19/01/2020
বিসিএস প্রিলি + লিখিত + ভাইভা
সংক্ষেপে ১ম বিশ্বযুদ্ধের কারণ ও এর প্রভাবঃ (১৮৭২-১৯৩৯ ঘটনাবলি) mcq (1914-1939) ১। অটোম্যান সাম্রাজ্য দুর্বল হওয়াঃ অটোম্যান সাম্রাজ্য (তুরস্কের ইউরোপ অংশ) "Sick Man’s of Eurpoe" হিসাবে পরিচিত ছিল মূলত রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সামরিক পরাজয়, নাগরিক কলহ এবং জাতীয় সংখ্যালঘুদের অভ্যুত্থানের জন্য ।অটোম্যান সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ায় এর অধীন রাষ্ট্র গুলো স্বাধীনতার দাবি তোলে আর এই সুযোগটা কাজে লাগায় প্রতিবেশী পরাক্রমশালী রাষ্ট্র গুলো। বার্লিন চুক্তি (১৮৭৮) অনুযায়ী অস্ট্রো-হাঙ্গেরি অটোম্যান সম্রাজ্যের বসনিয়া-হার্জেগোভিনা অংশ পরিচালনার দায়িত্ত দেওয়া হয়।
২। নজিরবিহীন চুক্তি ও অবিশ্বাসঃ Alliances in initial stage: অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি, জারমানি,ইতালি----Triple Alliance (1882) vs ফ্রান্স,ব্রিটেন,রাশিয়া—Triple Entente(1907)।ইতালি শুরুতে অস্ট্রো-হাংগেরির সাথে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে অ্যাড্রিয়াটিক উপকূল অস্ট্রো-হাঙ্গেরি অধিকার করলে ইতালির স্বার্থে আঘাত হানে। ইতালি যোগ দেয় মিত্রপক্ষে ।
৩। জাতীয়তাবাদ এর উথানঃ বিংশ শতাব্দীর শুরুতে অস্ট্রো-হাংগেরির কাছে প্রতীয়মান হয় যে , রাশিয়া এবং সার্বিয়া আরও শক্তিশালী হয়ে যাচ্ছে । এই ভয় থেকে অস্ট্রো-হাঙ্গেরি বসনিয়া-হার্জেগোভিনা অধিকার করে বসে।এতে সার্বিয়া তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে, কারণ বিপুল সংখ্যক স্লাভ জাতিভুক্ত মানুষ বসনিয়া ও হার্জগোভিনাতে বসবাস করতো ।এর মাধ্যমে সার্বিয়ায় এন্টি অস্ট্রো হাঙ্গেরিয়ান সেন্টিমেন্ট এর উত্থান ঘটে।গড়ে উঠে ‘ইয়ং বসনিয়া’ নামক উগ্রপন্থী জনগোষ্ঠীর । এরই একজন একনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন ঘাতক গাভরিলো প্রিন্সেপ যিনি ১ম বিশ্বযুদ্ধের সংঘটক।তিনি একজন সারবিয়ানো বটে।
৪। ১৯১৪ সালে অস্ট্রিয়ান যুবরাজ আর্কডিউক ফ্রানজ ফার্ডিনান্ড এবং তার স্ত্রী বসনিয়া সফরে যান ।কিন্ত ঘটনাটিকে কালো অধ্যায়ে পরিণত করে গাবরিলো প্রিন্সিপ নামের উপরোক্ত আততায়ী । যেহেতু সারবিয়ার সাথে ঝামেলা আগে থেকেই আর সার্বিয়ান সরকার অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয়ান সাম্রাজ্যের প্রতিনিধি নিয়োগের দাবী মানতে অস্বীকার জানায়। বেঁধে যায় ১ম বিশ্বযুদ্ধ । মনে রাখুনঃ অস্ট্রিয়ার সম্রাট বেড়াতে যান বসনিয়ায় আর ঘাতক সারবিয়ান।
৫। রাশিয়া সার্বিয়ার পাশে এসে দাঁড়ায়। রাশিয়ার সাথে অস্ট্রো-হাঙ্গেরির ছিল ঐতিহাসিক বিরোধ।
---এর মধ্যে বিশ্বযুদ্ধ নিকটবর্তী ঘটনা ১৯০৯ এর দিকে হাঙ্গেরি বসনিয়া-হার্জেগোভিনা দখল করে বসলে রাশিয়া এতে ক্ষুদ্ধ হয়। কেননা বসফরাস ও দার্দানালিস প্রণালীর জন্য রাশিয়া ঐ এলাকার উপর নির্ভরশীল ছিল।
---এছাড়াও জার্মানীকে রাশিয়া অন্যতম হুমকি হিসবেই দেখতো। এই ধারণা আরও বেগবান হয় যখন জার্মান, অস্ট্রো-হাংগেরি, ইতালি Triple Alliance হিসেবে আবির্ভূত হয়।
-- রাশিয়ার সম্রাট জার ২য় নিকোলাস ধর্মীয় ( খ্রিষ্টান অর্থোডক্স ) ও ( স্লাভিক ) জাতীগত নৈকট্যের জন্য এবং রাশিয়ার প্রভাব দেখাতে সার্বিয়ান দের পাশে দাঁড়ায়।
--- যদিও রাশিয়ার সেনাবাহিনী ১৯১৪ এর মাঝে সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীতে পরিণত হয় ।কিন্তু যুদ্ধ শুরু হলে জার্মান সেনাবাহিনী দ্বারা আক্রান্ত হয়। রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে ১৯১৬ এর মধ্যে ২ মিলিয়ন রাশিয়ান সেনা মারা যায়। অধিক সেনাবাহিনীতে যোগদানের ফলে কৃষি খাত হয় বিপর্যস্ত। ফলশ্রুতিতে ১৯১৬ সালে খাবারের দাম ৪ গুণ বেড়ে যায়।
-- সুইজারল্যান্ডে নির্বাসিত লেনিন দেশের এ করুণ অবস্থা থেকে ক্ষুদ্ধ হন। তিনি লিখে ফেলেন তার ঐতিহাসিক বই ‘Imperialism: The Highest Stage of Capitalism. ‘ তিনি রাশিয়ার এই যুদ্ধকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির যুদ্ধ বলে অভিহিত করেন। এই বই এবং সৈন্যদের প্রতি যুদ্ধ ত্যাগের আহবান এক সময় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ঘটায়।
--১৯১৭ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ দন্দ(internal conflict) এর সুযোগে সশস্ত্র বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ভ্লদিমির ইলিচ লেনিনের নেতৃত্বে কম্যুনিস্ট বলশেভিকরা ক্ষমতা দখল করে নিয়েছিলো রাশিয়ায় । এই সাড়া জাগানো বিপ্লবের স্থায়িত্তকাল ছিল ১০ দিন।
৬। জার্মানি অন্যদিকে ১৮৯৮ সালের মধ্যে এমন অবস্থায় পৌছায় যেখানে জার্মানি চায় তার সাম্রাজ্য বিস্তার করতে।জার্মানির উগ্র নীতি একপর্যায়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে এবং অস্ট্রো-হাঙ্গেরিকে সমর্থন দেয়। একপর্যায়ে জার্মান নৌ বাহিনি ব্রিটেনের নৌ বাহিনী থেকেও সমৃদ্ধশালী হয়। জার্মান নৌ বাহিনী একপর্যায়ে কমার্শিয়াল ব্লকেড তৈরি করে এতে আক্রান্ত হয় আমেরিকান জাহাজ লুসিতানিয়া।
৭। আমেরিকা ইউরোপের ঝামেলায় মাথা ঘামানোর পক্ষ ছিল না। যখন লুসিতানিয়া জাহাজ আক্রান্ত হয় তখন আমেরিকা ৬ এপ্রিল ১৯১৭ সালে ১ম বিশ্ব যুদ্ধে অংশ নেয়।
৮। ব্রিটেন অন্যদিকে যখন নিরপেক্ষ অঞ্চল বেলজিয়াম জার্মানি দ্বারা আক্রান্ত হয় তখন চুক্তি অনুযায়ী জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। ইতালি শুরুতে অস্ট্রো-হাংগেরি, জার্মানের সাথে থাকলেও যুদ্ধের আগে নিরপেক্ষ নীতি এবং ১৯১৫ সালে নিরপেক্ষ নীতি ত্যাগ করে মিত্র শক্তিতে চলে যায়।
৯। ফ্রান্স এর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ক্লিমেন শো।মূলত জার্মানির সাথে ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের সাথে বিরোধ সাম্রাজ্য বিস্তার নিয়ে। জার্মানি যখন ফ্রান্সের আফ্রিকান উপনিবেশে প্রভাব খাটাতে চায় বেঁধে যায় দন্দ।
১০। একনজরে প্রথম বিশ্বযুদ্ধঃ ব্যাপ্তিঃ ১৯১৪-১৮ ,শুরুঃ ২৮ জুলাই,১৯১৪ জার্মানি আত্নসমরপনঃ ১১ নভেম্বর ১৯১৮(২য় ভারসাই চুক্তি) , মিত্রশক্তি(জয়ী)ঃফ্রান্স, বৃটেন, রাশিয়া, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, রুমানিয়া, জাপান , অক্ষশক্তিঃজার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, তুরস্ক ও বুলগেরিয়া
প্রভাবঃ
১। অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্য, তুরস্ক সাম্রাজ্য, রুশসাম্রাজ্য ও জার্মান সাম্রাজ্ পতন । ফিনল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটাভিয়া, লিথুয়ানিয়া, পোল্যান্ড, চেকোশ্লোভাকিয়া, যুগোশ্লাভিয়া, রুমানিয়া প্রভৃতি নতুন নতুন রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়
২। উড্রো উইলসনের ১৪ দফাঃ জার্মানির পতন দেখে বিশ্ব শান্তির জন্য ১৯১৮ সালের ৮ জানুয়ারি মার্কিন কংগ্রসের নিকট তার শান্তি পরিকল্পনা পেশ করেন যা fourteen points নামে পরিচিত। তিনি ইউরোপে স্থায়ী শান্তি চেয়েছেন। এই নীতির উপর মিত্র শক্তির সাথে জার্মানির শান্তি চুক্তি স্থাপিত হবে। ১ম ৫ দফায় গোপন চুক্তি বাতিল, উপনিবেশ নিয়ে বিরোধ,বাণিজ্য বিরোধ, নিরপেক্ষ জাহাজ চলাচল ইত্যাদি নিয়ে বলা হয়।ইউরোপের সকল জাতির স্বাধীনতা স্বীকার করে নিয়ে ইউরোপের পুনগঠনের কথা বলা হয়। ১৪ নম্বর দফার বিশ্ব শান্তির জন্য আন্ত্রজাতিক সংস্থার কথা বলা হয়।
৩। ১ম বিশ্বযুদ্ধের পরে ফ্রান্স ও ব্রিটেন তাদের শক্তিশালী অবস্থান হারায়। এই জায়গা দখল করে যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত রাশিয়া।
৪। ইতালি এবং জার্মানিতে গণতন্ত্র পতনঃ বেনিতো মুসোলিনি ১৯২২ সালে ইতালির সম্রাট তার করা আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হন। মুসোলিনি ইতালির ১ম বিশ্ব যুদ্ধে মিত্রশক্তিতে অংশ নেওয়াতে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তিনি ফ্যাসিবাদের জনক। পরবর্তীতে জার্মানিকে ২য় বিশ্বযুদ্ধে সমর্থন করে। তাই ইতালি ১ম বিশ্ব যুদ্ধে মিত্র শক্তি এবং ২য় বিশ্ব যুদ্ধে অক্ষ শক্তিতে থাকে।
অন্যদিকে জার্মানিকে অর্থনৈতিক জরিমানা ,অবরোধ এবং অস্ত্রশুন্যের শর্ত আরোপ করা হয় ১ম বিশ্বযুদ্ধের পর। তাই জার্মানির প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাব জেগে উঠে।১৯৩০ এর দশকে বিশ্বজুড়ে মহামন্দা হলে জার্মানি ও ইতালি ফ্রান্স ও ব্রিটেন থেকে ভাল অবস্থানে চলে যায় কেননা স্বৈরতন্ত্র দ্বারা প্রতিকূল পরিবেশ তারা ভাল ভাবে সামলে নিতে পেরেছিল। ১৯৩৩ সালে হিটলার জার্মানির চ্যান্সেলর নির্বাচিত হন।
৫। জাতিপুঞ্জ যেটি ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।জাতুপুঞ্জ বিশ্বশান্তি রক্ষায় কোন ভূমিকা রাখতে পারছিল না। কেননা এর উদ্যোক্তা আমেরিকা এর সদস্য ছিল না। জাপান ১৯৩১ সালে চীনের মাঞ্চুরিয়া এবং ১৯৩৭ সালে চীনের মূল ভূখণ্ড দখল করে।ইতালিও আবিসিয়া ও অ্যালবেনিয়া দখল করে।জাতিপুঞ্জ কোন পদক্ষেপ নিতে পারে নি। জাতিপুঞ্জে সব সদস্য একমত না হলে আগ্রাসনকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। জাপান,ইতালি এবং জার্মানি জাতিপুঞ্জ ত্যাগ করে ।
অন্যদিকে ব্রিটেন ও ফ্রান্স নিজেদের কাজে জাতিপুঞ্জকে ব্যবহার করতো। ফ্রান্স এর কাছে জাতিপুঞ্জ ছিল জার্মানি থেকে রক্ষার একটা উপায় আবার ব্রিটেন ভাবতো জাতিপুঞ্জের মাধ্যমে কিভাবে তাদের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখা যায়। আর জার্মানি জাতিপুঞ্জকে ভাবতো তাদের উত্থানের পথে বাধা হিসেবে। তাই ২য় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় ১৯৩৯ সালে ।
+++++
সংগৃহীত পোস্ট