14/05/2016
বরিশাল বোর্ডে হিন্দুধর্মে ফল বিভ্রাট : পুনরায় ফল প্রকাশ
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশিত: ০৩:২৫ পিএম, ১৪ মে ২০১৬, শনিবার | আপডেট: ০৪:৪২ পিএম, ১৪ মে ২০১৬, শনিবার
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের কয়েকশ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় ‘হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ বিষয়ে ফেল করেছে। এ কারণে উক্ত বিষয়ের সকল পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ণ করে আজ শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে পুনরায় ফলাফল ঘোষণা করা হবে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শিক্ষা বোর্ডে ফেল করা আড়াই শতাধিক পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ণের আবেদন জমা পড়েছে।
অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, পুনর্মূল্যায়ণে মেধাবী শিক্ষার্থীরা হয়তো তাদের কাঙ্খিত ফল পেয়ে যাবে। যারা ফেল করেছিল তাদের অনেকেই সঠিকভাবে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের কারণে উত্তীর্ণও হবে। তবে নগরীর উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র সর্বজিত ঘোষ হৃদয় আর কখনই ফিরে আসবে না। সব বিষয়ে এ প্লাস পেয়েও ধর্ম বিষয়ে ফেলের ঘটনায় আত্মহত্যা করে এই মেধাবী শিক্ষার্থী।
কাঙ্খিত ফলাফল না পেয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় বোর্ডের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা আরো শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তারা এই তিনদিন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন। খারাপ ফলাফলের জন্য সন্তানদের কেউ বকা দিয়েছেন কেউবা শান্তনা দিয়েছেন। আবার কেউ ছুটেছেন সন্তানদের বিদ্যালয় ও বোর্ডে। সবমিলিয়ে এই তিন দিনে তাদের ও সন্তানদের মানসিক যে বিপর্যয় ঘটেছে তা কাটিয়ে ওঠা সত্যিই কঠিন বলে জানান অভিভাবকরা।
হৃদয়ের বাবা জানান, বুধবার এসএসসির ফলাফল জানতে আমার সঙ্গে স্কুলে ছুটে যায় হৃদয়। সেখানে বোর্ডে টাঙানো ফলাফলে জিপিএ-৫ এর ঘরে তার রোল খুঁজতে থাকে। জিপিএ-৫ নয়, কোথাও নেই তার রোল নম্বর। সে জানতে পারে হিন্দুধর্ম বিষয়ে ফেল করেছে। অভিমানী হৃদয় বাসায় ফেরার পথে নগরীর প্যারারা রোডের সাত তলা ভবনের চারতলায় উঠে লাফিয়ে পড়ে। আর সেখানেই নিভে যায় মেধাবী এই শিক্ষার্থীর জীবন প্রদীপ।
শুধু উদয়ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা নয় বোর্ডের অধীন অনেক স্কুলের শিক্ষার্থীই ‘হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ বিষয়ে ফেল করেছে। হিন্দু ধর্ম বিষয়ে স্কুলের সেরা শিক্ষার্থীরা গণহারে ফেল করবে এটা মানতে পারছেন না ওইসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা।
তারা বলছেন, যারা সব বিষয়ে এ প্লাস পায়, তারা কিভাবে হিন্দুধর্ম বিষয়ে ফেল করে?
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল জিলা স্কুল, বরিশাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, অক্সফোর্ড মিশন হাইস্কুল, বানারীপাড়া ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খাঞ্জাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরফুন্নেচ্ছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ বিষয়ে ফেল করেছে। ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ও হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের সেরা ১০ ছাত্র হিন্দুধর্ম বিষয়ে ফেল করেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শিক্ষা বোর্ডে ফেল করা আড়াই শতাধিক পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ণের আবেদন জমা পড়ে। এর সবই হিন্দু ধর্মে ফেল করা শিক্ষার্থীদের। এর বাইরেও মৌখিকভাবে অনেকে বোর্ডের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. শাহ আলমগীর জাগো নিউজকে জানান, হিন্দুধর্ম বিষয়ে পরীক্ষার্থী ছিল প্রায় সাড়ে ৯ হাজার। এর মধ্যে ‘খ’ সেটের প্রশ্নপত্র পায় প্রায় ১১শ পরীক্ষার্থী। ১১শ পরীক্ষার্থীর মধ্যে কয়েকশ পরীক্ষার্থীর ফলাফলে বিপত্তি ঘটে। নৈর্ব্যক্তিকের উত্তরপত্রের ওএমআর শিট কম্পিউটারে দেখা হয়। যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত কারণে এমনটা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে প্রত্যাশিত নম্বর পায় সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. জিয়াউল হক জানান, হিন্দুধর্ম বিষয়ে সমস্যাটা হয়েছে নৈর্ব্যক্তিক অংশে। সমস্যাটা কোথায় হয়েছে সেটা এরই মধ্যে নির্ণয় করা হয়েছে। এটি কম্পিউটারে উত্তরপত্র সেটিং সমস্যা। পরীক্ষার্থীরা ‘খ’ সেটের প্রশ্নের যে উত্তর দিয়েছে। তা কম্পিউটারে অন্য সেটের উত্তরপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, তদন্তে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পরীক্ষকের (এক্সামিনার) গাফেলতি বেরিয়ে এসেছে। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই সমস্যার কারণে শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমেছে। ‘হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ বিষয়ের সকল শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ণ হলে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার আরো বাড়বে।
সাইফ আমীন/এফএ/এবিএস