18/12/2025
বিপ্লবীদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না। এই রক্তের মূল্য একদিন সন্ত্রাসী আওয়ামীলীগ ও তাদের মদদদাতা সন্ত্রাসী রাষ্ট্রকে দিতে হবে।
আল্লাহ ওসমান হাদি ভাইকে জান্নাতবাসী করুন।
মুসলমানদের স্বর্ণকণিকা কালের গর্ভে রয়ে যাওয়া মুসলমানদের স্বর্ণালী ইতিহাস তুলে ধরবে ৩০ কোটি বাংলা ভাষাভাষীদের মাঝে।
মুসলমানদের হারিয়ে যাওয়া গৌরবময় ইতিহাস, সংস্কৃতি, সাম্রাজ্য, সভ্যতা, স্থাপত্য, জ্ঞান বিজ্ঞানে অবদান ইত্যাদি নিয়ে নির্ভরযোগ্য আর্টিকেল ও কনটেন্ট, ভিডিও প্রতিনিয়ত প্রকাশ করবো আপনাদের মাঝে। মুসলমানদের স্বর্ণকণিকা সর্বদা চেষ্টা করবে বাংলা ভাষাভাষী প্রায় ৩০ কোটি মানুষের মাঝে কালের গর্ভে রয়ে যাওয়া মুসলমানদের স্বর্ণালী ইতিহাস তুলে ধরার।
18/12/2025
বিপ্লবীদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না। এই রক্তের মূল্য একদিন সন্ত্রাসী আওয়ামীলীগ ও তাদের মদদদাতা সন্ত্রাসী রাষ্ট্রকে দিতে হবে।
আল্লাহ ওসমান হাদি ভাইকে জান্নাতবাসী করুন।
06/12/2025
আজ থেকে ঠিক ৩৩ বছর আগে
23/10/2025
১) শামসউদ্দীন ইলিয়াস শাহের পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত প্রখ্যাত ইসলাম প্রচারকবৃন্দ ছিলেন আয়না-এ-হিন্দ মখদুম শাইখ আখী সিরাজ-উদ-দ্বীন উসমান (রহঃ), গঞ্জ-ই-নাউবাত মখদুম শাইখ আলাউল হক পান্ডুয়াবী (রহঃ), শাইখ হুসাইন জোক্কুরপেশ (রহঃ) প্রমুখ।
২) বাংলা সালতানাতের পূর্ণিয়ার ইসলাম প্রচারক শাইখ হুসাইন জোক্কুরপেশ (রহঃ)-এর ইসলাম প্রচারের ফলে নেপালের সীমান্ত এলাকার অনেক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করলে নেপালের কুসংস্কারাচ্ছন্ন হিন্দুরা নওমুসলিমদের ধরে পশুপতিনাথের মন্দিরে বলি দেয়। এ খবর সুলতানের কাছে পৌঁছালে তিনি শপথ করেন- "যে পশুপতিনাথের সামনে এতো মানুষকে বলি দেওয়া হলো সেই পশুপতিনাথের মূর্তি আমি নিজ হাতে ভাঙবো।"
নেপালি মুসলিম ভাইদের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইলিয়াস শাহ্ ১৩৫০ সালের ২৭শে নভেম্বর কাঠমুন্ডু অভিমুখে বিশাল বাহিনী নিয়ে যাত্রা করেন ও রাজা জয়রাজ মল্লকে পরাজিত করে পুরো নেপাল দখল করে নেন এবং প্রতিজ্ঞা অনুসারে পশুপতিনাথের মূর্তি ত্রিখণ্ডিত করেন।
৩) ইলিয়াস শাহ্ পৃথিবীর প্রথম ও শেষ মুসলিম হিসেবে নেপাল (অধুনা ভারতের রাজ্য উত্তরাখণ্ড ও সিকিমও তখন নেপালের মল্ল রাজবংশ কর্তৃক শাসিত হতো) জয় করেন এবং ৬৩ বছরের জন্য পুরো নেপাল তাঁর সালতানাতের অন্তর্ভুক্ত হয়।
১৩৫০ থেকে ১৪১৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সমগ্র নেপাল বাংলা সালতানাতের অংশ ছিলো, ১৪১৩ সালে গণেশের উত্থানের সময় সুলতান আলাউদ্দিন ফিরুজ শাহর শাসনামলে স্বাধীন হয়ে যায়। নেপালে অর্ধশতকের বেশি সময়ের জন্য মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সুলতান ইলিয়াস শাহ্।
৪) সুলতান শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ্ তাঁর সাম্রাজ্যে প্রচুর মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকাহ নির্মাণের ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি ১৩৩৯ সালে কলকাতার মল্লিক বাজারের বেনিয়াপুকুরে শাইখ আলাউল হকের সম্মানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন; এটিই ছিলো কলকাতার প্রথম মসজিদ। ইলিয়াস শাহ নির্মিত মসজিদের (বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত) শিলালিপিটি ব্রিটিশ শাসনামলে বেনিয়াপুকুরের একটি আধুনিক মসজিদ থেকে আবিষ্কৃত হয়।
৫) তিনি ক্ষমতারোহণের আগে বাংলায় অমুসলিম দূরে থাক, নওমুসলিমদেরই সামরিক বাহিনী ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে উচ্চপদে নিযুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ ছিলনা (যোগ্যতা থাকার পরেও না), তাদেরকে তুর্কি মুসলিমদের দ্বারা দেখা হতো অত্যন্ত নীচু দৃষ্টিকোণ থেকে। ইলিয়াস শাহ এই ইসলামবিরোধী জাতিভেদ প্রথা বাঙ্গালী মুসলিম সমাজ থেকে উৎখাত করেন এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে যোগ্যতার ভিত্তিতে সামরিক বাহিনী ও প্রশাসনে নিযুক্তিদান শুরু করেন।
৬) ইলিয়াস শাহ্ ১৩৪৮ সালে বিশ্বের তৎকালীন বৃহত্তম হিন্দু রাজ্য উড়িষ্যা জয় করেন ও ত্রিকলিঙ্গেশ্বরের সুপ্রশিক্ষিত হস্তীবাহিনীর রক্তে চিল্কা হ্রদের জল লাল করে দিয়ে "গাজী" উপাধি ধারণ করেন।
৭) তুর্কি শাসনামলে (১২০৪-১৩৩৮) আশরাফ-আতরাফ দ্বন্দ্ব থাকায় ধর্মান্তরিত স্থানীয় মুসলিমদের নীচু দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতো তুর্কিরা এবং একারণেই কোনো তুর্কি শাসক ধর্মান্তরিত বাঙালিকে বিবাহ করতেন না। ইলিয়াস শাহ এই রীতির অবসান ঘটিয়ে বাংলার প্রথম শাসনকর্তা হিসেবে ধর্মান্তরিত বাঙালি নারীকে বিবাহ করেন। শুধু তাই নয়, তিনি তাঁর পুত্র শাহজাদা সিকান্দারকেও বিক্রমপুরের সম্ভ্রান্ত পরিবারের ধর্মান্তরিত নারীদের সাথে বিবাহ দেন। সেই থেকে শুরু হয় ইলিয়াস শাহী সুলতানদের বাঙালি নেটিভ বিবাহের রীতি।
রাজপরিবার বাঙালি বিয়ে করায় খান্দানের দেখাদেখি এদেশে আগত তুর্কি, পাঠান, আরব, পারসিক মুসলমান আমির-উমরাহগণ ও সৈনিকেরাও ধর্মান্তরিত বাঙালি বিয়ে করা আরম্ভ করেন। ফলে, দলে দলে অসংখ্য নারী ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। এভাবে বাংলায় ইসলামের বিস্তার ত্বরান্বিত হয়।।
৮) সুলতান ইলিয়াস শাহ্ বাহরাইচ জয় করেন ও দুই-দুইবার সালার মাসঊদ গাজী (রহঃ)-এর দরগায় উপস্থিত হয়ে জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
৯) ইলিয়াস শাহ প্রজাদের সুবিদার্থে তাঁর নির্মিত প্রতিটি মসজিদের পাশে দীঘি খননের ব্যবস্থা করেন যাতে ওজু করতে সুবিধা হয়।
১০) উঁচু বেদীর উপর মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন ইলিয়াস শাহ, যাতে বন্যার সময় নামাজ পড়তে অসুবিধা না হয়। সুফি-দরবেশদের ভক্তি ছিলো শাহী বাঙ্গালার বৈশিষ্ট্য।
১১) শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ ব্যাভিচার ও নোংরামির কেন্দ্রস্থল কামরূপ জয় করেন ও কামরূপের রাজধানী রাঙ্গামাটির নামকরণ করেন- "আওয়ালীস্তান"। তাঁর ইচ্ছা ছিলো- কামরূপ কামাখ্যার ভূমিকে তিনি আউলিয়া দিয়ে পূর্ণ করে দিবেন।
অমুসলিম প্রজাদের কল্যাণ ও ধর্মীয় সহাবস্থানে ইলিয়াস শাহ:
১) ইলিয়াস শাহ্ প্রজাদের বিবেচনা করতেন গুণ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে নয়। তাই তার সময় থেকে মুসলিম ও অমুসলিমরা যোগ্যতার ভিত্তিতে উচ্চরাজপদে অধিষ্ঠিত হতে শুরু করেন।
২) যোগ্যতার ভিত্তিতে হিন্দুরা সামরিক বাহিনী ও প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদলাভ করতে পারতেন। বাংলার প্রধান শক্তি পাইক সেনাবাহিনীর বেশিরভাগ যোদ্ধাই ছিলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী। ইলিয়াস শাহর সর্বাধিনায়ক পাইক-ই-মুকাদ্দাম সহদেব ছিলেন একজন শূদ্র।
৩) ব্রাহ্মণ আধিপত্যবাদীদের কবল থেকে ও জাতপাত থেকে হিন্দু জনসমাজকে রক্ষা করেন ইলিয়াস শাহ। ব্রাহ্মণ্যবাদীরা যেখানে আজও নীচু জাতের ছোঁয়া জিনিস খায়না, ইলিয়াস শাহ সেই মধ্যযুগে একজন শূদ্রকে সর্বাধিনায়ক (জেনারেলদের জেনারেল) নিযুক্ত করেছিলেন।
৪) ইলিয়াস শাহর শাসনামলে হিন্দু-মুসলিমের এমন ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি হয়েছিলো যে, বলা হতো শুধু কপালে তিলক কাটা দেখেই বোঝা যেত কে মুসলিম আর কে হিন্দু। সুলতানী যুগে সব উচ্চপদস্থ হিন্দুই শাহী মুসলমানী পোশাক পরিধান করতো।
৫) কেবল সুফি-দাঈদেরই নয়, হিন্দু সন্ন্যাসীদেরও ভালো চোখে দেখা হতো ও সরকার কর্তৃক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা হতো। মন্দির স্থাপন ও ধর্মপালনের পূর্ণ স্বাধীনতা ছিলো।
ইলিয়াস শাহ্ একই সাথে প্রজাবৎসল ও সুদক্ষ শাসক ছিলেন। তিনি হিন্দুরাজ্যগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় যেমন মুশরিকদের দেবলায় গুড়িয়ে দিয়ে ইসলামের রাজনৈতিক বিজয়ঘোষণা করতেন, তেমনি তিনিই নিজের হিন্দু প্রজাদের জন্য মন্দির নির্মাণের বন্দোবস্ত ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ফলে তাঁর জন্য শত শত হিন্দু প্রজা প্রাণ দিতে প্রস্তুত ছিলেন। ইলিয়াস জয় করেছিলেন কাশী, উড়িষ্যা, গোরখপুর, কাঠমুন্ডু, আসাম, ত্রিপুরা, বাহরাইচ। ব্রাহ্মণ্যবাদী ও আশরাফ আধিপত্য খর্ব, সংস্কৃত ভাষার স্থলে বাংলায় সাহিত্যচর্চা, ধর্মীয় সহাবস্থান, সাম্রাজ্যের স্বচ্ছলতা, জননিরাপত্তা, দীর্ঘদিনের অস্থিতিশীলতার অবসান, জাত নয়-যোগ্যতার বিনিময়ে ভাগ্যোন্নয়নের সুযোগ, বাঙালি পরিচয় বিনির্মাণ, ইসলামের প্রচার ও প্রসার, শক্তভাবে একত্ববাদের ভিত্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইলিয়াস শাহ সত্যিকার অর্থেই হয়ে উঠেছিলেন বাংলার সম্রাট।
তাই রিচার্ড ম্যাক্সওয়েল ইটন যথার্থই বলেছেন- আলাউদ্দিন খলজির পর ভারতীয় উপমহাদেশের যে শাসনকর্তাকে দ্বিতীয় আলেকজান্ডার আখ্যায়িত করা যায়, তিনি শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ্।
লিখেছেন: রাজিত তাহমীদ জিত
#মুসলমানদের_স্বর্ণকণিকা
তথ্যসূত্র:
১.মধ্যযুগে বাংলা - খন্দকার স্বনন শাহরিয়ার
২.তারিখ-ই-মুবারাকশাহী - ইয়াহিয়া বিন আহমাদ সিরহিনদী
৩. দ্যা রাইজ অব ইসলাম এন্ড দ্যা বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার - রিচার্ড ইটন ম্যাক্সওয়েল
06/10/2025
কিছু মজার তথ্য শেয়ার করি। যা আপনার বিবেককে হয়তো প্রশ্ন করবে।
১. Global Sumud Flotilla তে ৪৪টি দেশের প্রায় ৫০০ জন মানুষ ৪২ টি boats/vessels এ করে যাত্রা করেছিলো গাজার উদ্দেশ্যে।
২. এই ফ্লোটিলায় অংশ নেওয়া ৭০% মানুষ-ই অমুসলিম।
৩. অনেক মুসলিমদের কাছে আবেগের দেশ সৌদি আরব থেকে একজনও সেই ফ্লোটিলায় অংশ নেয় নি। এটা স্বাভাবিক কারণ, দেখতে ২ পা ওয়ালা বাস্তবে চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় মানুষগুলোর(আরব) যে ন্যূনতম আবেগ/অনুভতি নেই। একইভাবে UAE থেকেও অংশ নেয় নি। এমনকি কাতার থেকেও।
৪. পাশের দেশ ভারত (যার অধিকাংশ মানুষ Whatsapp Univeristy থেকে PhD করেছে) থেকেও কেউ অংশ নেয় নি।
৫. সবচেয়ে বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেছে তুর্কিয়া (তুরস্ক) থেকে। এরপরের যে দেশগুলো থেকে সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ করেছে সেগুলো হলো স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স। যা প্রতিটাই অমুসলিম।
৬. বাংলাদেশের হয়ে অংশ নিয়েছে আলোকচিত্রী শহীদুল আলম।
৭. আর এবারের এই Global Sumud Flotilla এর মাস্টারমাইন্ড যাকে ধরা হয় যাকে গ্রেটা থুনবার্গ তার বয়স মাত্র ২২ বছর।
30/09/2025
ট্রাম বলেন: গাজায় গঠিত হবে অন্তর্বর্তী সরকার ‘দ্য বোর্ড অব পিস’ । যার প্রধান হবেন ট্রাম্প নিজেই।
16/09/2025
১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৩১ সালে ওমর আল-মুখতারকে ইতালিয়ানরা ফাঁসি কার্যকর করে শহীদ করে। তিনি ছিলেন একজন ইসলামী পন্ডিত এবং বিপ্লবী, যিনি প্রায় ২০ বছর ধরে লিবিয়ায় ইতালীয় দখলের বিরুদ্ধে বীরত্বের সাথে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি ‘মরুভূমির সিংহ’ নামে খ্যাত। দীর্ঘ যুদ্ধের পরে, ইতালীয় দখলদার বাহিনী ৭৩ বছর বয়সী ওমর আল মুখতারকে যুদ্ধে আহত হওয়ার পর তাকে বন্দী করতে সক্ষম হন এবং ফাঁসি কার্যকর করলে শাহাদত বরণ করেন।
14/09/2025
ভাবতে পারেন, একদিনেই যদি ঘটে যায় খলিফার মৃত্যু, নতুন খলিফার সিংহাসনে বসা, আর সেই খলিফার ঘরে সন্তানের জন্ম? ঠিক এমনই এক বিস্ময়কর দিন ছিল ৭৮৬ খ্রিস্টাব্দের ১৪ সেপ্টেম্বর।
11/09/2025
চারটি ইসরায়েলি বিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম এক সফল পাইলট সাইফুল আজম।
05/09/2025
৪ সেপ্টেম্বর ১০৬৩ খ্রিস্টাব্দে সুলতান তুঘরিল বেগ মৃত্যুবরণ করেন।
05/09/2025
৯৭৩ খ্রিস্টাব্দের ৪ সেপ্টেম্বর আজকের এইদিনে
31/08/2025
এমন কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি যার দ্বারা প্রমাণ করা যায় যে মুসলিম যোদ্ধারা বৌদ্ধদের গণহারে হত্যা করেছিল, কিংবা বেছে বেছে সব বৌদ্ধ ভিক্ষুকে খুন করেছে।
-মার্শাল হজসন
ইতিহাসবিদ, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়
30/08/2025
আজ ৩০ আগস্ট, ১৫৬৯ সাল এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন মহান মুঘল সম্রাট নূরউদ্দীন মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর , যিনি ১৬০৫ থেকে ১৬২৭ সাল পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এক সোনালি অধ্যায়ের সূচনা করেন। তিনি ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের চতুর্থ সম্রাট, সম্রাট আকবর ও সম্রাজ্ঞী মারিয়ম-উজ-জামানীর জ্যেষ্ঠ পুত্র। তার ২২ বছরের শাসনকাল শিল্প, সাহিত্য, ন্যায়বিচার, সুফিবাদ, এবং প্রকৃতিপ্রেমে সমৃদ্ধ এক অসাধারণ সময় হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।
জাহাঙ্গীরের জন্ম ফতেহপুর সিক্রির নিকটে বিখ্যাত সুফি সাধক শেখ সেলিম চিশতির দরগাহের পাশে। জন্মের পর তার নাম রাখা হয়েছিল নূরউদ্দীন মুহাম্মদ সেলিম, কারণ আকবর বহুদিন প্রার্থনার পর পুত্রপ্রাপ্তির আশায় শেখ সেলিম চিশতির দোয়া প্রার্থনা করেছিলেন।
তার নিজের আত্মজীবনী “তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরি”-তে তিনি লিখেছেন, “আমার জন্ম হয়েছিল ৩০ আগস্ট ১৫৬৯ সালে, ফতেহপুর সিক্রির নিকটে শেখ সেলিম চিশতির দরগাহের পাশে। আমার পিতা সম্রাট আকবর মহান দরবেশের দোয়ার বরকতে আমার জন্মকে আল্লাহর এক বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে গণ্য করতেন, তাই তিনি আমার নাম রাখেন ‘সেলিম’।” (Tuzuk-i-Jahangiri, Vol-I, Trans. Alexander Rogers, 1909, p. 23)
১৬০৫ সালে সম্রাট আকবরের মৃত্যুর পর সেলিম সিংহাসনে বসেন এবং “জাহাঙ্গীর” উপাধি গ্রহণ করেন, যার অর্থ “বিশ্বজয়ী”। তার সিংহাসন আরোহন উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে নতুন এক আশার সঞ্চার করে।
তার শাসনকালে দিল্লি, আগ্রা, লাহোর, কাশ্মীর, গুজরাট এবং বাংলাসহ বিভিন্ন প্রদেশে প্রশাসনিক সংস্কার, শিল্প ও শিক্ষা বিস্তার, সুফি দরবারের উন্নয়ন এবং মুসলিম স্থাপত্য পুনর্গঠনে বিপুল অবদান রাখেন।
জাহাঙ্গীরের অন্যতম বড় অবদান ছিল মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকাহগুলোর পুনর্গঠন। তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরি অনুসারে, তিনি দিল্লি, লাহোর, আগ্রা ও ফতেহপুর সিক্রির বহু মসজিদ সংস্কারে অর্থ বরাদ্দ করেন। লাহোরের শাহদারা মসজিদ তার আমলে পুনর্নির্মিত হয়। ইতিকাদ খানকার মসজিদ সংস্কারে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। মাদ্রাসার ওয়াকফ সম্পত্তি সুরক্ষায় কঠোর আইন প্রণয়ন করেন। আবুল ফজলের “আইন-ই-আকবরি” অনুযায়ী, আকবরের শেষ দিকে যে মাদ্রাসাগুলোর আয় হ্রাস পেয়েছিল, জাহাঙ্গীর সেখানে নতুন করে ওয়াকফ তহবিল প্রদান করেন। (Abul Fazl, Ain-i-Akbari, Vol-II, Asiatic Society Publication, 1891, pp. 147-149)
জাহাঙ্গীরের শাসনকালে মুঘল চিত্রকলা ও শিল্পকলার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। তিনি প্রকৃতি, প্রাণী, উদ্ভিদ এবং প্রতিকৃতিচিত্রের প্রতি বিশেষ অনুরাগী ছিলেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায়, উস্তাদ মংশুর, আবুল হাসান, ও বিশনদাস-এর মতো বিখ্যাত শিল্পীরা অসংখ্য অনন্য চিত্রকর্ম তৈরি করেন। উস্তাদ মংশুরের “Album of Birds” (c. 1612) আজও মুঘল মিনিয়েচার পেইন্টিংয়ের এক অনন্য নিদর্শন। আবুল হাসানের আঁকা “Portrait of Jahangir” (c. 1617, Smithsonian Collection) জাহাঙ্গীরের শিল্পপ্রীতির প্রমাণ।
জাহাঙ্গীর গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন সুফিবাদ ও আধ্যাত্মিক চর্চায়। তিনি বিশ্বাস করতেন, শেখ সেলিম চিশতির দোয়ার বরকতেই তার জন্ম হয়েছে। ফলে তিনি ফতেহপুর সিক্রির ওই দরগাহের উন্নয়নে বিশাল অর্থ দান করেন। এছাড়াও, তিনি দিল্লির নিজামউদ্দীন আউলিয়া, আজমিরের মুঈনউদ্দীন চিশতি, এবং গুজরাটের শাহ আলম দরগাহ-সহ বহু সুফি দরগাহে অনুদান প্রদান করেন। তার শাসনামলে মুঘল দরবার সুফি সাধকদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করত।
জাহাঙ্গীর শুধু শিল্পীই ছিলেন না, বরং প্রথম দিকের মুসলিম প্রকৃতিবিদদের একজন। তিনি প্রাণী, উদ্ভিদ ও পাখির বৈজ্ঞানিক বর্ণনা লিখে গেছেন তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরিতে। ইউরোপীয় ইতিহাসবিদ Sir Thomas Roe তার দরবার পরিদর্শনের সময় উল্লেখ করেছেন যে, জাহাঙ্গীরের হাতে রাখা প্রাকৃতিক পর্যবেক্ষণ-পত্রগুলো সেই সময়ে ইউরোপকেও বিস্মিত করেছিল।
(Sir Thomas Roe, Embassy to the Mughal Court, 1615, Cambridge Edition, 1931, pp. 62-65)
২৮ অক্টোবর ১৬২৭ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীর মৃত্যুবরণ করেন। তার সমাধি লাহোরের শাহদারা বাগে অবস্থিত, যা মুঘল স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন। তার পুত্র সম্রাট শাহজাহান সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং মুঘল স্থাপত্যকে সর্বোচ্চ শিখরে উন্নীত করেন।
সম্রাট জাহাঙ্গীর শুধুমাত্র একজন শাসকই নন, তিনি ছিলেন শিল্প, প্রকৃতি, সুফিবাদ ও জ্ঞানের এক অনন্য প্রতীক। তার আমলে মুঘল সাম্রাজ্য সাংস্কৃতিক বিকাশ, ন্যায়বিচার, আধ্যাত্মিকতা ও শিল্পকলার এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছিল।
আজ, তার জন্মবার্ষিকীতে, আমরা তার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।
লিখেছেন: হাসনাত হাসান রাহাত