BAF Shaheen College Chattogram

BAF Shaheen College Chattogram

Share

BAFSC CHATTOGRAM
#Admin.

25/04/2026
16/04/2026

২০২৫ সালের রসায়নে নোবেল জয়ী ওমার ইয়াঘি এক সৌরচালিত ডিভাইস তৈরি করেছেন যা মরুভূমিরমতো স্থানের শুষ্ক বাতাস থেকেও প্রতিদিন ১,০০০ লিটার পর্যন্ত উচ্চ-বিশুদ্ধ খাবার পানি আহরণ করতে সক্ষম।

এই যুগান্তকারী উদ্ভাবনটি মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্কস (MOFs) দ্বারা পরিচালিত হয়, যা এক ধরণের ছিদ্রযুক্ত পদার্থ এবং পানির অণুর জন্য উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন স্পঞ্জের মতো কাজ করে।

​এই ডিভাইসটি ১৫% এর মতো নিম্ন আর্দ্রতার চরম পরিবেশেও কার্যকরভাবে কাজ করে, যা পানিসংকটে থাকা শুষ্ক অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি জীবন রক্ষাকারী সমাধান হতে পারে। প্রথাগত 'অ্যাটমোস্ফিয়ারিক ওয়াটার জেনারেটর' (যা চালাতে প্রচুর শক্তি ও উচ্চ আর্দ্রতার প্রয়োজন হয়) থেকে ভিন্ন এই MOF-ভিত্তিক সিস্টেমটি পুরোপুরি সূর্যের আলোতে চলে।

​সংগৃহীত এই বিশুদ্ধ পানি সমস্ত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান অতিক্রম করেছে, যা বিশ্বব্যাপী পানি সংকটের একটি বিকেন্দ্রীকৃত এবং টেকসই সমাধান প্রদান করে। বায়ুমণ্ডল থেকে সরাসরি পানি সংগ্রহ করার ফলে এই প্রযুক্তিতে পাইপলাইন বা বড় আকারের লবণাক্ততা দূরীকরণ প্ল্যান্টের মতো ব্যয়বহুল অবকাঠামোর প্রয়োজন হয় না।

​ইয়াঘির এই উদ্ভাবন "রেটিকুলার কেমিস্ট্রি" (reticular chemistry)-র ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এটি এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে তিনি রেকর্ড-ব্রেকিং সারফেস এরিয়া বা পৃষ্ঠতল বিশিষ্ট কাস্টম-ডিজাইন করা আণবিক কাঠামো তৈরিতে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। এই উপাদানগুলো এতটাই দক্ষ যে মাত্র এক গ্রাম MOF-এর পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল বেশ কয়েকটি ফুটবল মাঠের সমান হতে পারে, যা ছোট ইউনিটের মধ্যেই সর্বাধিক পানি আহরণ নিশ্চিত করে।

​ডিভাইসটি যখন বানিজ্যিকভাবে ব্যপক উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এটি বিশ্বজুড়ে পানীয়ল-জলের কষ্টে থাকা লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে বিশুদ্ধ খাবার পাবি পৌঁছে দিতে সক্ষম। আশা করা যায়, এই বহনযোগ্য প্রযুক্তিটি পরিবর্তনশীল জলবায়ুর সাথে টিকে থাকতে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের পদ্ধতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করবে।

Source: This Nobel Prize winner built a machine that extracts 1,000 liters of water from air each day
By Advaita Suresh
The Economic Times.

06/04/2026

বিশ্বজুড়ে হাসির সম্রাট হিসেবে পরিচিত চার্লি চ্যাপলিন শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি ছিলেন এক অনন্য সৃষ্টিশীল প্রতিভা। তার অভিনয়, হাঁটা, মুখভঙ্গি—সবকিছুই এতটাই স্বতন্ত্র ছিল যে তা এক সময় বিশ্বজুড়ে অনুকরণের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু তার জীবনে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা আমাদের সামনে এক গভীর সত্য উন্মোচন করে—আসল আর নকলের মধ্যে পার্থক্য কতটা সূক্ষ্ম, আবার কতটা গভীর।

ধারণা করা হয়, ইউরোপ সফরের সময় একবার চ্যাপলিন জানতে পারেন যে তার মতো দেখতে এবং অভিনয় করতে পারে—এমন মানুষদের নিয়ে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। কৌতূহলবশত তিনি গোপনে সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। সাধারণ প্রতিযোগীর মতোই পোশাক পরে লাইনে দাঁড়ান, কারো কাছে নিজের পরিচয় প্রকাশ করেন না।

মঞ্চে একের পর এক প্রতিযোগী উঠে আসে। সবার মাথায় সেই বিখ্যাত বোলার হ্যাট, ঠোঁটের নিচে ছোট গোঁফ, হাতে ছড়ি, আর সেই চেনা অদ্ভুত হাঁটা। দর্শকরা মুগ্ধ—কারও অভিনয় এতটাই নিখুঁত যে আসল-নকল আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

চ্যাপলিন নিজেও যখন মঞ্চে ওঠেন, তখন তিনি নিজের স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই অভিনয় করেন। কিন্তু ফলাফল ঘোষণার সময় ঘটে অদ্ভুত এক ঘটনা—তিনি বিজয়ীদের তালিকায় শীর্ষে তো ননই, বরং পিছনের দিকেই স্থান পান। এই ঘটনাটি তাকে বিস্মিত করে, আবার ভাবতেও বাধ্য করে।

এই গল্পটি ইতিহাসে বিভিন্নভাবে বলা হয়, এবং এর সত্যতা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এর অন্তর্নিহিত শিক্ষা অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষ প্রায়ই বাইরের রূপ দেখে বিচার করে, ভেতরের সত্তাকে নয়।

চ্যাপলিনের অভিনয়ের আসল শক্তি ছিল তার অনুভূতি, পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং মানুষের জীবনকে গভীরভাবে উপলব্ধি করার দক্ষতা। সেই অনুভূতি নকল করা যায় না। কেউ তার হাঁটা অনুকরণ করতে পারে, তার পোশাক পরতে পারে, কিন্তু তার দৃষ্টিভঙ্গি বা সৃষ্টিশীলতা কপি করা সম্ভব নয়।

এই ঘটনাটি আমাদের জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু বার্তা দেয়।

প্রথমত, বাহ্যিক অনুকরণ খুব সহজ। আজকের যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে আমরা প্রতিনিয়ত অন্যকে অনুকরণ করছি—স্টাইল, ভাষা, এমনকি জীবনযাপনও। কিন্তু এতে নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে যায়।

দ্বিতীয়ত, নিজের ভেতরের শক্তিই আসল পরিচয়। প্রতিটি মানুষের নিজস্ব অভিজ্ঞতা, চিন্তা ও অনুভূতি আলাদা। সেটাই তাকে আলাদা করে তোলে।

তৃতীয়ত, সমাজ অনেক সময় বাস্তবের চেয়ে উপস্থাপনাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। যারা ভালোভাবে নিজেকে তুলে ধরতে পারে, তারা দ্রুত নজরে আসে। কিন্তু গভীরতা সবসময় চোখে পড়ে না।

চতুর্থত, আসল প্রতিভা কখনো হারিয়ে যায় না। সাময়িকভাবে কেউ অনুকরণ করে প্রশংসা পেতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকে মৌলিকতা।

চ্যাপলিন তার জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন—হাসির আড়ালেও গভীর বেদনা লুকিয়ে থাকতে পারে, আর সেই বেদনাকেই শিল্পে রূপ দেওয়াই সত্যিকারের প্রতিভার পরিচয়।

আজকের পৃথিবীতে যেখানে সবাই অন্যের মতো হতে ব্যস্ত, সেখানে এই গল্পটি আমাদের থামতে শেখায়। নিজেকে প্রশ্ন করতে শেখায়—আমি কি নিজে আছি, নাকি কারো নকল হয়ে বেঁচে আছি?

নকল করে সাময়িক প্রশংসা পাওয়া যায়, কিন্তু ইতিহাসে জায়গা করে নেয় শুধু তারাই, যারা নিজের মতো হতে সাহস করে।

#অনন্ত_লোকের_স্পর্শ

02/04/2026

সময় ফুরিয়ে আসছে। আমি আবারও বলছি—সময় শেষ হওয়ার আগেই জেগে ওঠার সময় এখনই। ঐক্যবদ্ধ হতে ডাক দেওয়ার আগে আপনাকে একটি সহজ প্রশ্ন করি।

প্রতিদিন স্ক্রল করতে করতে আপনি যে মিমগুলো দেখে হাহা রিঅ্যাক্ট দিচ্ছেন, আপনি কি জানেন সেগুলো আসলে কারা বানাচ্ছে?
যে আপনার বন্ধু হিসেবে শেয়ার করল সে নয়, কিংবা যে বড় বড় পেজ নিজের ওয়াটারমার্ক বসালো তারাও নয়। তবে এই নিখুঁত মিমগুলোর আসল জাদুকর কে?
আমি অনেক খুঁজেছি, কিন্তু তাদের হদিস কেউই পায় নি। এগুলো হুট করে ইন্টারনেটে 'সুনামি'র মতো চলে আসে—একেবারে সঠিক সময়ে, সঠিক শব্দে। আপনার মস্তিষ্ক কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেটি আপনার মনে একটি বিশেষ অনুভূতির জন্ম দেয়। আপনি ভাবছেন এটা স্রেফ কৌতুক? কিন্তু আমি যদি বলি, এগুলো এ পর্যন্ত তৈরি করা ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর এবং উন্নত মনস্তাত্ত্বিক অস্ত্র?

নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছিলেন, কেয়ামতের আগে জ্ঞান উঠে যাবে এবং মূর্খতা চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে।

এখন নিজেকে প্রশ্ন করুন, ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে জ্ঞানের ছদ্মবেশে মূর্খতা ছড়ানোর সবচেয়ে বড় হাতিয়ার কোনটি? নিউজ? না।
আমরা এখন অনেক স্মার্ট। আমরা ভাবি—"আরে ভাই, বিবিসি-সিএনএন তো এজেন্ডা চালায়, ওগুলো আমি দেখিই না!" অভিনন্দন! আপনি একটা বুলেট এড়িয়ে সরাসরি একটি মাইনফিল্ডে পা রেখেছেন। কারণ আপনি যখন নিউজ দেখা ছাড়লেন, তখন আপনার খবরের জায়গা দখল করে নিয়েছে 'মিম'। প্রোপাগান্ডা আগে আসত গম্ভীর গলায়, সুট-টাই পরা মানুষের বক্তৃতায় আর এখন আসে মিমস হয়ে!
আপনি প্রশ্ন তুলতে পারতেন।

কিন্তু আপনি এমন কিছুর সাথে লড়াই করবেন কীভাবে যা আপনাকে হাসায়? আপনার মস্তিষ্ক যখন কোনো কিছু দেখে আনন্দ পায়, তখন সেটার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার ক্ষমতা সে হারিয়ে ফেলে। আর এটাই হলো আসল ট্র্যাপ।

আপনার মস্তিষ্কের সাথে আসলে কী ঘটছে জানেন? একে বলে 'ডিসেনসিটাইজেশন' বা অনুভূতিহীনতা।
মনে আছে যখন 'এপস্টাইন ফাইল' ফাঁস হলো? দুনিয়া জানতে পারল উচ্চবিত্তদের ভয়াবহ শিশু পাচার আর লালসার কথা। এটা নিয়ে মানুষের রাজপথে নামার কথা ছিল। কিন্তু ইন্টারনেট কী করল? এগুলো নিয়ে মজার ভিডিও আর মিম বানাতে শুরু করল। নরকের মতো ভয়াবহ একটি সত্যকে তারা স্রেফ 'কৌতুক' বানিয়ে আপনার নিউজফিডে ছেড়ে দিল।
ফলাফল? আপনি ভয়ংকর কিছু দেখলেন, কিছুটা শিউরে উঠলেন, তারপর মিম দেখে হেসে ফেললেন। ভয়টা চলে গেল। বারবার দেখার পর আপনি নিজেই সেটা নিয়ে জোকস বানানো শুরু করলেন। এভাবেই একটি জঘন্য অপরাধ স্রেফ 'কন্টেন্ট' হয়ে গেল।
কুরআনের সূরা আন-আম (আয়াত ৬৮) আমাদের পরিষ্কার বলেছে—যখন দেখবে মানুষ আল্লাহর আয়াত নিয়ে উপহাস করছে, তখন সেখান থেকে সরে যাও। আল্লাহ বিতর্ক করতে বলেননি, সরে যেতে বলেছেন। কারণ কিছু আলোচনা আলোচনা নয়, সেগুলো আসলে 'দূষণ'।

মানুষ মনে করে মিমগুলো বুঝি আপনা-আপনি ভাইরাল হয়। না, ভাই! অ্যালগরিদম আপনার হাতে নেই। এই সিস্টেম সত্যকে নয়, বরং 'এনগেজমেন্ট'কে পুরস্কৃত করে। আর রাগ, ভয়, লালসা আর উপহাসের চেয়ে বেশি এনগেজমেন্ট আর কিছুতে হয় না।
ইসলাম যে আবেগগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে বলেছে, সেই রাগ আর প্রবৃত্তিকে আজ আপনার বিরুদ্ধেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

৫ বছর আগেও ফেমিনিজম ছিল তাত্ত্বিক বিষয়। আজ মিমের কল্যাণে মুসলিম ছেলে-মেয়েরা একে অপরের প্রতিপক্ষ। একজন 'আলফা মেল' সাজার নেশায় নারীকে পণ্য ভাবছে, অন্যজন 'ক্যারিয়ার' এর নামে সংসার বিমুখ হচ্ছে। দুজনেই ভাবছে এটা তাদের 'স্বাধীন চিন্তা'। কিন্তু আসলে একটি মিম আপনাকে শিখিয়েছে কী অনুভব করতে হবে। আপনি স্রেফ একটি স্ক্রিপ্ট অনুসরণ করছেন।

রোমানরা ২,০০০ বছর আগেই ফর্মুলা দিয়ে গিয়েছিল—"Bread and Circuses"। মানুষকে স্রেফ পেট ভরা খাবার আর বিনোদনে ডুবিয়ে রাখো, তারা কখনোই প্রশ্ন করবে না কে তাদের শাসন করছে। আজ সেই খাবার হলো আপনার ফোনের 'ডোপামিন' আর বিনোদন হলো আপনার 'For You Page'।

দাজ্জালের ফিতনা কেন এত শক্তিশালী হবে জানেন?

কারণ সে আপনাকে জোর করবে না। মানুষ তাকে স্বেচ্ছায় অনুসরণ করবে। তারা মিথ্যাকে সত্য বলবে, মন্দকে বিনোদন ভাববে। মিম কালচার একটি পুরো প্রজন্মকে তৈরি করছে যাতে তারা চিন্তা না করে কেবল 'ট্রেন্ড' অনুসরণ করে। আজ নাচের ট্রেন্ড, কাল বিশ্বাসের ট্রেন্ড। এই ট্রেন্ডে হাঁটতে হাঁটতে যখন বড় প্রতারণাটি সামনে আসবে, তখন আপনার বিচারবুদ্ধি আর অবশিষ্ট থাকবে না।আমি আপনাকে অ্যাপ ডিলিট করে পাহাড়ে যেতে বলছি না। ইসলাম চোখ বুজে থাকার ধর্ম নয়। কিন্তু প্রতিবার কোনো মিম শেয়ার করার আগে ভাবুন—আপনি কার হয়ে কাজ করছেন? যখন কোনো সিরিয়াস বিষয় কৌতুক হয়ে যায়, তখন বুঝবেন লাভটা আপনার হচ্ছে না, অন্য কারো হচ্ছে।

নবীজি (সা.) বলেছিলেন—"ইসলাম শুরু হয়েছিল অপরিচিত হিসেবে এবং এটি আবার অপরিচিত হয়ে যাবে। তাই সেই অপরিচিতদের জন্য সুসংবাদ।" সেই ব্যক্তি হোন যে সবাই হাসলেও হাসে না, সবাই যখন স্ক্রল করে সে তখন চিন্তা করে।

ধোঁকা আসছে কি না সেটা বড় কথা নয়; বড় কথা হলো যখন ধোঁকা আপনার চোখের সামনে আসবে, তখন আপনি সেটা চিনতে পারবেন তো? নাকি হাহা রিঅ্যাক্ট দিয়ে স্ক্রল করে চলে যাবেন?

সিদ্ধান্ত আপনার।

#মিম #ইসলামিক_সচেতনতা

Photos from Principal BAF Shaheen College Chattogram's post 29/03/2026
25/03/2026

সময় থাকতে সংগ্রহ করে রাখা উচিত হোক অর্থ বা জ্ঞান.......!!!
প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রী একবার হলেও পড়ুন....!!

একবার এক রাজা তাঁর তিনজন মন্ত্রীকে ডেকে দিলেন। প্রত্যেককে একটি করে খালি বস্তা হাতে তুলে দিয়ে বললেন“তোমাদের কাজ হলো বনে গিয়ে যতটা পারো ফল কুড়িয়ে এই বস্তা ভর্তি করে আনবে। দেখি কে কেমনভাবে কাজ করো।”

তিন মন্ত্রী বনে রওনা হলেন।
প্রথম মন্ত্রী ভাবলেন, রাজা যখন বলেছেন, নিশ্চয়ই এর মধ্যে গভীর কোনো অর্থ আছে। তাই তিনি বেছে বেছে ভালো ফল কুড়িয়ে বস্তা ভর্তি করলেন।

দ্বিতীয় মন্ত্রী মনে করলো, রাজা তো আর সব ফল একে একে দেখবেন না। তাই নিচে পচা ফল ভরে, ওপরে সামান্য কিছু ভালো ফল সাজিয়ে নিয়ে এলো।

তৃতীয় মন্ত্রী মনে করল, রাজা তো শুধু দেখবেন বস্তা ভর্তি হয়েছে কিনা, ভেতরে কী আছে তা খোঁজার সময় তাঁর নেই। তাই সে শুকনো পাতা, কাঠি, ঘাস ইত্যাদি দিয়ে বস্তা ভরে ফেলল।

রাজপ্রাসাদে ফেরার পর রাজা তিনজনের বস্তা দেখলেন। বস্তা ভর্তি দেখে তিনি কিছু বললেন না, শুধু হাসলেন। মন্ত্রীরা ভাবলেন কাজ শেষ, এবার পুরস্কার মিলবে। কিন্তু রাজা ঘোষণা করলেন“তোমাদের এই বস্তা সহ সাত দিনের জন্য আলাদা আলাদা কারাগারে পাঠানো হবে। খাবার কিছু দেওয়া হবে না, শুধু বস্তার ভেতরের জিনিসগুলোই তোমাদের ভরসা।”

যেমন বলা তেমন কাজ। তিন মন্ত্রীকে বন্দি করা হলো।
প্রথম মন্ত্রী সাত দিন ধরে নিজের কুড়িয়ে আনা ফল খেয়ে বেঁচে গেল।
দ্বিতীয় মন্ত্রী শুরুতে কিছু ভালো ফল পেলেও, পরের দিনগুলোতে পচা ফল খেতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল।
আর তৃতীয় মন্ত্রীর বস্তায় যখন কিছুই খাওয়ার মতো ছিল না, সে অনাহারে প্রাণ হারাল।

এই কাহিনির শিক্ষা সহজ জীবনে পড়াশোনা, কাজ কিংবা সম্পর্ক যাই করি না কেন, ফাঁকি দিয়ে যদি ভরাট করি, সময়ের সাথে সেই ফাঁকিই আমাদের পতনের কারণ হবে। আর পরিশ্রম ও সততা দিয়ে জমা করা জিনিসই ভবিষ্যতে আমাদের রক্ষা করবে।
(সংগ্ৰহকৃত)।

21/03/2026

Eid Mubarak 🌙✨🇧🇩
তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম
On this blessed Eid ul-Fitr, may Allah accept our fasts, forgive our shortcomings, and shower His infinite mercy upon the entire Muslim ummah.
May He bring peace to every troubled heart, healing to every wound, unity to our divided world, and welfare & prosperity to every Muslim home across the globe.
For our beloved Bangladesh — may our nation rise in justice, harmony, progress, and barakah. May Allah protect our land, bless our people with good health, abundance, security, and endless joy. May every citizen celebrate in safety and share in the true spirit of Eid: compassion and brotherhood.
Let this Eid renew our hope, strengthen our faith, and guide us toward a brighter tomorrow for the ummah and our state.
Eid Mubarak to all!
May Allah's blessings be upon you, your family, and our nation forever. 🤲

21/03/2026

Number Station : কোল্ড ওয়ার যুগের গোপন যোগাযোগ ব্যবস্থা
=================================
রাত তখন গভীর। তেহরানের কোনো এক অলিগলিতে একজন মানুষ কানে হেডফোন গুঁজে চুপচাপ বসে আছে। তার হাতে একটি নোটবুক, আঙুলে একটি কলম। সে অপেক্ষা করছে। ঠিক এই মুহূর্তে, পশ্চিম ইউরোপের কোনো এক দেশ থেকে একটি শর্টওয়েভ ফ্রিকোয়েন্সি জেগে উঠছে নীরবে। এরপর একটি শান্ত, ভাবলেশহীন পুরুষকণ্ঠ ফারসিতে বলতে শুরু করে: তিন, সাত, চার, দুই, পাঁচ। একটু বিরতি। তারপর তিনবার উচ্চারিত হয় একটিমাত্র শব্দ: "তাভাজ্জোহ।" মনোযোগ দাও। আবার সংখ্যার সারি। আবার নীরবতা।

বারো ঘণ্টা পর, একই দৃশ্য। একই কণ্ঠ। একই সংখ্যা। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রথম দিন থেকেই এই ফ্রিকোয়েন্সিটি সক্রিয়। শুনলে মনে হয় কেউ হয়তো বিকারগ্রস্ত হয়ে রেডিওতে অর্থহীন সংখ্যা আওড়াচ্ছে। কিন্তু না, এটি অর্থহীন নয়। এটি আসলে যুদ্ধের সবচেয়ে নিষ্ঠুর এবং সবচেয়ে অদৃশ্য মাত্রার একটি জীবন্ত প্রমাণ। এই সংখ্যাগুলো একটি বার্তা বহন করছে, এবং সেই বার্তা শুনলে মানচিত্র বদলে যেতে পারে।

এস্পায়োনেজ পরিভাষায় এটির নাম "নাম্বার স্টেশন।"

পদ্ধতিটি পুরনো, প্রায় একশো বছরের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধোঁয়াটে রণক্ষেত্রে যখন শত্রুর মাটিতে পাঠানো গুপ্তচরদের সঙ্গে নিরাপদে যোগাযোগ রাখা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, তখন নাৎসি আবওয়ের, ব্রিটিশ এমআই-৬ এবং সোভিয়েত কেজিবি প্রত্যেকেই এই একই পথে হেঁটেছিল। শর্টওয়েভ রেডিওতে সংখ্যার মাধ্যমে পাঠানো বার্তা।

কোল্ড ওয়ারের সময় পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়। সেই যুগে ইউরোপ ও আমেরিকার রেডিও তরঙ্গ রীতিমতো এইসব রহস্যময় কণ্ঠস্বরে ভরে গিয়েছিল। বিবিসির আর্কাইভে এখনও সেই সময়ের অনেক রেকর্ডিং সংরক্ষিত আছে। একবার শুনলে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে, কারণ প্রতিটি সংখ্যার পেছনে হয়তো লুকিয়ে আছে কোনো মানুষের জীবন মৃত্যুর ফয়সালা।

আমেরিকার ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সিতে কর্মরত কিউবান ডাবল এজেন্ট আনা মন্টেজের কথা মনে করুন। যারা আমার "স্পাই স্টোরিজ" বইয়ে তাঁর গল্প পড়েছেন, তাঁরা জানেন কাহিনীটা কতটা শীতল।

হাভানা থেকে একটি শর্টওয়েভ ফ্রিকোয়েন্সি, ওয়াশিংটনের অ্যাপার্টমেন্টে বসে কান পেতে সেই কণ্ঠ শোনা, নোটবুকে সংখ্যা টুকে নেওয়া, তারপর পূর্বনির্ধারিত কোড দিয়ে বার্তার অর্থ উদ্ধার করা। বছরের পর বছর ধরে আমেরিকার সবচেয়ে সংরক্ষিত গোপন তথ্য এভাবেই পাচার হয়ে গেছে, অথচ সিআইএর সদর দপ্তরে কেউ টেরও পায়নি।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, স্যাটেলাইট, এনক্রিপ্টেড মেসেজিং এবং ডার্ক ওয়েবের এই যুগে এত পুরনো একটি পদ্ধতি কেন এখনও কার্যকর? উত্তরটা লুকিয়ে আছে এই পদ্ধতির সবচেয়ে অসাধারণ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে। এটি সম্পূর্ণ একমুখী। প্রেরক পাঠাচ্ছে, গ্রাহক শুনছে, কিন্তু দুজনের মধ্যে কোনো সংকেত বিনিময় নেই। কোনো ইন্টারনেট সংযোগ নেই, কোনো ডিজিটাল পদচিহ্ন নেই। পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক সাইবার নজরদারি ব্যবস্থাও একটি সাধারণ রেডিও রিসিভারকে শনাক্ত করতে পারে না।

নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি হলো "ওয়ান-টাইম প্যাড" নামের একটি কোড পদ্ধতি, যাকে গণিতবিদ ক্লড শ্যানন গাণিতিকভাবে অভেদ্য বলে প্রমাণ করেছিলেন। পদ্ধতিটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী। এজেন্টকে মাঠে নামানোর আগেই তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি কোডবুক বা ডিক্রিপশন কী। রেডিওতে সংখ্যাগুলো প্রচারিত হলে সে সেগুলো টুকে নেয়, কোড মিলিয়ে বার্তার অর্থ বের করে।

কিন্তু সেই কোড না থাকলে? পুরো বার্তাটাই নিছক একগুচ্ছ অর্থহীন সংখ্যা। পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারও সেটি ভাঙতে পারবে না, কারণ ব্রুট ফোর্স ক্রিপ্টোঅ্যানালাইসিস দিয়ে ওয়ান টাইম প্যাড উন্মোচন করা তাত্ত্বিকভাবে অসম্ভব। বার্তাটি সবার সামনে প্রকারান্তরে পাবলিকলি প্রচারিত হচ্ছে, অথচ মাত্র একজন মানুষ ছাড়া গোটা দুনিয়ার কাছে সেটি সম্পূর্ণ অন্ধকার।

এখন যে বিষয়টি একটু থেমে ভাবার, সেটি হলো সময়কাল। এই ফ্রিকোয়েন্সি কখন থেকে সক্রিয় হয়েছে? ঠিক যেদিন থেকে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরু হয়েছে, সেদিন থেকে। এবং বার্তাগুলো পড়া হচ্ছে ফারসি ভাষায়। এই দুটো তথ্য পাশাপাশি রাখলে যে চিত্র ভেসে ওঠে, সেটি শুধু উদ্বেগজনক নয়, রীতিমতো শিহরণ জাগানো।

ইরানের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে ঘাপটি মেরে থাকা সিআইএ বা মোসাদের স্লিপার এজেন্টরা এই মুহূর্তে হয়তো জেগে উঠছে। হয়তো কোনো পারমাণবিক স্থাপনার স্থানাঙ্ক পাঠানো হচ্ছে, হয়তো কোনো সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের নির্দেশ, হয়তো কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে টার্গেট করার সংকেত। ঠিক কী পাঠানো হচ্ছে, সেটা বলা সম্ভব নয়। কিন্তু সম্ভাবনাগুলো উড়িয়ে দেওয়ার উপায়ও নেই।

ইরানও বসে থাকেনি। তারা শক্তিশালী জ্যামিং সিস্টেম দিয়ে ফ্রিকোয়েন্সিটি বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু যখনই জ্যামিং শুরু হয়েছে, প্রচারকারীরা অন্য একটি ফ্রিকোয়েন্সিতে সরে গেছে। এই বিড়াল ইঁদুর খেলা এখনও চলছে, এবং এখন পর্যন্ত প্রচারকারীরাই এগিয়ে আছে।

যুদ্ধের ময়দানে বোমার আঘাত দেখা যায়, বোমার শব্দ শোনা যায়,লাশ গণনা করা যায়। কিন্তু এই অদৃশ্য যুদ্ধের কোনো সাক্ষী নেই। ইসলামী চিন্তাদর্শে যুদ্ধকে সর্বদা একটি শেষ আশ্রয় হিসেবে দেখা হয়েছে, যেখানে নিরীহ মানুষের ক্ষতি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের আগে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন আত্মরক্ষার জন্য। এটি শুধু আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন নয়, মানবিক মর্যাদার প্রতিও একটি নিষ্ঠুর আঘাত।

রেডিও তরঙ্গে ভেসে আসা এই সংখ্যাগুলো শুনতে নিরীহ। কিন্তু এই সংখ্যার আড়ালে লুকিয়ে থাকা নির্দেশগুলো হয়তো কোনো মানুষের মৃত্যু পরোয়ানা, হয়তো কোনো শহরের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের নকশা। যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়ানক মাত্রা সেটা নয় যেটা আমরা দেখতে পাই। সবচেয়ে ভয়ানক সেটা, যেটা আমরা দেখতেই পাই না।

তথ্যসূত্র: রেডিও ফ্রি ইউরোপ এবং ফাইন্যানশিয়াল টাইমস।
@ মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা

Photos from BAF Shaheen College Chattogram's post 21/03/2026

“আপনারা জানেন কি আধুনিক যুদ্ধবিমানের গতি কত?”
*****

সাধারণ একটা উদাহরণ দিই। আপনারা অনেকেই বাইক চড়েছেন। একটা বাইক সাধারণত সর্বোচ্চ ১৫০ KMH-এর বেশি গতি দিতে পারে না। ওই গতি দিলেই আপনার খবর আছে। একটা বাসও খুব জোর ১৮০ KMH দেয়। KMH মানে এক ঘণ্টায় যত কিলোমিটার সে যাবে। তার মানে ১৮০ KMH অর্থ এক ঘণ্টায় সে ১৮০ কিলোমিটার যাবে।

আমরা যেসব বাণিজ্যিক বিমানে বিদেশে ভ্রমণ করি সেগুলো সাধারণত অনেক উঁচুতে ৫০০ KMH গতি দেয়।

এবার আসি শব্দের গতি কত সেটা জানি। বাতাসে শব্দের গতি তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে, তবে সাধারণভাবে ২০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় শব্দের গতি প্রায় ৩৪৩ মিটার/সেকেন্ড। তথা প্রায় ৭৬৭ মাইল/ঘণ্টা (mph)।

শব্দের এই গতিকে Mach বলে। শব্দের গতিকে ভিত্তি ধরে যে গতির একক ব্যবহার করা হয় তাকে Mach number বলা হয়।

Mach 1 মানে হলো কোনো বস্তু ঠিক শব্দের সমান গতিতে চলছে।

উদাহরণস্বরূপ Mach 1 ≈ শব্দের গতি (প্রায় ৩৪৩ মিটার/সেকেন্ড বা ৭৬৭ মাইল/ঘণ্টা)।

Mach 2 = শব্দের গতির দ্বিগুণ।

Mach 3 = শব্দের গতির তিনগুণ।

এই ধারণাটির নামকরণ করা হয়েছে অস্ট্রিয়ান পদার্থবিজ্ঞানী Ernst Mach এর নাম অনুসারে।

যখন কোনো বিমান Mach 1 অতিক্রম করে তখন তাকে Sound barrier ভাঙা বলা হয় এবং তখন সাধারণত একটি শক্তিশালী Sonic boom শোনা যায়।

বাংলাদেশের মানুষের এই Sonic boom এর গুরুগম্ভীর আওয়াজ শোনার অভিজ্ঞতা নেই কারণ দেশটা অনেক ছোট তাই ওই গতিতে আপনাদের মাথার ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমান যায় না। আসছে ২৬শে মার্চ দেখবেন মাথার ওপর দিয়ে অনেক আস্তে যুদ্ধবিমানগুলো যায়।

আধুনিক কয়েকটি যুদ্ধবিমানের গতিকে সহজভাবে বলা যায়:

১) Lockheed Martin F-22 Raptor — প্রায় Mach 2.25, অর্থাৎ প্রায় ১৭২০ মাইল/ঘণ্টা গতিতে ওড়ে।

২) Lockheed Martin F-35 Lightning II — প্রায় Mach 1.6, অর্থাৎ প্রায় ১২২৫ মাইল/ঘণ্টা গতিতে ওড়ে।

৩) Sukhoi Su-57 — প্রায় Mach 2, অর্থাৎ প্রায় ১৫৩৫ মাইল/ঘণ্টা গতিতে ওড়ে।

৪) Chengdu J-20 — প্রায় Mach 2, অর্থাৎ প্রায় ১৫৩৫ মাইল/ঘণ্টা গতিতে ওড়ে।

৫) Dassault Rafale — প্রায় Mach 1.8, অর্থাৎ প্রায় ১৩৮০ মাইল/ঘণ্টা গতিতে ওড়ে।

৬) Eurofighter Typhoon — প্রায় Mach 2, অর্থাৎ প্রায় ১৫৩৫ মাইল/ঘণ্টা গতিতে ওড়ে।

৭) Sukhoi Su-35 — প্রায় Mach 2.25, অর্থাৎ প্রায় ১৭২০ মাইল/ঘণ্টা গতিতে ওড়ে।

৮) Mikoyan MiG-29 (বাংলাদেশ বিমানবাহিনী) — প্রায় Mach 2.25, অর্থাৎ প্রায় ১৭২০ মাইল/ঘণ্টা গতিতে ওড়ে।

৯) PAC JF-17 Thunder (পাকিস্তানে তৈরি) — প্রায় Mach 1.6, অর্থাৎ প্রায় ১২২৫ মাইল/ঘণ্টা গতিতে ওড়ে।

অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, আধুনিক বেশিরভাগ যুদ্ধবিমান প্রায় ১২০০ থেকে ১৭০০ মাইল/ঘণ্টা গতিতে উড়তে পারে।

যেখানে মাত্র বাইকে ১৫০ KMH-এর গতিতে চললে মাথা নষ্ট হয়ে যায় সেখানে যদি ওই বাইক প্রায় ১২০০ থেকে ১৭০০ মাইল/ঘণ্টা গতিতে চলে তখন আপনি থাকতে পারবেন?

স্রেফ বাতাসে উড়ে যাবেন ও অজ্ঞান হয়ে যাবেন।

যুদ্ধবিমানের পাইলটের কিন্তু মাঝে মাঝে শরীরে G-force (জি-ফোর্স) effect হয়। সেটা কী?

আমরা পৃথিবীতে যে মাধ্যাকর্ষণ অনুভব করি তাকে ১ G ধরা হয়। অর্থাৎ আমাদের শরীরের স্বাভাবিক ওজনই হলো ১ G।

কিন্তু যখন কোনো যুদ্ধবিমান খুব দ্রুত ঘোরে, উঠতে থাকে বা হঠাৎ মোড় নেয়, তখন পাইলটের শরীরের ওপর মাধ্যাকর্ষণের চেয়ে অনেক বেশি চাপ পড়ে। এই অতিরিক্ত চাপকেই G-force বলা হয়।

উদাহরণ হিসেবে:

২ G → শরীরের ওজন মনে হবে দ্বিগুণ।

৫ G → শরীরের ওজন মনে হবে পাঁচ গুণ।

আধুনিক যুদ্ধবিমানে অনেক সময় ৭–৯ G পর্যন্ত চাপ তৈরি হয়।

তখন পাইলটের শরীরে কী কী ঘটে?

যখন G-force বেশি হয়, তখন শরীরের রক্ত মাথা থেকে নিচের দিকে পায়ের দিকে চলে যেতে থাকে। এতে কয়েকটি লক্ষণ দেখা দেয় যেমন:

১. চোখে অন্ধকার দেখা:
রক্ত কম পৌঁছালে চোখে ঝাপসা বা কালো হয়ে আসে। এটাকে “grey-out” বলে।

২. জ্ঞান হারানোর ঝুঁকি:
যদি চাপ আরও বাড়ে, পাইলট কয়েক সেকেন্ডের জন্য জ্ঞান হারাতে পারে। এটাকে “G-LOC” (G-induced loss of consciousness) বলা হয়।

৩. শরীর খুব ভারী লাগা:
হাত-পা তুলতে কষ্ট হয়, যেন শরীরের ওজন কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

৪. শ্বাস নিতে কষ্ট:
বুকের ওপর চাপ পড়ে বলে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে যায়।

পাইলটরা তাহলে কীভাবে নিজেকে রক্ষা করেন?

পাইলটরা বিশেষ G-suit পরেন। এই পোশাকটি পা ও পেটের অংশে চাপ দিয়ে রক্তকে মাথার দিকে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া তাঁরা বিশেষ শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশলও ব্যবহার করেন।

সংক্ষেপে, জি-ফোর্স হলো দ্রুত গতি ও হঠাৎ মোড় নেওয়ার কারণে পাইলটের শরীরের ওপর কয়েক গুণ বেশি মাধ্যাকর্ষণ চাপ পড়া, যা মানুষের শরীরের জন্য বেশ কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করে।

16/03/2026

🌙 কদরের রাত: নীরব আকাশের নিচে মানুষের আত্মার জাগরণ:
ππππππππππππππππππππππππππ
রমজানের শেষ দশকের রাতগুলোতে এক অদ্ভুত অনুভূতি নেমে আসে পৃথিবীতে। মসজিদের আলো একটু বেশি জ্বলে, মানুষের চোখে ঘুমের বদলে জেগে ওঠে এক নরম প্রত্যাশা। কারণ এই সময়েই লুকিয়ে আছে ইসলামের সবচেয়ে মহিমান্বিত রাত—লাইলাতুল কদর, আমাদের পরিচিত শবে কদর।
এই রাতকে বোঝার জন্য শুধু ধর্মীয় নিয়ম জানলেই হয় না; অনুভব করতে হয় হৃদয় দিয়ে। কারণ এটি এমন এক রাত, যখন মানুষের ক্ষুদ্র জীবন যেন অসীম আকাশের সাথে কথা বলতে পারে।

📖 যে রাতে নেমেছিল আলোর প্রথম বাণী
মানব ইতিহাসে কিছু মুহূর্ত আছে, যেগুলো পুরো পৃথিবীর গতিপথ বদলে দেয়। শবে কদর সেই ধরনেরই একটি মুহূর্ত। এই রাতেই প্রথম নাজিল হয়েছিল মানবতার পথনির্দেশিকা কুরআন শরীফ।
মক্কার নীরব পাহাড়ের কোলে, ধ্যানমগ্ন অবস্থায় ছিলেন ইসলামের মহান নবী মুহাম্মদ (সা.)। ঠিক সেই সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রথম ওহি নিয়ে উপস্থিত হন ফেরেশতা জিবরাইল।
সেই মুহূর্তটি শুধু একটি ধর্মীয় ঘটনা ছিল না; সেটি ছিল মানব ইতিহাসের এক বিশাল আলোকপ্রাপ্তি।
অজ্ঞতার অন্ধকারে ডুবে থাকা পৃথিবী যেন হঠাৎ আলো দেখতে শুরু করল।

✨ কেন এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম:
কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে—এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।
হাজার মাস মানে প্রায় তিরাশি বছরেরও বেশি সময়। অর্থাৎ একজন মানুষের পুরো জীবনের সমান। ভাবুন—একজন মানুষ যদি সারা জীবন ইবাদত করে, তার সমান মূল্য আল্লাহ এই একটি রাতেই দান করতে পারেন।
এ যেন সময়ের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক রহস্যময় দান।
এক রাত, অথচ তার ভেতরে লুকিয়ে আছে পুরো জীবনের মূল্য।

🌌 যখন আকাশ পৃথিবীর খুব কাছে নেমে আসে
ইসলামী বর্ণনায় বলা হয়েছে—এই রাতে অসংখ্য ফেরেশতা পৃথিবীতে নেমে আসে।
নেমে আসে শান্তি, রহমত ও আল্লাহর করুণার বার্তা নিয়ে। চারদিকে যেন এক অদৃশ্য প্রশান্তি ছড়িয়ে পড়ে।
অনেক মানুষ বলেন—এই রাতের বাতাসও যেন আলাদা।
কোলাহল কমে যায়, হৃদয় নরম হয়ে আসে, আর মানুষের ভেতরে জন্ম নেয় এক গভীর আত্মসমালোচনা।

🌿 মানুষের ভেতরের মানুষটিকে জাগিয়ে তোলার রাত
শবে কদরের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো—এটি মানুষের ভেতরের মানুষটিকে জাগিয়ে তোলে।
যে মানুষ সারা বছর ব্যস্ততা, ভুল ও দুর্বলতার মধ্যে ডুবে থাকে, সে এই রাতে হঠাৎ নিজের হৃদয়ের দিকে তাকায়।
একজন বাবা সন্তানের জন্য দোয়া করেন।
একজন তরুণ তার ভুল জীবনের জন্য অনুতপ্ত হয়।
একজন বৃদ্ধ চোখ ভিজিয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান।
এই রাত মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—
ভুল করা মানুষের স্বভাব, কিন্তু ফিরে আসা মানুষের মহত্ত্ব।

🤲 ক্ষমার দরজা যখন সম্পূর্ণ খোলা
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি আন্তরিক বিশ্বাস ও আশা নিয়ে এই রাতে ইবাদত করবে, আল্লাহ তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেন।
এ যেন এক অসীম দয়ার ঘোষণা।
মানুষ যতই ভুল করুক না কেন, এই রাত তাকে নতুন করে শুরু করার সুযোগ দেয়।
যেন আল্লাহ মানুষের কাঁধে হাত রেখে বলেন—
“ফিরে এসো, আমি এখনো তোমাকে ক্ষমা করতে প্রস্তুত।”

🌙 শবে কদর: আশা ও আলোর প্রতীক
মানুষের জীবনে অনেক অন্ধকার সময় আসে।
হতাশা, ব্যর্থতা, অপরাধবোধ—সবকিছু মিলিয়ে কখনো মনে হয় যেন জীবনটা ভারী হয়ে গেছে।
কিন্তু শবে কদর মানুষকে শেখায়—
আল্লাহর দয়ার সামনে কোনো অন্ধকার স্থায়ী নয়।
একটি রাতই যথেষ্ট—
যদি সেই রাতে হৃদয় সত্যিকারভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।


রাত যত গভীর হয়, পৃথিবী তত নীরব হয়ে যায়।
মসজিদের মৃদু আলো, কোরআনের তিলাওয়াত, আর মানুষের নিঃশব্দ কান্না—সব মিলিয়ে শবে কদর হয়ে ওঠে এক অনন্য আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা।
এই রাত মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—
আমরা যত ছোটই হই না কেন, আমাদের দোয়া আকাশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
তাই শবে কদর শুধু একটি ধর্মীয় রাত নয়;
এটি মানুষের আশা, ক্ষমা এবং নতুন জীবনের দরজা।
আর সেই দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ নীরবে বলে—
“হে আল্লাহ, আমাকে নতুন করে শুরু করার সুযোগ দিন।”

Want your school to be the top-listed School/college in Patenga?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Address


Patenga
4205