10/08/2016
তেতুলিয়া উপজেলার ইতিহাস সহ বিস্তারিতঃ
শেষের অংশটি সকলকে পড়ার অনুরোধ করছি।
পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া উপজেলা ইংরেজী ১৮৬০ সন হতে ১৮৬৯ সন পর্যন্ত রংপুর জেলার একটি মহুকুমা হিসেবে প্রশাসনিক ইউনিটের মর্যাদা লাভ করে। শিল্প, বাণিজ্য ও নদী বন্দর হিসেবে তেতুলিয়া ছিল সুবিখ্যাত। মারওয়ারিদের এখানে ছিল একটি প্রধান ব্যবসা কেন্দ্র। মহানন্দা নদী দিয়ে আসা যাওয়া করত মহাজনী নৌকা। এখানে বাণিজ্য মেলা বসত। এ সময়ে তেতুলিয়া শহরের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। তেতুলিয়াতে গড়ে উঠে বিশ কিছু চমৎকার পাকা বাড়ী, মন্দির ও একটি ঘোড় দৌড়ের মাঠ। একই সময়ে ম্যালেরিয়া এবং কালা জ্বরে এখানে ব্যাপক প্রাণহানী ঘটে ফলে শহর হিসেবে গড়ে উঠা তেতুলিয়া বন্দর নগরটি হয়ে পরে অস্বাস্থ্যকর এবং জনশুন্য। অবশেষে ১৮৭০ সনে ১ এপ্রিল তারিখে এক গেজেট নোটিফিকেশন এর মাধ্যমে তেতুলিয়া মহুকুমার সকল ক্ষমতা বিলুপ্ত করে চুড়ান্তভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয় জলপাইগুড়ি জেলার কালেক্টরের হাতে। এর ফলে বিলুপ্ত হয় তেতুলিয়ার প্রশাসনিক ক্ষমতা । ১৯১৩ সনে তেতুলিয়া পূনরায় স্থাপিত হয় একটি পুর্নাঙ্গ পুলিশ স্টেশন। এর পর থেকে ১৯৪৭ সনে ভারত বিভাগের সময় পর্যন্ত এটি ছিল জলপাইগুড়ি জেলার অবিচ্ছিন্ন গুরত্বপুর্ন অংশ । ১৯৪৭ সনের ১৮ আগস্ট স্যার রেডক্লিপ ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার অন্য ৪ টি থানার সংগে তেতুলিয়াকে পূর্ব পাকিস্তানের দিনাজপুরের সাথে যুক্ত করে দেন ।
‘‘তেতুলিয়া’’ চার অক্ষরে একটি নাম যা দেশের সকলের নিকট এক নামে পরিচিত।
জনশ্রুতি আছে যে, প্রাচীন কালে এ এলাকায় প্রচুর তেতুল বৃক্ষ ছিল। তেতুল গাছের ছায়ায় বসে পথিকেরা বিশ্রাম নিত। এক সময়ে এখানে একজন বিশিষ্ট ইংরেজ বনিক বাস করত। তার বাবার নাম ছিল টিটু এবং তার বাসগৃহ ছিল একটি উঁচু টিলার উপর। সেখানে একটি তেতুল গাছ ছিল। কালক্রমে সেই ইংরেজ বনিকের বাবার নাম ‘‘টেটু’’ এবং তেঁতুল তলা হতে ‘‘লিয়া’’ এ দু’শব্দের সমন্বয়ে এ জনপদের নামকরন হয় ‘‘তেতুলিয়া’’।
তেতুলিয়া বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা। এ উপজেলার তিন দিকে ভারত শুধু মাত্র দক্ষিন দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলা। এ উপজেলা প্রায় ২৬ ২৪’ ও ২৬ ৩৮’উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮ ২০’ ও ৮৮ ৩২’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত।
তেতুলিয়া উপজেলায় সাতটি ইউনিয়ন আছে। ইউনিয়ন গুলো হচ্ছেঃ-
১নং বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন ,
২নং তিরনইহাট ইউনিয়ন ,
৩নং তেতুলিয়া ইউনিয়ন
৪নং শালবাহান ইউনিয়ন,
৫নং বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন ,
৬নং ভজনপুর ইউনিয়ন , এবং
৭নং দেবনগর ইউনিয়ন
আয়তন
• মোট ১৮৯.১২ কিমি ২ (৭৩.০২ বর্গমাই
জনসংখ্যা (২০১১)
• মোট ১,২৪,০৪১
• ঘনত্ব ৬৬০/কিমি ২ (১৭০০/বর্গমাইল)
নদীসমূহ
তেতুলিয়া উপজেলায় প্রায় ৪টি নদী রয়েছে। নদীগুলো হচ্ছে করতোয়া নদী , গোবরা নদী, ডাহুক নদী , এবং মহানন্দা নদী
প্রাচীন নিদর্শন ও দর্শনীয় স্থান
ভজন পুর ও তেতুলিয়া মধ্যবর্তী বুড়াবুড়ি নামক স্থানে একটি দূর্গের ভগ্নাংশের, ভদ্রেশ্বর মন্দির, শিবমন্দির ও গ্রিক ভাস্কর্ষ রীতিতে নির্মিত দুটি সমাধিসম্ভ। থানার সীমানা ঘেসে চলে যাওয়া মহানন্দা নদীর তীরে দাড়িয়ে কাঞ্চনজঙ্গা পর্বত দেখা যায়। এছাড়া এই উপজেলায় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর অবস্থিত।
বাংলাদেশের তেল বিতর্ক ও তেতুলিয়া:
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেলের খনির অবস্থান উত্তরাঞ্চলের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া উপজেলার শালবাহান গ্রাম। ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে সন্ধান মেলে জ্বালানি কেরোসিন তেলের খনির। সে সময় পেট্রোলিয়াম ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের অধীনে অনুসন্ধান চালানো হয় দেশের উত্তরের নীলফামারী, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড় জেলায়। পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া উপজেলায় ৫ হাজার পয়েন্ট গভীরে এ খনির অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তীতে ফরাসি কোম্পানি অনুসন্ধান চালায়। টানা দু’বছর ধরে অনুসন্ধান শেষে বিশেষজ্ঞ দল নিশ্চিত হয় তেতুলিয়া উপজেলায় ৯০০ মিটার গভীরে রয়েছে উত্তোলনযোগ্য জ্বালানি তেল। শালবাহান এলাকার কূপ খননের জন্য শেল (পেট্রোলিয়াম কোম্পানি) বিদেশী কোম্পানি ফরাসল-এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে খনির কূপ খনন কাজ শুরু করে। ১৯৮৮-৮৯ সালের জাতীয় বাজেটে ৩৫ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়। ১৯৮৮ সালের ১০ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান এরশাদ আনুষ্ঠানিকভাবে খনির তেল উত্তোলনের কাজ উদ্বোধন করেন। অজ্ঞাতকারণে এক সপ্তাহের মধ্যেই খনি থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ করে দেয়া হয়। কেউ কেউ দাবী করেন ভারতের চাপের মুখে তৎকালীন সরকার এ কুপ হতে তেল উত্তোলন বন্ধ করে দেয়।
উপজেলার ওয়েবসাইট http://tetulia.panchagarh.gov.bd
তথ্যসূত্রঃwww.panchagarh.info
posted by: Redwan Rony
পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এটুআই, বিসিসি ও বেসিস।