31/03/2026
🌾 ধানে শীষ বের হওয়ার সময় পাতা পোড়া রোগের সমাধান 🌾
ধানের শীষ বের হওয়া বা ফ্লাওয়ারিং স্টেজ অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। এই সময়ে ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট (পাতা পোড়া) রোগ দেখা দিলে ফলন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই দ্রুত ও সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
✅ ১. রোগের মূল চিকিৎসা (ব্যাকটেরিয়ানাশক) 🛡️
পাতার পোড়া ভাব থামাতে এবং শীষ রক্ষায় নিচের যেকোনো একটি ব্যবহার করুন:
বিসমার্থিওজল (Bismerthiazol): প্রতি লিটার পানিতে ১.৫ গ্রাম (যেমন: স্টপ বা ব্যাকট্রো) মিশিয়ে স্প্রে করুন।
মিশ্রণ: প্রতি ১০ লিটার পানিতে ৪০ গ্রাম কপার অক্সিক্লোরাইড (যেমন: কুপ্রাভিট বা ডিটক্স) এবং ২ গ্রাম
স্ট্রেপ্টোমাইসিন (যেমন- ব্যাট্রোবান মিশিয়ে স্প্রে করুন।
অথবা কাসুগামাইসিন+ ট্রাইসাক্লাজল (কাইসিন)
✅ ২. শীষের সুরক্ষা ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি (ছত্রাকনাশক) 💎
শীষ যাতে কালচে না হয় এবং দানা যেন পুষ্ট ও ঝকঝকে হয়, সেজন্য উপরের ওষুধের সাথে নিচের যেকোনো একটি মেশাতে পারেন:
ফিলিয়া বা ট্রুপ: প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি (ট্রাইসাইক্লাজল + প্রোপিকোনাজল)।
এমিস্টার টপ বা নাটিভো: প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি (এজোক্সিস্ট্রবিন + ডিফেনোকোনাজল)। এটি দানার মান ও উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
⚠️ বিশেষ সতর্কতা (অবশ্যই পালনীয়):
⏰ সঠিক সময়: সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ধানের ফুল ফোটে। এই সময়ে কখনো স্প্রে করবেন না; এতে পরাগায়ণ ব্যাহত হয়ে দানা চিটা হতে পারে। সবসময় বিকেল বেলা রোদ পড়ে গেলে স্প্রে করুন।
🚫 ইউরিয়া বন্ধ: এই মুহূর্তে জমিতে ইউরিয়া সার দেওয়া একদম বন্ধ রাখুন।
💎 পটাশ সার: প্রতি শতাংশে ২৫০-৩০০ গ্রাম এমওপি (পটাশ) সার উপরিপ্রয়োগ করলে গাছ রোগ দ্রুত কাটিয়ে উঠবে।
💧 পানির অভাব: জমিতে পর্যাপ্ত রস বা পানি ধরে রাখুন যাতে গাছ প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে।