প্রয়োজনীয় উপদেশ/ বাণী :
The open sky of Economics
বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিষয়াবলি এবং বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা করা হবে।
ক্লাসিক্যাল ও নিউ ক্লাসিক্যাল অর্থনীতিঃ পর্ব -০১
তারিখঃ ০১/১০/২০২১
ক্লাসিক্যাল অর্থনীতির যেকোনো আলোচনায় অর্থনীতির জনক এডাম স্মিথের নাম স্মরণযোগ্য। বিখ্যাত The Wealth of Nations (1776) গ্রন্থে তিনি মুক্ত বাজার ব্যবস্থা, অর্থনীতির অদৃশ্য হাত ও ব্যক্তিতান্ত্রিক অর্থনীতির মাধ্যমে ধনতন্ত্রের/ পুঁজিবাদির যথার্থতাকে প্রতিফলনের চেষ্টা করেন।
টমাস ম্যালথাস An Essay on the Principle of Population as It Affects the Future Improvements of Society(1798) গ্রন্থে বলেন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল জনসংখ্যা বৃদ্ধির দ্বারা হারিয়ে যায়। তাঁর মতে, খাদ্য উৎপাদন বাড়ে গাণিতিক হারে এবং জনসংখ্যা বাড়ে জ্যামিতিক হারে। এর ফলে জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি হয়। আর তখনই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দ্বারা অর্জিত সাফল্য মুছে যায়।
ফরাসী অর্থনীতিবিদ জীন ব্যাপটিস্ট সে' র Treatise on Political Economy(1803) বইতে বিখ্যাত সে'র বিধিটি স্থান পায়। বিধিটি হলো- Supply creates its own demand অর্থাৎ যোগান তার নিজস্ব চাহিদা সৃষ্টি করে। এতে উৎপাদিত দ্রব্য বিক্রি হতে কোনো অসুবিধা থাকে না। সুতরাং উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে নিয়োগ বাড়াতে কোনো অসুবিধা না হওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূর্ণ নিয়োগ অর্জিত হয়।
ডেভিড রিকার্ডোর Principles of Political Economy and Taxation (1815) বইতে উৎপাদনের উপকরণ দাম প্রাধান্য পায়। বিশেষ করে ভূমি সংক্রান্ত রিকার্ডোর খাজনা তত্ত্ব অর্থনীতির যে কোন শিক্ষার্থীর কাছে অতি পরিচিত। তাঁর মতে, খাজনা হলো জমির উৎপাদনের সে অংশ যা জমির আদি ও অক্ষয় শক্তি ব্যবহারের জন্য জমির মালিককে দেওয়া হয়।
সংক্ষেপে ক্লাসিক্যাল অর্থনীতি সম্পর্কে বলা যায়, দেশের সম্পদ বা উপকরণ এমনভাবে ব্যবহৃত হবে যেন আপনা-আপনি বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের পূর্ণ নিয়োগ অর্জন হয়। অতএব যখন বেকারত্ব থাকবে না, তখন অধিক উৎপাদন হবে না আবার কম উৎপাদনও হবে না এতে কাম্য উৎপাদন অর্জিত হবে এবং দামস্তরের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।
অনেক ক্লাসিক্যাল অর্থনীতিবিদ আছেন যেমনঃ এডাম স্মিথ, টমাস ম্যালথাস, জীন ব্যাপটিস্ট সে, ডেভিড রিকার্ডো, জন স্টুয়ার্ট মিল, এজওয়ার্থ, পিগু প্রভৃতি। তার মধ্যে কয়েকজনের মৌলিক অবদান সংক্ষেপে উপরে তুলে ধরা হয়েছে।
নিউ ক্লাসিক্যাল অর্থনীতি সম্পর্কে পর্বঃ ২ তে লিখব ইনশাআল্লাহ।
10/08/2021
জানার আছে অনেক কিছুঃ
গত তিন মাসের (এপ্রিল- জুন) গড় মুদ্রাস্ফীতি ৫.৪৯% কিন্তু ব্যাংকে জমাকৃত আমানতের সুদহার ২% থেকে ৪% । বুঝার সুবিধার্তে উদাহরণঃ ১০০০ টাকা আমানত রাখলে বছর শেষে মুনাফা/সুদ পাবে ৪০ টাকা (সুদ ৪% ধরে)। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির ফলে ১০০০ টাকার ১ বছর পর দ্রব্য সামগ্রীর দাম বাড়বে ৫৪.৯ টাকা। অর্থাৎ ১০০০ টাকার প্রকৃত ক্ষতি (৪০- ৫৪.৯)= - ১৪.৯ টাকা।
এই সমস্যার সমাধানের জন্যই বাংলাদেশ ব্যাংক সুদ হার বাড়ানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
অনেক ব্যাংককে সুদ বাড়াতে হবে ঋণের সুদ কমাতে গিয়ে অনেক ব্যাংক আমানতের সুদ ২ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। ন্যূনতম এ সুদহারকে ব্যাংকগুলো বলছে ‘তহবিল খরচ...
30/07/2021
অর্থনীতির শিক্ষার্থীদের জানানোর উদ্দেশ্যে পোস্ট করলামঃ
আধুনিক অর্থনীতির জনকঃ পর্ব-২
তারিখঃ ২৩/০৭/২০২১
বি.দ্র. এই পর্বটি অর্থনীতির শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
# তিনি কেন এত বিখ্যাত/পরিচিতঃ
তিনি যেসব কাজের জন্য বিখ্যাত হয়েছেন তার কয়েকটি নিচে দেয়া হলো-
১. তিনি নিউ ক্লাসিক্যাল ও কেনিসিয়ান সিনথিসিসের অন্যতম একজন প্রতিষ্ঠাতা বা ফাউন্ডার।
২. অর্থনীতিতে গণিতের ব্যবহার বা Mathematical Economics.
৩. অর্থনৈতিক পদ্ধতিবিদ্যা বা Economic Methodology.
৪. উন্মোচিত পছন্দ তত্ত্ব বা Revealed Preference theory.
৫. International Trade.
৬. Public Goods.
৭. Economic Growth.
# Father of Modern Economics বলা হয় কেন?
চিরাচরিত বা গতানুগতিক অর্থনীতিতে তিনি গণিতের ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবর্তন বা ট্রান্সফরমেশন এনেছিলেন। এজন্য পল এ্যান্থনি স্যামুয়েলসন সর্বপ্রথম অর্থনীতিতে নোবেল পুরষ্কার পান ১৯৭০ সালে।
গানিতিক কৌশলের উপর ভিত্তি করে তিনি অর্থনীতির সেক্টরে শৃঙ্খলাপূর্ণ ও সুসংহত একটি কাঠামো দাঁড় করিয়েছিলেন। এই কাঠামোটি তৎকালীন আমেরিকান ও বিশ্ব অর্থনীতির ব্যবসা ও নীতি নির্ধারণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছিল।
এছাড়া বাণিজ্য চক্র, মজুরি ও বেকারত্বের হার, প্রতিযোগিতা কিভাবে বাণিজ্যকে প্রভাবিত করে, করহার কিভাবে রাজস্ব সংগ্রহকে প্রভাবিত করে ইত্যাদি তত্ত্ব ও যুগোপযোগী অবদানের কারণে আধুনিক অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে উঠতে তিনি সহায়তা করেছিলেন।
সুতরাং সংক্ষেপে বলা যায়, আধুনিক অর্থনীতি কিভাবে বিকশিত হয়েছিল তা বুঝতে এবং চিন্তা করার উৎস হিসেবে তিনি ব্যাপক অবদান রেখেছিলেন বলেই তাকে আধুনিক অর্থনীতির জনক বলা হয়।
# তার লিখিত বিখ্যাত প্রকাশনা/বইঃ
পল স্যামুয়েলসনের অনেকগুলি প্রকাশনা আছে। কেউ সেগুলো দেখতে চাইলে WWW.Wikipedia.org তে Paul Anthony Samuelson এর List of publications দেখা যেতে পারে।
অনেক প্রকাশনার মধ্যে তার ২টি বই পুরো পৃথিবীতে সমাদৃত-
1. Foundation of Economic Analysis (1947).
বইটিতে
(ক) উপযোগের সাপেক্ষে ভোক্তার এবং মুনাফার সাপেক্ষে বিজনেস ফার্মের সর্বোচ্চকরণ আচরণ গাণিতিক কৌশলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
(খ) মার্কেটে ও অর্থনীতিতে ইকনোমিক সিস্টেম কিভাবে স্ট্যাবল ভারসাম্যে পৌঁছে এবং ট্যাক্স ও নিউ টেকনোলজির কারণে ইকনোমিক ইফেক্ট কেমন হয় তার ব্যাখ্যাও বইটিতে করা হয়েছে।
(গ) ওয়েলফেয়ার ইকনমিক্স (কল্যাণ অর্থনীতি) নিয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। যেটি বার্গসন-স্যামুয়েলসন তত্ত্ব নামে পরিচিত।
2. Economics: An Introductory Analysis (1948).
বইটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয় যার লেখক ছিলেন তিনি নিজে। কিন্তু ১৯৮৫ সালে সহলেখক হিসেবে যুক্ত হোন William Nordhaus এবং ১২তম সংস্করণ থেকে পরবর্তী সকল সংস্করণে দুজনেই সহলেখক হিসেবে কাজ করেন।
বি. দ্র. এই বইটি আমেরিকা ও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অর্থনীতি শিক্ষার জন্য এখনও টেক্সটবই হিসেবে সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়। তৎকালীন আমেরিকান প্রজন্ম যারা পরবর্তী তে শিক্ষক হয়েছিল তারা প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতির শিক্ষাগুলি স্যামুয়েলসনের অর্থনীতি থেকে পেয়েছিল।
বাণিজ্য চক্র আলোচনার জন্য বইটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি (Great Depression কে অনুসরণ করে ২য় World War পর্যন্ত সময়কে বিবেচনায় নিয়ে আলোচনা) এবং কেইন্সের সামগ্রিক চাহিদার ধারণাটি আমেরিকার সামষ্টিক অর্থনীতিতে বিপ্লব বা রিভলুশান সৃষ্টি করেছিল।
ফিলিপস রেখাতে স্যামুয়েলসন ও রবার্ট সলো গণিতের ব্যবহার করেন এবং তা জনপ্রিয়করণে সহায়তা করেন।এই রেখার মূল বক্তব্য হলো "বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফিতি বিপরীতভাবে সম্পর্কিত"।
# মৃত্যুঃ
তিনি অসুস্থ হয় Belmont শহরে ৯৪ বছর বয়সে ১৩ ডিসেম্বর ২০০৯ সালে মারা যান। Belmont শহরটি আমেরিকার Massachusetts অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত।
তথ্যসূত্রঃ
www.wikipedia.org
www.investopedia.com
www.britanncia.com
ধন্যবাদ
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম
অর্থনীতির শিক্ষক
রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ।
Wikipedia Wikipedia is a free online encyclopedia, created and edited by volunteers around the world and hosted by the Wikimedia Foundation.
আধুনিক অর্থনীতির জনকঃ পর্ব- ১
তারিখঃ ১৯/০৭/২০২১
আধুনিক অর্থনীতির জনক বা Founder of Modern Economics হচ্ছেন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ পল অ্যান্থনি স্যামুয়েলসন (Paul Anthony Samuelson)। তিনি লেখক, গবেষক, উপদেষ্টা, পরামর্শক ও শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
জন্ম ও পারিবারিক জীবনঃ
তিনি আমেরিকার Indiana অঙ্গরাজ্যের (আমেরিকার ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ইন্ডিয়ানা একটি) Gary শহরে ১৫ মে ১৯১৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম Frank Samuelson এবং মায়ের নাম Ella nee lipton. তিনি ১ম বিয়ে করেন তার সহপাঠী Marion Crawford কে ১৯৩৮ সালে যেই সম্পর্ক ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত বহাল ছিল। এরপর Risha Eckaus কে বিয়ে করেন ১৯৮১ সালে এবং স্যামুয়েলসনের আমৃত্যু অর্থাৎ ২০০৯ সাল পর্যন্ত তারা একসাথে বসবাস করেন। তিনি ৬টি সন্তানের জনক ছিলেন যার মধ্যে শেষ ৩টি ছিল ট্রিপল ছেলে।
শিক্ষা জীবনঃ
তিনি আমেরিকার ইলিনয়স (Illinois) অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত শিকাগো শহরে Chicago ১৯২৩ সালে চলে আসেন এবং Hyde Park High School যার বর্তমান নাম Hyde Park Career Academy হতে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি The University of Chicago তে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৩৫ সালে Bachelor of Arts ডিগ্রি ও ১৯৩৬ সালে Master of Arts ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
এরপর তিনি Massachusetts অঙ্গরাজ্যের Cambridge শহরে অবস্থিত Harvard University হতে ১৯৪১ সালে PhD বা Doctor of Philosophy শেষ করেন।
তার PhD থিসিসের শিরোনাম ছিল Foundation of Analytical Economics যা বই আকারে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস হতে প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। এই বইটির নাম ছিল Foundations of Economic Analysis.
কর্মজীবনঃ
১৯৪০ সালে তিনি Massachusetts Institute of Technology (MIT) তে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। ১৯৪৪ সালে সহযোগী অধ্যাপক এবং ১৯৪৭ সালে প্রফেসর হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৬২ সালে MIT তে তিনি Institute Professor এর মর্যাদা লাভ করেন। এটি MIT তে সর্বোচ্চ অনুষদ সম্মান হিসেবে বিবেচিত। তিনি আমৃত্যু সেখানে কর্মরত ছিলেন।
এছাড়া তিনি আমেরিকার ৩৫ তম প্রসিডেন্ট John F. Kennedy এবং ৩৬ তম প্রসিডেন্ট Lyndon B. Johnson এর Economic adviser হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়াও তিনি United States Treasury, The Bureau of the Budget এবং Council of economic Advisers এর পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আগামিতে পর্ব-২ নিয়ে আলোচনা করবো।
অর্থনীতির জনকঃ পর্ব-৩
তারিখঃ ২০/০৬/২০২১
বি.দ্র. আজকের লেখাটি অর্থনীতির সকল পর্যায়ের শিক্ষার্থী এবং ভাইভা ক্যান্ডিডেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এডাম স্মিথের সর্বশ্রেষ্ঠ বইয়ের নাম Inquiry into the Nature and Causes of the Wealth of Nations.
বইটিতে অর্থনীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবতারণা করার জন্য তাকে অর্থনীতির জনক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যেসব তত্ত্ব/মতবাদের জন্য তিনি চিরস্বরনীয় হয়ে আছেন তার মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব এখন সংক্ষেপে আলোচনা করব।
১। সম্পদের বিজ্ঞানঃ অর্থনীতিকে তিনি সম্পদের বিজ্ঞান বলেছেন। অর্থাৎ একটি দেশের সম্পদ সংগ্রহ বা আহরণ কিভাবে বাড়ে/কমে অথবা সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার কিভাবে করা যায় ইত্যাদি বিষয়কে তিনি বিজ্ঞানের সাথে তুলনা করেছেন। বিজ্ঞানে যেমন কোনো বিষয়কে সঠিক ও সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। হতে পারে/ নাও হতে পারে /সম্ভাবনা আছে এসব কথা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মূল্যহীন। ঠিক তেমনি অর্থনীতিকেও তিনি সম্পদের বিজ্ঞান বলেছেন।
২। লেসে ফেয়ার( ফরাসি শব্দঃ Laissez- faire):
এটি এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে কোনরকম সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়াই ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করবে। পরবর্তীতে এই তত্ত্বটি Mercantilism বা বাণিজ্যবাদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ফরাসি প্রবাদে Laissez- faire এর অর্থ " করতে দাও, যেতে দাও, পাশ কাটতে দাও"।
৩। মুক্ত বাজারঃ
প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী বিদেশি বাণিজ্যকে সন্দেহের চোখে দেখা হত। অর্থাৎ বিদেশের সাথে বাণিজ্য বেশি পরিমাণ না করে কম করা উচিত। কিন্তু এডাম স্মিথ বলেন- সরকারি হস্তক্ষেপ থাকবেনা কিন্তু মুক্ত বাজার বা খোলা অর্থনীতি বা আন্তর্জাতিক অর্থনীতি দেশের জন্য মঙ্গলজনক।
৪। অদৃশ্য হাত ( Invisible hand):
প্রত্যেক ব্যক্তি তার মূলধনকে এমনভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে যেন মুনাফা সর্বোচ্চ হয়। মুনাফা সর্বোচ্চকরনের কাজটি কোনো ব্যক্তিই জনস্বার্থে করেনা নিজের স্বার্থেই করে।
যেমনঃ গমের যোগান কমে গেলে দাম বেড়ে যায়। বেশি দাম পাওয়ার আশায়( নিজ স্বার্থ) উৎপাদনকারী গম বেশি উৎপাদন করে। এতে দাম আবার কমে আসবে। এই যে দাম কমে যায়, এটি জনস্বার্থ। উৎপাদনকারী কারও চাপে উৎপাদন বাড়ায় না। নিজ স্বার্থে দাম বেশি পাওয়ার আশায় উৎপাদন বাড়ায়। যেন কেউ তাকে অদৃশ্যভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এটিই অদৃশ্য হাত।
অদৃশ্য হাতের কয়েকটি নাম আছে। যেমনঃ দাম ব্যবস্থা, ঝুঁকি ও পুরস্কার, যোগান ও চাহিদা, মার্কেট মেকানিজম, বাজারের শক্তি ইত্যাদি।
সহজ ভাষায় বলা যায়, অর্থনৈতিক অভিনেতারা ( উৎপাদনকারী ও ভোক্তা) স্বেচ্ছায় যে ক্রিয়াকলাপ করে তার যোগফল হচ্ছে অদৃশ্য হাত।
৫। শ্রম বিভাজন/ বিশেষায়নঃ
তিনি শ্রম বিভাজনের পক্ষে মতামত দিয়েছেন। তাঁর মতে, বিশেষায়িত ব্যক্তি ( যে ব্যক্তি যে কাজের জন্য উপযুক্ত) দ্বারা কাজ করালে উৎপাদন সর্বোচ্চ হয় এবং ঝুঁকি কমে।
৬। জিডিপি(GDP):
অর্থনীতিতে তিনি প্রথম জিডিপি বিষয়ে আলোকপাত করেন। তাঁর মতে, একটি দেশে স্বর্ণ, রৌপ্য এগুলোর মজুদ/আমানত দ্বারা সেই দেশের জাতীয় সম্পদ পরিমাপ করা হবে এবং যেই দেশের মজুদ যত বেশি হবে সেই দেশ তত বেশে সম্পদশালী/ শক্তিশালী হবে।
এখানেই শেষ করছি। এডাম স্মিথের আরও অনেক বিষয় আছে তবে যে কয়েকটি বিষয় আলোচনা করলাম তা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীর জন্য যথেষ্ট।
অর্থনীতির জনকঃ পর্ব-২
তারিখঃ ১৮/০৬/২০২১
এডাম স্মিথ তার সবচেয়ে সমাদৃত/বিখ্যাত বই Wealth of Nations পুরো নাম (Inquiry into the Nature and Causes of the Wealth of Nations) লিখতে শুরু করেন ১৭৬৭ সালে এবং বইটি প্রকাশ করেন ১৭৭৬ সালে।
# # # শেষ জীবনঃ
তাঁর মা মার্গারেট ডগলাস ১৭৮৮ সালে মারা যান। এতে তিনি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন কারণ তিনি অবিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্য বলতে আর কেউ ছিলনা।
এডাম স্মিথ তার বাড়ি Adam Smith's Panmure House তে ১৭ জুলাই ১৭৯০ সালে মারা যায়। তাঁকে Canongate Kirkyard এ সমাহিত করা হয়।
তিনি ১৭৮৭ থেকে ১৭৮৯ সাল পর্যন্ত এই দুই বছর তিনি University of Glasgow তে Rector হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নামানুসারে একটি ভবন, একটি লাইব্রেরি, একটি চেয়ার এবং একটি রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নামকরণ করা হয়েছে।
তিনি মূলত দার্শনিক কিন্তু বিখ্যাত বই Wealth of Nations এর কারণে পুরো পৃথিবীতে অর্থনীতির জনক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
চলবে ( পরের পর্বে অর্থনীতিতে তাঁর অবদান নিয়ে লিখার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ)।
অর্থনীতির জনকঃ পর্ব-১
তারিখঃ ১৬/০৬/২০২১
অর্থনীতির ও আধুনিক অর্থশাস্ত্রের জনক এডাম স্মিথ ( Adam smith)। তিনি লেখক, শিক্ষক, দার্শনিক ও অর্থনীতিবিদ ছিলেন।
# # # জন্ম, পবিবার ও শৈশবকাল(১৭২৩-১৭২৯)ঃ
তিনি স্কটল্যান্ড দেশের কিরক্যাল্ডি শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর সঠিক জন্ম তারিখ জানা যায়নি তবে ৫ জুন ১৭২৩ সালে কিরক্যাল্ডি শহরের চার্চ অব স্কটল্যান্ড নামক চার্চে তাঁর ধর্মশিক্ষা শুরু হয়। আর এই সালকেই (৫ জুন ১৭২৩) জন্ম তারিখ মনে করা হয়।
তাঁর বাবার নামও ছিল এডাম স্মিথ। তিনি পেশায় একজন উকিল এবং রাজস্ব নিয়ন্ত্রক ছিলেন।
তাঁর মা ছিলেন জমিদার রবার্ট ডগলাসের কন্যা মার্গারেট ডগলাস।
এডাম স্মিথের বাবা মাত্র ২ মাস বয়সে মারা যান এবং তিনি মায়ের সংস্পর্শেই বড় হতে থাকেন। ৪ বছর বয়সে তিনি হারিয়ে যান/তাঁকে অপহরণ করা হয়। তাঁর চাচার সহায়তায় বনের মধ্যে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়। পড়ালেখা ও উচ্চ আকাংক্ষার স্বপ্ন তিনি পেয়েছিলেন মায়ের নিকট থেকে।
# # # প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা জীবন ( ১৭২৯-১৭৪৬)ঃ
জন্মস্থান কিরক্যাল্ডি শহরের Kirkcaldy High School
এ পড়ালেখা করেন ১৭২৯ থেকে ১৭৩৭ সাল পর্যন্ত।
এরপর ১৪ বছর বয়সে ১৭৩৭ সালে স্কটল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয় University of Glasgow তে ভর্তি হোন। সেখানে তিনি Moral Philosophy বিষয়ের বিখ্যাত প্রফেসর Hutcheson এর অধিনে দর্শন শাস্ত্রে ১৭৪০ সালে গ্রাজুয়েশন শেষ করেন।
তিনি ১৭৪০ সালে শিক্ষাবৃত্তি লাভ করেন এবং ঘোড়ার পিঠে চড়ে ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। ইংল্যান্ডে তিনি Balliol College at University of Oxford থেকে classical and contemporary Philosophy বিষয়ে ১৭৪৬ সালে পোস্ট গ্রাজুয়েশন শেষ করেন।
# # # কর্মজীবন/শিক্ষকতা জীবন(১৭৪৬-১৭৬৪)ঃ
ইংল্যান্ড থেকে স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবার্গে ফিরে এসে তিনি চাকরি খুঁজতে থাকেন। তারপর The University of Edinburgh তে Rhetoric, Belles lettres and Jurisprudence বিষয়ের উপর সিরিজ পাবলিক লেকচার দেওয়ার সুযোগ পেলেন।
লেকচারগুলি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও তথ্যবহুল হওয়ায় তার পরিচিতি ও সুনাম বৃদ্ধি পেতে থাকে।
তারপর ২৭ বছর বয়সে ১৭৫১ সালে University of Glasgow তে দর্শনের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পেলেন। একই বছর Professor of Moral Philosophy হিসেবে নিযুক্ত হোন এবং ১৭৬৪ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানেই অধ্যাপনা/শিক্ষকতা করেন।
১৭৫৯ সালে তাঁর ১ম বই The Theory of Moral Sentiments প্রকাশিত হয়। এই বইয়ের মাধ্যমে তিনি ইংল্যান্ড ও আশেপাশের পুরো অঞ্চলে খ্যাতিলাভ করেন।
# # # ভ্রমণ ও কর্মজীবন (১৭৬৪-১৭৬৭)ঃ
সেই অর্জিত খ্যাতির জন্য ১৭৬৪ সালে চার্লস টাউনশ্যান্ড তাকে প্রস্তাব দেন সৎসন্তান (Henry scott, যিনি Young Duke of Buccleuch) এর গৃহশিক্ষক হওয়ার জন্য এবং তিনি তা গ্রহণ করে স্কটল্যান্ড থেকে ফ্রান্সে চলে আসেন।
এসময় তিনি পুরো ইউরোপ ভ্রমণ করেন এবং বিখ্যাত বিখ্যাত মনীষীদের সংস্পর্শে আসেন। তাদের মধ্যে Rousseau, Voltaire, Morellet Turgot, Quesnay, Benjamin Franklin প্রভৃতি ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
দুর্ভাগ্যবশত Duke এর ছোট ভাই মারা গেলে তিনি ফ্রান্স থেকে লন্ডনে/ইংল্যান্ডে চার্লস টাউনশ্যান্ডের নিকট চলে আসেন এবং সেখানে রাজস্ব বিভাগের উপদেষ্টা হিসেবে কয়েক মাস দায়িত্ব পালন করেন।
তারপর তিনি ১৭৬৭ সালে এডিনবার্গে ( স্কটল্যান্ডের রাজধানী) মায়ের কাছে ফিরে আসেন এবং বিখ্যাত বই Wealth of Nations লিখতে শুরু করেন।
আগামীতে পর্ব-২ নিয়ে লিখব, ইনশাআল্লাহ।
The open sky of Economics Send a message to learn more
টাকাঃ আমিও চাই
তারিখঃ ০৮/০৬/২০২১
জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য, পোশাক, বাসস্থানসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দরকার হয়। বর্তমান পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় ভোগ-বিলাসিতা মানুষের জীবনযাত্রার পরিমাপক হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের চাওয়ার মাত্রা আকাশের উচ্চতাকেও হার মানিয়েছে। এ জন্য টাকা চাই, টাকা চাই, বেশি বেশি টাকা চাই। আর এখানেই আছে অর্থনীতি। যদি পৃথিবীর মানুষেররা টাকা, সম্পদ, বাড়ি, গাড়ি, খাদ্য, পোশাক ইত্যাদি না চাইতো তাহলে পৃথিবীতে অর্থনীতি নামে কোনো বিষয় থাকতো না। সুতরাং পৃথিবীর জন্ম থেকেই অর্থনীতি ছিল, এখনও আছে এবং অনন্ত ভবিষ্যতেও থাকবে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Rajshahi
6000