04/11/2024
*"ইসলামি সাধারণ জ্ঞান"*
(যে জ্ঞান বাচ্চাদের দেয়া আমাদের দায়িত্ব)
*৪৮। মুহাম্মাদ (স.) এর প্রতি আমাদের ভালোবাসা কেমন হওয়া উচিত?*
একজন মুসলিমের জন্য আবশ্যক সবকিছুর চেয়ে আল্লাহ তা'য়ালাকে বেশি ভালোবাসা। কারণ, তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, রিযিক দিচ্ছেন এবং অগনিত নিয়ামত দিয়ে রেখেছেন।
আল্লাহ তা'য়ালা বলেন-
وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ ٱللَّهِ أَندَادًۭا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ ٱللَّهِ ۖ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَشَدُّ حُبًّۭا لِّلَّهِ
“আর মানুষের মাঝে এমনও আছে যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরকে আল্লাহর সমকক্ষরূপে গ্রহণ করে, তারা তাদেরকে ভালোবাসে আল্লাহর ভালোবাসার মতই। পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহকে সর্বাধিক ভালোবাসে।” সূরা আল-বাকারাহ ২:১৬৫
এরপর একজন মু'মিনের জন্য আবশ্যক আল্লাহর রসূল (স.) কে ভালোবাসা । কারণ, তিনি আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামত ও রহমত। আমাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসার জন্য আল্লাহ তা'য়ালা তাকে পাঠিয়ে আমাদের প্রতি দয়া করেছেন। রসূল (স.) এর প্রতি আনুগত্য, তাঁর আদর্শের অনুসরণ, তাঁর কর্মপদ্ধতি গ্রহণ এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা অন্যান্য সৃষ্টির উপর অগ্রাধিকার দেয়া ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
রসূলুল্লাহ (স.) বলেন -
ثلاث من كن فيه وجد بهن حلاوة الإيمان: من كان الله ورسوله أحب إليه مما سواهما، وأن يحب المرء لا يحبه إلا لله، وأن يكره أن يعود في الكفر بعد أن أنقذه الله منه كما يكره أن يقذف في النار.
‘যার মধ্যে তিনটি চরিত্র পাওয়া যাবে যে অবশ্যই ঈমানের স্বাদ পাবে। যার নিকট আল্লাহ ও তাঁর রসূল (স.) সবচেয়ে প্রিয়পাত্র হবে। কাউকে ভালোবাসলে একমাত্র আল্লাহর জন্য ভালোবাসবে। কুফরি থেকে মুক্তির পর তাতে ফিরে যাওয়া এমনভাবে অপছন্দ করবে যেমনিভাবে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়া অপছন্দ করে।' বুখারী ১৬, মুসলিম ৪৩
রসূলুল্লাহ (স.) আরো বলেন -
لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من ولده ووالده والناس أجمعين.
‘তোমাদের কেউ মু'মিন হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার নিজ সন্তান, পিতা-মাতা, ও সকল মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয়পাত্র না হই।' বুখারী ১৫, মুসলিম ৪৪