20/03/2021
কোচিং ও সহায়ক বইমুক্ত হচ্ছে না শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয় শিক্ষানীতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং কোচিং, প্রাইভেট ও নোট-গাইড, অনুশীলন বা সহায়ক বই বন্ধ করার জন্য ২০১১ সাল....
Purpose of this page is to generate some ideas and to bring some discussions on contemporary issues related to education and development.
20/03/2021
কোচিং ও সহায়ক বইমুক্ত হচ্ছে না শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয় শিক্ষানীতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং কোচিং, প্রাইভেট ও নোট-গাইড, অনুশীলন বা সহায়ক বই বন্ধ করার জন্য ২০১১ সাল....
17/01/2021
বিনা মূল্যে পড়ার বিশ্বের সেরা ৬টি বৃত্তির আবেদন শুরু বিশ্বের ছয়টি বৃত্তির পেলে পকেট থেকে এক পয়সাও খসবে না শিক্ষার্থীদের। আন্ডার গ্রাজুয়েট, মাস্টার্স এবং পিএইচডির ক্....
13/01/2021
ইসলামে শিক্ষার গুরুত্ব ও তাৎপর্য শিক্ষা ইসলামের প্রাথমিক মৌলিক বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত। আদি শিক্ষক হলেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। তাই ফেরেশতারা বলেছিল....
13/01/2021
তুরস্কে বৃত্তির আবেদন শুরু, ভাতার সঙ্গে মিলবে বিমান টিকিটও তুরস্ক প্রতিবছরের মতো এ বছরও তাদের সরকারি শিক্ষাবৃত্তির ঘোষণা দিল। পৃথিবীর প্রায় ১৮০টি দেশ থেকে এই শিক্ষাবৃত্ত.....
13/01/2021
অর্থ আর ক্ষমতার জন্যই কি উচ্চশিক্ষা? অর্থ আর ক্ষমতার জন্যই কি উচ্চশিক্ষা?
24/11/2020
বদলাবে বই, কমবে পরীক্ষা প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পাল্টে যাচ্ছে শিক্ষাক্রম। বিষয় ও পরীক্ষা কমিয়ে বইয়ে আনা হচ্ছে পরিবর্...
24/11/2020
জার্মানিতে কেন পড়তে যাবেন উচ্চশিক্ষার জন্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের পছন্দের অন্যতম গন্তব্য ইউরোপের জার্মানি। শিক্ষা .....
21/11/2020
মাধ্যমিকে আলাদা বিভাগ থাকবে না শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, মাধ্যমিকের নতুন শিক্ষাক্রমে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষার মতো আলাদা বিভাগ থা....
11/11/2020
৭৩ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্নাতকোত্তর পাস শিক্ষায় অনুরাগী ও হার না–মানা মানুষটির নাম রওশন আলী (৭৩)। বাড়ি পাবনা জেলা সদরের চরতারাপুর ইউনিয়নের তারাবাড়িয়া গ্.....
25/10/2020
পড়ে দেখুন। লেখক 20 বছর পরের যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন- আমিও মানি সেটা সম্ভব, অবশ্যই সম্ভব। তবে তার জন্য যে দু'চারজন মেধাবী দেশে লুকিয়ে আছেন তাঁদের এগিয়ে আসতে হবে, কাজ করতে হবে।
মেধাশূন্য হচ্ছে বাংলাদেশ! বাংলাদেশ থেকে হঠাৎ করেই অনেক শিল্পী আমেরিকায় চলে গেছেন সাম্প্রতিক সময়ে। বিষয়টি হয়তো অনেকেই জানেন। মার্কিন যুক্.....
শুধু গ্রহণের শিক্ষাই নয় দানের শিক্ষাটাও দিতে হবে
মো: মুমিনুল ইসলাম
ঢাকা, ২০/১০/২০২০
তালগাছ রোপন করে নারিকেল ফল আমরা কেউ প্রত্যাশা করিনা, কিন্তু মানবসন্তানকে তার সমস্ত শিক্ষাজীবন অন্যের কাছ থেকে শুধু নিতে শিখিয়ে কর্মজীবনে সে অন্যদেরকে অনেক কিছু দান করবে সে আকাঙ্ক্ষা আমরা কেমন করে করি? চলুন বিষয়টা আরেকটু স্পষ্ট করা যাক- জন্মের পর থেকে একটি শিশু তার মা-বাবা, পরিবারের অন্যান্য সদস্য, প্রতিবেশী তথা সমাজ থেকে বিভিন্নভাবে সহায়তা, যত্ন-আত্তি, সেবা, খাদ্য, বস্ত্র, ইত্যাদি নিয়ে বড় হয়। এরপর সে যখন বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে তখন থেকে শিক্ষকের কাছ থেকে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবেশ থেকে বিভিন্ন কিছু শেখা শুরু করে। সে শেখে কীভাবে বিদ্যা অর্জন করবে, কীভাবে জীবিকা উপার্জন করবে, কীভাবে জীবনে খ্যাতি বা সফলতা লাভ করবে । একটু খেয়াল করলেই দেখা যায় এটা মূলত একমুখী একটি প্রক্রিয়া, যেখানে শিশু মূলত গ্রহণ করে এবং কীভাবে আরও গ্রহণ করতে হবে বা অর্জন করতে হবে তা শেখে। যদিও শিশু তার খেলার মাধ্যমে, পরিবারের টুকিটাকি কাজের মাধ্যমে বা বিদ্যালয়ে সতীর্থদেরকে সহযোগিতার মাধ্যমে কিছু কিছু বিষয়ে দিতেও শেখে, অন্যকে সহযোগিতা করতে শেখে। কিন্তু এটা আমাদের সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থার সচেতন এবং পরিকল্পিত কোন প্রয়াস নয়। সঙ্গত কারণেই শিক্ষাব্যবস্থায় তার কোন অগ্রাধিকারও নেই বলে প্রতিয়মান হয়। যার ফলস্বরূপ শিশু থেকে তরুণ বয়স পর্যন্ত মানব সন্তান মূলত অন্যের কাছ থেকে নিতেই শেখে তেমন কিছু দিতে শেখে না। অথচ শিক্ষাজীবন শেষে যখনই সে কর্মজীবনে প্রবেশ করে তখনই তার প্রতি সকলের প্রত্যাশা যে সে তার পরিবারকে দেখাশুনা করবে, সমাজ ও জাতিকে তার সামর্থ্য উজাড় করে দিয়ে সেবা করবে। কিন্তু আমরা কি তাকে এসব করতে শিখিয়েছি? অপরকে দান করার, সমাজ ও জাতিকে সেবা করার মত জ্ঞান, দক্ষতা শিখিয়েছি? তার সেই মানসিকতা ও অভ্যাস গড়ে দিয়েছি? না, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা সেটা করেনি। জাতিকে শিক্ষিত করার দায়িত্ব যেহেতু শিক্ষাব্যবস্থার তাই এই অশিক্ষার দায়ভারও তার উপরেই বর্তায়।
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ না করলে বক্তব্যটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে, সেটা হল- প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত আমাদের শিক্ষাক্রম গুলোতে অথবা কিছু কিছু এক্সট্রা-কারিকুলার কার্যক্রমে কতগুলো বিষয় আছে যেগুলো থেকে শিক্ষার্থীরা জানতে পারে অপরের বা সমাজের সেবা করার প্রয়োজনীয়তার কথা, কোন কোন ক্ষেত্রে জানে কীভাবে সে সেবা করতে পারবে। কিন্তু এই শিক্ষা যে পর্যাপ্ত নয়, সম্পূর্ণ নয় তার প্রমাণ অমাদের হাতে ভুরি ভুরি। উচ্চশিক্ষিত মানুষ যেমন বৃদ্ধ মা-বাবাকে পরিত্যাগ করছে, তেমন হাজার হাজার শিক্ষিত মানুষ আছে যারা শহরে বসবাস করছে চাকরি বা ব্যবসা করে অর্থ উপার্জন করছে, নিজের জীবন যাপন করছে, কিন্তু যে গ্রামে তার জন্ম, বেড়ে উঠা সেখানে শুধু প্রমোদ ভ্রমণ ছাড়া তার সাথে আর কোন সম্পর্ক তাদের নেই, সেই গ্রাম বা সমাজের উন্নয়নের চেষ্টা তো দূরের কথা সে চিন্তাও সে কখনও করেনা। লক্ষ লক্ষ মানুষ আছে যারা তাদের পেশার অংশ হিসেবে মানুষকে যেটুকু সেবা দেয়া তার কর্তব্য সেটুকুও দেয়না, স্বেচ্ছায় অপরের সেবা করা তো দূরের কথা। জনপ্রতিনিধির কাছে তার এলাকার মানুষ তাদের সমস্যার সমাধান পায়না, শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থীরা যথাযথ শিক্ষা পায়না, হাসপাতালে রোগীরা চিকিৎসা পায়না, ঠিকাদাররা রাস্তার কাজ অর্ধেক করে রেখে শীতনিদ্রায় যায়। দেশের সকল ক্ষেত্রে একই অবস্থা, যার কারণে সমাজের সকল ধাপেই মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় প্রতিনিয়ত।
একটি দেশের নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান ব্যাপকভাবে নির্ভর করে সেখানকার মানুষের সেবার মানসিকতা ও অভ্যাসের উপর, অন্য কথায় বলা চলে সেবার সংস্কৃতির উপর। এ প্রসঙ্গে জার্মান প্রবাসী এক ভাইয়ের ফেসবুকে লেখা একটি গল্প থেকে একটি উদাহরণ দিতে চাই। ঘটনাটা ছিল মোটামুটি এরকম- ঐ লেখক একদিন তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ি চালিয়ে একটি জায়গায় যাচ্ছিলেন, পথিমধ্যে গাড়ির একটি চাকার ঢাকনা খুলে পড়ে যায়। গন্তব্যে পৌঁছার পর তিনি বিষয়টা লক্ষ্য করেন এবং মনে মনে ভাবেন যে ফিরে গিয়ে আবার ঢাকনা কিনে চাকায় লাগাতে হবে। কাজ শেষে তিনি যখন বাসার দিকে ফিরে আসছিলেন তখন রাস্তার পাশে একটা জায়গায় হঠাৎ তাঁর চোখ পড়ে এবং তিনি দেখতে পান যে তাঁর গাড়ির চাকার ঐ ঢাকনাটা কেউ ওখানে রাস্তার পাশে একটি খাম্বার সাথে বেঁধে রেখেছেন যাতে করে সহজেই চোখে পড়ে। আমাদের দেশে হলে হয়তো ঐ ঢাকনাটা কেউ একজন নিয়ে যেত অথবা নেয়ার মত কেউ না আসলে অন্যেরা ছুঁয়েও দেখতনা (ব্যতিক্রম থাকতেই পারে তবে সেটা অবশ্যই উদাহরণ নয়)। আমরা আমাদের নাগরিকদের এই সেবার মানসিকতা ও অভ্যাসটা গড়ে দিতে পারিনি।
আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি হচ্ছে, কিন্তু সেই সাথে মানুষের জীবনমানের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন কতখানি হয়েছে? এই না হওয়ার পেছনে আমাদের সেবার অভ্যাস তথা সংস্কৃতির অভাব অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রভাবক বলে আমি মনে করি। আমাদের এখন অবশ্যই ভাবতে হবে কীভাবে আমরা এই সেবার শিক্ষা বা দানের শিক্ষা অর্জন করতে পারি, কীভাবে আমাদের সন্তানদেরকে এই শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারি (আমি সেবার শিক্ষা ও দানের শিক্ষা কথা দুইটিকে একই অর্থে ব্যবহার করেছি)। কীভাবে সে শিক্ষা হবে তা আলোচনা করার শুরুতেই বলতে চাই, শুধুমাত্র “শেখার জন্য এসো, সেবার জন্য বেরিয়ে যাও” আমাদের সুপরিচিত এই স্লোগানের মত একগাদা পুঁথিগত বুলি বিদ্যালয়ের গেটে বড় বড় অক্ষরে লিখে রেখে বা শিক্ষার্থীদের মুখস্ত করিয়ে সে শিক্ষা যে আমরা দিতে পারবনা সেটা সুনিশ্চিত। এর সবচেয়ে উত্তম উপায় হবে “করে শেখা”। অপরের জন্য কাজ করে, অপরকে দান করে, অপরকে সেবা করে এই শিক্ষা অর্জন করতে হবে, এসবের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কোন ধরণের কার্যক্রমের মাধ্যমে এটা সম্ভব হবে তার একটা নিদর্শন বাংলায় স্থাপন করেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর শ্রীনিকেতন ও ব্রতীবালক সংগঠনের কার্যক্রমে, কিন্তু দুর্ভাগ্য এই যে, আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এধরণের কার্যক্রম এখন নেই। বর্তমানে সীমিত পরিসরে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় যা আছে তা হল স্কাউটিং বা এধরণের আরও কয়েকটি এক্সট্রা-কারিকুলার কার্যক্রম। স্কাউটরা তাদের শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের টিকা খাওয়ানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণের মত বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। এভাবে তারা সেবার মানসিকতা ও সেবার অভ্যাস অর্জন করে। তবে আমাদের দেশে অন্য অনেক কিছুর মত এখানেও ভেজাল আছে, দেখেছি অনেকই স্কাউটিং কার্যক্রমকে নিছক বিনোদন হিসেবে নেয়, এর বৃহত্তর উদ্দেশ্যকে ধারণ করেনা। যাইহোক, যথাযথভাবে পরিচালিত হলে স্কাউটিং বা ব্রতীবালক সংগঠনের মত কার্যক্রমের মাধ্যমে আমাদের আলোচ্য দানের শিক্ষা অর্জন হয়তো সম্ভব। কিন্তু এখানে সমস্যা হল, এগুলো যেহেতু এক্সট্রা-কারিকুলার কার্যক্রম এবং এটা নিতান্তই ঐচ্ছিক, তাই যেসব শিক্ষার্থী মন থেকে চাইবে শুধু তারাই এতে অংশগ্রহণ করবে। আবার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এধরণের কার্যক্রম নেই। যার ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই এই শিক্ষার বাইরে থেকে যাবে, তাহলে তো চলবেনা।
তাহলে উপায় কী? উপায় হল- এ বিষয়ে আমাদের সচেতন প্রয়াস। সুপরিকল্পিত ভাবে আমাদের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাক্রমগুলোতে “দানের শিক্ষা বা সেবার শিক্ষাকে” অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এবং অন্যান্য পাঠ্যবিষয়ের সাথে এই বিষয়ক তথ্য ও বাস্তব কাজের সমন্বয় করতে হবে। অন্যভাবে বলা যায় যে, পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে সেবা শিক্ষার লেন্স দিয়ে দেখতে হবে। এই শিক্ষার প্রধান দুটি দিক থাকবে, এক- সেবা শিক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য জানা, যেমন- কেন অন্যের সেবা করব, অন্যের সেবা করলে আমার কী হবে, সমাজ ও জাতি কীভাবে উপকৃত হবে। কোন সময়ে কাকে কোন ধরণের সেবা করতে হবে, কীভাবে সেই সেবা করব, ইত্যাদি। দুই- প্রত্যেক শিক্ষার্থী আবশ্যকভাবে বিভিন্নরকমের সেবা কাজে অংশগ্রহণ করবে। এই উভয় প্রক্রিয়াকেই শিক্ষার্থীর শিখন মূল্যায়নেরও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আর এভাবে সেবার জ্ঞান অর্জন এবং বাস্তব সেবা করণের অভ্যাস গঠনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের সেবার মানসিকতাও তৈরি হবে। বলাই বাহুল্য, শিক্ষার্থীর বয়স ও শিক্ষার স্তর অনুযায়ী এই সেবার জ্ঞান ও কর্ম পৃথক হবে। পূর্বেও উল্লেখ করেছি আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় সেবা শিক্ষার কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা আছে। কিন্তু তা জ্ঞানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, এর বাস্তবায়নের উপর সুপরিকল্পিতভাবে কোন জোর দেয়া হয়নি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেবা শিক্ষায় বাস্তব সেবা করাটাই শিখনের প্রধানতম উপায়। এখন কথা হলো শিক্ষার্থীরা কোন ধরণের সেবামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে, কোথায় এবং কীভাবে করবে, আর তার মূল্যায়নই বা কেমন হবে। এ বিষয়ে আরও ব্যাপকতর চিন্তাভাবনা, গবেষণা এবং কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। তবে সাধারণভাবে বলা যায় যে পাঠ্যক্রমে তথ্যগত বা জ্ঞানীয় দিকগুলো এমনভাবে সংযোজন করতে হবে যাতে করে দেশের সকল স্থানের, সকল পরিবেশের, সকল আর্থসামাজিক দলের শিক্ষার্থীদের জন্য তা উপযুক্ত হয়। আর বাস্তব সেবামূলক কাজের পরিকল্পনা হতে হবে বিদ্যালয় ভিত্তিক। নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ের ভৌগলিক অবস্থান, সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ, ঐ অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, সংস্কৃতি প্রভৃতির উপর ভিত্তি করে এবং সেখানকার বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক সুযোগ সুবিধার কথা বিবেচনা করে বাস্তব সেবামূলক কার্যক্রমগুলোর পরিকল্পনা করতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষকগণকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। পরবর্তিতে এ বিষয়ে আরও চিন্তা করার এবং লিখার ইচ্ছে রইলো। তবে এখানে উল্লেখ করতেই হবে যে, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এবং দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় এধরণের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান ও প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের জন্য বিস্তর গবেষণা এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞানের বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
পরিশেষে বলতে চাই, এই দানের শিক্ষা বা সেবার শিক্ষা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্যকে সহযোগিতা করতে পারার একটা আত্মতৃপ্তি নিয়ে আসবে, তারা জীবনকে অনেক অর্থবহ করে দেখতে শিখবে, তাদেরকে কাজের প্রতি আগ্রহী, ইতিবাচক ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলবে, এই কাজগুলোর মধ্য দিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ পেশার প্রতি প্রবণতা গড়ে উঠবে; সর্বোপরি, তারা সমাজের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এবং আমরা একটি প্রকৃত উন্নত জাতিতে পরিণত হব। তাই এই শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে এ বিষয়ে ব্যাপক গবেষণা পরিচালনা এবং সকল স্তরের শিক্ষা কার্যক্রমে এর কার্যকর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষা গবেষকগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।