Department of Philosophy, Kabi Nazrul Govt. College

Department of Philosophy, Kabi Nazrul Govt. College দর্শন বিষয় আলোচনা

06/02/2026

Philosophy, derived from the Greek for "love of wisdom," is the systematic, rational study of fundamental questions regarding existence, knowledge, ethics, reason, and reality.

19/09/2022
19/09/2022
09/06/2020

বৃত্তি সংক্রান্ত -শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নোটিশ। সংযুক্ত নমুনা ছকসহ বিস্তারিত কলেজের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। ছক যথাযথ পূরণ করে নিজ মোবাইল নম্বরসহ কলেজের ই-মেইলে [email protected] এ পাঠালে চলবে। কাগজপত্র স্ক্যান করে পাঠাতে হবে। অসম্পূর্ণ তথ্যে ও কাগপত্রের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজনে কলেজের কম্পিউটার অপারেটর জনাব মুক্তল হোসেনের (01878525092) সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

01/06/2020

আমরা আর এই পেইজে কোন কার্যক্রম চালাবো না। সুতরাং এই পেইজে যারা আছো তারা 👇নিম্নের পেইজ ফলো করো। অনলাইন ক্লাস রুটিন 👇দেওয়া হয়েছে। https://www.facebook.com/philosophykabinazrulgovtcollege1874/

দর্শন বিভাগের কার্যক্রম ও অনলাইন ক্লাস সংক্রান্ত পেইজ

প্রারম্ভিকঃ দর্শন (Philosophy): > দর্শন (Philosophy) আসলে কি ?> দর্শন কিভাবে কাজ করে অর্থাৎ দর্শন এর কাজ কি?> দার্শনিক ভ...
30/05/2020

প্রারম্ভিকঃ দর্শন (Philosophy):

> দর্শন (Philosophy) আসলে কি ?
> দর্শন কিভাবে কাজ করে অর্থাৎ দর্শন এর কাজ কি?
> দার্শনিক ভাবনা-ধারণা বা চিন্তা-চেতনা বলতে কি বুঝায়?
> কেন জীবন দর্শন?
- জীবন কি? এর উদ্দেশ্য কি? এর রূপরেখা বা গতিবিধি কি?

তাহলে, শুরু করি একটি প্রশ্ন করে, ‘দর্শন কী’? এই শব্দটি আসলে (দৃশ+ অন); যার অর্থ হচ্ছে দেখা, অবলোকন, দৃষ্টি, জ্ঞান, উপলব্ধি, অভিজ্ঞতা, ইত্যাদি (ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, ২০১১: ৫৮৯- ৫৯০); সহজ ভাষায়, কোনো কিছু দেখা বা কোন কিছু থেকে জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা অর্জন করা।

তাহলে একটি প্রশ্ন করা যায়, আমি এখন ফুটবল খেলা দেখছি, এটা কি দর্শন? অপূর্ব তার প্রেমিকাকে দেখছে, এটা কি দর্শন? সাফায়েত গতকালের ঘটনা থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, এটা কি দর্শন? দর্শন মানে যেহেতু দেখা বা কোনো কিছু থেকে জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা অর্জন করা, তাহলে এগুলো দর্শন কেনো হবে না?

এই ‘কেনো হবে না’ বিষয়টি বুঝতে হলে প্রথমে জানতে হবে ‘দর্শন’ শব্দটির উৎপত্তি সম্পর্কে; এই শব্দটির ইংরেজি শব্দ হচ্ছে ‘Philosophy’, যা উদ্ভব হয়েছে গ্রীক শব্দ ‘Philo’ ও ‘Sophy’ থেকে (Philo+ Sophy= Philosophy), ‘Philo’ অর্থ ‘loving’ অর্থাৎ অনুরাগ বা প্রেম বা প্রীতি, আর ‘sophy’ শব্দের অর্থ ‘knowledge’ বা ‘love of wisdom’ অর্থাৎ জ্ঞান বা প্রজ্ঞা; ব্যুৎপত্তিগত অর্থে, ‘Philosophy’ অর্থ ‘Love of Knowledge’ বা ‘love of wisdom’, অর্থাৎ জ্ঞান-প্রীতি বা প্রজ্ঞানুরাগ। এখানে একটি শব্দ চলে এসেছে, সেটি হচ্ছে ‘জ্ঞান’; তাহলে, আরেকটি প্রশ্ন চলে আসে ‘জ্ঞান কী’? এই শব্দের বিবিধ অর্থ রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে : বোধ; বুদ্ধি; অনুভবশক্তি; বোঝবার বা বিচার করবার ক্ষমতা; বিবেচনা; অভিজ্ঞতা, ইত্যাদি (ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, ২০১১: ৮৭০)।

পদ্ধতিগত, তাত্ত্বিক বা একাডেমিক আলোচনায় আমরা সব সময় একটি টার্ম ব্যবহার করে থাকি, সেটি হচ্ছে ‘operational definition’ মানে কার্যকারী সংজ্ঞার্থ, অর্থাৎ কোনো আলোচনায় একটি টার্ম যে নির্দিষ্ট অর্থ বহন করে।
তাহলে, প্রশ্ন আসে দর্শনে ‘জ্ঞান’ বলতে কী বোঝায়? দর্শনে জ্ঞান বলতে বোঝায় - মোটামুটিভাবে জ্ঞানের সংজ্ঞার্থ এভাবে দেয়া যেতে পারে যে, “জ্ঞান হলো প্রমাণযুক্ত সত্য বিশ্বাস” (খান, ২০১৫: ১১) [যদিও এই সংজ্ঞার্থটির অনেক সমালোচনা রয়েছে, তবুও বোঝার সুবিধার্থে, আমরা এটিকে গ্রহণযোগ্য বলে ধরে নিলাম]।

অন্যভাবে বলা যেতে পারে, জ্ঞান হলো বোঝবার বা বিচার করবার ক্ষমতা। তার মানে আমরা বোঝলাম যে, জ্ঞান মানে কোনো কিছু জানা বা কোনো কিছু মুখস্ত করা না, জীববিজ্ঞানের বিষয়াবলি আমি জানি, গণিতের সমস্যাবলি আমি সমাধান করতে পারি, ইত্যাদি – এসব জ্ঞান নয়; জ্ঞান হলো কোনো বিষয়কে বিচার করবার ক্ষমতা, একটি বিষয় কতটুকু সঠিক, কতটুকু বেঠিক, কতটুকু যথার্ত, কতটুকু অযথার্ত, কতটুকু সত্য, কতটুকু মিথ্যা, ইত্যাদি – বিচার করার ক্ষমতাই হচ্ছে জ্ঞান; এটি এমন এক কষ্টিপাথর যা দিয়ে যেকোনো কিছুর সত্য বা মিথ্যার প্রভেদ বোঝা যায়। তাহলে, আমরা বলতে পারি, দর্শন হচ্ছে সত্যের প্রতি অনুরাগ, বিচার-প্রীতি; অন্যভাবে বলতে পারি, জ্ঞানের যে শাখা কোনো বিষয় সত্য না মিথ্যা, এবং সত্যে কীভাবে (পদ্ধতিসমূহ) পৌঁছানো যায় তা নিয়ে আলোচনা করে, সেই শাখাকে দর্শন বলে; তার মানে আমি এখন ফুটবল খেলা দেখছি, অপূর্ব তার প্রেমিকাকে দেখছে বা সাফায়েত গতকালের ঘটনা থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে – এসব দর্শন না, কারণ এখানে বিচার বা বিবেচনা করার সুযোগ অনুপস্থিত।

আমরা অনেক সময় বলি, ‘এ বিষয়ে তোমার দর্শন কী’? – দর্শনে এরকম কোনো প্রশ্ন কি অর্থবহ? না; কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো বিষয়ে বিচারমূলক পদ্ধতি অবর্তমান থাকবে, ততক্ষণ এটি দর্শন হবে না। অন্যভাবে বলা যায়, জীবন ও জগতের সমস্যা নিয়ে চিন্তাই হচ্ছে দর্শন (করিম, ২০১২: ৩১০); যদি কোনো বিষয়ে জীবন ও জগত-সম্পর্কিত চিন্তা অনুপস্থিত থাকে, তাহলে তা দর্শন হবে না। তাহলে, আমরা মোটামুটিভাবে বুঝতে পারলাম যে দর্শন বলতে কী বোঝায়; ধারণাটিকে স্পষ্ট করার জন্য আমি সরদার ফজলুল করিম (২০১২: ৩০৯-৩১০) রচিত ‘দর্শনকোষ’ গ্রন্থের ‘দর্শন’ প্রত্যয়টি থেকে সামান্য কিছু অংশ তুলে ধরছি :
“জগত, জীবন, মানুষের সমাজ, তার চেতনা ও জ্ঞানের প্রক্রিয়া প্রভূতির মৌল বিধানের আলোচনাকে দর্শন বলা হয়। মানুষের সামাজিক চেতনার বিকাশের একটা পর্যায়েই মাত্র মানুষের পক্ষে বিশ্লেষণী দৃষ্টি নিয়ে জগৎ এবং জীবন সম্পর্কে চিন্তা করা সম্ভব হয়েছে। প্রকৃতি, জগৎ এবং পরবর্তীকালে মানুষের নিজের দেহ এবং চেতনা সম্পর্কেও সে চিন্তা করতে শুরু করে।

সুনির্দিষ্টভাবে মানুষের জ্ঞান বিকশিত হওয়ার পরেও দর্শনকে অনেকে কল্পনার মধ্যে আবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন। এই প্রয়াসে দর্শন জীবনের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কশূন্য হয়ে পড়ে। যেখানে প্রাচীনকালে জীবনের সমস্যাই দর্শনের বিকাশ ঘটিয়েছে সেখানে আধুনিক কালের এরূপ প্রয়াস দর্শনকে জীবনের সঙ্গে সম্পর্কশূন্য অবাস্তব কল্পনায় পর্যবসিত করেছে। দর্শনের এই সংকটের সুস্পষ্ট নির্দেশ দেন ঊনবিংশ শতকে কার্ল মার্কস। কার্ল মার্কস এবং ফ্রেডারিক এঙ্গেলস দর্শনকে জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে বলেন যে, দর্শন হবে জীবন ও জগৎকে বৈজ্ঞানিক এবং সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা। দর্শন হবে বৃহত্তম সংখ্যক মানুষের স্বার্থে জগৎ এবং সমাজকে পরিবর্তিত করার ভাবগত হাতিয়ার। দর্শন অবাস্তব কল্পনা নয়। দর্শন জগৎ ও জীবনের মৌলিক বিধানের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। আর এই ব্যাখ্যার অপর নাম হচ্ছে দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের তত্ত্ব।”

আমরা এখন এতোটুকু বলতে পারি যে, দর্শন সম্পর্কে আমাদের মোটামুটি একটি ধারণা তৈরি হয়েছে; এখন তাহলে, সুনির্দিষ্টভাবে এটির বৈশিষ্টাবলি সম্পর্কে অবগত হবো :

এক. “দর্শন হচ্ছে জীবন ও জগতের স্বরূপ উপলব্ধি” (সজল, ২০১৬)।

দুই. “দর্শন বলতে দুটি বিষয়কে বুঝানো হয়। একটি হচ্ছে সত্যের উপলব্ধি এবং অপরটি হলো সত্য উপলব্ধির উপায়” (পূর্বোক্ত)।

তিন. দার্শনিকের কাজ হলো বস্তুর বাহ্য রূপটিকে আলোচনা করে তার ভিতরের স্বরূপটিকে জানা (ঐ)।

চার . “দর্শনের কাজ হল মানুষের মনে উত্থাপিত মৌলিক প্রশ্নাবলির উত্তর বের করার, তথা জীবন ও জগতের মৌলিক সমস্যাবলির সমাধনের প্রচেষ্টা চালানো। এ প্রচেষ্টায় সক্ষম না হওয়া পর্যন্ত মানুষের মনের জিজ্ঞাসার নিবৃত্তি হয়না। তাই এসব সমস্যার সমাধানকল্পে মানুষ নিবিষ্টচিত্তে চিন্তা করে। মানুষের এ চিন্তাই দর্শন । তবে মানুষ সসীম ও অসম্পূর্ণ বলে দার্শনিক সমস্যার পূর্ণ সমাধান তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই মানুষের দর্শন কোনোদিন পূর্ণ বা পূর্ণাঙ্গ হয় না।সুতরাং, পূর্ণাঙ্গ দর্শন বলে কোনো কিছু নেই” (ঐ)।

পাঁচ. “যে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারে না বিজ্ঞান, বা ধর্মতত্ত্বের নিশ্চিত উত্তর মনোপূত হয় না, সেগুলো নিয়েই কায়কারবার দর্শনের। দর্শনের কিছু চিরন্তন প্রশ্ন হচ্ছে, ‘আমি কে’? ‘এই মহাবিশ্বের কোন উদ্দেশ্য আছে কি’? ‘এটা কি কোন নির্দিষ্ট পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে’? ‘প্রকৃতি জগতের কি কোন নিয়ম আছে’? ‘এ নিয়মগুলো কিভাবে গড়ে উঠল? মানুষের জীবনটা কেমন’? ‘এটা কি শুধু সুখময় আর ভোগময়’? ‘নাকি শুধু কষ্টের’? ‘জীবনের ফলাফল বা অর্জন কি একটা বিশাল শূন্য (০)’? ‘প্রজ্ঞা বলতে কি কোন জিনিস আছে’? ‘নাকি সেটাও আমাদের অজ্ঞতার পরিপূর্ণ বিকাশ’?” (মাহফুজ, ২০১৬)।

ছয়. “দর্শন সব প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর দেয় বলে দাবি করে না বরং এগুলো নিয়ে অধ্যয়ন, অনুধ্যান বা গবেষণা করে যায়। নিশ্চিত উত্তর দেয়া সম্ভবপর হয় না বলে উত্তরের ভিন্নতা একটি স্বাভাবিক ফল” (পূর্বোক্ত)।

সাত. “তিন কারনে কোনোকিছু দর্শন হয়ে উঠে। এর প্রথম দুইটা পরিচিতিমূলক বৈশিষ্ট্য, তৃতীয়টা হলো মূল বৈশিষ্ট্য। (১) সংশ্লিষ্ট বিষয়টা হতে হবে মৌলিক ও তাত্ত্বিক, (২) আলাপ-আলোচনা ও পর্যালোচনা হতে হবে অবাধ ও মুক্ত এবং (৩) পক্ষে-বিপক্ষে যা-ই বলা হোক না কেন, তাতে যুক্তির সমর্থন থাকা চাই। যুক্তি বলতে এখানে আর্গুমেন্টকে বুঝানো হচ্ছে” (হক, ২০১৬)।

আট. “দর্শন একক কোনো প্রস্তাবনার কথা বলে না। দর্শন দেয় আর্গুমেন্ট। দর্শনে কোনো প্রমাণ নাই । দর্শন গোঁড়ামী মুক্ত হলেও দার্শনিক অবস্থান মাত্রই গোঁড়ামী-যুক্ত বা ডগমেটিক” (পূর্বোক্ত)।

নয় . “কোনো কিছুর অস্তিত্ব নিয়ে চার ধরনের কথা হতে পারে: আছে, নাই, জানিনা অথবা আলোচনটাই অর্থহীন। ফিলোসফি সবগুলো অপশনের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে” (ঐ)।

দশ. “দর্শন হলো একটা পদ্ধতি। স্বয়ং কোনো পরিণতি নয়” (ঐ)

দর্শন বা ফিলোসফি নিয়ে এই লেখাটা লেখবার একটা উদ্দেশ্য আছে। সেটা হলো লোককে জানানো যে দর্শন আসলে কি আর তার উপযোগিতা কি? আধুনিক কালে যেভাবে দর্শন পড়ানো হয় তাতে লোকের কানাকড়িও লাভ হয় না। দর্শন কিন্তু ফালতু বিষয় নয়। মানুষের অশেষ উপকারে সেটা আসে। তাই দর্শন কি সেটা যথাযথ বলাটা উচিত বলেই মনে করি।

প্রশ্ন করার উদ্দেশ্য হচ্ছে সত্যের রূপকে (Nature of truth) জানা। সত্যের জানার সর্বোত্তম পন্থাই হল - প্রশ্ন করা।

যে কোন কিছু জানার চেষ্টা করা - পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন প্রশ্ন বা তাহার উত্তরের মাধ্যমে - তাহাই বৈজ্ঞানিক প্রণালী।

প্রথমে আমরা প্রাচীন যুগের দার্শনিকদের মতামত শুনব-
(ক) গ্রিক দার্শনিক

১] সক্রেটিস
ইনি বলেছিলেন : “The unexamined life is not worth living.” অর্থাৎ অপরীক্ষিত জীবন যাপন করার কোনো মূল্য নেই। তিনি জগতের সমস্ত কিছুকে পরীক্ষা করেছিলেন। সমস্ত কিছুকে অনুসন্ধান করেছিলেন। তার কাছে দর্শন হলো জীবনকে পরীক্ষা করা। এই পরীক্ষা কিভাবে করেন তিনি? প্রশ্ন আর উত্তরের দ্বারা। অর্থাৎ প্রশ্ন করা আর উত্তর খোঁজার মধ্য দিয়েই জীবনকে পরীক্ষা করা হলো দর্শন সক্রেটিসের মতে।

২] প্লেটো
ইনি সক্রেটিসের শিষ্য | ইনি তাঁর বই রিপাবলিক-এ দর্শন তথা দার্শনিকের বিবরণ দিয়েছেন | ওই বইয়ের ষষ্ঠ ও সপ্তম খন্ডে দার্শনিক তথা দর্শনের বিবরণ আছে | ওনার মতে দার্শনিক সর্বদা বিষয়ের চিরস্থায়ী প্রকৃত স্বরূপ জানবেন, পরিবর্তনশীল ওপর চাকচিক্য দেখে ভুলবেন না | তিনি সর্বদা সত্যপ্রিয় হবেন | কখনই মিথ্যার আশ্রয় নেবেন না | দার্শনিক সর্বদা জ্ঞান ভালবাসবেন | তিনি জাগতিক বস্তুকে ভালবাসবেন না।
(এই কারণেই গ্রিক দার্শনিকদের আমরা অতি সাধারণ বেশে দেখতে পাই।) দার্শনিক জীবন ও মৃত্যুকে ভয় পাবেন না | তিনি শিখতে ভালবাসবেন |অসাধারণ স্মৃতিশক্তি রাখবেন, জগতের গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসাবেন না ইত্যাদি |

৩] অ্যারিস্টটল
এনার মতে দর্শন হলো জ্ঞানসাধনা | দার্শনিক প্রথমে একটা দুর্বোধ্য হেয়ালির সম্মুখীন হবে | তারপর সেই হেয়ালির সমাধান করার চেষ্টা করবে দর্শন শাস্ত্রের মাধ্যমে | ওনার মেটাফিজিক্স বইতে এইরকমই সংজ্ঞা দেয়া আছে দর্শন তথা দার্শনিকের | দার্শনিক শুধু জ্ঞানের জন্য জ্ঞান চাইবে , অর্থের জন্য নয় | আর এই দার্শনিক খোঁজ কিভাবে হবে ? প্রথমে খোঁজার পথে যেসব বস্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সেগুলিকে জানতে হবে | তাহলেই হেয়ালির সমাধান হয়ে যাবে | উনি মেটাফিজিক্সের বেটা বইতে এইরকম দার্শনিক হেয়ালির উদাহরণ ও সমাধান দুইই দেখিয়েছেন |
উনি দর্শনের কতগুলো সুত্র ওনার গামা বইতে দিয়েছেন | ল অফ আইডেন্টিটি , ল অফ নন কনট্রাডিক্সন আর ল অফ এক্সক্লুডেড মিডল | প্রথমটি বলে একই বস্তুর ব্যাপারে অনেক ভাবে অনেক কথা বলা যায় | যেমন স্বাস্থ্য | কিভাবে সুস্থ থাকবেন, কেন সুস্থ থাকবেন ইত্যাদি ওই একই স্বাস্থ্যের ব্যাপারে বলা হয়েছে | দ্বিতীয়টি বলছে স্ববিরোধ থাকবে না | তৃতীয়টি বলছে হ্যা আর না-এর মাঝামাঝি কিছু থাকবে না | এইটি ফাজি লজিকের বিরুদ্ধে যায় |

খ] রোমান দার্শনিকগণ

এপিক্টেটাস ও স্টয়িক দার্শনিকরা
এনার মতে দার্শনিকদের কাজ হলো যা কিছু অনুভব করা যায় সেই সব কিছুকে পরীক্ষা করা | এই পরীক্ষার উপযুক্ত মানদন্ড নির্মান করা | এনার মতে বিরোধ বা contradiction হলো ভুল তথা মিথ্যা | সত্য হলো অবিরোধ | আরিস্ততলের দর্শনের সাথে মিল পাওয়া যায় |
দার্শনিকরা দেখবে কোনটি আমার আয়ত্তে আছে আর কোনটি নেই | এই কথার গভীর তাত্পর্য আছে | একমাত্র এইভাবেই মানুষ বাঁচতে পারে | বলাবাহুল্য যে এইসব করতে গেলে প্রশ্ন-উত্তরের খেলা ছাড়া আর কোনো ভাবে সম্ভব নয় |

গ] ভারতীয় দার্শনিকগণ

ন্যায় দর্শন
ন্যায় দর্শনে ১৬ টা পদার্থের বিচারের মাধ্যমে শ্রেয়ঃ লাভের কথা আছে | এই পদার্থগুলি হলো : প্রমান, প্রমেয়, সংশয়, প্রয়োজন, দৃষ্টান্ত, সিদ্ধান্ত, অবয়ব, তর্ক, নির্ণয়, বাদ, জল্প, বিতণ্ডা, হেত্বাভাস, ছল, জাতি, নিগ্রহস্থান | এইগুলি সবই বিচারে সাহায্য করে | কি বিচারে ? না জাগতিক পদার্থের বিচারে |

ঘ] চীনা দার্শনিকগণ
এঁদের মধ্যে কনফুসিয়াস-এর নাম উল্লেখযোগ্য | ইনি বলেছিলেন সমস্ত বিষয়ে প্রশ্ন করা উচিত |
তাহলে উপরের আলোচনা থেকে দেখা যাচ্ছে যে দর্শন একটা এমন জিনিস যা মানুষকে বিচার করতে শেখায় | তা সে ভারতীয় ন্যায় দর্শনই হোক বা গ্রিক দর্শন হোক | দর্শনের বিষয় অনন্ত | পদ্ধতি একটাই | পৃথিবী জুড়ে এইরকম দর্শনই প্রাচীন যুগে প্রচলিত ছিল | দর্শন মানুষকে জগতের পদার্থগুলিকে পরীক্ষা করে হিতাহিত নির্ণয় করতে শেখায় | আর এইখানেই বিপদ |
যদি একটা লোক আজ রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজ-এর ব্যাপারে পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু করে আসল সত্যি জানতে চায় তাহলে শাসক শ্রেণী শোষণ করবে কি করে ? সমাজই বা অত্যাচার করবে কি করে ? অতএব দর্শনকে বাঁচতে দেয়া চলবে না | তাকে এখনি মারতে হবে | মধ্যযুগে পৃথিবী জুড়ে তাই দর্শনের মারণযজ্ঞ চলতে লাগলো |

মধ্যযুগ : দর্শনের মৃত্যুঘন্টা বেজে উঠলো-

ক] ইউরোপ
খ্রীষ্টধর্ম নামে এক ধর্মের আবির্ভাব ঘটল | এই ধর্মের অধীনে দর্শনকে আনা হলো | শেষ স্বাধীন দার্শনিক ছিলেন হাইপেশিয়া | ইনি আলেকজান্দ্রিয়ার বাসিন্দা ছিলেন | এনাকে খ্রিস্টান বীরপুঙ্গবেরা নৃসংশ ভাবে হত্যা করে | মধ্যযুগে দর্শনকে ধর্মের পুল্টিশ চোখে লাগিয়ে বিচার করতে হত | প্রাচীন যুগের মত খোলামেলা বিচার ছিল না | আর কোনো ধারনাকে মাথায় গুঁজে সত্যকে খুঁজতে গেলে কখনই পাওয়া যায় না | মধ্যযুগীয় দর্শনও পেল না | দর্শনের প্রতিটা অনুসন্ধানকে বাইবেলের সাথে খাপ খাওয়াতে হত | অন্যথায় জুটত নির্মম অত্যাচার | এরই বলি হয়েছিল গ্যালিলিও, ব্রুনো, পারাসেলসাস ইত্যাদি বিজ্ঞানীরা | কোপার্নিকাস ভয়ের চোটে তার বই ছাপতে পারেন নি | দেকার্তে তার বই সব পুড়িয়ে দেবার কথা চিন্তা করেছিলেন | দার্শনিকরা হয়ে গেল চিড়িয়াখানার আজব জন্তু | মূর্খদের রমরমা হতে লাগলো |

খ] মধ্যপ্রাচ্য
ইসলামের আবির্ভাব হলো | তার হাতে দর্শন নিগৃহিত হতে লাগলো | ইসলাম সর্বপ্রকার দর্শন চর্চা নিষিদ্ধ করে | তবু আব্বাসীয় খলিফাদের আমলে কিছুটা বিজ্ঞান চর্চা হয় | পরবর্তীরা সবই বন্ধ করে | এই সময়েই আরব দার্শনিকদের এক অংশ মুতাজিলি নাম নিয়ে দর্শনের চোখ দিয়ে ঈশ্বরকে খুঁজতে থাকে | আবার সেই ধর্মের পুল্টিশ চোখে লাগিয়ে দার্শনিক বিচার | ইউরোপের সাথে কি অদ্ভুত মিল, না ?

গ] ভারত
বৌদ্ধ ধর্মের আগমনের ফলে ন্যায় দর্শনের চর্চা ব্যাহত হয় | ধীরে ধীরে ন্যায় দর্শন শুধু তর্ক আর কচকচির মধ্যে আটকে পড়ে | কার্যক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না | মুসলিম আমলে ভারতে সম্পূর্ণভাবে দর্শন চর্চা বিনষ্ট হয় | মুঘল আমলে হিন্দু দার্শনিকদের অত্যন্ত দুর্দশার মুখে পড়তে হয় |
লোকাচারের অধীনে দর্শন চলে যায় | এখানেও দার্শনিকরা চিড়িয়াখানার আজব জন্তুতে পরিনত হয় |

ঘ] চীন
বর্বর ইউআন বংশের শাসন কালে চিনের সুকুমার বৃত্তি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয় | এরপর কিছু রাজা আসেন যারা শুধু আইনের শাসনকেই বড় করে দেখেন | এঁদের আমলে কনফুসিয়াসের যুক্তিবাদী দর্শন একেবারে নষ্ট হয় |
তখনও কিছুটা দর্শন অবশিষ্ট ছিল | মানুষ ভালো মন্দ বিচার করতে পারত | কিন্তু আধুনিক যুগের সূচনার পর থেকে দর্শনের সেই অবশিষ্ট ক্ষমতাটুকুও চিরতরে বিনষ্ট হলো | এই আধুনিক যুগে দর্শন শুধুমাত্র কতগুলো মতামত পথের মধ্যেই সীমাবদ্ধ | আমি আজ ৫ বছর ধরে দর্শন পড়ে আসছি | আমি প্রতিটা বইতে দেখি শুধু ভাববাদ আর বস্তুবাদের দ্বন্দ লেখা আছে | স্কুলপাঠ্য বইতে কোন দার্শনিক কি বলেছিল এইটাই শুধু পড়ানো হয় | দর্শনের ছাত্রদের বস্তুবিচার শিখানো হয় না | কোনো বস্তুর সত্য মিথ্যা কিভাবে বুঝবে তা শিখানো হয় না | শুধু কোন দার্শনিক কি বলেছিল | এর ফলে এখন দর্শনের ছাত্ররা তুলনাপুর্বক বিচার করতে শিখছে না | তারা শুধু মুখস্ত করছে আর বমি করছে | এটাই দর্শনের কফিনে শেষ পেরেক |
সক্রেটিসের মত কোনো দার্শনিক আজ আর প্রশ্ন করে না। প্রশ্ন করাটা তো আজ বারণ। যে করে , সে মরে। মুক্তমনারা প্রশ্ন করতে গিয়ে মরেছে | দেশে দেশে , এই আধুনিক যুগে | শুদ্ধু মেনে নাও | মুখ বুজে, ভারবাহী গাধার মত মেনে নাও | মুখ খুলেছ কি মরেছ | হাতে এবং ভাতে | এই তো এখনকার দস্তুর |
আজ কয়টা দর্শনের ক্লাসে প্রশ্ন করা শেখায় | অথচ প্রশ্ন হলো দর্শনের প্রাণ | প্রশ্ন না উঠলে দার্শনিক বিচার কখনই সম্ভব নয় | কিন্তু কয়টা স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে প্রশ্ন করা শেখানো হয়? একটাও না। টিচারকে প্রশ্ন করার মানে হলো বিদ্রোহ করা। যাই হোক।
দর্শনের এই মরাঘটা অবস্থা থেকে দর্শনকে উদ্ধার আমাদের দর্শনপ্রেমিদেরকেই করতে হবে | কাজ খুবই কঠিন | তবুও করতে হবে আমাদের স্বার্থে | আজ বিচার না করলে আমাদের বাঁচার উপায় নেই | অজ্ঞানতার অন্ধকার বাঁচার চেয়ে জ্ঞানের আলোয় মরাও ভালো |

[] দর্শন আসলে কি বলে , তাহা না বুঝিলে কি চলে?

দর্শন বিষয়ে আমার ধারনা টা আগে পরিষ্কার ছিলো না।জানার ইচ্ছা জাগল যখন দেখলাম কলেজ পরীক্ষায় প্রশ্ন আসল-“বিজ্ঞান আবিষ্কার করে দর্শন ব্যখা করে”-বুঝিয়ে লেখ। তাই ঠেলায় পড়ে একটু জানতে চেষ্টা করলাম আর কি।
আগে ভাবতাম,দর্শন আবার কি?-দেখা…হ্যাঁ,সেটাই তো হওয়ার কথা। আমার ধারনা আসলে আংশিক সঠিক ছিল। দর্শন শাস্ত্র দেখতে বলে তবে সেটা গভীর থেকে গভীরতর ভাবে দেখা-খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা-চুল ছেঁড়া(!) বিশ্লেষণ যাকে বলে আর কি।
আবার ইংরেজিতে বলে ‘Philosophy’ যার গঠনগত অর্থ জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ।তা জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ তো ফিজিসিস্ট(পদার্থবিদ) দেরও আছে, নাকি? তাহলে ফিজিক্স আর দর্শনের মধ্যে পার্থক্য টা কি?এটা বুঝতে পারলেই আসলে আমরা ধরতে পারব দর্শন আমাদের স্পেশালি কি বলতে চায়-আসুন, তাহলে একটু বুঝতে চেষ্টা করা যাক:

এক সময় ফিজিক্স কে বলা হত ন্যাচারাল ফিলোসফি, কিন্তু সেই যুগের ফিজিক্স আর এই যুগের ফিজিক্স এর মধ্যে তফাৎ আছে। অন্তত পদার্থ বিজ্ঞানীদের গবেষনা পদ্ধতিতে এসেছে বিপুল পরিবর্তন। তাই এখন এ নামের প্রচলন উঠে গেছে। আর বিপুল যে পরিবর্তনের কথা বললাম তা আপনাদের ভালো মতই বোঝার কথা। মডার্ন ফিজিক্স অতিমাত্রায় গাণিতিক এবং সব কিছুই সমীকরণের ম্যাধ্যমে বা গাণিতিক ফর্মে প্রকাশ করতে চায়(গনিত পদার্থের মাতৃভাষা কিনা!)। এছাড়া সমীকরণ আর বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ এ দুয়ের সামঞ্জস্য আনতে একই জিনিস প্রয়োজনে অগনিত বার এক্সপেরিমেন্ট করা হয়-লক্ষ একটাই, আবিষ্কার টিকে একটা ভাষা দেওয়া; আর সেটাই হল গণিত বা গাণিতিক যুক্তিভাষা ।
দর্শনের সাথে ফিজিক্সের পার্থক্য ঠিক এখানেই। দর্শনে ‘প্রয়োগ’ শব্দটার ব্যবহার কম,’দেখা’ ও ‘চিন্তা’ এ শব্দ ২ টির ব্যবহার বেশি(তাই তো কোনো বন্ধু বেশি ভাবুক মাইন্ডের হলে আমরা তাকে ইয়ার্কি করে দার্শনিক বলে বসি)।
একটু উদাহরন দেওয়া যাক- ধরুন, নিউটন দেখলেন কোনো পদার্থ কে আঘাত করলে প্রতি-আঘাত পাওয়া যাচ্ছে…এ দেখে তিনি চিন্তা করলেন সকল ক্রিয়ার ই একটি সমান প্রতিক্রিয়া আছে-আমরা বলব এটা তার একটি চিন্তা বা দর্শন। কিন্তু এর পর F1=-F2 থেকে ভরবেগ পরিবর্তনের সুত্র প্রতিপাদন এ সব ই ফিজিক্সের মধ্যে পরে যাচ্ছে।
আচ্ছা, এখন তাহলে বলুন তো,ফিজিক্স আর দর্শন এর মিল কোথায়?
কোথায় আবার..কিছুক্ষন আগেই না বললাম ফিজিক্স হচ্ছে ন্যাচারাল ফিলোসফি, অর্থাৎ অতি গাণিতিক ব্যাপার টি বাদ দিলেই ফিজিক্স হয়ে গেল দর্শন; বলা যায় দর্শন এখন ফিজিক্স এরই একটি অংশ। চিন্তা ভাবনা করা এগুলো ফিজিক্স বহির্ভুত কোনো কাজ নয়।বরং আমরা সব থেকে পরিষ্কার করে এভাবে বলতে পারি-
> দর্শন হচ্ছে ফিজিক্সের বিশুদ্ধ কল্পনার ক্ষেত্র।
> পদার্থবিদ মাত্রই দার্শনিক,তবে সব দার্শনিকই পদার্থবিদ নন।
> যেহেতু চিন্তার স্বাধীনতা সকল বিষয়েই আছে তাই বিভিন্ন বিষয়ে দার্শনিক হওয়া যায়(এমনকি ভাষা,সাহিত্য ইত্যাদি) কিন্তু পদার্থবিদ তো শুধু পদার্থের জন্যই নিবেদিত প্রাণ(বাকি বিষয়ে নাই জ্ঞান)
একটা জোকস এ পরেছিলাম- যেখানে এক ইউনিভার্সিটির ডিন তার ফিজিক্স ডিপার্টমেন্ট এর লেকচারার কে ডেকে বললেন-“তোমাদের এক্সপেরিমেন্ট গুলো এতো ব্যায়বহুল যে টাকা ঢালতে ঢালতে ফতুর হয়ে গেলাম। তোমরা কি ম্যাথ ডিপার্টমেন্ট এর মতো চলতে পারনা? যাদের শুধু কয়েকটা পেন্সিল আর কাগজ ফেলার ঝুরি হলেই কাজ চলে যায়। কিংবা ফিলসফি ডিপার্টমেন্ট এর মতো যাদের ঐ ঝুরি টুকু ও প্রয়োজন পরে না।

[] দর্শন অর্থ দেখা বা প্রত্যক্ষ করা, দৃষ্টিপাত, অবলোকন। [তত্ত্বজ্ঞান যুক্তি ও প্রমাণের প্রতিষ্ঠিত শাস্ত্র বা তত্ত্ব] অর্থাৎ সাধারণ অর্থের দর্শন মানে দেখা। সে ক্ষেত্রে, যে দেখে সে দার্শনিক।
জগতের যুক্তি সঙ্গত ব্যাখ্যা দেওয়া চেষ্টাকে দর্শন বলে। জাগতিক বস্তুনিশ্চয় ও ঘটনাবলীর সমগ্রতা রক্ষার্থে বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে যে অনুসন্ধান তাকে দর্শন বলে। দর্শন হলো প্রকৃতি সম্পর্কে এক সামগ্রিক ধারণা লাভের অনুসন্ধান বস্তুর সার্বিক ব্যাখ্যা চেষ্টা। অর্থাৎ জগৎ ও জীবনের সমগ্রতার ধারণা।
যে চিন্তা জগৎ জীবন সম্বন্ধে কোন সমস্যাকে কেন্দ্র করে সুসংবদ্ধ ও সুসংহত চালিত হয় তাকে দার্শনিক চিন্তা বলে। অর্থাৎ দার্শনিক চিন্তাকে অন্ততঃ কোন কিছুই সুসংহত ও সুশৃঙ্খলা চিন্তা হতে হবে। দার্শনিকের কাজ হল বস্তুর বাহ্যরূপ বহিঃ রূপের আড়ালে অবস্থিত প্রকৃত বা যর্থাথ স্বরূপটিকে আবিষ্কার করা।

চারপাশের জগৎ এবং তার ঘটনাবলিকে ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সমাজে বসবাসকারী মানুষ মাত্রই এ রকম কোন না কোন দৃষ্টিভঙ্গির অনুসারী। সেই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারেই সে সচেতন বা অসচেতনভাবে তার জীবনকে দেখে, তার জীবনের উদ্দেশ্যকে উপলদ্ধি করে। এটাই তার জীবন দর্শন।
[ মানব জীবনের চারটি প্রধান ক্ষেত্র রয়েছে -
১. ব্যক্তি
২. সামাজিক
৩. রাজনৈতিক
৪. অর্থনৈতিক
জীবনের এসব ক্ষেত্রগুলোকে আমরা কিভাবে দেখি এবং সে ভিত্তিতে আমরা কি নীতি ও কর্মকান্ড গ্রহণ করি - সেটাই হবে আমাদের জীবনের দর্শন।]

বুঝে বা না বুঝে, যে ভাবেই হোক, সব মানুষের ভেতরে তার একটি বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি বা দর্শন রয়েছে। প্রতিটি মানুষের কোনো না, কোন দার্শনিক মত আছে।
যেমন, কেউ যখন বলে, - এ জগতটা হল মায়া মরীচিকা; এটি একটি নির্দিষ্ট দর্শনের অর্ন্তভুক্ত হন।

সংশয়, দ্বিধা ও সন্দেহ দার্শনিক চিন্তা উৎপত্তি। প্রতিটি মানুষ হচ্ছেন এক একজন দার্শনিক। আপনি যে ঈশ্বরবাদী, নিরীশ্বরবাদী বা সংশয়বাদী কিংবা অজ্ঞেয়বাদী যাই - হোন না কেন আপনি একটি দার্শনিক মতেরই অনুসরণ করছেন।

[] দর্শনের কাজ জগৎ - জীবনের বিভিন্ন সমস্যার চিন্তা করা। দর্শনের কাজ -
১. অনুধ্যানপরায়ন: মানুষ চিন্তাশীল প্রাণী। দৃশ্যমান জগৎ ও জগতের সত্যকে খুঁজে বের করা।
২. সমালোচনামূলক: সমালোচনার পদ্ধতি হলো যুক্তি, বিচার-বিশ্লেষণ।
৩. গঠনমূলক: অনুধ্যান করা আর সমাণোচনা করার পর গঠনমূলক অভিমত।

[] দর্শনের দু'টি দিক আছে - চিন্তার দিক ও বিচারের দিক। দর্শনের পদ্ধতি হলো বুদ্ধিবৃত্তির সাহায্যে বিচার-বিবেচনা ও বিশ্লেষণ করা।
[বস্তু আমাদের কাছে যেভাবে উপস্থিত হয় তা হলো বস্তুর বাহ্যরূপ। কোন বস্তুর দু'টি দিক রয়েছে - একটি হল বস্তুর বাহ্যিক রূপ। অন্যটি হল বস্তুর বাস্তব বা যর্থাথ রূপ]

[] দর্শন ও ধর্ম:
ধর্ম বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ধর্ম এক অলৌকিক, অদৃশ্য শক্তিতে বিশ্বাস যা নিয়ত আমাদের জীবন ও ভাগ্যকে নিয়ন্ত্রণ করে। ধর্ম এক অদৃশ্য শক্তি বিশ্বাস। এ অদৃশ্য শক্তির নিকট আমরা মাথা নত করি, প্রার্থনা জানাই, অনুগ্রহ কামনা করি।
ধর্ম জগতের বাইরে যে অসীম ক্ষমতাবান কোন কিছু বা পরম সত্ত্বার কথা বলে, তাকে জানার পদ্ধতি হিসেবে বিশ্বাসকে ব্যবহার করে। ধর্মের মতে, বিশ্বাসের মাধ্যমেই সত্য মিলে - তর্কে সত্য মিলে না।
বিশ্বাস, অনুভূতি, আন্তরিকতা, অনুগত ইত্যাদি ধর্মের গোড়ার কথা। ধর্ম প্রেম, ভক্তি ও শ্রদ্ধা জ্ঞান চর্চা ও ধর্ম জীবনে প্রেমে ঈশ্বরকে পেতে চায়।

দর্শন কোন কিছু বিশ্বাসের মাধ্যমে না দিয়ে বুদ্ধি দ্বারা যাচাই করে নেয়। দর্শনের যুক্তিবিচার ও মোহ-মুক্ততাই মুখ্য কথা।

Dictionary.com is the world’s leading online source for English definitions, pronunciations, word origins, idioms, Word of the Day, and more.

Address

Laxmibazar
Paschim Sutrapur
1100

Opening Hours

Monday 09:00 - 16:00
Tuesday 09:00 - 16:00
Wednesday 10:00 - 16:00
Thursday 09:00 - 16:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 16:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Department of Philosophy, Kabi Nazrul Govt. College posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to Department of Philosophy, Kabi Nazrul Govt. College:

Shortcuts

Share

Category