15/03/2023
বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) কর্তৃক আয়োজিত বিজ্ঞান ও শিল্প প্রযুক্তি মেলায় জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ 🏆🏆🏆।
দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ অংকন👑, নূর মাহমুদ উল আলম তাসিন👑, মো: নিয়ামুল মোর্শেদ নিয়ন👑
09/07/2022
NGDC Science Club এর পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই ইদের শুভেচ্ছা। আপনার ইদ সুন্দর এবং শুভ হোক৷ সকলের ত্যাগ এবং প্রার্থনা আল্লাহ কবুল করবেন এই কামনা করছি।
সকলে পরিষ্কার-পরিচ্ছনতা বজায় রাখবেন এবং রক্ত ও আবর্জনা নির্ধারিত স্থানে রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি ।
ইদ মুবারাক ❤️
07/08/2021
0 x ∞ = ?
কিছুক্ষন আগে দেখেছি একটা যুক্তি যে শুন্যকে ইনফিনিটি দিয়ে গুন করলে শুন্য হবে । যুক্তিটা এমন যে কোন কিছু গুন করা অর্থ হল গুনক সংখ্যাক মুল সংখ্যা যোগ করা । তাহলে অসীম কে ০ বার যোগ করা হচ্ছে। মানে একবার ও যোগ করা হয়নি। তাহলে শুন্যই তো হবে তাই না ?
প্রথম কথা ১০০% সত্য।
4 x 3 = 12
4 + 4 + 4 = 12
তাহলে
কি আসলেই ০ হবে ?
না শুন্য হবে না। কারন আমাদের প্রথমে মাথায় রাখতে হবে অসীম কোন সংখ্যা না । এটি একটি ধারনা। অসীম কে কখনোই ধরা যায় না। ভৌত জগতে কোন কিছুই অসীম নয়। অসীমের কোন মান নাই। তাহলে কি হবে উত্তর ?
আমরা জানি ,
n/0 = ∞
এখন,
∞ x 0
= (n/0) x 0
= (n x 0)/0
= 0 / 0
এখন আমরা জানি যে 0/0 একটা অনির্ণেয় আকার। এর মান কি হবে কেউ জানে না। । তাই ,
0 x ∞ = we don't know
08/06/2021
Day - 5
নক্ষত্রের জীবনচক্র
আচ্ছা কখনো মনে হয় নি বিজ্ঞানে বার বার ই তারা না বলে নক্ষত্র কেন বলা হয়?
আসলে উত্তর আমার জানা নেই আজকের লেখা অনেক বিস্তৃত বলে একটা উদ্ভট প্রশ্ন করেই আহুরু করলাম। তারা বললে দোষ নাই কোন।
⭕ নক্ষত্রের জীবনচক্র জানার জন্য আমাদের একদম শুরু থেকে শুরু করতে হবে।
আমরা গত পর্বের আগের পর্বে নেবুলা বা নিহারিকা নিয়ে জেনেছিলাম। নক্ষত্র তৈরি হয় নিহারিকা থেকেই। নিহারিকা গ্যাস এর জোগান দেয় নক্ষত্র তৈরি হওয়ার জন্য। মহাকর্ষ বলের প্রভাবে নিহারিকা সংকুচিত হয়। গ্যাস গুলো কাছে আসতে থাকে। যত কাছে আসে তত তাপমাত্রা বাড়ে গ্যাস অনুর গতি বাড়ে এবং একে অন্যের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। যার ফলে একসময় ফিউশন বিক্রীয়ার সৃষ্টি হয়। ফিউসনের ফলে তৈরি হয় তাপ আর এখান থেকেই হয় নক্ষত্র।
🔴 এখন এইভাবে তৈরি হওয়া নক্ষত্রকে বলা হয় মেইন সিকুয়েন্স স্টার। আমাদের সূর্য এরকম একটি নক্ষত্র। মেইন সিকুয়েন্স স্টার গুলো কয়েক বিলিয়ন বছর পর্যন্ত ভারসাম্যে থাকে।
কিসের ভারসাম্য?
🟢 মহাকর্ষ ক্রমাগত নক্ষত্রের সকল কণাকে কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করতে থাকে এদিকে ফিউশন এর বাইরের দিকে দেওয়া শক্তির জন্য দুটি সমান ও বিপরিতগামী বল তৈরি হয়। এর কারনে নক্ষত্র গুলোতে ভারসাম্য থাকে।
তিলে তিলে এর হাইড্রজেন এক সময় শেষ হয় এবং এটি মহাকর্ষের প্রভাবে সংকুচিত হতে থাকে। সংকুচিত হতে হতে আবার একটা সময় ওর ভেতরে থাকা মৌল গুলো ফিউশন শুরু করে এবং শুরু হয় তার দ্বিতীয় দফার জীবন।
🔘🔘 একটা নক্ষত্র এই দ্বিতীয় দফায় কি হবে তা নির্ভর করে এটি তার প্রথম অবস্থায় কেমন ছিল তার উপর।
⭕ যদি এটি ক্ষুদ্র নক্ষত্র হয়ে থাকে তবে এটা পরিনত হবে রেড জায়েন্ট এ। যেমন আমাদের সূর্য হবে।
⭕ যদি বড় হয়ে থাকে তাহলে হবে রেড সুপার জায়েন্ট। এগুলো মেইন সিকুয়েন্স স্টার থেকে কয়েক মিলিয়ন গুন বড় হয়।
🔵 যদি রেড জায়েন্ট হয় কোন নক্ষত্র তাহলে এক সময়বের জ্বালানী আবার শেষ হয়ে যায় এবং সে হোয়াইট ডর্ফ এ পরিনত হয়। আর তারপর ধীরে ধীরে নিজের আলো ফুরিয়ে ব্ল্যাক ডর্ফ বা মৃত নক্ষত্রে পরিনত হয়। ব্ল্যাক ডর্ফ কিন্তু ব্ল্যাক হোল না। ব্ল্যাক ডর্ফ নিয়ে সামনে লিখব।
⭕ যদি হয় রেড সুপার জায়েন্ট তাহলে সে তার জীবনকালে আরো কয়েক টি ধাপ পার করে। সংকোচন ও প্রসারণ হয় ঘন ঘন । লোহা বা আয়রন তৈরি হওয়া পর্যন্ত এসব চলতে থাকে। তারপর আবার আকারের উপর ভিত্তি করে দুই রকম হতে পারে।
🟣 যদি তুলনায় ছোট হয় তাহলে সেখান থেকে এবার সংকোচনে নিজের নিউক্লিয়াস ধরে রাখতে পারে না এবং ইলেক্ট্রন গুলো প্রোটনে নিক্ষেপিত হয়ে নিউট্রন তৈরি করে আর তৈরি হয় নিউট্রন স্টার।
🔵 যদি আসলেই খুব বেশি বড় হয়ে থাকে তাহলে এই স্টার গুলো শেষ বিস্ফোরণে বা সুপারনোভার পর ব্ল্যাক হোল এ পরিনত হয়।
⭕ ব্ল্যাক হোল হোক বা নিউট্রন স্টার গ্যাস ক্লাউড আবারো সুপারনোভা থেকে ছটিয়েই যায়। যার কারনেই আবার একটি নক্ষয়্র তৈরি হওয়ার সুযোগ এর সৃষ্টি হয়।
🟢 আমাদের সূর্য একটি দ্বিতীয় প্রজন্মের নক্ষত্র। অর্থ্যাত পূর্ববর্তি একটু সুপারনোভার গ্যাস একত্র হয়েই এর সৃষ্টি হয়েছে।
লেখকঃ আদিব সাখাওয়াত
07/05/2021
প্রকৃতি সবসময়ই মানুষের কাছে রহস্যময়।
এই বিশ্ব ও প্রকৃতি বিজ্ঞানীদের কাছে দুইভাগে বিভক্ত। যথাঃ ১. পদার্থ ও ২. শক্তি।
আর এই পদার্থ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের মতবাদ বা মডেল দেয়। এগুলোই হলো পরমাণু মডেল।
পরমাণু মডেলের মধ্যে রয়েছেঃ
১. থমসন পরমাণু মডেল
২. রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল
৩. বোরের পরমাণু মডেল সহ আরো অনেক মডেল।
✪আজকে আমাদের আলোচনার টপিক হলো বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড এর দেওয়া " রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল। "
➤ রাদারফোর্ড ১৯১১ সালে থমসনের "প্লাম পুডিং" মডেলের নিশ্চিত প্রমাণ লাভের উদ্দেশ্যে আলফা কণা পরীক্ষার মাধ্যমে পরমাণু মডেল দেন।
➤ এই পরমাণু মডেলের মূল ভিত্তি হলোঃ " আলফা কণা পরীক্ষা"
পরমাণুঃ মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে মৌলের গুণাগুণ থাকে এবং যা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ক্ষুদ্রতম একক হিসেবে অংশ গ্রহন করে তাকে পরমাণু বলে।
পাম পুডিং মডেল ( থমসন পাম পুডিং মডেল নামে পরিচিত) হলো এটমের একটি ঐতিহাসিক বৈজ্ঞানিক পরমাণু মডেল। যেখানে নিরবিচ্ছিন্নভাবে পজিটিভ চার্জ ও বিচ্ছিন্ন ভাবে নেগেটিভ চার্জ থাকে।
সিদ্ধান্তঃ
১. পরমাণু চার্জ নিরপেক্ষ
২. নিরবিচ্ছিন্নভাবে পজিটিভ চার্জ থাকে
৩. বিচ্ছিন্ন ভাবে নেগেটিভ চার্জ থাকে
৪. পরমাণুর ব্যাসার্ধ 10^-10m
প্লাম পুডিং মডেলের সীমাবদ্ধতাঃ
১. পরমাণুর গঠন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই।
২. ইলেকট্রনের গতিপথ ব্যাখ্যা করা নেই
৩. নিউক্লিয়াস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া নেই
৪. বর্ণালির ধারণা দেওয়া নেই।
রাদারফোর্ডের পরীক্ষার বর্ণনাঃ
বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড প্রচণ্ড শক্তি সম্পন্ন দ্বিধনাত্মক চার্জযুক্ত আলফা-কণা সমূহকে একটি পাতলা সোনার পাতের ( ০.০০০৪ সে.মি) উপর টার্গেট বা নিক্ষেপ করেন।
সোনার পাতের চারদিকে ঘিরে জিংক সালফাইড(ZnS) আবরণযুক্ত একটি গোলাকার পর্দা রাখেন। ZnS আবরণীর উপর পতিত আলফা-কণা আলোকচ্ছটা সৃষ্টি করে
রাদারফোর্ডের পরীক্ষায় ব্যবহৃত উপকরণঃ
১. তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে নির্গত আলফা কণা
কারণ -- প্লাম পুডিং মডেলে ইলেকট্রন আবিষ্কৃত হওয়ার পর বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর আর কোনো কণিকা আছে কিনা তা জানার জন্য ঋনাত্নক ইলেকট্রনের তুলনায় কম ভারী ধনাত্মক কোনো কণার ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। এজন্য তিনি দ্বি ধনাত্মক চার্জযুক্ত আলফা কণা( He^2বক্সে রাখা হয়েছিলো।
কারণ Pb আলফা রশ্মি শোষণ করে
২. পাতলা সোনার পাত (০.০০০৪ সে.মি পুরু)
কারণঃ i.সোনার পাত নিষ্ক্রিয়
ii. সোনাকে অত্যন্ত পাতলা করা যায়।
iii. এটি অধিকতর ভারী ও
iv. সোনায় পরমাণুর সংখ্যা বেশি
৩. জিংক সালফাইড( ZnS) আবরণযুক্ত পর্দা
কারণঃ ZnS অনুপ্রভা সৃষ্টিকারী পদার্থ। আর অনুপ্রভা সৃষ্টিকারী পদার্থ বিভিন্ন শক্তির ফোটন শোষণ করে পরে তা দৃশ্যমান আলোর পরিসরে বিকিরণ করে।
রাদারফোর্ডের পরীক্ষার বর্ণনাঃ
বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড প্রচণ্ড শক্তি সম্পন্ন দ্বিধনাত্মক চার্জযুক্ত আলফা-কণা সমূহকে একটি পাতলা সোনার পাতের ( ০.০০০৪ সে.মি) উপর টার্গেট বা নিক্ষেপ করেন।
সোনার পাতের চারদিকে ঘিরে জিংক সালফাইড(ZnS) আবরণযুক্ত একটি গোলাকার পর্দা রাখেন। ZnS আবরণীর উপর পতিত আলফা-কণা আলোকচ্ছটা সৃষ্টি করে
https://youtu.be/IQ1h_gdVlHg
পর্যবেক্ষণঃ
তিনি লক্ষ্য করেন যে,
১. প্রায় ৯৯% আলফা কণাই এ সোনার পাত ভেদ করে সোজাসুজি চলে যায় এবং ZnS পর্দাকে আলোকচ্ছটায় দীপ্তিমান বা আলোকিত করে।
২. তবে মাত্র কয়েকটি আলফা কণা তাদের গতি পথ থেকে বেঁকে পেছন দিকে চলে যায়।
৩. খুব কম সংখ্যক আলফা কণা ( প্রায় ২০০০০ এর মধ্যে ১টি) বিপরীত দিকে ফিরে আসে।
রাদারফোর্ড পরমাণু মডেলের সিদ্ধান্ত সমূহঃ
১. পরমাণুর অধিকাংশ স্থানই ফাঁকা। যেহেতু আলফা কণার তুলনায় ইলেকট্রনের ভর অতি নগণ্য, সেহেতু এই ফাঁকা স্থানে ইলেকট্রন থাকতে পারে। তবে এরা আলফা কণার গতিপথের কোন পরিবর্তন ঘটাতে পারে না।
২. যেহেতু খুব কমসংখ্যক আলফা কণা বিপরীত দিকে ফিরে আসে, এতে প্রমাণিত হয় ঐ আলফা কণা সোজাসুজি এর অপেক্ষা বহু ভারী কোনো কিছুর সাথে সংঘর্ষে পতিত হয় বা বিকর্ষিত হয়।
অর্থাৎ পরমাণুর কেন্দ্রে পরমাণুর প্রায় সমগ্র ভর( পরমাণুর ভরের ৯৯.৯৭% ভর) অতি ক্ষুদ্র স্থান দখল করে আছে।
৩. যেহেতু আলফা কণাসমূহ ধনাত্মক চার্জযুক্ত এবং এক্ষেত্রে বিকর্ষিত হয়, সেহেতু পরমাণুর কেন্দ্রটিও ধনাত্মক চার্জযুক্ত হবে। তিনি ভারী ও ধনাত্মক চার্জযুক্ত পরমাণুর এ কেন্দ্রকে নিউক্লিয়াস নামকরণ করেন।
৪. আলফা কণার গতিপথের পরিবর্তন হিসাব করে দেখান যে, পরমাণুর নিউক্লিয়াসে ধনাত্মক চার্জের পরিমাণ মৌলের পারমানবিক সংখ্যার সমান। [ রাদারফোর্ড জানতেন আলফা কণার ভর ইলেকট্রন (e ) কণার ভরের চেয়ে ৭০০০ গুন বেশি এবং এটি দ্বিধনাত্মক চার্জযুক্ত।]
৫. পরমাণুর আকার ( পরমাণুর ব্যাস 1*10^-8 সে.মি. বা ০.১ নেনো মিটার) এর তুলনায় নিউক্লিয়াসের আকার ( ব্যাস 1*10^-12 ~ 1* 10^-13সে.মি) খুবই ছোট। এ আকারগত সম্পর্ক হলো পরমাণুটি এর নিউক্লিয়াস থেকে ১০ হাজার থেকে ১ লক্ষ গুণ বড়
রাদারফোর্ড পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতাঃ
রাদারফোর্ড পরমাণু মডেল এর প্রধান দিক যেমন পরমাণুর একটি নিউক্লিয়াস ও নিউক্লিয়াস বহির্ভূত ইলেকট্রন অঞ্চল আছে - তা আজ সর্বজনস্বীকৃত ও পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু এটির প্রধান সীমাবদ্ধতা হচ্ছে নিম্নরূপঃ
১. সৌরমন্ডলের গ্রহ সমুহ সামগ্রিক ভাবে চার্জবিহীন, অথচ পরমাণুতে আবর্তনশীল ইলেকট্রন সমূহ ঋনাত্মক চার্জযুক্ত এবং পরস্পরকে স্থির বৈদ্যুতিক বল দ্বারা বিকর্ষন করে। অপরদিকে গ্রহ সমূহ মহাকর্ষ বল দ্বারা পরস্পরকে আকর্ষণ করে। সুতরাং গ্রহগুলোর সাথে ইলেকট্রনের তুলনা সঠিক হয়নি।
২. ম্যাক্সওয়েলের আলো সম্পর্কীয় তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বানুসারে কোনো চার্জযুক্ত বস্তু বা কণা কোনো বৃত্তাকার পথে ঘুরলে তা ক্রমাগতভাবে শক্তি বিকিরণ করবে এবং তার আবর্তনচক্রও ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। সুতরাং এক্ষেত্রে কক্ষপথে আবর্তনশীল ঋণাত্নক চার্জযুক্ত ইলেকট্রনসমূহ ক্রমশ শক্তি হারাতে হারাতে নিউক্লিয়াসে পতিত হবে।
অর্থাৎ রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল
রেফারেন্সঃ উইকিপিডিয়া,
Rutherford Experiment
Rutherford ExperimentMaharashtra Board Syllabus Standard - IX
17/04/2021
ইউনানি চিকিতসা
ইউনানি চিকিতসা কে আরবীয় চিকিতসা বা ইউনানি তিব্ব বলা হয়ে থাকে৷ মুলত দক্ষিন এশিয়ার দেশ গুলোতেই ইউনানির চর্চা সাধারনত হয়ে থাকে। তবে ইউনানি মোটেই এশিয়া বা আরব দেশিয় নয়। এর গোড়া গ্রীক দেশের দার্শনিক ও চিকিতসক হিপ্পোক্রেটাস এবং গ্যালেন এর হাতে৷ সাধারনত ইউনানি ডাক্তার দের হাকিম বলা হয়ে থাকে৷
আরব খিলাফতে ট্রান্সলেশন মুভমেন্ট এর দৌলতে আভিসিনা এসব গ্রীক দার্শনিক দের বই পড়ার সূযোগ পান৷ এবং এই সময়েই কিছু বাস্তব জ্ঞান নিজের দর্শন এবং প্রচলিত বিশ্বাস কে কাজে লাগিয়ে পূণঃউদ্ভাবন করেন এই চিকিতসা এর।
ইউনানি হাকিম দের মতে মানব শরীরের ৭ টি মেজর প্রিন্সিপাল আছে। একে একত্রে আল উমর আল তাবিয়াহ বলা হয়।
১। আরকানঃ উপাদান কে আরকান বলা হয় যেমন রক্ত মাংস শিরা এসব গুলো হল আরকান।
২। মিযাযঃ এটা মেজাজ বুঝায়। অর্থ্যাত মনের অবস্থা।
৩। আখলাতঃ মেজাজের উপর প্রভাব ফেলা কোন উপাদান৷ যেমন মনে করা হয় ধাতু মেজাজের উপর প্রভাব ফেলে।
৪। আজাঃ অঙ্গ, প্রত্যঙ্গ। হাত পা মাথা বুক পেট ইত্যাদি।
৫। আরওয়াহঃ আত্মা।
৬। কুউয়াঃ ক্ষমতা/ শক্তি ( পাওয়ার)
৭। আফফালঃ বিভিন্ন উমর আল তাবিয়াহ এর মাঝে সম্পর্ক তৈরি কারি ফাংশন৷
ইউনিনানি চিকিতসকেরা মনে করত, তাবিয়াত/ তাবিয়াহ হল একমাত্র কারন কোন ব্যাক্তির অসুস্থ হওয়ার। আবার সুস্থ হওয়ার। বেশিরভাগ সময় তাবিয়াহ একাই ব্যবস্থা গ্রহন করে আর তাই কোন চিকিতসা প্রয়োজন হয় না।
শরীর খারাপের এই ৭ টি মেজর ফ্যাক্টরের উপর প্রভাব বিস্তারকারি প্রাকৃতিক উপাদান বা ব্যবহার হল ৬ টি৷ এদের বলা হয় আসবাব এ সিত্তাহ জারুরিয়াহ।
১। হাওয়াঃ মানুষ কোন বাতাসে আছে সেটা তার শরীরের উপর প্রভাব ফেলে। এজন্য অসুস্থ হলে ইউনানি চিকিতসকেরা প্রায় ই হাওয়া বদল করতে বলেন৷ অর্থ্যাত কোথাও ঘুরতে যেতে বলেন।
২। মাকুল উও মাশরুবঃ খাবার এবং পানি কি হচ্ছে এর উপরে অসুস্থতা নির্ভর করে।
৩।হারকাত উও সাকুন ইয়ে জিসমিয়াহঃ ব্যায়াম এবং খেলা ধুলা শরীরের উন্নিতি বা অবনতি তে ভূমিকা রাখে।
৪। হারকাত এ সাকুন নাফসানিয়াহঃ মানসিক কাজকর্ম। বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাভাবনা, জ্ঞান অর্জন এসব সাস্থ্যে ভূমিকা রাখে।
৫। নাউম উও ইয়াকযাহঃ ঘুম একটি বড় নিয়ামক সাস্থ্যের।
৬। ইহতেবাস উও ইস্তিফরাগঃ মলমুত্র ত্যাগ এ অনিয়ম ও সাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে।
ইউনানি চিকিতসায় অসুখ হলে কী করা হয়?
এর ৩ ধরণের উপায় আছে।
১। ঔষধ দেওয়া।
২। হাওয়া ও খাদ্যাভাস বদল।
৩। ব্যায়াম ও শরীরচর্চা।
কখন কতটুকু কি করতে হবে তা হাকিম নির্ধারন করে দেন৷
তাহলে ইউনানি কি সফল চিকিতসা ব্যবস্থা?
এইটা সিদ্ধান্তে আসা বড় কঠিন কারন উপরে উল্লেখ করা প্রত্যেকটা বিষয় সত্যিই সাস্থ্যের জন্য প্রভাব ফেলে আর উপকারি বা অপকারি তা আধুনিক বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত কিন্তু আমরা এও জানি ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া, ক্যান্সার প্রভৃতি রোগের জন্য হাওয়া বদল বা খাবার বদল কিংবা শরীর চর্চায় লাভ হয় না৷।।
তাহলে ইউনানি ঔষুধ?.
ইউনানি ঔষুধ এর মুলত প্রধান উতস দুটি বই৷ ইবনে সিনা রচিত আল কানুন ফিত তিব্ব এবং হযরত মুহম্মদ (সা) থেকে আসা তিব্বে নববী৷ এবং দুটি বই এই ওষধ সংক্রান্ত অধ্যায় গুলো ঝাপসা৷ যেমন বেশ কিছু গাছ এর কথা আছে যা দিয়ে কি বোঝানো হয়েছে তা কেউ জানেই না৷ কিছু পরিমাপের একক আছে যা আজ বিলুপ্ত কাজেই পরিমাপ সম্পর্কে অনির্দিষ্টতা আছে। আবার এই ঔষধ গুলোর কিছু ক্যামিকেল কম্পাউন্ড কাজ করলেও কিছু ঔষধে বরং সাস্থ্যের উপর বিপরিত প্রভাব ফেলে।
এবারে আপনি বিবেচনা করবেন ইউনানি ঔষধ ব্যবহার করা যায় কিনা। যা তথ্য দেওয়া সম্ভব ছিল দেওয়া হল।
তথ্য সূত্রঃ
Britannica, The Editors of Encyclopaedia. "Unani medicine". Encyclopedia Britannica, 21 Jul. 2017, https://www.britannica.com/science/Unani-medicine. Accessed 16 April 2021.
BBC. A medicine horizon from Asia
©️ Adib Sakhawat