04/04/2020
রাজর্ষি রায় বনমালী রায় বাহাদুর
১৮৬২ খ্রীষ্টাব্দের সেপ্টেমবর মাসে বনমালী রায় জন্ম গ্রহন করেন। তিনি পাবনা জেলা স্কুলে প্রবেশিকা পর্যন্ত অধ্যায়ন করেন। ১৮৮২ খ্রীষ্টাব্দে দত্তক পিতা বনওয়ারীলাল রায়ের মৃত্যুর পর বনমালী রায় তাঁর পিতার বিষয় সম্পত্তির উত্তারাধিকারী হন। তিনি অসাধারণ প্রতিভা সম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর সুব্যবস্থাপনায় জমিদারীর আয় অনেক বৃদ্ধি পায়। দেশহিতকর কাজে তিনি বহু অর্থ ও জমি দান করে গেছেন। বনওয়ারী নগর সিবিপি উচ্চ বিদ্যালয় ‘পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ’ বনমালী ইনষ্টিটিউট, টমসন হল, ইলিয়ট শিল্প বিদ্যালয়, হাসপাতাল, টাউন হল, পাবনা ইলিয়ট বনমালী টেকনিকেল স্কুল, দুর্ভিক্ষ ভান্ডার, শ্যাম কুন্ডুর পস্কোবার, জগন্নাথ দেবের মন্দির সংস্কার করেন এবং আরও অনেক জনহিতকর কাজের জন্য অর্থ দান করে গেছেন।
ইংরেজ সরকার বনমালী রায়ের নামের প্রশংসা করে ১৮৯৪ খ্রীষ্টাব্দে ‘অভিষেক’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে ‘রায় বাহাদুর’ উপাধীতে ভূষিত করেন। তিনি শেষ জীবন বৃন্দাবন ধামে ধর্ম-কর্ম ও অতিথি সেবায় অতিবাহিত করেন।
তাঁর দুই পুত্র ক্ষতিশ ভূষণ রায় বাহাদুর ও রাধিকা রায় বাহাদুর তাঁদের পিতার কীর্তি অক্ষুন্ন রাখার জন্য ১৯১২ খ্রীষ্টাব্দে ‘বনওয়ারী নগর করোনেশন বনমালী হাই স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন। স্কুলটি সরকারী সাহায্য না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা বার্ষিক চবিবশ’শ টাকা এ স্কুলকে সাহায্য করতেন। স্কুলের জমি, খেলার মাঠ ইত্যাদি তাঁদের দান। জমিদারী উচেছদের আগ পর্যন্ত স্কুলটি তাড়াশ জমিদারী থেকে বার্ষিক বারো’শ টাকা সাহায্য পেত।
১৯১৪ খ্রীষ্টাব্দের ২৩ নভেম্বর সুপ্রসিদ্ধ দানশীল জমিদার ‘রাজর্ষি রায় বনমালী রায় বাহাদুর’ বৃন্দাবন ধামে দেহ ত্যাগ করেন।