06/05/2018
থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত হালিমার
কি চিকিৎসা হবে না?
হোক মানবতার জয়, বেঁচে থাক বোন হালিমা
আপনার, আমার একটু এগিয়ে আসায়।
সাঁথিয়ার কোনাবাড়িয়ার এক হতভাগ্য মেয়ে হালিমা! বয়স বড়জোর ১৪/১৫!! অভাগা এই মেয়েটি তার বাবা হাফিজ মৃধাকে হারিয়েছে ৫ বছর আগে!! বাবা মারা যাওয়ার সময় রেখে গেল ৩ ছেলে ২ মেয়ে!!
স্বামীহারা স্ত্রী ছোট ছোট এই ৫ সন্তানকে নিয়ে যখন মাথা গোঁজার ঠাঁই খুজে বেড়াচ্ছিল আর প্রচন্ড মানসিক চাপে ভুগছিল! তাই সেও টিকল না! স্বামী মারা যাওয়ার ২ বছর পর সে ও মারা গেল!
৩ বছর পুর্বে যখন হালিমা বাবা মা দুজনকেই হারাল, সেই সংসারের দায়িত্ব অবধারিতভাবেই তার বড় ভাইয়ের উপর পড়ল!! যার বয়স কি না এখন মাত্র ১৭!! ছোট একটি ছেলে কিভাবে ভ্যান চালিয়ে ৫ ভাইবোনের সংসার চালাবে তা মাথায় আসে না!
তার উপরে তার একটি বোন হালিমা! সে থ্যালাসেমিয়াতে আক্রান্ত! অনেক কষ্ট করে সে কয়েকবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে এসে চিকিৎসা করিয়েছে!!
থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তস্বল্পতা জনিত রোগ। রক্তে অক্সিজেন বহনকারী হিমোগ্লোবিনে ক্রুটি থাকায় একদিকে যেমন রক্তস্বল্পতায় ভোগে, পাশাপাশি রক্ত খুব দ্রুত ভেঙ্গে যায়, প্লীহা এই রক্ত গুলো খেয়ে ফেলে বলে প্লীহাও বড় হয়ে যায়! এজন্য এই রোগীকে বার বার রক্ত দিতে হয়! বার বার রক্ত দেওয়ায় আবার বিভিন্ন অসুখ হয়, যেমন রক্তবাহিত হেপাটাইটিস বি / সি ভাইরাস, লিভার সহ বিভিন্ন অঙ্গে আয়রন জমা হয়, অস্থিমজ্জা দ্রুত প্রসারিত হয়, হাড়গুলো ভঙ্গুর হয়ে যায়! রক্ত কণিকা কম থাকায় দ্রুত বিভিন্ন ইনফেকশন হতে পারে!
হালিমাও আজ ইনফেকশনে ভুগছে! সাঁথিয়া হাসপাতালে আজ সে ভর্তি!! প্রচণ্ড জ্বর তার!! সম্ভবত Neutropanic Sepsis!!! তাই তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে কিন্তু অর্থাভাবে সে আজ সঠিক চিকিৎসা নিতে পারছে না, পারছে না ঢাকা যেতে!
ইহার সাধারণ চিকিৎসা তাই ২-৪ সপ্তাহ পরপর রক্ত দেওয়া! কারণ ইহাই সহজ লভ্য! এছাড়া অস্থিমজ্জার প্রতিস্থাপন (Bone marrow transplantation) বা জীন থেরাপিও করা যায়!!
কিন্তু হালিমার রক্তের গ্রুপ O(-)ve!!!! দুর্লভ এই রক্ত এত ঘন ঘন কোথায় পাওয়া যাবে!!
তাই বলা যায় হালিমার জীবন প্রদীপ বেশি দিনের নয়!!
একমাত্র চিকিৎসা Bone marrow transplantation যেটা ভারত/ সিঙ্গাপুর ছাড়া সম্ভব নয়! আর সম্ভাব্য ব্যয় ২৫/৩০ লক্ষ!!!
এত টাকা কোথায় পাওয়া যাবে??? এত টাকা!!!
২৫/৩০ লক্ষ!!
হুম পাওয়া যেতে পারে, যদি এলাকার স্থানীয় এমপি মহোদয়, মেয়র সহ সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন, সকল সমাজ সেবক, ব্যবসায়ী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিল্পপতি, সকল প্রবাসী সহ আপামর জন সাধারণ তাদের এ বছরের যাকাতের এক বিশাল অংশ শুধুই হালিমার জন্য বরাদ্দ করে তবে এই টাকা যোগাড় করা খুব কি কঠিন!!!
সবার কাছে এই প্রশ্নটি রেখে গেলাম!!
আমরা কি পারি এই মহান উদ্দ্যেগ নিয়ে হালিমার জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসতে!!!
লেখা ও আবেদনেঃ
ডাঃ আব্দুস শুকুর
এডমিন- স্বপ্নময় সাঁথিয়া
সহঃ- মোঃ তানভীর হাসান ইমরান
এডমিনঃ স্বপ্নময় সাঁথিয়া,
প্রতিষ্ঠাতা : সাঁথিয়া হেল্প লাইন।