Wooden EyeGlasses

Wooden EyeGlasses Cool photos, videos, funs, articles, tips for conscious fans and followers. I try to learn every moment and try to share everyone.

পোকামাকড়ের দুনিয়া থেকে জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ৫ পাঠচলতি কোনো ধারাকে উল্টে দিতে চাইলে সিদ্ধান্তহীনতায় থাকা মানুষদের ...
24/08/2026

পোকামাকড়ের দুনিয়া থেকে জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ৫ পাঠ

চলতি কোনো ধারাকে উল্টে দিতে চাইলে সিদ্ধান্তহীনতায় থাকা মানুষদের নিয়ে চিন্তিত হবেন না, বরং আরও বেশি মানুষকে এই নিরপেক্ষ ভূমিকা গ্রহণে উৎসাহিত করুন।

চিন্তাশক্তি ও বিচারবুদ্ধির দিক থেকে নিজেদের বিবর্তনের শীর্ষে ভাবতেই ভালোবাসেন মানুষ। তবে অনেক চিন্তাভাবনার পর দিনশেষে ভুল সিদ্ধান্তটাই নিতে দেখা যায়।

অন্যদিকে, পোকামাকড়দের সরিষার দানার মতো ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক থাকলেও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এদের রয়েছে বিস্ময়কর সক্ষমতা ও জ্ঞান।

বিবিসি লিখেছে, পোকামাকড়ের সমস্যা সমাধানের অনন্য এসব কৌশল দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাস্তব জীবনের নানাক্ষেত্রে জটিল সমস্যা সমাধানের ‘অ্যালগরিদম’ তৈরি করছেন গবেষকরা।

কীটপতঙ্গের জগৎ থেকে সঠিক ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কয়েকটি পাঠ জেনে নেওয়া যাক–

১. পিঁপড়ার নিখুঁত কৌশল

হাতে অগুণতি বিকল্প থাকলে সেখান থেকে সেরা পথটি বেছে নেওয়া মানুষের জন্য বেশ কঠিন। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘চয়েস ওভারলোড’।

খাবারের নতুন কোনো উৎসের সন্ধানে বের হওয়ার সময় পিঁপড়ারাও ঠিক এমন দ্বিধাদ্বন্দ্বের মুখে পড়ে। তবে বিবর্তনের ধারায় এরা এমন জটিল পরিস্থিতির সমাধান বের করেছে, যা সব প্রজাতির পিঁপড়ার মধ্যেই দেখা মেলে।

শুরুতে কিছু রোমাঞ্চপ্রিয় পিঁপড়া নিরাপদ বাসা ছেড়ে এলোমেলোভাবে খাবারের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে। এরা সব অপশন খোলা রেখে আলাদা আলাদা পথে সামনে এগোতে থাকে।

চলাচলের পথে মাটিতে ‘ফেরোমোন’ নামের এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থের চিহ্ন রেখে যায়, যাতে পিছনের পিঁপড়ারা তা অনুসরণ করতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ ফেরোমোন বাতাসে উবে যায় ও পিঁপড়ারা সাধারণত সবচেয়ে কড়া গন্ধের পথটিই বেছে নেয়।

যে পিঁপড়ারা সবচেয়ে কম সময়ে ও সহজ পথে খাবার খুঁজে পেয়ে ফিরে আসে এদের রেখে যাওয়া গন্ধ পুরোপুরি মিলিয়ে যাওয়ার আগেই অন্যরা এদের পিছু নেয়। ফলে একই পথে বারবার যাতায়াতের কারণে সেখানে গন্ধের মাত্রা আরও গাঢ় হতে থাকে।

অন্যদিকে, যেসব পথ দীর্ঘ বা কঠিন সেগুলোতে ফেরোমোন উবে গিয়ে একসময় চিহ্ন মুছে যায়। এভাবে একক কোনো পিঁপড়া আলাদা করে পুরো নকশা না জানলেও পুরো কলোনি দলগতভাবে সবচেয়ে কম সময়ের ও কার্যকর পথটি খুঁজে বের করে নেয়।

বেলজিয়ামের ‘ইউনিভার্সিট লিবারে ডি ব্রাসেলস’-এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ল্যাবের সহ-পরিচালক মার্কো দোরিগো বলেছেন, “এর মূল শিক্ষা হচ্ছে, কোনো কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই চমৎকার ও কার্যকর সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। একজন একক পিঁপড়ার সামর্থ্য ও তথ্য সীমিত হলেও এরা দলগতভাবে বড় ও জটিল সমন্বয় সমস্যার সমাধান করে ফেলে।”

পিঁপড়ার এ কৌশলকে বলে ‘অ্যান্ট কলোনি অপটিমাইজেশন’। বর্তমানে এ ধারণাকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলা অ্যালগরিদম বিশ্বজুড়ে মানুষের যাতায়াত, টেলিকমিউনিকেশন, পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

যেমন, রেলপথের সময়সূচি ও নেটওয়ার্কে তথ্যের আদান-প্রদান সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য বিশেষজ্ঞরা এ অ্যালগরিদম ব্যবহার করছেন।

২. মৌমাছির গণতন্ত্র

নতুন বাসা খোঁজার ক্ষেত্রে মৌমাছিরা পিঁপড়াদের নিখুঁত কৌশলের মতোই বেশ কাছাকাছি পদ্ধতি অনুসরণ করে।

পিঁপড়াদের মতো মৌমাছিদের ক্ষেত্রে প্রথমে কিছু স্কাউট মৌমাছি উদ্দেশ্যহীনভাবে এলোমেলো উড়ে গিয়ে সম্ভাব্য নতুন স্থানের খোঁজ করে। তবে ফেরোমোন রাসায়নিকের চিহ্ন রেখে যাওয়ার বদলে এরা সরাসরি চাকে ফিরে এসে নিজেদের পছন্দের স্থান সম্পর্কে অন্য মৌমাছিদের জানায়।

নতুন জায়গাটি কতটা নিরাপদ, কতটা কাছে বা দূরে, কতটা বড় বা সুবিধার সে অনুসারে এরা দেহ দুলিয়ে চাকের সঙ্গী মৌমাছিদের সামনে এক বিশেষ ধরনের নাচ দেখায়, যাকে বলে ‘ওয়াগল ড্যান্স’। নতুন স্থানটি যত চমৎকার ও উপযোগী মনে হয় এদের নাচের গতি ও স্থায়িত্ব তত দীর্ঘ ও আনন্দময় হয়।

ওয়াগল ড্যান্সের মাধ্যমে নতুন জায়গার সঠিক দিক ও দূরত্বের নিখুঁত বিবরণও তুলে ধরে মৌমাছি। এরপর তথ্যটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আরও একদল মৌমাছি সেই জায়গায় যায়।

এরা ফিরে এসে নিজেদের নাচের মাধ্যমে আগের স্কাউটদের সমর্থন জানায় নয়ত নতুন কোনো স্থানের প্রস্তাব উপস্থাপন করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নির্দিষ্ট এক পছন্দনীয় স্থানকে কেন্দ্র করে এদের মধ্যে ঐক্য গড়ে উঠলে বহু মৌমাছি একই স্থানের পক্ষে ইতিবাচক নাচ পরিবেশন করে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করে।

মানব সমাজের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মতো নির্দিষ্ট সংখ্যাধিক্যে পৌঁছানোর পর এরা সবাই মিলে সেই নতুন বাসস্থানে স্থানান্তরিত হয়।

৩. ঘাসফড়িংয়ের নিরপেক্ষতা

কোনো দল যদি দুটি ভিন্ন মতে বিভক্ত হয়ে পড়ে তবে এদের চিন্তাভাবনা বদলানো বেশ কঠিন। এ ধরনের বিতর্ক দ্রুতই দ্বিমুখী বা সংঘাতময় পর্যায়ে রূপ নেয়, যা সবাইকে আরও গোঁড়া করে তোলে।

ঘাসফড়িং বা পঙ্গপালের ওপর পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণা এ পরিচিত জটিলতা থেকে উত্তরণের পথ দেখাচ্ছে। গবেষণায় উঠে এসেছে, কিছু উড়তে না পারা স্বল্প বয়সী ঘাসফড়িং ডানার অভাবে ওড়ার বদলে পায়ে হেঁটে বা মার্চ করে যাতায়াত করে।

যুক্তরাজ্যের ‘ইউনিভার্সিটি অফ বাথ’-এর গাণিতিক জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক ক্রিশ্চিয়ান ইয়েটস তার গবেষণায় এসব ঘাসফড়িংকে বৃত্তাকার এক স্থানে রেখে পর্যবেক্ষণ করেছেন যে এরা সমষ্টিগতভাবে কীভাবে চলাচলের দিক নির্ধারণ করে। তিনি বলেছেন, তারা কিছুক্ষণ থেমে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকার পর হঠাৎই সবাই মিলে চলাচলের দিক বদলে ফেলছে। ঘাসফড়িংগুলোর থমকে দাঁড়ানোর এ সংক্ষিপ্ত মুহূর্তেই বেশি সংখ্যক ঘাসফড়িং হাঁটা থামিয়ে এক ধরনের ‘নিরপেক্ষ’ ভূমিকা নেয়। এ নিরপেক্ষতাই পুরো দলকে একটি সিদ্ধান্ত থেকে বের হয়ে নতুন ঐকমত্যে পৌঁছাতে সহায়তা করে।

ইয়েটস ১৯ জন মানুষের ওপরও একই রকম পরীক্ষা চালিয়েছেন। সেই খেলায় অংশগ্রহণকারীদের সামনে দুটি বিকল্প ছিল, যেমন এক্স বা ওয়াই বেছে নেওয়া বা নিরপেক্ষ বা ভোট দেওয়া থেকে দূরে থাকা।

ঠিক ঘাসফড়িংয়ের মতোই দেখা যায় মানুষের সামনে যখন নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ থাকে তখন তারা অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে আরও ‘দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে’ ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছে।

ইয়েটস বলেছেন, বড় ও সক্রিয় একটি দলে অনেক ছোট ছোট স্বতন্ত্র মতামত থাকে, যা একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। ফলে সার্বিক দিক পরিবর্তন করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তবে দলের অনেকেই যদি সাময়িকভাবে হলেও নিরপেক্ষ অবস্থান নেয় তখন কার্যকর সিদ্ধান্তগ্রহণকারীর সংখ্যা কমে যায়।

ইয়েটস বলেছেন, “সক্রিয় ভোটারের সংখ্যা কমে এলে সামান্য একটি প্রভাব, যেমন ছোট একটি দলের অন্য দিকে হাঁটা শুরু করা, নতুন কোনো তথ্য বা দু-একজনের মত পরিবর্তন পুরো দলের সিদ্ধান্তের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।”

দিনশেষে ঘাসফড়িংয়ের আচরণ আমাদের শেখায়, সবার জন্য পুনর্বিবেচনার পরিবেশ তৈরি করতে ও ঐকমত্যে পৌঁছাতে নিরপেক্ষতা এক ধরনের প্রয়োজনীয় বিরতি বা সুযোগ তৈরি করে দেয়।

এমন আচরণ থেকে ইঙ্গিত মেলে, চলতি কোনো ধারাকে উল্টে দিতে চাইলে সিদ্ধান্তহীনতায় থাকা মানুষদের নিয়ে চিন্তিত হবেন না, বরং আরও বেশি মানুষকে এই নিরপেক্ষ ভূমিকা গ্রহণে উৎসাহিত করুন।

৪. তেলাপোকার ব্যক্তিত্ব

যে কোনো বিতর্কে অনেকগুলো প্রভাবশালী বা একগুঁয়ে ব্যক্তিত্বের মানুষ উপস্থিত থাকলে কোনো যৌথ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। ‘প্রধান চরিত্র’ বা একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তারে অভ্যস্ত মানুষেরা প্রায়ই আলোচনার মোড় নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নেয়, যা পুরো দলের যৌথ মতামতকে চাপা দেয়।

তবে তেলাপোকাদের নিয়ে করা এক গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। দলের ভেতরে আলাদা ও শক্ত ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি প্রকৃতপক্ষে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করতে পারে।

সব তেলাপোকার স্বভাব এক নয়। কিছু তেলাপোকা সাহসী ও অনুসন্ধানী প্রকৃতির হলেও অন্যরা বেশ ভীতু ও লাজুক। জাপানের ‘টোকিও মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি’র সহকারী অধ্যাপক আইজাক প্ল্যানাস-সিটজা তেলাপোকার দলবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ার ওপর কিছু কম্পিউটার সিমুলেশন চালান।

যেমন, রেফ্রিজারেটরের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট অন্ধকার কোণে এরা কীভাবে একসঙ্গে আশ্রয় নেয় তা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তিনি এ সিমুলেশন সিস্টেমে তেলাপোকাদের বৈশিষ্ট্যে তিন ধরনের পরিবর্তন আনেন। কোনো ব্যক্তিত্বের পার্থক্য না রাখা, সামান্য পার্থক্য রাখা ও প্রচুর ব্যক্তিত্বের বৈচিত্র্য রাখা।

ফলাফলে উঠে এসেছে, যেসব মডেলে প্রতিটি তেলাপোকার আচরণ অবিকল একই রকম ছিল সেগুলো বাস্তব জগতের তেলাপোকাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধারার কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারেনি।

অন্যদিকে, যেসব দলে অনেক ব্যক্তিত্বের বৈচিত্র্য ছিল এরা পরস্পরের সঙ্গে বেশি যোগাযোগের কারণে অনেক দ্রুত সমষ্টিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছে।

প্ল্যানাস-সিটজা বলেছেন, “আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম। কিছু প্রবণতা দেখার আশা থাকলেও এত স্পষ্ট ও পুনরাবৃত্তিমূলক ধরন আশা করিনি।”

এর মানে, কেবল সাহসী বা অনুসন্ধানী তেলাপোকাদের দল উপযুক্ত আশ্রয় খুঁজে বের করে সেখানে দলবদ্ধ হতে বেশ সমস্যায় পড়ে। কারণ এরা অতিরিক্ত চলাফেরা করে। আবার অন্যদিকে, অতিরিক্ত ভীতু তেলাপোকার দল হয়ত খুব দ্রুত কোথাও থিতু হয়, তবে তাদের ভুল বা অনিরাপদ কোনো আশ্রয় নির্বাচনের ঝুঁকি থেকে যায়।

প্ল্যানাস-সিটজা বলেছেন, “সহযোগিতার মাত্রা ও আচরণের বৈচিত্র্যের মধ্যকার ভারসাম্যের ওপরই সমষ্টিগত বুদ্ধিমত্তা বা ‘কালেক্টিভ ইন্টেলিজেন্স’ নির্ভর করে। এত ক্ষুদ্র প্রাণীর ক্ষেত্রে যদি ব্যক্তিত্ব গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে তবে মানুষের মতো জটিল সামাজিক জীবদের ওপর এর প্রভাব কতটা গভীর তা সহজেই অনুমেয়।”

৫. মাছির আত্মসচেতনতা

অনেক সময় যুক্তিসঙ্গত মনে করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে আমরা নিজেদের মনের ভেতরের অনুভূতি বা ‘গাট ফিলিং’কে দমন করি। এরপর ভেতরের মন তা মানতে চায় না। আবার কখনো কখনো ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে আমরা অন্ধের মতো নিজস্ব ধারণার পেছনে ছুটি।

মাছি বা ফ্রুট ফ্লাই আমাদের শেখাতে পারে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় আরও আত্ম-সচেতন হওয়া যায়।

গবেষণায় উঠে এসেছে, ভেতরের অনুভূতি ও বাইরের বিভিন্ন তথ্যকে একসঙ্গে মিলিয়ে প্রতিটা পদক্ষেপ ঠিক করার ক্ষেত্রে মাছিরা সংবেদনশীল। যেমন, দুটি ঘ্রাণের মধ্য থেকে একটি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ঘ্রাণ দুটি যত কাছাকাছি বা একরকম হয় মাছিরা তত বেশি সময় নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকে, ঠিক যেন এরা প্রতিটি সুবিধা ও অসুবিধার হিসাব মেলাচ্ছে!

এদের সামনে যখন সুস্বাদু অথচ পুষ্টিহীন কোনো খাবার ও তেতো কিন্তু পুষ্টিকর কোনো বস্তু রাখা হয় তখন এরা সার্বিক লাভ-ক্ষতির হিসেব কষে ফেলে। পুষ্টি পাওয়ার আশায় এরা সেই বাজে স্বাদের খাবারটি সহ্য করেই খেয়ে নেয়।

বড় কোনো পুরস্কারের সঙ্গে যদি ঝুঁকি থাকে তবে মাছিরা ঝুঁকির পথ না হেঁটে নিশ্চিত ছোট কোনো পুরস্কারের দিকেই পা বাড়ায়। তবে এরা খুব ক্ষুধার্ত বা চাপে থাকলে এ আচরণের ব্যতিক্রম ঘটে।

ইতিবাচক ও নেতিবাচক অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সুস্থ মাছিরা অচেনা বা সন্দেহজনক কোনো ঘ্রাণের দিকে গিয়ে দেখতে রাজি থাকে সেখানে কী আছে। তবে মানসিক চাপে থাকা মাছিরা সেই ঝুঁকিটুকুও নিতে চায় না।

মাছির মতোই মাঝেমধ্যে আমাদের ভেতরের মানসিক অবস্থা বা আবেগ আমাদের বিচারবুদ্ধিকে ঘোলাটে করে ফেলে। তবে একইসঙ্গে এরা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, নিজের ও আশপাশের অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি ভেতরের এসব অনুভূতি মাঝেমধ্যে সঠিক ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে।

Ref: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ছবি: ম্যাগনিফিক

#পোকামাকড়ের_দুনিয়া_থেকে #জীবনে_সঠিক_সিদ্ধান্ত_নেওয়া

রান্নায় সিলিন্ডার গ্যাসের খরচ অর্ধেক হবে যে নিয়মেআগুনের শিখা হলুদ হওয়া মানে গ্যাস খরচ হচ্ছে বেশি, কারণটা জেনে নিন।বর্তমা...
24/08/2026

রান্নায় সিলিন্ডার গ্যাসের খরচ অর্ধেক হবে যে নিয়মে

আগুনের শিখা হলুদ হওয়া মানে গ্যাস খরচ হচ্ছে বেশি, কারণটা জেনে নিন।

বর্তমান সময়ে পারিবারিক বাজেট বা মাসিক গৃহস্থালি খরচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে রান্নার এলপিজি বা সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যয় এক বড় চিন্তার কারণ। অনেকেই খেয়াল করেন না যে, রান্নাঘরে অবচেতনে করা কিছু সাধারণ ভুল প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মূল্যবান জ্বালানি অপচয় করে।

জ্বালানি ও ফলিত রসায়ন বিজ্ঞানীদের মতে, সিলিন্ডার গ্যাস দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার পেছনে সিলিন্ডারের ত্রুটি নয়, বরং রান্নার ভুল পদ্ধতিই প্রধানত দায়ী।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি গবেষণা সংস্থার বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্নার অভ্যাসে সামান্য কিছু বৈজ্ঞানিক পরিবর্তন আনলে প্রতিটি সিলিন্ডারের স্থায়িত্ব অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব, যা মাসিক খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনে।

গ্যাসের অপচয় রুখতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. নূরুল ইসলাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘এনার্জি স্টার’ (Energy Star) কর্মসূচির গবেষকেরা সিলিন্ডার গ্যাস সাশ্রয়ের ৫টি প্রধান বৈজ্ঞানিক নিয়ম এবং তার উৎসগুলো বিস্তারিত আলোচনা করেছেন [১]:

নীল শিখার বিজ্ঞান ও বার্নার পরিচ্ছন্নতা

যুক্তরাষ্ট্রের ‘এনার্জি স্টার’ কর্মসূচির গবেষকেরা ব্যাখ্যা করেছেন যে, রান্নার সময় চুলার আগুনের শিখার রং সবসময় লক্ষ্য করা উচিত।

সাশ্রয় হওয়ার কারণ: চুলার আগুন সম্পূর্ণ ‘নীল’ হওয়ার অর্থ হল, গ্যাস শতভাগ পুড়ছে এবং সর্বোচ্চ তাপ উৎপন্ন করছে। তবে শিখার রং যদি হলুদ বা লালচে হয়, তবে বুঝতে হবে বার্নারের ছিদ্রে ময়লা বা কার্বন জমে অক্সিজেন সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

হলুদ শিখা মানে অর্ধেক গ্যাস অপচয় হয়ে ধোঁয়া তৈরি করছে। তাই প্রতি মাসে অন্তত একবার চুলার বার্নার খুলে ভালো করে পরিষ্কার করা গ্যাস সাশ্রয়ের প্রথম প্রধান নিয়ম।

ঢাকনা ব্যবহার ও প্রেসার কুকারের জাদুকরী ক্ষমতা

বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জার্নাল অফ ক্লিনার প্রোডাকশন’-এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকনা ছাড়া রান্না করলে বাতাসে সাধারণের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি তাপ অপচয় হয়।

সাশ্রয় হওয়ার কারণ: যেকোনো খাবার সেদ্ধ বা রান্নার সময় কড়াই বা পাতিল সবসময় শক্ত ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দেওয়া উচিত। এর চেয়েও কার্যকর হল, রান্নায় প্রেসার কুকার ব্যবহার করা।

প্রেসার কুকারের অভ্যন্তরীণ উচ্চ বায়ুচাপের কারণে পানি ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়ে অনেক বেশি তাপমাত্রায় ফোটে, যা রান্নার সময়কে প্রায় ৭০ শতাংশ কমিয়ে দেয় এবং সিলিন্ডার গ্যাস সাশ্রয় করে।

ভেজা পাতিল বর্জন ও বরফ গলানোর নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয় বা ‘ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ এনার্জি’- ব্যবহাকারিদের নির্দেশিকায় রান্নার পাত্রের বাহ্যিক আর্দ্রতা নিয়ে এই নির্দেশনা দেওয়া আছে।

সাশ্রয় হওয়ার কারণ: অনেকেই ধোয়া ভেজা পাতিল সরাসরি চুলার ওপর বসিয়ে দেন। বিজ্ঞান বলছে, পাতিলের বাইরের পানিটুকু বাষ্পীভূত করতেই চুলা প্রথম কয়েক মিনিট অতিরিক্ত গ্যাস পুড়িয়ে ফেলে।

তাই কড়াই বা পাতিল চুলার দেওয়ার আগে তোয়ালে দিয়ে ভালো করে মুছে সম্পূর্ণ শুষ্ক করে নেওয়া উচিত।

একইভাবে, ফ্রিজ থেকে বের করা বরফায়ীত মাছ বা মাংস সরাসরি চিলিং বা রান্না না করে, রান্নার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে সাধারণ ঘরের তাপমাত্রার পানিতে রেখে বরফ পুরোপুরি গলিয়ে রান্না করলে গ্যাস অনেক কম খরচ হয়।

পাত্রের সঠিক মাপ ও চুলার মাঝারি আঁচ

আবাসন ও রান্নাঘর সজ্জা বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘আর্কিটেকচারাল ডাইজেস্ট’-এর প্রতিবেদনে ডিজাইনাররা পাত্রের আকারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

সাশ্রয় হওয়ার কারণ: ছোট বার্নারে অতিরিক্ত বড় পাতিল বা বড় বার্নারে খুব ছোট কড়াই বসালে আগুনের শিখা পাত্রের চারপাশ দিয়ে বাইরে বাতাসে উবে যায়, যা পাতিলের তলদেশে বিন্দুমাত্র তাপ দেয় না।

পাত্রের তলদেশ যেন চুলার বার্নারের চেয়ে সামান্য বড় হয়, তা নিশ্চিত করা উচিত। এছাড়া, রান্নার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ‘হাই স্পিড’ বা তীব্র আঁচে চুলা না জ্বালিয়ে, বলক আসার পরপরই চুলার আঁচ মাঝারি বা নিচু করে দেওয়া উচিত।

কারণ অতিরিক্ত তাপ খাবার দ্রুত সেদ্ধ করে না, শুধু পানি বাষ্প করে গ্যাস অপচয় করে।

সব উপকরণ একবারে গোছানো

‘আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অফ ফ্যামিলি অ্যান্ড কনজিউমার সায়েন্সেস’-এর ‘ফ্যামিলি অ্যান্ড কনজিউমার সায়েন্সেস রিসার্চ জার্নাল’-এ প্রকাশিত সমীক্ষায় দেখা গেছে, রান্নাঘরে অগোছালো আচরণের কারণে প্রায় ২০ শতাংস গ্যাস অপচয় হয়।

সাশ্রয় হওয়ার কারণ: চুলা জ্বালিয়ে রেখে মাঝখানে পেঁয়াজ কাটা, মসলা খোঁজা বা ফ্রিজ থেকে সবজি বের করা হল ভুল অভ্যাস। একে বলা হয় সময়ের অপচয়, যা চুলার গ্যাসকে অনর্থক পুড়িয়ে ফেলে।

রান্নার সমস্ত উপাদান, মসলা এবং পানি, টেবিলে একবারে গুছিয়ে নিয়ে তবেই চুলা জ্বালানো উচিত। এতে রান্নার ধারাবাহিকতা সচল এবং গ্যাসের অপচয় কমে।

পরামর্শ

রান্নার এই ছোট ছোট বৈজ্ঞানিক নিয়মগুলো মেনে চলার পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে সিলিন্ডারের রেগুলেটর, পাইপ এবং হোস পাইপের সংযোগস্থলে সাবানের ফেনা দিয়ে কোনো গ্যাস লিকেজ হচ্ছে কি-না, তা পরীক্ষা করা সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

Ref: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

#রান্নায়_সিলিন্ডার_গ্যাস

ফ্যাটি লিভার বা যকৃতের চর্বি কাটাতে আসলেই কি বিটের রস কার্যকর?জেনে নিন বিটজুসের সঙ্গে কী মেশালে উপকার মিলবে বেশি। আর কাদ...
24/08/2026

ফ্যাটি লিভার বা যকৃতের চর্বি কাটাতে আসলেই কি বিটের রস কার্যকর?

জেনে নিন বিটজুসের সঙ্গে কী মেশালে উপকার মিলবে বেশি। আর কাদের জন্য ক্ষতিকর।

আধুনিক প্রক্রিয়াজাত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ফাস্টফুড গ্রহণ এবং অলস জীবনযাত্রার কারণে বর্তমান নগর জীবনে বড় যে স্বাস্থ্য সংকটটি দেখা দিয়েছে, তা হল যকৃৎ বা লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা— যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘ফ্যাটি লিভার’ বা ‘এনএএফএলডি’ বলা হয়।

লিভারে মেদ জমলে তা অলক্ষ্যেই শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিপাক ক্রিয়াকে অবশ করে দেয় এবং পরবর্তী সময়ে লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।

ফ্যাটি লিভার সমস্যায় ঘরোয়া নিরাময় হিসেবে, ইদানীং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও রূপচর্চার বাজারে গাঢ় লাল রংয়ের ‘বিটরুট’ বা বিটের জুস পানের প্রচারণা দেখা যায়।

‘হেলথ ডটকম’ ও ‘হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং’-এর প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদেরা জানিয়েছেন, বিটের জুস সরাসরি কোনো জাদুকরী ওষুধ নয়; তবে এতে থাকা বিশেষ খনিজ উপাদান লিভারের চর্বি গলিয়ে কোষে নতুন করে প্রাণ ফেরাতে ভূমিকা রাখে।

‘বেটেইন’ ও লিভারের চর্বি কাটার বিজ্ঞান

মার্কিন পুষ্টিবিদ জিলিয়ান কুবাল্লা বলেন, “বিটরুটের গাঢ় লাল রংয়ের প্রধান উৎস হল, এর ভেতরে থাকা ‘বেটেইন’ নামক শক্তিশালী ‘নাইট্রোজেনাস’ যৌগ। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, এই বেটেইন উপাদান লিভারের কোষগুলোতে অতিরিক্ত লিপিড বা চর্বি জমা হওয়ার প্রক্রিয়াকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করে।”

এটি লিভারের ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ কমিয়ে ফ্রি-র‌্যাডিক্যাল ধ্বংস করার পাশাপাশি ধমনী থেকে ক্ষতিকর চর্বি বের করে দিয়ে লিভারের কার্যক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।

‘নাইট্রেট’ এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি

বিজ্ঞান বলছে, বিটের জুসে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক ‘নাইট্রেট’ থাকে, যা চিবানো বা পানের পর মানুষের মুখের লালার সঙ্গে মিশে ‘নাইট্রিক অক্সাইড’ গ্যাসে রূপান্তরিত হয়।

এই নাইট্রিক অক্সাইড মূলত লিভারের সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলোকে শিথিল বা ‘রিল্যাক্সড’ করে দেয়, ফলে যকৃতে রক্ত ও অক্সিজেনের সঞ্চালন বেড়ে যায়।

লিভারের উন্নত রক্ত সঞ্চালন, এর অভ্যন্তরীণ প্রদাহ শান্ত করতে এবং ‘হেপাটিক স্টিয়াটোসিস’ বা চর্বির মাত্রা কমাতে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।

লিভার এনজাইম স্বাভাবিক করা

জিলিয়ান কুবাল্লা বলেন ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ‘হেপাটোলজি’ সমীক্ষায় দেখা গেছে, ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা যখন একটানা ১২ সপ্তাহ বা ৩ মাস নিয়মিত, পরিমিত পরিমাণে বিটের রস বা নির্যাস গ্রহণ করেছেন, তখন তাদের রক্ত পরীক্ষায় লিভারের ক্ষতিকর এনজাইম, যেমন- ‘এএলটি’ এবং ‘এএসটি’-এর মাত্রা নাটকীয়ভাবে স্বাভাবিক সীমারেখায় নেমে এসেছে।”

এটি লিভারের কোষের অকাল ক্ষয় সরাসরি রোধ করতে সহায়তা করে।

বিটের রস তৈরির বৈজ্ঞানিক নিয়ম ও পরিমাণ

বিটের সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ বজায় রাখার পাশাপাশি এর সিট্রাস উপাদান অক্ষুণ্ণ রাখতে চিকিৎসকেরা একটি বিশেষ পদ্ধতির কথা জানিয়েছেন।

রেসিপি ও মেশানোর পদ্ধতি: ১টি মাঝারি আকারের কাঁচা বিটরুট ভালো করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে টুকরো করে নিতে হবে। এবার বেন্ডারে সামান্য বিশুদ্ধ পানি এবং সঙ্গে ১ চা-চামচ তাজা লেবুর রস ও সামান্য আদা কুচি দিয়ে ব্লেন্ড করতে হবে।

লেবুর ভিটামিন-সি বিটের আয়রন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টকে মস্তিস্ক ও লিভারে সহজে শোষণ হতে সাহায্য করে।

পরিমাপ: লিভারের সুরক্ষায় সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৪ দিন সকালে খালি পেটে বা নাস্তার সঙ্গে ১ গ্লাস (প্রায় ২০০ মিলি) তাজা বিটের জুস পান করাই যথেষ্ট। অতিরিক্ত পানে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

বিট জুসের সঙ্গে লেবু ও আদার মিশ্রণের উপকারিতা

পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, শুধু বিটের রসের চেয়ে এর সঙ্গে তাজা লেবুর রস এবং আদা কুচি মিশিয়ে গ্রহণ করলে লিভার, ধমনী এবং মেটাবলিজমের ওপর ‘সিনার্জিস্টিক’ বা সম্মিলিত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটালের ক্লিনিক্যাল পুষ্টিবিদ ডা. এলিজাবেথ রবিনসন এবং হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষকেরা এই মিশ্রণের ৩টি বড় বৈজ্ঞানিক সুফল এবং ২টি ক্ষতিকর অপকারিতা বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছেন।

আয়রন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের শোষণ

ডা. এলিজাবেথ রবিনসন ব্যাখ্যা করেন, “বিটরুটে প্রচুর পরিমাণে উদ্ভিজ্জ আয়রন বা ‘নন-হেম আয়রন’ এবং ‘বেটালাইন’ নামক শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে।”

মানুষের শরীর প্রাকৃতিকভাবে উদ্ভিজ্জ আয়রন, সহজে শুষে নিতে পারে না। তবে বিটের রসের সঙ্গে যখন লেবুর তাজা রস মেশানো হয়, তখন লেবুর উচ্চ মাত্রার ভিটামিন-সি বিটের নন-হেম আয়রনের রাসায়নিক রূপ পরিবর্তন করে তাকে ‘ফেরাস’ আয়রনে রূপান্তর করে।

এই ফেরাস রূপটি মানুষের পরিপাকতন্ত্রে চার গুণ দ্রুত ও সহজে শোষিত হয়, যা রক্তস্বল্পতা নিমেষেই দূর করে।

ফ্যাটি লিভারের প্রদাহ ও পিত্তরসের ক্ষরণ দ্বিগুণ নিঃসরণ

পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, আদার ভেতরে থাকা প্রধান সক্রিয় বায়ো-অ্যাক্টিভ যৌগ ‘জিঞ্জেরল’ এবং লেবুর ‘সিট্রিক অ্যাসিড’ লিভারে গিয়ে পিত্তরস বা বাইল জুস নিঃসরণের গতি বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়।

এই পিত্তরস ধমনী ও লিভারের কোষে জমে থাকা শক্ত চর্বির কণাগুলোকে ভেঙে তরল করে শরীর থেকে ছেঁকে বের করে দেয়। ফলে ফ্যাটি লিভারের রোগীদের লিভার এনজাইম সাধারণের চেয়ে অনেক দ্রুত স্বাভাবিক সীমারেখায় নেমে আসে।

রক্তনালী পরিষ্কার ও ধমনীর উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

বিটের নিজস্ব নাইট্রেট মুখের লালার সঙ্গে মিশে যে ‘নাইট্রিক অক্সাইড’ তৈরি করে, সেটার সঙ্গে লেবুর পটাসিয়াম এবং আদার প্রদাহরোধী উপাদান মিশে আরও বেশি সময় সচল রাখতে সাহায্য করে।

এটি রক্তনালীর দেয়ালগুলোকে পরিষ্কার রাখে এবং স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায়, যার ফলে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

কড়া অপকারিতা ও চিকিৎসকদের বিশেষ সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের হেপাটোলজিস্ট (লিভার বিশেষজ্ঞ) ডা. ক্রিস্টিনা ক্যাটালানো বলেন, “মিশ্রণটি সুস্থ মানুষের জন্য আশীর্বাদ হলেও, কিছু সুনির্দিষ্ট শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।”

তীব্র গ্যাস্ট্রিক ও দাঁতের এনামেল ক্ষয়: বিটের রসের তীব্র ক্ষার এবং লেবুর রসের কড়া অ্যাসিডের মেলবন্ধনে যাদের পরিপাকতন্ত্র দুর্বল, তাদের খালি পেটে এটি পানের পর তীব্র বুক জ্বালাপোড়া, পেট মোচড়ানো কিংবা অ্যাসিড রিফ্লাক্স হতে পারে।

তাছাড়া নিয়মিত সরাসরি সিট্রাস জুস পানে দাঁতের প্রতিরক্ষামূলক সাদা এনামেল স্তর চিরতরে ক্ষয়ে যেতে পারে; তাই এই জুস সবসময় স্ট্র দিয়ে পান করা এবং পানের পর সাধারণ পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলা আবশ্যক।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য গ্লুকোজ স্পাইক: বিটরুটে প্রাকৃতিকভাবেই শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে। এর সঙ্গে যদি স্বাদের জন্য আপেল বা গাজরের রস মেশানো হয়, তবে এর আঁশ নষ্ট হয়ে তরল ফ্রুক্টোজ রক্তে মিশে ডায়াবেটিসের রোগীদের রক্তের শর্করার মাত্রা হঠাৎ বিপজ্জনক মাত্রায় বাড়িয়ে দিতে পারে।

রক্ত পাতলা করার ওষুধের সঙ্গে ক্ষতিকর প্রভাব: আদা প্রাকৃতিকভাবেই রক্তকে কিছুটা পাতলা করতে সাহায্য করে। যারা স্ট্রোক বা হার্টের ব্লকের কারণে আগে থেকেই চিকিৎসকের দেওয়া ‘অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট’ থেরাপির ওষুধ খাচ্ছেন, তারা অতিরিক্ত আদা-বিটের জুস খেলে রক্ত অতিরিক্ত পাতলা হয়ে শরীরের অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অক্সালেট ও কিডনি পাথরের ঝুঁকি

ডা. ক্রিস্টিনা ক্যাটালানো কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, “বিটরুটে প্রচুর পরিমাণে ‘অক্সালেট’ থাকে। তাই যাদের শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বেশি বা যাদের কিডনিতে পাথর বা ‘স্টোন’ হওয়ার পূর্ব ইতিহাস রয়েছে, তাদের জন্য বিটের জুস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।”

রক্তে সুগারের হঠাৎ বৃদ্ধি: বিটে প্রাকৃতিকভাবেই শর্করার পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকে, তাই ডায়াবেটিসের রোগীরা কড়া মিষ্টি উপাদান বা মধু না মিশিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত খেতে হবে।

রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া: যারা উচ্চ রক্তচাপের নিয়মিত ওষুধ খাচ্ছেন, তারা অতিরিক্ত বিটের জুস খেলে এর নাইট্রিক অক্সাইড রক্তচাপকে হুট করে বিপজ্জনক মাত্রায় নামিয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি লিভারের টক্সিন প্রস্রাবের মাধ্যমে সহজে ছেঁকে বের করতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করা আবশ্যক।

মনে রাখতে হবে

কোনো পানীয়ই রাতারাতি ফ্যাটি লিভার সারাতে পারে না, যদি না দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা থেকে প্রক্রিয়াজাত চিনি, ডালডা, তেল ও অতিরিক্ত ফাস্টফুড পুরোপুরি বর্জন করা হয়।

আমেরিকান লিভার ফাউন্ডেশনের চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা, সঠিক সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং পরিমিত বিটের জুস পানের মিলিত সমন্বয়ে লিভারকে চর্বিমুক্ত ও রোগমুক্ত রাখা সম্ভব।

Ref: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

#ফ্যাটি_লিভার #যকৃতের_চর্বি_কাটাতে #বিটের_রস #বিটজুস

পুরুষের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রাকৃতিক পন্থাসক্ষমতার ঘাটতি হতে পারে হৃদরোগের গোপন সংকেত।বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের...
24/08/2026

পুরুষের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রাকৃতিক পন্থা

সক্ষমতার ঘাটতি হতে পারে হৃদরোগের গোপন সংকেত।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শারীরিক শক্তি ও গতি ২০ বছরের তরুণের মতো হুবহু এক থাকা প্রাকৃতিকভাবেই অসম্ভব।

তবে বয়স বাড়লেও সুস্থ ও আনন্দদায়ক জীবন উপভোগ করার অজস্র বিজ্ঞানসম্মত উপায় রয়েছে।

পুরুষদের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল ও সাধারণ সমস্যা হল ‘ইরেকটাইল ডিসফাংশন’ বা শারীরিক সক্ষমতার ঘাটতি। যা অন্তত ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়।

অনেকেই সমস্যাটিকে একটি স্থায়ী অক্ষমতা ভেবে তীব্র মানসিক অবসাদে ভোগেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নানান ক্ষতিকর ওষুধ খাওয়া শুরু করেন।

তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যানুসারে, জীবনযাত্রায় কিছু প্রাকৃতিক ও সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন আনলে কোনো ওষুধ ছাড়াই এই জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের ‘ওয়েট সেন্টার’ ও স্বাস্থ্য প্রকাশনায় চর্মরোগ ও ইউরোলজি’র বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রায় ৩০ শতাংশ পুরুষের ক্ষেত্রে এই শারীরিক সক্ষমতার হ্রাস, মূলত শরীরে বাসা বাঁধা মারাত্মক হৃদরোগ বা ‘কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ’-এর প্রথম গোপন সংকেত।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্রিঘাম অ্যান্ড উইমেনস হসপিটাল’-এর ইন্টারনিস্ট এবং হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের প্রধান চিকিৎসা সম্পাদক ডা. হাওয়ার্ড ই. লেওয়াইন এই বিষয়ের প্রধান কারণ এবং সেসব কাটিয়ে ওঠার প্রাকৃতিক পন্থার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

সক্ষমতা হ্রাসের পেছনের কারণ

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্রিঘাম অ্যান্ড উইমেনস হসপিটাল’-এর ইন্টারনিস্ট এবং হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের প্রধান চিকিৎসা সম্পাদক ডা. হাওয়ার্ড ই. লেওয়াইন বলেন, “প্রায় ৭৫ শতাংশ পুরুষের ক্ষেত্রে এই সমস্যার কারণ অত্যন্ত জটিল। এটি মূলত রক্তনালীর রোগ, স্নায়ুবিক জটিলতা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা প্রোস্টেটের অস্ত্রোপচারের কারণে হয়ে থাকে।”

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা দেখা দেয়, ধমনীতে চর্বি জমে যাওয়া থেকে; যা রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে।

এছাড়াও অতিরিক্ত কাজের চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিষণ্ণতা বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও এর জন্য দায়ী হতে পারে।

সক্ষমতা ফিরে পাওয়ার প্রাকৃতিক নিয়ম

ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিকভাবে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে হার্ভার্ডের বিশেষজ্ঞরা ৫টি কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রতিদিন ৩০ মিনিটের নিয়মিত হাঁটা

হার্ভার্ডের একটি দীর্ঘমেয়াদী গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট নিয়ম করে হাঁটলে পুরুষদের এই সক্ষমতা হ্রাসের ঝুঁকি প্রায় ৪১ শতাংশ কমে যায়। মাঝারি ধরনের সাধারণ শরীরচর্চা স্থূলতায় আক্রান্ত মধ্যবয়সী পুরুষদের রক্ত সঞ্চালন সচল রাখতে অত্যন্ত জোরালো ভূমিকা রাখে।

আস্ত শস্য ও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ সুষম ডায়েট

ম্যাসাচুসেটসের বড় আকারে করা ‘ম্যাসাচুসেটস মেল এইজিং স্টাডি’তে প্রমাণিত হয়েছে যে, ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস থেকে প্রক্রিয়াজাত মাংস, অতিরিক্ত ফাস্টফুড ও রিফাইন্ড বা পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেইট পুরোপুরি বর্জন করা উচিত।

পরিবর্তে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তাজা ফলমূল, সবুজ শাকসবজি, পূর্ণ শস্য এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডস সমৃদ্ধ সামুদ্রিক বা তাজা মাছ রাখলে এই রোগের সম্ভাবনা প্রাকৃতিকভাবেই হ্রাস পায়।

ধমনী ও রক্তনালীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা

উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা, অতিরিক্ত বাজে কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড কেবল হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকেরই প্রধান কারণ নয়; এগুলো রক্তনালী ধ্বংস করে পুরুষাঙ্গের স্বাভাবিক রক্ত প্রবাহকেও অবশ করে দেয়।

তাই নিয়মিত লিপিড প্রোফাইল পরখ করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ধমনী ভালো রাখার চেষ্টা করতে হবে।

কোমরের মাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা

স্থূলতা বা অতিরিক্ত চর্বি, শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্যকে পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়।

বৈজ্ঞানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একজন ৪২ ইঞ্চি কোমরের পুরুষের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৩২ ইঞ্চি কোমরের পুরুষের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।

তাই ওজন স্বাভাবিক মাত্রায় নামিয়ে আনা ও ধরে রাখা, হতে পারে দারুণ প্রতিষেধক।

পেলভিক ফ্লোর পেশির বিশেষ ব্যায়াম

শুধু ‘বাইসেপস’ বা ‘ট্রাইসেপস’ নয়, পেলভিক বা নিম্নাঙ্গের পেশি মজবুত করা এই রোগের সেরা প্রতিষেধক।

ব্রিটিশদের ওপর করা এক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, টানা তিন মাস দিনে দুইবার নিয়ম করে ‘কেগেল এক্সারসাইজ’ বা ‘পেলভিক ফ্লোর’ পেশির সংকোচন-প্রসারণ ব্যায়াম করলে, রক্তকে সঠিক স্থানে ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং সাধারণ জীবনযাত্রার চেয়ে অনেক দ্রুত ইতিবাচক ফল দেয়।

পরামর্শ

এই সমস্যার লক্ষণ প্রথমবার দেখা দেওয়া মাত্রই ঘরে বসে লজ্জা বা দুশ্চিন্তায় ডুবে না গিয়ে, একজন নিবন্ধিত ইউরোলজিস্ট বা চিকিৎসকের সরাসরি শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

Ref: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

#পুরুষের_শারীরিক_সক্ষমতা_বৃদ্ধির_প্রাকৃতিক_পন্থা

স্টেকের লালচে রস কি সত্যিই রক্ত? জানুন মায়োগ্লোবিনের গল্পস্টেকের টুকরো ছুরি দিয়ে কাটতেই ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে লালচে বা গো...
24/08/2026

স্টেকের লালচে রস কি সত্যিই রক্ত? জানুন মায়োগ্লোবিনের গল্প

স্টেকের টুকরো ছুরি দিয়ে কাটতেই ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে লালচে বা গোলাপি রস। দৃশ্যটি দেখে অনেকেরই প্রথম মনে হয়, এ তো রক্ত! বিশেষ করে রেয়ার বা মিডিয়াম-রেয়ার স্টেকের ক্ষেত্রে এই ধারণা আরও প্রবল।

ফলে অনেকেই এমন স্টেক খেতে অস্বস্তি বোধ করেন। কিন্তু বাস্তবতা একটু ভিন্ন।

স্টেক থেকে বের হওয়া লালচে রস রক্ত নয়। এর মূল উপাদান হলো পানি ও মায়োগ্লোবিন পেশিতে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন।

মায়োগ্লোবিনের মধ্যেই রয়েছে লৌহ বা আয়রন, আর অক্সিজেনের সঙ্গে এর রাসায়নিক অবস্থার পরিবর্তনের কারণেই মাংসে লাল, গোলাপি কিংবা বাদামি রঙ দেখা যায়।
মায়োগ্লোবিন আসলে কী?

মায়োগ্লোবিন হলো প্রাণীর পেশিকোষে থাকা একটি প্রোটিন, এর অন্যতম প্রধান কাজ পেশিতে অক্সিজেন ধরে রাখা।

এটি দেখতে ও কাজের দিক থেকে হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও দুটির ভূমিকা এক নয়। হিমোগ্লোবিন রক্তের মাধ্যমে ফুসফুস থেকে শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। আর মায়োগ্লোবিন পেশির ভেতরে অক্সিজেন সংরক্ষণ করে রাখে, যাতে পেশির প্রয়োজনের সময় সেটি ব্যবহার করতে পারে। মায়োগ্লোবিনে থাকা লৌহযুক্ত অংশই এর রঙের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই মাংসে মায়োগ্লোবিনের পরিমাণ ও তার রাসায়নিক অবস্থার ওপর মাংসের রং অনেকটাই নির্ভর করে।
তাহলে স্টেকের লাল রস আসে কোথা থেকে?

মাংস প্রক্রিয়াজাত করার সময় অধিকাংশ রক্ত বের করে দেওয়া হয়। তাই বাজারে পাওয়া সাধারণ মাংসের টুকরো থেকে যে লালচে তরল বের হয়, সেটিকে রক্ত ভাবা ঠিক নয়। স্টেকের সেই তরলের বড় অংশ পানি। এর সঙ্গে মিশে থাকা মায়োগ্লোবিন তরলটিকে লাল বা গোলাপি আভা দেয়। এই কারণেই স্টেক কাটার সময় যে দৃশ্যটি অনেকটা রক্তের মতো মনে হয়, সেটি আসলে পেশির প্রোটিন ও পানির স্বাভাবিক মিশ্রণ।

রান্নার সঙ্গে বদলে যায় মাংসের রং

মাংসের রং শুধু মায়োগ্লোবিনের পরিমাণের ওপর নয়, এর রাসায়নিক অবস্থার ওপরও নির্ভর করে। তাজা মাংসে মায়োগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হলে উজ্জ্বল লাল রং দেখা যেতে পারে। রান্নার সময় তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মায়োগ্লোবিনের গঠন ও রাসায়নিক অবস্থা পরিবর্তিত হয়।

* রেয়ার স্টেক: ভেতরের অংশ তুলনামূলকভাবে লাল বা গোলাপি থাকে।
* মিডিয়াম স্টেক: ভেতরের রং কিছুটা গোলাপি থাকে এবং মায়োগ্লোবিনের পরিবর্তনও বেশি হয়।
* ওয়েল-ডান স্টেক: বেশি তাপ ও দীর্ঘ সময় রান্নার কারণে মাংসের ভেতরের রং সাধারণত বাদামি-ধূসর হয়ে যায় এবং লালচে রসও তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। অর্থাৎ স্টেক যত বেশি রান্না করা হয়, তার ভেতরের মায়োগ্লোবিন তাপের প্রভাবে তত বেশি পরিবর্তিত হয়।

পেশির জন্য মায়োগ্লোবিন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

মায়োগ্লোবিন শুধু মাংসকে লাল দেখানোর জন্য দায়ী কোনো রঙিন উপাদান নয়। প্রাণীর শরীরের জন্য এর গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় ভূমিকা রয়েছে।

অক্সিজেন সংরক্ষণ

পেশি যখন বেশি কাজ করে, তখন তার অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যায়। মায়োগ্লোবিন পেশিতে অক্সিজেন ধরে রাখে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহারে সহায়তা করে।

দীর্ঘসময় শারীরিক কাজের সহায়তা

যেসব প্রাণী দীর্ঘ সময় ধরে সাঁতার কাটে বা ডুব দিয়ে থাকে, তাদের পেশিতে মায়োগ্লোবিনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। তিমি ও সিলের মতো সামুদ্রিক স্তন্যপায়ীদের পেশিতে উচ্চ মাত্রার মায়োগ্লোবিন থাকার বিষয়টি এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।

শক্তি উৎপাদনে ভূমিকা

পেশিকোষে অক্সিজেনের সরবরাহ শক্তি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগুলোকে সমর্থন করে। সেই প্রক্রিয়ায় মায়োগ্লোবিনের অক্সিজেন সংরক্ষণ ও সরবরাহের ভূমিকা রয়েছে।

লাল মাংস কেন পুষ্টিকর?

মায়োগ্লোবিন নিজে কোনো ‘সাপ্লিমেন্ট’ নয়। তবে মাংসে মায়োগ্লোবিনের উপস্থিতি এবং মাংসের অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের কারণে রেড মিট খাদ্য হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস হতে পারে।

গরু ও খাসির মাংসে পাওয়া যায় উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন বি১২ এবং আয়রন। বিশেষ করে হিম আয়রন শরীর তুলনামূলকভাবে সহজে শোষণ করতে পারে।

আয়রন শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রয়োজন। অন্যদিকে ভিটামিন বি১২ রক্তকণিকা তৈরি ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মায়োগ্লোবিন কি ক্ষতিকর?

সাধারণভাবে নয়। মায়োগ্লোবিন প্রাণীর পেশিতে স্বাভাবিকভাবে থাকা একটি প্রয়োজনীয় প্রোটিন। স্টেকের লাল রস দেখে সেটিকে ক্ষতিকর কোনো পদার্থ মনে করার কারণ নেই।

তবে মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, পরিমাণ এবং রান্নার পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার বিষয়টি আলাদা স্বাস্থ্যগত বিবেচনার দাবি রাখে।

রেয়ার স্টেক কি নিরাপদ?

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার, লাল রস রক্ত নয় মানেই যেকোনো কম-রান্না করা মাংস সম্পূর্ণ নিরাপদ, এমনটি বলা যাবে না। মাংস নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা, মাংসের ধরন এবং রান্নার তাপমাত্রা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কিমা বা গ্রাউন্ড মিটে জীবাণু পুরো মাংসের মধ্যে ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই এ ধরনের মাংস ভালোভাবে রান্না করা জরুরি।

অন্যদিকে পুরো টুকরো স্টেকের নিরাপত্তা নির্ভর করে মাংসের মান, ব্যবস্থাপনা ও সঠিক রান্নার ওপর। গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের জন্য খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

ভুল ধারণার অবসান

স্টেক কাটার পর প্লেটে জমে থাকা লালচে তরল দেখতে রক্তের মতো হলেও সেটি আসলে রক্ত নয়। মাংসের পেশিতে থাকা মায়োগ্লোবিন এবং পানি মিলে তৈরি করে সেই পরিচিত লাল বা গোলাপি রস।

মায়োগ্লোবিন পেশিতে অক্সিজেন সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর রান্নার তাপের সঙ্গে এর রাসায়নিক পরিবর্তনই মাংসের রং বদলে যাওয়ার অন্যতম কারণ। তাই পরের বার রেয়ার বা মিডিয়াম-রেয়ার স্টেক কাটার সময় লালচে রস চোখে পড়লে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ওটা রক্ত নয়, মাংসের ভেতরে স্বাভাবিকভাবে থাকা পানি ও মায়োগ্লোবিনেরই প্রকাশ। তবে সুস্বাদু খাবারের পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তার নিয়ম মেনে মাংস রান্না করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Ref: banglanews24
সংগৃহীত ছবি

#স্টেকের_লালচে_রস #মায়োগ্লোবিন

সকালে ঘুম থেকে উঠেই মুখ শুকিয়ে যায় কেন?ঘুম থেকে উঠে মুখ শুকিয়ে যায়। মনে হয় জিভ যেন তালুর সঙ্গে আটকে আছে, কথা বলতেও অস্বস...
24/08/2026

সকালে ঘুম থেকে উঠেই মুখ শুকিয়ে যায় কেন?

ঘুম থেকে উঠে মুখ শুকিয়ে যায়। মনে হয় জিভ যেন তালুর সঙ্গে আটকে আছে, কথা বলতেও অস্বস্তিবোধ করেন অনেকে। বিশেষ করে রাতে দীর্ঘসময় নানা কারণে সকালে এমনটা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

প্রতিদিন ঘুম ভাঙার পর যদি মুখ একেবারে শুকনো লাগে, তবে চিন্তার বিষয়। দীর্ঘদিন মুখ শুকিয়ে থাকলে প্রভাব পড়তে পারে দাঁত ও মাড়ির ওপরও।

ঘুমের মধ্যে মুখ শুকিয়ে যায় কেন?
রাতে ঘুমানোর সময় স্বাভাবিকভাবেই লালা তৈরির পরিমাণ কিছুটা কমে যায়। এর সঙ্গে যদি মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া বা ঘরের বাতাস শুষ্ক থাকার বিষয়টি থাকে, তাহলে সকালে মুখ আরও শুকনো লাগতে পারে।

মুখ হাঁ করে ঘুমানো
নাক বন্ধ থাকা, অ্যালার্জি কিংবা নাক ডাকার কারণে অনেকেই ঘুমের মধ্যে অজান্তেই মুখ দিয়ে শ্বাস নেন। রাতভর মুখ দিয়ে বাতাস চলাচল করায় মুখের ভেতরের আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। সকালে ঘুম ভাঙার পর জিভে শুষ্কতা বা অস্বস্তি তাই বেশ স্বাভাবিক।

পানি কম পান করা
দিনে পর্যাপ্ত পানি না খেলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পড়ে মুখের লালা তৈরিতেও। ফলে ঘুম থেকে উঠে তীব্র তৃষ্ণা ও মুখ শুকনো লাগতে পারে।

ওষুধের প্রভাবেও হতে পারে
কিছু অ্যালার্জির ওষুধ, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে মুখ শুকিয়ে যেতে পারে। নিয়মিত কোনো ওষুধ খাওয়ার পর থেকে এমন সমস্যা শুরু হলে চিকিৎসকের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করা ভালো।

কিছু শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে
দীর্ঘস্থায়ী মুখ শুষ্কতার সঙ্গে ডায়াবেটিসসহ কিছু শারীরিক সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। তাই প্রতিদিন সকালে একই সমস্যা হলে কারণটি খুঁজে দেখা জরুরি।

এসির বাতাস কি দায়ী?
অনেকক্ষণ এসি চললে ঘরের বাতাসের আর্দ্রতা কমে যেতে পারে। এ কারণে সকালে মুখ, নাক বা গলা শুকনো লাগতে পারে। এমন ক্ষেত্রে ঘরের আর্দ্রতা স্বাভাবিক রাখা কিছুটা আরাম দিতে পারে।

হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে সেটিই সব সমস্যার সমাধান নয়। নাক ডাকা, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে মুখ শুকিয়ে গেলে সমাধান করাই জরুরি। হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে সেটি নিয়মিত পরিষ্কার রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

দাঁত-মাড়ির জন্য ক্ষতিকর
মুখের লালা শুধু মুখ ভেজা রাখে না, এটি দাঁত ও মাড়ির স্বাভাবিক সুরক্ষাতেও ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন লালা কমে গেলে দাঁতে ক্যাভিটি, মাড়ির সমস্যা ও মুখে দুর্গন্ধের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এমনকি খাবার চিবানো বা গিলতেও অস্বস্তি হতে পারে।

কখন সতর্ক হবেন?
মাঝেমধ্যে সকালে মুখ শুকিয়ে গেলে পানি পান করা ও ঘরের বাতাসের আর্দ্রতার দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সপ্তাহের পর সপ্তাহ একই সমস্যা চলতে থাকলে, অথবা এর সঙ্গে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, বারবার প্রস্রাব, নাক ডাকা, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া কিংবা অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

কারণ ঘুম ভাঙার পর মুখ শুকনো লাগা স্বাভাবিক হলেও, প্রতিদিনের অভ্যাস হয়ে গেলে সেটিকে শুধু এসির বাতাস ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।

সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, ওয়েব এমডি, ইন্ডিয়া টুডে
Collected from: jagonews24
ছবি: এআই

#সকালে_ঘুম_থেকে_উঠেই_মুখ_শুকিয়ে_যায়

Address

Kemal Ataturk Avenue, Banani C/A
Puratan Paltanerlain
1213

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Wooden EyeGlasses posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to Wooden EyeGlasses:

Shortcuts

Share

Category