23/03/2025
কোথাও চান্স পাইনি কি করবো?
সিচুয়েশন-১. পাবলিকে চান্স পাইছি কিন্তু ভালো সাবজেক্টে পাই নাই।
তোমার কাছে দুইটা অপশন: পাবলিকের যে সাবজেক্ট পাইছো সেটা চালিয়ে যাও। অথবা প্রাইভেটে গিয়ে পছন্দের সাবজেক্টে টাকা দিয়ে পড়ো। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে তিনটা জিনিস চিন্তা করে নিবা। ১) যে সাবজেক্টকে তুমি খারাপ বলতেছো সেটা কি আসলেই খারাপ? ফ্যাকাল্টিদের সাথে কথা বলো। যারা অলরেডি গ্রাজুয়েশন করে গেছে তাদের সাথে কথা বলো। আবার সাবজেক্ট একটু কম ভালো কিন্তু ভার্সিটি অনেক ভালো: সেটাও একটা ফ্যাক্টর হতে পারে। সেটাও চিন্তা করে দেইখো। ২) অন্য যে সাবজেক্টে পড়তে চাচ্ছ সেটার প্রতি তোমার ক্রেজি লেভেলের আগ্রহ নাকি মোটামুটি আগ্রহ। সেটা কি প্রাইভেট ভার্সিটিতে ম্যানেজ করতে পারবে? ৩) ফ্যামিলির ফাইনান্সিয়াল কন্ডিশন কেমন। সেই খরচ কি হ্যান্ডেল করতে পারবে? একজাক্টলি কোনটা ভালো হবে সেটা নিশ্চিতভাবে কেউ বলতে পারবে না। তারপরেও একটু বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নিও।
-
সিচুয়েশন-২: কোন পাবলিকে চান্স পাইনি
কেউ কেউ পাবলিক, প্রাইভেট আলাদাভাবে চিন্তা করে। তবে আমি পাবলিকে অনেক তুখোড় ছেলেপুলে দেখছি আবার পাবলিক এর জঘণ্য পোলাপানও দেখছি। একইভাবে প্রাইভেটের তুখোড় ছেলেপুলে দেখছি আবার খারাপ পোলাপানও দেখছি। তাছাড়া প্রাইভেটে কিন্তু ভালো পড়ালেখা হয়। ভালো ফ্যাকাল্টিও আছে। তাই একটু খোঁজ নিয়ে দেইখো। তাছাড়াও অনেক প্রাইভেট ভালো রেজাল্ট করলে স্কলারশিপ থাকে। একটু খোঁজ নিলে জানতে পারবে কোন ভার্সিটির কোন কোন সাবজেক্ট ভালো। প্লাস ফ্যামিলি ফাইনানলিস্যাল কন্ডিশন মাথায় রাইখো।
সিচুয়েশন-৩: পাবলিক পাইনি, প্রাইভেটে পড়ার টাকা নাই
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কিন্তু খারাপ না। লাখ লাখ পোলাপান খুঁজে পাওয়া যাবে যারা ন্যাশনাল ভার্সিটিতে পড়ে লাইফে ভালো করতেছে। সো, আমি ন্যাশনালে ভর্তি হইছি বলে লাইফে কিছুই হবে না। এমন হীনমন্যতার কথা চিন্তা করতে যাবে না। বরং ভর্তি হও, ভালোভাবে পড়ালেখা করো। পড়ালেখার প্রেসার কম থাকলে পড়ালেখার পাশাপাশি স্কিল ডেভেলপমেন্ট করো। ৪ বছরে ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি ৪ বছর ডেডিকেটেডভাবে কোন কিছু একটা শিখলে, এপ্লাই করলে: তোমাকে কে আটকাবে?
সিচুয়েশন-৪: দেশেই থাকমু না। বিদেশে আন্ডারগ্রেড করতে চলে যাবো
দেশের বাইরের সব কিছু প্রসেস করতে মোটামুটি এক দেড় বছর সময় লেগে যেতে পারে। প্লাস SAT বা অন্য টেস্টের প্রিপারেশন নেয়া লাগতে পারে। স্কলারশিপ আর ইউনিভার্সিটি রিসার্চ করতে হবে। ইউটিউব, ব্লগ, অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখো কী কী অপশন আছে সেগুলা বের করতে হবে। অনেক সময় কনফিউজড হয়ে যাবে। যে দেশে যেতে চাচ্ছ সেদেশের ভাষা শেখার দরকার পড়তে পরে। এবং ভালো পরিমাণ টাকা খরচ হতে পারে। কেউ কেউ আবার এজেন্সি এর কথা কনসিডার করে। (সব এজেন্সি কিন্তু ভালো না। এক্সট্রা ফি নেয় এবং ঘুরায়) ।
-
সিচুয়েশন-৫: সেকেন্ড টাইম কোপাইয়া অ্যাডমিশন টেস্ট দিমু
সেকেন্ড টাইম এডমিশন এর কথা চিন্তা করলে কেউ কেউ দুইটা ভুল করে। এক, সেকেন্ড টাইম এডমিশন দিবো বলে এইবার কোথাও এডমিশন নিয়ে রাখে না। এইটা ভুল। বরং এইবার যেটাই পাইছো সেখানে এডমিশন দিয়ে রাখো। দুই, এক বছর পরে ভর্তি পরীক্ষা আসবে। তাই হেলেদুলে টাইম নষ্ট করে। এইটা করা যাবে না। বরং সেকেন্ড টাইম এডমিশন এর কথা চিন্তা করলে-- তোমাকে আগেরবারের চাইতে ডাবল কষ্ট করতে হবে। ফোকাস ধরে রাখার জন্য ডাবল এফোর্ট দিতে হবে। এবং বেশিরভাগ জিনিস ভুলে যাবে তাই জোর করে বারবার রিভিশন দিতে হবে। এবং কিছু ভার্সিটি সেকেন্ড টাইমারদের সুযোগ দেয় না বা মার্কস কেটে রাখে সেটা মাথায় রাখতে হবে।
দিন শেষে মাথায় রাখবে: ভালো ভার্সিটি, ভালো সাবজেক্ট তোমার ক্যারিয়ার গড়ে দিবে না। আবার তুমি কঠোর পরিশ্রম করলে: খারাপ ভার্সিটি বা খারাপ সাবজেক্ট তোমাকে আটকায় রাখতে পারবে না। তবে, ভালো ভার্সিটি বা ভালো সাবজেক্ট তোমার লাইফ কিছুটা সহজ করে দিবে, বাড়তি কিছু সুবিধা দিবে। অন্যদিকে আর খারাপ ভার্সিটি বা খারাপ সাবজেক্ট বেশ কয়েকটা বাড়তি চ্যালেঞ্জ দিবে। এর বেশি কিছু না।
©Jhankar Mahbub