08/08/2024
নতুন কারিকুলামে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ভাল এবং মন্দ দুটো দিকই রয়েছে। ভালো দিক হলো-
১। মুখস্থ নির্ভরতা কমানো:
২। অভিজ্ঞতা ভিত্তিক শিখন: একটি শিশু তার জন্মের পর পরিবেশ থেকে ভাসাভাসা জ্ঞান অর্জন করে। এই ভাসাভাসা ধারনা (Surface Learning) বা অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গভীর শিখনের (Deep Learning) দিকে অগ্রসর হবে।
৩। যেহেতু এটা অভিজ্ঞতা ভিত্তিক শিখন, প্রচলিত সার্টিফিকেট ভিত্তিক শিক্ষা নয়। কাজেই এই শিখন শেষে একজন শিক্ষার্থী বাস্তব সমস্যা সমাধান করার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। উদাহরণ স্বরুপ বলা যায় পূর্বের শিক্ষাপদ্ধতিতে অংকে ১০০ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থী জমি পরিমাপ করতে পারেনা। কিন্তু বর্তমান শিক্ষা পদ্ধতিতে অষ্টম শ্রেণি পাশ একজন শিক্ষার্থী যে কোন আকৃতির জমি পরিমাপ করতে সক্ষম। এরকম অনেক ভালদিক রয়েছে।
খারাপ দিক হলো-
১। পরীক্ষা/মূল্যায়ন পদ্ধতি:
২। পাঠ্য বিষয়বস্তুর গুণগত মান।
৩। ইতিহাস বিকৃতি।
৪। অধ্যায় শেষে পর্যাপ্ত পরিমান অনুশীলনী মূলক কাজ না থাকা।
৫। প্রশ্ন সম্পর্কে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর কোন ধারণা নেই। প্রশ্ন তৈরির উপর শিক্ষকদের কোন রূপ ট্রেণিং করানো হয়নি। এনসিটিবি থেকে প্রশ্ন তৈরি করে নেটে দেওয়া হয়।
৬। এই পদ্ধতির কোন সমালোচনা করা যাবেনা: যদি আন্তরিক ইচ্ছা থাকে শিক্ষার্থীদের উন্নতী তবে গঠন মূলক সমালোচনায় এত ভয় কেন? সমালোচনা থেকে যে দূর্বল দিক আছে তা উঠে আসবে।
একজন শিক্ষক হিসেবে আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে পরামর্শ হলো-
১। এই শিক্ষা পদ্ধতি বিলুপ্ত না করে সংস্কার করা প্রয়োজন।
২। শিক্ষকদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করা। এক কথায় পুরো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় শতভাগ দুর্নীতি মুক্ত করা। দুর্নীতি হলো এই পদ্ধতি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় বাধা।
৩। শিল্প ও সংস্কৃতি এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা বই দুইটি সর্বোচ্চ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত রাখা যেতে পারে।
৪। নবম- দশম শ্রেণির শিল্প ও সংস্কৃতি এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা বই দুইটি বাদ দিয়ে বিজ্ঞান বই এর বিষয় বস্তু বৃদ্ধি করা।
৫। প্রত্যেক অধ্যায় শেষে পর্যাপ্ত পরিমান অনুশীলনী মূলক কাজ থাকতে হবে। গণিতের ক্ষেত্রে কমপকক্ষে ২০/২৫ টি। যাতে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী উভয়ই প্রশ্নের ধরণ এবং উত্তর করার প্যাকটিস করতে বা করাতে পারে ।
৬। পাবলিক পরীক্ষায় শিক্ষকদের হাতে ২০% এর বেশি নম্বর রাখা ঠিক হবে না।
৭। শিক্ষার্থীদের যা শিখাতে চাওয়া হচ্ছে তা সরাসরি শিখানো। পাঠ্য বইয়ে কোন সমাধান না দিয়ে কি দেখলে, কি হবে, কি বুঝলে এই সব প্রশ্ন করে ধুয়াশা সৃষ্টি না করা।
৮। মূল্যায়ন পদ্ধতির আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।