08/06/2026
❝ রিজিক আটকে গেছে, টেনশন কিছুতেই ছাড়ছে না? ❞
জীবনটা মাঝে মাঝে বড্ড ভারী হয়ে যায়, তাই না? চারদিকে শুধু একরাশ হতাশা আর অনিশ্চয়তা। মনে হয়— কোনো বিপদ কাটছেই না, হাজার চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত কাজটা পাওয়া যাচ্ছে না, কিংবা কাজে কোনো বরকত বা শান্তি মিলছে না।
অস্থির মন নিয়ে আমরা যখন চারদিকে শুধু অন্ধকারের দেয়াল দেখি, তখন আমাদের পরম দয়ালু রব কিন্তু আমাদের একা ছেড়ে দেননি। তিনি আমাদের দিয়েছেন এক মহৌষধ— 'ইস্তিগফার'।
সব দুশ্চিন্তা আর হতাশার সহজ সমাধান হলো: বেশি বেশি ইস্তিগফার পড়া!
أَسْتَغْفِرُ اللهَ، أَسْتَغْفِرُ اللهَ، أَسْتَغْفِرُ اللهَ!
(আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি...)
পবিত্র কুরআনে সূরা নূহ-এর ১০-১২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা চমৎকার এক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। হযরত নূহ (আ.) তাঁর কওমকে বলেছিলেন:
"তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও, তিনি তোমাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। আর ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন।"
সুবহানাল্লাহ! আমাদের সামান্য একটু আন্তরিক অনুশোচনা আর ক্ষমা প্রার্থনা আল্লাহর রহমতের দুয়ার খুলে দিতে পারে। আমাদের আটকে থাকা রিজিক, মনের অশান্তি আর জীবনের সব জটিলতা দূর করার চাবিকাঠি হলো এই ইস্তিগফার।
তাই আসুন, হতাশার চাদর ছুড়ে ফেলে দিয়ে আজ থেকেই জিহ্বাকে ইস্তিগফারে ভেজাতে শুরু করি। বিশ্বাস রাখুন, ইস্তিগফার সব বন্ধ দরজা খুলে দেয়। অবসান ঘটে সব টেনশনের।
হে আল্লাহ, আমাদের জীবনের সমস্ত গুনাহ খাতা ক্ষমা করে দিন এবং আমাদের রিজিক ও জীবনে বরকত দান করুন। (আমীন) 🤲✨
#ইস্তিগফার #রিজিক #আল্লাহর_রহমত #ইসলামিক_পোস্ট #ভরসা_শুধু_আল্লাহর_ওপর #মানসিক_শান্তি #দোয়া #ক্ষমা
08/06/2026
হযরত হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) রাতে নিজ বিছানায় শোয়ার সময় নিজ হাতখানা গালের নীচে রাখতেন, তারপর বলতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আপনার নামেই মৃত্যুবরণ করি। এবং আপনার নামেই জীবিত হই। আর যখনই জাগতেন তখন বলতেনঃ আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা, তিনি মৃত্যুদানের পর আমাদের পুনরায় জীবন দান করলেন এবং তারই দিকে আমাদের পুনরুত্থান।
ব্যাখ্যা: এ হাদীছটিতে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে ঘুমাতেন তার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে- وضع يده تحت خده (তাঁর হাত গালের নিচে রাখতেন)। অন্য বর্ণনায় আছে-
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أخذ مضجعه جعل كفه اليمنى تحت خده الأيمن
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শয্যাগ্রহণ করতেন, তখন ডান হাত ডান গালের নিচে রাখতেন।
(সুনানে নাসাঈ: ২৩৬৭; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা: ২৬৫৩৫; মুসনাদে আহমাদ: ৩৯৩১;সুনানে আবু দাউদ: ৫০৪৫; মুসনাদে আবু ইয়া'লা ১৬৮২; তহাবী, শারহু মুশকিলিল আছার: ৪৬১৮; সহীহ ইবনে হিব্বান: ৫৫২২; তাবারানী, আল মু'জামুল কাবীর: ১০০৮৪; ইবনুস সুন্নী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল-লায়লা: ৭৩০)
বোঝা গেল ঘুমের একটি আদব হল ডান হাত ডান গালের নিচে রেখে শোওয়া। তারপর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমের দু'আ পড়তেন। ঘুমের বিভিন্ন দু'আ আছে। এ হাদীছে বর্ণিত দু'আটি হল- اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا.(হে আল্লাহ! আমি তোমার নামে মরি ও বাঁচি)। অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমার জীবন ও মৃত্যু আপনারই হাতে। তাই আমি আপনার নামেই মৃত্যুবরণ করছি অর্থাৎ ঘুমাচ্ছি। আর আপনার নামেই আমি জীবিত হব। অর্থাৎ আমি যদি এ ঘুম থেকে জাগি, তবে সে জাগাটা হবে আপনার ইচ্ছায় এবং আপনারই কুদরতে।
এ দু'আয় ঘুমকে 'মৃত্যু' এবং ঘুম থেকে জাগাকে 'জীবনলাভ' শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে। অপর এক হাদীছে ঘুমকে মৃত্যুর ভাই বলা হয়েছে। নিদ্রাবস্থায়ও মানুষের রূহ এক পর্যায়ের কবজ হয়ে যায়। কিন্তু সেটা চূড়ান্ত পর্যায়ের নয়। সাময়িক কালের জন্য। তাই ঘুম থেকে জাগরণকালে সে রূহ আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছায় আবার ফিরে আসে। আর যার মৃত্যুক্ষণ এসে যায়, তার রূহ পরিপূর্ণভাবে কবজ করা হয়। কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে-
اللَّهُ يَتَوَفَّى الْأَنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا فَيُمْسِكُ الَّتِي قَضَى عَلَيْهَا الْمَوْتَ وَيُرْسِلُ الْأُخْرَى إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
'আল্লাহ রূহসমূহকে কবজ করেন তাদের মৃত্যুকালে আর এখনও যার মৃত্যু আসেনি তাকেও (কবজ করেন) তার নিদ্রাকালে। অতঃপর যার সম্পর্কে তিনি মৃত্যুর ফয়সালা করেছেন, তাকে রেখে দেন আর অন্যান্য রূহকে এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত ছেড়ে দেন। নিশ্চয়ই এর মধ্যে বহু নিদর্শন আছে সেইসকল লোকের জন্য, যারা চিন্তা-ভাবনা করে’
(সূরা যুমার, আয়াত ৪২)
ঘুমের এছাড়া আরও দু'আ আছে। যেমন-
اللَّهُمَّ قنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
'হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ওইদিন আপনার আযাব থেকে রক্ষা করুন, যেদিন আপনি আপনার বান্দাদেরকে (কবর থেকে হাশরের ময়দানে জমা করার জন্য) ওঠাবেন।
(সুনানে আবূ দাউদ: ৫০৪৫; জামে তিরমিযী: ৩৯৮; মুসনাদে আহমাদ: ৪২২৫; মুসনাদে আবু দাউদ তয়ালিসী: ৭৪৪; মুসনাদুল হুমায়দী: ৪৪৯; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা: ২৯৩১২; সুনানে ইবন মাজাহ : ৩৮৭৭; মুসনাদুল বাযযার ৭২৭৫; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা: ১০৫২১: সহীহ ইবনে হিব্বান: ৫৫২২; তাবারানী, আল মু'জামুল কাবীর: ১০২৮২)
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে জাগার পর যে দু'আ পড়তেন তা হলো-
الْحَمْدُ لِلهِ الَّذِي أَحْيَانا بَعْدَمَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النشْوْرُ
‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের জীবন দিয়েছেন আমাদের মৃত্যু দেওয়ার পর। আর তাঁরই নিকট আমাদের প্রত্যাবর্তন’।
এখানে জীবন দেওয়ার অর্থ ঘুম থেকে জাগ্রত করা আর মৃত্যু দেওয়ার অর্থ ঘুম দেওয়া। ঘুম একটি বড় নি'আমত। এ নি'আমত আল্লাহ তা'আলাই দিয়ে থাকেন। তবে ঘুম থেকে জাগ্রত করা অধিকতর বড় নি'আমত। কেননা জাগ্রত অবস্থায় ইবাদত-বন্দেগী ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। ঘুমন্ত অবস্থায় কোনও আমল করা যায় না। তা মৃত্যুতুল্য। কাজেই ঘুম থেকে জাগতে পারার কারণে শোকর আদায় করা দরকার অধিকতর। তাই এ দু'আয় সরাসরি শোকর আদায় করা হয়েছে জাগ্রত হতে পারার জন্য। এর ভেতর দিয়ে ঘুমাতে পারার জন্যও শোকর আদায় হয়ে গেছে, যেহেতু ঘুম দেওয়াটাকে আল্লাহ তা'আলার কাজরূপে উল্লেখ করা হয়েছে।
দু'আটির শেষে বলা হয়েছে- وَإِلَيْهِ النُّشُوْرُ (তাঁরই নিকট আমাদের প্রত্যাবর্তন)। এটি দু'আর বক্তব্যের সঙ্গে খুবই সঙ্গতিপূর্ণ। যদিও শোকর আদায় করা হয়েছে ঘুমের পর জাগ্রত হতে পারার কারণে, কিন্তু সেজন্য শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে- মৃত্যুর পর জীবিত করা। আর সত্যিকারের মৃত্যুর পর যখন জীবিত করা হবে, তখন তো সকলের প্রত্যাবর্তন আল্লাহ তা'আলার কাছেই হবে। তখন আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেককে তার আমলের প্রতিদান দেবেন। বলাবাহুল্য, আমল করা হয় জাগ্রত অবস্থায়, ঘুমন্ত অবস্থায় নয়। তাহলে দু'আটির সারমর্ম দাঁড়াল- আল্লাহর শোকর যে, তিনি আমাদেরকে ঘুম দেওয়ার পর ঘুম থেকে জাগ্রত করেছেন। জাগ্রত অবস্থাটা কাজের জন্য। তিনি আমাদেরকে জাগ্রত করে আমল বা কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। এখন আমরা যদি এ অবস্থায় সৎকর্ম করি, তবে মৃত্যুর পর যখন তিনি আমাদেরকে জীবিত করে তাঁর কাছে ফিরিয়ে নেবেন,তখন এ সৎকর্মের জন্য তাঁর কাছে প্রতিদান ও পুরস্কার লাভ করব। এর ভেতর দিয়ে যেন আল্লাহ তা'আলার কাছে এই দু'আও করা হচ্ছে যে হে আল্লাহ। জাগ্রত অবস্থায় আমরা যেন আপনার ইবাদত-বন্দেগী ও সৎকর্মে নিয়োজিত থাকি, সেই তাওফীক আমাদেরকে দান করুন।
উল্লেখ্য, ঘুম থেকে জাগার পর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এছাড়া অন্য দু'আও পড়তেন। যেমন হাদীছে একটি দু'আ বর্ণিত হয়েছে এরূপ-
سبحان الذي يحيي الموتى وهو على كل شيء قدير، اللهم اغفر لي ذنوبي يوم تبعثني من قبري، اللهم قني عذابك يوم تبعث عبادك
'মহান ও পবিত্র সেই সত্তা, যিনি মৃতদের জীবিত করেন। তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। হে আল্লাহ! আপনি সেদিন আমার পাপরাশি ক্ষমা করুন, যেদিন আমাকে আমার কবর থেকে উঠাবেন। হে আল্লাহ! যেদিন আপনি আপনার বান্দাদেরকে। উঠাবেন, সেদিন আমাকে আপনার আযাব থেকে রক্ষা করুন।'
এ দু'আটি সম্পর্কে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি ঘুম থেকে ওঠে এটি পড়ে, আল্লাহ তা'আলা তার সম্পর্কে বলেন, আমার বান্দা সত্য বলেছে এবং সে কৃতজ্ঞতা আদায় করেছে। (মুসনাদু ইবনিল জা'দ: ২০৩৭; ইবনুস সুন্নী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লা: ১১; খারাইতী, মাকারিমুল আখলাক: ৯৭৫)
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. ঘুমের সময় ডান হাত ডান গালের নিচে রেখে শোওয়া সুন্নত।
খ. ঘুম দেওয়া ও ঘুম থেকে জাগ্রত করা আল্লাহ তা'আলারই কাজ। অন্য কেউ এ ক্ষমতা রাখে না।
গ. ঘুমানো ও ঘুম থেকে জাগা যেহেতু আল্লাহ তা'আলার অনেক বড় নি'আমত, তাই এর জন্য শোকর আদায় করা কর্তব্য।
ঘ. ঘুমের আগের ও পরের দু'আ যেমন আল্লাহ তা'আলার কাছে কল্যাণের প্রার্থনা,তেমনি তা শোকর আদায়ের ভাষাও বটে। তাই ঘুমের আগের ও পরের দু'আ পড়ার আমল নিয়মিতভাবে করা চাই।
ঙ. আমাদেরকে অবশ্যই একদিন আল্লাহ তা'আলার কাছে ফিরে যেতে হবে। এ কথা কখনও ভুলতে নেই।
রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৬৩১৪
♻️ নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, "আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও তা পৌঁছে দাও।" - সহীহ বুখারী: ৩৪৬১
➡️🌹 ইসলামের যে কোনো বিষয় সুন্দরভাবে জানতে-বুঝতে এবং মহা-জরুরী মাসয়ালাগুলো সহজে পেতে আমাদের ফলো দিয়ে রাখুন এবং শেয়ার করে সওয়াবের অংশীদার হন!
#ইসলামেরপথ #ইসলামেরআলো #ইসলামিক
06/06/2026
আপনি কি কখনো ভেবেছেন, যখন আপনি জায়নামাজে দাঁড়িয়ে বলেন "আল্লাহু আকবার"...তখন আল্লাহ ঠিক কোথায় থাকেন?
এই প্রশ্নটা হয়তো কখনো মাথায় আসেনি।
অথবা এসেছে; কিন্তু উত্তর খোঁজার সাহস হয়নি।
কিন্তু চৌদ্দশত বছর আগে, এক সাহাবী এই প্রশ্নের উত্তর জেনেছিলেন। এবং সেই উত্তর শুনে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন।
আজ সেই ঘটনাটি শেয়ার করবো।
একটি রাতের ঘটনা, মদিনার অলিতে গলিতে মদিনার রাত। চাঁদের আলোয় ধুয়ে যাচ্ছে পথঘাট।
মসজিদে নববীতে তখনো প্রদীপ জ্বলছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর সাহাবীদের নিয়ে বসে আছেন।
সেদিন হযরত আবু যর গিফারী (রা.) রাসূলের ﷺ কাছে এসে বসলেন।
মনের ভেতর একটা প্রশ্ন অনেকদিন ধরে ঘুরছে।
লজ্জায় জিজ্ঞেস করতে পারছেন না। কিন্তু আজ আর থাকা গেল না।
আস্তে আস্তে বললেন,
"ইয়া রাসূলাল্লাহ... নামাজে যখন আমি দাঁড়াই... আল্লাহ তখন কোথায় থাকেন?"
মসজিদে একটু নীরবতা নামল। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর দিকে তাকালেন। সেই চোখে ছিল অসীম মায়া।
তারপর ধীরে ধীরে বললেন,
"আল্লাহ তা'আলা বান্দার দিকে মুখ করে থাকেন যতক্ষণ সে নামাজে থাকে এবং অন্যদিকে মনোযোগ না দেয়।"
(সুনানে নাসাঈ, হাদিস: ১১৯৫)
আবু যর (রা.) কথাটা শুনলেন।
এক সেকেন্ড।
দুই সেকেন্ড।
তারপর হঠাৎ
তাঁর চোখে পানি
পা কাঁপতে শুরু করল।
বুকের ভেতর কী যেন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
আল্লাহ... নামাজে... আমার দিকে মুখ করে থাকেন?
সেই মহান মণিব, যিনি সমগ্র সৃষ্টিজগতের মালিক;
যাঁর একটি "কুন" বলায় পৃথিবী, গ্রহ-নক্ষত্র সহ সকল কিছু সৃষ্টি হয়েছে তিনি... আমার মতো একজন সামান্য বান্দার দিকে মুখ করে থাকেন?
এবং আমি... নামাজে দাঁড়িয়ে এদিক-ওদিক তাকাই?
মাথায় সংসারের চিন্তা ঘোরে? ব্যবসায়ের হিসাব করি?
এই ভাবনা এসে আঘাত করল বুকের মাঝখানে।
আর সেই আঘাত সহ্য করতে পারলেন না আবু যর (রা.)। তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন।
আল্লাহ কি সত্যিই এতটাই কাছে থাকেন? এটা কি শুধু একটা গল্প? না।
কুরআনে আল্লাহ নিজেই বলেছেন,
"আমি তোমার শাহরগ (গলার শিরা) থেকেও বেশি কাছে।"
(সূরা ক্বাফ: ১৬)
আরেক হাদিসে আছে, "বান্দা যখন নামাজে দাঁড়ায়, আমি তার সামনে থাকি। সে যদি ডানে তাকায়, আমিও তার ডানে। বামে তাকালে আমিও বামে। সরাসরি সামনে তাকালে আমি তার সামনে।"
(মুসনাদে আহমাদ)
একটু থামুন।
এই কথাটা আবার পড়ুন।
আল্লাহ আপনার সামনে থাকেন, নামাজে।
তিনি আপনার দিকে তাকিয়ে আছেন।
আপনার ঠোঁটের নড়াচড়া দেখছেন।
আপনার চোখের পানি দেখছেন।
আপনার বুকের কান্না শুনছেন।
আমরা কি জানি, নামাজে কাকে পাচ্ছি?
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন,
রাসূলুল্লাহ ﷺ একদিন বললেন,
"তোমরা কি জানো, নামাজে বান্দা কার সাথে কথা বলে?"
সাহাবীরা চুপ।
রাসূল ﷺ বললেন,
"সে তার রবের সাথে কথা বলে। তাই সে যেন ভালো করে ভাবে সে কীভাবে কথা বলছে।"
(মুস্তাদরাকে হাকিম)
ভাবুন একবার।
দুনিয়ার কোনো বড় নেতার সাথে দেখা হলে আমরা কতটা প্রস্তুতি নিই!
পোশাক ঠিক করি।
কথা গুছিয়ে নিই।
উনার কথায় মনোযোগ দিই।
কিন্তু....
আল্লাহর সাথে কথা বলার সময়, মন থাকে বাজারে আর নামাজের পর ব্যবসা কিংবা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে।
আবু যর (রা.) অজ্ঞান হননি ভয়ে।
তিনি অজ্ঞান হয়েছিলেন লজ্জায়।
সারাজীবন নামাজ পড়েছেন।
কিন্তু কখনো ভাবেননি
এই নামাজে আল্লাহ নিজে সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন।
এই ব্যাপারটি ভাবতেই তাঁর হৃদয় আর নিতে পারেনি।
আর আমরা?
আমরা প্রতিদিন পাঁচবার এই সুযোগ পাচ্ছি।
প্রতিদিন আল্লাহ আমাদের দিকে মুখ করে অপেক্ষা করছেন।
এবং আমরা মোবাইল রেখে উঠি।
কোনরকম নামাজ শেষ করে উঠে যাই।
পুরো নামাজে মনোযোগ থাকে কার ব্যাপারে কি প্ল্যান, নিজের ব্যবসার হিসাব আর অফিসের মাসিক মিটিং-এ কি হবে!
শেষ কথা, আজকে থেকে নামাজটা একটু আলাদা হোক। আজ যখন নামাজে দাঁড়াবেন, একটু থামুন।
চোখ বন্ধ করুন।
মনে করুন, মহা মুনিব আল্লাহ এখন আপনার সামনে।
তিনি আপনার দিকে তাকিয়ে আছেন। তিনি সব শুনছেন।
শুধু এটুকু মনে রাখুন। দেখবেন আপনার চোখও ভিজে আসবে।
হয়তো আবু যর (রা.)-এর মতো না, কিন্তু বুকের ভেতর কিছু একটা নড়ে উঠবে।
সেটাই ঈমান। সেটাই নামাজের প্রাণ।
"যে ব্যক্তি এমনভাবে নামাজ পড়ে যেন সে আল্লাহকে দেখছে এটাই হলো ইহসান।"
(সহিহ মুসলিম; হাদিসে জিবরাঈল)
06/06/2026
হার্ট বা হৃদয় আকৃতির চিহ্ন ব্যবহারের ইসলামি বিধান
সোশ্যাল মিডিয়া ও দৈনন্দিন জীবনে হার্ট বা হৃদয় আকৃতির চিহ্ন (♥) ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই চিহ্নের উৎস ও ব্যবহারের শরিয়তগত বিধান সম্পর্কে বিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য আলেমদের ফতওয়া ও মতামত নিচে তুলে ধরা হলো।
▪️ইসলাম সওয়াল ও জওয়াব (ইসলাম কিউএ)-এর ফতওয়া
প্রশ্ন: আমি শুনেছি যে, আমরা—বিশেষ করে মেয়েরা—যে হৃদয় আকৃতির চিহ্নটি (♥) প্রচুর ব্যবহার করি। সেটি নাকি গ্রিকদের কোনো এক দেবতাকে নির্দেশ করে, যাকে তারা 'ভালোবাসার দেবতা' বলে থাকে। এখন সাজসজ্জা, অলংকার, ব্যাগ বা ঝুলন্ত কোনো শৌখিন বস্তুতে এই আকৃতিটি ব্যবহার করার বিধান কী?
উত্তর:
«لَا يَظْهَرُ لَنَا حَرَجٌ فِي اسْتِعْمَالِ الْأَشْكَالِ التَّعْبِيرِيَّةِ عُمُومًا، كَرَمْزِ "قَلْبِ الْحُبِّ" وَنَحْوِهِ مِنَ الْأَشْكَالِ الَّتِي تَرْمُزُ لِمَعَانٍ حَسَنَةٍ أَوْ لَا مَحْذُورَ فِيهَا، وَلَيْسَ فِي النُّصُوصِ الشَّرْعِيَّةِ مَا يَمْنَعُ مِنْ ذَلِكَ. وَالْكَلَامُ الْمَذْكُورُ عَنْ أَصْلِ هَذَا الشَّكْلِ لَا نَعْلَمُ لَهُ أَسَاسًا مِنَ الصِّحَّةِ، بَلِ الظَّاهِرُ أَنَّ هَذَا الشَّكْلَ مَأْخُوذٌ مِنْ شَكْلِ الْقَلْبِ الْحَقِيقِيِّ. وَاللَّهُ أَعْلَمُ.»
"আমাদের দৃষ্টিতে সাধারণভাবে যেকোনো অভিব্যক্তিমূলক চিহ্ন যেমন: 'ভালোবাসার হার্ট' বা এ জাতীয় চিহ্ন, যা ভালো অর্থ প্রকাশ করে এবং যাতে শরিয়তবিরোধী কিছু নেই—তা ব্যবহারে কোনো সমস্যা নেই। শরিয়তের কোনো দলিলে এটি নিষিদ্ধ হওয়ার প্রমাণও নেই। এর উৎস সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তার কোনো সঠিক ভিত্তি আমাদের জানা নেই। বরং আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, এটি মানুষের বাস্তব হৃদপিণ্ডের আকৃতি থেকেই নেওয়া হয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।"
[প্রশ্ন নম্বর: ১৫৪১৯১, তারিখ: ০৮ রবিউস সানি ১৪৩২ হি. / ১৩ মার্চ ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ]
▪️ইসলাম ওয়েব-এর ফতওয়া:
প্রশ্ন: হোয়াটসঅ্যাপে হার্ট বা হৃদয় আকৃতির ইমোজি ব্যবহার করা কি হারাম? এ বিষয়ে কি কোনো ফতওয়া আছে? এটি কি খ্রিষ্টানদের কোনো নিষিদ্ধ প্রথা?
উত্তর:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবিদের উপর। অতঃপর-
فَتُوجَدُ فَتْوَى لِأَهْلِ الْعِلْمِ ظَاهِرُهَا أَنَّهَا تُحَرِّمُ اسْتِعْمَالَ هَذَا الرَّمْزِ، كَمَا أَنَّ هُنَاكَ فَتْوَى أُخْرَى مُغَايِرَةً لَهَا تَرَى جَوَازَ اسْتِعْمَالِهِ، وَالَّذِي يَظْهَرُ لَنَا الْجَوَازُ، إِلَّا إِذَا اسْتُعْمِلَ فِي مَقْصَدٍ مُحَرَّمٍ شَأْنُهُ شَأْنُ كُلِّ الْوَسَائِلِ الْمُبَاحَةِ تُتَّخَذُ وَسِيلَةً إِلَى الْحَرَامِ، وَلَمْ نَقِفْ عَلَى كَلَامِ أَحَدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ ذَكَرَ أَنَّ رَمْزَ الْقَلْبِ الْمَوْجُودَ فِي مِثْلِ هَذِهِ الْبَرَامِجِ أَنَّهُ عَادَةٌ نَصْرَانِيَّةٌ. وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
"আলেমদের একাংশের ফতওয়ার বাহ্যিক বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, তারা এই প্রতীকটি ব্যবহার করা হারাম মনে করেন। আবার অন্য আলেমদের ফতওয়া রয়েছে যারা এটি ব্যবহার জায়েজ মনে করেন। আমাদের কাছেও এটি বৈধ বলেই প্রতীয়মান হয়। তবে যদি কোনো হারাম উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় তাহলে তা নিষিদ্ধ হবে। কারণ যেকোনো বৈধ মাধ্যম হারামের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হলে হারাম হয়ে যায়। এই হৃদয় আকৃতির প্রতীকটি খ্রিষ্টানদের কোনো বিশেষ ধর্মীয় প্রথা—এমন কোনো বক্তব্য আমরা কোনো আলেমের কাছ থেকে পাইনি। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।"
(ফতোয়া নম্বর: ২৮৪৬৬৩, তারিখ: ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৬ হি. / ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ইং)
▪️শাইখ ড. সুলাইমান আর রুহাইলি (বিখ্যাত দাঈ এবং মসজিদে কুবা, মদিনা মুনাওয়ারা-এর ইমাম ও খতিব) -এর অভিমত
প্রশ্ন: ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে হার্ট বা হৃদয়ের চিহ্ন ব্যবহার করার বিধান কী?
هَذِهِ الْعَلَامَةُ الَّتِي يَضَعُونَهَا -أَيِ الْقَلْبُ- لِأَنَّ الْمَحَبَّةَ مَحَلُّهَا الْقَلْبُ؛ مِنْ حَيْثُ الْأَصْلِ إِنْ كَانَتْ تُسْتَعْمَلُ فِيمَا يَجُوزُ، كَأَنْ يُرْسِلَ الرَّجُلُ ذَلِكَ لِزَوْجَتِهِ أَوْ نَحْوِ ذَلِكَ، فَهَذَا جَائِزٌ وَلَا إِشْكَالَ فِيهِ. أَمَّا اسْتِعْمَالُ هَذَا الرَّمْزِ فِيمَا بَيْنَ الرِّجَالِ، أَوْ فِيمَا بَيْنَ النِّسَاءِ بَعْضِهِنَّ مَعَ بَعْضٍ، فَأَرَى -وَاللَّهُ أَعْلَمُ- أَنَّهُ لَا يَلِيقُ؛ لَا أَقُولُ إِنَّهُ حَرَامٌ، وَلَكِنْ أَقُولُ إِنَّهُ لَا يَلِيقُ وَلَيْسَ مِنْ شَأْنِ أَهْلِ الْمُرُوءَاتِ، وَاجْتِنَابُهُ خَيْرٌ. أَمَّا إِذَا اسْتُعْمِلَ فِيمَا يَجُوزُ -كَمَا قُلْتُ- بِأَنْ يُرْسِلَ الرَّجُلُ لِامْرَأَتِهِ، أَوْ إِلَى أُمِّهِ، أَوْ إِلَى أُخْتِهِ، هَذِهِ الْعَلَامَةَ دَلَالَةً عَلَى الْمَحَبَّةِ؛ فَمَا يَظْهَرُ لِي -وَاللَّهُ أَعْلَمُ- أَنَّ فِي ذَلِكَ بَأْسًا.
"মানুষ সাধারণত এই চিহ্নটি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ব্যবহার করে। কারণ হৃদপিণ্ডই ভালোবাসার স্থান। মূলনীতির ভিত্তিতে যদি এটি বৈধ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়—যেমন: স্বামী তার স্ত্রীকে পাঠাল—তাহলে এটি জায়েজ এবং এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে পুরুষেরা একে অপরকে কিংবা নারীরা একে অপরকে এই চিহ্ন পাঠানোআমার মতে অনুচিত। আমি একে হারাম বলছি না। তবে এটি ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষের জন্য শোভনীয় নয় এবং এটি এড়িয়ে চলাই উত্তম। তবে যদি বৈধ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যেমন: স্বামী স্ত্রীকে, ছেলে মাকে বা বোনকে ভালোবাসা প্রকাশের জন্য পাঠায়—তাহলে তাতে কোনো অসুবিধা আছে বলে আমার মনে হয় না। আল্লাহই ভালো জানেন।"
▪️সৌদি আরবের ফতওয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি (লাজনাহ দায়িমাহ)-এর ফতওয়া:
- বিশেষ প্রেক্ষাপট: এই ফতোয়াটি সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ হার্ট চিহ্ন ব্যবহার সংক্রান্ত নয়। বরং এটি একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রদান করা হয়েছে, যখন কাফের দেশে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অবমাননার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া চলছিল এবং সেই সময় চাবির রিং, গেঞ্জি ও স্টিকারে "আমি ❤ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম" লেখার একটি বিশেষ ধারা দেখা যাচ্ছিল।
প্রশ্ন: জেদ্দা দাওয়াহ ও ইরশাদ সেন্টারের সদস্য শাইখ মুহাম্মদ বিন আতিয়্যাহ আল জাবিরি জানতে চেয়েছেন, বর্তমানে কিছু মানুষের মাঝে হৃদপিণ্ডের (হার্ট) আকৃতিতে তৈরি চাবির রিংয়ের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। যেহেতু হৃদপিণ্ড ভালোবাসার প্রতীক তাই এই রিংয়ের উপর লেখা থাকে: "আমি (হৃদপিণ্ডের চিহ্ন) রসুল" — যার অর্থ দাঁড়ায় "আমি রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ভালোবাসি।" রিংয়ের উল্টো পাশে লেখা থাকে: "হে আমার প্রিয় রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।" এছাড়াও গলায় ঝোলানোর লকেট এবং কোনো কোনো নারীর পোশাকে বুকের বাম পাশে একই ধরনের লেখা দেখা যাচ্ছে। শরিয়তের দৃষ্টিতে এর বিধান কী?
উত্তর:
وَبَعْدَ دِرَاسَةِ اللَّجْنَةِ لِلِاسْتِفْتَاءِ أَجَابَتْ بِأَنَّ عَمَلَ الشَّكْلِ الْمَذْكُورِ وَكِتَابَةَ الْعِبَارَةِ الْمَذْكُورَةِ عَلَى الْمَلَابِسِ وَالْمَيْدَالِيَاتِ وَنَحْوِهَا لَيْسَ مِنْ هَدْيِ سَلَفِ الْأُمَّةِ الَّذِينَ هُمْ أَفْضَلُ الْقُرُونِ وَأَشَدُّ تَعْظِيمًا وَحُبًّا لِلرَّسُولِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِمَّنْ جَاءَ بَعْدَهُمْ، كَمَا أَنَّ فِيهِ تَشَبُّهًا بِأَهْلِ الْفِسْقِ الَّذِينَ يَتَّخِذُونَ مِثْلَ هَذِهِ الرُّمُوزِ دَلَالَةً عَلَى حُبِّهِمْ وَعِشْقِهِمُ الْمُحَرَّمِ لِغَيْرِهِمْ، وَيَتَفَانَوْنَ فِيهِ مِنْ غَيْرِ الْتِفَاتٍ لِحُكْمِ الشَّرِيعَةِ الْمُطَهَّرَةِ فِيهِ، كَمَا أَنَّ الشَّكْلَ الْمَذْكُورَ يُفْهَمُ مِنْهُ أَيْضًا: أَنَّ حُبَّ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَحُبِّ غَيْرِهِ مِنَ الْمَخْلُوقِينَ، وَهَذَا غَلَطٌ كَبِيرٌ؛ لِأَنَّ مَحَبَّةَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاجِبَةٌ شَرْعًا، وَلَا يَتِمُّ الْإِيمَانُ إِلَّا بِهَا، أَمَّا مَحَبَّةُ غَيْرِهِ فَقَدْ تَكُونُ مَشْرُوعَةً، وَقَدْ تَكُونُ مُحَرَّمَةً، وَبِنَاءً عَلَى مَا تَقَدَّمَ فَإِنَّ كِتَابَةَ الْعِبَارَةِ الْمَذْكُورَةِ وَبَيْعَهَا وَشِرَاءَهَا وَاسْتِعْمَالَهَا لَا يَجُوزُ. وَبِاللهِ التَّوْفِيقُ.
"উক্ত বিষয়টি পর্যালোচনার পর স্থায়ী কমিটি এই মর্মে উত্তর দিচ্ছে যে—পোশাক, মেডেল বা এ জাতীয় বস্তুর উপর উক্ত হার্ট আকৃতি তৈরি করা এবং তাতে নির্দিষ্ট বাক্য লিখে রাখা উম্মতের পূর্বসূরি সালাফদের আদর্শ নয়। অথচ তারা পরবর্তী সকল প্রজন্মের তুলনায় সর্বশ্রেষ্ঠ যুগের অধিকারী ছিলেন এবং রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি সর্বাধিক সম্মান ও ভালোবাসা পোষণ করতেন। এর পাশাপাশি এতে ফাসেকদের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে, যারা এই জাতীয় প্রতীককে হারাম প্রেম ও কামাবেগ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে এবং শরীআতের বিধানের পরোয়া না করেই তাতে মগ্ন থাকে। আরও একটি সমস্যা হলো, এই প্রতীক থেকে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর প্রতি ভালোবাসা অন্য যেকোনো সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসার মতোই সাধারণ একটি বিষয়। এটি এক মারাত্মক ভুল। কারণ রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ভালোবাসা শরিয়তে ওয়াজিব এবং এটি ছাড়া ইমান পূর্ণ হয় না। পক্ষান্তরে অন্য কারও প্রতি ভালোবাসা কখনো বৈধ, কখনো নিষিদ্ধ হতে পারে।
অতএব, উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে এই বাক্যগুলো লেখা, এ জাতীয় দ্রব্যাদি কেনা-বেচা করা এবং তা ব্যবহার করা জায়েজ নয়। আল্লাহই তাওফিক দানকারী।"
ইলমি গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি:
সদস্য: বকর আবু যাইদ, সালেহ আল ফাওযান, আব্দুল্লাহ বিন গুদাইয়ান
প্রধান: আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রহ.)
সারাংশ
হার্ট বা হৃদয় আকৃতির চিহ্ন ব্যবহারের বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইসলাম কিউএ ও ইসলাম ওয়েবসহ অধিকাংশ আলেম মনে করেন, সাধারণ ক্ষেত্রে এই চিহ্ন ব্যবহার জায়েজ। তবে হারাম উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে তা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। শাইখ ড. রুহাইলি মনে করেন, স্বামী-স্ত্রী বা মাহরামদের মধ্যে ভালোবাসা প্রকাশে এটি ব্যবহার করা বৈধ। তবে সমলিঙ্গের মধ্যে ব্যবহার শোভনীয় নয়। অন্যদিকে, লাজনাহ দায়িমার ফতোয়াটি বিশেষভাবে সেই প্রচলনকে নিষিদ্ধ করেছে, যেখানে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে চাবির রিং বা পোশাকে এই চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। কারণ এতে সালাফদের আদর্শ থেকে বিচ্যুতি, ফাসেকদের সাথে সাদৃশ্য এবং নবীপ্রেমের মর্যাদাকে সাধারণ প্রেমের স্তরে নামিয়ে আনার আশঙ্কা রয়েছে।
আল্লাহই ভালো জানেন
গ্রন্থনায়:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
abdullahilhadi
05/06/2026
♥️জুম’আর আদব♥️জুম'আ রিমাইন্ডার ♥️
🍂💦🍂💦🍂💦🍂💦🍂💦🍂💦🍂
⭕১) জুম’আর দিন গোসল করা। যাদের উপর জুম’আ ফরজ তাদের জন্য এ দিনে গোসল করাকে রাসুল (সাঃ) ওয়াজিব করেছেন(বুখারীঃ ৮৭৭, ৮৭৮, ৮৮০, ৮৯৭, ৮৯৮)। পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসাবে সেদিন নখ ও চুল কাটা একটি ভাল কাজ।
⭕২) জুম’আর সালাতের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করা। (বুখারীঃ ৮৮০)
⭕৩) মিস্ওয়াক করা। (ইবনে মাজাহঃ ১০৯৮, বুখারীঃ৮৮৭, ইঃফাঃ৮৪৩)
⭕৪) গায়ে তেল ব্যবহার করা। (বুখারীঃ৮৮৩)
⭕৫) উত্তম পোশাক পরিধান করে জুম’আ আদায় করা। (ইবনে মাজাহঃ১০৯৭)
⭕৬) মুসুল্লীদের ইমামের দিকে মুখ করে বসা। (তিরমিযীঃ৫০৯, ইবনে মাজাহঃ১১৩৬)
⭕৭) মনোযোগ সহ খুৎবা শোনা ও চুপ থাকা- এটা ওয়াজিব। (বুখারীঃ ৯৩৪, মুসলিমঃ৮৫৭, আবু দাউদঃ১১১৩, আহমাদঃ১/২৩০)
⭕৮) আগে ভাগে মসজিদে যাওয়া। (বুখারীঃ৮৮১, মুসলিমঃ৮৫০)
⭕৯) পায়ে হেঁটে মসজিদে গমন। (আবু দাউদঃ ৩৪৫)
⭕১০) জুম’আর দিন ফজরের নামাজে ১ম রাক’আতে সূরা সাজদা (সূরা নং-৩২) আর ২য় রাকা’আতে সূরা ইনসান(দাহর)(সূরা নং-৭৬) পড়া। (বুখারীঃ৮৯১, মুসলিমঃ৮৭৯)
⭕১১) সূরা জুম’আ ও সূরা মুনাফিকুন দিয়ে জুম’আর সালাত আদায় করা। অথবা সূরা আলা ও সূরা গাশিয়া দিয়ে জুম’আ আদায় করা। (মুসলিমঃ৮৭৭, ৮৭৮)
⭕১২) জুম’আর দিন ও জুম’আর রাতে বেশী বেশী দুরুদ পাঠ। (আবু দাউদঃ ১০৪৭)
⭕১৩) এ দিন বেশী বেশী দোয়া করা।। (বুখারীঃ ৯৩৫)
⭕১৪) মুসুল্লীদের ফাঁক করে মসজিদে সামনের দিকে এগিয়ে না যাওয়া। (বুখারীঃ৯১০, ৮৮৩)
⭕১৫) মুসুল্লীদের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনের কাতারে আগানোর চেষ্টা না করা। (আবু দাউদঃ ৩৪৩, ৩৪৭)
⭕১৬) কাউকে উঠিয়ে দিয়ে সেখানে বসার চেষ্টা না করা। (বুখারীঃ৯১১, মুসলিমঃ২১৭৭, ২১৭৮)
⭕১৭) খুৎবা চলাকালীন সময়ে মসজিদে প্রবেশ করলে তখনও দু’রাকা’আত ‘তাহিয়্যাতুল মাসজিদ’ সালাত আদায় করা ছাড়া না বসা। (বুখারীঃ ৯৩০)
⭕১৮) জুম’আর দিন জুম’আর পূর্বে মসজিদে জিকর বা কোন শিক্ষামুলক হালকা না করা। অর্থাৎ ভাগ ভাগ হয়ে, গোল গোল হয়ে না বসা, যদিও এটা কোন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান হোক না কেন। (আবু দাউদঃ ১০৮৯)
⭕১৯) কেউ কথা বললে ‘চুপ করুন’ এটুকুও না বলা। (নাসায়ীঃ ৭১৪, বুখারীঃ ৯৩৪)
⭕২০) মসজিদে যাওয়ার আগে কাঁচা পেয়াজ, রসুন না খাওয়া ও ধুমপান না করা। (বুখারীঃ ৮৫৩)
⭕২১) ঘুমের ভাব বা তন্দ্রাচ্ছন্ন হলে বসার জায়গা বদল করে বসা। (আবু দাউদঃ ১১১৯)
⭕২২) ইমামের খুৎবা দেওয়া অবস্থায় দুই হাঁটু উঠিয়ে না বসা। (আবু দাউদঃ ১১১০, ইবনে মাজাহঃ ১১৩৪)
⭕২৩) খুৎবার সময় ইমামের কাছাকাছি বসা। জান্নাতে প্রবেশের উপযুক্ত হলেও ইমাম থেকে দূরে উপবেশনকারীরা বিলম্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (আবু দাউদঃ ১১০৮)
⭕২৪) জুম’আর দিন সূরা কাহফ পড়া। এতে পাঠকের জন্য আল্লাহ তায়ালা দুই জুম’আর মধ্যবর্তী সময়কে আলোকিত করে দেন। (হাকেমঃ ২/৩৬৮, বায়হাকীঃ ৩/২৪৯)
⭕২৫) জুম’আর আযান দেওয়া। অর্থাৎ ইমাম মিম্বরে বসার পর যে আযান দেওয়া হয় তা।(বুখারীঃ ৯১২)
⭕২৬) জুম’আর ফরজ নামাজ আদায়ের পর মসজিদে ৪ রাকা’আত সুন্নাত সালাত আদায় করা। (বুখারীঃ ১৮২, মুসলিমঃ ৮৮১, আবু দাউদঃ ১১৩০)
⭕২৭) উযর ছাড়া একই গ্রাম ও মহল্লায় একাধিক জুম’আ চালু না করা। আর উযর হল এলাকাটি খুব বড় হওয়া, বা প্রচুর জনবসতি থাকা, বা মসজিদ দূরে হওয়া, বা মসজিদে জায়গা না পাওয়া, বা কোন ফিতনা ফাসাদের ভয় থাকা। (মুগনি লিবনি কুদামাঃ ৩/২১২, ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহঃ ২৪/২০৮)
⭕২৮) ওজু ভেঙ্গে গেলে মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়া। অতঃপর আবার ওজু করে মসজিদে প্রবেশ করা। (আবু দাউদঃ ১১১৪)
⭕২৯) একান্ত উযর না থাকলে দুই পিলারে মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গায় সালাত আদায় না করা। (হাকেমঃ ১/১২৮)
⭕৩০) সালাতের জন্য কোন একটা জায়গাকে নির্দিষ্ট করে না রাখা, যেখানে যখন জায়গা পাওয়া যায় সেখানেই সালাত আদায় করা (আবু দাউদঃ৮৬২)। অর্থাৎ আগে থেকেই নামাজের বিছানা বিছিয়ে জায়গা দখল করে না রাখা বরং যে আগে আসবে সেই আগে বসবে।
⭕৩১) কোন নামাজীর সামনে দিয়ে না হাঁটা অর্থাৎ মুসুল্লী ও সুতরার মধ্যবর্তী জায়গা দিয়ে না হাঁটা। (বুখারীঃ৫১০)
⭕৩২) এতটুকু জোরে আওয়াজ করে কোন কিছু না পড়া, যাতে অন্যের সালাত ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা মনোযোগে বিঘ্ন ঘটে। (আবু দাউদঃ ১৩৩২)
⭕৩৩) পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়ার ফযীলত অন্তরে জাগরূক রাখা।
⭕৩৪) হাঁটার আদব মেনে মসজিদে গমন করা।
⭕৩৫) খুৎবার সময় খতীবের কোন কথার সাড়া দেওয়া বা তার প্রশ্নের জবাব দানে শরীক হওয়া জায়েজ। (বুখারীঃ ১০২৯, মুসলিমঃ ৮৯৭)
⭕৩৬) হানাফী আলেমগন বলেছেন যে, ভিড় প্রচণ্ড হলে সামনের মুসুল্লীর পিঠের উপর সিজদা দেওয়া জায়েজ (আহমাদঃ১/৩২)। দরকার হলে পায়ের উপর ও দিতে পারে (আর রাউদুল মুরবী)
⭕৩৭) যেখানে জুম’আর ফরজ আদায় করেছে, উত্তম হল ঐ একই স্থানে সুন্নাত না পড়া। অথবা কোন কথা না বলে এখান থেকে গিয়ে পরবর্তী সুন্নাত সালাত আদায় করা। (মুসলিমঃ ৭১০, বুখারীঃ ৮৪৮)
⭕৩৮) ইমাম সাহেব মিম্বরে এসে হাজির হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাসবীহ-তাহলীল, তাওবা- ইস্তিগফার ও কুরআন তিলাওয়াতে রত থাকা।
লেখকঃ অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম
সূত্রঃ বই-প্রশ্নোত্তরে জুমু’আ ও খুৎবা
পরিমার্জনেঃ ডঃ মোহাম্মদ মনজুরে ইলাহী,
ডঃ আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার,
ডঃ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
সংগৃহীত: (আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল)
🌺💦🌺💦🌺💦🌺💦🌺💦🌺💦🌺💦