24/08/2026
পোকামাকড়ের দুনিয়া থেকে জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ৫ পাঠ
চলতি কোনো ধারাকে উল্টে দিতে চাইলে সিদ্ধান্তহীনতায় থাকা মানুষদের নিয়ে চিন্তিত হবেন না, বরং আরও বেশি মানুষকে এই নিরপেক্ষ ভূমিকা গ্রহণে উৎসাহিত করুন।
চিন্তাশক্তি ও বিচারবুদ্ধির দিক থেকে নিজেদের বিবর্তনের শীর্ষে ভাবতেই ভালোবাসেন মানুষ। তবে অনেক চিন্তাভাবনার পর দিনশেষে ভুল সিদ্ধান্তটাই নিতে দেখা যায়।
অন্যদিকে, পোকামাকড়দের সরিষার দানার মতো ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক থাকলেও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এদের রয়েছে বিস্ময়কর সক্ষমতা ও জ্ঞান।
বিবিসি লিখেছে, পোকামাকড়ের সমস্যা সমাধানের অনন্য এসব কৌশল দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাস্তব জীবনের নানাক্ষেত্রে জটিল সমস্যা সমাধানের ‘অ্যালগরিদম’ তৈরি করছেন গবেষকরা।
কীটপতঙ্গের জগৎ থেকে সঠিক ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কয়েকটি পাঠ জেনে নেওয়া যাক–
১. পিঁপড়ার নিখুঁত কৌশল
হাতে অগুণতি বিকল্প থাকলে সেখান থেকে সেরা পথটি বেছে নেওয়া মানুষের জন্য বেশ কঠিন। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘চয়েস ওভারলোড’।
খাবারের নতুন কোনো উৎসের সন্ধানে বের হওয়ার সময় পিঁপড়ারাও ঠিক এমন দ্বিধাদ্বন্দ্বের মুখে পড়ে। তবে বিবর্তনের ধারায় এরা এমন জটিল পরিস্থিতির সমাধান বের করেছে, যা সব প্রজাতির পিঁপড়ার মধ্যেই দেখা মেলে।
শুরুতে কিছু রোমাঞ্চপ্রিয় পিঁপড়া নিরাপদ বাসা ছেড়ে এলোমেলোভাবে খাবারের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে। এরা সব অপশন খোলা রেখে আলাদা আলাদা পথে সামনে এগোতে থাকে।
চলাচলের পথে মাটিতে ‘ফেরোমোন’ নামের এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থের চিহ্ন রেখে যায়, যাতে পিছনের পিঁপড়ারা তা অনুসরণ করতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ ফেরোমোন বাতাসে উবে যায় ও পিঁপড়ারা সাধারণত সবচেয়ে কড়া গন্ধের পথটিই বেছে নেয়।
যে পিঁপড়ারা সবচেয়ে কম সময়ে ও সহজ পথে খাবার খুঁজে পেয়ে ফিরে আসে এদের রেখে যাওয়া গন্ধ পুরোপুরি মিলিয়ে যাওয়ার আগেই অন্যরা এদের পিছু নেয়। ফলে একই পথে বারবার যাতায়াতের কারণে সেখানে গন্ধের মাত্রা আরও গাঢ় হতে থাকে।
অন্যদিকে, যেসব পথ দীর্ঘ বা কঠিন সেগুলোতে ফেরোমোন উবে গিয়ে একসময় চিহ্ন মুছে যায়। এভাবে একক কোনো পিঁপড়া আলাদা করে পুরো নকশা না জানলেও পুরো কলোনি দলগতভাবে সবচেয়ে কম সময়ের ও কার্যকর পথটি খুঁজে বের করে নেয়।
বেলজিয়ামের ‘ইউনিভার্সিট লিবারে ডি ব্রাসেলস’-এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ল্যাবের সহ-পরিচালক মার্কো দোরিগো বলেছেন, “এর মূল শিক্ষা হচ্ছে, কোনো কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই চমৎকার ও কার্যকর সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। একজন একক পিঁপড়ার সামর্থ্য ও তথ্য সীমিত হলেও এরা দলগতভাবে বড় ও জটিল সমন্বয় সমস্যার সমাধান করে ফেলে।”
পিঁপড়ার এ কৌশলকে বলে ‘অ্যান্ট কলোনি অপটিমাইজেশন’। বর্তমানে এ ধারণাকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলা অ্যালগরিদম বিশ্বজুড়ে মানুষের যাতায়াত, টেলিকমিউনিকেশন, পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
যেমন, রেলপথের সময়সূচি ও নেটওয়ার্কে তথ্যের আদান-প্রদান সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য বিশেষজ্ঞরা এ অ্যালগরিদম ব্যবহার করছেন।
২. মৌমাছির গণতন্ত্র
নতুন বাসা খোঁজার ক্ষেত্রে মৌমাছিরা পিঁপড়াদের নিখুঁত কৌশলের মতোই বেশ কাছাকাছি পদ্ধতি অনুসরণ করে।
পিঁপড়াদের মতো মৌমাছিদের ক্ষেত্রে প্রথমে কিছু স্কাউট মৌমাছি উদ্দেশ্যহীনভাবে এলোমেলো উড়ে গিয়ে সম্ভাব্য নতুন স্থানের খোঁজ করে। তবে ফেরোমোন রাসায়নিকের চিহ্ন রেখে যাওয়ার বদলে এরা সরাসরি চাকে ফিরে এসে নিজেদের পছন্দের স্থান সম্পর্কে অন্য মৌমাছিদের জানায়।
নতুন জায়গাটি কতটা নিরাপদ, কতটা কাছে বা দূরে, কতটা বড় বা সুবিধার সে অনুসারে এরা দেহ দুলিয়ে চাকের সঙ্গী মৌমাছিদের সামনে এক বিশেষ ধরনের নাচ দেখায়, যাকে বলে ‘ওয়াগল ড্যান্স’। নতুন স্থানটি যত চমৎকার ও উপযোগী মনে হয় এদের নাচের গতি ও স্থায়িত্ব তত দীর্ঘ ও আনন্দময় হয়।
ওয়াগল ড্যান্সের মাধ্যমে নতুন জায়গার সঠিক দিক ও দূরত্বের নিখুঁত বিবরণও তুলে ধরে মৌমাছি। এরপর তথ্যটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আরও একদল মৌমাছি সেই জায়গায় যায়।
এরা ফিরে এসে নিজেদের নাচের মাধ্যমে আগের স্কাউটদের সমর্থন জানায় নয়ত নতুন কোনো স্থানের প্রস্তাব উপস্থাপন করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নির্দিষ্ট এক পছন্দনীয় স্থানকে কেন্দ্র করে এদের মধ্যে ঐক্য গড়ে উঠলে বহু মৌমাছি একই স্থানের পক্ষে ইতিবাচক নাচ পরিবেশন করে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করে।
মানব সমাজের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মতো নির্দিষ্ট সংখ্যাধিক্যে পৌঁছানোর পর এরা সবাই মিলে সেই নতুন বাসস্থানে স্থানান্তরিত হয়।
৩. ঘাসফড়িংয়ের নিরপেক্ষতা
কোনো দল যদি দুটি ভিন্ন মতে বিভক্ত হয়ে পড়ে তবে এদের চিন্তাভাবনা বদলানো বেশ কঠিন। এ ধরনের বিতর্ক দ্রুতই দ্বিমুখী বা সংঘাতময় পর্যায়ে রূপ নেয়, যা সবাইকে আরও গোঁড়া করে তোলে।
ঘাসফড়িং বা পঙ্গপালের ওপর পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণা এ পরিচিত জটিলতা থেকে উত্তরণের পথ দেখাচ্ছে। গবেষণায় উঠে এসেছে, কিছু উড়তে না পারা স্বল্প বয়সী ঘাসফড়িং ডানার অভাবে ওড়ার বদলে পায়ে হেঁটে বা মার্চ করে যাতায়াত করে।
যুক্তরাজ্যের ‘ইউনিভার্সিটি অফ বাথ’-এর গাণিতিক জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক ক্রিশ্চিয়ান ইয়েটস তার গবেষণায় এসব ঘাসফড়িংকে বৃত্তাকার এক স্থানে রেখে পর্যবেক্ষণ করেছেন যে এরা সমষ্টিগতভাবে কীভাবে চলাচলের দিক নির্ধারণ করে। তিনি বলেছেন, তারা কিছুক্ষণ থেমে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকার পর হঠাৎই সবাই মিলে চলাচলের দিক বদলে ফেলছে। ঘাসফড়িংগুলোর থমকে দাঁড়ানোর এ সংক্ষিপ্ত মুহূর্তেই বেশি সংখ্যক ঘাসফড়িং হাঁটা থামিয়ে এক ধরনের ‘নিরপেক্ষ’ ভূমিকা নেয়। এ নিরপেক্ষতাই পুরো দলকে একটি সিদ্ধান্ত থেকে বের হয়ে নতুন ঐকমত্যে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
ইয়েটস ১৯ জন মানুষের ওপরও একই রকম পরীক্ষা চালিয়েছেন। সেই খেলায় অংশগ্রহণকারীদের সামনে দুটি বিকল্প ছিল, যেমন এক্স বা ওয়াই বেছে নেওয়া বা নিরপেক্ষ বা ভোট দেওয়া থেকে দূরে থাকা।
ঠিক ঘাসফড়িংয়ের মতোই দেখা যায় মানুষের সামনে যখন নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ থাকে তখন তারা অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে আরও ‘দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে’ ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছে।
ইয়েটস বলেছেন, বড় ও সক্রিয় একটি দলে অনেক ছোট ছোট স্বতন্ত্র মতামত থাকে, যা একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। ফলে সার্বিক দিক পরিবর্তন করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তবে দলের অনেকেই যদি সাময়িকভাবে হলেও নিরপেক্ষ অবস্থান নেয় তখন কার্যকর সিদ্ধান্তগ্রহণকারীর সংখ্যা কমে যায়।
ইয়েটস বলেছেন, “সক্রিয় ভোটারের সংখ্যা কমে এলে সামান্য একটি প্রভাব, যেমন ছোট একটি দলের অন্য দিকে হাঁটা শুরু করা, নতুন কোনো তথ্য বা দু-একজনের মত পরিবর্তন পুরো দলের সিদ্ধান্তের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।”
দিনশেষে ঘাসফড়িংয়ের আচরণ আমাদের শেখায়, সবার জন্য পুনর্বিবেচনার পরিবেশ তৈরি করতে ও ঐকমত্যে পৌঁছাতে নিরপেক্ষতা এক ধরনের প্রয়োজনীয় বিরতি বা সুযোগ তৈরি করে দেয়।
এমন আচরণ থেকে ইঙ্গিত মেলে, চলতি কোনো ধারাকে উল্টে দিতে চাইলে সিদ্ধান্তহীনতায় থাকা মানুষদের নিয়ে চিন্তিত হবেন না, বরং আরও বেশি মানুষকে এই নিরপেক্ষ ভূমিকা গ্রহণে উৎসাহিত করুন।
৪. তেলাপোকার ব্যক্তিত্ব
যে কোনো বিতর্কে অনেকগুলো প্রভাবশালী বা একগুঁয়ে ব্যক্তিত্বের মানুষ উপস্থিত থাকলে কোনো যৌথ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। ‘প্রধান চরিত্র’ বা একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তারে অভ্যস্ত মানুষেরা প্রায়ই আলোচনার মোড় নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নেয়, যা পুরো দলের যৌথ মতামতকে চাপা দেয়।
তবে তেলাপোকাদের নিয়ে করা এক গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। দলের ভেতরে আলাদা ও শক্ত ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি প্রকৃতপক্ষে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করতে পারে।
সব তেলাপোকার স্বভাব এক নয়। কিছু তেলাপোকা সাহসী ও অনুসন্ধানী প্রকৃতির হলেও অন্যরা বেশ ভীতু ও লাজুক। জাপানের ‘টোকিও মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি’র সহকারী অধ্যাপক আইজাক প্ল্যানাস-সিটজা তেলাপোকার দলবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ার ওপর কিছু কম্পিউটার সিমুলেশন চালান।
যেমন, রেফ্রিজারেটরের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট অন্ধকার কোণে এরা কীভাবে একসঙ্গে আশ্রয় নেয় তা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তিনি এ সিমুলেশন সিস্টেমে তেলাপোকাদের বৈশিষ্ট্যে তিন ধরনের পরিবর্তন আনেন। কোনো ব্যক্তিত্বের পার্থক্য না রাখা, সামান্য পার্থক্য রাখা ও প্রচুর ব্যক্তিত্বের বৈচিত্র্য রাখা।
ফলাফলে উঠে এসেছে, যেসব মডেলে প্রতিটি তেলাপোকার আচরণ অবিকল একই রকম ছিল সেগুলো বাস্তব জগতের তেলাপোকাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধারার কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারেনি।
অন্যদিকে, যেসব দলে অনেক ব্যক্তিত্বের বৈচিত্র্য ছিল এরা পরস্পরের সঙ্গে বেশি যোগাযোগের কারণে অনেক দ্রুত সমষ্টিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছে।
প্ল্যানাস-সিটজা বলেছেন, “আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম। কিছু প্রবণতা দেখার আশা থাকলেও এত স্পষ্ট ও পুনরাবৃত্তিমূলক ধরন আশা করিনি।”
এর মানে, কেবল সাহসী বা অনুসন্ধানী তেলাপোকাদের দল উপযুক্ত আশ্রয় খুঁজে বের করে সেখানে দলবদ্ধ হতে বেশ সমস্যায় পড়ে। কারণ এরা অতিরিক্ত চলাফেরা করে। আবার অন্যদিকে, অতিরিক্ত ভীতু তেলাপোকার দল হয়ত খুব দ্রুত কোথাও থিতু হয়, তবে তাদের ভুল বা অনিরাপদ কোনো আশ্রয় নির্বাচনের ঝুঁকি থেকে যায়।
প্ল্যানাস-সিটজা বলেছেন, “সহযোগিতার মাত্রা ও আচরণের বৈচিত্র্যের মধ্যকার ভারসাম্যের ওপরই সমষ্টিগত বুদ্ধিমত্তা বা ‘কালেক্টিভ ইন্টেলিজেন্স’ নির্ভর করে। এত ক্ষুদ্র প্রাণীর ক্ষেত্রে যদি ব্যক্তিত্ব গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে তবে মানুষের মতো জটিল সামাজিক জীবদের ওপর এর প্রভাব কতটা গভীর তা সহজেই অনুমেয়।”
৫. মাছির আত্মসচেতনতা
অনেক সময় যুক্তিসঙ্গত মনে করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে আমরা নিজেদের মনের ভেতরের অনুভূতি বা ‘গাট ফিলিং’কে দমন করি। এরপর ভেতরের মন তা মানতে চায় না। আবার কখনো কখনো ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে আমরা অন্ধের মতো নিজস্ব ধারণার পেছনে ছুটি।
মাছি বা ফ্রুট ফ্লাই আমাদের শেখাতে পারে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় আরও আত্ম-সচেতন হওয়া যায়।
গবেষণায় উঠে এসেছে, ভেতরের অনুভূতি ও বাইরের বিভিন্ন তথ্যকে একসঙ্গে মিলিয়ে প্রতিটা পদক্ষেপ ঠিক করার ক্ষেত্রে মাছিরা সংবেদনশীল। যেমন, দুটি ঘ্রাণের মধ্য থেকে একটি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ঘ্রাণ দুটি যত কাছাকাছি বা একরকম হয় মাছিরা তত বেশি সময় নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকে, ঠিক যেন এরা প্রতিটি সুবিধা ও অসুবিধার হিসাব মেলাচ্ছে!
এদের সামনে যখন সুস্বাদু অথচ পুষ্টিহীন কোনো খাবার ও তেতো কিন্তু পুষ্টিকর কোনো বস্তু রাখা হয় তখন এরা সার্বিক লাভ-ক্ষতির হিসেব কষে ফেলে। পুষ্টি পাওয়ার আশায় এরা সেই বাজে স্বাদের খাবারটি সহ্য করেই খেয়ে নেয়।
বড় কোনো পুরস্কারের সঙ্গে যদি ঝুঁকি থাকে তবে মাছিরা ঝুঁকির পথ না হেঁটে নিশ্চিত ছোট কোনো পুরস্কারের দিকেই পা বাড়ায়। তবে এরা খুব ক্ষুধার্ত বা চাপে থাকলে এ আচরণের ব্যতিক্রম ঘটে।
ইতিবাচক ও নেতিবাচক অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সুস্থ মাছিরা অচেনা বা সন্দেহজনক কোনো ঘ্রাণের দিকে গিয়ে দেখতে রাজি থাকে সেখানে কী আছে। তবে মানসিক চাপে থাকা মাছিরা সেই ঝুঁকিটুকুও নিতে চায় না।
মাছির মতোই মাঝেমধ্যে আমাদের ভেতরের মানসিক অবস্থা বা আবেগ আমাদের বিচারবুদ্ধিকে ঘোলাটে করে ফেলে। তবে একইসঙ্গে এরা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, নিজের ও আশপাশের অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি ভেতরের এসব অনুভূতি মাঝেমধ্যে সঠিক ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে।
Ref: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ছবি: ম্যাগনিফিক
#পোকামাকড়ের_দুনিয়া_থেকে #জীবনে_সঠিক_সিদ্ধান্ত_নেওয়া