22/04/2026
আমি একজন শ্রেণি শিক্ষক। বর্তমান শ্রেণি কক্ষ ও শিক্ষা ব্যবস্হাপনা আমাকে ভীষন ভাবায়। আমি সমসায়িক যাব ভাবছি......
#আমি হাসিমুখে ক্লাস নিতে ভালোবাসি। ভালোবেসে নিয়েছি। কিন্তু এখন আর পারছি না। পারি না।
শিক্ষকতা জীবনে আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি—ভালোবাসা দিয়েই শেখানো যায়।
গল্প করতে করতে, হাসতে হাসতে, ভ্রমন এবং ছোট ছোট আনন্দের ভেতর দিয়ে বাচ্চাদের নতুন কিছু শেখানো—এটাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। কিন্তু আজকাল শ্রেণি নিজেকে বড্ড অপরিচিত মনে হয়।
#একটা অদ্ভুত পরিবর্তন চোখের সামনে ঘটছে। তা একদিনে হয়নি। এমনি এমনি হয়নি। বিশৃংখলা যখন চারদিকে সয়লাব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারি এর বাহিরে নয়।
একটা ক্লাস শেষ করে আরেকটা ক্লাসে যেতে মাত্র ২–৩ মিনিট সময় লাগে। এই সামান্য সময়ের মধ্যেই পুরো বারান্দা ভরে যায় অস্থিরতা, চিৎকার, হৈহাল্লা ও দৌড়াদৌড়িতে।
ধাক্কাধাক্কি, মারামারি, আচার-বিচার—কেউ কাউকে শুনছে না, শুনতে চায় না।
এক সময় যে বাচ্চারা চুপচাপ বসে থাকত, ক্লাস ক্যাপ্টেন/ ক্লাশটিচার সবাইকে সামলে রাখত—এখন তারা চোখের দিকে তাকায় না, ডাকে সাড়া দেয় না।অদ্ভুত প্রশ্ন ছুড়ে দেয়-আমি কি করেছি?
#সবচেয়ে কষ্টের জায়গা হচ্ছে-ওদের মধ্যে যেন “সংযোগ” নেই। না চোখের ভাষা বোঝে, না আদর বোঝে, না ধমক বোঝে, না ধমকে কাজ করে।
মোবাইলের গেম, স্ক্রিনের জগৎ—ওদের মনটাকে এমনভাবে দখল করে আছে যেন বাস্তব মানুষ, বাস্তবতার সম্পর্ক—সব যেন দূরের কিছু।
#শাসন করবো? সেটাও আজ আর সহজ না। ভীষন কঠিন। শাসন করলে ভয়ে আমাকেই তটস্থ থাকতে হয়। কখন জানি অভিযোগ আসে।
আমরা ছোটবেলায় শুনতাম—
“শিক্ষক যা ঠিক মনে করেন, সেটাই করবেন।”
আর এখন?
সামান্য কিছু বললেই অভিভাবকরা প্রশ্ন তোলেন, বিচার করেন, চাপ তৈরি করেন। কাঠগড়ায় দাঁড় করান। শিক্ষক যেন পড়ানোর আগে হাজারবার ভাবেন—“এটা বলা ঠিক হবে তো?”
#তাই এখন ক্লাসে কী কী করি জানেন?-
হাসিমুখে ঢুকি! আর কিছুক্ষণ পর নিজেকে দেখি কপাল কুঁচকে, দাঁতে দাঁত চেপে কথা বলছি…
এটা আমি না।
এটা আমি হতে চাইনি। অসহায়ের মতন ভাবি -যদি বিকল্প করতে পারতাম!
#একটা কথা বলতে চাই—অভিভাবকদের কাছে -আপনার সন্তান শুধু বইয়ের পড়া শিখলেই মানুষ হবে না।
শিখতে হবে—
• শ্রদ্ধা
• শোনার অভ্যাস
• নিয়ম মেনে চলা
• অন্যকে বুঝতে পারা
• পরমতসহিষ্ণুতা
এই জিনিসগুলো বাড়ি থেকে শুরু হয়। স্কুল শুধু সেটাকে গড়ে তোলে।
#আর আমার প্রিয় ছাত্রদের বলি-
তোমরা খারাপ না…
কিন্তু তোমাদের মনটা খুব অস্থির হয়ে গেছে।
একটু থামো,
একটু শুনতে শিখো,
একটু চোখে চোখ রেখে কথা বলতে শিখো।
#শিক্ষকতা শুধু পেশা না—এটা একটা অনুভূতি, একটি ব্রত। কিন্তু সেই অনুভূতিটা যদি প্রতিদিন ভেঙে যায় তাহলে একসময় জাতি থেমে যাবে। হয়তো এখন সময় এসেছে আমরা সবাই একটু থামি—শিক্ষক, অভিভাবক, আর ছাত্রছাত্রী- নতুন করে ভাবি—
আমরা আসলে কোথায় যাচ্ছি…গন্তব্য ঠিক আছে তো?
আমার কথাগুলো যদি প্রয়োজনীয় মনে হয় তাহলে একটু ভাবুন। মনে একটু হলেও নাড়া দিলে আসুন পরবর্তী প্রজন্মের জন্যে নতুন পৃথিবী গড়ি।