27/06/2025
একটা জিনিস খেয়াল করেছেন, আজকাল আমরা অধিকাংশ মানুষই যে প্রতিদিন সোশাল মিডিয়ায় ঢুকে মোহাচ্ছন্নের মত 'মোটিভেশন' খুঁজতে থাকি?
কোন একটা মোটিভেশনাল উক্তি বা
একটা “তুমি পারবে” টাইপের ভিডিও বা
তেজোদ্দীপক কতগুলো শব্দ/বাক্য … সামনে এলো তো ক্ষণিকের জন্যে হলেও স্ক্রলিং থামিয়ে আমরা মোটিভেশন নেয়ার চেষ্টা করি!
কিন্তু সত্যিকার অর্থে, আমাদের কতজনের জীবনে এসব ক্ষণিকের 'মোটিভেশন' দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনছে সেটা আমরা মিলিয়ে দেখছি কি?
ব্যাপারটা যদি এমন হয়, মোটিভেশন নিতে নিতে আমরা কানায় কানায় পূর্ণ কিন্তু আমাদের বিশ্বাসে, আচরণে, অস্তিত্বে এর কোন প্রভাব ই পড়ছে না তাহলে আসলেই আমরা সবাই কিছু একটা মিস করে যাচ্ছি কি?
আজকের লেখাটা এটা নিয়েই।
আমি নিজে 'মোটিভেশন' এর বিরোধী নই।
বিশ্বাস করি, সমাজে ইতিবাচক মানসিকতার দরকার আছে - যদি আমরা আসলেই এই মোটিভেশনগুলো জীবনে কাজে লাগাই!
কিন্তু সেটার কোন প্রয়োগ না থাকলে, মোটিভেশন আদতে এক কাপ গরম চায়ের মতো— যা একটু পরেই ঠান্ডা হয়ে যায়।
মোটিভেশন আসে, আবার চলে যায়।
আসলেই যারা জীবনে ভাল কিছু করে, লড়ে, হারে - আবার উঠে দাঁড়ায় এদের জীবন দর্শন কখনোই Motivation Driven নয়।
মোটিভেশন কে বড়জোর হাল্কা একটা ধাক্কা বলতে পারি আমি, চেঞ্জিং ফ্যাক্টর বলতে পারি না বা বলি না।
জীবনে যে কোন পরিবর্তন আনতে কিছু যদি আসলেই উপকারী হয় সেটা হল, ডিসিপ্লিন!
আমি দেখিনি, ডিসিপ্লিন/নিয়মানুবর্তিতা ছাড়া কেউ নিজের জীবনে বা আশেপাশে কোন চেঞ্জ এনেছে শুধু মোটিভেশন দিয়ে!
অথচ মোটিভেশনের পুরো আলোচনা থেকে আমরা কিভাবে কিভাবে যেন এই ডিসিপ্লিন কেই সরিয়ে ফেললাম!
মোটিভেশন যদি আতশবাজির মত হয়, ডিসিপ্লিন খুব নিভু নিভু করে জ্বলতে থাকা প্রদীপের আলো!
বলেন, কোনটা সেলিব্রেটেড হবে?
আপনার চোখের সামনে একজন ২৫ বছরের টগবগে যুবক যার দিন রাত ২৪ ঘন্টার কাজ হল, মোটিভেশন গেলা এবং বিলানো কিন্তু there is no real work - how far it will take him?
প্রোফাইলে নিজের নামের আগে দেখবেন এরা অমুক জায়গার/ক্লাবের আমি অমুক/তমুক - হাবিজাবি গাদা খানেক কিছু লেখে - কিন্তু He knows it well, his in a bubble! Not into genuine work!
এরই বিপরীতে একজন Disciplined ছেলেকে যদি রাখি, আপনি দেখবেন - Its hell lot of work!
❤️ চলুন আগে মিলাই, কেন আমরা বেশিরভাগ মানুষ ডিসিপ্লিনে টিকতে পারি না? বা চাইলেও সহজে ডিসিপ্লিন্ড থাকতে পারিনা?
প্রধান কারণ তো এটাই যে, আমরা মানুষ!
স্বভাবগত ভাবেই নিয়ম আমাদের অস্বস্তি দেয়।
এবং ডিসিপ্লিন কখনো মোটিভেশন এর মত চমকপ্রদ নয়।
ওটা সুন্দর কোটেশনের মতো শোনায় না!
ওটা সোশ্যাল মিডিয়ার হাইপের মতো উচ্ছ্বাস আনেনা!
ডিসিপ্লিন মানে অনেক সময় একঘেয়ে কাজ করা, একলা চলা, আনন্দকে বিলম্বিত করা।
ডিসিপ্লিন অধিকাংশ সময় ই খুবই খুবই বোরিং!
অনেকে নিজেদের ভীষণ ক্রিয়েটিভ প্রমাণ করতে ও এটা বলেন যে, ছন্নছাড়া না হলে আবার কিসের সৃষ্টি!
কিন্তু ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল, যারা জেনুইনলি ক্রিয়েটিভ, তার অগোছালো জিনিসগুলো ক্লোজলি খেয়াল করলেও দেখবেন সেসবের মধ্যেও একটা কন্সিস্টেন্সির প্যাটার্ণ আছে।
যারা অনেক এক্সপেরিমেন্ট করেন লাইফে তাদের ও একটা প্যাটার্ণ আছে।
মোটা দাগে যেটাকে বলা যায়, কিছু না কিছু কাজ হচ্ছে সেখানে!
ফাঁপা বা ফাপড়বাজি না ব্যাপারটা।
🎯 ডিসিপ্লিন কি 'Giant' কিছু? উত্তর হল, একেবারেই না। বরং বলা যায়, কতগুলো micro steps এর consistent repetition যেটা সময়ের পরিক্রমায় একটা শেইপ নেয়।
একজন এথলিট এর কথা ভাবুন বা একটি বিজনেস স্টার্ট আপের কথা ধরুন। How they grow? Surely there remains a genuine purpose! কিন্তু রোজ সেই একই কাজ করে করে সাফল্য ধরা দেয়!
অনেক স্টার্ট আপ দেখবেন মুখ থুবড়ে পড়ে যাদের ইনোভেশনের কোন অভাব ই ছিল না! ফেইল করে জাস্ট, কন্সিস্টেন্সির অভাবে, বোর হতে ভয় পাবার জন্যে, একটু ব্যর্থ হলেই হাল ছেড়ে দেয়ার জন্যে।
সেজন্যেই বলছি, ডিসিপ্লিন মানে হলো পিচ্চি পিচ্চি কতগুলো কাজ দিয়ে নিজেকে ট্রেইন করা।
ডিসিপ্লিন মানে নিজেকে সেই কাজগুলো করতে বাধ্য করা, যেগুলো আমরা করতে “মনে চায় না”—কিন্তু জানি, এই কাজগুলোই আমাদের ভবিষ্যৎ বদলে দেবে।
সেটা হতে পারে-
✔ প্রতিদিন এক সময়ে ঘুম থেকে উঠা
✔ সালাতের সময় ঠিক রেখে ইবাদত করা
✔ নিজের ইগো গুঁড়িয়ে কাছের মানুষদের জন্যে রোজ কিছু করা
✔ পড়াশোনা বা কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক রাখা
✔ স্বাস্থ্য ও আত্মার যত্নে প্রতিদিন ছোট ছোট পদক্ষেপ নেওয়া
✔ সোশ্যাল মিডিয়াকে ক্যালকুলেটেড ওয়েতে ব্যবহার করে একাগ্র হয়ে কাজ শেষ করা
✔ নিজের চাওয়া-পাওয়ার উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা
👑 এখানে পরের প্রশ্নই হবার কথা, এরকম ডিসিপ্লিন কীভাবে গড়ে তুলবো? ডিসিপ্লিন থাকবার ব্যাপারে কি কোন মোটিভেশন আছে? 🙂
উত্তর টা হল, যেই ভুলটা আগে ঠিক করা উচিত বলে আমি মনে করি সেটা হল, মোটিভেশন একক লক্ষ্য কেন্দ্রিক বানানোই যাবে না!
ওভার ওল প্রত্যেকের জীবনের একটা উদ্দেশ্য থাকা উচিত। জীবনের সব কিছু কে আলাদা আলাদা বক্স ভাবা যাবেনা। জীবন কমপ্লেক্স।এবং প্রতিটা বক্স এখানে ইন্টারকানেক্টেড।
ধরুন, বড় ব্যবসায়ী হবেন এটাকে মোটিভেশনে বানায় ছুটতে ছুটতে দেখলেন - পরিবার হারিয়েছেন।
কি করবেন সেই সাফল্য দিয়ে?
টাকা,খ্যাতি এবং ক্ষমতাকে নিজের ব্যাপারে আধিপত্য করতে দেয়া থেকে বাঁচানো টা ও যে শিখতে হবে!
সবার আগে দরকার, নিজের Purpose of Life বোঝা। এবং নিজের জন্যে সেটা ডিফাইন করা।
সোসাইটি তে একেকজন একেকভাবে জীবন কাটায়।সে গল্প থেকে শিক্ষা নেয়া যাবে, অনুপ্রেরণাও। কিন্তু অন্ধ অনুসরণ নয়। কারন আপনার গল্প আলাদা। আপনার স্ট্রেংথ/উইকনেস আলাদা।
মোট কথা, আপনার জীবনের উদ্দেশ্য আলাদা।
ট্রাস্ট মি, কৃত্রিম মোটিভেশনের হামবড়ামি "তুমি পারবে” টাইপ কথাগুলোর চেয়ে অনেক শক্তিশালী হল, Clarity about vision and mission of life. Surely এখানে অনেক পরীক্ষা আছে, ভাগ্য আছে - কিন্তু যে একবার 'জীবন আসকে কি' বুঝে ফেলে তার আর পিছন থেকে ধাক্কা দেবার জন্যে কোন শব্দ বা বাক্য লাগে না!
যখন আমরা জানি, কেন বাঁচছি, কোথায় যাচ্ছি, কার জন্য কষ্ট করছি— তখন আমাদের ভিতরের শক্তি জাগে, যেটা বাইরের মোটিভেশন ছাড়াই কাজ করায়।
আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য নানা কিছু হতে পারে- আল্লাহকে খুশি করা
মানবতার কল্যাণে কিছু গড়ে তোলা
পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কিছু রেখে যাওয়া
Purpose যত bigger and focused, নিজেকে সেভাবে পরিবর্তন করা তত সোজা।
প্রতিদিনের কষ্ট, ঘাম, আত্মসংযম—সব তত অর্থবহ হয়ে ওঠে।
নিশ্চয় ভাগ্য সত্যি। কিন্তু আপনার ধর্ম তো কখনোই আপনাকে Passive Role Playing এ থাকার অনুমতি দেয় ই না।এটা ভুলে গেলে চলবে না।
একদিন মরে যাব আমরা।
জীবনে মোটিভেটেড থাকতে এটুক জানাই যথেষ্ট।
~ Dr Shusama Reza