01/02/2024
একদিন চা আড্ডার আলাপে এরশাদুল স্যার বলছিলেন, "মজনু, যারা বুদ্ধিমান, তারা অন্যের ভুল দেখেই শিখে নেয়। নিজে ভুল করতে যায় না।" এই পোস্টটি লিখতে গিয়ে স্যারের এই কথাটা মনে পড়ল।
হয়তো বা কোনো একটা সময়ে বাজি খেলে তিন গুণ, চার গুণ এমনকি তার বেশি লাভ করে ফেলবে। কিন্তু সত্যি হলো— সেখানেই থেমে যেতে পারবে না।
অনলাইন গেমিং সাইটগুলো মানুষের সাইকোলোজি নিয়ে খেলে। একজন মানুষ যতই লজিক্যাল হোক, এখানে গেলে কারোর সেলফ কন্ট্রোল থাকে না। তার স্টোপেজ থাকে না, কোথায় সে থামবে? একবার বের হয়ে আসলেও— যতক্ষণ পর্যন্ত টাকা পকেটে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেখানে যাওয়ার জন্য মস্তিষ্ক কামড়া-কামড়ি করবে। কারণ— আমরা যে কাজটা সবসময় করি, মস্তিষ্ক ঐ কাজটি করার জন্য আমাদের তাড়না দিতে থাকে। মস্তিষ্ক এমন ভাবে ডেভেলপ হওয়া শুরু হয়, ঐ কাজ ছাড়া অন্য কাজে আমাদের আনন্দের হরমোন কম ক্ষরিত হয়। এবং যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার টাকা শেষ না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমার বাজি চলতে থাকবে। এবং শেষমেস চোখের জল, আর নাকের জল।
অনলাইনে কিছু গেম নতুন ইউজারদের বেশি বেশি জিতিয়ে তাদেরকে ধীরে ধীরে আসক্ত করে ফেলে। ধীরে ধীরে তোমার অন্যকিছু করতে ভালো লাগবে না। ক্লাস, টিউশন বাদ দিয়ে মোবাইলে পড়ে থাকবে। এবং ফাইনালি একসময় তোমার কাছে যা ছিল— তুমি সব হারাবে।
অনেককে কথা দিয়ে কথা রাখতে পারবে না। বন্ধু-বান্ধব, পরিবার, প্রতিবেশি, ভাই-ব্রাদারের কাছে ধীরে ধীরে তোমার সম্মান কমে যাবে। আশেপাশের মানুষজন তোমার প্রতি বিশ্বাস হারানো শুরু করবে। সম্পর্কে একটা গ্যাপ চলে আসবে। একটা সময় কেউ তোমাকে টাকা ধার দিবে না। পরিবারের মানুষজনও তোমার প্রতি ভরসা হারাবে। তুমি হয়ে যাবে- মা, বাবার চোখের জল। এইরকম ভাবে চলতে থাকতে থাকতে নিজের জীবনের উপর তোমার ঘৃণা ধরে যাবে একসময়। হাতে খাওয়ার পর্যন্ত টাকা থাকবে না। দুনিয়া হয়ে যাবে, জাহান্নাম।
তোমার জীবনের স্বপ্নগুলো আস্তে আস্তে হারিয়ে যেতে থাকবে। গ্যাম্বলিং এর ঘোরে তুমিও টেরও পাবে না— তুমি আর তুমি নেই।
ভাই, পরিবারের চোখের জল হওয়ার যে কি কষ্টের আজ তুমি হয়তো বুঝবে না। তবে বুঝবে একদিন, এর থেকে বড় কষ্ট বোধ হয় দুনিয়ায় আর কিছু নাই। তাই বলি কি ভাই, এগুলোতে যেও না। নিজের স্বপ্নগুলো লিস্ট করে, আজ থেকে কাজ শুরু করি।
ধর্মে তাই হারাম, যা মানুষের ক্ষতি করে। তোমার আশেপাশে খেয়াল করো, এই জায়গায় যাওয়া মানুষেরা ভালো থাকে না। জীবনে তারাই এগিয়ে থাকে, যারা অন্যের দেখে শিখে।