18/07/2026
আমাদের মেয়েরা আমাদের গর্ব: তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গঠনে অভিভাবকের দায়িত্ব
সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দ ও শিক্ষানুরাগী সুধী,
আসসালামু আলাইকুম।
একটি মেয়ে শুধু একটি পরিবার নয়, বরং একটি পুরো সমাজকে আলোকিত করতে পারে। আমাদের বিদ্যালয়ের প্রতিটি ছাত্রীকে আদর্শ, যোগ্য এবং সুরক্ষিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান যুগের চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখে আসুন আমরা নিজেদের নিচের প্রশ্নগুলো করি এবং সচেতন হই:
★নিয়মিত স্কুল ও যোগাযোগ: আপনার মেয়ে কি প্রতিদিন যথাসময়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে? আপনি কি স্কুলের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন?
★যাতায়াত ও সঙ্গ: আপনার মেয়ে স্কুল ছুটির পর সরাসরি বাড়ি ফিরছে কি না, সে কার সাথে মিশছে বা কার সাথে বন্ধুত্ব করছে—তার খোঁজ রাখছেন তো?
★শিক্ষকের কাছ থেকে খোঁজ নেওয়া: সন্তানের অগোচরে মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ে এসে শ্রেণি শিক্ষক বা বিষয় শিক্ষকের কাছ থেকে তার নিয়মিত রিপোর্ট (উপস্থিতি, বাড়ির কাজ এবং পরীক্ষার ফলাফল) সংগ্রহ করছেন কি?
★স্মার্টফোন ও প্রযুক্তির আসক্তি: আপনার মেয়ের হাতে কি অপ্রয়োজনে দামি স্মার্টফোন বা স্মার্টওয়াচ তুলে দিয়েছেন? সে কি ফেসবুক, টিকটক বা অনলাইন গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে? গভীর রাতে আপনার অগোচরে সে মোবাইল ব্যবহার করছে না তো?
★অতিরিক্ত অর্থ ও আদর: মেয়েকে অতিরিক্ত আদর দিয়ে তার হাতে প্রয়োজনের বেশি টাকা-পয়সা দিচ্ছেন না তো? মনে রাখবেন, অতিরিক্ত অর্থ এই বয়সে তাদের ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে।
★ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা: আপনার মেয়েকে কি ঘরে ধর্মীয় অনুশাসন, শালীনতা এবং নৈতিক শিক্ষায় উৎসাহিত করছেন? তার সাথে কি নিয়মিত পারিবারিক আলোচনা বা কাউন্সিলিং করেন?
★শিক্ষকের শাসন ও দৃষ্টিভঙ্গি: বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা মেয়ের কোনো ভুল ত্রুটির জন্য শাসন বা সংশোধন করলে আপনি কি তা নেতিবাচকভাবে দেখছেন? মনে রাখবেন, সন্তানের সকল দায়িত্ব শুধু শিক্ষকের নয়—কিছু দায়িত্ব শিক্ষকের আর সিংহভাগ দায়িত্ব আপনার।
আমাদের করণীয়:
১. বয়ঃসন্ধিকালীন এই সময়ে মেয়েদের প্রতি অতিরিক্ত বকাবকি বা কঠোর শাসন নয়, বরং মায়ের মতো বা বন্ধুর মতো তার মানসিক অবস্থা, চাওয়া ও অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করুন।
২. তাকে সামাজিক, মানবিক ও আদর্শিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত অনুপ্রাণিত করুন।
৩. অপ্রয়োজনে প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ক্ষতিকর ব্যবহার থেকে তাকে দূরে রাখুন।
"আপনার সন্তান সম্পর্কে সজাগ হোন, তাকে নিরাপদে রাখুন।"