মানুষকে দারিদ্রতার ভয় দেখাবেন না...
বরং মানুষকে দারিদ্রতা আনয়নকারী পাপ থেকে সতর্ক করুন।
কারণ পাপের কারণেই তো বিপদ আসে, আর তাওবার মাধ্যমে তা দূরীভূত হয়।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেনঃ "আর তারা যদি হকের উপর অবিচল থাকত, তবে অবশ্যই তাদেরকে আমরা প্রচুর বারি বর্ষণে সিক্ত করতাম।" -[সূরা জিন, ১৬]
ঘুমাই, জাগ্রত হই, মোবাইল আমাদের হাতেই থাকে! বিবেক হারিয়ে গেছে, মেধা ভ্রষ্ট হয়েছে!
কুরআন তিলাওয়াত নাই, নাই কোনো জিকির আজকার, নফল ইবাদত নেই, দোয়া নেই, তাওবা নেই!
হে আল্লাহ! আমাদের অবস্থার প্রতি রহম করুন, আমাদের অন্তরগুলো পরিশুদ্ধ করে দিন, আপনার পানে ফিরে নিয়ে যান কোনোরূপ সমস্যা ও বিভ্রান্তিকর ফিতনায় পতিত হওয়া ছাড়াই। আমীন...
✍️শায়খ মুহাম্মাদ বিন উমার বাযমূল হাফিযাহুল্লাহ।
আলেয়ার আলো
صفحة احتياطية للحساب الأصلي ”Yiakub Abul Kalam“
আলহামদুলিল্লাহ, গত রমজানে আদ-দা'ওয়াহ আস-সালাফিয়্যাহ থেকে বেশ কিছু পিডিএফ দেওয়া হয়েছে চ্যানেলে। পড়েছেন?
যেমনঃ
১) আল্লাহর রহমত লাভের উপায়
২) মিডিয়ার বিষাক্ত থাবা
৩) সন্তানদের চরমপন্থী হওয়া থেকে রক্ষা করবেন কিভাবে?
৪) প্রকৃত সুখের সন্ধানে
৫) আল-ওয়ালা ওয়াল বারা বিষয়ে সঠিক আকীদা
৬) ছাত্রদের প্রতি ১৪টি উপদেশ
৭) রমজান পরবর্তী করণীয়
অতিসত্বর আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বই নিয়ে আসতে পারব বলে আশা করি ইনশাআল্লাহ। নিজেরা পড়ুন, অপরকে পড়তে উৎসাহিত করুন। সংশ্লিষ্ট সবাইকে যেন আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দেন, সেই দোয়া করতে অবশ্যই ভুলবেন না।
কমেন্টে চ্যানেল লিঙ্ক দেওয়া হলো...
🚦সালাফী মানহাজ অনুযায়ী সংশোধনের নীতিমালা
সালাফে সালেহীনের অনুসারী আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের নিকট ইসলাহ তথা সংশোধনের নীতিমালা পাঁচটি:
১) সর্বপ্রথম ও প্রধান সংশোধনকারী বিষয় হলো: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার ইবাদত ও তাওহীদ প্রতিষ্ঠা।
২) সংশোধন শুরু হবে নিজের থেকে। সমাজ থেকে নয়, শাসক থেকেও নয়, অন্য কোথাও থেকে নয়; বরং সবাই নিজের থেকে শুরু করবে, এরপর যে যত কাছাকাছি তাকে সংশোধনের চেষ্টা করবে।
৩) কথা ও কাজের আগে শরয়ী ইলম অর্জন করতে হবে।
৪) ইলমটা অবশ্যই সালাফে সালেহীনের মানহাজে হতে হবে।
৫) দাওয়াতী কাজে কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত এবং সালাফদের থেকে চলে আসা চরিত্রমাধুর্যে নিজেকে সজ্জিত করতে হবে।
📚আল-মানহাজুস সালাফী, শায়খ মুহাম্মাদ বিন উমার বাযমূল হাফিযাহুল্লাহ লিখিত।
গৃহীত: শায়খের পেজ থেকে।
24/10/2022
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আদ-দা'ওয়াহ আস-সালাফিয়্যাহ থেকে অনলাইনে প্রকাশিত বইগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল আমাদের চ্যানেলে, পাশাপাশি গুগল লিঙ্ক ছিল না সবগুলোর। এক শুভানুধ্যায়ী ভাই নিজ আগ্রহে সবগুলো মিলিয়ে গুগলে আপলোড দিয়ে আমার কাছে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তার এই মহান খিদমাতকে কবুল করুন, উত্তম প্রতিদান দিন। আমীন।
নিম্নোক্ত লিঙ্কে ক্লিক করলেই সবগুলো পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ:
07/10/2022
প্রথম খুতবা
আলহামদুলিল্লাহ, প্রশংসা মাত্রই আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি। নিজেদের আত্মার অনিষ্টতা থেকে এবং মন্দ আমলের বদ ফলাফল থেকে আল্লাহর কাছেই পানাহ চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আবার যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শকও নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তার কোনো শরীক নেই। আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; আল্লাহ তাঁর প্রতি, তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি এবং সব সাহাবীর প্রতি দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
হে আল্লাহর বান্দারা, আপনারা আল্লাহকে ভয় করুন। আল্লাহর কিতাব, তদ্বীয় রাসূলের সুন্নাহ এবং সাহাবীগণের পথকে আঁকড়ে ধরুন। কারণ আল্লাহর কিতাব হচ্ছে: হেদায়েত, উজ্জ্বল জ্যোতি এবং আল্লাহর দৃঢ় রজ্জু। আল্লাহ বলেনঃ يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَكُمْ بُرْهَانٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ نُورًا مُبِينًا (174) فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَاعْتَصَمُوا بِهِ فَسَيُدْخِلُهُمْ فِي رَحْمَةٍ مِنْهُ وَفَضْلٍ وَيَهْدِيهِمْ إِلَيْهِ صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا
অর্থাৎ, হে মানবকুল! তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছে দলীল, তোমাদেরকে দিয়েছেন উজ্জ্বল জ্যোতি। তো যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকেই আঁকড়ে থাকবে, আল্লাহ তাদেরকে স্বীয় রহমত ও অনুগ্রহে ঢুকিয়ে নেবেন এবং তাদের সরল সঠিক পথ দেখাবেন।" -[সূরা নিসা, ১৭৪-৭৫]
আর রাসূলের সুন্নাহ তো কুরআনের স্পষ্টকারী ভাষ্য। আল্লাহ বলেনঃ
وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ
অর্থাৎ, আর আমরাই তোমার প্রতি যিকর তথা কুরআন নাজিল করেছি, যাতে করে তুমি মানুষকে তাদের প্রতি নাজিলকৃত বিষয়াবলী বর্ণনা করে দাও এবং যেন তারা (এটা নিয়ে) চিন্তাভাবনা করে।"
অন্যত্র তিনি বলেনঃ
وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوا فِيهِ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
অর্থাৎ, আমরা তো তোমার উপর কিতাব নাজিল করেছি তাদের বিরোধময় বিষয়ের বিবরণ দেওয়ার জন্য, মুমিনদের জন্য হেদায়েত ও রহমত স্বরূপ।
আবার সাহাবীগণ -রাযিয়াল্লাহু আনহুম- ছিলেন আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহ সম্পর্কে উম্মাহর সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষ। আল্লাহ তাদের ঈমান ও হেদায়েতের সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং তাদের অনুসরণ অনুকরণের নির্দেশ দিয়েছেন। রাসূল ﷺও তাদের পথেই চলার আদেশ দিয়েছেন। কারণ, তারাই যে কুরআন সুন্নাহর বিষয়ে সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষ এবং আল্লাহ ও তদ্বীয় রাসূলের কথার উদ্দেশ্য বোঝার বিষয়ে তারাই বিশুদ্ধতম মানুষ। পাশাপাশি কুরআন ও সুন্নাহকে একদম পূর্ণাঙ্গরূপে মানার বিষয়ে তারাই ছিলেন সবচেয়ে সোচ্চার। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁর নবীর সাহাবীদের বিষয়ে বলেনঃ كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ
অর্থাৎ, তোমরাই হচ্ছ শ্রেষ্ঠতম উম্মাহ, মানুষের জন্যই যাদের উদ্ভব।
অন্যত্র বলেনঃ وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا অর্থাৎ এভাবেই আমরা তোমাদেরকে মধ্যমপন্থী উত্তম জাতি করেছি।
তাদের ব্যাপারে আরো বলেনঃ فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنْتُمْ بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوْا অর্থাৎ তারা যদি তোমাদের মতো ঈমান আনে, তাহলেই কেবল তারা হেদায়েত পাবে।
রাসূল ﷺ বলেছেনঃ عليكم بِسُنَّتِي وسُنَّةِ الخلفاءِ الراشدين অর্থাৎ তোমাদের উপর আমার সুন্নাহ ও খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নাহ মানা আবশ্যক।
অন্যত্র তিনি জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত দল সম্পর্কে বলেনঃ مَا أنا عليهِ وأصحابي অর্থাৎ আমি ও আমার সাহাবীরা যার উপর রয়েছি, (যারা তার উপর থাকবে তারাই কেবল নাজাত পাবে)। তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।
সুতরাং যে ব্যক্তি কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরে উম্মাহর সালাফদের পথে চলবে, সে-ই সুন্নাহর তাওফীক পাবে এবং বিদ'আত থেকে মুক্তি পাবে। কোনো বক্তি যদি এমন কোনো ইবাদত করে যেটা আল্লাহ তা'আলা শরীয়তে দেননি, রাসূলও করতে বলেননি এমনকি সাহাবীগণও করেননি, তাহলে (বুঝতে হবে যে, সে) দ্বীনের মাঝে বিদ'আত করল এবং এমন নতুন কিছু করল যা দ্বীনের মাঝে ছিল না। আর যে ব্যক্তি বিদ'আতে পতিত হলো সে তো সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয়ে পড়ে গেল, স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিপতিত হলো। মহাপ্রতাপশালী আল্লাহর গজব ও কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুনে পুড়ার মতো ভয়ানক আশঙ্কায় রয়েছে। কারণ রাসূল ﷺ বলেছেনঃ وَشَرُّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا، وَكُلُّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ، وَكُلُّ ضَلاَلَةٍ فِي النَّارِ
অর্থাৎ, সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো নবাবিষ্কৃত বিষয়াবলী। আর সব নতুন বিষয়ই বিদ'আত আর প্রত্যেক বিদ'আতই ভ্রষ্টতা। ভ্রষ্টতা মাত্রই জাহান্নামে নিয়ে যাবে।"
আল্লাহ আমাকে ও আপনাদেরকে বিদ'আত থেকে রক্ষা করুন এবং সুন্নাহকে আঁকড়ে থাকার তাওফীক দিন। আমি এরকম বলছি, আমি আমার এবং আপনাদের জন্য যাবতীয় গুনাহ থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি; আপনারাও ক্ষমা চান। নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল, পরম করুণাময়।
দ্বিতীয় খুতবা
প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর, যিনি আমাদের জন্য দ্বীনকে পূর্ণ করে দিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তার কোনো শরীক নেই। আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; আল্লাহ তাঁর প্রতি, তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি এবং সব সাহাবীর প্রতি কিয়ামত দিবস পর্যন্ত দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
হে আল্লাহর বান্দারা, আপনারা আল্লাহকে ভয় করুন। জেনে রাখুন, দ্বীনের মাঝে নবাবিষ্কৃত বিষয়াবলীর মাঝে অন্যতম বিষয় হলো: রাসূলের জন্মদিবস উপলক্ষে উৎসব পালন।
এটা বিদ'আত হওয়ার কারণ হলো: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁর কিতাবে এর বিধান দেননি, রাসূল ﷺ তাঁর সুন্নাহতেও এরকম কোনো নির্দেশ দেননি; এমনকি সাহাবীদের যুগ শেষ হওয়া অবধি কোনো সাহাবী এই দিবস পালন করেননি। বরং তাদের অনেক পরে এগুলো তৈরি হয়েছে।
সুতরাং আপনারা নিজেরা মীলাদুন্নবী থেকে সতর্ক থাকুন এবং অন্যদেরকেও সতর্ক করুন। আরো জেনে নিন যে, মুসলিমদের পক্ষ থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য এটা কোনো সঠিক পদ্ধতিও নয়, শরীয়ত সমর্থিত তরীকাও নয়। কেননা জিন-মানবের নেতা, রাসূলদের ইমাম, আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত মহান রাসূলের ভালোবাসা তো কেবল তাঁর অনুসরণ, অনুকরণ এবং নির্দেশ বাস্তবায়ন জরুরি। যেমনটি আল্লাহ বলেছেনঃ "قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ
অর্থাৎ, বলে দিন হে নবী, তোমরা যদি আল্লাহকে (যথাযথ) ভালোবেসে থাকো, আমার অনুসরণ করো। তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন, তোমাদের গুনাহ মাফ করবেন। আর আল্লাহ তো দয়াশীল ক্ষমাশীল।"
একজন মুসলিম কি নবীর প্রতি তার (উজাড় করা) ভালোবাসা প্রকাশ করবে নবীর নাফরমানি করে এবং তাঁর আদেশকে অবজ্ঞা করে?
ওহে আল্লাহর বান্দারা! কোনো বিদ'আত 'অনেক লোক করছে' এই ধরনের কথা বলে বিদ'আতের বৈধতার দলীল দিতে যাইয়েন না। কারণ, এই সংখ্যাধিক্য হক তথা সঠিকতার দলীল নয়। আল্লাহ বলেনঃ
وَإِنْ تُطِعْ أَكْثَرَ مَنْ فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ
অর্থাৎ, তুমি যদি জমিনের অধিকাংশ লোকের অনুসরণ কর, তাহলে তো তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে ভ্রষ্ট করবে। তারা তো শুধুই ধারণার অনুসরণ করে। অনুমানই কেবল তারা করতে পারে।"
(নিজেদেরকে) ইলমের দিকে নিসবত করা কিছু লোকের ফতোয়া দিয়ে বিদ'আত করার দুঃসাহস দেখায়েন না। কারণ মূল দলীল তো হলো: আল্লাহ ও তদ্বীয় রাসূল যা বলেছেন এবং সালাফে সালেহীন যে পথে ছিলেন- সেটা। কিন্তু আলেম, মুফতী, দা'ঈ সবারই অজানা, ভুলভ্রান্তি এবং পদস্খলন থাকতে পারে।
বিদ'আতীদের সুন্দর নিয়তের কারণে তাদের জন্য ওজর আপত্তি তুলেন না, কারণ এককভাবে সুন্দর নিয়তই কোনো আমল বিশুদ্ধ ও কবুল হওয়ার মাপকাঠি নয়। বরং আমল সঠিক হওয়ার শর্ত হলো: নিয়ত একনিষ্ঠ আল্লাহর জন্য হবে এবং আমলটা শরীয়ত সমর্থিত হবে। রাসূল ﷺ বলেছেনঃ مَن عمِلَ عَمَلاً ليس عليهِ أمرُنا فهو رَدٌّ অর্থাৎ যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল, যে বিষয়ে আমাদের নির্দেশনা নেই -তা প্রত্যাখ্যাত।" যদিও তার নিয়ত খালেস হয়।
হে আল্লাহ, আপনার নৈকট্য অর্জনের জন্য আমরা যা-ই করি, তাতে আপনার ইখলাস এবং আপনার নবীর অনুসরণ করার তাওফীক দিন।
আল্লাহ গো, আপনি ইসলাম ও মুসলমানদের সম্মানিত করুন, আপনার তাওহীদপন্থী বান্দাদের সাহায্য করুন এবং এই দেশসহ সকল মুসলিম দেশকে নিরাপদ বাসস্থান বানিয়ে দিন।
প্রভু হে, আপনি আমাদের শাসক খাদেমুল হারামাইন শরীফাইন ও তার বিশ্বস্ত ওলিয়্যুল 'আহদকে আপনার সন্তুষ্টিমূলক কাজের তাওফীক দান করুন। তাদেরকে আপনার আনুগত্য ও আপনার দ্বীনের সাহায্যের কাজে লাগান এবং তাদেরকে সৎ কল্যাণকামী উপদেষ্টা পরিষদ দান করুন হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে দুনিয়াতেও ভালো দান করুন ও আখিরাতেও ভালো দান করুন এবং জাহান্নামের আগুন থেকে আমাদের রক্ষা করুন। হে আল্লাহ, আপনি আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সব সাহাবীদের প্রতি দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
🎙️খুতবা প্রদান করেছেনঃ শায়খ ড. আলী বিন ইয়াহয়া আল-হাদ্দাদী হাফিযাহুল্লাহ।
06/09/2022
বর্তমান যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও ইয়েমেনে সালাফী দাওয়াতের মুজাদ্দিদ ইমাম মুক্ববিল বিন হাদী আল-ওয়াদিঈ রাহিমাহুল্লাহকে প্রশ্ন করা হয়,
"প্রশ্ন: (শাসককে) স্পষ্ট কুফরী করতে দেখলে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ওয়াজিব নাকি ওয়াজিব না?"
উত্তর: "এক্ষেত্রে মুসলিমদের অবস্থা পর্যালোচনা করা ওয়াজিব:
◾তারা কি আদৌ এই স্পষ্ট কুফরীর মোকাবেলা করার সক্ষমতা রাখে? নাকি শুধু শুধুই নিজেদেরকে কুরবান করবে!!?
◾তাদের কি নিজেদের ধনাঢ্যতা আছে, নাকি তারা আবার ঐ আমেরিকা বা এই ধরনের দেশগুলোর প্রতি হাত পাতবে? যেসব রাষ্ট্র তাদেরকে পারস্পরিক হানাহানিতে লিপ্ত রাখবে, এরপর প্রথম ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের পরিবর্তে অন্য আরেকজন ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিকে বসাবে, নয়তো ধর্মনিরপেক্ষ এর পরিবর্তে শীয়াকে বসাবে, হতে পারে মুসলিমের পরিবর্তে কোনো খ্রিস্টানকে বসালো!!!
এজন্য অবশ্যই নিজেদের স্বাবলম্বী হওয়া জরুরী।
◾এরপর দেখতে হবে, যুদ্ধের শক্তিসামর্থ ও প্রস্তুতি আছে কিনা? তবে (খেয়াল রাখতে হবে) শত্রুসেনার সমান হওয়া শর্ত নয়। কারণ আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেনঃ
وَأَعِدُّوا لَهُم مَّا اسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍ وَمِن رِّبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ
"আর তোমরা তাদের মুকাবিলার জন্য যথাসাধ্য প্রস্তুত রাখ শক্তি ও অশ্ব বাহিনী, তা দিয়ে তোমরা ভীত-সন্ত্রস্ত করবে আল্লাহর শক্রকে এবং তোমাদের শক্রকেও"। -(সূরা আনফাল: ৬০)
◾ তাদের যথেষ্ট ডাক্তার ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা আছে কিনা? নাকি আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির রক্ত পড়ে গিয়ে সে মারা যাবে?
◾ অনুরূপভাবে (দেখতে হবে) যুদ্ধে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী মজুদ আছে কিনা?
(উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়) মানুষ সাহাবায়ে কেরামের মতো ধৈর্য্য ধরতে মোটেও প্রস্তুত নয়। নিজ দেশ থেকে মদীনায় হিজরত করার সময় তারা নিজেদের দূর্বলতা, দেশ ত্যাগের কষ্ট মুসীবত, দারিদ্রতা ও রোগ-শোকের উপর যতটা ধৈর্য্য ধারণ করেছিলেন। মানুষকে এখন সাহাবায়ে কেরামের মতো ধৈর্য্য ধারণ করার ট্রেনিং নেওয়াটা খুবই প্রয়োজন।"(তুহফাতুল মুজীব 'আলা আসয়িলাতিল হাযিরি ওয়াল গরীব, পৃষ্ঠা নং ১৭১)
অনুবাদক: ইয়াকুব বিন আবুল কালাম
fb.com/SunniSalafiAthari
fb://group/475189403560436?ref=share
#শাসকসিরিজ-২
অধুনা আইন দিয়ে বিচার করা কি ইসলাম থেকে বের করে দেবে?
উপস্থাপকঃ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেনঃ "আর যারা আল্লাহর আইন দিয়ে বিচার করে না, তারাই তো কাফের। ...তারা জালেম। ...তারা ফাসেক।" -[সূরা মায়েদা, ৪৪, ৪৫ ও ৪৭ নং আয়াত]
উপরোক্ত আয়াত গুলোর প্রেক্ষিতে কিছু আলেম বলেন, অধুনা আইন দিয়ে বিচার করা ইসলাম থেকে বের করে দেবে। আবার কতিপয় আলেম বলেন, এটা ইসলাম থেকে বের করে দেয় না। তবে এটা তো জানা কথা যে, আল্লাহ যাদের রহম করেছেন তারা ছাড়া এখন বিশ্বের প্রায় সব দেশই এই আইন দিয়ে পরিচালিত হয়।
তো এখন প্রশ্ন হলো: তারা এর কারণে ইসলাম থেকে বের হবে -আল্লাহ রক্ষা করুন- নাকি হবে না?
শায়খঃ তুমি যে আয়াত গুলোর দিকে ইঙ্গিত করলে, তন্মধ্যে প্রথমোক্ত আয়াতের ব্যাপারে ইমামুল মুফাসসিরীন তবারী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন যে, যদি সে এগুলোকে হালাল জ্ঞান করে, তবেই তার বিষয়টা কাফেরদের মতো হবে।
তবে খেয়াল রাখতে হবে, এই হালাল মনে করা দুইভাবে হয়:
১) মনে মনে (অর্থাৎ বিশ্বাসগতভাবে) হালাল মনে করা এবং
২) আমল তথা বাস্তবে করার মাধ্যমে হালাল মনে করা।
একমাত্র বিশ্বাসগতভাবে হালাল মনে করাটাই ইসলাম থেকে বের করে দেবে।
পক্ষান্তরে, আমলগত হালাল করার ভিতরে (প্রায়) সব মুসলিমই নিমজ্জিত। চুরি করা, যিনা করা, ধোঁকা দেওয়া ইত্যাদি পাপগুলোর কর্তারা কিন্তু আমলগতভাবে তা হালাল করে ফেলে!! (এই দৃষ্টিকোণ থেকে) তারা এবং আল্লাহর বিধান ছাড়া অন্য বিধান দিয়ে বিচারক- সবাই, সব্বাই অপরাধী। কিন্তু সব অপরাধই তো আর সমান নয়।
যে ব্যক্তি সুদ খায় -আর আপনারা তো সবাই জানেন যে, সুদ একটা কাবীরাহ গুনাহ- সে যদি এটাকে অন্তর থেকে হালাল মনে করে, তবে সে মুরতাদ হয়ে যাবে। কিন্তু এটাকে গুনাহের কাজ স্বীকৃতি দেওয়ার পর করলে সে হবে ফাসেক, আর তার বিষয়টা আল্লাহর উপর। সে আয়াতের ব্যাপকতার মাঝে অন্তর্ভুক্ত, যেটাতে বলা হয়েছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ শিরকের গুনাহ ব্যতীত অন্য গুনাহ যাকে ইচ্ছা তাকে ক্ষমা করেন।" -[সূরা নিসা, ৪৮]
অনুরূপভাবে, যারা আল্লাহর হুকুম বাদে অন্য হুকুম দিয়ে বিচার করে, হোক সেটা একটিমাত্র বিধান -সব বিধান হওয়া জরুরি নয়-, সে যদি তার চালু করা এই বিধানকেই ইসলামের বিধানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও যুগোপযোগী মনে করে, তবে সে মুরতাদ হয়ে যাবে। সব বিধানেই এমনটি হওয়ার প্রয়োজন নেই, বরং একটি বিধানই যথেষ্ট। তাহলে যে তার চালু করা সব বিধানকেই শ্রেষ্ঠ মনে করে, তার কি হতে পারে?! সে যদি এগুলোকে অন্তর থেকেই হালাল জ্ঞান করে, তবে সে মুরতাদ হয়ে যাবে।
কিন্তু তার সাথে পর্যালোচনা ও প্রশ্নোত্তরে বলা হয় যে, আপনি শরীয়ত বিরোধী এগুলো করছেন কেন? (তখন সে যদি উত্তরে বলে,) আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন, ইনশাআল্লাহ আমরা আল্লাহর বিধান দিয়েই বিচার ফয়সালা করতে সক্ষম হব; তাহলে এটা তাকে মিল্লাত থেকে বের করে দেবে না, বরং এটা হবে আমলগত কুফরী।
আমরা শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়া রহিমাহুল্লাহর কিতাবাদি থেকে কুফরীর যে দুটি বরং চারটি প্রকরণ -যদিও ফলাফলের দিক থেকে দুই প্রকারই যথেষ্ট- থেকে যা বুঝতে পারি, তা হলো: ১) আমলগত কুফরী, ২) বিশ্বাসগত কুফরী, ৩) শাব্দিক কুফরী এবং ৪) অন্তরের কুফরী।
শাব্দিক কুফরী ইসলাম থেকে বের করে দেয় না, বরং অন্তরের কুফরীই একমাত্র ইসলাম থেকে বের করে দিতে পারে। একইভাবে আমলগত কুফরী কাউকে ইসলাম থেকে খারিজ করে না, কেবলমাত্র বিশ্বাসগত কুফরী কাউকে ইসলাম থেকে বের করে দিতে পারে।
সুতরাং যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, ইসলামের কোনো একটি বিধান এই যুগের জন্য উপযোগী নয়, সে কাফের, মুরতাদ। পক্ষান্তরে কেউ যদি মনে করে যে ইসলামের বিধান বাস্তবায়ন করতে হয়, কিন্তু (এটা মনে করেও) পালন করে না; তার অবস্থা ঐসব ফাসেকদের মতোই যারা যিনা করে, সুদ খায় প্রভৃতি গুনাহ করে।
(আশা করি) এতটুকুই যথেষ্ট। ওয়াল-হামদুলিল্লাহি রব্বিল 'আলামীন।"
🎤 ইমাম নাসিরুদ্দীন আলবানী রহিমাহুল্লাহ।
🎙️সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর।
গৃহীত,
📚জামি'উ তুরাসিল আলবানী ফীল আকীদাতি ওয়াল মানহাজ, ২/২৩৩-২৩৫।
#শাসকসিরিজ_আলবানী-০১
#বিধান_সিরিজ-০৯
18/08/2022
"প্রাথমিক লেভেলে থাকা জ্ঞানান্বেষী ভাইটি আমার, তুমি কিন্তু সাধারণ মানুষের হুকুমে। আহলে ইলমের কথা নকল করছ বিধায় সব বিষয়েই মাথা ঘামাবে, তর্ক-বিতর্কে জড়াবে, (কোনো ব্যক্তি বা বিষয়ের) হুকুম লাগাবে, (নিজের ইজতিহাদে) একটা কথা গ্রহণ করবে আর অন্যটা করবে প্রত্যাখ্যান; এরকমটি করা তোমার জন্য বৈধ নয়।
নিজেকে নিয়ে চিন্তা করো। শুধু আলেমদের কথা নকল করো, যদি (সত্যিই নিজেকে ও অপরকে) উপকৃত করতে চাও; কোনোরূপ হুকুম, গ্রহণ বা বর্জন সংক্রান্ত কথা না বলে।
শুভাকাঙ্ক্ষী, হিতাকাঙ্ক্ষী একজনের পক্ষ থেকে নসীহাহ।"
✍️শায়খ মুহাম্মাদ বিন উমার বাযমূল হাফিযাহুল্লাহ।
12/08/2022
বর্তমানে ইয়াং জেনারেশনের মাঝে নাটকের জনপ্রিয়তা শীর্ষে। কিন্তু এর শরয়ী বিধান সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো লেখা চোখে পড়েনি। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই কাঁচা হাতে একটু আঁচড় কেটে ছিলাম। "নাটকঃ দর্পন না দংশন" শিরোনামে ছোট্ট লেখা।
ঐতিহাসিক সিরিজগুলো নিয়ে একটু লেখার ইচ্ছা আগে থেকেই আছে, সময় হলে ইনশাআল্লাহ কোনো এক সময় হয়তো লেখব। আল্লাহ সহজ করুন এবং তাওফীক দান করুন।
১ম পর্ব:
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=134390611666763&id=103962741376217
২য় পর্ব:
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=134768514962306&id=103962741376217
৩য় পর্ব:
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=135512108221280&id=103962741376217
৪র্থ পর্ব:
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=136183874820770&id=103962741376217
৫ম পর্ব:
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=136576598114831&id=103962741376217
25/07/2022
শাসকদের নসীহাহ ও তাদের কর্মের সমালোচনা সংক্রান্ত নীতিমালা
মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, মসজিদে নববির মুদার্রিস এবং মসজিদে কুবার সম্মাননীয় ইমাম ও খতিব, আশ-শাইখ, আল-আল্লামা, আল-ফাকিহ, ড. সুলাইমান বিন সালিমুল্লাহ আর-রুহাইলী হাফিযাহুল্লাহ বলেন:
এক ভাই প্রশ্ন করেছেন, শাসকদের নসীহাহ ও তাদের কোনো মন্দ কাজের সমালোচনার মাঝে কোনো পার্থক্য আছে কি?
তার উত্তর হলো: হ্যা, পার্থক্য অবশ্যই আছে।
শাসকদের নসীহাহ করতে হবে সরাসরি তাদের উদ্দেশ্য করে। সক্ষম আলেমদের উপর ওয়াজিব হলো, তারা শাসকদেরকে এমন ভাষায় নসীহাহ করবেন যাতে শাসকদের মর্যাদা ভুলুণ্ঠিত না হয় এবং জনগণের শ্রদ্ধাও উঠে না যায়।
প্রিয় ভাইয়েরা, সর্বজন স্বীকৃত একটি মূলনীতি হলো: মানুষকে তার অবস্থান খেয়াল রেখে উপদেশ দিতে হয়।
উদাহরণতঃ আপনি আপনার বাবাকে যে ভাষায় নসীহাহ করবেন সেটা অবশ্যই সাধারণ জনগণকে যে ভাষায় বলবেন তার মতো নয়।
বাবার সাথে কথা বলতে অবশ্যই তার সাথে মানানসই পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।
অনুরূপভাবে শাসকদের উপদেশও হবে যথাযথ পদ্ধতিতে এবং অবশ্যই আপনার ও তার মাঝে গোপনভাবে, তার হাত ধরে তাকে (গোপনে) উপদেশ দেবেন। যদি সেই শাসক আপনার উপদেশ গ্রহণ করে তো আলহামদুলিল্লাহ; আর যদি গ্রহণ না করে, তবে আপনি তো আপনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
তবে একটিমাত্র অবস্থায় শাসককে উপদেশ দেওয়ার জন্য গোপনীয়তা শর্ত নয়। সেটা হলো (নিচের তিনটি শর্ত মিলিয়ে একটা):
১) শাসকের একদম সামনাসামনি, অর্থাৎ উপস্থিতিতে;
২) সর্বজন শ্রদ্ধেয় কোনো আলেমের মাধ্যমে, যাকে গ্রেফতার ও (তার বক্তব্য অন্যদের জন্য) ফিতনার আশঙ্কা না থাকে এবং
৩) জনসাধারণের জন্য ফিতনা স্বরূপ না হওয়া।
উপরোক্ত তিনটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষেই কেবল শাসকের প্রকাশ্য সমালোচনা বৈধ; আর কিছু সাহাবায়ে কেরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুম এই ধরনের সমালোচনাই করেছেন।
•আমাদের প্রথম শর্তের ভিত্তিতে বোঝা যায়, শাসকদের অনুপস্থিতিতে কোনো প্রকাশ্য নিন্দা বা সমালোচনা সঠিক নয়।
•দ্বিতীয় শর্তের ভিত্তিতে বোঝা যায়, যার যার সেইরকম অবস্থা নেই, সে শাসকের সমালোচনা করবে না (সামনাসামনি হলেও)। কারণ, সে সমালোচনা করলে হিতে বিপরীত হয়ে সে নিজেই গ্রেফতার হতে পারে।
•তৃতীয় শর্তের আলোকে বোঝা যায়, যদি কেউ বুঝতে পারে যে, সে প্রকাশ্যে শাসকের সমালোচনা করলে প্রজারা শাসকের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠবে এবং ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে, তাহলে এমতাবস্থায় (শাসকের সামনাসামনি হলেও) সে কোনো সমালোচনা করবে না।
মন্দ কাজের প্রতিহতকরণের দুইটি দিক আছে:
১) ব্যক্তি শাসকের বিরুদ্ধে, এটাই হচ্ছে শাসককে নসীহাহ; যেটার মূলনীতি আমরা জেনেছি যে, শুধুমাত্র একটি অবস্থা ছাড়া সর্বাবস্থায় এই উপদেশ গোপনীয়ভাবে দিতে হবে।
২) মন্দ কাজটার বিরোধিতা করা, শাসকের নয়। এরকম হলে শাসকের সাথে লেজ না জুড়িয়ে জনসাধারণকে সচেতন করতে হবে।
একটি উদাহরণ দেয়া যাক। সুদ ও সুদী ব্যাংকগুলোর ব্যাপারটাই খেয়াল করুন। এই মন্দ কাজের প্রতিবাদের দুটো দিক আছে:
১) সরাসরি শাসককে উদ্দেশ্য করে সমালোচনা করা ও তাকে এই কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান করা। এক্ষেত্রে অবশ্যই (পূর্বে আলোচিত) শাসককে নসীহাহ করার পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে; খুতবায়, সেমিনারে, বিক্ষোভ সমাবেশে বা মঞ্চে নয়। শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে এটা মোটেও জায়েয নেই।
২) দ্বিতীয় দিক হলো, এইসমস্ত কারবার ও লেনদেন করতে সতর্ক করা। আলেমদের উপর ওয়াজিব হলো, তারা জনসাধারণকে এইসব ব্যাংকের সাথে লেনদেন করা থেকে সতর্ক করবেন; তারা আরো বলবেন যে, সুদী কারবার হারাম এবং এটা মহা অপরাধ।
আর এটাই হলো আলেমদের পদ্ধতি।
শাসকের প্রতিবাদ আর জনসাধারণের জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরোপিত অন্যায় কাজের প্রতিবাদের মাঝে পার্থক্য রয়েছে। জনসাধারণকে নিষেধ করতে হবে, তাদেরকে এর হারাম হওয়া সম্পর্কে জানাতে হবে এবং এ ব্যাপারে বিস্তর দলীল প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।
উৎস: https://h.top4top.io/m_2380uzxqh0.mp3
অনুবাদক: ইয়াকুব বিন আবুল কালাম
fb.com/SunniSalafiAthari
https://t.me/dawahsalafiyyahbd
মহান সালাফী মানহাজের বিরোধিতাকারীদের সাথে জালেম শাসকদের নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত ও তথ্যবহুল কথোপকথন।
তারা (সালাফিয়াত বিদ্বেষীরা) বলল: জালেম শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা কি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের আকীদা পরিপন্থী?
আমরা বললাম: হ্যা।
তারা বলল: দলীল কোথায়?
আমরা বললাম: উবাদা বিন সামিত রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস, "যতক্ষণ না তোমরা (তার মধ্যে) প্রকাশ্য কুফরী দেখ"। -[সহীহ বুখারী/৭০৫৬, সহীহ মুসলিম/৪৬৬৫]
তারা বলল: এখানে কুফরী দ্বারা আল্লাহর নাফরমানি উদ্দেশ্য!!!
আমরা বললাম: ভুল কথা এটা, কারণ আওফ ইবনে মালেক রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে: "সাবধান, তোমাদের কারো ওপর কোনো শাসক নিযুক্ত হলে এবং সে তাকে আল্লাহর কোনো নাফরমানীতে লিপ্ত দেখলে, সে যেন শাসকের আল্লাহর নাফরমানীমূলক কাজটাকে অপছন্দ করে। কিন্তু সে যেন আনুগত্যের হাত (শপথ) তার থেকে তুলে না নেয়।” -[সহীহ মুসলিম/৪৬৯৯]
তারা বলল: আরে উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন, 'তোমরা আমাকে সোজা করে দিও'।
আমরা বললাম: এই আসরটি যদি সঠিকও হয়, তদুপরিও এটা মানে সংশোধন করা, শাসক পরিবর্তন করা নয়।
তারা বলল: আমরা কোন সময় পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরব!!!?
আমরা বললাম: উসায়দ রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস, "আমার সাথে হাওযে কাওসারে দেখা হওয়া পর্যন্ত"। -[সহীহ বুখারী/৩৭৯২, সহীহ মুসলিম/২৩৩৬]
তারা বলল: আমরা আমাদের হক কিভাবে পাব তাহলে!!!?
আমরা বললাম: ইবনু মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস, "তোমাদের প্রাপ্য আল্লাহর কাছে চাইবে"। -[সহীহ বুখারী/৩৬০৩, সহীহ মুসলিম/৪৬৬৯]
তারা বলল: আমরা যাকে নির্বাচন করব সেই তো মূলত আমাদের শাসক!! জোর করে ক্ষমতা দখলকারী তো আমাদের শাসক নয়!!!
আমরা বললাম: ইরবায বিন সারিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস, "যদিও তোমাদের উপর কোনো হাবশী দাস শাসক হয়"। -[আবূ দাঊদ/৪৬০৭, তিরমিযী/২৬৭৬, সহীহ]
তারা বলল: ধৈর্য্য তো ধরব যারা শরীয়ত দিয়ে শাসন করতে গিয়ে একটু বাড়াবাড়ি করে তাদের ক্ষেত্রে। কিন্তু যারা শরয়ী পথনির্দেশ বাদ দিয়ে নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে তাদের ক্ষেত্রে তো আর এইসব দলীল চলবে না!!!
আমরা বললাম: ডাহা মিথ্যা কথা বললেন আপনারা। কারণ, হুযায়ফা রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে এসেছে, "তারা আমার হিদায়াতেও চলবে না আবার আমার সুন্নতেরও অনুসরণ করবে না"!! -[সহীহ মুসলিম/১৮৪৭]
তারা বলল: সালাফদের বুঝ এক্ষেত্রে কোথায়!?
আমরা বললাম: সালাফরা সবাই শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন। যেমনটি নকল করেছেন ইমাম নববী, ইবনে হাজার আসকালানী, ইবনে তায়মিয়া ও শাওকানী রহিমাহুমুল্লাহ।
তারা বলল: তাদের ইজমা হয়ে থাকলে কিভাবে আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রাযিয়াল্লাহু আনহু বিদ্রোহ করলেন!!!?
আমরা বললাম: মিথ্যা বলেছেন আপনারা। তিনি শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেননি। কারণ সেই সময় নির্দিষ্ট কোনো শাসক নির্বাচিত হয়নি তখনো; বরং ইয়াযীদ বিন মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পরে পরিবেশ ঘোলাটে ছিল। এদিকে ইবনে যুবায়ের রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাতে মক্কার লোকজন বাইয়াত নিয়েছিল এবং পুরো হিজায তার অধীনে ছিল।
তারা বলল: তাহলে হুসায়ন রাযিয়াল্লাহু আনহুর ব্যাপারে কি বলবেন?!
আমরা বললাম: একেতো তিনি ক্ষমতার লড়াইয়ের জন্য (মক্কা থেকে) বের হননি, দ্বিতীয়ত বসরাবাসীরা তার সাথে প্রতারণা করে এবং বলে যে, আপনি আমাদের কাছে চলে আসুন, আমাদের এখানে কোনো ইমাম নাই!! কিন্তু যখন তিনি তাদের এই ধোঁকা ধরতে পারেন, তখন তিনি অনুতপ্ত হন এবং পরিবারের কাছে ফিরে আসার বা ইয়াযীদের কাছে যাওয়ার নতুবা কোনো গুহায় যাওয়ার অনুমতি চান। কিন্তু জালেমরা তাকে সেই সুযোগ না দিয়ে হত্যা করে, ফলে তিনি মাজলুম অবস্থায় শহীদ হয়ে যান -রাযিয়াল্লাহু আনহু-।
তারা বলল: তারা দুজন ছাড়াও তো অনেকেই বিদ্রোহ করেছিলেন, তাহলে ইজমা কিভাবে হলো?
আমরা বললাম: ইবনু হাজার আসকালানী রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ "সালাফদের এক জামা'আত যে বিদ্রোহ করেছিলেন, তা ছিল জালেম শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা হারাম- মর্মে ইজমা হওয়ার আগে।" -(মিরকাতুল মাফাতীহ, ১১২৫ নং হাদীসের ব্যাখ্যা)
ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ আলোচনা করেছেন: "বলা হয়েছে যে, সালাফদের মাঝে মতাদ্বন্দ্ব ছিল ইজমা হওয়ার আগে। কিন্তু পরে জালেম শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নিষেধের ব্যাপারে তাদের মাঝে ইজমা হয়"।
তারা বলল: শাসকদের জুলুমের কারণে সব কিছুর দাম বেড়েছে, বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
আমরা বললাম: পুরো জাতি বিদ্রোহ করে বসলে অবস্থা আরো খারাপ হবে, নিরাপত্তা বিদায় নেবে, রক্ত প্রবাহিত হবে এবং মান-সম্মান সব ভূলুণ্ঠিত হবে। ইতিহাসের পাঠক মাত্রই এটা নিশ্চিত করে বলতে পারবে যে, বিদ্রোহ কোনোদিনই কোনো জাতির সুফল বয়ে আনেনি।
তারা বলল: তাহলে সমাধান কিসে?!!
আমরা বললাম: আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার…
(সমাধান হলো) তাওবা ও ইস্তিগফারে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেনঃ إن الله لا يغير ما بقوم حتى يغيروا ما بأنفسهم (আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থার পরিবর্তন ঘটান না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনে সচেষ্ট হয়)। -[সূরা রা'দ, ১১]
সুতরাং তোমরা শিরককে তাওহীদ দিয়ে, বিদয়াতকে সুন্নাহ দিয়ে এবং গুনাহের কাজকে সওয়াবের কাজের মাধ্যমে পরিবর্তন করে দাও।
অন্যত্র আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ و لو أن أهل القرى آمنوا واتقوا لفتحنا عليهم بركات من السماء والأرض (আর যদি জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত তবে অবশ্যই আমরা তাদের জন্য আসমান ও যমীনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম)। -[সূরা আ'রাফ, ৯৬]
কোনো সালাফকে বলা হলো, দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেছে!! তিনি বললেন, তোমরা ইস্তিগফারের মাধ্যমে তা কমিয়ে নাও।
*নিজেকে আল্লাহর আনুগত্য মূলক কাজে লাগিয়ে রাখার জন্য কিছু সহায়ক টিপস:
১) আল্লাহর সাহায্য চাওয়া।
২) দোয়া করা। আপনি আল্লাহর কাছে তাওফীক ও সঠিকতা চাইবেন। দোয়াই সর্বোত্তম অস্ত্র।
৩) শরয়ী ইলম অর্জন।
৪) ভালো মানুষদের সঙ্গ গ্রহণ।
৫) সালাফে সালেহীনের জীবনী পাঠ করা।
সূত্র: [মক্কার মুফতী শায়খ মুহাম্মাদ বিন উমার বাযমূল হাফিযাহুল্লাহর পেজ থেকে]
ভাষান্তর: ইয়াকুব বিন আবুল কালাম।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Telephone
Website
Address
Rajshahi