27/06/2020
▓▓▓ চন্দ্রাবতী নদী ও একটি কল্পিত কাহিনী ▓▓▓
লেখক ও ছবি : মোবারক স্যার।
না! এটা কোন জনশ্রুতি বা লোকোকথা নয়, নয় কোনো কিংবদন্তি বা ইতিহাস - একান্ত কল্পনা প্রসূত একটি ট্র্যাজিক রসের গল্প।
খিদিরপুর রাস্তার উত্তর পাশ থেকে বংশীপাড়াসহ চন্দ্রাবতী নদীর পাশ ঘেঁসে বিশাল গ্রাম ছিল। গ্রামের নাম ছিল ডাঙ্গাপাড়া। নদীর পাশ ঘেঁষা উঁচু উঁচু ভিটাগুলো তারই অতীত সাক্ষী, যদিও বর্তমানে তা কেটে সমান করা হয়েছে বা হচ্ছে। অনেক অনেক বছর আগে এই ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের এক প্রতাপশালী জমিদার ছিলেন নবরত্ন দিবাকর। তার স্ত্রী বিমলার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিল তাদের একমাত্র মেয়ে চন্দ্রাবতী। আজকে যেখানে শ্মশান তার আগে এখনও নদী বেশ প্রশস্ত। সেখানেই নদীর পূর্বপাশে বিশাল প্রাসাদোপম অট্টালিকার মালিক ছিলেন জমিদার নবরত্ন দিবাকর মশাই। বাড়ি সংলগ্ন নদীতে ছিল সুন্দর দৃষ্টি নন্দন শান বাঁধানো ঘাট। চন্দ্রাবতী তখন ষোড়শী, তম্বী। মাঝে মাঝে নদীর ঘাটে বসে এলুলায়িত কৃষ্ণ-কালো চুল ছেড়ে দিয়ে নদী ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করত। কোন একদিন কলকাতা থেকে আসা স্বাধীন সূত্রধর, মেয়েটিকে দেখে ফেলে। স্বাধীন একহারা দেহের আকর্ষণীয় যুবক। সে কলকাতা থেকে সুন্দর সুন্দর ফার্নিচার নৌকা বোঝাই করে নিয়ে আসত এ অঞ্চলে বাণিজ্য করতে। চন্দ্রাবতীকে প্রথম দর্শনেই ভালোবেসে ফেলে স্বাধীন। চন্দ্রাবতীও। উভয়ের মধ্যে মন দেয়া-নেয়া চলতে থাকে। কখনও গাছের আড়ালে, কখনও বৈকালিক নৌকা ভ্রমণে। এক কান, দুই কান হতে হতে এক সময় নবরত্ন মশাইয়ের কানেও কথা পৌছে যায়। খোঁজ নিয়ে জানলেন ছেলেটি জাতে সুতার বা সূত্রধর। তারা জাতে ব্রাহ্মণ সুতরাং এমন নিম্নজাতের ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কল্পনা করাও তার নিকট পাপ। তিনি কোনোভাবেই এমন ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি হলেন না। তার একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিবেন নিম্নজাতের সাথে ? না, তিনি তার সিদ্ধান্তে অনড় রইলেন। রাগে, দুঃখে, ক্ষোভে চন্দ্রাবতী একদিন রাতে নদীতে গলায় কলসী বেধে ডুবে মরল। সকালে তার মরদেহ ভেসে উঠল। গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসলো। আগে এই নদীকে বলা হতো জুলা। চন্দ্রাবতীকে স্মরণীয় করে রাখতে তারা এই নদীর নাম রাখল - 'চন্দ্রাবতী'।
নিচে সেই স্রোতসিনী চন্দ্রাবতী নদীর ছবি যা আজ কচুরিপানায় পরিপূর্ণ!