24/08/2026
নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের একটি স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতার মঞ্চে কিশোরী রেবেকা শাফির বুদ্ধিদীপ্ত বক্তব্য ও সাবলীল বাচনভঙ্গি নজর কেড়েছিল। সেই সময়ের একটি বিতর্কের ভিডিও বহু বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি। ছোটবেলার সেই বিতার্কিকই পরবর্তী সময়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজের জায়গা করে নেন।
বাংলাদেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠা রেবেকার শিক্ষাজীবনও ছিল ব্যতিক্রমী। নিজের পরিচিতিতে তিনি জানিয়েছেন, একই সময়ে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার SSC ও HSC এবং University of London-এর O/A Levels সম্পন্ন করেছিলেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে।
ক্যালিফোর্নিয়ার বিখ্যাত California Institute of Technology—Caltech-এ Physics নিয়ে পড়াশোনা করেন রেবেকা। সেখান থেকে তিনি ৪.০০-এর মধ্যে ৪.০০ CGPA অর্জন করে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ছোটবেলার বিতর্কের মঞ্চ থেকে বিশ্বের অন্যতম কঠিন একাডেমিক পরিবেশে এমন ফল তাঁর মেধা ও অধ্যবসায়েরই পরিচয় বহন করে।
Caltech-এর পর তাঁর গন্তব্য হয় Boston। তাঁর নিজের ভাষায়, Pasadena-এর পর তিনি যান ‘snowy Boston’-এ। সেখানে Harvard University-তে Physics-এ পিএইচডি করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ব্ল্যাক হোল—বিশেষ করে ব্ল্যাক হোলের spin বা ঘূর্ণন নিয়ে।
পদার্থবিদ্যা ও অ্যাস্ট্রোফিজিক্সে এই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে রেবেকা পরে গবেষণার ক্ষেত্র বদলে ফেলেন। এবার তাঁর আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে ওঠে মানুষের মস্তিষ্ক ও জেনেটিক্স। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের National Institute of Mental Health (NIMH)-এ Research Fellow হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর গবেষণা মূলত neuroscience ও human genetics-এর সংযোগস্থলে, যেখানে মানুষের মস্তিষ্কের গঠন ও জিনগত বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক নিয়ে কাজ করছেন।
অর্থাৎ রেবেকা শাফির পথচলায় একের পর এক এসেছে ভিন্ন ভিন্ন জগত—বাংলাদেশের বিতর্কের মঞ্চ, Physics-এ অসাধারণ একাডেমিক ফল, Caltech, Harvard-এ ব্ল্যাক হোল নিয়ে পিএইচডি, আর এখন মানুষের মস্তিষ্ক ও জিন নিয়ে গবেষণা।
তাঁর গল্পের সবচেয়ে অনুপ্রেরণার জায়গাটি সম্ভবত এখানেই—একটি ক্ষেত্রের গণ্ডিতে নিজেকে আটকে না রেখে তিনি বারবার নতুন জ্ঞানের জগতে প্রবেশ করেছেন। ছোটবেলার সেই বিতার্কিক রেবেকা শাফি আজ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানসিক স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানে মানবমস্তিষ্কের জটিলতা বোঝার কাজে যুক্ত। বিজ্ঞানের বিষয় বদলেছে, কিন্তু অজানাকে জানার কৌতূহলটি রয়ে গেছে একই।
(সংগ্রহীত)