে গিয়ে আপনার নিজেরই পাগল হওয়ার জোগাড় হয়! আপনি বুঝতে পারেন না, এত বুদ্ধিমান একটি বাচ্চার আচরণ এত অবুঝের মতো কেন?

আমরা সাধারণত ভাবি 'গিফটেড' (Gifted) বা অত্যন্ত মেধাবী হওয়াটা বুঝি লটারির টিকিট পাওয়ার মতো কোনো আশীর্বাদ। কিন্তু শিশু স্নায়ুবিজ্ঞান বলছে, গিফটেডনেস কোনো ম্যাজিক নয়; এটি হলো মস্তিষ্কের একটি বিশেষ অবস্থা (Special Need)। এই বাচ্চাদের ব্রেন এতটাই দ্রুত চলে যে, সাধারণ পৃথিবীর সাথে মানিয়ে নিতে গিয়ে তারা প্রতিনিয়ত এক নীরব স্নায়বিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যায়।

বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ: গিফটেড ব্রেনের ভেতরের অদ্ভুত জগৎ
১. অ্যাসিনক্রোনাস ডেভেলপমেন্ট (Asynchronous Development)
গিফটেড বাচ্চাদের সবচেয়ে বড় মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জের নাম হলো 'অ্যাসিনক্রোনাস ডেভেলপমেন্ট' বা অসম বিকাশ।

একটি সাধারণ বাচ্চার শারীরিক, মানসিক এবং আবেগীয় বিকাশ একই সাথে হয়। কিন্তু একজন গিফটেড বাচ্চার কগনিটিভ (বুদ্ধিবৃত্তিক) বয়স হয়তো ১০ বছর, কিন্তু তার ইমোশনাল (আবেগীয়) বয়স তার আসল বয়সের মতোই—৫ বছর!

তার ব্রেন হয়তো পৃথিবীর অনেক জটিল সমস্যা বুঝে ফেলে, কিন্তু সেই সমস্যাগুলোর ইমোশনাল ভার নেওয়ার মতো ক্ষমতা তার ৫ বছরের অপরিণত নার্ভাস সিস্টেমের থাকে না। এই বয়সের পার্থক্যের কারণেই তারা এত বেশি খিটখিটে বা আনপ্রেডিক্টেবল হয়।

২. ডাব্রোস্কির 'ওভারএক্সাইটাবিলিটি' (Overexcitabilities)
পোলিশ সাইকোলজিস্ট কাজিমিয়েরজ ডাব্রোস্কির (Kazimierz Dabrowski) মতে, গিফটেড বাচ্চাদের স্নায়ুতন্ত্র সাধারণ বাচ্চাদের চেয়ে অনেক বেশি স্পর্শকাতর হয়।

একে বলা হয় 'ওভারএক্সাইটাবিলিটি' বা তীব্র সংবেদনশীলতা। একটি সাধারণ ঘটনাকে তারা বহুগুণ বেশি তীব্রভাবে অনুভব করে। যেমন—অন্যের কষ্ট দেখে তারা অতিরিক্ত কেঁদে ফেলে (Emotional), সামান্য শব্দ বা কাপড়ের লেবেলের ঘষায় পাগল হয়ে যায় (Sensory), কিংবা তাদের মাথায় সারাক্ষণ এত প্রশ্ন ঘোরে যে তারা রাতে ঘুমাতে পারে না (Intellectual)। এটি কোনো জেদ নয়, এটি তাদের ব্রেনের গঠনগত বৈশিষ্ট্য।

৩. 'প্যারালাইজিং পারফেকশনিজম' এবং ফেইল করার ভয়
যেহেতু এই বাচ্চারা ছোটবেলা থেকেই খুব সহজে সবকিছু পেরে যায় এবং সবাই তাদের 'ব্রিলিয়ান্ট' বলে, তাই তাদের সাবকনশাস মাইন্ডে একটি ভয়ংকর পারফেকশনিজমের জন্ম নেয়।

তারা ভাবতে শুরু করে, "সবাই আমাকে জিনিয়াস ভাবে, আমি যদি কোনো ভুল করি বা ফেইল করি, তবে সবাই আমাকে বোকা ভাববে।" এই তীব্র ভয়ের কারণে তারা অনেক সময় নতুন কোনো খেলা বা চ্যালেঞ্জ নিতেই চায় না। সামান্য একটা ছবি আঁকতে গিয়ে দাগ একটু বাঁকা হলে তারা কাগজ ছিঁড়ে ফেলে দেয়। এই 'ফেইলিউর ফোবিয়া' তাদের সৃজনশীলতার সবচেয়ে বড় শত্রু।

৪. এক্সিস্টেনশিয়াল ডিপ্রেশন (Existential Depression)
সাধারণত ৭-৮ বছরের বাচ্চারা কার্টুন বা খেলনা নিয়ে মেতে থাকে। কিন্তু গিফটেড বাচ্চাদের ব্রেন এই বয়সেই জীবনের চরম সত্যগুলো নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করে।

"মৃত্যুর পর কী হবে?", "পৃথিবী যদি ধ্বংস হয়ে যায়?", "মানুষ কেন গরিব থাকে?"—এই ধরনের এক্সিস্টেনশিয়াল বা অস্তিত্বের সংকট নিয়ে তারা ভাবতে শুরু করে। সমবয়সী বন্ধুরা যখন লুকোচুরি খেলছে, তখন এই বাচ্চাটি হয়তো গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে দুশ্চিন্তায় ডিপ্রেশনে ভুগছে! ফলে সমবয়সীদের সাথে তাদের এক চরম 'সোশ্যাল আইসোলেশন' বা একাকীত্ব তৈরি হয়।

চেকলিস্ট: গিফটেড সন্তানের বাবা-মায়ের জন্য স্পেশাল গাইডলাইন
'ব্রেন' নয়, 'প্রচেষ্টা'র প্রশংসা করুন:
"তুমি খুব স্মার্ট"—এই কথাটি বলা আজই বন্ধ করুন। এর বদলে বলুন, "তুমি এই কঠিন পাজলটা মেলাতে অনেকক্ষণ ধৈর্য ধরে চেষ্টা করেছ, এটা আমার খুব ভালো লেগেছে।" এটি তাদের পারফেকশনিজমের চাপ কমায়।

ইমোশনাল বয়সের সাথে ডিল করুন:
বাচ্চা যখন ব্ল্যাকহোল নিয়ে কথা বলবে, তখন তার সাথে একজন পিএইচডি (PhD) গবেষকের মতো কথা বলুন। কিন্তু সে যখন শার্টের বোতাম লাগাতে না পেরে কাঁদবে, তখন তাকে ৫ বছরের বাচ্চার মতোই বুকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিন।

ফেইল করা সেলিব্রেট করুন:
বাচ্চাকে শেখান যে ভুল করা মানেই হলো নতুন কিছু শেখা। বাবা-মা হিসেবে আপনারা নিজেরা কী কী ভুল করেছেন বা হার মেনেছেন, সেই গল্পগুলো তাকে শোনান।

তার 'ট্রাইব' (Tribe) খুঁজে দিন:
সমবয়সীদের সাথে মিশতে না পারলে জোর করবেন না। তার স্পেশাল ইন্টারেস্টের (যেমন- চেস ক্লাব, রোবোটিক্স বা কোডিং) সমমনা বা বয়সে কিছুটা বড় বাচ্চাদের সাথে তাকে মিশতে দিন, যেখানে সে নিজেকে 'স্বাভাবিক' মনে করবে।

তার প্রশ্নের ক্ষুধা মেটান, কিন্তু পুশ করবেন না: সে যে বিষয়ে জানতে চায়, তার বই বা রিসোর্স তাকে এনে দিন। কিন্তু "তুই তো সবই পারিস, এই ক্লাসটা স্কিপ করে ওপরের ক্লাসে চলে যা"—এই ধরনের একাডেমিক প্রেশার দেবেন না।

বিশেষজ্ঞের মতামত ও গবেষণা
ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর গিফটেড চিলড্রেন (NAGC)-এর মতে, গিফটেড বা অত্যন্ত মেধাবী শিশুদের স্পেশাল নিড বা বিশেষ চাহিদাগুলোকে যদি ছোটবেলা থেকে সঠিক গাইডেন্স দেওয়া না হয়, তবে বয়ঃসন্ধিকালে এদের মধ্যে স্কুল ড্রপআউট, সিভিয়ার ডিপ্রেশন এবং 'আন্ডার-অ্যাচিভমেন্ট' (মেধা থাকা সত্ত্বেও কিছুই না করা)-এর হার সাধারণ বাচ্চাদের চেয়ে অনেক গুণ বেড়ে যায়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট এবং 'ট্রফি চাইল্ড' বানানোর বিষাক্ত সংস্কৃতি
আমাদের দেশে কোনো বাচ্চার মধ্যে স্পেশাল মেধা থাকলে বাবা-মা তাকে অবচেতনভাবেই একটি 'শো-পিস' বা 'ট্রফি চাইল্ড'-এ পরিণত করেন। বাসায় মেহমান এলেই বলা হয়, "আঙ্কেলকে ওই ১০০টা দেশের রাজধানীর নাম বলে শোনাও তো!"

বাচ্চাটিকে মানুষের সামনে অনেকটা সার্কাসের মতো পারফর্ম করতে বাধ্য করা হয়। আত্মীয়রা হাততালি দেন, বাবা-মা গর্ববোধ করেন। কিন্তু এই শো-অফ বাচ্চার ওপর কী পরিমাণ মানসিক চাপ বা পারফরম্যান্স অ্যাংজাইটি তৈরি করছে, তা কেউ ভাবে না। আমাদের সমাজের এই 'মেধা প্রদর্শনী'র কারণেই অনেক গিফটেড বাচ্চা বড় হতে হতে তাদের সমস্ত মেধা এবং আগ্রহ হারিয়ে ফেলে একসময় সাধারণের চেয়েও অনেক নিচে নেমে যায়।

আপনি একা নন!
একজন গিফটেড বাচ্চার বাবা বা মা হওয়াটা আক্ষরিক অর্থেই একটি ফুল-টাইম এবং এক্সস্টিং (Exhausting) চাকরি। সারাদিন তার হাজারো "কেন" এবং "কীভাবে"-এর উত্তর দিতে দিতে আপনি হয়তো অনেক সময় চরম ক্লান্ত হয়ে পড়েন। মাঝে মাঝে হয়তো আপনার মনে হয়, "আমার বাচ্চাটা যদি সাধারণ দশটা বাচ্চার মতো হতো, তবে হয়তো আমার এত কষ্ট হতো না!"

বিশ্বাস করুন, এমন চিন্তা মনে আসাটা আপনার ব্যর্থতা নয়, এটি আপনার চরম মানসিক ক্লান্তির বহিঃপ্রকাশ মাত্র। আপনার সন্তান স্পেশাল, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনাকে একজন 'সুপার-প্যারেন্ট' হতে হবে। সব প্রশ্নের উত্তর আপনার কাছে না-ও থাকতে পারে, এবং সেটা একদম ঠিক আছে। ওকে শুধু বুঝতে দিন যে ওর এই ভিন্ন এবং দ্রুতগামী ব্রেনটা নিয়ে ও একা নয়, ওর পাশে আপনি সবসময় আছেন।

কিডোরা স্মার্ট কমিউনিটি:
আপনার সন্তান কি সাধারণ বয়সের তুলনায় অনেক কঠিন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করে বা খুব সহজে সব শিখে ফেলে, অথচ ছোট ছোট রুটিন বদলালে চরম জেদ দেখায়? কমেন্টে আমাদের সাথে আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন!

👉 গিফটেড প্যারেন্টিংয়ের এই চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করতে এবং হাজারো সচেতন বাবা-মায়ের সাথে যুক্ত হতে আজই জয়েন করুন আমাদের Kidora - Parenting Club ফেসবুক গ্রুপে।

10/06/2026

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদে সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সেই শিশুটি, যে এখনো বুঝে উঠতে পারেনি তার অপরাধটা কোথায় ছিল।

মা-বাবার সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে, কিন্তু একটি শিশুর পৃথিবী ভেঙে যায় যখন সে অনুভব করে—তার জন্য আর কোথাও জায়গা নেই। যে দুটি হাত তাকে আগলে রাখার কথা ছিল, সেই হাত দুটিই যখন দায়িত্ব এড়িয়ে যায়, তখন তার ছোট্ট হৃদয়ে জন্ম নেয় আজীবনের শূন্যতা।

একটি শিশু কখনো বাবা-মায়ের ঝগড়া, বিচ্ছেদ বা মতবিরোধের কারণ নয়। তবুও অনেক সময় সবচেয়ে বড় মূল্য তাকেই দিতে হয়। খেলনা, খাবার বা পোশাকের চেয়েও একটি শিশুর বেশি প্রয়োজন ভালোবাসা, নিরাপত্তা এবং এই বিশ্বাস যে—‘আমি একা নই, আমার মা-বাবা আমাকে চায়।

আসুন, আমরা মনে রাখি—সম্পর্কের ইতি টানা যায়, কিন্তু সন্তানের প্রতি দায়িত্বের নয়। কারণ একটি শিশুর চোখের জল শুধু একটি পরিবারের ব্যর্থতার গল্প নয়, এটি পুরো সমাজের জন্য একটি নীরব প্রশ্ন।

কোনো শিশুর ঠিকানা যেন কখনো অবহেলা না হয়, কোনো শিশুর শৈশব যেন পরিত্যক্ত না হয়।

08/06/2026

প্রাথমিকে ভর্তির বয়স হলো ৪+ ৫+ এর মধ্যে। তার ৫ম শ্রেনি পর্যন্ত পৌছাতে তাদের বয়স হয় ১০ বা ১১বছর।
কিন্তু এখানে যারা অংশগ্রহণ করেছে তাদের বয়স কত হতে পারে বলে আপনার মনে হয়?
এটা প্রাথমিক অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে কিন্তু তামাশা করা হলো না?
তাদের ছোট্ট মনটাকে খেলার প্রতি বিষিয়ে দেয়া হলো না?
প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট সততার সাথে পরিচালনা করা হোক অথবা একবারে বন্ধ করে দেয়া হোক।

(দুর্নীতির একটা সীমা আসে কিন্তু এটা কোন ধরনের দুর্নীতি আমরা শিক্ষার্থীদের শিখাচ্ছি বুঝা বড় কঠিন)

নিচের ছবিটা দেখে আপনারা দেশবাসী চিন্তা করেন যে এই ছেলেটা প্রাইমারিতে কোন ক্লাসে পড়তে পারে!

03/06/2026

সিদ্ধান্তটি ভালো লাগলো ❤️ এমনটিই হওয়া উচিত সবার ক্ষেত্রে!
যে শিক্ষা বাবা মায়ের খোঁজ খবর নিতে সন্তানের বিবেককে নাড়া দেয়না সেটা কোনো শিক্ষা নয়।
যে শিক্ষা মানবিকতা জাগ্রত করে না সে শিক্ষা মূল্যহীন।

01/06/2026

রামিসার হত্যাকারীর পক্ষে আইনজীবী দাঁড়িয়েছে। বাহ্ বাংলাদে! বাহ্ বিচার ব্যবস্থা!!

30/05/2026

শিক্ষকরা অভিভাবকদের যা বলতে চান, কিন্তু পারেন না!

একটি শিশুকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক এবং অভিভাবক—উভয়ের ভূমিকাই সমান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায়, পেশাদারিত্বের দেয়াল, ভদ্রতা কিংবা চাকরিগত সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষকরা অনেক জরুরি কথা অভিভাবকদের সরাসরি বলতে পারেন না। অথচ এই কথাগুলো সন্তানের ভবিষ্যতের জন্যই জানা ভীষণ প্রয়োজন।আজকের লেখাটি শিক্ষকদের সেই মনের অবরুদ্ধ অনুভূতি এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকেই সাজানো হলো।

# # # ১. আপনার সন্তান আপনার সামনে একরকম, ক্লাসে অন্যরকম-
অনেক অভিভাবকই বিশ্বাস করতে চান না যে তাদের শান্তশিষ্ট সন্তানটি স্কুলেই সবচেয়ে বেশি দুষ্টুমি বা অমনোযোগী। মনে রাখবেন, পরিবেশ বদলে গেলে শিশুদের আচরণও বদলে যায়।

# # # ২. আমরা শিক্ষকরা জাদুকর নই-
স্কুলের ৫-৬ ঘণ্টায় আমরা অলৌকিক কিছু করে ফেলতে পারব না, যদি না বাড়িতেও আপনি সেই একই নিয়মানুবর্তিতা ও শিক্ষার চর্চা বজায় রাখেন।

# # # ৩. দয়া করে বাচ্চার হোমওয়ার্ক নিজে করে দেবেন না-
সন্তানকে সাহায্য করা আর তার কাজ নিজে করে দেওয়া এক বিষয় নয়। আপনি কাজটা করে দিলে সে সাময়িক নম্বর পাবে ঠিকই, কিন্তু মূল শিক্ষাটা থেকে বঞ্চিত হবে।

# # # ৪. ব্যর্থতাও শিক্ষার একটি অংশ-
পরীক্ষায় খারাপ করা বা কোনো প্রতিযোগিতায় হেরে যাওয়া মানেই সব শেষ নয়। সন্তানকে ছোটখাটো ব্যর্থতা ও ভুল থেকে শিখতে দিন। অতিরিক্ত আগলে রাখলে তারা ভবিষ্যতের কঠিন পৃথিবীর মুখোমুখি হতে পারবে না।

# # # ৫. সব দোষ শিক্ষকের নয়-
সন্তান পড়া না পারলে বা ভুল করলে প্রথমেই শিক্ষক বা স্কুলের দিকে আঙুল তুলবেন না। আগে ঠান্ডা মাথায় বোঝার চেষ্টা করুন সমস্যাটা ঠিক কোথায় হচ্ছে।

# # # ৬. আমরাও মানুষ, আমাদেরও ব্যক্তিগত জীবন আছে-
রাত ১০টায়, ছুটির দিনে বা গভীর রাতে মেসেজ কিংবা কল করলে আমরা বিরক্ত হই, যা ভদ্রতার খাতিরে মুখে বলতে পারি না। শিক্ষকদেরও একটা ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার আছে, সেটাকে সম্মান করুন।

# # # ৭. সন্তানের সামনে শিক্ষকের সমালোচনা করবেন না-
আপনি যদি বাচ্চার সামনে শিক্ষকের নামে নিন্দা বা কটূক্তি করেন, তবে সন্তান শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলবে। আর যার প্রতি শ্রদ্ধা থাকে না, তার কাছ থেকে কখনো শিক্ষা গ্রহণ করা যায় না।

# # # ৮. সততা ও ভদ্রতার প্রথম পাঠশালা হলো পরিবার-
বড়দের সম্মান করা, সহপাঠীদের সাথে মিলেমিশে থাকা এবং সত্য কথা বলার মতো মৌলিক বিষয়গুলো স্কুল শেখানোর আগে পরিবার থেকে আসা উচিত।

# # # ৯. আপনার সন্তান নিখুঁত নয়, এবং সেটা একদম স্বাভাবিক-
প্রতিটি বাচ্চারই কোনো না কোনো সীমাবদ্ধতা থাকে। সে সব বিষয়ে প্রথম হবে—এমন অবাস্তব আশা করে তার শৈশবকে বিষিয়ে তুলবেন না।

# # # ১০. প্রযুক্তিকে আপনার বিকল্প বানাবেন না-
বাচ্চাকে শান্ত রাখতে বা নিজের ব্যস্ততা কমাতে তার হাতে ফোন বা ট্যাব তুলে দেবেন না। স্ক্রিন টাইম বাচ্চার মনোযোগ ও মেধার বিকাশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে, যা আমরা ক্লাসরুমে প্রতিদিন টের পাই।

# # # ১১. আমরা আপনার শত্রু নই, সহযোদ্ধা-
আমরা যখন আপনার সন্তানের কোনো ভুলের কথা আপনাকে জানাই, তার মানে এই নয় যে আমরা তাকে ঘৃণা করি। আমরা চাই আপনি আর আমরা মিলে তার এই ভুলটা শুধরে নিই।

# # # ১২. পরীক্ষার নম্বরই সব নয়-
জিপিএ-৫ পাওয়ার চেয়ে আপনার সন্তান একজন ভালো মানুষ এবং মানসিকভাবে সুস্থ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠছে কি না, তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

# # # ১৩. আপনার সন্তানকে নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের হাতিয়ার বানাবেন না-
আপনি ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে পারেননি বলে সন্তানকেও জোর করে সেই পথে ঠেলবেন না। তার নিজস্ব প্রতিভা ও ইচ্ছাকে ডানা মেলতে দিন।

# # # ১৪. বাচ্চার সব আবদার পূরণ করা ভালো অভিভাবকত্ব নয়-
সন্তান যা চাচ্ছে তা-ই সঙ্গে সঙ্গে হাজির করবেন না। এতে তারা 'না' শোনার মানসিকতা হারিয়ে ফেলে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো জেদ পূরণ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে।

# # # ১৫. ক্লাসরুমের গুজব সবসময় সত্যি নয়-
বাচ্চারা অনেক সময় বাড়িতে গিয়ে স্কুলের ঘটনা বানিয়ে বা বাড়িয়ে বলে। কোনো অ্যাকশন নেওয়ার আগে দয়া করে শিক্ষকের সাথে কথা বলে সত্যটা যাচাই করে নিন।

# # # ১৬. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সুস্থ অভ্যাসের দিকে নজর দিন-
দয়া করে সন্তানকে পরিষ্কার ইউনিফর্ম পরিয়ে এবং সময়মতো পুষ্টিকর খাবার খাইয়ে স্কুলে পাঠান। ক্ষুধার্ত বা অপরিষ্কার শিশু ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারে না।

# # # ১৭. আমরা আপনার সন্তানকে ভালোবাসি-
পেশাদারিত্বের বাইরেও প্রতিটি শিক্ষকের মনেই তার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এক অদ্ভুত মায়া এবং ভালোবাসা কাজ করে। আমরা সত্যিই ওদের ভালো চাই।

# # # ১৮. তুলনা করা বন্ধ করুন-
"অমুকের ছেলে এত ভালো করল, তুমি কেন পারলে না?"—এই একটি বাক্য আপনার সন্তানের আত্মবিশ্বাস চিরতরে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

# # # ১৯. স্কুলে নিয়মিত খোঁজ নিন, শুধু রেজাল্টের দিন নয়-
সারা বছর বাচ্চার কোনো খোঁজ না নিয়ে হুট করে পরীক্ষার পর এসে নালিশ করবেন না। সন্তানের অগ্রগতি জানতে বছরের শুরু থেকেই শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ রাখুন।

# # # ২০. শিক্ষকের বেতনের চেয়ে তার দায়িত্বের পরিধি অনেক বড়-
শিক্ষকদের যে বেতন বা সম্মান দেওয়া হয়, তারা প্রতিদিন ক্লাসরুমে যে মানসিক ও শারীরিক শ্রম দেন, তা তার চেয়ে অনেক বেশি। একটু সহানুভূতিশীল হোন।

# # # ২১. একটুখানি 'ধন্যবাদ' আমাদের অনেক বড় অনুপ্রেরণা-
আমাদের কাজের কোনো বোনাস বা বড় প্রমোশন নেই। কিন্তু কোনো অভিভাবক যখন এসে আন্তরিকভাবে বলেন, "আপনার কারণে আমার বাচ্চাটা অনেক বদলে গেছে, ধন্যবাদ"—তখন আমাদের সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।

# # # উপসংহার: উপরের কথাগুলো আমরা শিক্ষকরা বিচ্ছিন্নভাবে এনিয়ে বেনিয়ে অভিভাবকদের বলে থাকি।কিন্তু অধিকাংশ সময় অভিভাবকদের অনেক আপত্তিকর আচরণের সময় মুখে আসলেও এড়িয়ে যাই। উল্লেখ্য, স্থান, কাল, পরিবেশ বিবেচনা করা কথাগুলো অভিভাবকদের বলতেই হবে। কেননা শিক্ষক এবং অভিভাবক কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নন, বরং তারা একটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার দুই কারিগর। কাদা-ছোড়াছুড়ি না করে যদি উভয়েই একে অপরের সীমাবদ্ধতা ও আবেগকে সম্মান জানান, তবেই একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠন সম্ভব।
সংগৃহীত আল-আমিন স্যার।

Want your school to be the top-listed School/college in Rajshahi?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Address


Rajshahi
6000