17/09/2026
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য, দর্শন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার গভীরে প্রবেশের প্রত্যয়ে আজ প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত হলো নজরুল বর্ষ উপলক্ষ্যে আলোচনা অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতিমান সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গ্রন্থ প্রণেতা জনাব সরদার আবদুর রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতেই তাঁকে উত্তরীয় দিয়ে বরণ করে নেন অধ্যক্ষ মহোদয়। পরবর্তীতে তাঁর লেখা প্রবন্ধ ‘নজরুল কেনো আমাদের জাতীয় কবি’ পাঠ করে শোনান প্রতিষ্ঠানের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক জনাব আফান মণ্ডল। প্রবন্ধটির বিষয়বস্তু, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও নজরুলের জাতীয় কবি হয়ে ওঠার তাৎপর্য নিয়ে বিশদ ও মননশীল আলোচনা করেন বাংলা বিষয়ের শিক্ষক, কবি ও লেখক জনাব মোসা. মাহফুজা খাতুন। একজন লেখকের সৃষ্টিকে পাঠকের কণ্ঠে শোনা এবং পরবর্তীতে সেই সৃষ্টিকে ঘিরে পাঠ-প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে যে অসাধারণ মেলবন্ধন তৈরি হয়, এ আয়োজন যেন তারই এক অনন্য উদাহরণ। লেখক ও পাঠকের এই দারুণ মেলবন্ধনে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে পুরো আলোচনা অনুষ্ঠান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব সরদার আবদুর রহমান বলেন,“নজরুলকে শুধু পাঠ করলে তাঁকে জানা যায়, কিন্তু নজরুলের চেতনায় প্রবেশ করতে হলে তাঁর মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক দর্শনকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। সেই চেতনাই তাঁকে আমাদের জাতীয় কবির মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।”
আয়োজনের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ শাহাদাত হোসেন সরকার তাঁর বক্তব্যে বলেন, “নজরুল আমাদের কাছে শুধু একজন কবি নন; তিনি আমাদের সাহস, সাম্য, মানবতা ও মুক্তচিন্তার অনিঃশেষ প্রেরণা। নতুন প্রজন্ম নজরুলকে যত গভীরভাবে জানবে, ততই তারা নিজেদের মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করতে পারবে।” আলোচনার শেষে প্রধান অতিথি তাঁর সবগুলো বইয়ের একটি করে সৌজন্য কপি প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরির জন্য দেন এবং অধ্যক্ষ মহোদয়কে আলাদাভাবে দুটি বই উপহার দেন। অর্থবহ আলোচনা ও প্রাণবন্ত মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় জ্ঞান ও চেতনার এই পর্ব।
আলোচনা অনুষ্ঠানের পর শুরু হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রতিষ্ঠানের সঙ্গীত বিষয়ের শিক্ষক ও গুণী শিল্পী ফারজানা আলী দিনা এবং দেশবরেণ্য নৃত্যশিল্পী আলো রাণী মৈত্র-এর নেতৃত্বে আয়োজিত সংগীত ও নৃত্যের মনোজ্ঞ পরিবেশনা উপস্থিত সবাইকে আনন্দ ও মুগ্ধতায় ভরিয়ে দেয়।
নজরুলের গান, কবিতা ও সৃষ্টির বহুমাত্রিক সৌন্দর্য সুর ও ছন্দে নতুন মাত্রা পায়। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় যেন আবারও অনুভব করা যায়, নজরুল কেবল পাঠের বিষয় নন, তিনি অনুভবেরও এক অনন্ত নাম।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে নজরুল বর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মেধা ও সাংস্কৃতিক প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার তাদের আগামী দিনের পথচলায় আরও উৎসাহিত করবে।
আলোচনা, পাঠ, বিশ্লেষণ, গান, নৃত্য ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে আজকের আয়োজন হয়ে উঠেছে নজরুলকে নতুন করে জানার, তাঁর চেতনাকে উপলব্ধি করার এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তাঁর সৃষ্টির আলো পৌঁছে দেওয়ার এক প্রাণবন্ত প্রয়াস।