15/08/2026
সূরা আদ-দুহা সরাসরি মানসিক প্রশান্তি, হতাশা ও একাকীত্ব দূর করার বার্তা দেয় বলেই একে ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতার মহৌষধ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। এটি নাজিল হয়েছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের এক অত্যন্ত বেদনাবিধুর ও উদ্বেগময় মুহূর্তে।
বেশ কিছুদিন ওহি আসা বন্ধ থাকায় কাফিররা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে উপহাস করে বলছিল যে তাঁর রব তাঁকে ত্যাগ করেছেন। এতে তিনি মানসিকভাবে অত্যন্ত ব্যথিত হন। তখন আল্লাহ তায়ালা এই সান্ত্বনা ও আশার বাণীসমৃদ্ধ সূরাটি নাজিল করেন।
মানসিক প্রশান্তির মূল কারণসমূহ:
১. প্রকৃতির উপমায় সান্ত্বনা: সূরার শুরুতে আল্লাহ সকালের উজ্জ্বল আলো এবং রাতের নিস্তব্ধতার শপথ করেছেন। এটি বোঝায় যে রাতের আঁধার যেমন চিরস্থায়ী নয়, জীবনের কঠিন সময়ও কেটে গিয়ে নতুন ভোরের আলো আসবেই।
২. পরিত্যাগের ভয় দূরীকরণ: আপনার পালনকর্তা আপনাকে ত্যাগ করেননি এবং আপনার ওপর অসন্তুষ্টও হননি - আয়াত ৩
এই আয়াতটি একাকীত্ব এবং প্রিয়জন বা সৃষ্টিকর্তা দ্বারা পরিত্যক্ত হওয়ার অনুভূতি দূর করে।
৩. ভবিষ্যতের সুসংবাদ: নিশ্চয়ই আপনার জন্য পরবর্তী সময় পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে উত্তম - আয়াত ৪
এটি জীবনের কঠিন মুহূর্তে আশার আলো দেখায় যে সামনে আরও ভালো দিন অপেক্ষা করছে।
৪. পরিতৃপ্তির প্রতিশ্রুতি: আর অচিরেই আপনার রব আপনাকে এমন কিছু দেবেন যাতে আপনি সন্তুষ্ট হবেন - আয়াত ৫
মানুষের ভেঙে পড়া মনকে পুনরুজ্জীবিত করতে এই প্রতিশ্রুতি গভীর ভূমিকা রাখে।
৫. অতীতের অনুগ্রহের স্মৃতিচারণ: সূরাটিতে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে কীভাবে শৈশবে নিঃস্ব ও এতিম অবস্থায় আল্লাহ আশ্রয় ও পথনির্দেশ দিয়েছেন। অতীতে যিনি রক্ষা করেছেন, বর্তমানেও তিনি একা ফেলে যাবেন না - এই বিশ্বাস বিষণ্ণতা কাটায়।
এভাবে সূরা আদ-দুহা মানুষকে নিরাশা থেকে বের করে স্রষ্টার রহমতের ওপর আস্থাশীল ও আশাবাদী হতে শেখায়।