24/07/2026
তাকওয়া অবলম্বনেই মেলে বিপদ থেকে মুক্তি ও কল্পনাতীত রিজিক: মুফতি একরাম হোসাইন অদুদী
চকরিয়ায় বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকালে জুমার পূর্ববর্তী সংক্ষিপ্ত বয়ানে জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার মুহতামিম মুফতি একরাম হোসাইন অদুদী (দা.বা.) বলেন, দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা, বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি এবং কল্পনাতীত রিজিক লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম হলো তাকওয়া।
তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে তাকওয়াবানদের জন্য সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কুরআনের ঘোষণা
«وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ ﴿سورة الطلاق: ٢-٣﴾»
অর্থ: "যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে (তাকওয়া অবলম্বন করে), আল্লাহ তার জন্য (সব সংকট থেকে) বের হওয়ার পথ করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তাঁর জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।"
(সূরা আত-তালাক: ২-৩)
তিনি বলেন, এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাকওয়াবান মানুষের জন্য তিনটি মহাসুসংবাদ দিয়েছেন।
প্রথমত, জীবনের সকল বিপদ, সংকট ও মুসিবত থেকে মুক্তির পথ করে দেবেন।
দ্বিতীয়ত, এমন উৎস থেকে রিজিক দান করবেন, যা মানুষের কল্পনা ও হিসাবের বাইরে।
তৃতীয়ত, যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখবে, আল্লাহ তাআলাই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন।
তাকওয়ার প্রকৃত অর্থ
তাকওয়ার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি সাহাবায়ে কেরামের একটি প্রসিদ্ধ ঘটনা উল্লেখ করেন।
হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) একদিন হযরত উবাই ইবন কা'ব (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, "তাকওয়া কী?"
তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনি কি কখনো কাঁটাযুক্ত পথ দিয়ে হেঁটেছেন?"
উমর (রা.) বললেন, "হ্যাঁ।"
তিনি বললেন, "তখন কী করতেন?"
উমর (রা.) উত্তর দিলেন, "আমি কাপড় গুটিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলতাম, যাতে কাঁটা না লাগে।"
তখন উবাই (রা.) বললেন,
"এটাই তাকওয়া।"
অর্থাৎ, যেমন কাঁটাযুক্ত পথে চলার সময় মানুষ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে নিজেকে রক্ষা করে, তেমনি গুনাহ, হারাম ও আল্লাহর নাফরমানি থেকে সর্বদা নিজেকে বাঁচিয়ে চলাই প্রকৃত তাকওয়া।
তাকওয়া ও তাওয়াক্কুলের সম্পর্ক
তিনি বলেন, প্রকৃত তাওয়াক্কুল তাকওয়ারই ফল। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর একটি হাদীস উল্লেখ করে তিনি বলেন,
«لَوْ أَنَّكُمْ تَتَوَكَّلُونَ عَلَى اللَّهِ حَقَّ تَوَكُّلِهِ، لَرُزِقْتُمْ كَمَا يُرْزَقُ الطَّيْرُ، تَغْدُو خِمَاصًا وَتَرُوحُ بِطَانًا.(رواه الترمذي: ٢٣٤٤، وابن ماجه: ٤١٦٤)»
অর্থ: "তোমরা যদি আল্লাহর ওপর যথাযথভাবে ভরসা করতে, তবে তিনি তোমাদেরকে এমনভাবে রিজিক দিতেন, যেমন তিনি পাখিদের রিজিক দেন। তারা সকালে খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে।"
তিনি বলেন, পাখিরা কখনো অলস বসে থাকে না; তারা আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সকালেই রিজিকের সন্ধানে বের হয়। তেমনি একজন মুমিন তাকওয়া অবলম্বন করে, হালাল উপায়ে চেষ্টা করে এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল রাখে। তখন আল্লাহ তাআলা তার জন্য অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করেন এবং সকল বিপদ-আপদ থেকে মুক্তির পথ খুলে দেন।
পরিশেষে তিনি সকলকে গুনাহমুক্ত জীবন গঠন, তাকওয়া অর্জন এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার আহ্বান জানান।