15/11/2017
চলেন একটু আলোচনা করি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কর্তৃক গৃহীত নানামুখী পরিক্ষামূলক সিদ্ধান্ত এবং তার যুগান্তকারী ফলাফল নিয়ে।
সনাতন শিক্ষা পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার ডিজিটালাইজেশান এর প্রথম যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতির প্রবর্তন।এর মাধ্যমেই প্রথম বারের মত প্রবর্তিত হয় ৬০ নম্বরের CQ এবং ৪০ নম্বরের MCQ পরিক্ষা পদ্ধতি। বলা বাহুল্য এই পদ্ধতি প্রবর্তনের উদ্দেশ্য অনেকাংশে ব্যর্থ হয় শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষন দেয়ার অভাবে। যেখানে শিক্ষকগনই বিষয়টি ঠিকভাবে বোঝেন না; শিক্ষার্থীরা কতটুকু বুঝবে সেটা বলার অবকাশ রাখে না।
বিগত কয়েক বছর ধরে চলছে এই পদ্ধতির সংস্কার, পরিমার্জন। আর বেড়ে চলেছে প্রশ্ন ফাসের এবং সহজ লভ্যতার সম্ভবনা। প্রতিটি বোর্ড পরিক্ষায় ফাস হচ্ছে প্রশ্ন।
কর্তৃপক্ষ এই সহজ লভ্যতা কমাতে CQ ১০ নম্বর বাড়িয়ে MCQ ৩০ করে দিলেন। তবুও কিছুই হল না। বোর্ড পরিক্ষার ফলাফলে সামগ্রিক হার কমিয়ে দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বললেই হলো যে প্রশ্ন ফাস হয় নি, তাই জিপিএ-৫, পাসের হার কম। দেশের মানুষ বোকা না। জনগন সবই বোঝে।
এই এত সিদ্ধান্তের যাতাকলে ফাসছে কারা?? - শিক্ষার্থীরা। ফলাফল খারাপের ব্যর্থতা, অযোগ্যতা বয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাদের।
এবারে আসি শিক্ষাবিদদের নতুন এক থিউরিতে। তারা MCQ তুলে দিবেন।তাহলে তারা ৩ ঘন্টায় ১০ টা CQ লিখবে??
সেটাই হবে। ৭ সৃজনশীলের বিরূদ্ধে যেমন আন্দোলন হয়েছিল তেমনি আন্দোলন হবে। তারপর সংবাদ সম্মেলন করে আগের মত ২৩/২২ মিনিটের থিউরি দিয়ে বলা হবে যা ২২ মিনিটে সম্ভব তা ১৮ মিনিটেও সম্ভব।
কিন্ত তারা আসলে করছেন কি?? কোথায় সমস্যা তার গোড়া না খুজে সমস্যার ফলাফলের ডালপালা কাটতে ব্যস্ত। প্রশ্ন ফাস করে কারা?? - একটি দল যারা প্রশ্নপত্র প্রনয়ন, ছাপা, সংরক্ষন এবং পরিবহন এর সাথে যুক্ত। এই দলটিকে খুজে বের করে ব্যবস্থাটিকে সচ্ছ করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। সেটি কখনোই হবে না। কারণ তাদের বিশাল সিন্ডিকেটের কোটি কোটি টাকার প্রশ্ন ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে তাহলে।
তাই তারা পরিমার্জন করবে পরিক্ষা পদ্ধতির, চাপ বাড়াবে শিক্ষার্থীদের উপর, ফলভোগ করবে শিক্ষার্থীরা। তাদের কাজ আগের মতই চলবে।
স্যালুট শিক্ষা ব্যবস্থা 👏🏻
একদিন এমন নিউজ ও দেখতে পারেন যে প্রশ্ন ফাস প্রতিরোধে পরিক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত 😐
বিদ্রঃ পোস্ট টি কোন রাজনৈতিক/ধর্মীয় স্বার্থে লেখা নয়
© Mahmud-ul Hassan Bappy
HSC'17