21/07/2026
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারেকাতুহ।
এতো তাড়াতাড়ি আব্বাজান কে চিরতরে হারাবো, এটা ভূলেও একবার ভাবিনি। 😭
কিন্তু আসমান ওয়ালা তার বান্দাদের জন্য যা নির্ধারণ করে রেখেছেন তার কোন এদিক সেদিক হতেই পারেনা।
মহান আল্লাহ আমার আব্বাজানকে তার কাছে টেনে
নিয়েছেন, তার নেক বান্দাদের
সাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ
আমরা একজনকে যে পরিমান নিরাপত্তা দিতে পারবো, মহান রব্বুল আল-আমিনের কাছে সে আরো বেশি নিরাপদ।
চলতে ফিরতে অথবা লেনদেনের মধ্যে মানুষের মানবীয় কারনে কম বেশি হয়ে যায়, হয়তো আমার আব্বাও
তার অজান্তে আপনাদের কারো সাথে হয়তো লেনদেন বা অন্য কোন দিক থেকে কোন কমবেশি করেছেন।
তার ব্যক্তি ঋণগুলো কারো পাওয়া থাকে বা জানা থাকে মেহেরবানী করে আমাকে জানাবেন। আমি নিজ দায়িত্বে সেগুলো সময় সুযোগ পরিশোধ করব ইনশাআল্লাহ।
(০১৭৭৩-৯৬৩৫৯৭)
এটা আমার পার্সোনাল ফোন নাম্বার।
এটাতে মেহেরবানী করে আমাকে অবহিত করবেন।
মেহেরবানী করে আপনাদের কাছে তার সন্তান হিসেবে আমার আকুল আবেদন
আমার আব্বাজানকে আপনারা দিল থেকে ক্ষমা করবেন ও দোয়া করবেন যেন আল্লাহ তায়ালা আমার আব্বার
কবরটাকে জান্নাতের টুকরা (জান্নাতের একটা বাগিচা বানায় দেন)।
আমিন।
পেশায় উনি একজন দর্জি ছিলেন। আর এই পেশাটা অনেক বেশি সুন্নতের সাথে সামঞ্জস্যতা রাখে।
উনি মাদ্রাসা ছাত্রদেরকে বা বয়োজ্যেষ্ঠদের কে পাঞ্জাবি জুব্বা ও অন্যান্য সাবলীল পোশাক বানিয়ে দিতেন।
আর আমাদের আত্রাই ও আশেপাশের অন্য থানার
বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তার কাছে
অনেকেই আসতো কোন মুর্দার দাফন-কাফনের কাপড় বানিয়ে নেয়ার জন্য।
কিন্তু সর্বশেষ উনি তার নিজের কাফনের কাপড় তৈরি করে নিতে পারলেন না যেটা অন্যের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা পুরা করলেন। এটাই জীবনের চরম বাস্তবতা।
হায় আল্লাহ আমার আব্বার অমায়িক ও সুন্দর ব্যবহারের
সাক্ষ্য আমার পুরা দেশবাসী যারা আমার বাবাকে চিনতেন।
হে আল্লাহ সবাই তাকে ভালো বলেছেন ও তার অনেক প্রশংসা করেছেন।
আর আপনিও আপনার এরকম একজন প্রিয় বান্দাকে মেহেরবানী করে মাফ করে দিয়েন। আমিন
আল্লাহ তাআলার মেহেরবানীতে আমি নিজ হাতে আমার পরিবারের তিনজন চাচার লাশ কবরে নামিয়েছি,
আর একজন চাচতো ভাই(বেলাল ভাই) এর লাশ কবরের নামিয়েছি।
সর্বশেষ আব্বার লাশটিকে আমরা দুই ভাই (কারী আখতারুজ্জামান) ও আমি
কবরের মাটিতে শুয়ে রেখেছি।
এই অনুভূতি ও হৃদয়স্খরন,এর বর্ণনা দেয়ার মত শক্তি ও ভাষা জ্ঞান আমার নেই।
আব্বাজান ঘুমের মধ্যে ইন্তেকাল করেছেন। একজন আলেম এর কাছে শুনলাম
এটাও শহীদি মৃত্যুর বিভিন্ন যে ধরন আছে তার মধ্যে একটি।
মহান রাব্বুল আলামিন ও পুরা দুনিয়ার মালিকের কাছে একমাত্র আকুতি এই যে,
আল্লাহ তায়ালা যেন আমার আব্বাজানকে শহীদদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন ও ও তার হাশর নাসর যেন আল্লাহ তাআলা তার প্রিয় বান্দাদের অর্থাৎ শহীদ, সিদ্দিকীন ও সালেহিন দের সাথে করেন।
আমিন।