শোভনদন্ডী, পটিয়া, চট্টগ্রাম

শোভনদন্ডী, পটিয়া, চট্টগ্রাম Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from শোভনদন্ডী, পটিয়া, চট্টগ্রাম, Shuvondandi, Patiya.

শোভনদণ্ডী বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার অন্তর্গত একটি ইউনিয়ন। পটিয়া উপজেলার সর্ব-দক্ষিণে শোভনদণ্ডী ইউনিয়নের অবস্থান। উপজেলা সদর থেকে এ ইউনিয়নের দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার। এ ইউনিয়নের উত্তরে খরনা ইউনিয়ন, কচুয়াই ইউনিয়ন ও ছনহরা ইউনিয়ন; পশ্চিমে ছনহরা ইউনিয়ন ও আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়ন; দক্ষিণে চন্দনাইশ উপজেলার বরকল ইউনিয়ন ও জোয়ারা ইউনিয়ন এবং পূর্বে চন্দনাইশ উপজেলার জোয়ারা ইউনিয়ন ও কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়ন ও পটিয়া উপজেলাধীন খরনা ইউনিয়ন অবস্থিত।

14/11/2025

আত্মসম্মানবোধ নাকি সম্পদ বড়?

ব্রিটিশ শাসনের সময় এক ব্রিটিশ অফিসার এক ভারতীয় যুবকের মুখে থাপ্পড় দেন। সাথে সাথে যুবকটিও তাঁর সমস্ত শক্তি দিয়ে বৃটিশ অফিসারকে এতো জোরে থাপ্পড় মারে অফিসার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এই অপমানে হতবাক হয়ে যাওয়া অফিসার ভাবলেন সামান্য এক ভারতীয় যুবক কীভাবে এমন এক সাম্রাজ্যের সেনা অফিসারকে থাপ্পড় মারল যে সাম্রাজ্যের সূর্য কখনো অস্ত যায় না।

তিনি দ্রুত তার পোস্টে গিয়ে ওই ভারতীয়কে কঠোর শাস্তি দেওয়ার জন্য দাবী করলেন।
কিন্তু উচ্চপদস্থ কমান্ডার তাকে শান্ত করে বললেন ভারতীয় লোকটিকে শাস্তি না দিয়ে বরং তাকে পুরষ্কৃত করতে। আর পুরষ্কার হিসাবে তাকে দশ হাজার রুপি উপহার দিতে।

অফিসার ঘৃণায় চিৎকার করে বললেন এটা শুধু আমার, আপনার অপমান না। বরং এটা বৃটিশ মহারাণীরও অপমান। আর আপনি বলছেন তাকে শাস্তি না দিয়ে আরো পুরষ্কৃত করতে।

কমাণ্ডার এবার বললেন- এটা একটি সামরিক আদেশ আর তুমি দেরি না করে এ আদেশ পালন করবে।
জুনিয়র অফিসার তার কমান্ডারের আদেশ মেনে দশ হাজার রুপি সাথে নিয়ে ওই ভারতীয়ের কাছে গিয়ে বললেন- অনুগ্রহ করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আর এই দশ হাজার রুপি উপহার হিসাবে গ্রহণ করুন।

ভারতীয় যুবক উপহার গ্রহণ করলেন এবং ভুলে গেলেন যে তাকে তার দেশের মাটিতে এক ঔপনিবেশ সেনা অফিসার দ্বারা থাপ্পড় মারা হয়েছে।

সেই সময়ে দশ হাজার রুপি অনেক বড় অর্থ। তিনি এই অর্থ যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে কয়েক বছরের মধ্যে জীবনের মান উন্নত করে বেশ বিত্তশালী হয়ে ওঠলেন। আগে ছিলেন একজন সাধারণ যুবক। এখন সমাজে বেশ প্রতিষ্ঠিত।


অনেক বছর পর সেই ইংরেজ কমান্ডার তার জুনিয়র অফিসারকে ডেকে নিয়ে গিয়ে বললেন- তুমি কি সেই ভারতীয়কে মনে রেখেছো- যে তোমাকে থাপ্পড় মেরেছিলো?

অফিসার বলল: সেই অপমান আমি ভুলি কেমন করে?

কমান্ডার বললেন: এখন সময় এসেছে।তুমি তাকে খুঁজে বের করো এবং জনসম্মুখে তাকে জোরে থাপ্পড় মেরে এসো।
অফিসার বলল: সেটা কিভাবে সম্ভব। যে গরীব থাকা অবস্থায় আঘাতের পাল্টা জবাব দিয়েছিলো। আর এখন সে বেশ বিত্তবান। সেতো আমাকে মেরেই ফেলবে।

কমান্ডার বললেন: আমি যা বলছি তাই করো। এটাও তোমার উপর আদেশ।
জুনিয়র অফিসারকে আদেশ মানতে হয়। তিনি সেই ভারতীর কাছে গেলেন এবং খুর জোরে তাকে থাপ্পড় মারলেন।
কিন্তু এবার ঘটলো সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা।

ভারতীয় যুবক এবার কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না। এমনকি সাহস করে অফিসারের দিকে তাকাতে পর্যন্ত পারলো না।

অফিসার হতবাক হয়ে ফিরে এসে তার কমান্ডারের কাছে গেলেন।
কমান্ডার বললেন: আমি তোমার মুখে বিস্ময়ের ছাপ দেখছি। তুমি এতো বিস্মিত কেন?

অফিসার বলল: যখন সে দরিদ্র ছিলো। তখন সে পাল্টা আঘাত করেছিলো। কিন্তু আজ যখন তার বিত্ত রয়েছে তখন সে চোখ তুলে তাকাতে পর্যন্ত পারলো না। এটা কেমন করে সম্ভব।

ইংরেজ কমান্ডার ধীরভাবে বললেন: প্রথমবার তার কাছে তার সম্মান ছাড়া আর কিছু ছিল না। সে সেটাকেই সবচেয়ে মূল্যবান মনে করেছিল এবং তা রক্ষার করার জন্য সে মৃত্যু ঝুকি নিয়েও লড়েছিলো। আর এখন সে আর সেটা রক্ষার চেষ্টা করে নি। কারণ তার কাছে এখন তার সম্মানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে বিত্ত। যেদিন সে দশ হাজার রুপি উপহার হিসাবে গ্রহণ করেছে সেদিনই সে তার মর্যাদা, আত্ম সম্মানবোধ রুপির কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।

আর বিত্তের কাছে মানুষের আত্ম সম্মানবোধ যখন বিক্রি হয়ে যায় তখন যে কোন মানুষের মেরুদণ্ডও বাঁকা হয়ে যায়।

আসুন আত্মসম্মানবোধ বজায় রাখি। পদ , উপহার কিংবা কোনো কিছুর লোভে নিজেকে বিক্রি না করে নিজের মেরুদণ্ড শক্ত রাখি।

এ নিউজটা কি সত্য?
07/11/2025

এ নিউজটা কি সত্য?

06/11/2025

সিলিং ফ্যানে বিদ্যুৎ খরচ কেমন?
বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞদের হিসাবে দেখা গেছে, একটি সাধারণ সিলিং ফ্যান ৭০ ওয়াট থেকে ১০০ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। যদি ধরা হয় একটি ফ্যান ৭০ ওয়াটের, তাহলে এটি এক ঘণ্টায় ৭০ ওয়াট বা ০.০৭ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে।

বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ৭ টাকা ৫০ পয়সা। সে হিসেবে ০.০৭ ইউনিট × ৭.৫০ টাকা = ০.৫২৫ টাকা, অর্থাৎ এক ঘণ্টা ফ্যান চালাতে খরচ হয় মাত্র ৫০ পয়সা।

দিনে যদি ১০ ঘণ্টা ফ্যান চলে, তবে প্রতিদিন খরচ হবে ৫.২৫ টাকা। আর এক মাসে (৩০ দিন) সেই খরচ দাঁড়াবে প্রায় ১৫৮ টাকা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হিসাব থেকেই বোঝা যায় সিলিং ফ্যান বিদ্যুৎ খরচের দিক থেকে খুবই সাশ্রয়ী। বিদ্যুৎ বিল বেড়ে গেলে তার মূল কারণ থাকে ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন বা অন্যান্য উচ্চ ক্ষমতার যন্ত্রপাতি, এবং অনেক সময় লুকানো বিদ্যুৎ অপচয়

রাশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থায় পরীক্ষার সর্বোচ্চ নম্বর ধরা হয় ৫। আর আশ্চর্যজনকভাবে, যদি কোনো ছাত্র একটিও উত্তর না লিখে খাতা ...
03/11/2025

রাশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থায় পরীক্ষার সর্বোচ্চ নম্বর ধরা হয় ৫। আর আশ্চর্যজনকভাবে, যদি কোনো ছাত্র একটিও উত্তর না লিখে খাতা জমা দেয়, তবুও সে পায় ২।

প্রথমদিন মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আমি যখন এই নিয়ম জানলাম, তখন সত্যিই বিস্মিত হলাম। আমার কাছে মনে হলো, কেউ যদি কিছুই না লিখে, তার তো প্রাপ্য শূন্য হওয়া উচিত।

আমি কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করলাম ড. থিওদর মেদ্রায়েভকে, “স্যার, একজন ছাত্র কিছু না লিখে ২ পাবে, এটা কিভাবে যুক্তিযুক্ত?”

মেদ্রায়েভ হাসলেন। তারপর শান্ত গলায় বললেন, “শূন্য মানে যার কোনও অস্তিত্ব নেই। মানুষ যতক্ষণ চেষ্টা করছে, ততক্ষণ সে শূন্য কীভাবে হয়? ভেবে দেখো, একজন ছাত্র কত ত্যাগ স্বীকার করে প্রতিদিন সকালে ক্লাসে আসে। হয়তো কনকনে শীতের মধ্যে সে ভোরে ঘুম থেকে উঠেছে, লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে বাসে, ট্রামে কিংবা ট্রেনে দাঁড়িয়ে এসেছে। খালি খাতা জমা দিলেও সে ক্লাসে এসেছে, মানে চেষ্টা করেছে। এখন বলো, আমি কীভাবে তাকে শূন্য দিই?”

তিনি আরও বললেন, “ছাত্রটি হয়তো উত্তর লিখতে পারেনি। কিন্তু তাই বলে তার সব প্রচেষ্টা বৃথা যাবে? সে যে রাত জেগে পড়াশোনা করেছে, নোটবুক কিনেছে, বই খুলে চেষ্টা করেছে, সেই শ্রম কি আমরা অবহেলা করবো?

না বাবা, মানুষ শূন্য নয়। শূন্য দিলে আমরা তার আত্মবিশ্বাস কেড়ে নেবো, তার ভেতরের আগুন নিভিয়ে দেবো। আর আমরা শিক্ষক হিসেবে চাই, ছাত্র যেন বারবার উঠে দাঁড়াতে পারে, হেরে না যায়।”

আমি নির্বাক হয়ে শুনছিলাম। সেই মুহূর্তে আমার ভেতরটা কেঁপে উঠল। বুঝলাম, শিক্ষা মানে শুধু নম্বর বা খাতার উত্তর নয়, শিক্ষা মানে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখা, তার প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেওয়া।

মেদ্রায়েভ সেদিন আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য শিখিয়েছিলেন— শিক্ষা শুধু জ্ঞান বিতরণ নয়, শিক্ষা হচ্ছে মানবিকতার চর্চা।

শূন্য নম্বর অনেক সময় ছাত্রদের জন্য মৃত্যুঘণ্টা হয়ে দাঁড়ায়। খাতায় শূন্য দেখে তারা ভয় পায়, আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ধীরে ধীরে পড়াশোনার প্রতি বিতৃষ্ণা তৈরি হয়। অথচ একজন শিক্ষকের দায়িত্ব হলো ছাত্রকে উত্সাহিত করা, তাকে বোঝানো— "তুমি পারবে, আবার চেষ্টা করো।"

যখন আমরা একটি খালি খাতার জন্যও ন্যূনতম নম্বর দিই, তখন আমরা আসলে বলি— "তুমি শূন্য নও, তুমি এখনও যোগ্য। তুমি ব্যর্থ হওনি, শুধু সফল হতে পারোনি। আবার চেষ্টা করো।"

এটাই হলো আসল শিক্ষা।

শিক্ষকের হাতেই ছাত্রের ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে। তাই শিক্ষকেরা যদি একটু মানবিক হন, যদি নম্বরের বাইরেও ছাত্রদের প্রচেষ্টা দেখতে শেখেন, তবে অনেক হতাশ ছাত্র হয়তো নতুন করে স্বপ্ন দেখতে পারবে।

আমার কাছে মনে হয়েছে, এই গল্পটা শুধু রাশিয়ার নয়, সারা বিশ্বের শিক্ষকদের শোনানো উচিত। কারণ শূন্য নম্বর কখনো শিক্ষা নয়, শূন্য নম্বর মানে কাউকে শেষ করে দেওয়া। মানুষ যতক্ষণ চেষ্টা করছে, তার প্রাপ্য অন্তত একটি আশ্বাস, একটি স্বীকৃতি।

(সংগৃহীত)

HSC ২০২৫মোট পরীক্ষার্থী ১২,৫১,১১১মোট ছাত্র -৬,১৮,১৫ ছাত্রী ৬,৩৩,৯৬পাসের হারমাদরাসা বোর্ডে ৭৫.৬১ঢাকা বোর্ডে    ৬৪.৬২কারিগ...
16/10/2025

HSC ২০২৫

মোট পরীক্ষার্থী ১২,৫১,১১১
মোট ছাত্র -৬,১৮,১৫ ছাত্রী ৬,৩৩,৯৬

পাসের হার

মাদরাসা বোর্ডে ৭৫.৬১
ঢাকা বোর্ডে ৬৪.৬২
কারিগরি ৬২.৬৭
বরিশালে ৬২.৫৭,
রাজশাহী ৫৯.৪০
দিনাজপুরে ৫৭.৪৯,
চট্টগ্রামে ৫২.৫৭,
সিলেটে ৫১.৮৬,
ময়মনসিংহে ৫১.৫৪,
যশোরে ৫০.২০,
কুমিল্লায় ৪৮.৮৬,
গড় পাসের হার ৫৮.৮৩ গড় ফেল ৪১.১৭
মোট পাস ৭,২৬,৯৬০ মোট ফেল ৫,০৮,৭০১

মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন

২০২ প্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল

শোভনদন্ডী স্কুল এন্ড কলেজের ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার পাসের হার মাত্র ১৭.৫৮ শতাংশ। ৯৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ‍্যে ১৬ জন পাস...
16/10/2025

শোভনদন্ডী স্কুল এন্ড কলেজের ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার পাসের হার মাত্র ১৭.৫৮ শতাংশ। ৯৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ‍্যে ১৬ জন পাস।

09/10/2025

জাপানে একটা খুব বিখ্যাত উক্তি আছে, আপনি যদি মনে করেন যে আপনি সব কিছু হারিয়ে ফেলছেন, মনে রাখবেন, গাছ ও কিন্তু প্রতিবছর তার সমস্ত পাতা হারায়, কিন্তু তারপরও সে দাঁড়িয়ে থাকে এবং অপেক্ষা করে ভবিষ্যতে ভালো দিনের জন্য।

ধন্যবাদ স্যার, নিজের জেলা থেকে উদ্যোক্তা তৈরির কাজ শুরু করার জন্য। ইসলামী ব্যাংকে পাঁচ হাজার চাকরিচ্যুত।
01/10/2025

ধন্যবাদ স্যার, নিজের জেলা থেকে উদ্যোক্তা তৈরির কাজ শুরু করার জন্য। ইসলামী ব্যাংকে পাঁচ হাজার চাকরিচ্যুত।

√√√সমাবেশে যোগ দিন√√√ অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে নতুন নিয়োগ দিচ্ছে √√√ ইসলামী ব্যাংক নাকি মেধা যাচাই করার পরীক্ষা নিচ্ছে তাদের য...
29/09/2025

√√√সমাবেশে যোগ দিন

√√√ অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে নতুন নিয়োগ দিচ্ছে

√√√ ইসলামী ব্যাংক নাকি মেধা যাচাই করার পরীক্ষা নিচ্ছে তাদের যারা ২০১৭ পর চাকুরীতে ঢুকছে! ১৯৯৭ সালে SSC তে ২য় ডিভিশন, HSC তে ৩য় ডিভিশন এবং অনার্সে ৩য় ক্লাস পাওয়াদের এরা নিয়োগ দিয়ে পদোন্নতি দিতে দিতে FAVP বানাইছে! এই দল এবং তাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিটা কাজ কারবারে যেই পরিমান হিপোক্রেসির প্রমান মিলে তা সারা দুনিয়ায় অতুলনীয়!

11/09/2025

দুরন্ত ঘূর্ণির এই লেগেছে পাক
এই দুনিয়া ঘোরে বনবন বনবন
ছন্দে ছন্দে কত রঙ বদলায় রঙ বদলায়

কখনও পিঙ্গল কখন সবুজ
কখন বুঝি আর কখন অবুঝ
হৃদয় দিলে যার হৃদয় মেলে
হৃদয় যাবে সে কাল পথে ফেলে
গোলক ধাঁধারে ভাই তাই লেগেছে তাক
এই দুনিয়া ঘোরে বনবন বনবন

ও এই ঘুরন্ত নাগরদোলায়
কখন কাঁদায় আর কখন ভোলায়
কখন সাদা আর কখন কালো
কখন মন্দ যে কখন ভালো
জীবন জুয়ায় বীর জিতে গেলে
বোকার হদ্দ যদি হেরে গেলে
কপাল মন্দ আজ কাল চিচিং ফাঁক
এই দুনিয়া ঘুরে বনবন বনবন

গায়ক: হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
গীতিকার: সলিল চৌধুরী

09/09/2025

চট্টগ্রাম জেলার ১৬ সংসদীয় আসন
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই)
চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ)
চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুন্ড
চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান)
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ও বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়ন)
চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী)
চট্টগ্রাম-৯ (বাকলিয়া-কোতোয়ালী)
চট্টগ্রাম-১০ (খুলশী-পাহাড়তলী- হালিশহর)
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা)
চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী)
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ)
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া)
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী)

01/09/2025

আমার ছেলের গার্লফ্রেন্ড এসেছে আমাদের সাথে দেখা করতে৷ একসময় লোকে পাত্রী দেখতে মেয়ের বাড়ি যেত এখন পাত্রী নিজেই চলে এসেছে হবু শ্বশুর-শ্বাশুড়ির সাথে দেখা করতে। যুগ পাল্টেছে। যদিও যুগের সাথে তাল মেলাতে আমার আপত্তি নাই কিন্তু আমার বেগম মিসেস রেবেকা একদমই মেয়েটাকে পছন্দ করতে পারছে না। মেয়েটা আসবে শুনেই সকাল থেকেই রেগে আগুন হয়ে আছে।একশ একবার বলেছে,

-বিয়ের আগেই ঢ্যাঙঢ্যাঙ করে ছেলের হাত ধরে চলে আমবে।বেহায়া মেয়ে!আজকালকার মেয়েগুলা হচ্ছে নির্লজ্জ টাইপের। ভালো ছেলে দেখলেই গলায় ঝুলে পড়ার মতলব আঁটে।

চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে আমি বললাম,
-ইসলামে কিন্তু মেয়েদের নিজ থেকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া সুন্নাত। উম্মুল মুমেনীন খাদিজা(রাঃ) আমাদের প্রিয়নবী মুহম্মদ(সঃ) এর চাচার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন।উনাকে তুমি কি বলবা বেহায়া?

যুক্তিতে না পেরে রেবু কড়াইয়ের ফুটন্ত তেলের মত টগবগ করতে লাগল।গুণধর পুত্র বাড়ি নাই বিধায় সমস্ত দোষ গিয়ে পরল আমার ঘাড়ে। এই যেমন ছেলেকে আমি কোনোদিন শাসন করি নাই,শাস
করলে আজকের দিনটা দেখতে হত না।

ছেলের বয়স ছাব্বিশ৷সদ্যই ব্যাংকে চাকরি হয়েছে।পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করতে চাওয়া একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের জন্য কখনই অপরাধ নয় এই সাধারণ সত্যটা রেবু বুঝতে চাইছিল না। বাঙালি মায়েদের এই এক সমস্যা। মাতৃস্নেহ কখন যে সন্তানের প্রাইভেসি অতিক্রম করে বেডরুমে ঢুকে পড়ে তা তারা নিজেরাই বুঝে না। যাই হোক,মেয়েটা আসবে সন্ধ্যায়। সকাল থেকেই গিন্নির মুখের পাশাপাশি হাত চলছে। এইযুগের বাচ্চারা পিঠাপুলি পছন্দ করে না।বেকারি আইটেম কিনে আনা হল। সাথে ঘরে বানানো বেকড পাস্তা,নুডৃুলস,চিকেস ফ্রাই আরো কত কী!

মেয়েটি শৈশবের সাথে হাজির হল ঠিক সন্ধ্যা সাতটায়।নাম মেঘা।বড় বড় চোখ,কোঁকড়া চুলের মিষ্টি চেহারার মেয়ে।নীল চুড়িদারের সাথে ম্যাচিং ছোট্ট নীল টিপ। মেয়েদের খুঁটিয়ে দেখার বয়স পাড় হয়ে গেছে বহু বছর আগে। কিন্তু এই মেয়েটি আমার পুত্রবধূ হবে বিধায় ওকে নিজ সন্তানের মতই আপন করে দেখছিলাম।মেঘা হোস্টেলে থাকে।ওর বাবার সরকারি চাকরির সু্বাদে শৈশব কেটেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়। বর্তমানে ওর পরিবার ঝিনাইদহ আছে আর ও ঢাকা হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। এবছর এমবিএ দিবে। বয়সে শৈশবের বছর তিনেকের ছোট হবে।

দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ বিয়ে করবে সেক্ষেত্রে অভিভাবকদের আপত্তি চলে না। মেয়েটিকে আমার ভালোই লাগল,অল্পবয়সী হাসিখুশি মেয়ে। কিন্তু আমার স্ত্রী খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ওকে প্রশ্ন করতে লাগলেন,
সম্পর্ক কতদিনের,কিভাবে পরিচয় ইত্যাদি!
খাওয়ার টেবিলে মেঘা চাউমিন শৈশবেে প্লেটে সার্ভ করতেই রেবু বলে উঠল,
-ওমা!তোমাদের দুই বছরের পরিচয় কিন্তু এই জানো না! ওর চিংড়ি মাছে এলার্জি!

মেয়েটা সত্যি লজ্জা পেল।আমি পরিস্থিতি সামাল দেবার জন্যে বললাম,

-ছোট ছোট চিংড়ি মাছ ও বোধহয় দেখতে পায় নাই।তাই না?

মেঘা ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানাল।
মেয়েটা ঘণ্টাখানেক পর বিদায় নিতেই রেবু ঘাড় বেঁকিয়ে বসল৷ এই মেয়ের সাথে ছেলের বিয়ে দিব ন্।
-কেন দিবে না?
-এই মেয়ে শৈশবের পছন্দ,অপছন্দ কিছুই জানে না।নীল রঙের কামিজ পরে চলে এসেছে।ও জানে না,নীল রঙ শৈশবের কতটা অপছন্দ!
-প্রিয়তমাকে মানুষ সব রঙে দেখতেই পছন্দ করে রেবু। আমারো লাল রঙ ভালো লাগত না,বিয়ের দিন তোমাকে লাল বেনারসিকে দেখে মনে হচ্ছিল আকাশ থেকে পরী নেমে এসেছে।

রেবু লজ্জা পেয়ে বলল,
-ধুর!তোমার যত্তসব বুড়া বয়সে ভিমরতি।

এখনকার মত রেবুকে সামাল দেওয়া গেলেও ভবিষ্যতে ও এই মেয়েটাকে কতটা গ্রহন করতে পারবে জানি না।রেবু নিমরাজি ছিল তবু ওকে নিয়ে জোর করে চললাম ঝিনাইদহ। উদ্দেশ্য মেঘার বাবা-মায়ের সাথে পরিচিত হওয়া।মেঘারা তিন বোন,ও সবার ছোট।বড় দুইবোন জামাইসহ উপস্থিত ছিল। ওদের পরিবারে সবচেয়ে ভালো লাগল ওর বাবা নেয়ামত সাহেবকে। ভদ্রলোক দুই বছর পর অবসর নিবেন।রিটায়ার্ডের আগে ছোট কন্যাকে সুপাত্রস্থ করতে পারলে আর চিন্তা নেই। বুড়ো-বুড়ি শেষ ক'টা দিন গ্রামে গিয়ে পাড় করতে চান। নিজেদের বসতভিটার পাশে একফালি উঠোন আর পুকুরঘাট উনাকে স্বপ্নের মত টানছে। বুঝলা,সারাজীবন সরকারি সার্ভিস দেবার কল্যাণে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ঘোরা হলেও তার মন পড়ে আছে পিতৃ-পুরুষের ভিটায়। নিপাট ভদ্রলোক,একমাত্র এই লোকটার কথার জাদুতে রেবু বিয়েতে সম্মতি জানাল।মেঘাকে পছন্দ করতে না পারলেও আশ্চর্যজনকভাবে মেঘার পরিবারের প্রশংসার ফুলঝুরি শুনতে পেলাম স্ত্রীর মুখে। এটা অনেকটা অসম্ভব ব্যাপার,কেননা রেবু সহজে কারো প্রশংসা করে না।

বিয়ের আয়োজন শুরু হল।রেবু গিয়ে খুব পছন্দ করে অ্যাংগেজমেন্টের আঙটি কিনে আনল। বেশ ভারী আঙটি,স্বর্ণের বাজারেদর আকাশছোঁয়া। তবু ও একমাত্র ছেলের বিয়েতে কার্পণ্য করল না।আঙটি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে শৈশব দেখল। তারপর বলল,
-আঙটিটা সুন্দর কিন্তু তুমি এটা পাল্টে ডায়মন্ডের রিঙ নিয়ে আসো।
রেবু জিজ্ঞেস করল,
-কেন?
শৈশব বলল,
-মেঘার খুব ডায়মণ্ডের রিং পছন্দ।ছোট হোক সমস্যা নাই,ডায়মণ্ডের হলেই হবে।
-ডায়মন্ডের কোনো ফিউচার ভ্যেলু আছে নাকি!সেদিন টিভিতে দেখলাম,একটা নামকরা কোম্পানির সব ডায়মন্ডই নকল।
-প্লিজ, মা।ওর একটা রিকুয়েষ্ট রাখো।
বিয়ে তো জীবনে একবারই করছি...

মেঘার একটা রিকুয়েষ্ট রাখতে গিয়ে দেখলাম একটার পর একটা অনুরোধ নামের বিপত্তি আসতে লাগল।হবু বউমা আর ছেলে নিয়ে প্ল্যান করেছে অনুষ্ঠান হবে চারদিনের। মেহেন্দি,হলুদ,বিয়ে,রিসিপশন। আমার ছেলে সদ্য চাকরিতে জয়েন করেছে। বেতন পায় চব্বিশ হাজার আর বউয়ের দু'হাত মেহেন্দিতে রাঙাতেই মেকাপ আর্টিস্ট পেমেন্ট নিবে পনের হাজার।একমাত্র ছেলের বিয়েতে কার্পণ্য করব না কিন্তু তাই বলে স্রেফ ফটোগ্রাফি আর ভিডিও বানাতে চাইছে ত্রিশ হাজার।টাকা কি গাছে ধরে নাকি!আক্কেল গুড়ুম হল তখন যখন হবু পুত্রবধূ পঞ্চাশ হাজার টাকার লেহেঙ্গা পছন্দ করে বসে থাকল। একদিন মাত্র যেই পোশাক পরা হবে তারজন্যে এতগুলা টাকা নষ্ট!শুধু একদিনের জন্যে তো নয়,চারদিনে চার রকমের সাজপোশাক। সাথে বরের জন্যে চাই ম্যাচিং পাঞ্জাবি,শেরওয়ানি কমপ্লিট স্যুট। হিসেব করে দেখলাম বর-কনের পোশাকের পিছনেই বাজেট রাখতে হবে দেড় লাখ।বেগাঢ় এতগুলা টাকা খরচ করতে বুকের ভেতরটা কেমন ব্যথা করতে লাগল।ছোটোখাটো ব্যবসা করি।বাড়ি তৈরি করে আর ছেলেকে দাঁড়া করাতে গিয়ে সঞ্চয় বলতে তেমন কিছু নাই। বিয়ে উপলক্ষ্যে বড় অঙ্কের টাকা ধার করতে হবে।কিভাবে শোধ করব জানি না,তবু আল্লাহর কাছে একটাই চাওয়া ছেলেটা যেন সুখে থাকে।

একটা সময় বিয়ে ছিল দুটি পরিবারের মিলন,আত্মার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। কিন্তু আমার ছেলেট নিজের বিয়ে উপলক্ষ্যে এতটাই এক্সাইটেড যে বাবা-মাকেও ভুলে যেতে বসল। প্রি ওয়েটিং শ্যুট করতে চলে গেল গাজীপুর। সন্ধ্যায় ফিরে আসল মন খারাপ করে। সারাদিন বৃষ্টি হওয়ায় ভিডিওগ্রাফি মনের মত হয় নাই।রেবু রেগে গজগজ করছে।

-কেমন ছেলের বউ ঘরে আনছ বুঝি না বাপু।
পাথরের গহনার সেট কিনেছে বাইশ হাজার টাকা দিয়ে।এত ঘটা করে বিয়ের অনুষ্ঠান না করে পাঁচ ভরি গোল্ড কিনলেও ভবিষ্যতে কাজে লাগত।

খরচ আমার একার হচ্ছে না। মেয়ের বাবারও অবস্থা কাহিল।বড় দুই বোনের বিয়েতে হাজার মানুষের আয়োজন ছিল ছোট মেয়ের বিয়েতে কম করলে মান থাকে না।সময়ের সাথে রুচি পাল্টেছে। বিয়েতে নরমাল পোলাও,রোস্ট করলে চলবে না।কাচ্চি বিরিয়ানি সাথে টিকিয়া কাবাব শাহী রোস্ট।নেয়ামত সাহেবকে কল দিয়ে বললাম,

-ভাই,আপনি মাথার উপর চাপ নিয়েন না। আমি বুড়ো মানুষ।পোলাওয়ের সাথে এক পিরিচ দই হলেই খাওয়া হয়ে যায়।কাচ্চি-ফাচ্চি বড়লোকি খাবার গরীবের পেটে সইবে না।

-কি যে বলেন না,ভাইসাব!জামাই আমার একটা আবদার করেছে। ঢাকা থেকে ওর বন্ধুবান্ধব,কলিগরা বরযাত্রীতে আসছে। তাদের জন্যে একবেলা খানাপিনার আয়োজন করব এ আর খুব বেশি নাকি!

বুঝলাম,শৈশবও কম যায় না। একসময় মেয়ের বাবা পিষ্ট হত যৌতুকের ঘানি টেনে। আর এইযুগে ছেলে এবং মেয়ের বাবা দুজনেই পৃষ্ট হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার লোক দেখানে বিয়ের অনুষ্ঠানে। স্রেফ ফেসবুকে কিছু ছবি আপলোড আর বন্ধুবান্ধবদের কাছে নিজেদের স্ট্যাটাস প্রমাণ করার জন্যে এত বড় আয়োজন।রেবুর কাছে আক্ষেপ নিয়ে বললাম,

-আমরা আমাদের সন্তানকে মানুষ করতে পারি নাই। যেইসব ছেলেপুলে বাবা-মায়ের কায়িক পরিশ্রমের টাকা স্রেফ লোক দেখানো কালচার দেখাতে গিয়ে উড়িয়ে দেয় আমি তাদের শিক্ষাকে কুশিক্ষা বলব।

আম্বানিমার্কা বিয়ের খরচ করা অধিকাংশ পরিবারের ধরাছোঁয়ার বাইরে। আম্বানি এক বিয়েতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা খরচ করলে সেই বিয়ে উপলক্ষ্যে দশ হাজার কোটি টাকা আয়ের ব্যবসায়িক বুদ্ধি রাখে। মধ্যবিত্ত বাঙালিরর বিয়েতে জমে কিছু সস্তা ডিনার সেট আর রাইস কুকার। যাই হোক,লাখ টাকা খরচ করে লোকজন ডেকে পোলাও-কোরমা খাইয়ে তাদের কাছে উপহার আশা করাটাও এক ধরনের ছ্যাচড়ামি। আমার টাকা নাই ব্যস আমি খুরমা খাইয়ে ছেলের বিয়ে দিব।বড়জোর নিকটাত্মীয়দের বাড়িতে ডেকে একবেলা ডাল-ভাতের আয়োজন করা। কিন্তু নিতান্ত অর্ধপরিচিত মানুষদের বিয়ে উপলক্ষ্যে জড়ো করে, বিরাট কমিউনিটি সেন্টার আলোকসজ্জা করে টাকার শ্রাদ্ধ করার কোনো মানে হয় না। একজন মধ্যবিত্তের লাখ টাকা যোগাতে বছরের পর বছর মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয় সেখানে এক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে লাখ দশেক টাকা খরচ করাকে বোকামি ছাড়া আর কিছুই বলা চলে না।

যথারীতি মেহেন্দি, গায়ে হলুদ আর ব্যাচেলর নাইট উৎযাপনের পর বিয়ে সম্পন্ন হল৷ যেই মেয়েটা ব্রান্ডের লেহেঙ্গা ছাড়া বিয়ের পিঁড়িতেই বসতে চাইছিল না সেই মেয়েটা নিজের অধিকার ফলানোর ব্যাপারে খুব কাঁচা। দেনমোহর ধার্য করা হল পাঁচ লাখ। নগদ কোনো টাকা বা সোনার গহনা দিয়েও কিছু উসুল করা হল না। তাতে কি!মেঘা ব্যস্ত বিয়ের ফটোসেশনে। নানান অঙ্গভঙ্গি করে ক্যামেরাম্যানের সামনে ছবি তুলে যাচ্ছে। গত চারদিনের অনুষ্ঠানে সম্ভবত এক হাজার ছবি তোলা হয়ে গিয়েছে। এত আর্টিফিসিয়াল ছবি কি সত্যি অ্যালবামে বন্দী হয় নাকি রয়ে যায় ফোনের মেমোরি কার্ডে বছরের পর বছর ধরে।ওরাই ভালো জানে।

বিয়ের পর নবদম্পতি যেখানে চড়ুই পাখির মত সারাদিন কিচির-মিচির করে ঘুরে বেড়ানেোর কথা। সেখানে ওদের রাতদিন ঝগড়া চলছে। শৈশব কথা দিয়েছিল ওকে নেপাল হানিমুনে নিয়ে যাবে। বিয়েতে প্রচুর টাকা খরচ করে অবস্থা করুণ।কক্সবাজার যাবারও পয়সা নাই। ছেলে যেন এবার কিছুটা লজ্জা নিয়েই আমার কাছে হাত পাতল। আমি বললাম,

-দেখ বাবা,তোকে পড়াশোনা করাইছি। বিয়ে করেছিস এখন আমার দায়িত্ব শেষ। আমাদের বুড়ো-বুড়িকে তোর না দেখলেও চলবে কিন্তু তোর বউয়ের দায়িত্ব একান্তই তোর।

সন্তানদের আদর্শ লিপি,নামতা মুখস্থ করানোর আগে যে সংসারের দৈনন্দিন কাজগুলো শেখানো উচিত তা ওদের বিয়ের পর হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছিলাম।মশারি টানানো নিয়ে দুজনের রোজ ঝগড়া চলে,বউমা এক কাপ চা বানিয়ে আনলে শৈশবের পছন্দ হচ্ছে না।

-এটা কি বানিয়ে আনছ? চিনি দিয়ে গুলানো শরবত।
-নিজে করে খাও না!

নাহ!আমার ছেলেরও এক কাপ চা বানানোর মুরোদ নাই।

মানুষ জন্ম থেকে কিছু শিখে আসে না। দুঃখজনকভাবে আমার ছেলে এবং ছেলের বউ দুজনের খাবার রুচি,চেহারা এবং মানসিক অবস্থা যোজনগুণ ব্যবধানে থাকলেও একটা ব্যাপারে দুজনের বেজায় মিল।দুজনে কেউই মানিয়ে নিতে পারে না এবং নতুন কিছু শেখারও আগ্রহ নাই। মেঘা বেলা দশটা অবধি ঘুমায়। উঠে এক কাপ চা হাতে নিয়ে ফোনে স্ক্রলিং করতে থাকে আর শৈশবের তো রোজই অফিস যেতে দেরি হয়।এমন করলে ওর চাকরিটা থাকবে কী না কে জানে!

একরাতে ওদের ঘর থেকে তর্কের আওয়াজ ভেসে আসছে। আমরা বুড়ো-বুড়ি চুপচাপ নিজেদের ঘরে দরজা এঁটে বসে ছিলাম।রেবু বলল,

-হল তো তোমার বিশ্বাস।ওরা একে অপরের জন্য পারফেক্ট না।দুজন না চাইতেই দুনিয়া পেয়ে গেছে তো তাই জানে না একটা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে স্ট্রাগল করতে হয়।তখন ওদের কথায় রাজি হয়ে ঘটা করে বিয়ে না দিলে আজকের এই দিন দেখতে হত না।

-তাহলে আমি কি করতাম বলো?

-পাছায় লাথি দিয়ে ছেলেকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া উচিত ছিল। চাকরি পেয়েছিস এখন নিজে বাড়ি-গাড়ি করে টাকা জমিয়ে বিয়ে কর।বাপের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে বউয়ের জন্য লাখ টাকা লেহেঙ্গা কিনতে সবাই পারে। নিজের টাকায় একটা বিয়ে করতে হলে বুঝত ঠেলা।কত ধানে কত চাল!

ফেসবুকে ওদের বিয়ের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।ওদের ছবি,ভিডিওর কমেন্টবক্সে চমৎকার সব শুভকামনা।বেস্ট কাপল,কাপল অব দ্য ইয়ার।অবশেষে ভাইয়া-আপুর প্রেম পরিণতি পেল!কে বলবে হাসোজ্জ্বল চেহারায় কপোত-কপোতীর ছবিগুলো স্রেফ অভিনয় ছিল।ঋনের টাকা প্রতিমাসে একটু একটু করে শোধ করি আর আল্লাহর কাছে প্রার্থণা করি ওদের বিয়েটা যেন এযাত্রায় বেঁচে যায়। জানি না,সৃষ্টিকর্তা এই পাপী বান্দার মোনাজাতে সাড়া দেবেন কী না!তবু সন্তানের জন্য বাবা-মায়ের প্রার্থনা চিরকালই মঙ্গলময়।

দুই বছর পর-

আমি এবং নেয়ামত সাহেব কোর্টের বারান্দায় বসে আছি। আজ শৈশব এবং মেঘার ফাইনাল ডির্ভোস হবে। মেঘা এক বছর ধরে বাপের বাড়িতে ও শৈশবের চেহারা পর্যন্ত দেখতে চায় না। নেয়ামত সাহেব বললেন,
-ভাইসাব,আমি আমার মেয়েকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করেছি। বিয়ে ব্যাপারটা ছেলেখেলা নয়।কিন্তু মেয়েটা এতটাই বেয়াদব,বাবার কথা শুনল না।আপনার প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নাই। আমি জানি মেঘাকে আপনারা যত্নের ত্রুটি করেন নাই।

আমি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম,

-সব দোষ আমার কপালের ভাই।ছেলেটাকে প্রকৃত শিক্ষা দিতে পারি নাই।তাই ও মেয়েদের সম্মান করতে জানে না।

দুজন সর্বস্বান্ত বুড়ো কোর্টের বারান্দায় হাতল ভাঙা চেয়ারে নীরবে বসে রইলাম।ভিতরে তালাকের প্রক্রিয়া চলছে।ব্যাংকে এখনও আমার দুই লাখ টাকা ঋণ আরো দেনমোহর পরিশোধের আরো পাঁচ লক্ষ টাকা যুক্ত হল। নেয়ামত মেয়ের বিয়েতে পেনশনের অধিকাংশ টাকা খরচ করে নিঃস্ব হয়েছেন। মেয়ের চিন্তায় গত এক বছরে দুইবার হার্ট অ্যাটাক করেছেন। ডির্ভোসি মেয়েকে নিয়ে সমাজের কাছে কি বলবেন তা নিয়ে আরো দ্বিগুণ চিন্তা হল।

বহুবছর আগে একটা কবিতায় পড়েছিলাম,"আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'। সন্তানকে দুধ-ভাত খাওয়ানোর আগে কি উপায়ে গরু থেকে দুধ পাওয়া যায় ধান থেকে ভাত হয় তা শেখানো জরুরি। নয়ত দুধভাত খেয়ে থালায় লাথি মারত দু'বার ভাববে না।কেননা না চাইতে যা পাওয়া যায় তা চিরকালই মূল্যহীন, যেমন মূল্যহীন ওদের কাছে বাবা-মায়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা।

@গল্পঃনির্বাক
হাবিবা সরকার হিলা

Address

Shuvondandi
Patiya
4370

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শোভনদন্ডী, পটিয়া, চট্টগ্রাম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share