ওরাকল বিসিএস রাজশাহী

ওরাকল বিসিএস রাজশাহী "BCS Preliminary || BCS Written || BCS Viva"

আজকের আলোচিত কলাম:  #দিল্লিতে_ব্রিকসের_সম্মেলনে_বড়_হয়ে_উঠবে_পুতিন_ট্রাম্পের_দ্বন্দ্ব :রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতি...
12/09/2026

আজকের আলোচিত কলাম:
#দিল্লিতে_ব্রিকসের_সম্মেলনে_বড়_হয়ে_উঠবে_পুতিন_ট্রাম্পের_দ্বন্দ্ব :

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (বাঁয়ে) ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি করমর্দন করছেন। নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের আগের দিন, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র ব্রিকসের সদস্য নয়। তারপরও আগামীকাল শনিবার দিল্লিতে শুরু হতে যাওয়া দুই দিনের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বড় হয়ে উঠবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছায়া।

সম্মেলনের আয়োজক ভারত ছাড়াও চীন, রাশিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ইরানসহ ব্রিকসের ১১টি দেশের নেতারা এই সম্মেলনে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সৌদি আরবও অংশ নিচ্ছে সম্মেলনে। এই সম্মেলনে বর্তমান বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকা বিভিন্ন দেশের নেতাদের আলোচনায় খুব কম বিষয়ই ততটা গুরুত্ব পাবে, যতটা গুরুত্ব পাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেওয়া বিভিন্ন নীতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা।

ইরান যুদ্ধ ও হোয়াইট হাউসের শুল্ক আরোপের অব্যাহত হুমকি বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এমন এক পরিস্থিতির মধ্যেই ব্রিকসের নেতারা বৈঠকে বসছেন। তবে সম্মেলন থেকে এমন কোনো যৌথ বিবৃতি আসার সম্ভাবনা কম, যেখানে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করা হবে কিংবা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি ও ভূরাজনীতির মোকাবিলায় সমন্বিত কোনো কৌশলের কথা বলা হবে।

এর একটি কারণ হলো, ওয়াশিংটনকে চ্যালেঞ্জ করতে ব্রিকস কতটা এগোবে, তা নিয়ে জোটটির সদস্যদের মধ্যে গভীর বিভাজন রয়েছে।

ভারতের এমন কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়ার সক্ষমতা নেই, যা ওয়াশিংটনের বিপক্ষে যায়। সম্প্রসারিত ব্রিকসের সদস্যদের স্বার্থের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির যেকোনো সমালোচনা হবে ‘অস্পষ্ট ও পরোক্ষ’।
মাইকেল কুগেলম্যান, জ্যেষ্ঠ ফেলো, আটলান্টিক কাউন্সিল
আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বিবিসিকে বলেন, ‘ভারতের এমন কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়ার সক্ষমতা নেই, যা ওয়াশিংটনের বিপক্ষে যায়।’ তাঁর ধারণা, সম্প্রসারিত ব্রিকসের সদস্যদের স্বার্থের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির যেকোনো সমালোচনা হবে ‘অস্পষ্ট ও পরোক্ষ’।
এই জোট যেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরও স্পষ্ট অবস্থান নেয়, সেই চেষ্টা করতে পারে রাশিয়া ও ইরান। তবে ব্রিকসের ভেতরের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা তা কঠিন করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে ভারত। এ সময় হোয়াইট হাউসকে অসন্তুষ্ট করতে পারে, এমন কোনো বিবৃতি দিতে চাইবে না দিল্লি। ব্রিকসকে ব্যবহার করে ওয়াশিংটনকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, এমন কোনো ধারণা তৈরি হওয়ার বিষয়ে চীনও সতর্ক থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এরপরে আছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাবে ইরান যে পাল্টা হামলা চালায়, তার শিকার হয়েছিল মার্কিন ঘাঁটি থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত। তাই তেহরানের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে, এমন কোনো বিবৃতি আমিরাতের সমর্থন করার সম্ভাবনা কম।

কুগেলম্যান বলেন, ব্রিকসের সম্প্রসারণের ফলে জোটটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এর ফলে সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছানোও কঠিন হয়েছে।
আটলান্টিক কাউন্সিলের এই জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক বলেন, ‘আপনি এমন বেশ কয়েকটি সদস্যকে যুক্ত করেছেন, যাদের মধ্যে বনিবনা নেই।’ তাঁর মতে, ‘বিশ্বব্যবস্থা নিয়ে নানা মত ও ভিন্ন অবস্থান থাকা’ দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডানে) ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফ্রান্সের এভিয়ঁতে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে,
ট্রাম্প ব্রিকসের বিরুদ্ধেও বেশ সোচ্চার। বিশেষ করে বৈশ্বিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানো নিয়ে জোটটির প্রচেষ্টার সমালোচনা করেন তিনি। ডলারের ওপর এই নির্ভরতা কমানোর প্রক্রিয়া ডি-ডলারাইজেশন নামে পরিচিত।

ব্রিকসের বিকল্প মুদ্রা চালু বা বৈশ্বিক বাণিজ্যে ডলারের প্রভাব কমানোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রায় সময় হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। এমনই এক হুমকিতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘শক্তিশালী মার্কিন ডলারের’ বিকল্প কোনো মুদ্রাকে ব্রিকসের দেশগুলো সমর্থন করলে তাদের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

এই পরিস্থিতিতে কী করতে পারে ব্রিকস
গত এক দশকে ব্রিকসের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। তাই জোটটি প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমাবিরোধী অবস্থান নিতে চাইবে না। তবে এত দিনে জোটটি যা অর্জন করেছে, সেগুলোকে আরও এগিয়ে নিতে চাইবে। একই সঙ্গে জি-২০ ও জি-৭-এর মতো জোটগুলোর বিকল্প হিসেবে নিজেদের আরও শক্তিশালী করে তুলতে চাইবে ব্রিকস।

বিবিসি মনিটরিংয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ব্রিকস দেশগুলো এখন বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪৯ শতাংশ, বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪০ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ২৬ শতাংশ দখল করে আছে।

ব্রিকসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি) প্রতিষ্ঠা। ব্যাংকটি অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে। এসব প্রকল্পের অনেকগুলোই বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোতে।
আর্থিক সংকটে পড়া সদস্যদেশগুলোকে সহায়তা দিতে ব্রিকস ১০ হাজার কোটি ডলারের একটি জরুরি রিজার্ভ ব্যবস্থাও গড়ে তুলেছে। তবে তা এখন পর্যন্ত বাস্তবে ব্যবহারের প্রয়োজন পড়েনি।

এবারের সম্মেলনে ব্রিকসের নেতারা স্থানীয় মুদ্রায় আন্তসীমান্ত লেনদেন আরও সহজ করার উপায় নিয়েও আলোচনা করতে পারেন। এটি মস্কো ও তেহরানের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে।

১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বিভিন্ন দেশের নেতারা দিল্লিতে আসতে শুরু করায় কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। শহরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে হাজারো নিরাপত্তাকর্মীছবি: এএফপি
বৈশ্বিক দক্ষিণের নেতৃত্বে ভারতের লক্ষ্য
ব্রিকস উন্নয়নশীল দেশগুলোর কণ্ঠস্বর হিসেবেও নিজেদের অবস্থান আরও জোরালো করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জোটের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংস্কারের দাবি জানাতে পারে। অনেক উন্নয়নশীল দেশের ধারণা, এসব প্রতিষ্ঠান বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র যথাযথভাবে তুলে ধরে না।

বিশেষ করে ভারতের জন্য এই সম্মেলন বৈশ্বিক দক্ষিণের নেতৃত্ব দেওয়ার দাবিকে আরও জোরালো করার সুযোগ তৈরি করছে।

বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা, আরও বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্ব, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বৃহত্তর প্রতিনিধিত্ব এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য আরও উন্মুক্ত করার মতো বিষয়গুলো ভারতের পররাষ্ট্রনীতির অনেক অগ্রাধিকার ব্রিকসের বৃহত্তর লক্ষ্যগুলোর খুব কাছাকাছি।
তবে ব্রিকসের ভেতরে চীনের উল্লেখযোগ্য প্রভাব এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের বড় একটি অংশে দেশটির শক্তিশালী উপস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সেই পথও ভারতকে খুঁজে বের করতে হবে।

কুগেলম্যান বলেন, মোদি সরকার ‘বৈশ্বিক দক্ষিণের নেতা বা কণ্ঠস্বর’ হয়ে ওঠার ওপর জোর দিয়েছে। তবে আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় ভারতের প্রভাব আরও গভীর করার প্রচেষ্টার ‘সাফল্য সীমিত’। এসব অঞ্চলে চীন তুলনামূলকভাবে বেশি সফল হয়েছে।

এই জোট যেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরও স্পষ্ট অবস্থান নেয়, সেই চেষ্টা করতে পারে রাশিয়া ও ইরান। তবে ব্রিকসের ভেতরের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা তা কঠিন করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্রিকসের বেশির ভাগ সদস্যই উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ। কুগেলম্যান বলেন, সম্প্রসারিত এই জোট ভারতের জন্য ইথিওপিয়া, ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার এবং আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকাজুড়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করেছে।

এবারের সম্মেলন থেকে একটি যৌথ বিবৃতি আদায় করতে পারাই দিল্লির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এমন বিবৃতিকে আয়োজক দেশের জন্য প্রায় সময় কূটনৈতিক সাফল্যের একটি মাপকাঠি হিসেবে দেখা হয়। তবে ইরানে চলমান যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য থাকায় এটি কঠিন হবে।

এই চ্যালেঞ্জটা কত বড়, গত মে মাসের একটি ঘটনায় তার প্রমাণ পাওয়া যায়। ওই সময় ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানের যুদ্ধ নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে সম্মেলনের পর একটি যৌথ বিবৃতি দিতে একমত হতে পারেননি। ফলে আয়োজক দেশ ভারতকে ব্রিকসের সভাপতির পক্ষ থেকে বৈঠকের একটি সারসংক্ষেপ প্রকাশ করতে হয়েছিল।

তবে ২০২৩ সালে জি-২০-এর শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের অভিজ্ঞতা থেকে ভারত আত্মবিশ্বাসী হতে পারে। সে সময় ইউক্রেনে–রাশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে গভীর বিভাজন থাকা সত্ত্বেও ভারত একটি যৌথ ঘোষণার জন্য সদস্যদেশগুলোর সম্মতি আদায় করতে পেরেছিল।

মোদি সরকার ‘বৈশ্বিক দক্ষিণের নেতা বা কণ্ঠস্বর’ হয়ে ওঠার ওপর জোর দিয়েছে। তবে আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় ভারতের প্রভাব আরও গভীর করার প্রচেষ্টার ‘সাফল্য সীমিত’। এসব অঞ্চলে চীন তুলনামূলকভাবে বেশি সফল হয়েছে।
তবে দিল্লি এটাও চাইবে, যেন এবারের ব্রিকস সম্মেলন থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসে এবং জোটটির এখন পর্যন্ত অর্জিত সাফল্যগুলো তুলে ধরা যায়। এ বিষয়ে সদস্যদেশগুলোর একমত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ, ব্রিকসকে স্রেফ একটি ‘কথার দোকান’ হিসেবে খাটো করা হোক, তা কেউই চাইবে না।

ব্রিকসের নেতারা আর্থিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে। বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক ঘটনাগুলোও আলোচনায় আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়া হলে তা যেন সংঘাত এড়িয়ে যায়, সে জন্য ভাষা খুব সতর্কভাবে ব্যবহার করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ওয়াশিংটন সম্মেলনটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

দিল্লিতে মোদি–সি–পুতিনের বৈঠক
এই সম্মেলন সামনে রেখে দিল্লিকে দুর্গের মতো নিরাপত্তাবেষ্টিত করা হয়েছে। নেতারা আসতে শুরু করায় হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এরই মধ্যে দিল্লিতে পৌঁছেছেন। মোদি–পুতিন বৈঠকও হয়েছে। তাঁরা দুই দেশের বিশেষ সম্পর্ক আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন। আজ শুক্রবার তাঁদের বৈঠকে জ্বালানি, প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং (ডানে) ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাশিয়ার কাজানে

এবার ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও হবে। শনিবার চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের দিকে বিশেষ নজর থাকবে। দুই দেশ ধীরে ধীরে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। তবে অগ্রগতি দুই পক্ষের প্রত্যাশার তুলনায় বেশি সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে।

ভূরাজনীতির বাইরেও রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ভারতের বাড়তে থাকা বাণিজ্যঘাটতি দুই দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

তবে শেষ পর্যন্ত সফলভাবে সম্মেলন শেষ করার দিকেই ব্রিকসের মনোযোগ থাকবে। কারণ, এতে জোটটির প্রভাব আরও জোরালো হবে।

ব্রিকসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি) প্রতিষ্ঠা। ব্যাংকটি অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে। এসব প্রকল্পের অনেকগুলোই বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোতে।
আর আয়োজক ভারতের জন্যও এটি হবে একটি কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সাফল্য। এমন এক সময়ে এই সাফল্য আসবে, যখন দিল্লি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রভাব আবারও জোরালো করার চেষ্টা করছে।

কুগেলম্যান বলেন, এই সম্মেলনে ভারতের জন্য ঝুঁকি ও গুরুত্ব বিশেষভাবে বেশি। তাঁর মতে, ইরানের যুদ্ধ ঘিরে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাসহ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় দিল্লি কিছুটা আড়ালে পড়ে গেছে।

মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘বিশ্বে ভারতের গুরুত্ব ও নেতৃত্ব আবারও জোরালোভাবে তুলে ধরার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এ কারণেই এই সম্মেলন ভারতের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ।’

কিছু দিক থেকে পুরো ব্রিকস জোটের চেয়ে আয়োজক দেশ হিসেবে ভারতের জন্য এই সম্মেলন ‘বেশি গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউ....

12/09/2026

10-45 বিসিএস এ আসা Word Meaning এর সকল প্রশ্ন সমাধান

11/09/2026

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরে ৫৩৮ জনের নিয়োগ , এসএসসি পাসেই আবেদন

11/09/2026

্তাহের_চাকরির_আপডেট: 09/12/26
🍒বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন-১১২টি পদ।
🍒বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা-১৪২টি পদ।
🍒বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড-৮৫টি পদ।
🍒বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক-৪২ টি পদ।
🍒শিক্ষা মন্ত্রণালয়-২৬টি পদ।
🍒ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়-২০টি পদ।
🍒মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-১৮টি পদ
🍒জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সমুহ- প্রায় ১১০টি পদ।
প্রায় ৬০০টি সরকারি চাকরির পদে নিয়োগ।

#বেসরকারি_পদে_নিয়োগ:
🍒মেঘনা পেট্রোলিয়াম
🍒যমুনা গ্রুপ
🍒আরএফএল
🍒নভোএয়ার
🍒সিঙ্গার বিডি
🍒ইর্স্টান ব্যাংক
🍒ওয়ালটন
🍒আবুল খায়ের
🍒মধুমতি ব্যাংক প্রভৃতি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।

:
(ব্রাকেটে সংখ্যা নয় বরং পদের ক্যাটাগরি গুলো দেওয়া আছে। প্রতি ক্যাটাগরিতে আবার অনেকগুলো পদ সংখ্যা আছে)
🪀Accounting/Finance (448)

🪀Production/Operation (222)

🪀Agro (Plant/Animal/Fisheries) (97)

🪀Bank/Non-Bank Fin. Institution (100)

🪀Hospitality/ Travel/ Tourism (259)

🪀NGO/Development (303)

🪀Supply Chain/Procurement (179)

🪀Commercial (71)

🪀Research/Consultancy (25)

🪀Education/Training (368)

🪀IT/Telecommunication (278)

🪀Receptionist/ PS (81)

🪀Engineer/Architect (530)

🪀Marketing/Sales (1305)

🪀Data Entry/Operator/BPO (42)

🪀Garments/Textile (666)

🪀Customer Service/Call Centre (215)

🪀Design/Creative (174)

🪀HR/Org. Development (227)

🪀Media/Advertisement/Event Mgt. (123)

🪀Security/Support Service (59)

🪀General Management/Admin (242)

🪀Pharmaceutical (109)

🪀Law/Legal (47)

🪀Healthcare/Medical (309)

🪀E-commerce/ Digital Marketing (169)

🪀Company Secretary (11)

🪀Data Entry/Computer Operator (26)

🪀Electrician/Electronics Technician (31)

🪀Pathologist/ Lab Assistant (20)

🪀Mechanic/Technician (60)

🪀Nurse (50)

🪀Graphic Designer(66)

🪀Sales Representative (SR) (35)

🪀Garments technician(13)

09/09/2026

#আসুন_আজকে_জানি_বাংলা_ভাষা_সমন্ধে:

বাংলা ভাষাবাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা। বাংলা ভাষায় কথা বলে প্রায় ত্রিশ কোটি মানুষ। এর মধ্যে বাংলাদেশে ষোলো কোটি এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দশ কোটি মানুষের বাস। এছাড়া ত্রিপুরা, আসাম, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশাসহ ভারতের অন্যান্য প্রদেশে প্রায় তিন কোটি এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আরো প্রায় এক কোটি বাংলাভাষী মানুষ রয়েছে।

মাতৃভাষী মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে বাংলা পৃথিবীর ষষ্ঠ বৃহত্তম ভাষা। এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা।পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে। ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষাও ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের সদস্য।

বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অসমীয়া ও ওড়িয়া। ধ্রুপদি ভাষা সংস্কৃত এবং পালি-র সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে। এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করতে হয়েছে, সেগুলো হলো: ইন্দো-ইউরোপীয় → ইন্দো-ইরানীয় → ভারতীয় আর্য → প্রাকৃত → বাংলা।

আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে। বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন ‘চর্যাপদ’।বাংলা ভাষার রয়েছে কালগত ও স্থানগত স্বাতন্ত্র্য। এক হাজার বছর আগের ভাষা, পাঁচশো বছর আগের ভাষা, এমনকি উনিশ শতকে প্রচলিত ভাষার সঙ্গে বর্তমান কালের ভাষা আলাদা। আবার ভৌগোলিক এলাকাভেদে বাংলা ভাষার নানা বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়। ভাষার এই আঞ্চলিক বৈচিত্র্যকে বলা হয় উপভাষা।

বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি রয়েছে। এই লিপির নাম বাংলা লিপি। বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি – স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়। ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ।

অসমীয়া, বোড়ো, মণিপুরি প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়। সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতো।বাংলাদেশের জীবনযাত্রার প্রায় সবক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহারের বিষয়টি সরকারিভাবে বাধ্যতামূলক। এছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা প্রদেশের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা বাংলা।

আজকের সাধারণজ্ঞান আয়োজন: #দক্ষিণ_কোরিয়া_বাংলাদেশ_সমন্বিত_অর্থনৈতিক_অংশীদারত্ব_চুক্তি_সেপা: বাংলাদেশের সামনে একটি বড় সুযো...
09/09/2026

আজকের সাধারণজ্ঞান আয়োজন:
#দক্ষিণ_কোরিয়া_বাংলাদেশ_সমন্বিত_অর্থনৈতিক_অংশীদারত্ব_চুক্তি_সেপা:
বাংলাদেশের সামনে একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু সেই সুযোগের সুফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসবে না। বাংলাদেশকে এখন বাজারসুবিধাকে রপ্তানিতে, বিনিয়োগকে প্রযুক্তি ও দক্ষতায় এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে উৎপাদন সক্ষমতায় রূপান্তর করতে হবে। সেটি করতে পারলে সেপা অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

🍄দ. কোরিয়ার সঙ্গে চুক্তি অর্থনৈতিক রূপান্তরে কীভাবে কাজে লাগানো যায়:
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া ৪ আগস্ট ২০২৬ একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) স্বাক্ষর করেছে। প্রায় এক বছর ধরে পাঁচ দফা আনুষ্ঠানিক আলোচনা এবং আরও কয়েকটি বৈঠকের পর এ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য এই চুক্তির সময়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের কথা রয়েছে। ফলে আগামী দিনে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্কের ধরনেও পরিবর্তন আসবে।

এত দিন এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ উন্নত এবং কিছু উন্নয়নশীল দেশের বাজারে একতরফাভাবে শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পেয়ে এসেছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর এসব সুবিধার কিছু আর আগের মতো থাকবে না। তাই বাংলাদেশকে এখন দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক চুক্তির মাধ্যমে নতুন বাজারসুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সেপা শুধু একটি বাণিজ্যচুক্তি নয়; এটি এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। তবে একটি বিষয় শুরুতেই মনে রাখা দরকার—চুক্তি স্বাক্ষর করলেই তার সুফল অর্থনীতিতে চলে আসে না। বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুতি নেয় এবং কতটা দক্ষতার সঙ্গে এ চুক্তির সুযোগ কাজে লাগাতে পারে, তার ওপরই শেষ পর্যন্ত এর সাফল্য নির্ভর করবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সেপা শুধু একটি বাণিজ্যচুক্তি নয়; এটি এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

অনেক উন্নত সেবা খাতে কোরীয় প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে বাজার উন্মুক্ত হওয়ার সুবিধা দুই দেশই পাবে।

সেপার ফলে কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি বাড়তে পারে। এতে দুই দেশের মধ্যে বাংলাদেশের বিদ্যমান বাণিজ্যঘাটতি আরও বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

🍄শুল্কসুবিধার চেয়েও বড় পরিসর:
আধুনিক সেপা শুধু পণ্যের শুল্ক কমানো বা শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার চুক্তি নয়। বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সেপায় পণ্য ও সেবা বাণিজ্যের পাশাপাশি বিনিয়োগ, রুলস অব অরিজিন বা পণ্যের উৎপত্তির বিধি, কাস্টমস প্রক্রিয়া, স্বাস্থ্য ও উদ্ভিদস্বাস্থ্যবিষয়ক ব্যবস্থা, বাণিজ্যের কারিগরি বাধা, ডিজিটাল বাণিজ্য, মেধাস্বত্ব এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো বিষয় রয়েছে।

অর্থাৎ এ চুক্তিকে শুধু ‘দক্ষিণ কোরিয়ায় কত পণ্য শুল্কমুক্তভাবে রপ্তানি করা যাবে’—এ প্রশ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে এর বড় সম্ভাবনাগুলো আমাদের নজরের বাইরে থেকে যাবে। বরং দেখতে হবে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ রপ্তানি বাড়াতে ও বহুমুখী করতে পারছে কি না, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর কোরীয় বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারছে কি না, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো কোরিয়ার সরবরাহব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারছে কি না এবং দেশের শিল্পের উৎপাদনশীলতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ছে কি না।

বাজারসুবিধা পেলেই রপ্তানি বাড়বে না
সেপা থেকে বাংলাদেশ বাস্তবে কতটা সুবিধা পাবে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রুলস অব অরিজিন বা পণ্যের উৎপত্তি নির্ধারণের নিয়ম। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অনেক রপ্তানি শিল্প আমদানি করা কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দক্ষিণ কোরিয়া শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলেও উৎপত্তির শর্ত যদি জটিল হয়, তাহলে বাংলাদেশের অনেক রপ্তানিকারক সেই সুবিধা পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারবেন না।

তাই শুধু কত শতাংশ পণ্য বা কতগুলো পণ্য শুল্কসুবিধা পেল, সে হিসাব দিয়ে সেপার সাফল্য বিচার করা যাবে না। দেখতে হবে, বাস্তবে কতজন রপ্তানিকারক এবং কত পরিমাণ রপ্তানি এ সুবিধা ব্যবহার করছে। এটিই হবে বাজারসুবিধা বাস্তবে কতটা কাজে লাগছে, তার গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।

এ জন্য সরকার ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দায়িত্বও রয়েছে। রপ্তানিকারকদের রুলস অব অরিজিন, কাস্টমস প্রক্রিয়া, পণ্যের মান এবং কোরিয়ার অন্যান্য কারিগরি শর্ত সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য ও সহায়তা দিতে হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি রপ্তানিকারকদের জন্য এ সহায়তা জরুরি। বড় প্রতিষ্ঠান নিজস্ব লোকবল ও বিশেষজ্ঞ দিয়ে এসব নিয়ম বুঝতে পারে; ছোট প্রতিষ্ঠানের সেই সক্ষমতা সব সময় থাকে না।

বাংলাদেশের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো চুক্তি করা থেকে কার্যকরভাবে চুক্তি বাস্তবায়নের দিকে যাওয়া। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ফরেন ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট উইংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের বাণিজ্য আলোচনা ও দর-কষাকষির সক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে। কিন্তু আধুনিক বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়ন আরও জটিল কাজ।

সেবা ও ডিজিটাল বাণিজ্যেও সুযোগ রয়েছে
বাংলাদেশের জন্য আরেকটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হলো সেবা ও ডিজিটাল বাণিজ্য। তথ্যপ্রযুক্তি, আইটি-সক্ষম সেবা, পেশাগত সেবা এবং অন্যান্য জ্ঞানভিত্তিক খাতে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এখানেও শুধু বাজার উন্মুক্ত হলেই রপ্তানি বাড়বে না।

বাংলাদেশকে আগে বুঝতে হবে, কোরিয়ার কোন কোন সেবা খাতে আমাদের বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের কোন প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীরা সেই বাজারে প্রবেশ করতে পারবেন, কী ধরনের যোগ্যতা, লাইসেন্স বা অন্যান্য নিয়ম পূরণ করতে হবে—এসব বিষয়ও স্পষ্টভাবে জানতে হবে।

একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, অনেক উন্নত সেবা খাতে কোরীয় প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে বাজার উন্মুক্ত হওয়ার সুবিধা দুই দেশই পাবে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে চাইলে তাদেরও প্রযুক্তি, দক্ষতা ও সেবার মান বাড়াতে হবে।

🍄 বাধা কোথায়:
সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিতে
দীর্ঘ মেয়াদে সেপা থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় লাভ সম্ভবত শুল্কসুবিধার চেয়ে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে হতে পারে। বাংলাদেশের শিল্পায়নের ইতিহাসে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সত্তরের দশকের শেষ দিকে কোরিয়ার দাইয়ু ও বাংলাদেশের দেশ গার্মেন্টসের সহযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও বিপণনের জ্ঞান বাংলাদেশে এসেছিল।

পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে এ অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখন প্রয়োজন সে অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে নিয়ে যাওয়া। ইলেকট্রনিকস, প্রকৌশল, গাড়ির যন্ত্রাংশ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জাম, চিকিৎসা সরঞ্জাম, উন্নত টেক্সটাইল এবং ডিজিটাল শিল্পের মতো খাতে কোরীয় বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করা যেতে পারে।

কিন্তু লক্ষ্য শুধু বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানো হলে চলবে না। প্রয়োজন এমন বিনিয়োগ, যা নতুন প্রযুক্তি আনবে, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করবে এবং বাংলাদেশের স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তুলবে। কোরীয় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরি, কারিগরি প্রশিক্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পের মধ্যে সহযোগিতা এবং যৌথ গবেষণার সুযোগ বাড়াতে হবে।

অর্থাৎ প্রশ্ন শুধু ‘কত বিনিয়োগ এল’ নয়; বরং সেই বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কতটা নতুন জ্ঞান, প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করল, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বাণিজ্যঘাটতি বাড়লেই কি উদ্বেগের কারণ
সেপার ফলে কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি বাড়তে পারে। এতে দুই দেশের মধ্যে বাংলাদেশের বিদ্যমান বাণিজ্যঘাটতি আরও বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। কিন্তু বাণিজ্যঘাটতি বাড়লেই যে চুক্তিটি বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক হবে না।

যদি কম শুল্কে কোরিয়া থেকে উন্নত যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য ও প্রযুক্তি আসে এবং সেগুলো বাংলাদেশের শিল্পের উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ায়, তাহলে সেই আমদানি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। তাই শুধু আমদানির পরিমাণ নয়, আমরা কী আমদানি করছি এবং সেই আমদানি দেশের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে কি না, সেটি দেখতে হবে।

তবে উদ্বেগের কারণ হবে যদি সেপার ফলে মূলত তৈরি ভোগ্যপণ্যের আমদানি বাড়ে অথচ বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি এবং কোরীয় বিনিয়োগ তেমন না বাড়ে। তাই সরকারকে শুধু দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যঘাটতির দিকে তাকালে হবে না। রপ্তানি, আমদানির ধরন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, দেশীয় শিল্পের ওপর প্রভাব এবং শুল্ক–রাজস্ব—সবকিছুই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

🍄চুক্তি করার পরই শুরু আসল কাজ:
বাংলাদেশের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো চুক্তি করা থেকে কার্যকরভাবে চুক্তি বাস্তবায়নের দিকে যাওয়া। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ফরেন ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট উইংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের বাণিজ্য আলোচনা ও দর-কষাকষির সক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে। কিন্তু আধুনিক বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়ন আরও জটিল কাজ।

বাংলাদেশ ইতিমধ্যে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি করেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সেপা করেছে এবং সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক চুক্তির উদ্যোগ নিচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বাণিজ্য আইন, সেবা, বিনিয়োগ, কাস্টমস, পণ্যের মান, রুলস অব অরিজিন এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের মতো বিষয়ে স্থায়ী দক্ষতা গড়ে তোলা জরুরি।

একই সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকতে হবে। দায়িত্ব বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছড়িয়ে থাকলেও সমন্বয় না থাকলে চুক্তির অনেক সুযোগই কাজে লাগানো সম্ভব হবে না।

সাফল্য মাপতে হবে ফলাফল দিয়ে
সেপা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনার জন্য একটি কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। সেখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক দেখা যেতে পারে—দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি কতটা বাড়ছে, নতুন পণ্য রপ্তানি হচ্ছে কি না, রপ্তানিকারকেরা বাস্তবে শুল্কসুবিধা ব্যবহার করতে পারছেন কি না, সেবা রপ্তানি বাড়ছে কি না, কোরীয় বিনিয়োগ কোন কোন খাতে আসছে, প্রযুক্তি হস্তান্তরিত হচ্ছে কি না এবং বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো কোরিয়ার সরবরাহব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে কি না।

কোরিয়ার বাজারের জন্য বাংলাদেশের খাতভিত্তিক কৌশলও প্রয়োজন। শুধু বাজারসুবিধা পাওয়া যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোরিয়ার বাজার সম্পর্কে জানতে হবে, প্রয়োজনীয় মান পূরণ করতে হবে এবং সেখানকার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে। একইভাবে কোরীয় বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও সাধারণ প্রচারণার পরিবর্তে বাংলাদেশের শিল্পায়নের লক্ষ্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট খাত ও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দিকে নজর দিতে হবে।

পাঁচ বছর পর বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সেপার সাফল্য তাই শুধু কতগুলো পণ্যে শুল্কসুবিধা পাওয়া গেছে, তা দিয়ে বিচার করা উচিত হবে না। দেখতে হবে, বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ও বহুমুখী হয়েছে কি না, সেবা রপ্তানি বেড়েছে কি না, উন্নত শিল্পে কোরীয় বিনিয়োগ এসেছে কি না এবং বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের মধ্যে নতুন প্রযুক্তি ও দক্ষতা তৈরি হয়েছে কি না।

সেপা বাংলাদেশের সামনে একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে, কিন্তু সেই সুযোগের সুফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসবে না। বাংলাদেশকে এখন বাজারসুবিধাকে রপ্তানিতে, বিনিয়োগকে প্রযুক্তি ও দক্ষতায় এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে উৎপাদন সক্ষমতায় রূপান্তর করতে হবে। সেটি করতে পারলে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে এই সেপা এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

● ড. ফাহমিদা খাতুন অর্থনীতিবিদ ও সম্মাননীয় ফেলো, সিপিডি

বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউ....

08/09/2026

#লাতিন_আমেরিকা_যেভাবে_যুক্তরাষ্ট্রের_দখলে_চলে_যাচ্ছে:
(গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেল- ২/১টা প্রশ্ন কমন পেতে পারেন)

লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা ক্রমে বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গত মার্চ মাসে গঠিত আমেরিকাস কাউন্টার-কার্টেল কোয়ালিশনের (এসিসিসি) ছত্রচ্ছায়ায় মার্কিন বাহিনী মাদক পাচারের সন্দেহে বিভিন্ন জলযানে হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা লাতিন আমেরিকার সামরিক বাহিনীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদার করছেন।

এটি অঞ্চলটিতে ওয়াশিংটনের সামরিকীকরণ নীতি জোরদার করার একটি প্রতিফলন, বিশেষ করে যখন সেখানে বামপন্থী রাজনীতির প্রভাব হ্রাস পাচ্ছে। লাতিন আমেরিকার জন্য এর অর্থ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সেই পুরোনো বলপ্রয়োগকারী নীতির পুনরাবৃত্তি।

প্রতিনিধি পাঠানোর মাধ্যমে ক্ষমতার প্রদর্শন, সরাসরি মার্কিন সেনা উপস্থিতি কিংবা আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে মার্কিন সামরিক ক্ষমতার যে প্রসার ঘটছে, তা এ অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার বা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কোনো কাজে আসবে না। বরং এটি গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং সহিংসতা ও অস্থিরতাকে আরও উসকে দিতে পারে।

🪀মনরো নীতির প্রত্যাবর্তন🪀
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও এসিসিসির সদস্য হিসেবে রয়েছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ১৭টি দেশ—আর্জেন্টিনা, বাহামা, বেলিজ, বলিভিয়া, কোস্টারিকা, ইকুয়েডর, গায়ানা, গুয়াতেমালা, প্যারাগুয়ে, জ্যামাইকা, পানামা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, হন্ডুরাস, এল সালভাদর, ডমিনিকান রিপাবলিক, কলম্বিয়া ও পেরু।

ভেনেজুয়েলা আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটের অংশ না হলেও মনে হচ্ছে, দেশটি মার্কিন সামরিক অভিযানের জন্য তার ভূখণ্ড উন্মুক্ত করে দিয়েছে। ভেনেজুয়েলার অনানুষ্ঠানিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে এসিসিসি পুরো ‘আন্দিয়ান আর্ক’ পূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছে, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে সরবরাহকৃত সমস্ত কোকেন উৎপাদনের কেন্দ্রবিন্দু। এখানেই অঞ্চলের অনেক সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।

তবে এই জোট কেবল মাদকের বিরুদ্ধে লড়তেই তৈরি করা হয়নি বলেই মনে হয়। ট্রাম্প নিজেই বলেছেন, এসিসিসির অন্যতম লক্ষ্য হলো ‘পশ্চিম গোলার্ধের বাইরে থেকে আসা ক্ষতিকর প্রভাব’ মোকাবিলা করা, যা মূলত চীনের প্রতি ইঙ্গিত করে।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সেনাবাহিনী একটি স্থল অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার মাত্র দুই মাস পর ফ্লোরিডায় এসিসিসি গঠিত হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
একই ধারায় আরেকটি পদক্ষেপ দেখা যায় গত ৪ আগস্ট, যখন মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) ‘ওয়েস্টার্ন হেমিস্ফিয়ার জয়েন্ট টাস্কফোর্স’ গঠনের ঘোষণা দেয়। এর কাজ হবে ‘হুমকি মোকাবিলা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং দ্রুত সংকট নিরসনে মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে মার্কিন সামরিক অভিযানের সমন্বয় করা’। এই নতুন টাস্কফোর্স এসিসিসির ১৮টি সদস্যরাষ্ট্রের কমান্ড ও কন্ট্রোলকে একত্র করবে।
ওয়াশিংটন স্পষ্টতই অঞ্চলে তার একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। তারা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা–সম্পর্কিত সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে চায়, যা ১৮২৩ সালের ‘মনরো নীতি’র এক আধুনিক সংস্করণ বা ‘ট্রাম্প করোলারি’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।

🪀লাতিন আমেরিকার সামরিকীকরণ🪀
সাম্প্রতিক অভিযানগুলো নতুন করে মার্কিন সামরিক শক্তি প্রয়োগের ধরন কেমন হবে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। গত জুনে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করেন, ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে মার্কিন সেনাবাহিনী বলিভার রাজ্যে ‘ত্রেন দে আরাগুয়া’ নামের অপরাধী চক্রের নেতা হেক্টর গেরেরো ফ্লোরেসকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। পরবর্তী সময়ে ভেনেজুয়েলা সরকারও এক বিবৃতিতে দুই দেশের যৌথ অভিযানের বিষয়টি স্বীকার করে।
আগস্টের শেষ ও সেপ্টেম্বরের শুরুতে নতুন গঠিত ওয়েস্টার্ন হেমিস্ফিয়ার জয়েন্ট টাস্কফোর্স সন্দেহভাজন কয়েকটি জলযানে হামলা চালায়, যাতে অন্তত দুজন নিহত হয়। এটি ছিল ‘সাউদার্ন স্পিয়ার’ অভিযানের ধারাবাহিকতা, যে অভিযানে এ পর্যন্ত অন্তত ২২০ জন নিহত হয়েছে। অথচ নিহত ব্যক্তিদের সবাই সত্যি সত্যি মাদক পাচারে জড়িত ছিল কি না, তা নিয়ে কোনো তদন্ত করা হয়নি।

এর পাশাপাশি যোগ হয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ঘোষণা। তিনি জানান, কলম্বিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট অ্যাবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েল্লা ‘মাদক-সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার’ নামে কলম্বিয়ায় মার্কিন বাহিনীকে সামরিক অভিযান পরিচালনার অনুমতি দিয়েছেন।

সরাসরি মার্কিন সেনা উপস্থিতি কিংবা আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে মার্কিন সামরিক ক্ষমতার যে প্রসার ঘটছে, তা এ অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার বা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কোনো কাজে আসবে না। বরং এটি গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং সহিংসতা ও অস্থিরতাকে আরও উসকে দিতে পারে।

এসবের অর্থ দাঁড়ায়, যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকায় তার সামরিক প্রভাব আরও বিস্তার করতে চায়—তা যৌথ অভিযানের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমেই হোক কিংবা আকাশসীমা ব্যবহার বা সামরিক ঘাঁটিগুলোয় প্রবেশাধিকারের মতো একতরফা পদক্ষেপের মাধ্যমে।
মার্কিন দৃষ্টিতে যে ঘটনাকেই হুমকি মনে হবে, তা নিশ্চিহ্ন করতে মাঠে সরাসরি মার্কিন সৈন্যের উপস্থিতি দেখা যেতে পারে।

লাতিন আমেরিকার জন্য মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ নতুন কিছু নয়। স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালে ওয়াশিংটন গোপনে নানা কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, আবার কিউবায় ‘বে অব পিগস’ আক্রমণ বা গ্রেনাডায় আগ্রাসনের মতো প্রকাশ্য অভিযানও চালিয়েছে।

স্নায়ুযুদ্ধের পর মার্কিন প্রভাব রূপ নেয় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে, যা সাধারণ মানুষের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনেনি। ২০০০ থেকে ২০১৫ সালের ‘প্ল্যান কলম্বিয়া’র কথাই ধরা যাক, যার উদ্দেশ্য ছিল মাদক পাচার এবং বামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মোকাবিলা করা।
যদিও এটি বিদ্রোহী সংগঠনগুলোকে দুর্বল করতে ভূমিকা রেখেছিল, তবে এটি ভয়াবহ সহিংসতার জন্ম দেয়। মার্কিন প্রশিক্ষিত কলম্বিয়া সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তারা নিজেদের সফলতা দেখাতে হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে হত্যা করে বিদ্রোহী বলে চালিয়ে দিয়েছিল।

‘প্ল্যান কলম্বিয়া’র নামে ১০ বিলিয়ন ডলার মার্কিন তহবিল দেওয়া হলেও দিন শেষে তা কলম্বিয়ার নিরাপত্তাকে কেবল সামরিকীকরণের দিকে ঠেলে দেয়, সশস্ত্র সংঘাত ও কার্টেল সহিংসতা বাড়ায় এবং শ্রমিকনেতা, কৃষক ও সাধারণ জনগণের ওপর নিপীড়ন বাড়ায়। এটি কোকা চাষের বিস্তার রোধ করতেও ব্যর্থ হয়।

অতীতের এই রক্তাক্ত ইতিহাস বিবেচনা করলে বলা যায়, লাতিন আমেরিকান দেশগুলোয় সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং মার্কিন উপস্থিতি বাড়ানোর তাগিদ অঞ্চলে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে পারবে না।

🪀লাতিন আমেরিকার সমাজে প্রভাব🪀
অঞ্চলে বর্ধিত মার্কিন সামরিক উপস্থিতির প্রভাব কেবল নিরাপত্তা খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এসিসিসির সদস্য হওয়ার অর্থ হলো প্রথাগত জাতীয় প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি করা।
এর ফলে জাতীয় বাজেটের ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে অর্থ সরিয়ে প্রতিরক্ষা খাতে ঢালা হবে। সেবা খাতের অবক্ষয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়াবে।

এরপর আসে সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নীতি তৈরিতে, বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সামরিক সহযোগিতার পরিধি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করতে চাইবে। ওয়াশিংটন তার এজেন্ডা বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার ও আইনসভার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

এমনকি মার্কিন কর্মকর্তারা এসিসিসি সদস্যদেশগুলোকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) থেকে বেরিয়ে আসার জোর তাগিদ দিয়েছেন, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জন্য শুভ লক্ষণ নয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের বিচার থেকে পার পাইয়ে দেওয়া বা দায়মুক্তি নিশ্চিত করা।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির এ অভাব লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে উদীয়মান কর্তৃত্ববাদী প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করবে। এর পরিণতি আমাদের সবার জানা—গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা, স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতার বৃদ্ধি, আইনের শাসনের অবক্ষয় এবং এর ফলে নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানের অবনতি।

(মূল লেখক: কার্লোস এইচ ব্র্যান্ড এস একজন রাজনীতিবিষয়ক বিজ্ঞানী ও হাইড্রোকার্বন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ। আল–জাজিরা থেকে সংক্ষেপে অনূদিত)

Address

Rajshahi
6000

Opening Hours

Monday 09:00 - 21:00
Tuesday 09:00 - 21:00
Wednesday 09:00 - 21:00
Thursday 09:00 - 21:00
Friday 09:00 - 21:00
Saturday 09:00 - 21:00
Sunday 09:00 - 21:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ওরাকল বিসিএস রাজশাহী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share