17/12/2022
আমরা অনেকেই একটি ভুল করি। নবিজির নাম লিখার পর পরিপূর্ণভাবে ‘সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ (দরুদ) না লিখে সংক্ষেপে (সা.) লিখে থাকি। এটি করা উচিত নয়।
ইমাম হামযাহ আল কাত্তানি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামের পর দরুদ ও সালাম লিখার পরিবর্তে শুধু صلاة সলাত (শব্দটি) লিখে রাখতাম। একদিন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নে দেখি—তিনি আমাকে বলছেন, ‘‘তোমার কী হলো যে, তুমি আমার প্রতি দরুদ পূর্ণ করছো না?’’ [ইমাম সুয়ুতি, তাদরিবুর রাবি: ২/৭৭]
ইমাম নববি (রাহ.) ও সুয়ুতি (রাহ.)-সহ অনেক আলিম নবিজির উপর দরুদের বাক্য সংক্ষেপে লেখা ‘মাকরুহ’ বলেছেন। [আত-তাকরিব মা‘আত তাদরিব ও তাদরিবুর রাবি]
কেউ যদি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম লিখে, তবে তার উচিত পরিপূর্ণভাবে দরুদ পেশ করা। তবে, কোনো কোনো আলিম থেকে জানা যায়, তাঁরা মনে করতেন, কেউ যদি নবিজির নাম লিখার পর দরুদ না লিখে বরং মুখে দরুদ পড়ে নেয়, তাহলেও তা যথেষ্ট হবে। এমন কাজ ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে প্রমাণিত রয়েছে। কিন্তু প্রাচীন আলিমগণ এমনটি করতেন না। বরং তাঁরা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম লিখলে, সাথে দরুদও লিখতেন (মুখ দিয়ে উচ্চারণও করতেন)। [ইমাম খতিব আল-বাগদাদি, আল-জামি’ লি-আখলাকির রাবি: ১/২৭১]
অতএব, আমরা অবশ্যই নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম শুনলে সাথে সাথে তাঁর উপর দরুদ পড়বো। পাশাপাশি তাঁর নাম লিখলেও দরুদ লিখবো এবং মুখে উচ্চারণ করবো। আর তাঁর নাম লিখার সময় কৃপণতা না করে পূর্ণরূপে লিখবো।
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন, ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবির প্রতি সালাত (দরুদ) প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি প্রচুর পরিমাণে সালাত (দরুদ) ও সালাম প্রেরণ করো।’’ [সুরা আহযাব, আয়াত: ৫৬]
নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশ কঠিন ভাষায় বলেছেন, ‘‘ওই ব্যক্তির নাক ধূলি-ধুসরিত হোক (অপদস্থ হোক), যার সামনে আমার আলোচনা করা হলো, অথচ সে আমার জন্য দরুদ পাঠ করলো না।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৫৪৫; হাদিসটি হাসান সহিহ]
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যত্র বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ্ তার প্রতি ১০ বার রহমত বর্ষণ করবেন, তার থেকে ১০ টি গুনাহ মুছে দেওয়া হবে এবং তার জন্য ১০ টি স্তর উন্নীত করা হবে।’’ [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ১২৯৭; হাদিসটি সহিহ]
মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া আল-কিরমানি (রাহ.) বর্ণনা করেন, একদিন আমরা আবু আলি ইবনু শাযানের দরসে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় অপরিচিত একটি ছেলে এসে ঢুকলো। সালাম দিয়ে সে বললো,
‘আপনাদের মধ্যে আবু আলি ইবনু শাযান কে?’ আমরা ইশারায় দেখিয়ে দিলাম আবু আলিকে।
ছেলেটা বললো, ‘শায়খ! আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নে দেখেছি। তিনি আমাকে বলেছেন, ‘‘আবু আলি ইবনু শাযানের খোঁজ করবে। তাকে খুঁজে পেলে আমার সালাম জানাবে।’’
এতটুকু বলে ছেলেটা চলে গেলো।
এটা শুনে আবু আলি তৎক্ষণাৎ কেঁদে দিলেন। তিনি বললেন, ‘আমি জানি না আমার এমন কোনো আমল আছে কি না, যার কারণে আমি এমন প্রতিদান পেতে পারি। তবে হ্যাঁ, হাদিস পড়ার ব্যাপারে আমি যে ধৈর্য ধরি আর বারবার নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম আসলেই তাঁর প্রতি দরুদ পড়ি, তার বদৌলতেই হয়তো।’
কিরমানি (রাহ.) বলেন, এই ঘটনার দুই বা তিন মাসের মাথায় আবু আলি ইবনু শাযান (রাহিমাহুল্লাহ) ইন্তিকাল করেন। [ইমাম খতিব আল বাগদাদি, তারিখু বাগদাদ: ৭/২৭৯-২৮০]
#দরুদ_সমাধানের_বারুদ (সপ্তম পর্ব)
আগের ৬ টি পর্বের লিংক কমেন্টে দেওয়া হলো। আগামী পর্বে সমাপ্ত হবে, ইনশাআল্লাহ। শেষ পর্বটিও মিস করবেন না। আল্লাহুম্মা সল্লি ‘আলা মু‘হাম্মাদ ওয়া ‘আলা আ-লি মুহাম্মাদ।
Nusus