'Primary Culture' প্রতিটি মানুষের প্রতি ক্ষেত্রে 'Basic Culture'। Civic Sen's কে জাগ্রত রাখতে প্রাইমারি কালচার মেনে চলুন।
Primary Culture Development Centre PCDC
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Primary Culture Development Centre PCDC, Education, PCDC, Pabna Road, Ishurdi, Pabna, Pabna.
08/07/2022
মতামত
প্যাঁচা কোনো অশুভ পাখি নয়
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২২, ১০:০২
https://www.ittefaq.com.bd/604828
প্যাঁচা কোনো অশুভ পাখি ন1
অত্যন্ত নিরীহ এই পাখিটিকে অশুভ ভাবার যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। পৃথিবী জুড়ে ১৭০ প্রজাতির প্যাঁচা দেখা গেলেও বাংলাদেশে রয়েছে ১৬ প্রজাতির। এর মধ্যে দেখতে আর্কষণীয় হলো লক্ষ্মী প্যাঁচা। এরা মাথা ঘুরিয়ে প্রায় পুরোপুরি পেছনেও তাকাতে পারে। প্যাঁচার ডাক শুনে অনেকেই একে অশুভর প্রতীক বলে ভাবেন। কোনো কোনো অঞ্চলে প্যাঁচা ডাকলে ঘরে ওঠার সিঁড়িতে জল ঢেলে দেওয়া হয়। এতে নাকি সব ধরনের অকল্যাণ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে দা, খুন্তি আগুনে গরম করা হয় প্যাঁচার গায়ে ছ্যাকা দেওয়ার জন্য।
দৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
প্যাঁচা দিনের আলো সহ্য করতে পারে না। তাই বড় বড় গাছের কোটরে, বন-জঙ্গল, দালানের ফাঁকফোকর কিংবা গাছগাছালির ঘনপাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে। নির্বিচারে বৃক্ষ উজাড়, ফসল আবাদ করতে জমিতে বিভিন্ন রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, অশুভ পাখি বলে মেরে ফেলাসহ বিভিন্ন কারণে প্রকৃতি থেকে প্যাঁচার সংখ্যা কমছে। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় শুভ ও সুন্দরের প্রতীকরূপে বারবার আবিভূর্ত হয়েছে বাংলার প্যাঁচা— ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে,/সবচেয়ে সুন্দর করুণ;/সে স্থানে লক্ষ্মীপ্যাঁচা/ধানের গন্ধের মতো অস্পষ্ট তরুণ’।
প্যাঁচা কৃষকের অনেক উপকার করে। প্যাঁচার প্রধান খাবার ইঁদুর। ইঁদুর রাতে বের হয়। যেখানে ইঁদুরের আনাগোনা সেখানে প্যাঁচারও আনাগোনা। খেতের ভেতর প্যাঁচা বসার উপযোগী ডাল, বাঁশ ইত্যাদি পুঁঁতে রাখলে এক রাতেই ১২-১৩টি ইঁদুর সাবাড়। একটি প্যাঁচা প্রত্যেক রাতে কমপক্ষে একটি ইঁদুর খায়, একটি ইঁদুর কমপক্ষে ১০ হাজার টাকার শস্য ধ্বংস করে। তাহলে একটি প্যাঁচা প্রতিবছর ১০ হাজার গুণ ৩৬৫= ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা রক্ষা করে। আর প্যাঁচাটি যদি কমপক্ষে ১০ বছর বাঁচে তাহলে কত টাকা রক্ষা করে। ভাবা যায়?
তাই প্যাঁচাকে রক্ষা করতে হবে। প্রকৃতিতে ওরা থাকুক। বংশ বৃদ্ধি করুক। যেটা সবার জন্য মঙ্গলকর।
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, মিরপুর, ঢাকা
প্যাঁচা কোনো অশুভ পাখি নয় অত্যন্ত নিরীহ এই পাখিটিকে অশুভ ভাবার যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। পৃথিবী জুড়ে ১৭০ প্রজাতির প্যাঁচা দেখা গেলেও বাং....
কলাম
মতামত
একটি পথ দেখানো রায় ও ফেসবুক নিয়ে ৩টি সুপারিশ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২২, ০৭: ৩০
‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর মধ্যে আমাদের দেশের মানুষের কাছে ফেসবুক ভীষণ জনপ্রিয়। মানুষে মানুষে যোগাযোগের অনন্য মাধ্যম ফেসবুক। মানুষ ফেসবুকের মাধ্যমে মুহূর্তে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছে, প্রতিনিয়ত দেশ–বিদেশি নানা খবরাখবর পাচ্ছে এবং নিজেকে আপডেটেড রাখতে পারছে। ফেসবুকে মানুষ তাদের আনন্দ, বেদনা, কষ্ট, ভালো লাগা, মন্দ লাগা শেয়ার করছে। নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে প্রতিদিন তরুণেরা এগিয়ে আসছেন, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে, ব্যবসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। কবিতা, গান, ফটোগ্রাফি, সিনেমাসহ নানা ক্ষেত্রে মানুষ নিজেকে সৃষ্টিশীল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার সুযোগ পাচ্ছে। প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষও এখন ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার ব্যবহার করছে।
নেপোলিয়নক্যাটের হিসাবমতে, জানুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহার করে ৫ কোটি ২৭ লাখ ১৩ হাজার ৯০০ মানুষ, যা আমাদের মোট জনসংখ্যার ৩০ দশমিক ৩ শতাংশ। দিন দিন ফেসবুক, মেসেঞ্জার আরও শক্তিশালী ও প্রভাবশালী মাধ্যম হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে। ব্যবসার সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতার জায়গা রয়ে যায়। ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর ভালো দিকগুলোর সঙ্গে কিছু নেতিবাচক দিকও উন্মোচিত হচ্ছে। রামু কক্সবাজার, নাছিরনগর সিলেট, বোরহানউদ্দীন ভোলাতে ফেসবুককেন্দ্রিক প্রকাশিত ও প্রচারিত কনটেন্টকে কেন্দ্র করে ঘৃণা, বিদ্বেষে রক্ত ঝরেছে, মুহূর্তে আগুনে জ্বলেছে শত শত ঘরবাড়ি, তাণ্ডবে গৃহহীন হয়েছে বহু মানুষ।
কিছু দুষ্ট মানুষের অশুভ কর্মকাণ্ডে বহু নারীর জীবন দুর্বিষহ হয়েছে, হচ্ছে। তাদের ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও এই মাধ্যমে বিকৃত বা অপমানজনকভাবে প্রচার, প্রকাশ করা হয়েছে। আমাদের সমাজ, মানুষের বিশ্বাস, মূল্যবোধ, ধর্মীয় বোধ ও সংস্কৃতি, পারস্পরিক সম্পর্ক, সামাজিক রীতিনীতি উন্নত দেশের মতো করে একই নীতিতে মূল্যায়ন বাস্তবসম্মত নয়। তাই আমাদের সামাজিক ব্যবস্থা বিবেচনায় ফেসবুককে ‘পলিসি’ নিতে হবে।
কোনো সাইবার ক্রাইম হলে দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তা একত্রে উন্মোচন, উদ্ঘাটন, দমন ও শাস্তি আরোপে পরস্পর নিবিড়ভাবে ফেসবুকের সহযোগিতা কাম্য। ফেসবুকের বহু ভালো দিকের পাশাপাশি এখনো কিছু জায়গা আছে, যা আরও সুরক্ষিত ও উন্নত হতে পারে। ব্যবসার পাশাপাশি সাইবার স্পেসকে আরও নিরাপদ রাখতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের দায়বোধের জায়গাও রয়ে গেছে।’
এই চমৎকার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জিয়াউর রহমান গত মঙ্গলবার একটি রায় দিয়েছেন। এক কিশোরীর এডিট করা নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করার মামলায় এই বিচারক আসামিকে আট বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও আট লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। রায়ে বিচারক পথ দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এসব ঘটনার ক্ষেত্রে আরও নিরাপদ থাকতে পারেন।
সার্বিক বিবেচনায় বিচারক গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সুপারিশ করেছেন। এক. ‘ফেক আইডি’ হলো সাইবার অপরাধের সূতিকাগার। একই ব্যক্তি নামে–বেনামে একাধিক আইডি খোলার ‘অপসন’ চালু রাখা সাইবার নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাই ফেক আইডি প্রতিরোধে ফেসবুকের পক্ষ থেকে কার্যকর ভূমিকা কাম্য।
দুই. ফেসবুকে পোস্ট করা কোনো নারী ও শিশুর ছবি বা ভিডিও যাতে অনুমতি ছাড়া কেউ ডাউনলোড করতে না পারে, এমন সিকিউরিটি থাকতে হবে। নারী ও শিশুর ছবি বা ভিডিও বিকৃত করে কেউ যেন ফেসবুক বা মেসেঞ্জারে প্রকাশ ও প্রচার করতে না পারে বা অভব্য কমেন্ট বা শেয়ার না করতে পারে, সে জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর নিরাপত্তা ফিচার জোরদার জরুরি।
‘আমাদের সমাজবাস্তবতায় যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে “ভিকটিম ব্লেমিং” বা ভুক্তাভোগী নারীকেই বেশি দায়ী করা হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি অপরাধকে খাটো করে দেখে, অপরাধীকে আড়াল করে রাখে এবং অপরাধকে উসকে দেয়। সামাজিকভাবে ভিকটিম একঘরে হয়ে পড়ে।’
তিন. কারও ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে, এমন কোনো কনটেন্ট প্রকাশ ও প্রচারের ক্ষেত্রে যথাসম্ভব দ্রুত উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনে সেরূপ কনটেন্ট প্রকাশ ও প্রচারে বাধা দেওয়া এবং তা দ্রুত অন্তর্জাল থেকে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। সাইবার ওয়ার্ল্ডকে অস্বীকার করা যাবে না। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম একটি বাস্তবতা। এটা দিনে দিনে আরও বৈচিত্র্যময় হবে। তাই নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর সাইবার স্পেসের জন্য শিক্ষা, সচেতনতা, প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। সাইবার বুলিং প্রতিরোধে ফেসবুকের কাছে আরও কার্যকর ভূমিকা কাম্য। কোনটি বুলিং, কোনটি বুলিং নয়—এমন শিক্ষণীয় কনটেন্ট ফেসবুক প্রকাশ ও প্রচার করতে পারে। পাশাপাশি সিস্টেমে ‘আমি বুলিং করি না’ এমন ‘সেল্ফ ডিক্লারেসন জেনারেট’ করা উচিত, যা প্রত্যেক ব্যবহারকারী প্রতি ছয় মাস বা নির্ধারিত সময় পরপর করতে বাধ্য থাকবে, যা তাকে যত্নবান দায়িত্বশীলের মতো সুরক্ষা দেবে। ফেসবুকের উচিত নিরাপদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কীভাবে করতে হয়, অন্তর্জালে কোনটা করা যায় আর কোনটা যায় না, কমেন্ট বা শেয়ার বা ট্যাগ কীভাবে আরও নিরাপদ করা যায়, তা সহজ ভাষায় সহজভাবে শিক্ষণীয় কনটেন্ট আকারে প্রকাশ ও প্রচার করা, যাতে ব্যবহারকারীরা দায়িত্বশীল নেটিজেন হতে পারেন।
রায়ে বিচারক আরও বলেছেন, ‘আমাদের সমাজবাস্তবতায় যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে “ভিকটিম ব্লেমিং” বা ভুক্তাভোগী নারীকেই বেশি দায়ী করা হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি অপরাধকে খাটো করে দেখে, অপরাধীকে আড়াল করে রাখে এবং অপরাধকে উসকে দেয়। সামাজিকভাবে ভিকটিম একঘরে হয়ে পড়ে।’ তিনি আদালতের কার্যধারায় ভিকটিমের ‘কল্পনাম’ ব্যবহার করেছেন। মানুষ হিসেবে নারীর প্রতি সমাজের প্রকৃত সম্মানবোধের অভাব যৌন অপরাধের অন্যতম একটি কারণ বলে মতামত দিয়েছেন তিনি।
যখন ক্রমাগত সাইবার অপরাধ বাড়ছে, হেনস্তার শিকার হচ্ছে নারী ও তার পরিবার। সে সময় এ রায় আমাদের পথ দেখায়।
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ: প্রথম আলোর সাংবাদিক
ভর্তি
এবার সেই কলেজ থেকে বুয়েটে ভর্তির সুযোগ পেলেন ১৬ জন
প্রতিনিধিসৈয়দপুর, নীলফামারী
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২২, ০০: ৫৫
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে চলতি বছর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন ১৬ জন শিক্ষার্থী। আর ওই প্রতিষ্ঠানটি হলো নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ। এর আগে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৩৯ জন শিক্ষার্থী একই সঙ্গে মেডিকেল কলেজে ভর্তি সুযোগ পেয়েছিলেন।
গত ৩০ জুন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা যায়, সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে মেধা তালিকায় পঞ্চম স্থানসহ ১৬ শিক্ষার্থী বুয়েটে ভর্তি সুযোগ পেয়েছেন। এঁদের মধ্যে ছেলে ১৫ জন ছেলে ও মেয়ে একজন।
বুয়েটে ভর্তি সুযোগ পাওয়া এই কলেজের শিক্ষার্থী ইমন ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়। তিনি বলেন, তাঁর স্বপ্ন ছিল বুয়েটে পড়ার। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ে তাঁর সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তিনি কলেজের হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করেছেন। তাঁর বাড়ি রংপুর সদর উপজেলার হরিদেবপুর ইউনিয়নের কিসামত হরকলি গ্রামে। বাবা আলমগীর হোসেন পেশায় একজন ব্যবসায়ী। এর আগে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তবে ভর্তির সুযোগ মেলেনি।
ইমন বলেন, এইচএসসিতে দুই বছর ভালোভাবে পড়াশোনা করলে কাঙ্ক্ষিত স্থানে ভর্তির সুযোগ পাওয়া সম্ভব।
এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২০২১ সালে ৪০ জন, ২০২০ সালে ৪০ জন, ২০১৯ সালে ৩৬ জন ও ২০১৮ সালে ৩৮ জন শিক্ষার্থী মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পান।
১৬ শিক্ষার্থীর এক সঙ্গে বুয়েটে ভর্তির সুযোগ পাওয়া প্রসঙ্গে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম আহমেদ ফারুক বলেন, ‘এটি (সরকারি বিজ্ঞান কলেজ) সৈয়দপুর তথা এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীনতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রয়েছে সুশৃঙ্খল পরিবেশ, পাঠদানে শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং কঠোর তদারকি। ফলে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিবছর আশানুরূপ ফল করছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রাখছেন। এ বছর এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৯ জন মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এবার ১৬ শিক্ষার্থী বুয়েটে সুযোগ পেলেন। শিক্ষার্থীদের এই অর্জনে আমরা গর্বিত।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৬৪ সালে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল সৈয়দপুর সরকারি কারিগরি স্কুল। পরে ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি কলেজে উন্নীত করা হয়। সে সময় সৈয়দপুর সরকারি কারিগরি বিজ্ঞান মহাবিদ্যালয় নামকরণ করা হয়। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠানটির নাম সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ করা হয়।এবার সেই কলেজ থেকে বুয়েটে ভর্তির সুযোগ পেলেন ১৬ জন
সূত্র জানায়, চলতি বছর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় (এইচএসসি) মোট ২৬৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৬৫ জন। এঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৪৯ জন। এর মধ্যে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৩৯ জন শিক্ষার্থী পেয়েছেন বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি সুযোগ। আর এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২০২১ সালে ৪০ জন, ২০২০ সালে ৪০ জন, ২০১৯ সালে ৩৬ জন ও ২০১৮ সালে ৩৮ জন শিক্ষার্থী মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পান। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অন্য শিক্ষার্থীরা বুয়েট, চুয়েট, রুয়েট ছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি গত ১৪ মার্চ সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ পরিদর্শনে আসেন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
https://www.prothomalo.com/education/admission/%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%87-%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9C-%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A7%87-%E0%A6%AD%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%97-%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A7%A7%E0%A7%AC-%E0%A6%9C%E0%A6%A8
01/07/2022
কলাম
মতামত
প্রথম উর্দু সংবাদপত্রের দ্বিশতবর্ষের অনুষ্ঠানে নানা প্রশ্ন
শুভজিৎ বাগচী
------------------
যে ভাষার প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশের প্রধান ভূমিকা দুই হিন্দু এবং এক খ্রিষ্টানের, সেই ভাষা নাকি এক বিশেষ সমাজের
যে ভাষার প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশের প্রধান ভূমিকা দুই হিন্দু এবং এক খ্রিষ্টানের, সেই ভাষা নাকি এক বিশেষ সমাজেরছবি : সংগৃহীত
ঠিক ২০০ বছর আগে, ১৮২২-এর গ্রীষ্মে, কলকাতায় প্রকাশিত হয়েছিল উপমহাদেশের তো বটেই, সম্ভবত বিশ্বের প্রথম উর্দু সংবাদপত্র জাম-ই-জাহাঁন নুমা (জগতের আয়না)। আরবি ও ফারসি শিক্ষার বহু শতাব্দী প্রাচীন ধারাতেই উর্দু পৌঁছেছিল বাঙালির দরবারে। সেই ভাষা-সমাজের গল্প তুলে ধরতে সচেষ্ট হয়েছিলেন যাঁরা, তাঁদের কেউ-ই মুসলমান ছিলেন না। সম্পাদক ছিলেন লালা সদা শুখলাল, প্রকাশক হরিহর দত্ত। দক্ষিণ এশিয়ার বিশিষ্ট আরবি, ফারসি ও উর্দু পণ্ডিতদের বড় অংশ এই কারণেই কাজ করেছে কলকাতায়। জাম-ই-জাহাঁন নুমার মুদ্রক ছিলেন খ্রিষ্টান, উইলিয়াম হপিন্স। এসব তথ্যই সম্প্রতি উঠে এল কলকাতার সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উর্দু একাডেমির তিন দিনের অনুষ্ঠানে, যেখানে জড়ো হয়েছিলেন দেশ-বিদেশের উর্দু বিশেষজ্ঞরা জাম-ই-জাহাঁন নুমার দ্বিশতবর্ষ উদ্যাপনে।
ব্রিটিশরা ১৭৭২ সালে কলকাতায় রাজধানী স্থাপন করে এবং প্রায় দেড় শ বছর সেখানেই ছিল ইউরোপীয়দের রাজধানী। আর যা বর্তমানের কলকাতায় খুব একটা হয় না, তা হতো সেই সময়ে। অর্থাৎ, বহু ভাষার চর্চা। এর পেছনে ইউরোপীয়দের অর্থ, পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক সাহায্য ছিল, যা আজ নেই।
জাম-ই-জাহাঁন নুমার দ্বিশতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানের গোড়াতেই উদ্বোধনী ভাষণে উর্দু ভাষার বিশেষজ্ঞ এবং দিল্লির জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজের প্রফেসর ইমেরিটাস আক্তারুল ওয়াসি বলেন, ‘আমি ভাবি ইংরেজি, বাংলার প্রসঙ্গে তো বটেই, কিন্তু অন্য ভাষার চর্চাতেও কি ভাগ্যবান এই শহর, যেখানে একাধিক ভাষার চর্চা হয়েছে। ফারসির কথাই যদি বলি, তবে দেখা যাবে শুধু উর্দু সংবাদপত্র নয়, প্রথম ফারসি সংবাদপত্র মিরাত-উল-আখবার প্রকাশ করেছিলেন আর কেউ নন, স্বয়ং রাজা রামমোহন রায়।’
অথচ আজ বারবার বলা হচ্ছে, উর্দু নাকি মুসলমানের ভাষা। মুসলমানের দুর্ভাগ্য হলো, যা জোর দিয়ে বলা হয়, তা-ই বিশ্বাস করে। যে ভাষার প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশের প্রধান ভূমিকা দুই হিন্দু এবং এক খ্রিষ্টানের, সেই ভাষা নাকি এক বিশেষ সমাজের, এক বিশেষ সম্প্রদায়ের। আজ বলতে হচ্ছে, ভাষার কোনো ধর্ম হয় না, বরং ধর্মেরই ভাষাকে প্রয়োজন হয় বক্তব্য ছড়ানোর জন্য।
জাম-ই-জাহাঁন নুমার প্রসঙ্গে শান্তিরঞ্জনের পুত্র ও উর্দু ভাষাবিদ হারাধন ভট্টাচার্য বলেন, ‘১৮২২ সালের ৪ মার্চ কলকাতার কলুটোলা নিবাসী হরিহর দত্ত রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করেন তারপরে ওই মাসের ২৭ তারিখে ইতিহাস সৃষ্টি করে প্রকাশিত হয় উর্দু ভাষার প্রথম সংবাদপত্র। প্রতি বুধবার সাপ্তাহিকটি প্রকাশিত হতো। অর্থাৎ মাসে চারবার। দাম ধার্য হয়েছিল মাসে মোট দু’টাকা। কাগজের মাপ ছিল ২০ ইঞ্চি বাই ৩০ ইঞ্চি।’
তিন দিনের আলোচনায় এ বিষয়টিই বারবার ফিরে এসেছে। কেন উর্দুকে মুসলমান সমাজের ভাষা বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে, বিশেষ করে উত্তর ভারতে? অসংখ্য হিন্দু লেখক, কবি, সাহিত্যিক, অনুবাদক উর্দু নিয়ে কাজ করেছেন, উর্দুতে লিখেছেন। এমনকি হিন্দুদের বিভিন্ন ধর্মীয় বই যেমন রামায়ণ, মহাভারত, গীতা প্রভৃতি উত্তর প্রদেশসহ গোটা উত্তর ভারতে বহু বছর ধরে উর্দুতে অনূদিত হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে।
উর্দুকে দূরে ঠেলে দেওয়ার জন্য ভারতে বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির পাশাপাশি কংগ্রেসের দায়ও কম নয়। ভারতের যে ‘সিনক্রেটিক’ (মিশ্র) সংস্কৃতি, কংগ্রেস আমলে তা তুলে ধরার কোনো চেষ্টাই হয়নি। ভারতের স্বাধীনতার পর ১৯৪৮ সালে প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়। ভারতবর্ষে শিক্ষা কীভাবে পরিচালিত হবে তার দিকনির্দেশনা দিতেই এক সদস্যের এই কমিশন গঠিত হয়েছিল। সেই সদস্য ছিলেন ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি এবং প্রথম উপরাষ্ট্রপতি ড. সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণন। তিনি বলেছিলেন, স্নাতক স্তরের নিচে পাঠ্যক্রমে অবশ্যই বিশ্ব ধর্ম (ওয়ার্ল্ড রিলিজিয়ন) পড়ানোর ব্যবস্থা করা উচিত। ভারতের মিশ্র সংস্কৃতির পাশাপাশি হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিবাদের ইতিহাসও রয়েছে। তবে সেই বিবাদ একসঙ্গে মিলেমিশে থাকার মিশ্র সংস্কৃতির তুলনায় সামান্যই। যে কারণে পশ্চিমবঙ্গের মন্দিরে ইসলামিক স্থাপত্য এবং মসজিদে দেবদেবীর মূর্তির কাঠামো দেয়ালে পাওয়া যায়। কিন্তু পরস্পরের ধর্ম এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা তৈরি না হলে পরবর্তী সময়ের বিবাদের ইতিহাসই মূল ইতিহাস হয়ে ওঠে, যা এখন হচ্ছে।
মুদ্দাসার আহমেদ নামে হুগলি জেলার এক স্কুলশিক্ষক বলেন, এসবই তো স্কুল সিলেবাসে থাকার প্রয়োজন ছিল, যে সুপারিশ করা হয়েছিল কমিশনের রিপোর্টে। বলার প্রয়োজন ছিল, প্রথম উর্দু সংবাদপত্রের প্রকাশক ও সম্পাদক দুজনেই মুসলমান ছিলেন না, ছিলেন হিন্দু। ওই শিক্ষকের প্রশ্ন, ‘তবে কি বাংলাকেও একদিন মুসলমানের ভাষা বলা হবে, যেহেতু এই ভাষা যাঁরা বলেন, তাঁদের ৭০ শতাংশ মুসলমান সম্প্রদায়ের?’
স্বাধীনতার পরবর্তী পর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গে এমন অসংখ্য উর্দু লেখক, সাহিত্যিক, ভাষাবিদ কাজ করেছেন, যাঁরা ভারতে তো বটেই, গোটা বিশ্বেই স্বনামখ্যাত। তাঁদের অন্যতম শান্তিরঞ্জন ভট্টাচার্য। স্বাধীনতার পরবর্তী পর্যায়ে ভারতে এবং পশ্চিমবঙ্গে উর্দুর প্রচার এবং প্রসারে কেন্দ্রীয় সরকারের সংবাদ বিভাগের অফিসার শান্তিরঞ্জন ভট্টাচার্যের ভূমিকা অনস্বীকার্য। একদিকে, সাতের দশকে কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায় এবং পরবর্তীকালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে, রাজ্য সরকারের সঙ্গে সহযোগিতায় এবং ভাষাবিদ সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে উর্দু একাডেমি গড়ে তোলা থেকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় অল ইন্ডিয়া রেডিওর উর্দু সংবাদ চালু করার ক্ষেত্রে শান্তিরঞ্জনের ভূমিকার তিনি নানা সরকারি সম্মান পেয়েছেন। ভারতের বার্তা পাকিস্তানের বাঙালিদের কাছে পৌঁছাতে অল ইন্ডিয়া রেডিওর উর্দু খবরের বিশেষ ভূমিকা ছিল। এ ছাড়া শান্তিরঞ্জনের বই ‘বাঙালি হিন্দুয়ো কি উর্দু খিদমত’ (উর্দুর সেবায় বাঙালি হিন্দু) তাঁকে রবীন্দ্র পুরস্কার এনে দিয়েছিল, তাঁকে চিঠি পাঠিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন খাইবার পাখতুনের (অতীতে নর্থ ওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার প্রভিন্স) স্বাধীনতা সংগ্রামী খান আবদুল গফফর খান থেকে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি জাকির হোসেন।
জাম-ই-জাহাঁন নুমার প্রসঙ্গে শান্তিরঞ্জনের পুত্র ও উর্দু ভাষাবিদ হারাধন ভট্টাচার্য বলেন, ‘১৮২২ সালের ৪ মার্চ কলকাতার কলুটোলা নিবাসী হরিহর দত্ত রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করেন তারপরে ওই মাসের ২৭ তারিখে ইতিহাস সৃষ্টি করে প্রকাশিত হয় উর্দু ভাষার প্রথম সংবাদপত্র। প্রতি বুধবার সাপ্তাহিকটি প্রকাশিত হতো। অর্থাৎ মাসে চারবার। দাম ধার্য হয়েছিল মাসে মোট দু’টাকা। কাগজের মাপ ছিল ২০ ইঞ্চি বাই ৩০ ইঞ্চি।’ হারাধন ভট্টাচার্য্য বলেন ব্রিটিশবিরোধী গণ-আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে মৌলানা আবুল কালাম আজাদের উর্দু পত্রিকা অল-হিলালের কথা। তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ সরকারের বিরোধিতার জন্য তাঁর কাগজ ১৯১৪ সালে বন্ধ হয়ে যায় এবং ২ হাজার টাকা জরিমানাও হয়। ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামের আরও এক নায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আজাদ হিন্দ বাহিনীতে উর্দু সংবাদপত্র রাখতেন এবং তার মাধ্যমে তিনি প্রচারও করতেন।’
কিছুটা এই সুরেই তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ এবং ভারতের সাবেক সংস্কৃতিসচিব জহর সরকার বলেন, ‘মুসলমান সমাজকে তাদের দেশপ্রেমের প্রমাণ দিতে হচ্ছে। অথচ ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে আন্দামানে ১৮৫৭ সালের লড়াইয়ের পর যাদের পাঠানো হয়েছিল, তাদের ৬০ শতাংশ ছিল মুসলমান সমাজের। এখন প্রশ্ন করা হচ্ছে, তাদের দেশপ্রেম নিয়ে।’ ‘এই ভাষা আবার নতুন করে মানুষকে মানুষের সঙ্গে জুড়বে, ধর্ম এবং বিভাজনের বাইরে গিয়ে’, বলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য নাদিমুল হক। যিনি উর্দু একাডেমির ভাইস চেয়ারম্যানও বটে।
‘উর্দু একাডেমির শতবর্ষ উপলক্ষে এই ভাষা-সংস্কৃতিসহ পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উর্দু একাডেমির অন্যতম প্রধান কাজ হবে’, বলেন নাদিমুল হক। সেই লক্ষ্যে বিশ্বের উর্দুপণ্ডিতদের দিয়ে ভাষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক একটি বই প্রকাশ করার কথাও ভাবছে পশ্চিমবঙ্গের উর্দু একাডেমি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে কলকাতার সাধারণ মানুষ তিন দিনের এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অংশ নেয়নি, রাজ্যের পত্র-পত্রিকাতেও কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গের ভাষা-সংস্কৃতির এই বিস্তৃত ঐতিহ্য নিয়েও খুব একটা লেখালেখিও চোখে পড়েনি।
শুভজিৎ বাগচী প্রথম আলোর কলকাতা সংবাদদাতা।
প্রথম উর্দু সংবাদপত্রের দ্বিশতবর্ষের অনুষ্ঠানে নানা প্রশ্ন অথচ আজ বারবার বলা হচ্ছে, উর্দু নাকি মুসলমানের ভাষা। মুসলমানের দুর্ভাগ্য হলো, যা জোর দিয়ে বলা হয়, তা-ই বিশ্বাস করে। য...
01/07/2022
বাংলাদেশ
ধর্মীয় উগ্রবাদ
সামাজিক মাধ্যমে উগ্রবাদ প্রচার, বিভ্রান্ত মানুষ
দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দেশে উগ্রবাদী বক্তব্যের পাঠক-শ্রোতা-দর্শক ক্রমশ বাড়ছে। মানুষ না জেনে, না বুঝে সামাজিক মাধ্যমে এসব তথ্য শেয়ার করছে।
গত বছর ১০টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১০৫৩টি চ্যানেলে উগ্রবাদী তথ্য প্রচার
এসব চ্যানেলের গ্রাহক এখন ১ কোটি ১১ লাখ
জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম বেশির ভাগ চ্যানেল চালাচ্ছে
শেখ সাবিহা আলমঢাকা
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২২, ২৩: ০৫
সামাজিক মাধ্যমে উগ্রবাদ প্রচার, বিভ্রান্ত মানুষ
বাংলাদেশে উগ্রবাদী বক্তব্যের পাঠক-শ্রোতা-দর্শক ক্রমশ বাড়ছে। তরুণদের একটি বড় বাঙালি বা বাংলাদেশি পরিচয়ের চেয়ে ধর্মীয় পরিচয়ে পরিচিত হতে স্বচ্ছন্দ বোধ করছে বেশি। এতে সামাজিক অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। বাঙালির উদার ও অসাম্প্রদায়িক চরিত্র মুছে যাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশে কর্মরত দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থার পর্যবেক্ষণে এসব কথা বলা হয়েছে। তারা ঘনিষ্ঠভাবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে থাকে। স্পর্শকাতর তথ্য বিবেচনায় সংস্থা দুটি নাম প্রকাশ করতে চায়নি।
উগ্র মতাদর্শের প্রচার কতটা বেড়েছে, প্রতিবেদনের তথ্যে তার কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। এতে বলা হয়, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১ হাজার ৫৩টি চ্যানেল ব্যবহার করে উগ্রবাদী তথ্য প্রচার করা হয়েছে। এসব চ্যানেলের গ্রাহক এখন ১ কোটি ১১ লাখ।
উগ্রবাদী এসব চ্যানেলে প্রচারিত ৫৮৪টি পোস্টে ২৯ লাখ মানুষ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চ্যানেলের সংখ্যা ছিল ৯১৩টি, গ্রাহক ছিল ১ কোটি ৪ লাখ। এসব চ্যানেলের বেশির ভাগ চালাচ্ছে আল-কায়েদার অনুসারী জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম। মানুষ কখনো কখনো না জেনে, না বুঝে এসব চ্যানেলের তথ্য শেয়ার করছে।
আরও পড়ুন
এমন বিয়োগান্ত ঘটনা যেন আর না হয়
ইতো নাওকি
পর্যবেক্ষকেরা মনে করেন, দুর্গাপূজার সময় পূজামণ্ডপে হামলা, শিক্ষার্থীদের হাতে মুন্সিগঞ্জে বিজ্ঞানশিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে হেনস্তা, ঢাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষিকাকে টিপ নিয়ে পুলিশ সদস্যের কটূক্তি ও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিপ নিয়ে অপপ্রচার, নরসিংদীতে পছন্দমতো পোশাক পরায় নারীকে মারধর, নড়াইলে কলেজশিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসকে লাঞ্ছনা—এই সবই এক সুতায় গাঁথা। এর পেছনে অসহিষ্ণুতা ও উগ্র মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহাব এনাম খান প্রথম আলোকে বলেন, অসহিষ্ণুতা ও ধর্মীয়, রাজনৈতিক উগ্রবাদ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এর থেকে মুক্তি পেতে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন দরকার। সমাজ থেকে এই সংস্কারের সূত্রপাত হতে হবে। ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া সংস্কারে কাজ হবে না।
পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি এখন কেবল অনলাইনকেন্দ্রিক। তবে তরুণেরা এখন সচেতন। অপপ্রচার চালানোর পরও জঙ্গিগোষ্ঠীতে তারা যুক্ত হচ্ছে না, সহিংসতায় জড়াচ্ছে না। দেশজুড়ে সিটিটিসির চালানো সচেতনতামূলক কার্যক্রমের একটা প্রভাব পড়ছে।
প্রচারের বিষয়, প্রেক্ষাপট
প্রতিবেদনে বলা হয়, উগ্রবাদী এসব চ্যানেলে আলোচনার বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের খবর, ভারত ও হিন্দু জনগোষ্ঠী, কাশ্মীর পরিস্থিতি, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা, নারীবাদ, জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকারবিরোধী প্রচার।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দুর্গাপূজা সামনে রেখে ভারত ও হিন্দু জনগোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ আলোচনা বেড়েছে।
আরও পড়ুন
পেপারবুক প্রস্তুত, অপেক্ষা শুনানির
হোলি আর্টিজানে ২ জুলাই সকালে অভিযান শেষ করার পর সেনাবাহিনীর অবস্থান
সামাজিক মাধ্যমে উগ্রবাদ প্রচার, বিভ্রান্ত মানুষ
উগ্রবাদী চ্যানেল থেকে এ সময় যত আধার প্রচারিত হয়েছে, তার ৬০ ভাগই ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে। অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি দেশ ও দেশের বাইরের মুসলমানদের উসকে দিতে এই সময়কে বেছে নেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদনে মাঠের পরিস্থিতি ও অনলাইনে উগ্রবাদীদের তৎপরতার একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়। যেমন গত বছরের ১৩-১৭ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন জেলায় পূজামণ্ডপে ভাঙচুর চালানো হয়। ঠিক ওই সময়ে অনলাইনে হিন্দুবিদ্বেষী বার্তার সংখ্যা শীর্ষে পৌঁছায়। টানা পাঁচ দিন ধরে চলা সহিংসতার জন্য হিন্দুরাই দায়ী—অনলাইনে এমন অপপ্রচার ছড়ানো হয়।
এর কয়েক দিন পর গত বছরের ২২ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে আয়োজিত কনসার্টে ‘মেঘদল’-এর জনপ্রিয় একটি গানে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলে প্রচার চালানো হয়। মেঘদলকে ইসলাম অবমাননার জন্য দায়ী করে পোস্ট করা হতে থাকে। পোস্টগুলোতে গানের মাধ্যমে মুসলমানদের নির্যাতন করা হচ্ছে—এমন একটা দৃশ্যপট তৈরির চেষ্টা হয়।
গত বছরের ১১ ও ২৮ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১৫ জন নিহত হন। ৩০ নভেম্বর আনসার আল ইসলাম পরিচালিত একটি চ্যানেলের ভিডিও বার্তায় বলা হয়, গণতন্ত্র মুসলমানদের দাসত্বের শৃঙ্খলে বাঁধার একটি মাধ্যম। একইভাবে বুয়েটের আবরার হত্যার রায় ঘোষণা ও অভিজিৎ রায়ের হত্যা সম্পর্কে তথ্য চেয়ে ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঘোষণা নিয়ে আনসার আল ইসলাম নিজস্ব মত প্রকাশ করে।
আরও পড়ুন
ভয়াবহ জঙ্গি হামলার সেই দিন আজ
২০১৬ সালের ১ জুলাই হোলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়
প্রতিবেদনে বলা হয়, উগ্রবাদ বা জঙ্গিবাদকে উসকে দেয়, এমন চ্যানেলগুলো সম্পর্কে সাধারণ মানুষ জানতে পারছে না। অনেকে না বুঝে এসব চ্যানেলে প্রচারিত তথ্যে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন বা শেয়ার করছেন।
যেমন তামিম আল আদনানী ‘অভিশপ্ত নারীবাদের ধূর্ত ফেরিওয়ালা’ শিরোনামে নারীবিদ্বেষী বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করেন। এসব ভিডিওতে নারীশিক্ষা, নারীর স্বাধীনতা, নারী-পুরুষ সমতার পক্ষে আছে এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কথা বলেন তিনি। অনেকের মতো তাঁর এই ভিডিও শেয়ার করেছে পুরুষ অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম নামের একটি প্ল্যাটফর্ম।
সিটিটিসি সূত্র বলছে, তামিম আল আদনানী এই মুহূর্তে আনসার আল ইসলামের অন্যতম বক্তা। কয়েক বছর ধরে তিনি আত্মগোপনে।
বাঙালির উদার ও অসাম্প্রদায়িক চরিত্র ঝুঁকিতে
‘আইডেনটিটি, আইডেনটিটি পলিটিকস অ্যান্ড ইলেকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি গবেষণা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার। ২০১৮ সালের মধ্য জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই গবেষণায় বলা হয়, লিঙ্গ, সামাজিক ও ভৌগোলিক অবস্থান, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ধর্মভেদে সিংহভাগ তরুণ-তরুণী বলেছেন, তাঁরা ধর্মীয় পরিচয়ে পরিচিত হতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন।
গবেষণায় ঢাকা মহানগর, রংপুর ও বরিশাল সিটি করপোরেশন, নীলফামারী ও ঝালকাঠি জেলা, কক্সবাজার ও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা, রাজশাহীর পবা উপজেলা, যশোরের মনিরামপুর উপজেলার খেদাপুরি ইউনিয়ন, নেত্রকোনার কাইলাতি, মৌলভীবাজারের পূর্ব ও পশ্চিম জুড়ি, জাফরনগরের নারী-পুরুষেরা অংশ নেন। গবেষণায় অংশ নেওয়া ২০৮ ব্যক্তির মধ্যে ১৪৫ জনই ধর্মীয় পরিচয়কে এক নম্বরে রেখেছেন।
শান্তনু মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, মানুষ বহুপরিচয়ের। একটিমাত্র পরিচয় দিয়ে নিজেকে বা নিজেদের পরিচিতি করানো ঝোঁক দেখা দিলে সমাজে অবধারিতভাবে ‘আমরা’ ও ‘তারা’ দুটি পক্ষ তৈরি হয়। ধর্মের ভিত্তিতে দুটি পক্ষ হওয়ায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং ভিন্ন ধারার মানুষ কোণঠাসা হয়ে যাচ্ছে।
শান্তনু মজুমদার আরও বলেন, এই উপমহাদেশে ঘৃণা সৃষ্টিকারীদের আরেকটি কৌশল হচ্ছে ধর্মীয় সংখ্যাগুরুর মনে লাঞ্ছিত-বঞ্চিত-অপমানিত হওয়ার কতগুলো ভিত্তিহীন ক্ষোভ চাগিয়ে তোলা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবিধা নিয়ে এই অপশক্তি এই অপপ্রচারটিই চালিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
বিশেষ সংবাদজঙ্গি হামলাজঙ্গিবাদগুলশানে হামলাসামাজিক যোগাযোগ
সামাজিক মাধ্যমে উগ্রবাদ প্রচার, বিভ্রান্ত মানুষ বাংলাদেশে উগ্রবাদী বক্তব্যের পাঠক-শ্রোতা-দর্শক ক্রমশ বাড়ছে। তরুণদের একটি বড় বাঙালি বা বাংলাদেশি পরিচয়ের চেয়ে .....
01/07/2022
রাজনীতি
শিক্ষক হত্যা ও নিগ্রহ চরম অসভ্যতা ও জাতীয় লজ্জা: পরিকল্পনামন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদকঢাকা
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২২, ০৬: ১৮
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ফাইল ছবি
সাভারের আশুলিয়ায় শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা এবং নড়াইলে এক শিক্ষকের গলায় জুতার মালা পরানোকে অসভ্যতা ও জাতীয় লজ্জা বলেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেছেন, ‘ষাটের দশকে এসব ঘটনা চিন্তাও করা যেত না। এখন দিনদুপুরে কিশোর, তরুণেরা দা, লাঠি, রামদা, টেঁটা, বন্দুক হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটি চরম অসভ্যতা, অভব্যতা ও লজ্জার। এসব ঘটনা আমাদের মাথা হেট করে দেয়।’
আজ শুক্রবার রাজধানীর এফডিসিতে আয়োজিত বাজেট নিয়ে এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘এবারের বাজেট টেকসই উন্নয়নে সহায়ক’ শিরোনামে ছায়া সংসদে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
গত ২৫ জুন সাভারের আশুলিয়ায় হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল আহসান জিতু ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে কলেজ শাখার শিক্ষক উৎপল কুমারের মাথায় আঘাত করে। এ ঘটনার এক দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শিক্ষক উৎপল কুমার। পরে শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী জিতুকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। অন্যদিকে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে গত ১৮ জুন নড়াইল সদর উপজেলায় মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে স্থানীয় প্রশাসনের সামনেই জুতার মালা পরিয়ে দেন স্থানীয় লোকজন। এ দুটি ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এম এ মান্নান বলেন, ‘বিভিন্ন সামাজিক সূচকে ভারত ও পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। কিন্তু শিক্ষককে এভাবে হত্যা করা কিংবা হেনস্তা পাকিস্তান ও ভারতে হয় না। যেটা আমাদের দেশে হচ্ছে। এসব নিয়ে আলোচনা করা দরকার। কেন এসব ঘটছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতার মারাত্মক ঘাটতি আছে। এসব শিখতে হবে।’
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এটা ঠিক যে দেশে পুঁজিবাদের বিকাশ ঘটছে। পুঁজিবাদী গোষ্ঠী অবশ্যই আছে। তারা সংসদে আছে, প্রশাসনে আছে, কৃষিতে, ব্যবসায় সবখানেই আছে।
এবারের ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে পাচার করা অর্থ দেশে ফেরত আনার সুযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘নীতিশাস্ত্র ও আইন দুটো ভিন্ন বিষয়। পাচার করা অর্থ দেশে ফেরত আনার সুযোগ নৈতিকভাবে ঠিক নয়। কিন্তু আইনগতভাবে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, সরকার আইনগতভাবেই এটি করেছে। তবে আমার মত হচ্ছে, টাকা ফেরত আনার সুযোগ দিলেও এটা কাজে দেবে না। যারা টাকা চুরি করে কানাডা, সুইজারল্যান্ডে নিয়ে গেছে, তারা সেই টাকা নিয়ে আসবে না। চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি। হয়তো সামান্য আসতে পারে। যেমন কেউ ১০ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। তিনি এক হাজার কোটি টাকা নিয়ে এলেন।
কিন্তু ৯ হাজার কোটি টাকার খবর থাকবে না। আমরা ওই এক হাজার কোটি টাকা নিয়েই কথা বলব।’
সিলেট বিভাগে এবারের বন্যায় সরকার পর্যাপ্ত ত্রাণ দেয়নি, এমন অভিযোগের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বন্যায় ক্ষতি যা হয়েছে, সেই তুলনায় ত্রাণ যায়নি, এটা ঠিক। তবে মানুষ সেখানে খাবার চায় না। মানুষ চায় বিদ্যুৎ। কখন বিদ্যুৎ আসবে। তবু সরকার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। হাওরের মধ্যে আর কোনো রাস্তা নির্মাণ করা হবে না। হাওরে ভবিষ্যতে উড়ালসড়ক বা সেতু করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, এবারের বাজেটে দেখা যাচ্ছে দেশের বিদ্যমান মানি লন্ডারিং আইনের যথাযথ প্রয়োগ না করে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অর্থ পাচারকারী দুষ্কৃতকারীদের প্রশয় দেওয়ার শামিল। এবারের বাজেটে ব্যবসায়ী, বিত্তবান, মুনাফাভোগী ও অর্থ পাচারকারীদের স্বার্থ বেশি দেখা হয়েছে। এতে জনমনে ধারণা হতে পারে যারা সরকারকে ক্ষমতায় আনে, তাদেরকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবারের বাজেটে।
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
রাজনীতিশিক্ষারাজধানীআওয়ামী লীগ
রাজনীতি নিয়ে আরও পড়ুন
আ.লীগ সরকার দেশে অনিরপাদ পরিস্থিতি তৈরি করেছে, বলল বাম ছাত্রসংগঠনগুলো
বাম ছাত্রসংগঠনগুলো বলেছে, দেশে এমন এক অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে শিক্ষকসহ কোনো মানুষই নিরাপদ নন।
৩ ঘণ্টা আগে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলন চত্বরের যাত্রীছাউনির সামনে বামপন্থী ৯টি ছাত্রসংগঠনের উদ্যোগে আজ বিক্ষোভ সমাবেশ হয়
ছাত্রটিও বুঝেছে, শিক্ষককে মারলে অসুবিধা হবে না: রাশেদ খান মেনন
রাশেদ খান মেনন বলেন, শিক্ষকদের দুর্বল ভাবা হচ্ছে। সাভারে সেই দুর্বলের ওপর আক্রমণ হয়েছে। ছাত্রটিও বুঝেছে, এই শিক্ষককে মারলে কোনো অসুবিধা হবে না।
শিক্ষক হত্যা ও নিগ্রহ চরম অসভ্যতা ও জাতীয় লজ্জা: পরিকল্পনামন্ত্রী সাভারের আশুলিয়ায় শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা এবং নড়াইলে এক শিক্ষকের গলায় জুতার মালা পরানোকে অসভ্যতা ও জাতীয় লজ্জা বলে ...
সম্পাদকীয়
শিক্ষক লাঞ্ছনা ও হত্যা
অসহিষ্ণুতা আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২২, ২১: ০৫
-------------------------
সাম্প্রতিক কালে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে চলেছে, তাতে চরম বোধ-বুদ্ধিহীনতা, অসহিষ্ণুতা ও নিষ্ঠুরতাই প্রকাশ পাচ্ছে। তবে এর পেছনে যে কেবল সামাজিক ও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা কাজ করেছে, তা ভাবার কারণ নেই। আছে হীন রাজনৈতিক স্বার্থও।
নড়াইল সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে লাঞ্ছনার বিষয়টি আমাদের ব্যথিত ও বিচলিত করে। তাঁর কলেজের এক শিক্ষার্থী ভারতের বিজেপির বহিষ্কৃত এক নেত্রীকে নিয়ে একটি পোস্ট দেয়, যার জেরে কলেজের সামনে বিক্ষোভ হয়। এই পোস্টের সঙ্গে স্বপন কুমার বিশ্বাসের কোনো সম্পর্ক না থাকলেও তাঁকেই জুতার মালা পরে কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। তা–ও জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে। জেলা প্রশাসক বলেছেন, ঘটনাটি তাঁর অগোচরে ঘটেছে। আর পুলিশ সুপারের ভাষ্য, পরিস্থিতি খুব উত্তপ্ত ছিল। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তার এই বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য। এ ঘটনায় নড়াইলের প্রশাসন ও পুলিশ চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। জনগণ নিজের হাতে আইন তুলে নিয়ে যা ইচ্ছা তাই করবে আর জেলা প্রশাসনের শীর্ষ পদে থাকা কর্মকর্তারা তা মেনে নেবেন, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত এবং তঁাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
স্বপন কুমার বিশ্বাসের লাঞ্ছনার ঘটনার মতো উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যেই গত শনিবার ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক উৎপল কুমারকে ক্রিকেটের স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। রোমহর্ষক এই ঘটনা ঘটিয়েছে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির এক ছাত্র। এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার দায়ে শিক্ষক ওই ছাত্রকে শাসিয়েছিলেন বলে জানা যায়। অন্যদিকে রোহিঙ্গা শিবিরে এক শিক্ষিকাকে কুপিয়ে আহত করেছেন এক রোহিঙ্গা তরুণ। এসব ঘটনার যাঁরা শিকার হয়েছেন, তাঁদের ধর্মীয় পরিচয় এ ধারণাই দেয় যে এর পেছনে সামাজিক সমস্যার বাইরে অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে।
নিকট অতীতে আরও অনেক শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটেছে। মুন্সিগঞ্জে বিজ্ঞানশিক্ষক হৃদয় মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কথিত বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও ব্যক্তিদের ‘শান্ত’ করতে।
তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ক্লাসে ফিরে যেতে পারলেও নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত তাঁর অপমানের প্রতিকার পাননি। কয়েক বছর আগে একজন সংসদ সদস্য তাঁকে কান ধরে ওঠবস করতে বাধ্য করেছিলেন।
শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসের লাঞ্ছনা ও উৎপল কুমার হত্যার ঘটনা সমাজে কিছুটা হলেও নাড়া দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। ১৭ বিশিষ্ট নাগরিক বিবৃতি দিয়েছেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দুই ক্ষেত্রেই এসব ঘটনার বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিতে না পারার বিষয়টি খুবই দুর্ভাগ্যজনক। সংবেদনশীলতা বা রাজনৈতিক বিবেচনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে এসব ঘটনা উপেক্ষা বা এড়িয়ে যাওয়ার যে নীতি দৃশ্যমান, তা খুবই বিপজ্জনক। আমরা আশা করব, সঠিক তদন্ত এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তা না করা গেলে আমাদের সামনে আরও অবক্ষয় ও অধঃপতনের দিন অপেক্ষা করছে।
https://www.prothomalo.com/opinion/editorial/%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A3%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Website
Address
PCDC, Pabna Road, Ishurdi, Pabna
Pabna
6520