21/08/2024
সবাই ভাবতেছে
ভারত কেন ডুম্বুর বাধ খুলে দিল
কিন্তু, আমার প্রশ্ন অন্য জায়গায়
একটা আন্তঃসীমান্ত নদীতে ভারত বাধ দেওয়ার এখতিয়ার পাইলো কেমনে!!!
এডা তো আন্তর্জাতিক নদী সংরক্ষণ আইনের পরিপন্থী
চলুন, একটু বিস্তারিত আলোচনা করি!!!
‘আমাদের পূর্ববর্তী শাসকগোষ্ঠীর ভারতের প্রতি স্বজনপ্রীতি পররাষ্ট্রনীতির কারণে স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও পানির নায্য হিস্যা আদায় হয়নি। সব সরকারই ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বার্থে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে সাম্রাজ্যবাদী ভারতের স্বার্থে একের পর এক গণবিরোধী চুক্তি করেছে।
ভারত- বাংলাদেশ দুই দেশের অভিন্ন ৫৪টি নদীর ৫১টি নদীতে আন্তর্জাতিক নদী আইন অম্যান্য করে ভারত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য উজানে অসংখ্য বাঁধ, ব্যারেজ দিয়েছে এবং ভিন্নখাতে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করছে। ভারতের এই পানি আগ্রাসনের কারণে গোটা বাংলাদেশ আজ মরুকরণের দিকে। ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প আন্তর্জাতিক নদী আইনের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন।
যেসব নদী দুই বা ততোধিক দেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, সেগুলোকে বলা হয় আন্তর্জাতিক নদী। বাংলাদেশের ৫৪টি নদী ভারত থেকে এবং তিনটি এসেছে মিয়ানমার থেকে। অভিন্ন নদীর পানি ব্যবহার সংক্রান্ত ১৯৬৬ সালের হেলসিংকি নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রতিটি অববাহিকাভুক্ত রাষ্ট্র অভিন্ন নদীগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই অন্য রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রয়োজন বিবেচনায় নেবে। ১৯৯৭ সালের জাতিসংঘের জলপ্রবাহ কনভেনশন অনুযায়ী প্রণীত আইনে বলা হয়েছে, নদীকে এমনভাবে ব্যবহার করা যাবে না, যাতে অন্য দেশ মারাত্মক ক্ষতি বা বিপদের মুখে পডবে।
অথচ, এসব আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও আইনের তোয়াক্কা না করে ভারত একতরফাভাবে নদীসংযোগ পরিকল্পনা অগ্রসর করছে। দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য, ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট, রামপালে বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রগুলোতে ভারত আধিপত্য বিস্তার করে আছে। কিন্তু, পানি সম্পদের ন্যায্য অধিকারের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে শেখ হাসিনা সরকার যথার্থ দায়িত্ববোধের পরিচয় দিতে পারেনি।
আপনি জেনে অবাক হবেন, বাংলাদেশে এক সময় ১২০০ নদীর দেশ ছিল। কালের বিবর্তনে ভারতপ্রীতির জন্য দেশে এখন মাত্র ২৩০ টি নদী আছে।। এক ফারাক্কা বাঁধই দেশের মানচিত্র থেকে মুছে দিয়েছে ২০টি নদী।
এতকিছুর পরেও যদি মনে হয়, স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা সরকার দেশের অনেক উন্নতি করেছে। তাহলে বলতেই হয়, আপনার ব্রেইন পশ্চাৎদেশে।