18/06/2021
আজকে আমরা জানব রসায়নের একজন বসকে নিয়ে। তাঁর নাম আবু আব্দুল্লাহ জাবির ইবনে হাইয়ান। ইউরোপীয় পন্ডিতগন তাঁর নাম বিকৃত করে জিবার (Geber) নামে লিপিবদ্ধ করেন। এক ওষুধ বিক্রেতা ও চিকিৎসকের ঘরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তখন কেই বা জানত এই মানুষটা একদিন রসায়নের জগতের একচ্ছত্র অধিপতি হবে !!
মূলত ইউরোসেন্ট্রিক ইতিহাসবিদরা সব সময় চেয়েছে নন ইউরোপিয়ান (বিশেষ করে মুসলিম) বিজ্ঞানীদের দারুন দারুন সব ইতিহাস গুলো গোপন করে রাখতে। (মুসলিম মস্তিষ্ক, পৃষ্ঠা ২২)
🔖তো যাইহোক আসল কথায় আসি। যারা এখন নবম দশম শ্রেণিতে পড়ছো তোমাদের রসায়ন বইয়ের একদম প্রথম অধ্যায়েই দেখবে লেখা আছে, " আলকেমিস্ট জাবির ইবনে হাইয়ান সর্বপ্রথম গবেষণাগারে রসায়নের গবেষণা করেন। তাই তাঁকে কখনো কখনো রসায়নের জনক বলা হয়ে থাকে। জাবির ইবনে হাইয়ান বিশ্বাস করতেন সকল পদার্থ মাটি, পানি, আগুন আর বাতাস দিয়ে তৈরি। তাই তিনি গবেষণা করলেও রসায়নের প্রকৃত রহস্যগুলো তার কাছে পরিষ্কার ছিল না। তবে রসায়নের প্রকৃত রহস্য উদ্ভাবন করে রসায়ন চর্চা প্রথম শুরু করেন অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়ে, রবার্ট বয়েল, স্যার ফ্রান্সিস বেকন এবং জন ডাল্টনসহ অন্যান্য বিজ্ঞানী। অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়েকে আধুনিক রসায়নের জনক বলা হয়।" (পৃষ্ঠা ৪, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি-২০২১)
অর্থাৎ জাবির ইবনে হাইয়ানের অসাধারণ কীর্তিগুলোকে তুলে ধরা তো হয়নি বরং কোনোমতে দায়সারা গোছে তাঁর নামটা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এমনটি হলে তো চলবে না। মুসলমান হিসেবে আমাদেরকে এসব জানতে হবে। তা না জানলে আমরা অনুপ্রেরণা পাবো কোথা থেকে ?
🔖সবার আগে আমাদের অ্যালকেমি সম্বন্ধে জানা প্রয়োজন ।এটি প্রাচীনকালে প্রকৃতির এক ধরনের অনুসন্ধান এবং জ্ঞানের দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক একটি শাখাকে বোঝায় যাতে জ্ঞানের সকল শাখার সকল উপাদানের সম্মিলনের মাধ্যমে একটিমাত্র উচ্চতর মহান শক্তির অস্তিত্বের ধারণা করা হতো। "অ্যালকেমিস্ট জাবির ইবনে হাইয়ানের মূল উদ্দেশ্যই ছিল Artificial Creation of Life! " (মুসলিম মস্তিষ্ক, পৃষ্ঠা ২৪)
🔖তিনি নানাভাবে তাঁর রাসায়নিক বিশ্লেষণ বা সংশ্লেষণের নামকরণ বা সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন। পাতন, উর্ধ্বপাতন, পরিস্রাবণ, দ্রবণ, কেলাসন, ভস্মীকরণ, গলন, বাষ্পীভবন ইত্যাদি রাসায়নিক সংশ্লেষণ বা অনুশীলন গবেষণার সময় পদার্থের কী কী রূপান্তর ঘটে এবং তার ফল কী দাঁড়ায়, তিনি তাও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন।
🔖চামড়া ও কাপড়ে রঙ করার প্রণালী, ইস্পাত প্রস্তুত করার পদ্ধতি, লোহা, ওয়াটার প্রুফ কাপড়ে বার্নিশ করার উপায়, সোনার পানি দিয়ে পুস্তকে নাম লেখার জন্য লোহার ব্যবহার ইত্যাদি আবিষ্কার করেন।
🔖তিনিই সর্ব প্রথম নাইট্রিক এসিড, সালফিউরিক এসিড আবিষ্কার করেন।আমরা জানি যে, নাইট্রিক এসিডে স্বর্ণ গলে না। নাইট্রিক এসিড ও হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মিশ্রনে স্বর্ণ গলানোর ফরমুলা তিনিই প্রথম আবিষ্কার করেন। নাইট্রিক এসিড ও হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মিশ্রনে স্বর্ণ গলানোর পদার্থটির নাম যে "Aqua Regia" এ নামটিও তাঁর প্রদত্ত। এই Aqua Regia ই একমাত্র তরল যা স্বর্ণকে গলাতে পারে।
🔖"Physical point of view থেকে দেখলে প্রশমন বিক্রিয়ার অম্ল-ক্ষারক তত্ত্ব মূলত আসে জাবির ইবনে হাইয়ান এর বিখ্যাত Sulphur-Mercury তত্ত্ব থেকে।" (মুসলিম মস্তিষ্ক, পৃষ্ঠা ২৫)
🔖তিনি বস্তু জগতকে প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত করেন। প্রথম ভাগে স্পিরিট, দ্বিতীয় ভাগে ধাতু এবং তৃতীয় ভাগে যৌগিক পদার্থ।
1.Spirits: যাদেরকে তাপে বাষ্পীভূত করা যায়।যেমনঃকর্পূর,আর্সেনিক এবং এমোনিয়াম ক্লোরাইড।
2.Metals: সোনা,রূপা,লেড,তামা এবং লোহা ইত্যাদি।
3.Compounds: যাদেরকে গুড়া করা যায়।
তাঁর এ আবিষ্কারের উপর নির্ভর করেই পরবর্তী বিজ্ঞানীরা বস্তুজগৎকে তিনটি ভাগে ভাগ করেন। যথা— বাষ্পীয়, পদার্থ ও পদার্থ বহির্ভূত।
🔖যদিও তিনি একজন অ্যালকেমিস্ট ছিলেন তবুও তিনি উন্নতচরিত্র ধাতু - সোনা,রূপা) বানানোর দিকে নজর দিয়েছে বলে মনে হয় না। এর পরিবর্তে তিনি নিজেকে বিভিন্ন রাসায়নিক পদ্ধতির আধুনিকীকরণ এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ার ক্রিয়া-কৌশল নিয়ে গবেষণা করার প্রতি উৎসর্গ করেন।এভাবেই তিনি আলকেমি থেকে আজকের রসায়নশাস্ত্রকে বের করে আনেন।তিনি জোর দিয়ে একথা বলেন যে,রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যর বিভিন্ন পদার্থ অংশ নেয় এবং এভাবে বলা যেতে পারে - এরা ধ্রুব অনুপাতের সূত্র (Law of constant proportions) মেনে চলে।
🔖জাবির ইবনে হাইয়ান তাঁর জীবদ্দশায় অনেক বই লিখেছেন। যার বেশিরভাগই কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। রসায়ন ছাড়াও তিনি বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখা যেমন চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানে অবদান রেখেছেন।তার রসায়ন নিয়ে লেখা বই - "Kitab-al-Kimya" এবং "Kitab-al-Sab'een" ল্যাটিনসহ বিভিন্ন ইউরোপীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এই অনুবাদগুলো পরবর্তী কয়েক শতাব্দী যাবৎ ইউরোপে বেশ জনপ্রিয় ছিল এবং আজকের আধুনিক রসায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
🔖জাবির কর্তৃক উদ্ভাবিত বেশ কিছু পারিভাষিক শব্দ যেমন "Alkali" এখনও অনেক ইউরোপীয় ভাষায় পাওয়া যায় এবং বৈজ্ঞানিক অভিধানের অংশ। তাঁর ব্যবহৃত আরবি শব্দ " আল ইকসির " থেকেই এসেছে "Elixir of Life ". এটি একটি আজব গাছের প্রাপ্ত আজব পাউডার, যার অস্তিত্ব সম্ভবত নেই। (মুসলিম মস্তিষ্ক, পৃষ্ঠা ২৭)
🔖তাঁর রচিত বইয়ের একটি ক্ষুদ্র অংশই কেবল সম্পাদিত এবং প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর বইগুলো এখনও আরবিতে সংরক্ষিত আছে যেগুলোতে টীকাযুক্ত এবং প্রকাশ করা বাকি।
🔖জাবিরের রচনাসম্ভার বলে পরিচিত বইগুলো কি সত্যিই জাবিরের লেখা নাকি পরবর্তীতে তার অনুসারীগণ তার নামে এই বইগুলো লিখেছেন কিনা সে ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ আছে। সার্টনের মতে তার (জাবিরের) সত্যিকার গুরুত্ব তখনই বোঝা যাবে যখন তার সবগুলো বই সম্পাদনা এবং প্রকাশ করা হবে। জাবিরের রচনাসম্ভার থেকে তার যেসব ধর্মীয় এবং দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যায় তা অনেক সময় সমালোচিত হয়েছে। " মূলত জ্ঞানী মহলে এমন কোনো ডিবেট নেই- সেখানে মুসলিম বিজ্ঞানীদের উপর ইসলামের বিশাল প্রভাবের কথা স্বীকৃত যে, ইসলামের কারণেই মুসলিম বিশ্বে জ্ঞানচর্চা ছড়িয়ে যায়।"(মুসলিম মস্তিষ্ক, পৃষ্ঠা ১২৬) যাই হোক আমাদের বুঝতে হবে জাবিরের প্রধান অবদান রসায়নে ; ধর্মে নয়।
🔖জাবিরের বিভিন্ন এসিড যেমন নাইট্রিক, হাইড্রোক্লোরিক, সাইট্রিক ও টারটারিক এসিড প্রস্তুতি এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষামূলক গবেষণার উপর জোর দেয়ার সাফল্য লাভ ছিল অসাধারণ এবং এর উপর ভিত্তি করেই তাকে রসায়নের জনক বা "Father of Chemistry" নামে অভিহিত করা যেতে পারে।Max Mayerhaff এর ভাষায়,"The development of chemistry in Europe can be traced directly to Jabir Ibn Haiyan." (Biographies of Muslim scholars & scientists)
🔖অনেক ইতিহাসবিদই এ মধ্যযুগকে "অন্ধকার যুগ" বলে মুসলিম বিজ্ঞানী ও দার্শনিকদের দারুণ দারুণ আবিষ্কারকে গোপন করতে চায়। কিন্তু সত্য তো কখনো চাপা থাকে না। একদিন না একদিন প্রকাশ পাবেই। আমাদের মুসলিম স্বর্ণযুগ সম্পর্কে জানতে হবে। মুসলিম বিজ্ঞানীদের নানা আবিষ্কারের গল্প জানা থাকতে হবে। তখন আমরা অনুপ্রেরণা পাবো যে আমরাও পারি। মধ্যযুগের মুসলিম বিজ্ঞানীদের দারুণ দারুণ আবিষ্কারের গল্প রয়েছে "1001 Inventions, The Enduring Legacy of Muslim Civilization"
এ বইটিতে। PDF দিয়ে দিলাম যাতে সবাই পড়তে পারে। এছাড়াও গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স কর্তৃক প্রকাশিত আরমান ফিরমান ভাইয়ার " মুসলিম মস্তিষ্ক "
বইটাও পড়া যেতে পারে। এছাড়াও "1001 Invention & The library of Secret " নামে দারুণ একটি শর্ট ফিল্ম দেখে আসতে পারো ইউটিউবে।
Short-film : https://youtu.be/JZDe9DCx7Wk
PDF (1001 Invention) :
https://drive.google.com/file/d/1PoO2FroE9NGkJzlusK6IJ53TkJd3Adbg/view?usp=drivesdk
~Code of life -Islam
04/12/2020
নিকোটিনের সাথে যুদ্ধ জয়ের গল্প
#নিকোটিনের_সাথে_যুদ্ধ_জয়ের_গল্প
এক্সকিউজ মি! এই যে শুনতে পাচ্ছ?
ভড়কে গেল জনি। রুমে তো সে একাই। তাহলে কি সে ভুল শুনেছে? আবারও সেই একই আওয়াজ। হঠাৎ সে দেখল আলোর মতো কি যেন একটা তার সামনে এলো।
হাই! আমি তোমার ফুসফুস বলছি। আমার না বলা কথাগুলো বলবো আজ। দুই সদস্যের ছোট্ট পরিবার আমার। একজন বুকের ডান পাশের ঘরটায়, অন্যজন বাম পাশের ঘরটায় থাকি। ব্রংকাই দিয়ে আমরা একে অপরের সাথে যোগাযোগ করি। প্লুরা কোম্পানির চাদর দিয়ে আমাদের শরীর ঢাকা থাকে।এই চাদরের মধ্যে সেরাস ফ্লুইড থাকায় আমরা ঘর্ষণজনিত আঘাত থেকে রক্ষা পাই। বলতে গেলে আমরা তোমার শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। ভিলেন কার্বন ডাই অক্সাইডকে ঘাড় ধরে শরীর থেকে বের করে দিই আমরা। আর অক্সিজেনকে আমন্ত্রণ করে দেহে আনি। বুদ্ধি করে কার্বন ডাই অক্সাইডের সাথে কিছু তাপও বের করে দিই, যেন তোমার দেহ ঠান্ডা থাকে। আমি দেহের জন্য সব সময় কাজ করে গেলেও তোমার মতো বোকা ও অকৃতজ্ঞ মানুষগুলো সুযোগ পেলেই সিগারেট খেয়ে আমার ক্ষতি করো।
সিগারেটের ভেতর নিকোটিন, আর্সেনিক, মিথেন, অ্যামোনিয়া, কার্বন মনো অক্সাইড, হাইড্রোজেন সায়ানাইড নামক যে গুন্ডারা থাকে তারা আমাকে প্রায় ধ্বংসই করে ফেলে। তোমরা যখন ধূমপান কর তখন আমার বডিগার্ড অর্থাৎ অন্তঃপ্রাচীরজুড়ে থাকা সিলিয়া অবশ হয়ে যায়। ফলে ধুলোবালি আমার দেহে জমা হয় আর আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি।সিগারেটের ধোঁয়ায় আমার অ্যালভিওলাসের প্রাচীরে যে ক্ষতি হয় তার ফলে আমার অনেক স্থান ফেটে ফাঁকা স্থান সৃষ্টি হয় (emphysema)। আর আমিও হারিয়ে ফেলি আগের সৌন্দর্য ও কর্মক্ষমতা। হয়ে যাই কালো আর নিশ্চল। আর আমি অসুস্থ হলেই পুরো মানবদেহটাই অসুস্থ হয়ে পড়ে । তাই বলি কী, বোকার মতো ধূমপান না করে একটু সতেজ বাতাসে শ্বাস নাও। তাহলে তুমি আমি দুজনেই ভালো থাকব।
কথাগুলো বলেই আলোর মত অবয়বটি অদৃশ্য হয়ে পড়ল। জনি তাকে ধরতে গিয়েই খাট থেকে পড়ে গেল। সাথে সাথে ঘুম ভেঙ্গে যায় তার। ‘ওহ! এটা তাহলে স্বপ্ন ছিল!’ আপন মনে বিড়বিড় করতে লাগলো সে।
কিন্তু জনি আজ যে স্বপ্ন দেখেছে, তা যেনতেন স্বপ্ন নয়। অন্তরআত্মা কাঁপিয়ে দেয়ার মতো স্বপ্ন। উপলব্ধি করলো, এতদিন সে অন্ধকার পথে নিমজ্জিত ছিল। তখনই নিজের সাথে ওয়াদা করলো, আর কখনোই সে এ পথে পা বাড়াবে না।
কিছুক্ষণ বাদেই মুয়াজ্জিনের কন্ঠে আযানের সুর ভেসে এলো। ‘আস সালাতু খাইরুম মিনান নাওম...’
জনি দেরি না করে উযু করে মাসজিদের দিকে রওনা হলো। হিদায়াতের মালিক তো আল্লাহই। আলহামদুলিল্লাহ।
(কাল্পনিক গল্প)
#ষোলো
04/12/2020
"হে মুমিনগণ! জুমু'আর দিনে যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের ধাবিত হবে এবং ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ রাখবে,এটিই তোমাদের জন্য শ্রেয়,যদি তোমরা উপলব্ধি করো।সালাত শেষ হলে তোমরা আল্লাহর জমিনে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে করবে ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে যাতে তোমরা সফলকাম হও।"
-(সূরা জুমু'আ, আয়াত ৯-১০)
16/11/2020
ফেমিনিস্টদের ঈমান ভঙের দশ কারণ....
25/10/2020
ফ্রেঞ্চ প্রেসিডেন্ট ম্যাখো বলেছে: ‘ফ্রান্স ব্যাঙ্গাত্বক কার্টুন বানানো বন্ধ করবে না’।
মানে: আমরা ইসলাম অবমাননা করা বন্ধ করবো না।
একটা সরকারী বিল্ডিং এর দেয়ালে বিশাল আকারে নবী ﷺ–এর অবমাননা করে বানানো ব্যাঙ্গচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে।
সুপারমার্কেটগুলোতে কেন ‘হালাল ফুডস’ পাওয়া যায়, তা নিয়ে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরক্ত।
প্যারিসে দুজন মুসলিম নারীকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। হামলাকারী চিৎকার করে বলেছে, “নোংরা আরব”! এ হামলার কারণ ছিল ইসলামের প্রতি ঘৃণা, তা স্পষ্ট।
এতোকিছুর পরও -
কই? আন্তর্জাতিক নিন্দা কোথায়?
প্রতিবাদ কোথায়? আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কোথায়?
মানবাধিকারের ফেরিওয়ালারা কোথায়?
পাঠ্যসূচী বদলানোর দাবিগুলো কোথায়? নতুন আইন প্রণয়নের তোরজোর কোথায়? হেইট স্পিচ বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য মোকাবেলায় গ্রেফতারি কোথায়? ইসলাম আর মুসলিমদের বিরুদ্ধে এ সবকিছুই তো ফ্রান্স করেছিল।
কথায় কথায় জঙ্গিবাদ আর সাম্প্রদায়িকতার কথা বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলা, আমাদের সমাজের কাপুরুষ ‘বুদ্ধিজীবি’রা কোথায়? তারা কি মুখে কুলুপ এটে বসে আছে? এখন কেন চারিদিকে কবরের নীরবতা?
আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার, জাতিসংঘ, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের মূল্য জানতে চান? এগুলোর অর্থ জানতে চান? এগুলোর গ্রহণযোগ্যতা জানতে চান? ওপরের লাইনগুলো আবার পড়ুন। জেনে যাবেন। বুঝে ফেলবেন।
আমাদের রব, আসমান ও যমীনের একচ্ছত্র অধিপতি সত্যটা অনেক আগে আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন –
“যদি তোমাদের কাবু করতে পারে তাহলে তারা প্রকাশ্য শত্রু হবে। তোমাদের ক্ষতি করার জন্য তাদের হাত আর যবান প্রসারিত করে দেবে। আর তারা চাইবে তোমরাও যেন কুফরি করো।” [তরজমা – সূরা আল মুমতাহিনা, আয়াত ২]
ইয়া আল্লাহ, আপনার দ্বীনকে সম্মানিত করার জন্য আমাদের ব্যবহার করুন, এবং আমাদের আপনার দ্বীনের সাহায্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
ড. ইয়াদ আল-কুনাইবি
12/09/2020
#ইসলামিবই
*বইঃ দুর্গম পথের যাত্রী
*লেখকঃআসাদ বিন হাফিজ
*প্রকাশনীঃ গার্ডিয়ান পাবলিকেশনস
*পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ১৮২
*মূল্যঃ ২৭০টাকা (৩০% ছাড়ে ১৮৮ টাকা)
_____________
মহাবীর খালিদ বিন ওয়ালিদের ইসলাম গ্রহণের রোমাঞ্চকর কাহিনি
____________
খালিদ বিন ওয়ালিদের পিতা ছিলেন ইসলাম বিদ্বেষী।রাসুল (সাঃ) কে নিশ্চিহ্ন করতে চেষ্টার কোনো কমতি রাখেন নি।বাবার এই বৈশিষ্ট্যটি খালিদ ভালো করেই পেয়েছিল। তার স্বপ্ন ছিল রাসুল (সাঃ) কে নিজ হাতে কতল করা।কিন্তু তাকদিরের মালিক তো আল্লাহই। খালিদ জীবনের প্রথম দিকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে অনেক যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।অসংখ্য মুজাহিদের মস্তক কেটেছেন তার তলোয়ার দিয়ে। প্রত্যেক যুদ্ধে তিনি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)এর যুদ্ধবন্দীদের সাথে ব্যবহার, যুদ্ধনীতি,আচার আচরণ দেখে মুগ্ধ হন। তার ভাইকে একবার বন্দী করা হয়। তো মুক্তিপণ দিতে গিয়ে দেখল ভাই মুসলমান হয়ে বসে আছে। খালিদ তো অবাক।ধীরে ধীরে তার মন মানসিকতা ইসলামের দিকে ঝুকে যাচ্ছিল।কাফিরদের ধর্মও আর ভালো লাগছিল না তার।একের পর এক বিজয়ের মালা পড়ছেন;তবুও কী এক আড়ষ্টতা যেন তাকে পেয়ে বসেছে! কী যেনো একটা নেই।বুকটা শুণ্য,হাহাকার।
তো একদিন তিনি মক্কা থেকে মদিনায় রওনা দিলেন ইসলাম গ্রহণের জন্য।এই যাত্রাপথে তার অনেক স্মৃতি মনে পরে গেল, অনুশোচনায় তিনি কাঁদতে থাকেন। অবশেষে তিনি ফিরে এলেন। ফিরলেন বিশ্বাসীদের মিছিলে স্লোগান হাঁকতে,হায়দারি হাঁক ছাড়তে।
এ এক রোমাঞ্চকর ফেরার গল্প!এক শিহরণ জাগানিয়া সফর!
________________
ছোটবেলায় মাসিক কিশোরকন্ঠ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে এই উপন্যাসটি ছাপা হত।আনন্দের সাথে পড়তাম।কিন্তু যখন শুনলাম গার্ডিয়ান পাবলিকেশনস এই উপন্যাসটি সম্পূর্ণ আকারে প্রকাশ করেছে তখন আরো খুশি হলাম।বইমেলা ২০২০ এ এই বইটি আমার বড় বোন আমাকে উপহার হিসেবে দেয়। এক নিমিষেই তা পড়া শেষ হয়ে যায়।বারবার পড়ি, কেন জানি ভালো লাগে!
___________________
এই বইয়ের ভাষাশৈলি এককথায় অসাধারণ। লেখক তাঁর পান্ডিত্যের পরিচয়ই দিয়েছেন।প্রত্যেক সাহিত্যপ্রেমী মুসলমানদের একবার হলেও এই "দুর্গম পথের যাত্রী" বইটি পড়া উচিত বলে আমি মনে করি।
___________
🔥রিভিউ লেখকঃ Abdullah Mohammad
11/09/2020
#ইসলামিবই
*বইঃ Enjoy Your Life – জীবন উপভোগ করুন
*লেখকঃ ড.মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফী
*অনুবাদকঃ মুহাম্মদ আবদুল আলীম
*প্রকাশনীঃ হুদহুদ প্রকাশনী
*পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৬০০
* মূল্যঃ ৪৪০ টাকা ( ৪২% ছাড়ে ২৫৫ টাকা)
_______________________
জীবনের বাঁকে বাঁকে মানুষ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হয়। এসব সমস্যা সঠিকভাবে সমাধান করে জীবনকে আনন্দময় ও সাচ্ছন্দ্য করা সম্ভব।কিন্তু
অনেক সময় সমস্যা এতই জটিল হয় যে,সেগুলোর সামনে নিজেকে অসহায় মনে হতে থাকে।
এমনসব পরিস্থিতিতে এই কালজয়ী গ্রন্থ “Enjoy Your Life” আপনার অসাধারণ উপকার সাধন করতে পারে।ড.মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফীর ২০ বছরের অভিজ্ঞতার সারনির্যাস এই গ্রন্থ। এর আরবি সংস্করণের মুদ্রণসংখ্যা প্রকাশের পর প্রথম বছরেই ১ মিলিয়ন অর্থাৎ ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়।
_________________
সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়, এই বইয়ে নবী চরিতের আলোকে সেগুলোর সমাধান পেশ করা হয়েছে।উপস্থাপনা সহজ ও সাবলীল।অনুবাদও চমৎকার। এই বইয়ে উদাহরণ পেশ করা হয়েছে রাসুল সাঃ,সাহাবায়ে কেরাম ও বু্যুর্গানে দীনের জীবন -চরিতের আলোকে।আর এগুলোর মাধ্যমেই উন্নত ও সফল জীবন যাপন করার জন্য উৎসাহ দেয়া হয়েছে।
_________________
আমি সাধারণত মোটা মোটা বই দেখলে ভয় পাই,কিন্তু এই বইটি পড়তে আমার খুব বেশি সময় লাগে নি।আর এই বইটি একবার পড়ে আলমারিতে রেখে দিলে লেখকের চেষ্টা বৃথা যাবে।বারবার পড়া যায় এটি এমন এক কালজয়ী গ্রন্থ।এই বই থেকে একটি শিক্ষাও জীবনে কাজে লাগাতে পারলে বোঝা যাবে বইটির সার্থকতা।আর এই বইটি শুধু মুসলমান না, সবাই পড়তে পারে।এই বইটি পড়লে অন্তর থেকেই লেখকের জন্য দোয়া আসে। জ্ঞানপিপাসু মানুষদের একবার হলেও এই “Enjoy Your Life” বইটি পড়ে দেখা উচিৎ বলে আমি মনে করি।
🔥রিভিউ লেখকঃ Abdullah Mohammad
___________________
11/09/2020
#ইসলামিবই
*বইঃ পরকাল
*লেখকঃড. মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফী
*অনুবাদকঃমাওলানা মুহাম্মদ আবদুল আলীম
*প্রকাশনীঃ হুদহুদ প্রকাশন
*পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৪৯৬
*মূল্যঃ ৫৬০ টাকা ( ৪৫% ছাড়ে ৩০৮ টাকা)
______________
মায়ের পেটে বাচ্চা অনেক খুশি থাকে।সে মনে করে, আঁধারের এই কুন্ডলীই আমার চিরস্থায়ী ঘর।তার মোটেও ধারণা থাকে না যে,তাকে এমন এক জগতে যেতে হবে, যেখানে সূর্য চমকায়;কলকলিয়ে নদী বয় এবং বাগ বাগিচায় বিভিন্ন প্রকার ফুল ফল হাসে।
দুনিয়ার নাদান মানুষেরও একই দশা। তারা দুনিয়াকেউ সবকিছু মনে করে।দুনিয়ার এই জীবনের পর যে কবরের পেটে আশ্রয় নিতে হবে,সেখান থেকে উঠে হাশরের ময়দানে দাঁড়াতে হবে,তারপর স্থায়ী ঠিকানা জান্নাত বা জাহান্নামে যেতে হবে- মায়ের পেটে শিশুর মত, তারা এসব কথা বুঝতে চায় না।
কিন্তু মায়ের গর্ভ ছেড়ে শিশুকে একসময় দুনিয়ার কোলে হাযির হতে হয়;মানুষকেও তেমনই একদিন কবরের কোলে গিয়ে হাযির হতে হয়।পরের ঘাঁটিগুলোতেও উপস্থিত না হয়ে কোনো উপায় নেই।
__________
ড.মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফী মৃত্যু,কবর,হাশর,হিসাব, কেসাস,পুলসিরা, জান্নাত-জাহান্নাম সম্পর্কে যেসব তথ্য কুরআন হাদিসে পাওয়া যায়,সেগুলোকে তিনি একত্র করেছেন অত্যন্ত সুবিন্যস্তভাবে।গ্রন্থটির নাম দিয়েছেন "আল-আলামুল আখীর"। আর হুদহুদ প্রকাশনী এই বইটির বাংলা অনুবাদ করে খুব ভালো একটা কাজ করেছে।
___________
৪৯৬ পৃষ্ঠার এই বইটি সম্পুর্ন colour print,দেখলেই মন জুড়িয়ে যায়।লেখক শুরু করেছেন পরকালকে কেন বিশ্বাস করা উচিৎ তা নিয়ে।মৃত্যু হচ্ছে ছোট কিয়ামত,যা আমরা অনেকেই জানতাম না।এই বইয়ে তিনি অধ্যায় ভিত্তিক আলোচনা করেছেন,যার কারণে খুব সহজেই পরকাল সম্পর্কে জানা যায়। প্রতিটি বর্ননায় কাল্পনিক ছবি থাকায় বুঝতে আরো সুবিধা হয়েছে।আর এই বইটির অনুবাদও আলহামদুলিল্লাহ অসাধারণ।
____________
সর্বোপরি এই বইটিকে পরকাল সম্বন্ধে একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ বলা যেতে পারে।একবার হলেও প্রত্যেক জ্ঞানপিপাসু মুসলমানদের এই বইটি পড়ে দেখা উচিৎ বলে আমি মনে করি।
🔥রিভিউ লেখকঃ Abdullah Mohammad
____________
09/09/2020
#ইসলামিবই
*বইঃ থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে
*লেখকঃ মুহাম্মদ আতিক উল্লাহ
*প্রকাশনীঃমাকতাবাতুল আজহার
__________________
জীবনটাই আসলে অনেকগুলো গল্প। অসংখ্য গল্প দিয়েই একটা জীবন গঠিত হয়। বৃষ্টির ফোঁটার মতোই প্রতিনিয়ত গল্প ঝরে পড়ছে। শিশির বিন্দুর মতোই। কোনওটা হাসির, কোনওটা কান্নার। কোনওটা আনন্দের, কোনওটা বেদনার। কিছু গল্প ছোট, কিছু গল্প বড়। কিছু গল্প নিজেকে নিয়ে , কিছু গল্প অন্যকে নিয়ে। কিছু গল্প জীবনের, কিছু গল্প মরণের। কিছু গল্প আশার, কিছু গল্প নিরাশার। কিছু গল্প প্রেরণার, কিছু গল্প চেতনার। কিছু গল্প সাধনার, কিছু গল্প আরাধনার। কিছু গল্প আজকের, কিছু গল্প আগামীর। লেখক এই গল্পগুলোকে কুড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন । একটা ফ্রেমে ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন।
_____________
একটা কথা সোজাসুজি বললে অনেক সময় ভালো লাগে না।পছন্দ হয় না।গ্রহণযোগ্য মনে হয় না৷ তেমনি উপদেশ বা নসীহাও সরাসরি শুনতে ভালো লাগে না।
হজম হয় না। তাই জীবনঘনিষ্ঠ অনেক উপদেশ-নীতিকথাকে লেখক গল্পের মোড়কে এনেছেন।
___________
১২৮ পৃষ্ঠার এই বইটিতে লেখক মোট ৬৬ টি গল্প সংকলন করেছেন।প্রতিটি লেখাতেই কিছু না কিছু কথা বলা হয়েছে। গল্প না হোক,একটা বক্তব্য পাওয়া যাবে,এটা নিশ্চিত করে বলা যায়।
_______
প্রতিটি গল্পেই পাঠকের মনের জোনাক পোকা নূরের আলোয় জ্বলে উঠতে বাধ্য।নবী ও সাহাবিদের বিভিন্ন শিক্ষামূলক ঘটনা,সিরিয়া,ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মুসলমানদের আর্তনাদ,নিজের কুপ্রবৃত্তিকে দমিয়ে রাখার গল্প,শত বাধার পরও আল্লাহর উপর ভরসা করে এগিয়ে যাওয়ার গল্প,হতাশাকে জয় করার গল্প,মুজাহিদদের শহিদি মৃত্যুর গল্প, বিভিন্ন অনুপ্রেরণামূলক গল্প দিয়ে লেখক এই বইটিকে সাজিয়েছেন।
_________
এই বই পড়ে পাঠক অবচেতনমনেই আকৃষ্ট হয় কুরআনের প্রতি।এই লেখাগুলো আমাদেরকে জাগিয়ে তোলে গাফিলতির সুখনিদ্রা থেকে। উদ্বুদ্ধ করে সামনে এগিয়ে যেত। আল্লাহ লেখকের কলমকে আরও শানিত করুন। গোটা বিশ্বকে কুরআনের আলোয় আলোকিত করুন।
একবার হলেও এই “থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে ” বইটি পড়ে দেখা উচিৎ বলে আমি মনে করি।
🔥রিভিউ লেখকঃ Abdullah Mohammad
09/09/2020
#ইসলামিবই
*বইঃযাররাতিন খাইরান
*লেখকঃমুহাম্মদ আতিকুল্লাহ
*প্রকাশনীঃশুদ্ধি
মানুষের জীবন অসংখ্য অণুক্ষণের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠে। জীবনের প্রতিটি অণুতেই থাকে অসংখ্য গল্পের সমাহার। গল্পগুলো খুঁজে নিতে হয়। কুড়িয়ে নিতে হয়। জীবন অণুপল থেকে কুড়িয়ে নেয়া কিছু গল্পমাখা খড় দিয়ে বোনা হয়েছে আমাদের ‘যাররাতিন খাইরান’ বাসাটি!
"যাররাতিন খাইরান" অর্থ "অণু পরিমাণ সৎ কর্ম"
মূলত এই বইটি বিভিন্ন ছোটগল্পের সংকলন।অণু গল্পকে ইংরেজিতে Flash fiction বলে।বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্র ভৌতিক গল্প মাত্র দুই বাক্যের,
"The last man on Earth sat alone in a room.There was a knock on the door.."
অণুগল্প লেখা অনেক যোগ্যতার ব্যাপার। এই কাজটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে করেছেন মুহাম্মদ আতিকুল্লাহ।এই গল্পের প্রতিটা গল্পই আপনাকে নতুন করে ভাবতে শিখাবে।যেমনঃ
___দয়ালু___
সিরিয়ান শিশুঃ আব্বু জাতিসংঘের কাজ কী?
আব্বুঃ জন্মভূমিকে বদলে দিয়ে শরনার্থী শিবির তৈরি করা।
_________
___সম্পর্ক____
- আপনি কাকে বেশি ভালোবাসেন?ভাই না বন্ধু?
-ভাইকে ভালোবাসি যদি সে বন্ধুর মত হয়। আর বন্ধুকে ভালোবাসি যদি সে ভাইয়ের মত হয়।
________
বইয়ের প্রতিটি লেখাতেই কিছু না কিছু কথা বলা হয়েছে।সেটা ভালো লাগতেও পারে।গল্প না হোক, একটা বক্তব্য পাওয়া যাবে,এটা নিশ্চিত।অবশ্য ভালো না লাগার মত লেখাও বইয়ে থাকতে পারে।একজনের সব কথা ভালো লাগবে,এমন দাবি করা হাস্যকর!
একবার হলেও এই যাররাতিন খাইরান বইটি পড়ে দেখা উচিৎ বলে আমি মনে করি ।
🔥রিভিউ লেখকঃ Abdullah Mohammad
15/08/2020
#ইসলামিবই
*বইয়ের নামঃ বেলা ফুরাবার আগে
*লেখকঃ আরিফ আজাদ
*প্রকাশকঃ সমকালীন প্রকাশন
*পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ১৮০
___________________________
বেলা ফুরাবার আগে…নিজেকে আবিষ্কারের একটি আয়না। যে ভুল আর ভ্রান্তির মোহে, অন্ধকারের যে অলিগলিতে আমাদের এতোদিনকার পদচারণা, তার বিপরীতে জীবনের নতুন অধ্যায়ে নিজের নাম লিখিয়ে নিতে একটি সহায়ক গ্রন্থ এই বই, ইনশা আল্লাহ।বইটি কাদের জন্য?এই বই তাদের জন্য যারা লেখকের কাছে ‘সাজিদ হতে চাই’ বলে বিভিন্ন সময়ে আবদার করেন। পরামর্শের আবদার, পথনির্দেশের আবদার। সাজিদ হতে হলে, আমি মনে করি, সবার আগে একটা অন্ধকার বৃত্ত থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সাজিদ যেভাবে অন্ধকারের কৃষ্ণগহ্বর ছেড়ে, আলোর ফোয়ারাতে তার জীবন রাঙিয়েছে, সেরকম ঝলমলে আলোর মাঝে নিজেকে মেলে ধরাই ‘সাজিদ’ হবার প্রথম এবং প্রধান শর্ত। কেবল ভারি ভারি বই আর যুক্তির পশরা সাজিয়ে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার মধ্যেই ‘সাজিদ’ হয়ে উঠার সার্থকতা নেই। সাজিদ হয়ে উঠার সার্থকতা তখনই যখন সাজিদ যে আদর্শের আলো প্রাণে প্রাণে ছড়িয়ে দিতে চায়, তা আমরা জীবনে মেখে নিতে পারবো।বইটি কাদের জন্য?ভুলোমনা একঝাঁক তারুণ্যের জন্য এই বই। যে ভুলের গহ্বরে তারা জীবনের বসন্তগুলোকে পার করছে, সেই ভুল থেকে তাদের ‘বেলা ফুরাবার আগে’ টেনে তুলতেই এই বইটার অবতারণা।এর বাইরেও থাকছেঃ
‘চোখের রোগ’, ‘বলো, সুখ কোথা পাই’, ‘বেলা ফুরাবার আগে’, ‘মেঘের কোলে রোদ হেসেছে’, ‘যুদ্ধ মানে শত্রু শত্রু খেলা’, ‘চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়’, ‘বসন্ত এসে গেছে’, ‘তুলি দুই হাত করি মোনাজাত’, ‘চলো বদলাই’ নামের আঠারোটি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে, ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায়।
________________
আলহামদুলিল্লাহ, আরিফ আজাদ ভাইয়ের লেখা মানেই রোমাঞ্চকর নতুন কিছু। তবে হ্যা বেলা ফুরাবার আগে বইটা কিন্তু কোনো নাস্তিক ঐ জাতীয় কারো বিরুদ্ধে লিখা নয়!! বইটি বেলা ফুরাবার আগে নিজেকে গড়ে তোলার জন্যে,
প্রথমেই একটা চমৎকার কবিতা আছে,
শুরুর আগেই বইটি ঠিক কেন লেখা হয়েছে তা স্পষ্ট করেছেন লেখক, বইটি মূলত রিমাইন্ডার হিসে কাজ করবে। হঠাৎ পথ ভূলে গেলে বইটি মনে করিয়ে দিবে যে এ পথ ভুল, ইনশাআল্লাহ।
এবং তার পরই শুরু হলো আমাদের জীবনের নিত্যদিনের সমস্যা, ভুল ও অভাব নিয়ে আলোচনা।
মন খারাপের দিনে। মন খারাপ আর থাকবে না, কারন কবি এখানে নবী (আঃ) দের ঘটনা তুলে ধরেছেন যা আপনাকে মন খারাপ থাকতেই দিবে না!
দুঃখে ভরা জীবন আমাদের। আমরা বলি যে আমার এত দুঃখ কেন? "কথায় আছে অন্যের দুঃখ করিলে অন্নেষণ নিজের দুঃখ রহে কতক্ষণ? " এখানে নাবী সাহাবি দের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। যা জানলে আপনার দুঃখ নেহাত খাটোই লাগবে!!
তার পর পাবেন প্রকৃত সূখের সন্ধান। সূখ কোথাই পাই। আসলে সূখ কোথা পাওয়া যা তার দৃষ্টান্তই দিয়েছেন আরিফ আজাদ।
আমরা জীবনে টাকার পিছনে ছুটি। চাই! আরো চাই! আসলে বাস্তবতাই বা কতটুকু? জানতে হলে পড়তে হবে।
এবার আসি চোখের রোগে! না এটা ঐ রোগ নয়! এটা এমন রোগ যা আমাদের হৃদয়কে ধ্বংস করে দেয়, ধ্বংস করে আমাদের ইমানকে। আমারা মনে করি কোনো গায়রে মাহরামকে দেখা নেহাত খারাপ নয়৷ আসলে আল্লাহ আমাদেরকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন৷ আমাদের তরুনদের রোগ এটা, চমৎকার বিশ্লেষণে ভরা অনন্য সুন্দর অধ্যায় এটি। যা বইটিকে করে তোলেছে প্রানবন্ত।
আমরা অনেক সময় বলি যে আমরা তো স্রেফ বন্ধু কেবল৷ আসলে এটি একটি চক্রান্তমূলক কথা, যা কুরআন হাদিস ও বাস্তবতা দ্বারা বোঝ যায় যে এটা সম্ভব নয়। কি কে কিভাবে তা বলেছে আরিফ আজাদ৷ যা তুলনাবিহীন।
বেলা ফুরাবার আগেই আমাদের যা সংগ্রহ করা দরকার তা মজুদ রাখতে হবে৷ কারনে ফুরিয়ে গেলে কিন্তু আর কিছু মিলবে নাহ। ঠিক এমনই মোটিভেশান বিষয়ে বইটির নামকরন হয়েছে বেলা ফুরাবার আগে।
সালাত বা নামাজের সময় আমরা অনেকেই মনোযোগ দিতে পারিনা। এটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার 😥। অনেক টিপস আছে পরিত্রানের জন্যে। যা আমাদের জন্যে অনেক কার্যকর।
আমরা সর্বদাই শয়তানের সাথে যুদ্ধ করেই চলেছি করেই চলেছি। এই লড়াই চলবে আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত। আমাদের শত্রু তথা শয়তানের সাথে আমাদের যুদ্ধ কৈশল ও প্রতিহত করার বিষয়ে ইফেক্টিভ অধ্যায় এটি!!
এছাড়াও আমারা অনেকেই ফজর সালাত জামাআতে পড়তে পারিনা, অনেকেই তো উঠতেই পারিনা৷ "আমি হব সকাল বেলার পাখি " এখনে লেখক কুরআন ও হাদিস থেকে ফজিলত বর্ননা করেছেন৷ যার ফলে আমরা আর ফজর মিস করব না। লোভনীয় বিষয়!!
আল্লাহর কাছেই চাইতে হবে৷ চাইলেই দিবেন। তুলি দুই হাত করি মুনাজাত। হ্যাঁ এই বিষয়েই অসাধারন বর্ননা করেছেন প্রিয় লেখক।
তার পর আসুন আমরা বদলাই!! বদলানোর গল্পদিয়েই বেলা ফুরাবার আগে শেষ হয়েছে।।
আমাদের নিত্য সনস্যার জন্যে মোটিভেশান ও সাজিদ হওয়ার ফর্মুলাই ভরপুর বইটি৷ আর এজন্যেই বইটি অনন্য, সাহিত্যিক মানের দিক থেকেও। কারন কবি অনেক গল্প দৃষ্টান্ত দিয়েছেন পাতায় পাতায়!! কাজ শুরু করি বেলা ফুরাবার আগেই!
_________________________
Collected
14/08/2020
#ইসলামিবই
*বইয়ের নামঃ রাহে বেলায়েত
*লেখকঃ ড.খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ)
*প্রকাশনাঃআস-সুন্নাহ পাবলিকেশন
*পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ৬৫৬
_______কিছু কথা না বললেই নয়________
জীবনের কোনো এক ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ দিনে মরীচিকা ঘেরা এই দুনিয়ার পিছে ছুটতে থাকা আপনি হঠাৎ বুঝতে পারলেন আপনার মন জুড়ে বিরাজ করছে কেবলই শূন্যতা! দুনিয়ায় একজন মানুষের যা যা চাওয়ার থাকে তার সব পেয়েও আপনার মনে হচ্ছে আপনার কী যেন নেই! সীমাহীন দুশ্চিন্তা আর পেরেশানিতে আপনি হয়ে পড়েছেন পানি ছাড়া মাছের মতোই অসহায়। এভাবেই আপনি উপলব্ধি করলেন আপনি আপনার রব্ব থেকে বহু দূরে চলে এসেছেন.. সেই রব্ব থেকে যাঁর উদারতা আর ভালোবাসার কাছে জগতের সব কিছু নিতান্তই তুচ্ছ। তখনই আপনার মনে হলো, ‘আমি যদি এতশত জাগতিকভার মুক্ত হয়ে আমার রব্বের কাছে ফিরে যেতে পারতাম! যদি তাঁর নিকটে পৌঁছুতে পারতাম! ততটা নিকটে, যতটা নৈকট্য পেলে তাকে বন্ধুত্ব বলা যায়! যদি আমি আমার স্নেহময় রব্ব, আল ওয়াদুদের ওলী হতে পারতাম! যে পথ ধরে চললে পরে তাঁর নৈকট্যে পৌঁছা যায়, যদি আমি সেই পথটির সন্ধান পেয়ে যেতাম!!’
__________________
ঠিক এমনই কোনো মুহূর্তে আপনি এমনই এক বাতিঘরের সন্ধান পেলেন, যা আপনাকে দেখিয়ে দিচ্ছে আল ওয়াদুদের নৈকট্যের পথটি! বলুন তো, আপনি তখন কী করবেন? কতটা ভালোলাগায় আপনার মন ভরে যাবে?! কতটা কৃতজ্ঞতায় আল ওয়াদুদের স্মরণেই ঝরে পড়বে ক’ফোটা উষ্ণ অশ্রু!?
‘রাহে বেলায়াত’, ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত এমনই একটি গ্রন্থ, যা আমাদেরকে আল্লাহর বেলায়াতের পথটিকেই চিনিয়ে দেয়! বইটির নামটিই ‘রাহে বেলায়াত’ তথা বেলায়াতের পথে! এটা সেই রব্বের বেলায়াতের পথ দেখায় যে রব্বের বেলায়াত পেলে আপনার সব সুখ পাওয়া হয়ে যায়! যে প্রেমময়ের প্রেম পেলে আপনার সব দুঃখ-কষ্ট নিমিষেই বিলীন হয়ে যায়! জাগতিক চাপে ভারাক্রান্ত আপনার এই হৃদয়টিই অনিঃশেষ মুক্ত বাতাসের সন্ধান পেয়ে যায়…! আপনার একসময়ের ঘুণেধরা জীবনটিই এই ভালোবাসার ছোঁয়ায় চিরদিনের মতো সফল হয়ে যায়!!!
________________
আল্লাহ কুরআনে বলেন, “তোমরা আমার যিকির কর। আমি তোমাদের যিকির করব”। [বাকারাঃ ১৫২]আল্লাহর এই যিকির বিশ্বাসীদের জীবনের অন্যতম সম্পদ। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সাওয়াব অর্জনের অন্যতম পথ। মহাশত্রু শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে হৃদয়কে রক্ষা করার অন্যতম উপায় আল্লাহর যিকির। চিন্তা, উৎকণ্ঠা ও হতাশা থেকে মুক্তি পাওয়ার অন্যতম উপায় আল্লাহর যিকির। ভারাক্রান্ত মানব হৃদয়কে হিংসা, বিদ্বেষ, বিরক্তি, অস্থিরতা ইত্যাদির মহাভার থেকে মুক্ত করার একমাত্র উপায় আল্লাহর যিকির। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, আখিরাতের কামনা ও তাকওয়াকে হৃদয়ে সঞ্চারিত, সঞ্জীবিত, দৃঢ়তর ও স্থায়ী করার অন্যতম উপায় আল্লাহর যিকির। এর মাধ্যমে পার্থিব লোভ ও ভন্ডামী থেকে হৃদয়কে মুক্ত করা যায়। জাগতিক ভয়ভীতি ও লোভলালসা তুচ্ছ করে আল্লাহর পথে নিজেকে বিলিয়ে দিতে, তাঁর কালেমাকে উচ্চ করতে মুমিনের অন্যতম বাহন আল্লাহর যিকির।অথচ এই মহামূল্যবান যিকিরের অপপ্রয়োগ হচ্ছে । যিকিরের নামে, দু'আর নামে, দরুদের নামে ও ওযীফার নামে বিভিন্ন বুজুর্গের বানানো শব্দ, নিয়ম, পদ্ধতি ইত্যাদি অতি যত্ন সহকারে পালিত হচ্ছে কিন্তু রাসূল (সঃ) এর পদ্ধতি অবহেলিত রয়ে যাচ্ছে। তাই রাসূলের (সঃ) দেখানো পথে আল্লাহ তায়ালার যিকিরের মাধ্যমে যিকিরের মূল উদ্দেশ্য আর ফায়দা যাতে হাসিল করা যায় সেই উদ্দেশ্যেই বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচনা করেছেন এই মহামূল্যবান কিতাব 'রাহে বেলায়াত'। বইটি প্রকাশিত হয়েছে আস সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে।
_____________________
***বইটিতে যা আছে***
এ বইটি মূলতই আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করে তাঁর খুব কাছের একজন বান্দা হওয়ার উপায় নিয়ে কথা বলে। তা হলো আল্লাহর প্রতি ইমান এনে সকল হারাম কাজগুলো থেকে দূরে থেকে তাঁর ফরজ ইবাদাতগুলি পালন করার পাশাপাশি সুন্নাহসম্মত নফল ইবাদাতগুলি বেশি বেশি করা।
_____