09/11/2024
এইমাত্র খবর পেলাম (খবরটি দেওয়ার জন্য স্কুলজীবনের শিক্ষক জনাব ইউসুফ মল্লিকের পুত্র আমার সহপাঠী শহীদকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা) কিছুক্ষণ আগে আমার ছোটফুপা নিঃস্বার্থ সমাজ-সেবক, মুক্তমনা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আবদুল হক মল্লিক (জামাই) মাটি ও মানুষের আপনারজন আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজেউন। মহান আল্লাহ্ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন। অনেকদিন ধরেই তিনি শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
ঝাটিবুনিয়া স্কুল থেকে একাত্তরের এসএসসি পাশ আমার এই ফুপা ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি করতেন। ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ এবং পরবর্তী জীবনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে তিনি সবসময় নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। এলাকার মানুষের ঝগড়া-বিবাদ মেটাতে সালিশি ব্যবস্থায় তাঁর অগ্রণী ভূমিকা সবসময় ছিল। নিজেকে লাভবান করে কোনো কাজ করতে কেউ দেখেছে বলে বলতে পারবে না।
ঘরে তাঁর অভাব-অনটন থাকলেও বাইরে কেউ কখনো দেখেনি। সবসময় ফিটফাট হয়ে চলতেন তিনি। ধার করে হলেও তিনি এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতেন। এমন একটা উদাহরণ দিই। তিনি যখন যুবক ছিলেন, আমার তখন শৈশবকাল। মনে আছে, উপজেলা কলেজ মাঠে সিরিজ ফুটবল খেলা আয়োজন করেন। ওই সময়ে ওই খেলার ট্রফি নিজের টাকায় কিনেছিলেন তিনি। প্রয়োজনে তখন ধার করেও এসব কাজ করে তিনি এলাকার যুব সমাজকে ইতিবাচক বিনোদনে রাখতেন। ওই সময়ে আমার মনে আছে, ওইসব বাউন্ডুলেপনার কারণে মা ও আব্বা মাঝে-মাঝে তাঁর ওপর রাগ করতেন।
তিনি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। উত্তর ছৈলাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তাঁর হাতেই তৈরি। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কিন্তু এই পেশাটি ছিল মূলত অধিকাংশ বেসরকারি আমলে স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বার্থে। সফলভাবে তিনি এটি করেছিলেন। নিজে আর্থিক সংকটে থেকেও এসব কাজে তিনি আনন্দ পেতেন। শুনতাম, তাঁর বাবা ইয়াছিন মল্লিক তাঁর সময়ের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আর্থিকভাবেও যথেষ্ট সচ্ছল মানুষ ছিলেন। পিতৃসূত্রে তাঁরও তাই থাকার কথা কিন্তু না অর্থের প্রতি তাঁর কোনোদিন মোহ ছিল না। বরং, মানুষের জন্য নানারকম কাজে তিনি নিজেকে ব্যস্ত রাখতেন।
উপজেলার অন্যতম নামকরা স্কুল ঝাটিবুনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওইস্কুলের আমিও ছাত্র ছিলাম। এটি গ্রামে হলেও এক সময় জেলার মধ্যেও স্কুলটির খ্যাতি ছিল। এই স্কুলের সুখ-দুঃখে তাঁকে এক সময়ে ব্যস্ত থাকতে দেখেছি। স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ মুজাফ্ফর হোসেন হাওলাদার মৃত্যুর পরে বহুদিন তিনি সহ-সভাপতি স্কুলটি পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
আমার ফুপু এবং এই ফুপার যখন বিয়ে হয় তখন আমি কোলে। বাড়ি খুব কাছাকাছি। এই বিয়ের পরে আরেক ফুপু কুলসুম নাম তাঁর। বহুদিন হলো তিনি ক্যান্সারে মারা যান। আল্লাহ্ তাঁকেও বেহেস্তবাসী করুন। তাঁর কোলে করেই বেশিরভাগ সময় এই বাড়িতে আমার কাটে। শৈশবে-কৈশোরে তিনি বা তাঁরাই আমার দেখাশোনা করেন। তখনকার স্মৃতি অনেককিছুই আমার মনে থাকার কথা নয়। তবে কিছু কিছু মনে আছে। গ্রামের মধ্যে কাঠের তৈরি বাড়ি হলেও হক মল্লিক জামাইদের ঘরটি ছিল স্টাইলিশ ওই সময়ের প্রেক্ষাপটে। মনে আছে ওই বাড়ির দোতলায় ও ঝুল বারান্দায় আমি অনেকরাত কাটিয়েছি।
একটা ঘটনা খুব মনে পড়ে। সেটি অবশ্যই শৈশবের। একইসঙ্গে ব্যক্তিত্ববান ও একজন আমুদে মানুষ হিসেবে হক মল্লিক জামাইয়ের জুড়ি মেলা ভার। যখন প্রযুক্তির ছোঁয়া এলাকায় পড়ে নি। টেলিভিশন দেখাও পাওয়া অসম্ভব ছিল। শুধু বাংলাদেশ বেতারই গ্রামে-গঞ্জে প্রচলিত। ওই সময়ে জামাই বাড়িতে বায়োস্কোপের ব্যবস্থা করেন। উঠানে পর্দা টানিয়ে আশেপাশের বাড়িসহ সকলের জন্য এই প্রথম তিনি ভিডিওচিত্র/টেলিভিশন দেখার ব্যবস্থা করেন। আমার মনে পড়ে, তখন স্ক্রিনে পাটগাছই হবে পাটগাছ কাটতে কাটতে একজন গান গাইছিলেন, 'যে-জন প্রেমের ভাব জানে না, যার সাথে নাই লেনাদেনা,,,খাঁটি সোনা ছাড়িয়ে যে নেয় নকল সোনা, সে-জন সোনা চেনে না।' ভিডিও পর্দায় সেটা ছিল আমার জীবনে প্রথম দেখা ও শোনা গান।
জনাব আবদুল হক মল্লিক ছিলেন জনদরদি মানুষ। তিনি ছোটবড়ো সবার সাথে হাসিমুখে, আদর করে কথা বলতেন। সবার সুখ-দুঃখের কথা শুনতেন। মীমাংসার প্রয়োজন হলে নিজের সময় খরচ করে সেটি করতেন। নিজের বলে তাঁর কোনো সময় ছিল। জীবনের শেষদিকে কিছুটা বিষয়- আশয়ে মনোযোগী হয়েছিলেন। কিন্তু সারাজীবনের অভ্যেস কখনো পাল্টায় নি।
তিনি ছিলেন মুক্তচিন্তার মানুষ। তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাস ছিল। রাজনীতি নিয়ে যে-কেউ তাঁর সাথে আলাপ করতে পারত। আমার মনে আছে, জামাইয়ের সাথে রাজনীতির নানাদিক নিয়ে তাঁর সাথে আমার মতো শিশুও তাঁর সাথে তর্ক করেছি কিন্তু কখনো তিনি ধমকের সুরে কথা বলেননি। কথা শুনেছেন, পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন। সেই অর্থে তিনি ছিলেন আপাদমস্তক একজন সহনশীল মানুষ।
এলাকার রাস্তাঘাট উন্নত হয়েছে। গ্রামে-গঞ্জের মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের হাওয়া আছে। তাঁর বাড়ির পাশ দিয়েই চলে গেছে বিকল্প হাইওয়ে সড়ক। বাড়ির দরোজায় যেখানে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; সেখানেই অনেক দোকানপাটসহ একটি বাজারের মতো গড়ে উঠেছে। প্রতি সন্ধ্যায় সেখানে এলাকার মানুষের মিলনমেলা তৈরি হয়। চায়ের সাথে রাজনীতিসহ নানান আলাপ-আলোচনা সেখানে হয়। মানুষের মুখে-মুখে জায়গাটির নামকরণই হয়েছে "হক মল্লিক" নামে। এটা স্বতঃস্ফূর্ত। মানুষের ওপর একটা নামে স্বয়ংক্রিয় প্রভাব। কেউ কাউকে বলে দেয়নি। ওই এলাকায় আপনি যাবেন। রিকশাঅলা, অটোগাড়ি, মোটর সাইকেল, অথবা অন্য যেকোনো যানবাহনকে জিজ্ঞেস করবেন, তাঁরা জায়গার নাম বলবে 'হক মল্লিক' বলে। যাত্রীরাও বলবে, 'এই হক মল্লিক যাবেন'। ইত্যাদি। এটি আমাকে ভাবায়। একটা মানুষের এই গুণটি অতি মানবিক গুণ। না-হয় মানুষ এমন করে নির্দ্বিধায় একটা মানুষকে কেন গ্রহণ করবে! তাঁর নামকে স্থায়িত্ব দেবে! তিনি তো কাউকে বলে দেননি যে এইটা তোমার বলতে হবে। এটাই জনমনের ওপর ব্যক্তিমানুষের ইতিবাচক প্রভাব।
তাঁর দোষ থাকলেও সেটিকে কেন যেন ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে হত। মাকে তিনি অনেক শ্রদ্ধা করতেন। আমার আব্বা এবং মা দেখেছি, হক মল্লিককে সবসময় ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতেন। তাঁর ব্যক্তিত্বই এমন ছিল যে, তাঁর ওপর কেউ রাগ করে থাকতে পারত না। অনেক স্মৃতি। একটি মানুষের অন্যকে আকৃষ্ট করার এমন সম্মোহনী ক্ষমতা। পৃথিবীতে এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। আল্লাহ্ জামাইকে বেহেস্তনসিব করুন। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি। ওপারে ভালো থাকুন প্রিয় জামাই।
17/12/2022
৮ ই ডিসেম্বর, ১৯৭১,বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের বেতার ভাষন-speech Tajuddin
৮ ই ডিসেম্বর, ১৯৭১,বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের বেতার ভাষন-speech টাজুদ্দিন
17/12/2022
Actually here is our living legend sitting on the Rickshaw our teacher H.E. Md. Zoynal Abedin sir during our secondary education. May you live long with sound health. Thanks Prince for sending Picture.
13/10/2021
শোক সংবাদ
বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সমাজ সেবক ও ঐতিহ্যবাহী ঝাটিবুনিয়া ম.ই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মুজাফফর হোসেন হাওলাদারের একমাত্র সন্তান শামসুন্নাহার ( মালেকা বেগম) কিছুক্ষণ আগে পটুয়াখালীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন)।
মহান আল্লাহ মরহুমাকে জান্নাতুল ফিরদৌস দান করুন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য্য ধারণের তৌফিক দান করুন।
তথ্য ঋণ স্বীকার: মাইনুল কবির
01/07/2021
প্রিয় সুধী,
ঝাটিবুনিয়া স্কুলের পুনর্মিলনী উপলক্ষে আমি স্কুলের প্রাক্তন চার গুণী শিক্ষার্থী নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও পুনরুৎপাদন-পুনর্বিন্যাস করে একটি সংকলন তৈরি করতে চেয়েছিলাম। চার গুণী ছিলেন অধ্যাপক ড. আবদুল হামিদ, অধ্যাপক ড. ওয়াহিদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মোঃ আবুল কালাম এবং ড. মোঃ আবদুস সোবাহান। শেষ পর্যন্ত সেটি ছাপা হয়নি। কেন হয়নি সেটি বলার প্রয়োজন বোধ করছি না। অধ্যাপক ড. আবদুল হামি আমাদের মাঝে আর নেই। তিনি বিভিন্ন সময়ে আমাকে অনুজ হওয়া সত্ত্বেও ফোন দিয়ে কথা বলতেন। দোয়া চাইতেন সকলের কাছে। আল্লাহ তাঁকে বেহেস্তবাসী করুন। তাই তাঁর অংশটির চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ করলাম।
প্রফেসর ড. মো. আবদুল হামিদ
ড. মো. আবদুল হামিদ। ১৯৪৩ খ্রি: পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত ১নং মাধবখালী ইউনিয়নের লেবুবুনিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম এন্তাজ খান ও মাতার নাম জামিলা খাতুন (প্রয়াতা)। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত তিনি পড়াশুনা করেন স্থানীয় একটি বে-সরকারি প্রাইমারি স্কুলে। এ স্কুলের একমাত্র শিক্ষক ছিলেন আবদুল মাস্টার (প্রয়াত)। তাঁরপর তিনি ঝাটিবুনিয়া জুনিয়র হাইস্কুলে ৫ম শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেন। উল্লেখ্য, ঝাটিবুনিয়া স্কুলে তখন ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করানো হত। হাইস্কুলে উন্নীত হয় সম্ভবত ১৯৫৮ অথবা ১৯৫৯ সালে। ১৯৫৪ সালে তিনি ঝাটিবুনিয়া স্কুল থেকে বৃহত্তর বরিশাল জেলার মধ্যে মাইনর পরীক্ষায় (৬ষ্ঠ শ্রেণি) বৃত্তি পান। উল্লেখ্য, তখন একমাত্র পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল বরিশাল জিলা স্কুল এবং বৃত্তির পরিমাণ ছিল মাসিক ৪ টাকা।
ড. হামিদ ১৯৫৭ সালে ৯ম শ্রেণিতে পটুয়াখালী জুবিলী হাইস্কুলে ভর্তি হন এবং ঐ বছরেই স্কুলে দ্বি-বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে গ্রামের একটি সাদাসিদে ছাত্র হিসাবে স্কুলের সর্বমহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ড. হামিদের ম্যাট্রিকুলেশন পটুয়াখালী জুবিলী হাইস্কুল থেকে ১৯৫৯ সালে, আই.এ. বরিশাল বি.এম. কলেজ থেকে ১৯৬১ সালে, বি.এ. (সম্মান) দর্শনশাস্ত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৪ সালে এবং এম.এ. একই বিষয়ে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে। উল্লেখ্য, বি.এ. (সম্মান) পরীক্ষায় তিনি ১ম শ্রেণিতে ২য় এবং এম.এ. পরীক্ষায় ১ম শ্রেণিতে ১ম স্থান অধিকার করেন। অত:পর ভারত সরকারের বৃত্তি নিয়ে ১৯৮২ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়, চ-ীগড় থেকে তিনি ''A Study of Moore's Ethics' শীর্ষক অভিসন্দর্ভের উপর পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
ড. হামিদের কর্মজীবন শুরু হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজে দর্শনের প্রভাষক হিসাবে ১৯৬৬ সালে এবং ঐ বছরেই তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিভাগের প্রভাষক পদে যোগদান করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তিনি কর্মরত ছিলেন ১৯৬৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত। ১৯৮৭ সালে তিনি প্রফেসর পদে উন্নীত হন এবং ২০০৯ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
কর্মজীবনে ড. হামিদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান (১৯৮৫-১৯৮৮), শহীদ জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসের প্রশাসক ও রাকসুর ট্রেজারার হিসাবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ, ভারত, জার্মানি ও ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত বহু সংখ্যক আন্তর্জাতিক সেমিনার ও কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করে মূল্যবান গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে ৯টি পিএইচ.ডি ও ৪টি এম.ফিল (ডিগ্রি প্রাপ্ত) গবেষণাকর্ম সম্পাদিত হয়েছে। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক এম.ফিল/পিএইচ.ডি অভিসন্দর্ভের বিশেষজ্ঞ পরীক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
ড. হামিদ একজন স্বনামখ্যাত শিক্ষক, গবেষক ও লেখক। দেশ-বিদেশের একাডেমিক জার্নালে তাঁর ৪০ এর অধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে (১)G. E. Moore- A Study of His Ethics (Delhi: ১৯৮৯), (২) সমকালীন নীতিবিদ্যার রূপরেখা (ঢাকা: ২০০০), (৩) বিশ্লেষণী দর্শন জি.ই. ম্যূর (ঢাকা:২০০১), (৪) দার্শনিক প্রবন্ধ সংকলন (ঢাকা: ২০১১), (৫) মুসলিম দর্শন পরিচিতি (ঢাকা: ১৯৮৮) এবং (৬) যুক্তিবিদ্যা (অবরোহ ও আরোহ) উল্লেখযোগ্য।
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, ড. হামিদ ঝাটিবুনিয়া স্কুলে পড়াশুনা করেছেন ৫ম শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত অর্থাৎ ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত। ১৯৫৭ সালে তিনি পটুয়াখালী জুবিলী হাইস্কুলে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হন।
উল্লেখ্য, ঝাটিবুনিয়া স্কুলের সম্ভবত প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন মহিষকাটার আমজাদ হোসেন (প্রয়াত), তারপর ফিরোজ আলম মজুমদার এবং সম্ভবত ১৯৫৭ সাল থেকে ফজলুল করিম বিশ্বাস। উপরের তিনজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ছাড়া ড. হামিদের ছাত্রাবস্থাকালীন অন্যান্য শিক্ষক ছিলেন সর্ব শ্রদ্ধেয় আবদুল হামিদ বিশ্বাস (অংক), ইয়াকুব আলী প-িত (বাংলা), মাওলানা আহমদ উল্লাহ (ধর্ম), যজ্ঞেশ্বর গাইন প্রমুখ। স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় মোজাফফ্্র হোসেন হাওলাদার। তিনি, বলতে গেলে, ২৪ ঘণ্টাই স্কুলে দেখ-ভাল করতেন। এ সকল ব্যক্তিবর্গ ছিলেন স্কুলের উন্নয়নের জন্য নিবেদিত প্রাণ।
স্কুলে ড. হামিদের পড়াশুনার সময়ে যারা সমসাময়িক ছিলেন, তাঁদের মধ্যে সর্ব জনাব শাহ আলম (স্কুলের শিক্ষক প-িত ইয়াকুব আলী মোল্লার ছেলে ও অবসরপ্রাপ্ত সি.এস.এস অফিসার) ও গোলাম রহমান (আমজাদ মাষ্টারের ছেলে ও অবসরপ্রাপ্ত কাস্টম কর্মকর্তা), ড. আতাহার উদ্দিন (ঢাকায় বসবাসরত শিল্পপতি ও ফামার্স ব্যাংকের পরিচালক), আব্দুল কাদের মোল্লা (সাবেক প্রধান শিক্ষক) প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। এঁরা সকলেই তাঁর এক বা দুই বছরের জুনিয়র। তাঁর প্রবীণদের মধ্যে শরাফ উদ্দিন আহমদ (স্কুলের সাবেক শিক্ষক) ও আতাহার উদ্দিনের (প্রয়াত) নাম স্মরণযোগ্য।
15/04/2021
ঝাটিবুনিয়া স্কুলের কীর্তিমান শিক্ষক কাঁঠালতলী হাইস্কুলের ভূতপূর্ব প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন স্যার শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল। হাঁটাচলা করতে পারছেন না। স্যারের শারীরিক অবস্থার উন্নতি ও সুস্থতারর জন্য মহান আল্লাহর কাছে কায়োমনে প্রার্থনা করি।
28/03/2021
'করোনায় কাঁদে মন' মির্জাগঞ্জের কৃতী সন্তান ঝাটিবুনিয়া স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এস এম নূরুল হকের উপন্যাস। উপন্যাসটি পাঠক উপযোগী এবং জনস্বার্থসম্পৃক্ত। মানব সভ্যতার অন্যতম ক্রান্তিলগ্ন ভিত্তিক উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে মির্জাগঞ্জের আরেক সুসন্তান ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরীর বই পুস্তক প্রকাশন। বইটি বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে। আমার বিশ্বাস, বইটি পাঠকপ্রিয়তা পাবে। শুভ কামনা সবসময়।
24/10/2020
বিশ্বাস হাবিবুর রহমান সেই অজপাড়া গাঁয়ের মেধাবী সন্তান। নিজ প্রতিভাবলে গ্রামের একটি ঐতিহ্যবাহী স্কুলে (ঝাটিবুনিয়া ম.ই. মাধ্যমিক বিদ্যালয়) পড়ালেখা করে দেশের সেই ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করে সদ্য স্বাধীন দেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ছিলেন তীব্র জ্ঞানপিপাসু। তাঁর অদম্য আগ্রহ তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিচরণের সুযোগ করে দেয়। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে দেখার পরম সৌভাগ্য থেকে শুরু করে দেশের সেরা শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী যারা সেদিন হায়েনার হাত থেকে রেহাই পেয়েছিলেন তাদের অনেকেরই স্নেহধন্য হয়েছিলেন। আবার কর্মজীবনে ভিন্ন পথ বেছে নেওয়ার কারণে তাঁর ভেতরে যে সাহিত্যিক সত্তা অঙ্কুরিত হয়েছিল, ক্ষণিকের জন্য তা কিছুটা নিষ্প্রভ হয়েছিল। কিন্তু ভেতরের আগুন কখনো নিভে যায়নি। অবসর জীবনে একমাত্র পুত্র সন্তান হারিয়ে তিনি বেদনায় ম্রিয়মাণ হয়ে পড়েন। জীবন তাঁর কাছে অর্থহীন হয়ে যায়। রাজধানীর জীবন ত্যাগ করে তিনি পটুয়াখালীতে যেখানে ক্যান্সারে আত্মাহুতি দেওয়া প্রিয়পুত্র চিরনিদ্রায় শায়িত, সেখানে তিনি জীবনের বাকি সময় সন্তানের কবর আর চোখের জলের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে শুরু করেন। এই অবস্থা তো একটা মানুষকে বেশিদিন বাঁচিয়ে রাখতে পারে না। তাই গুণী মানুষ, উজ্জ্বল ও ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ের মেধাবী প্রতিনিধি বিশ্বাস হাবিবুর রহমান ভাইকে অনুরোধ করেছিলাম, চোখের জল মুছে ফেলে তাঁর সময়ের সূর্য সন্তান, মুক্তিযুদ্ধ, এবং জীবন সংগ্রামকে স্মৃতির পাণ্ডুলিপিতে অক্ষর ও বাণীতে বিন্যস্ত করে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে। ভেবেছিলাম, অগ্রজ হিসেবে এটাও কম দায়িত্বের নয়! তিনি কথা রেখেছেন। তাঁর উজ্জ্বল সব স্মৃতি আর চোখের জল মিলেমিশে একাকার হয়ে তৈরি হয়েছে "স্মৃতিময় দিনগুলি"। প্রকাশক স্নেহময় অনুজ শাহনেওয়াজ চৌধুরী আমার বই প্রকাশের জন্য আমার পাণ্ডুলিপি চেয়েছিল। জাতির মেধাবী এই সূর্য সন্তানের মূল্যবান পাণ্ডুলিপি এবং জীবন সংগ্রামের কাছে আমি নিতান্তই তুচ্ছ ও ক্ষুদ্র। তাই শাহনেওয়াজ-এর প্রকাশনা সংস্থা "বইপুস্তক" -এর কাছে আমার অনুরোধ ছিল দামি এই পাণ্ডুলিপিখানি প্রকাশ করে প্রিয় পাঠকদের হাতে তুলে দিতে। শাহনেওয়াজ কাজটি এগিয়ে নিচ্ছেন। আশা করি, পরবর্তী প্রজন্ম এই মূল্যবান উপহার সামগ্রী শ্রদ্ধাভরে সংগ্রহে রাখবে এবং দেশের একটি মূল্যবান সময়কে লেখকের চোখ দিয়ে উপভোগ করবে। জয়তু বিশ্বাস হাবিবুর রহমান।
17/06/2020
স্কুল না থাকায় ভালো-খারাপ দুটিই লাগছে
করোনাভাইরাস পাল্টে দিয়েছে আমাদের জীবনের বাস্তবতা। দেশ-বিদেশের পাঠকেরা এখানে লিখছেন তাঁদের এ সময়ের আনন্দ-বেদনাভ...
31/05/2020
ছবিটি শাহীন ভাইয়ের টাইমলাইন থেকে নেওয়া কিংবদন্তিতুল্য প্রধান শিক্ষক প্রিয় কাদির মোল্লা স্যারের ছবি। কয়েকদিন ধরেই মোবাইলে ছবিটি সেভ করতে চেয়েছিলাম। পারি নি। এবার পারলাম। সম্ভবত ছবিটি স্কুলে স্যারের নিজের টেবিলে বসে তোলা। বিনম্র শ্রদ্ধা হে প্রিয় শিক্ষাগুরু।
31/05/2020
তথ্য শেয়ার করতে একটু দেরি হলো। প্রিয় কাদির মোল্লা স্যারের পুত্র শাহীন ভাই চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা এসেছিলেন যাত্রাবাড়িতে তার টেম্পুকে একটা ট্রাক পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এ সময় তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। যাত্রাবাড়ি একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি ভালো আছেন। এর মধ্যে তিনি ভাবিকে নিয়ে আজ বা কাল চট্টগ্রাম যাবার কথা।