The Search For Truth

The Search For Truth

Share

কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক দ্বীন প্?

30/01/2022

স্ত্রী'কে পেয়ে কোনোদিন মায়ের ভালোবাসা কে ভুলে যাবেন না...

মনে রাখবেন "স্ত্রী" আপনার "সহধর্মিনী" কিন্তু "মা" আপনার "গর্ভধারিনী"

30/01/2022

কেউ দারিদ্রতার ভয়ে হারামকে বেছে নেয়‼️

কেউ হারামের ভয়ে দারিদ্রতাকে বেছে নেয়🌼

05/01/2022

দ্বীনদার স্ত্রী জান্নাতেও আপনার পাশে থাকবে।
আর বে-দ্বীন সুন্দরী মেয়ে দুনিয়াতেই ছেড়ে চলে যেতে পারে!!

05/01/2022

বাবার পছন্দ করা ছেলেকেই বিয়ে করতে হবে।
কিছু করার নেই।
বাবাকে বড্ড ভয় পাই আবার ভালোবাসিও অনেক।
হয় তো এই দুই জায়গা থেকেই না করতে পারিনি।

আমার ছেলে পছন্দ না আগে থেকেই।
এটা বাবাকে বলার সাহস আমার হয়নি।
মাকে অবশ্য বলছিলাম কাজ হইনি ।
মা আরো এত্তগুলা কথা শুনাইলো ।
আমরা কি তোর খারাপ চাই, আমরা কি তোকে বানের জলে ভাসাই দিতাছি?
এই সেই আরো কত কথা।
মার সাফ কথা একটাই।
তোর বাবা যে ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক করবে তার সাথেই বিয়ে হবে।

ছেলে আমার পছন্দ না কারণ ছেলের দাড়ি আছে।
হুজুর ছেলে পছন্দ না আরেকটা কারণ হলো বেশিরভাগ হুজুররাই পান খায়।
কি একটা অবস্হা যে হয় দাত এর।
দাত এর মধ্যে কালো দাগ পড়েই থাকে কিছু হুজুরদের।

শুনেছি ঐ বাড়িতে গেলে নাকি পুরোপুরি পর্দা করতে হবে।
হাতে পায়ে মুজা পড়ে বের হতে হবে।
দেবর, বাসর, চাচাতো, মামাতো, ফুফাতো ভাইদের সামনে নাকি একদম যাওয়া যাবে না।
এসব বাবাকে আগেই বলে দিছে।

এই বাবাটা আগে এসব তেমন বুঝতো না।
চাকরি থেকে অবসর হওয়ার পর থেকে তাবলীগে গিয়ে গিয়ে এসব শিখছে।
আমাকে নাকি কোন মাওলানার কাছে বিয়ে দিবে ।
এটা তার মনের একটা বড় ইচ্ছা।
ঐ মাওলানা নাকি আরেক এলাকার তাবলীগ এর আমীর।
বাবার ইচ্ছা পূরণ করতে হলেও ঐ হুজুরকেই বিয়ে করতে হবে ।

এখন কি আর করা বাবার কথা তো শুনতে হবে আর বিয়েটাও করতে হবে।
তবে নিজেকে মাঝে মাঝে এই বলে সান্তনা দেই মা-বাবা তো আর সন্তান এর খারাপ চায় না।

বিয়েতে নাকি গায়ে হলুদ তারপর গেট টাঙ্গিয়ে টাকা আদায়, জামাই এর হাত ধোয়া এসব কিছু হবে না।
এসব নাকি জায়েজ নাই।
যদি বাবা মেহমান খাওয়াতে চায় তাহলে নাকি পর্দার সহিত খাওয়াতে হবে মানে মেয়েদের আলাদা প্যান্ডলে বা ঘরের ভিতর খাওয়াতে হবে।
আর ছেলেদের বাহিরে বা প্যান্ডলে।
যেখানে কোন মেয়ে মানুষ প্রবেশ করতে পারবে না।
আমি তো শুনে অবাক !
এলাকার কত মানুষের বিয়েতে এসব হচ্ছে তাদের বিয়ে কি আটকে গেছে নাকি তাদের সংসার ভেঙ্গে গেছে।
বিয়েতে সবাই একটু আনন্দ ফূর্তি তো করবে নাকি?
আর আনন্দ ফূর্তি তো এসবেই তাই না ?
এই ছেলেকে কে বুঝাবে ।
তাকে আবার বুঝানোও যাবে না কারণ কোরআন হাদীস এর কোন মাইর প্যাচ এ আমারে ফালাইয়া বলদ বানাই দিবে কে
জানে ।

মন চায় লজ্জা শরম রাইখা ফোন দিয়া বলি দুনিয়াতে এতো মাদ্রাসার মেয়ে থাকতে আমি জেনারেল পড়ুয়া যে কুরআনটা সহীহ করে পড়তে পারে না তাকে বিয়ে করতে হবে কেন ?
দুনিয়াতে কি আর কোন মেয়ে নাই ?

-হুজুর এর বউ হবো।
-১ম পর্ব
-আমিরুল ইসলাম

04/01/2022
03/01/2022

সুন্নাহ কি?

সুন্নাহর পরিচিতি :

সুন্নাহ (السنة) শব্দটি سن- يسن থেকে ক্রিয়ামূল। যার অর্থ তরীকা বা পন্থা, পদ্ধতি, রীতিনীতি, হুকুম ইত্যাদি। এই পদ্ধতি ও রীতিনীতি নন্দিত বা নিন্দিত কিংবা প্রশংসিত বা ধিকৃত উভয়েই হ’তে পারে। যেমন- السنة من الله (আল্লাহর নীতি)। মহান আল্লাহ্ বলেন, سُنَّةَ مَنْ قَدْ أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِن رُّسُلِنَا وَلاَ تَجِدُ لِسُنَّتِنَا تَحْوِيلاً ‘আপনার পূর্বে আমি যত রাসূল প্রেরণ করেছি, তাদের ক্ষেত্রেও এরূপ নিয়ম ছিল। আপনি আমার নিয়মের কোন ব্যতিক্রম পাবেন না’ (ইসরা ১৭/৭৭)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, وَمَنْ سَنَّ فِى الإِسْلاَمِ سُنَّةً سَيِّئَةً كَانَ عَلَيْهِ وِزْرُهَا وَوِزْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ بَعْدِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَىْءٌ ‘যে ব্যক্তি ইসলামে কোন নিকৃষ্ট সুন্নাত (রীতি) চালু করল, অতঃপর তার অবর্তমানে সেটার উপরে আমল করা হ’ল, তাহ’লে তার জন্য আমলকারীর সমান গোনাহ লেখা হবে, অথচ আমলকারীর গোনাহ সামান্যতম কম করা হবে না’।[1]

শারঈ পরিভাষায় সুন্নাত হ’ল রাসূলুল্লাহ্ (ছাঃ)-এর ঐ সকল বাণী, যা দ্বারা তিনি কোন বিষয়ে আদেশ-নিষেধ, বিশ্লেষণ, মৌন সম্মতি ও সমর্থন দিয়েছেন এবং কথা ও কর্মের মাধ্যমে অনুমোদন করেছেন, যা সঠিকভাবে জানা যায় তাকে সুন্নাহ বলা হয়।[2] অনুরূপভাবে ছাহাবী, তাবিঈ ও তাবে-তাবিঈদের আছার ও ফৎওয়াসমূহ অর্থাৎ তাদের ইজতেহাদ ও যেসব বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন, তাকেও সুন্নাহ বলে অভিহিত করা হয়। যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন, فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِىْ وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ الْمَهْدِيِّيْنَ ‘তোমাদের উপরে অবশ্য পালনীয় হ’ল আমার সুন্নাত ও সুপথ প্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত’।[3]


সুন্নাহর গুরুত্ব : ইসলামী শরী‘আতের উৎস দু’টি, পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ। পবিত্র কুরআন যেমন আল্লাহর প্রেরিত অহী, ঠিক তেমনি সুন্নাহও রাসূল (ছাঃ)-এর অন্তরে প্রক্ষিপ্ত অহী।


কুরআন পঠিত অহী, আর সুন্নাহ অপঠিত অহী। পবিত্র কুরআনের পরই সুন্নাহর স্থান। সুন্নাহ প্রকৃতপক্ষে আল-কুরআনের বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যে পূর্ণাঙ্গ দ্বীন মানব জাতিকে উপহার দিয়েছেন, সুন্নাহ মূলতঃ এরই বহিঃপ্রকাশ। তাই বলা হয়, পবিত্র কুরআন ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের হৃদপিন্ড স্বরূপ। আর সুন্নাহ এ হৃদপিন্ডের চলমান ধমনী। হৃদপিন্ডের চলমান ধমনী যেমন দেহের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের শোণিত ধারা সতেজ, সক্রিয় ও গতিশীল করে রাখে, সুন্নাহও অনুরূপ দ্বীন ইসলামকে সতেজ, সক্রিয় ও গতিশীল রাখে। এজন্যই ইসলামে ছহীহ সুন্নাহর গুরুত্ব অপরিসীম। সুন্নাহ উন্নত ও মহামূল্যবান জ্ঞান সম্পদ হিসাবে সমাদৃত। দ্বীন ইসলাম পূর্ণাঙ্গ। এই পূর্ণতা ধরে রাখতে সুন্নাহর ভূমিকা অপরিসীম। কারণ যারা সুন্নাহর জ্ঞান থেকে বিমুখ তারা বিদ‘আতী পথ অন্বেষণে সর্বদা ব্যস্ত। সুন্নাহ ব্যতীত দ্বীন ইসলামের পূর্ণতা কল্পনা করা যায় না।


কুরআনের মত সুন্নাহও অহী : পবিত্র কুরআন যেমন আল্লাহ প্রেরিত অহী, ঠিক তেমনি রাসূলের কথা, কাজ, মৌন সম্মতি তথা সুন্নাহও আল্লাহর অহী, যা রাসূল (ছাঃ)-কে জানিয়ে দেয়া হ’ত। কুরআন ও সুন্নাহ উভয়টি জিব্রাঈল (আঃ)-এর মাধ্যমে অবতীর্ণ হয়েছে। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, وَأَنْزَلَ اللهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ ‘আল্লাহ তোমার প্রতি কিতাব (কুরআন) ও হিকমাত (সুন্নাহ) নাযিল করেছেন’ (নিসা ৪/১১৩)। ‘আর তিনি শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমাত’ (জুমু‘আ ৬২/২)। অবশ্য কুরআন ও সুন্নাহ উভয়টির তথ্যসমূহ আল্লাহর পক্ষ থেকেই আগত।[4] এ মর্মে রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, أَلاَ إِنِّىْ أُوتِيْتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ ‘জেনে রাখ, নিশ্চয়ই আমাকে কুরআন ও তার সাথে অনুরূপ বিষয় (সুন্নাহ) দান করা হয়েছে’।[5]

হাসান বিনতে আতিয়া বলেন, জিব্রাঈল (আঃ) রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে সুন্নাহ নাযিল করতেন, যেভাবে কুরআন নাযিল করতেন।[6] কুরআন প্রত্যক্ষ অহী ও হাদীছ অপ্রত্যক্ষ অহী। কুরআন অহী মাতলূ যা তেলাওয়াত করা হয়। কিন্তু হাদীছ গায়ের মাতলূ যা তেলাওয়াত করা হয় না।[7] যার ভাষা ও অর্থ আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, তাই কুরআন। আর যার অর্থ আল্লাহর পক্ষ থেকে ও রাসূলের ভাষায় তা ব্যক্ত করেন, তাই হাদীছ ও সুন্নাহ।[8] রাসূল (ছাঃ) বলেন, وَلْيَقْضِ اللهُ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ مَا شَاءَ ‘আল্লাহ যা পসন্দ করেন, তাঁর নবীর মুখ দিয়ে তা প্রকাশ করেন’।[9]


রাসুলুল্লাহ (ছাঃ) নিজের খেয়াল-খুশিমত কোন ফায়ছালা দিতেন না এবং ইচ্ছামত কোন কথা বলতেন না। মহান আল্লাহ বলেন,وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلاَّ وَحْيٌ يُوحَى، عَلَّمَهُ شَدِيْدُ الْقُوَى ‘তিনি (রাসূল) তাঁর প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। কেবলমাত্র অতটুকু বলেন, যা তাঁর নিকটে অহী হিসাবে নাযিল করা হয়। আর তাকে শিক্ষা দান করে এক শক্তিশালী ফেরেশতা’ (নাজম ৫৩/৩-৫)। হাদীছে এসেছে, একদা জনৈক ইহুদী আলেম রাসূল (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করল, পৃথিবীর কোন ভূখন্ড সর্বাপেক্ষা উত্তম? রাসূল (ছাঃ) বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর জিব্রাঈল (আঃ) এসে তা জানিয়ে দেয়ার পর বললেন, شَرُّ الْبِقَاعِ أَسْوَاقُهَا وَخَيْرُ الْبِقَاعِ مَسَاجِدُهَا ‘সর্বনিকৃষ্ট স্থান হ’ল বাজার ও সর্বোৎকৃষ্ট স্থান হ’ল মসজিদ’।[10] অতএব সুন্নাহও কুরআনের মতই অহী। একে অস্বীকার করার কোন উপায় নেই।

আবূ নাফিয লিলবার আল-বারাদী

[1]. মুসলিম হা/১০১৭; নাসাঈ হা/২৫৫৪; মিশকাত হা/২১০।

[2]. শাইখ যাকারিয়া আল-আনছারী, ফাতহুল বাকী আলা আলফাযিল ইরাকী (বৈরুত: দারুল কুতুবিাল ইলমিয়্যাহ, তা.বি.), পৃঃ ১২।

[3]. তিরমিযী হা/২৬৭৬; ইবনু মাজাহ হা/৪৩; মিশকাত হা/১৬৫, সনদ ছহীহ।

[4]. তাফসীর মা‘আরেফুল কুরআন, ২৮২ পৃঃ।

[5]. আবু দাউদ হা/৪৬০৪; মিশকাত হা/১৬৩।

[6]. আশ-শারহুল ইবানা, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের পরিচিতি।

[7]. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব, হাদীছের প্রামাণিকতা, পৃঃ ৫।

[8]. তাফসীর মাআরেফুল কুরআন, পৃঃ ১৩০৩।

[9]. বুখারী হা/৬০২৭।

[10]. আহমাদ, ইবনু হিববান, হাকেম, মিশকাত হা/৭৪১, সনদ হাসান।

03/01/2022

#দেনমোহর

এতক্ষণ এমন এক স্বপ্নজগৎ ও আজব দেশের কথা বলছিলাম যেখানে ‘রাত্তিরেতে বেজায় রোদ, দিনে চাঁদের আলো।’ যে দেশে কিছু কিনতে গেলে ক্রীতবস্ত্তর বিনিময়ে কোন অর্থ দিতে হয় না; বরং বস্ত্তর সাথে ইচ্ছামত অর্থ পাওয়া যায়! এখন বাস্তব-জগতের কথায় আসা যাক।

বিবাহ এক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই একে অন্যের কাছে উপকৃত ও পরিতৃপ্ত। কিন্তু স্বামীর অধিকার বেশী। তাই স্ত্রীর কর্তব্য অধিক। স্ত্রী তার দেহ-যৌবন সহ স্বামীর বাড়িতে এসে বা সদা ছায়ার ন্যায় স্বামী-পাশে থেকে তার অনুসরণ ও সেবা করে। তাই তো এই চুক্তিতে তাকে এমন কিছু পারিতোষিক প্রদান করতে হয় যাতে সে সন্তুষ্ট হয়ে স্বামীর বন্ধনে আসতে রাজী হয়ে যায়। সৃষ্টিকর্তা সবয়ং মানুষকে এ বিধান দিয়েছেন। তিনি বলেন,

﴿وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلاَّ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ كِتَابَ اللهِ عَلَيْكُمْ وَأُحِلَّ لَكُمْ مَا وَرَاءَ ذَلِكُمْ أَنْ تَبْتَغُوا بِأَمْوَالِكُمْ مُحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ فَمَا اسْتَمْتَعْتُمْ بِهِ مِنْهُنَّ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةً﴾

‘‘উল্লেখিত (অবৈধ) নারীগণ ব্যতীত অন্যান্য নারীগণকে তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তোমাদের সবীয় অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য, ব্যভিচারের জন্য নয়। তাদের মধ্যে যাদেরকে তোমরা উপভোগ করবে তাদেরকে নির্ধারিত মোহর অর্পণ করবে।’’[1]

তিনি অন্যত্র বলেন,

﴿وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً﴾

‘‘এবং তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহর সন্তুষ্টমনে দিয়ে দাও।’’[2]

আর প্রিয় নবী (ﷺ) বলেন,

إِنَّ أَحَقَّ الشَّرْطِ أَنْ يُوفَى بِهِ مَا اسْتَحْلَلْتُمْ بِهِ الْفُرُوجَ.

‘‘সবচেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যা পূরণ করা জরুরী, তা হল সেই বস্তুত যার দ্বারা তোমরা (স্ত্রীদের) গুপ্তাঙ্গ হালাল করে থাক।’’[3]

সুতরাং স্ত্রীকে তার ঐ প্রদেয় মোহর প্রদান করা ফরয। জমি, জায়গা, অর্থ, অলঙ্কার, কাপড়-চোপড় ইত্যাদি মোহরে দেওয়া চলে। বরং প্রয়োজনে (পাত্রীপক্ষ রাজী হলে) কুরআন শিক্ষাদান, ইসলাম গ্রহণও মোহর হতে পারে।[4]

মোহর কম হওয়াই বাঞ্ছনীয়। তবে সেবচ্ছায় বেশী দেওয়া নিন্দনীয় নয়। মহানবী (ﷺ) তাঁর কোন স্ত্রী ও কন্যার মোহর ৪৮০ দিরহাম (১৪২৮ গ্রাম ওজনের রৌপ্যমুদ্রা) এর অধিক ছিল না।[5] হযরত ফাতেমা (রাঃ) এর মোহর ছিল একটি লৌহবর্ম।[6] হযরত আয়েশা বলেন, তাঁর মোহর ছিল ৫০০ দিরহাম (১৪৮৭,৫ গ্রাম ওজনের রৌপ্য মুদ্রা)।[7] তবে কেবল উম্মে হাবীবার মোহর ছিল ৪০০০ দিরহাম (১১৯০০ গ্রাম রৌপ্য মুদ্রা)। অবশ্য এই মোহর বাদশাহ নাজাশী মহানবী (ﷺ) এর তরফ থেকে আদায় করেছিলেন।[8]

তাছাড়া তিনি বলেন, ‘‘নারীর বর্কতের মধ্যে; তাকে পয়গাম দেওয়া সহজ হওয়া, তার মোহর সবল্প হওয়া এবং তার গর্ভাশয়ে সহজে সন্তান ধরা অন্যতম।’’[9]

হজরত মূসা (আঃ) তাঁর প্রদেয় মোহরের বিনিময়ে শ্বশুরের আট অথবা দশ বছর মজুরী করেছিলেন।[10]

মোহর হাল্কা হলে বিবাহ সহজসাধ্য হবে; এবং সেটাই বাঞ্ছিত। পক্ষান্তরে পণপ্রথার মত মোহর অতিরিক্ত বেশী চাওয়ার প্রথাও এক কুপ্রথা।

মোহরের অর্থ কেবলমাত্র স্ত্রীর প্রাপ্য হক; অভিভাবকের নয়। এতে বিবাহের পরে স্বামীরও কোন অধিকার নেই। স্ত্রী বৈধভাবে যেখানে ইচ্ছা সেখানে খরচ করতে পারে।[11] অবশ্য স্ত্রী সন্তুষ্টচিত্তে সেবচ্ছায় স্বামীকে দিলে তা উভয়ের জন্য বৈধ।[12]

স্ত্রীকে মোহর না দিয়ে বিবাহ করলে অনেকের নিকট বিবাহ বাতিল।[13]

আক্দের সময় মোহর নির্ধারিত না করলেও বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যায়। কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর মিলনের পর স্ত্রী সেই মহিলার সমপরিমাণ চলতি মোহরের অধিকারিণী হবে, যে সর্বদিক দিয়ে তারই অনুরূপ। মিলনের পূর্বে স্বামী মারা গেলেও ঐরূপ চলতি মোহর ও মীরাসের হকদার হবে।[14]

মোহর নির্দিষ্ট না করে বিবাহ হয়ে মিলনের পূর্বেই স্বামী তালাক দিলে স্ত্রী মোহরের হকদার হয় না। তবে তাকে সাধ্যমত অর্থাদি খরচ-পত্র দেওয়া অবশ্য কর্তব্য।[15]

বিবাহের সময় মোহর নির্ধারিত করে সম্পূর্ণ অথবা কিছু মোহর বাকী রাখা চলে। মিলনের পর স্ত্রী সে ঋণ মওকুফ করে দিতে পারে। নচেৎ ঋণ হয়ে তা স্বামীর ঘাড়ে থেকেই যাবে।

মোহর নির্ধারিত করে বা কিছু আদায়ের পর বিবাহ হয়ে মিলনের পূর্বে স্বামী মারা গেলেও স্ত্রী পূর্ণ মোহরের হকদার হবে। স্ত্রী মারা গেলে স্বামী মোহর ফেরৎ পাবে না।[16]

মোহর নির্দিষ্ট করে আদায় দিয়ে মিলন করার পর স্বামী স্ত্রীকে তালাক দিলে মোহর ফেরৎ পাবে না। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿وَإِنْ أَرَدْتُمُ اسْتِبْدَالَ زَوْجٍ مَكَانَ زَوْجٍ وَآتَيْتُمْ إِحْدَاهُنَّ قِنْطَاراً فَلا تَأْخُذُوا مِنْهُ شَيْئاً أَتَأْخُذُونَهُ بُهْتَاناً وَإِثْماً مُبِيناً- وَكَيْفَ تَأْخُذُونَهُ وَقَدْ أَفْضَى بَعْضُكُمْ إِلَى بَعْضٍ وَأَخَذْنَ مِنْكُمْ مِيثَاقاً غَلِيظاً﴾

‘‘আর যদি এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করা স্থির কর এবং তাদের একজনকে প্রচুর অর্থও দিয়ে থাক, তবুও তা থেকে কিছুই গ্রহণ করো না। তোমরা কি মিথ্যা অপবাদ এবং প্রকাশ্য পাপাচারণ দ্বারা তা গ্রহণ করবে? কিভাবে তোমরা তা গ্রহণ করবে, অথচ তোমরা পরস্পর সহবাস করেছ এবং তারা তোমাদের কাছ থেকে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি নিয়েছে?’’[17]

মোহর ধার্য হয়ে আদায় না করে মিলনের পূর্বেই তালাক দিলে নির্দিষ্ট মোহরের অর্ধেক আদায় করতে হবে। অবশ্য যদি স্ত্রী অথবা যার হাতে বিবাহবন্ধন সে ( স্বামী) মাফ করে দেয়, তবে সে কথা ভিন্ন। তবে মাফ করে দেওয়াটাই আত্মসংযমের নিকটতর।[18]

মিলনের পূর্বে যদি স্ত্রী নিজের দোষে তালাক পায় অথবা খোলা তালাক নেয়, তবে মোহর তো পাবেই না এবং কোন খরচ-পত্রও না।[19] মোহর আদায় দিয়ে থাকলে মিলনের পরেও যদি স্ত্রী খোলা তালাক চায়, তাহলে স্বামীকে তার ঐ প্রদত্ত মোহর ফেরৎ দিতে হবে।[20]

কোন অবৈধ বা অগম্যা নারীর সাথে ভুলক্রমে বিবাহ হয়ে মিলনের পর তার অবৈধতা (যেমন গর্ভ আছে বা দুধ বোন হয় ইত্যাদি) জানা গেলে ঐ স্ত্রী পূর্ণ মোহরের হকদার হবে। তবে তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ওয়াজেব।[21]

একাধিক বিবাহের ক্ষেত্রে সকল স্ত্রীর মোহর সমান হওয়া জরুরী নয়।[22]

স্ত্রীর মোহরের অর্থ খরচ করে ফেলে স্বামী যদি তার বিনিময়ে স্ত্রীকে তার সমপরিমাণ জমি বা জায়গা লিখে দেয় তবে তা বৈধ।[23] পক্ষান্তরে অন্যান্য ওয়ারেসীনরা রাজী না হলে কোন স্ত্রীর নামে (বা কোন ওয়ারেসের নামে) অতিরিক্ত কিছু জমি-জায়গা উইল করা বৈধ নয়। কারণ, কোন ওয়ারেসের জন্য অসিয়ত নেই।[24]

পাত্রীর নিকট থেকে ৫০ হাজার (পণ) নিয়ে ১০ বা ২০ হাজার তাকে মোহর দিলে অথবা নামে মাত্র মোহর বাঁধলে এবং আদায়ের নিয়ত না থাকলে অথবা দশ হাজারের দশ টাকা আদায় ও অবশিষ্ট বাকী রেখে আদায়ের নিয়ত না রাখলে; অর্থাৎ স্ত্রীর ঐ প্রাপ্য হক পূর্ণমাত্রায় আদায় দেওয়ার ইচ্ছা না থাকলে এই ধোঁকায় বিবাহ হবে কি না সন্দেহ। অবশ্য একাজ যে আল্লাহর ফরয আইনের বিরুদ্ধাচরণ তাতে কোন সঃন্দেহ নেই।

প্রকাশ যে, মোহর বিজোড় বাঁধা বা এতে কোন শুভলক্ষণ আছে মনে করা বিদআত।

﴿اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلاَ تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلاً مَا تَذَكَّرُونَ﴾

(হে মানুষ!) ‘‘তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ কর এবং তাঁকে ছাড়া ভিন্ন অভিভাবকদের অনুসরণ করো না। তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ করে থাক।’’[25]

[1] সূরা আন-নিসা (৪:২৪)
[2] সূরা আন-নিসা (৪:৪)
[3] সহীহ আল-জা-মিউস সাগীর অযিয়াদাতুহ ১৫৪৭নং
[4] বুখারী, মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২০২-৩২০৯নং
[5] ইরওয়াউল গালীল ১৯২৭নং
[6] সহীহ আবু দাউদ, আল্লামা আলবানী ১৮৬৫নং, নাসাঈ, মুসনাদে আহমদ ১/৮০
[7] সহীহ আবু দাউদ ১৮৫১নং
[8] সহীহ আবু দাউদ ১৮৫৩
[9] সহীহুল জামে ২২৩৫নং
[10] সূরা স-দ (২৮ : ২৭)
[11] ফাতাওয়াল মারআহ ১০৫-১০৯পৃঃ
[12] সূরা আন-নিসা (৪ : ৪)
[13] ফিকহুস সুন্নাহ ২/১৪৯
[14] ফিকহুস সুন্নাহ ২/১৪৯-১৫০
[15] সূরা আল-বাক্বারা (২ : ২৩৬
[16] ফিকহুস সুন্নাহ ২/১৪৮
[17] সূরা আন-নিসা (৪ : ২০-২১)
[18] সূরা আল-বাক্বারা (২ : ২৩৭
[19] ফিকহুস সুন্নাহ ২/১৫১-১৫২
[20] বুখারী, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২৭৪নং
[21] ফিকহুস সুন্নাহ ২/১৪৯
[22] মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৬/২৬২
[23] মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ২৫/৪৭
[24] মিশকাতুল মাসাবীহ ৩০৪৭নং, ইরঃ ১৬৫৫ নং
[25] সূরা আল-আ‘রাফ (৭ : ৩)

29/12/2021

" আমি জান্নাতের ভেতর উঁকি দিলাম, দেখতে পেলাম
তার অধিকাংশই গরীব-অভাবী " (মুসলিমঃ ২৭৩৭)

29/12/2021

রাসূল ﷺ‎‬ বলেন, “তোমাদের মধ্যে সে লোক সব থেকে উত্তম যে তার স্ত্রীদের নিকট ভালো”।
(তিরমীযি : ৩৮৯৫)

25/06/2021

☀ দ্বীনি স্ত্রীর অপর নাম আল্লাহ (ﷻ), রাসূল (ﷺ) ও স্বামীর প্রতি অনুগত (obedient) স্ত্রী:

🌹 “পুণ্যবতী নারীরা অনুগত [আল্লাহ (ﷻ), রাসূল (ﷺ) ও তাদের স্বামীর প্রতি], তারা লোকচক্ষুর অন্তরালে হিফাযাতকারিনী ঐ সকল বিষয়ের যেগুলো আল্লাহ (ﷻ) হিফাযাত করেছেন।”
💎 [Quran 4:34. Also see 2:187; 7:189; 25:74; 30:21]

🌹 রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রশ্ন করা হলো, “কোন নারী উত্তম?” তিনি বললেন, “(১) স্বামীর যার প্রতি দৃষ্টিপাত স্বামীকে সন্তুষ্ট করে, (২) স্বামী আদেশ করলে তার আনুগত্য করে এবং (৩) স্ত্রী নিজের ব্যাপারে ও তার সম্পদের ব্যাপারে এমন কিছু করে না যা স্বামী অপছন্দ করে।”
💎 [Nasai 3231]

🌹 “মুসলিম নারী যদি (১) পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে, (২) রমদানে রোজা রাখে, (৩) লজ্জাস্থানের হিফাজত করে এবং (৪) স্বামীর আনুগত্য করে, তবে তাকে বলা হবে, জান্নাতের যে-কোনো দরজা দিয়ে ইচ্ছা তুমি ভেতরে প্রবেশ করো।”
💎 [Ibn Hibban 4163]

🌹 “তোমাদের প্রত্যেকের আখিরাতের কাজে সহায়িকা মুমিনা স্ত্রী গ্রহণ করা উচিত।”
💎 [Ibn Majah 1856]

🌹 “দুনিয়ায় সর্বোচ্চ উপকারি ও উপভোগের জিনিস হলো নেককার স্ত্রী।”
💎 [Muslim 715 k]

🌹 “চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে মেয়েদেরকে বিয়ে করা হয়—তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য ও তার দ্বীনদারী। তুমি দ্বীনদারীকেই প্রাধান্য দেবে, নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
💎 [Bukhari 5090. Also see Abu Dawud 2047 & Tirmidhi 1085]

🌹 “চারটি জিনিসে (দুনিয়াবি) সুখ নিহিত—নেককার স্ত্রী, প্রসস্থ বাড়ি, ভালো প্রতিবেশী এবং আরামদায়ক বাহন।”
💎 [Sahih Al-Jaami 887]

🌹 “এমন নারীকে বিয়ে করো যে প্রেমময়ী ও অধিক সন্তান প্রসবকারী, কারণ নিশ্চয় আমি তোমাদের সংখ্যা নিয়ে গর্বিত হব।”
💎 [Abu Dawud 2050]

🌹 “তোমাদের কুমারী মেয়ে বিয়ে করা উচিত। কেননা তারা মিষ্টমুখী, নির্মল জরায়ুধারী (অধিক সন্তান প্রসবকারী) এবং অল্পতেই তুষ্ট হয়।” [এখানে ‘মিষ্টমুখী’ বলতে এটা বোঝাতে পারে যে, তাদের চেহারা বেশি মায়াবী হয়, তাই চুম্বন করা বেশি আনন্দদায়ক। এটাও বোঝাতে পারে যে, বয়স কম হওয়ায়, কোনো পুরুষের সাথে সংসার করার স্মৃতিতে বন্দি না থাকায় ও সহবাসের অতীত অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে তারা অনেক বেশি লজ্জাশীল হয়।]
💎 [Ibn Majah 1861. Also see Bukhari 5367]

🌹 “স্বামী খুশি থাকা অবস্থায় কোনো স্ত্রী মারা গেলে সে জান্নাতি।”
💎 [Tirmidhi 1161]

14/12/2020

বিতর সালাত ছেড়ে দেয়ার বিধান কি?

উত্তর:
জমহুর আলেমের মতে, বিতির (বেজোড়) নামায সুন্নতে মুয়াক্কাদা (তাগিদপূর্ণ সুন্নত)। কোন কোন ফিকাহবিদ আলেমের মতে, বিতির নামাযকে ওয়াজিব।

বিতির নামায ওয়াজিব না হওয়ার পক্ষে দলিল হচ্ছে সহিহ বুখারী (১৮৯১) ও সহিহ মুসলিম (১১) এর হাদিস: তালহা বিন উবাইদুল্লাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: এক লোক রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলল: ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌! আল্লাহ্‌ আমার উপর কী কী নামায ফরয করেছেন আমাকে তা অবহিত করুন। তখন তিনি বললেন: “পাঁচ ওয়াক্ত নামায; তবে আপনি কোন নফল নামায আদায় করতে চাইলে সেটা আলাদা” আর সহিহ মুসলিমের ভাষ্যে এসেছে “দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায। সে বলল: আমার উপর এগুলো ছাড়া আর কিছু আছে? তিনি বললেন: না। তবে, আপনি নফল আদায় করতে পারেন”।

ইমাম নববী বলেন:

এই হাদিসে প্রমাণ রয়েছে যে, বিতির নামায ওয়াজিব নয়।[সমাপ্ত]

হাফেয ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে বলেন:

এই হাদিসে প্রমাণ রয়েছে যে, দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায ছাড়া আর কোন নামায ওয়াজিব নয়; এর বিপরীতে কেউ কেউ বিতির নামাযকে ও ফজরের দুই রাকাত সুন্নতকে ওয়াজিব বলেছেন।[সমাপ্ত]

তবে তা সত্ত্বেও এ নামায সবচেয়ে তাগিদপূর্ণ সুন্নত নামায। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একাধিক হাদিসে এ নামায আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সহিহ মুসলিমে (৭৫৪) এসেছে, আবু সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “তোমরা ভোর হওয়ার আগে বিতির নামায আদায় কর”

সুনানে আবু দাউদ গ্রন্থে এসেছে- আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “ওহে আহলে কুরআন, তোমরা বিতির (বেজোড়) নামায আদায় কর। কারণ নিশ্চয় আল্লাহ্‌ হচ্ছেন- বেজোড়। তিনি বেজোড়কে পছন্দ করেন”।[আলবানী ‘সহিহ সুনানে আবু দাউদ গ্রন্থে’ হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]

তাই নিজ গৃহে অবস্থানকালে কিংবা সফরে থাকাকালেও এ নামায নিয়মিত আদায় করা উচিত; যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদায় করতেন। সহিহ বুখারী (১০০০) ও সহিহ মুসলিমে (৭০০) ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফরে অবস্থায় বাহনের পিঠে ইশারা করে রাত্রিকালীন নামায আদায় করতেন; বাহন যেই দিকে মুখ করে চলুক না কেন। তবে, ফরয নামায ছাড়া। আর তিনি বাহনের পিঠেই বিতির নামায আদায় করতেন”।

ইবনে কুদামা (রহঃ) বলেন:

“বিতিরের নামায ওয়াজিব নয়। এটি মালেক ও শাফেয়ির অভিমত। আবু হানিফা বলেছেন: ওয়াজিব”। এরপর তিনি বলেন: আহমাদ বলেছেন: যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে বিতিরের নামায পড়ে না সে একজন খারাপ লোক। তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা উচিত নয়। এ বিষয়ে অনেক হাদিস বর্ণিত হওয়ার কারণে তিনি এর উপর জোর তাগিদ দিতে ও উদ্বুদ্ধ করতে চেয়েছেন”।[মুগনি (১/৮২৭) পরিমার্জিত ও সমাপ্ত]

স্থায়ী কমিটির আলেমগণকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: বিতিরের নামায কি ওয়াজিব? যে ব্যক্তি একদিন বিতির নামায পড়ে অন্যদিন পড়ে না তাকে কি শাস্তি পেতে হবে?

জবাবে তাঁরা বলেন: বিতিরের নামায সুন্নতে মুয়াক্কাদা। মুমিনের উচিত এ নামায নিয়মিত আদায় করা। যে ব্যক্তি এ নামায একদিন আদায় করে, অন্যদিন আদায় করে না তাকে শাস্তি পেতে হবে না। কিন্তু, তাকে এ নামায নিয়মিত আদায় করার উপদেশ দেয়া হবে। তাছাড়া বিতির বা বেজোড় নামায ছুটে গেলে সে ব্যক্তি এর বদলে দিনের বেলায় জোড় নামায আদায় করে নিতে পারেন। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এভাবে করতেন। যেমনটি আয়েশা (রাঃ) থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি ঘুমের কারণে কিংবা রোগের কারণে রাতের নামায আদায় করতে না পারতেন তাহলে তিনি দিনের বেলায় ১২ রাকাত নামায আদায় করতেন।[সহিহ মুসলিম] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অধিকাংশ সময় রাতের নামায ১১ রাকাত আদায় করতেন। প্রত্যেক দুই রাকাতে সালাম ফিরাতেন। এবং এক রাকাত বিতির আদায় করতেন। যদি তিনি ঘুমের কারণে কিংবা রোগের কারণে এ নামায আদায় করতে না পারতেন তখন তিনি দিনের বেলায় ১২ রাকাত নামায আদায় করতেন; যেমনটি আয়েশা (রাঃ) উল্লেখ করেছেন। এর ভিত্তিতে বলা যায় কোন ব্যক্তির স্বভাব যদি হয় তিনি প্রতি রাতে ৫ রাকাত নামায আদায় করেন, কিন্তু কোনদিন ঘুমের কারণে কিংবা অন্য কোন ব্যস্ততার কারণে আদায় করতে না পারেন তাহলে দিনের বেলা তার জন্য ৬ রাকাত নামায আদায় করার বিধান রয়েছে। তিনি প্রত্যেক দুই রাকাতে সালাম ফিরাবেন। অনুরূপভাবে তার অভ্যাস যদি হয় ৩ রাকাত নামায আদায় করা তাহলে তিনি দুই সালামে ৪ রাকাত আদায় করবেন। যদি তার অভ্যাস হয় ৭ রাকাত আদায় করা তাহলে তিনি ৮ রাকাত আদায় করবেন; প্রত্যেক দুই রাকাতে সালাম ফিরাবেন।[সমাপ্ত]

[ফাতাওয়াল লাজনাহ্‌ আল-দায়িমা (৭/১৭২)]

__সালেহ আল মুনাজ্জিদ হাফি:

11/12/2020

হাদিসটি হলঃ

“হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্নিত, হুজুর(সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফরমান, জুম’আ হল নিঃস্বদের জন্য হজ্জ্ব স্বরুপ।”

★ইমাম সৈয়ুতিঃআল- জামেউস সগীরঃ১/২৭২পৃঃ,হাদিসঃ৩৬৩৫

★ইমাম সাখাভীঃ মাকাসিদুল হাসানাঃ২০৭পৃঃ,হাদিসঃ৩৭০

★আল্লামা আযলূনীঃকাশফুল খাফাঃ১/২৯৮পৃঃ,হাদিসঃ১০৭৪

★ইমাম মানাবীঃফয়জুল কাদীরঃ৩/৩৫৯পৃঃ,হাদিসঃ৩৬৩৫

★আলবানীঃ সিলসিলাতুল দ্বঈফাহঃ১/৩৪৪পৃঃ,হাদিসঃ১৯১,তিনি বলেন হাদিসটি দ্বঈফ।

সনদ পর্যালোচনাঃ

১) উক্ত হাদিসটির একটি সনদ পাওয়া গেল, তবে উক্ত হাদিসের মধ্যে একজন রাবী ‘মুকাতিল’ সাধারণ দুর্বল থাকার কারণে সনদের ক্ষেত্রে হাদিসটি দ্বঈফ পর্যায়ের।

★ইমাম যাহাবীঃমিযা’নুল ই’তিলাদঃ৩/২৯৮পৃঃ,রাবী নং-৬৯৯৩,দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বৈরুত।

★ইমাম ইবনে হাজর আসকালানীঃলিসানুল মিযানঃ৪/৪৫৪পৃঃ।

২) তবে অপর সনদ যা ইমাম কাযাঈ(রহঃ) এবং ইমাম ইবনে আসাকীর(রহঃ) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর সুত্রে “মাসাকিন” এর স্থলে ” ফুকারা” বর্ণনা করেন।

★ইমাম সৈয়ুতিঃজামেউস সগীরঃ১/২৭৩পৃঃ,হাদিসঃ৩৬৩৬

★ইমাম মানাবীঃফয়জুল কাদীরঃ৩/৩৫৯পৃঃ,হাদিসঃ৩৬৩৬

তবে উক্ত হাদিসেও একজন রাবী দুর্বল।

৩)অপরদিকে উক্ত হাদিসের সমর্থনে ইমাম দায়লামী(রহঃ) হযরত ইবনে উমর(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে আরেকটি দ্বঈফ সনদ বর্ণনা করেছেন।
অতএব, এ হাদিসটি সহিহ্ নয়,তাই আমলযোগ্য নয়।

Want your school to be the top-listed School/college in Parbatipur?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Parbatipur
5250