নওয়াপাড়া ইফতা বিভাগ

নওয়াপাড়া ইফতা বিভাগ দৈনন্দিন নানান দ্বীনি সমস্যার সমাধান পেতে ইনবক্স বা কমেন্টে প্রশ্ন করুন।

 #আশুরাকরণীয় ও বর্জনীয় – প্রচলিত ভুল ধারণা ও সঠিক আমলআসন্ন আশুরা (১০ই মুহাররম) মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্...
02/07/2025

#আশুরা
করণীয় ও বর্জনীয় – প্রচলিত ভুল ধারণা ও সঠিক আমল

আসন্ন আশুরা (১০ই মুহাররম) মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এই দিনে ঐতিহাসিক নানান ঘটনা ঘটেছে, বিশেষ করে কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনা এই দিনকে আরও স্মরণীয় করে রেখেছে। তবে আশুরাকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে অনেক ভুল ধারণা ও অনৈসলামিক প্রথা প্রচলিত আছে, যা থেকে বেঁচে থাকা অত্যন্ত জরুরি।

এই পোস্টে আমরা আশুরা সংক্রান্ত কিছু জরুরি মাসয়ালা এবং করণীয়-বর্জনীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করব, যা হয়তো অনেকেরই অজানা।

🔷 আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য:
* আশুরা হলো হিজরি সনের প্রথম মাস মুহাররমের দশম দিন।
* এই দিনে আল্লাহ তায়ালা ফেরাউন থেকে মূসা (আ.) ও তাঁর কওমকে রক্ষা করেছিলেন। এর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ মূসা (আ.) এই দিনে রোজা রাখতেন।
* নবী কারীম (সা.) মদিনায় হিজরতের পর ইহুদিদের আশুরার রোজা রাখতে দেখে নিজেও রোজা রেখেছেন এবং সাহাবীদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
* পরবর্তীতে তিনি এর সাথে ৯ই মুহাররম বা ১১ই মুহাররম তারিখেও রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য না হয়।

✅ আশুরা উপলক্ষে আমাদের করণীয়:
১. দু'টি রোজা রাখা: আশুরার মূল আমল হলো রোজা রাখা। সবচেয়ে উত্তম হলো ৯ ও ১০ মুহাররম, অথবা ১০ ও ১১ মুহাররম - এই দুই দিন রোজা রাখা। কেবলমাত্র ১০ মুহাররম রোজা রাখা মাকরূহ নয়, তবে উত্তম হলো এর সাথে মিলিয়ে আরও একটি রোজা রাখা। এই রোজার অনেক ফজিলত রয়েছে, যা দ্বারা বিগত এক বছরের সগীরা গুনাহ মাফ হয়।

২. পরিবার-পরিজনের জন্য সচ্ছলতার ব্যবস্থা করা: আশুরার দিনে নিজের পরিবার-পরিজনের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা বা তাদের প্রতি সচ্ছলতা প্রদর্শন করার বিষয়ে কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়। এতে সারা বছর বরকত লাভের আশা করা যায়।

৩. নফল ইবাদত করা: আশুরা একটি বরকতময় দিন। এই দিনে নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও ইস্তিগফার (আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা) করা যেতে পারে।

❌ আশুরা উপলক্ষে আমাদের বর্জনীয়:
১. মাতম ও তা'জিয়া মিছিল: কারবালার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোক প্রকাশার্থে শরীরকে আঘাত করা, বুক চাপড়ানো, তা'জিয়া মিছিল বের করা বা মর্সিয়া গাওয়া—এগুলো ইসলামের শিক্ষা পরিপন্থী। ইসলামে বিপদে ধৈর্য ধারণ ও আল্লাহ তায়ালার ফায়সালার উপর সন্তুষ্ট থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২. নির্দিষ্ট পোশাক পরিধান: কালো পোশাক পরা বা নির্দিষ্ট কোনো রঙের পোশাককে শোকের প্রতীক হিসেবে নির্ধারণ করা ইসলামে জায়েজ নয়।

৩. খাবার বিতরণকে নির্দিষ্ট রূপ দেওয়া: বিশেষ কোনো খাবার যেমন খিচুড়ি বা হালুয়া বিতরণকে আশুরার অংশ মনে করা বা এটাকে আবশ্যক মনে করা ঠিক নয়। দান-সদকা করা ভালো, তবে এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিন বা পদ্ধতি নির্ধারণ করা বেদআত।

৪. কবর যিয়ারতের নামে বাড়াবাড়ি: আশুরার দিনে বিশেষ করে কবরস্থানে ভিড় করা বা কবরের পাশে নির্দিষ্ট কোনো আমল করা বিদআত। কবর যিয়ারত যেকোনো সময় করা যায়, এর জন্য আশুরাকে নির্দিষ্ট করা ঠিক নয়।

৫. অন্যান্য কুসংস্কার: আশুরাকে কেন্দ্র করে প্রচলিত অন্য যেকোনো প্রকারের কুসংস্কার, যেমন – শিশুদের মাথায় তরবারি রাখা, আগুন নিয়ে খেলা করা, মেলার আয়োজন করা ইত্যাদি থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকা আবশ্যক।

✳️ আমাদের বার্তা:
আশুরা আমাদের জন্য শিক্ষা ও আত্মসমর্পণের দিন। এই দিনে কারবালার ঘটনা থেকে আমাদের উচিত অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এবং দ্বীনের জন্য আত্মত্যাগের প্রেরণা নেওয়া। একই সাথে, কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি বা কুসংস্কার থেকে নিজেদের মুক্ত রেখে সহীহ সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার চেষ্টা করা।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক জ্ঞান দান করুন এবং বিদআত থেকে রক্ষা করে সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমীন।

আপনার যদি আশুরা সংক্রান্ত আরও কোনো প্রশ্ন থাকে, তাহলে ইনবক্সে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। আমরা মুফতি হিসাবে আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত ইনশাআল্লাহ।

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর কাংখিত মাসআলাটি আল-কাউছারে চলে আসলমুহাম্মাদ ফেরদৌস আলআমান - শ্রীপুর, গাজীপুর৬১৮৪. প্রশ্নদেশের কোনো ক...
08/06/2024

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর কাংখিত মাসআলাটি আল-কাউছারে চলে আসল

মুহাম্মাদ ফেরদৌস আলআমান - শ্রীপুর, গাজীপুর
৬১৮৪. প্রশ্ন
দেশের কোনো কোনো এলাকায় কুরবানীর গোশত বণ্টনের একটি সমাজপ্রথা চালু আছে। এই সমাজের নিয়ম ‎হল, এলাকার যারা কুরবানী করেন, তাদের কুরবানীর গোশতের তিন ভাগের একভাগ বাধ্যতামূলকভাবে সমাজে জমা ‎করতে হয়। পরবতীর্তে এই গোশত নির্দিষ্ট সমাজভুক্ত সকল ব্যক্তিবর্গ, যারা কুরবানী করেছেন এবং যারা কুরবানী ‎করেননি সবার মধ্যে বণ্টন করা হয়। এরূপ বণ্টন কি শরীয়মসম্মত? এক্ষেত্রে করণীয় কী?‎

উত্তর

কুরবানীর গোশত বণ্টনের প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিটি আমাদের দেশের কোনো কোনো এলাকায় প্রচলিত একটি সমাজপ্রথা। ‎সাধারণ দৃষ্টিতে এটি একটি ভালো উদ্যোগ মনে হতে পারে; কিন্তু কোনো সামাজিক প্রথা বা রীতি পালন করার জন্য তা ‎শরীয়তের দৃষ্টিতে শুদ্ধ ও আমলযোগ্য কি না— তাও নিশ্চিত হতে হয়। ভালো নিয়ত থাকলেও শরীয়ত সমর্থন করে না ‎অথবা ইসলামের নীতির সাথে মানানসই নয় এমন কোনো কাজ করা বা এমন কোনো রীতি অনুসরণ করার সুযোগ ‎নেই।
প্রশ্নোক্ত সমাজপ্রথাটিতে উদ্দেশ্য ভালো হলেও যে পদ্ধতিতে তা করা হয় এতে শরীয়তের দৃষ্টিতে মৌলিক কিছু আপত্তি ‎রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল, সামাজিক এ প্রথার কারণে সকলেই তার কুরবানীর এক তৃতীয়াংশ গোশত সমাজের ‎লোকদের হাতে দিতে বাধ্য থাকে। এবং এর বিলি-বণ্টন ও গ্রহিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু সমাজপতিদেরই হাত থাকে। ‎গোশত বণ্টনের ক্ষেত্রে এ বাধ্যবাধকতা শরীয়তসম্মত নয়। কেননা শরীয়তে কুরবানী ও গোশত বণ্টন একান্তই ‎কুরবানীদাতার নিজস্ব কাজ।
ঈদের দিন সম্মিলিতভাবে জামাতে নামায আদায় করতে বলা হলেও কুরবানীর জন্য কত মূল্যের পশু কিনবে, সে পশু ‎কোথায় জবাই করবে, গোশত কীভাবে বণ্টন করবে—এ বিষয়গুলো কুরবানীদাতার ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ‎শরীয়তে কুরবানীর কিছু গোশত সদকা করতে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং আত্মীয়-স্বজন ও গরীব-দুঃখীদের কুরবানীর ‎গোশত দিতে তাকিদও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা কুরবানীদাতার উপর অপরিহার্য করা হয়নি। বরং কুরবানীদাতা কী ‎পরিমাণ গোশত নিজে রাখবে, কী পরিমাণ সদকা করবে এবং কাকে কাকে বিলি করবে আর কী পরিমাণ আগামীর ‎জন্য সংরক্ষণ করবে— এগুলো কুরবানীদাতার একান্তই নিজস্ব ব্যাপার এবং ব্যক্তিগতভাবে করার কাজ। এটিকে ‎সামাজিক নিয়মে নিয়ে আসা ঠিক নয়।
তাই শরীয়তের মাসআলা জানা না থাকার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গোশত বণ্টনের প্রশ্নোক্ত যে পদ্ধতি প্রচলিত ‎হয়েছে, তা পরিহারযোগ্য। নিম্নে সংক্ষেপে প্রশ্নোক্ত প্রথাটির কিছু ক্ষতির দিক উল্লেখ করা হল—‎
১. অনেক কুরবানীদাতার পরিবারের সদস্য-সংখ্যা বেশি হওয়ায় অথবা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণে নিজ পরিবারের ‎জন্য বেশি গোশত রাখার প্রয়োজন হয়; ফলে সে পরিবারের জন্য বেশি গোশত রাখতে চায়। আবার অনেকে তার ‎কোনো দরিদ্র আত্মীয়কে কুরবানীর গোশত দিতে চায়। কিন্তু সামাজিক এই বাধ্যবাধকতার কারণে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ‎সামাজিক রীতি অনুযায়ী কুরবানীর এক তৃতীয়াংশ গোশত সমাজে দিতে বাধ্য হয়। অথচ হাদীস শরীফে ইরশাদ ‎হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—‎
إِنَّهُ لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ‎.‎
কোনো মুসলমানের সম্পদ তার সন্তুষ্টি ব্যতীত হালাল নয়। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২০৬৯৫)‎
২. প্রশ্নোক্ত প্রথায় গোশতদাতা তার দানের অংশটি কাকে দেবে সে স্বাধীনতা হারায়। হয়তো সে তার নিকটাত্মীয় অথবা ‎পরিচিত কাউকে একটু বেশি পরিমাণে দিত, কিন্তু এক্ষেত্রে তার জন্য এমনটি করার সুযোগ থাকে না।
৩. অনেক মানুষ এমন আছেন, যারা প্রত্যেকের হাদিয়া বা সদকা গ্রহণ করতে চান না। আর শরীয়তও কাউকে সকলের ‎হাদিয়া বা সদকা গ্রহণ করতে বাধ্য করেনি। কিন্তু সামাজিক এই রীতির কারণে গোশত গ্রহণকারী প্রত্যেকেই অন্য ‎সকলের হাদিয়া বা সদকা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। বলাবাহুল্য এ ধরনের ঐচ্ছিক বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা ‎মোটেই উচিত নয়।
৪. এ ধরনের বাধ্যবাধকতা আরোপের আরেকটি ক্ষতির দিক হল, সমাজের কিছু মানুষ এমন থাকে, যাদের আয় ‎রোজগার হারাম পন্থায় হয়। সেক্ষেত্রে জেনে বুঝে তাদের কুরবানীর গোশত সমাজের সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া ‎হয়। অথচ হারাম উপার্জনের মাধ্যমে কুরবানীকৃত পশুর গোশত খাওয়া জায়েয নয়।
মোটকথা, শরীয়তের শিক্ষা মোতাবেক প্রত্যেককে তার কুরবানীর অংশ দান করার বিষয়ে স্বাধীন রাখতে হবে। প্রশ্নোক্ত ‎পদ্ধতিতে বা অন্য কোনোভাবে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা যাবে না। কুরবানীদাতা নিজ দায়িত্ব ও বিবেচনা মতো যাকে ‎যে পরিমাণ হাদিয়া করতে চায় করবে এবং গরীব-মিসকীনকে যে পরিমাণ সদকা করতে চায় করবে। রাসূলুল্লাহ ‎সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় থেকে শত শত বছর যাবৎ এ পদ্ধতিই চলমান আছে। এই পদ্ধতিই অবলম্বন ‎করা জরুরি। শরীয়ত যা চালু করতে বলেনি এমন কোনো প্রথা চালু করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
‎—সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৭২; জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫১০; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ‎৬/৪৮২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪৭৩; আলবাহরুর রায়েক ৮/১৭৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০০; রদ্দুল মুহতার ‎৬/৩২৮

 #সদকাতুল_ফিতরের_বিধি_বিধানঃ #নওয়াপাড়া_ইফতা_বিভাগ -------------------------------------------بسم الله الرحمن الرحيم. #সদ...
23/03/2024

#সদকাতুল_ফিতরের_বিধি_বিধানঃ
#নওয়াপাড়া_ইফতা_বিভাগ
-------------------------------------------
بسم الله الرحمن الرحيم.
#সদকাতুল_ফিতর_ওয়াজিব_হওয়ার_কারনঃ
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ فَرَضَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم زَكَاةَ الْفِطْرِ طُهْرَةً لِلصَّائِمِ مِنْ اللَّغْوِ وَالرَّفَثِ وَطُعْمَةً لِلْمَسَاكِينِ فَمَنْ أَدَّاهَا قَبْلَ الصَّلَاةِ فَهِيَ زَكَاةٌ مَقْبُولَةٌ وَمَنْ أَدَّاهَا بَعْدَ الصَّلَاةِ فَهِيَ صَدَقَةٌ مِنْ الصَّدَقَاتِ.
হযরত ইবনে আব্বাস রাযিঃ থেকে বর্ণিত৷ হযরত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোযাদারের অনর্থক কথাবার্তা ও অশালীন আচার-আচরণের কাফ্‌ফারাস্বরূপ এবং গরীব-মিসকীনদের আহারের সংস্থান করার জন্য সদকাতুল ফিতরের বিধান দিয়েছেন৷ যে ব্যক্তি ঈদের সলাতের পূর্বে তা পরিশোধ করে (আল্লাহর নিকট)-তা গ্রহণীয় দান হিসেবে বিবেচিত হবে। আর যে ব্যক্তি ঈদের সলাতের পর তা পরিশোধ করে, তাও দানসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি দান হিসেবে বিবেচিত হবে। সনদ হাসান৷ (সুনানে ইবনে মাজাহ ১৮২৭ হাদীস৷ সুনানে আবূ দাউদ ১৬০৯ হাদীস৷ সুনানে দারাকুতনী ২০৬৭ হাদীস৷ মিশকাতুল মাসাবীহ ১৮১৮ হাদীস৷)
※ হযরত আবু হাফস শাহীন গ্রহণযোগ্য সনদে বর্ণনা করেনঃ
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لَا يَزَالُ صِيَامُ الْعَبْدِ مُعَلَّقًاۢ بَيْنَ السَّمَآءِ وَالْأَرْضِ حَتّٰى يُؤَدِّىَ صَدَقَةَ الْفِطْرِ.
হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
বান্দাহর রোযা রবের নিকট পৌঁছে না, আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী ঝুলন্ত অবস্থায় রয়ে যায়, যতক্ষণ পর্যন্ত না সদকাতুল ফিতর আদায় করে। (কানযুল উম্মাল ২৪১৩০ হাদীস৷ ফয়জুল কালাম ৩৬০ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪০ পৃষ্ঠা৷ দুররাতুন নাসিহীন ৪৯৩ পৃষ্ঠা৷)
🔷 ১৷ মাসআলাঃ
#যাদের_উপর_সদকাতুল_ফিতর_ওয়াজিবঃ
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَضَ زَكَاةَ الْفِطْرِ مِنْ رَمَضَانَ عَلَى النَّاسِ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيْرٍ عَلَى كُلِّ حُرٍّ أَوْ عَبْدٍ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى مِنْ الْمُسْلِمِيْنَ.
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমার রাযিঃ থেকে বর্ণিত৷ হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, আযাদ-গোলাম, বালেগ-নাবালেগ সকলের উপর রমযানে সদকাতুল ফিতর হিসেবে একসা খেজুর কিংবা একসা যব নির্ধারন করে দিয়েছেন৷ সনদ সহীহ৷ (সুনানে ইবনে মাজাহ ১৮২৬ হাদীস৷ সহীহুল বুখারী ১৫০৪ হাদীস৷ সহীহু মুসলিম ২১৬৮ হাদীস৷ সুনানে তিরমিযী ৬৭৬ হাদীস৷ সুনানে নাসায়ী ২৫০৪ হাদীস৷)
🔶 ২৷ মাসআলাঃ
ঈদুল ফিতরের দিন যে ব্যক্তির মালিকানায় প্রয়োজন অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে তথা- সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা কিংবা এই পরিমাণ অর্থসম্পদ থাকে, তার উপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব। আর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর হস্তগত থাকা শর্ত নয়৷ (সহীহুল বুখারী ১৫১১ হাদীস৷ মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৮১ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪৬৬ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে জামেয়া ৬/৫৫২ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ২/১৫৫ পৃষ্ঠা৷ শরহে মুখতাসারুল কুদুরী ১/১৪৯ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪০ পৃষ্ঠা৷)
🔷 ৩৷ মাসআলাঃ
সদকাতুল ফিতর নিজের পক্ষ থেকে এবং নিজের অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানদের পক্ষ থেকে আদায় করা ওয়াজিব। তাছাড়া নিজের স্ত্রী, প্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান, মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী, নানা-নানী বা ঘরের অন্যান্য সদস্যদের পক্ষ থেকে আদায় করা ওয়াজিব নয়। তবে তাদের অনুমতিক্রমে ফিতরা দিলে আদায় হয়ে যাবে। (সহীহুল বুখারী ১৫১২ হাদীস৷ মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৮১ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪৭০ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ১/২৮৮ পৃষ্ঠা৷ কানযুদ দাকায়িক ১/২৬৫ পৃষ্ঠা৷ শরহে বেকায়া ১/৫৬৮ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪১ পৃষ্ঠা৷)
🔶 ৪৷ মাসআলাঃ
ঈদুল ফিতরের দিন সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়৷ কাজেই কোন বাচ্চা যদি সুবহে সাদিকের পুর্বে জন্ম গ্রহণ করে তবে তার উপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে৷ আর কেহ যদি সুবহে সদিকের পুর্বেই মৃত্যবরণ করে তবে তার উপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবেনা৷ তাছাড়া পেটের বাচ্চার পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর দেয়া ওয়াজিব হয় না, কিন্তু কেহ যদি ফিতরা দেয় তবে নফল সদকা হিসেবে বিবেচিত হবে। (সহীহু মুসলিম ২১৭৮ হাদীস৷ মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৮১ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪৬৭-৪৬৮ পৃষ্ঠা৷ শরহে বেকায়া ১/৫৬৯ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৭৪-২৭৫ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪০-৪১ পৃষ্ঠা৷)
🔷 ৫৷ মাসআলাঃ
#সদকাতুল_ফিতরের_পরিমাণঃ
عَنْ أَبِىْ سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضى الله عنه ـ يَقُولُ كُنَّا نُخْرِجُ زَكَاةَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ طَعَامٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ أَقِطٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ زَبِيبٍ‏.‏
হযরত আবূ সা’ঈদ খুদরী রাযিঃ থেকে বর্ণিত৷ তিনি বলেনঃ হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাঝে থাকাবস্থায় আমরা একসা পরিমাণ খাদ্য অথবা একসা পরিমাণ যব অথবা একসা পরিমাণ খেজুর অথবা একসা পরিমাণ পনির অথবা একসা পরিমাণ কিসমিস দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করতাম। সনদ সহীহ৷ (সহীহুল বুখারী ১৫০৬ হাদীস৷ সহীহু মুসলিম ২১৭৫ হাদীস৷ সুনানে তিরমিযী ৬৭৩ হাদীস৷ মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৮২ পৃষ্ঠা৷)
🔶 ৬৷ মাসআলাঃ
যব, খেজুর, কিসমিস, পনির এই চার প্রকার খাদ্য দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করতে চাইলে মাথাপিছু একসা পরিমাণ দিতে হবে৷ একসা এর পরিমাণ হলো- ৩কেজি ২৬৬গ্রাম৷ সতর্কতাবশত সাড়ে তিন কেজি দেয়া উত্তম হবে৷ আর গম বা আটা দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করতে চাইলে পাথাপিছু আধাসা পরিমাণ দিতে হবে৷ আধাসা এর পরিমাণ হলো- ১কেজি ৬৩৩ গ্রাম৷ সতর্কতাবশত পৌনে দুই কেজি দেয়া উত্তম হবে৷ (সুনানে ইবনে মাযাহ ১৮২৯ হাদীস৷ সুনানে তিরমিযী ৬৭৩ হাদীস৷ মুয়াত্তা মালিক ৯৯০ হাদীস৷ মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৮২ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/২৬৪ পৃষ্ঠা৷ ইমদাদুল ফতোয়া ২/৭৮ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে জামেয়া ৫/২২০, ৬/৫৫০ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪১ পৃষ্ঠা৷ শরহে বেকায়া ১/৫৬৫ পৃষ্ঠা৷)
🔷 ৭৷ মাসআলাঃ
#পাঁচ_প্রকার_খাদ্যদ্রব্য_দ্বারা_ফিতরা_আদায়_করা_উত্তমঃ
১৷ যব৷
২৷ খেজুর৷
৩৷ কিসমিস৷
৪৷ পনির৷
৫৷ গম বা গমের আটা৷
উক্ত পাঁচ প্রকার খাদ্যদ্রব্য থেকে অধিক মূল্যবান বস্তু দ্বারা ফিতরা আদায় করা উত্তম৷ এছাড়া উক্ত মূল্যের অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য দ্বারাও ফিতরা আদায় করা যায়৷ অতএব সাধ্যানুযায়ী সদকাতুল ফিতর আদায় করা উচিত৷ (সহীহু মুসলিম ২১৭৪ হাদীস৷ মুসনাদে আহমাদ ১০৭৯৮ হাদীস৷ সুনানে দারামী ১৬৬৩ হাদীস৷ মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৮৩ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪১-৪২ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়া ও মাসায়িল ৪/১১৪ পৃষ্ঠা৷)
🔶 ৮৷ মাসআলাঃ
#টাকা_দ্বারাও_সদকাতুল_ফিতর_আদায়_করা_যায়ঃ
যেমন হাদীস শরীফে এসেছে-
«مصنف ابن أبي شيبة» (2/ 404 ت الحوت - الناشر: دار التاج - لبنان): 10438 - حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ عَطَاءٍ، أَنَّ عُمَرَ، كَانَ «يَأْخُذُ الْعُرُوضَ فِي الصَّدَقَةِ ‌مِنَ ‌الْوَرِقِ ‌وَغَيْرِهَا»
হযরত উমর রাযিঃ সদকাতুল ফিতরের ক্ষেত্রে টাকা ইত্যাদি গ্রহণ করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১০৪৩৮ হাদীস৷ আহকামুস সিয়াম ৪১ পৃষ্ঠা৷)
※ অপর বর্ণনায় এসেছে-
«مصنف ابن أبي شيبة» (2/ 398 ت الحوت - الناشر: دار التاج - لبنان): 10371 - حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ زُهَيْرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا إِسْحَاقَ، يَقُولُ: «أَدْرَكْتُهُمْ وَهُمْ يُعْطُونَ فِي صَدَقَةِ رَمَضَانَ الدَّرَاهِمَ بِقِيمَةِ الطَّعَامِ»
হযরত সাহাবায়ে কেরাম রাযিঃ রমযানে সদকাতুল ফিতরে খাদ্যের মূল্য পরিমাণ দিরহাম আদায় করেছেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১০৩৭১ হাদীস৷ আহকামুস সিয়াম ৪১ পৃষ্ঠা৷)
※ প্রসিদ্ধ তাবেয়ী হযরত হাসান বসরী রহিঃ বলেছেনঃ
«مصنف ابن أبي شيبة» (2/ 398 ت الحوت - الناشر: دار التاج - لبنان):10370 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: «لَا بَأْسَ أَنْ تُعْطِيَ الدَّرَاهِمَ فِي صَدَقَةِ الْفِطْرِ»
সদকাতুল ফিতর দিরহাম দ্বারা প্রদান করতে কোন সমস্যা নেই। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১০৩৭০ হাদীস৷ আহকামুস সিয়াম ৪২ পৃষ্ঠা৷)
🔷 ৯৷ মাসআলাঃ
সকল ফকীহগণের ঐকমত্য হলো- গরিবদের জন্য যা বেশী উপকারী হয় তা দ্বারা ফিতরা দেয়া উত্তম। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, বর্তমাণে টাকা-পয়সাই সবচেয়ে বেশী উপকারী বস্তু৷ কেননা এর দ্বারা সহজেই যে কোন প্রয়োজন পূরণ করা সম্ভব হয়৷ কাজেই টাকা দ্বারা ফিতরা দেয়াই উত্তম৷ আর হাদীসে যেসব বস্তু ফিতরার জন্য নির্ধারন করা হয়েছে তা মূলত সহজতার জন্যই ছিল৷ নির্দিষ্ট করার জন্য ছিলনা৷ তবে মূল্যের পরিমাণ নির্ধারন করার ক্ষেত্রে অবশ্যয়ই উক্ত বস্তুসমূহ দ্বারা নির্ধারণ করতে হবে৷ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১০৩৭১ হাদীস৷ মুয়াত্তা মালিক ৬১৫ হাদীস৷ মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৮২ পৃষ্ঠা৷ আল মুগনী ৪/২১৯ পৃষ্ঠা৷ শরহে মুয়াত্তা মালিক আওজাযুল মাসালিক ৬/১২৮ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪৬৬ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ২/১৬৯ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/৩৩২ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪১ পৃষ্ঠা৷)
🔶 ১০৷ মাসআলাঃ
ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পুর্বেই সদকাতুল ফিতর আদায় করা উচিত৷ তবে ঈদের নামাযের পরে দিলেও তা আদায় হয়ে যাবে৷ কিন্তু তা অনুত্তম৷ কেননা হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদগাহে যাওয়ার পুর্বেই সদকাতুল ফিতর প্রদান করার নির্দেশ দিয়েছেন৷ তাই ঈদগাহে যাওয়ার পুর্বেই ফিতরা প্রদান করে দিবে৷ (সুনানে ইবনে মাজাহ ১৮২৭ হাদীস৷ সুনানে আবু দাউদ ১৬১০ হাদীস৷ মুয়াত্তা মালিক ৬১৫ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪৬৭ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ২/১৫৪ পৃষ্ঠা৷ শরহে বেকায়া ১/৫৬৫ পৃষ্ঠা৷ ইসলামী ফিকাহ ২/১৫৫ পৃষ্ঠা৷)
🔷 ১১৷ মাসআলাঃ
যাদেরকে যাকাত দেওয়া যায় ফিতরাও তাদেরকেই দেওয়া যায়৷ এক ফিতরা একজনকে দেওয়া উত্তম৷ তবে একাধিক ব্যক্তিকেও দেওয়া যায়৷ তেমনিভাবে একাধিক ফিতরাও একজনকে দেওয়া যায়৷ (সুনানে আবু দাউদ ১৬১১ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে জামেয়া ৬/৫৫০ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৭৬ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪০ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়া ও মাসায়িল ৪/১১২ পৃষ্ঠা৷)
والله اعلم بالصواب

''গুরুত্বপূর্ণ ১০টি ফতোয়ার কিতাব যা একজন মুফতী সাহেবের নিকট থাকা একান্ত জরুরী''  মুফতী আশরাফ সাঈদ কাসেমী----------------...
25/09/2023

''গুরুত্বপূর্ণ ১০টি ফতোয়ার কিতাব যা একজন
মুফতী সাহেবের নিকট থাকা একান্ত জরুরী''
মুফতী আশরাফ সাঈদ কাসেমী
--------------------------------------------
১৷ ফতোয়ায়ে শামী - আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহি,
২৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী - বাদশাহ আলমগীর কর্তৃক রচিত
৩৷ ফতোয়ায়ে কাযীখান - আবুল হাসান ফখরুদ্দীন রহি,
৪৷ ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া - আলম বিন আলা আল আনসারী রহি,
৫৷ আল মাবসূত - ইমাম মুহাম্মাদ রহি,
৬৷ আল কাফী - ইমাম হাকিম শহীদ রহি,
৭৷ আল হিদায়া - ইমাম বুরহানুদ্দীন আল মুরগীনানী রহি,
৮৷ বাদায়িউস সানায়ী - ইমাম আলাউদ্দীন আল কাসানী রহি,
৯৷ ফতহুল কাদীর - আল্লামা কামালুদ্দীন ইবনে হুমাম রহি,
১০৷ বাওয়াদির ও নাওয়াদির - হাকিমুল উম্মত হযরত থানভী রহি,

 #সদকাতুল_ফিতরের_বিধি_বিধানঃ #নওয়াপাড়া_ইফতা_বিভাগ -------------------------------------------بسم الله الرحمن الرحيم. #সদ...
02/04/2023

#সদকাতুল_ফিতরের_বিধি_বিধানঃ
#নওয়াপাড়া_ইফতা_বিভাগ
-------------------------------------------
بسم الله الرحمن الرحيم.
#সদকাতুল_ফিতর_ওয়াজিব_হওয়ার_কারনঃ
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ فَرَضَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم زَكَاةَ الْفِطْرِ طُهْرَةً لِلصَّائِمِ مِنْ اللَّغْوِ وَالرَّفَثِ وَطُعْمَةً لِلْمَسَاكِينِ فَمَنْ أَدَّاهَا قَبْلَ الصَّلَاةِ فَهِيَ زَكَاةٌ مَقْبُولَةٌ وَمَنْ أَدَّاهَا بَعْدَ الصَّلَاةِ فَهِيَ صَدَقَةٌ مِنْ الصَّدَقَاتِ.
হযরত ইবনে আব্বাস রাযিঃ থেকে বর্ণিত৷ হযরত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোযাদারের অনর্থক কথাবার্তা ও অশালীন আচার-আচরণের কাফ্‌ফারাস্বরূপ এবং গরীব-মিসকীনদের আহারের সংস্থান করার জন্য সদকাতুল ফিতরের বিধান দিয়েছেন৷ যে ব্যক্তি ঈদের সলাতের পূর্বে তা পরিশোধ করে (আল্লাহর নিকট)-তা গ্রহণীয় দান হিসেবে বিবেচিত হবে। আর যে ব্যক্তি ঈদের সলাতের পর তা পরিশোধ করে, তাও দানসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি দান হিসেবে বিবেচিত হবে। সনদ হাসান৷ (সুনানে ইবনে মাজাহ ১৮২৭ হাদীস৷ সুনানে আবূ দাউদ ১৬০৯ হাদীস৷ সুনানে দারাকুতনী ২০৬৭ হাদীস৷ মিশকাতুল মাসাবীহ ১৮১৮ হাদীস৷)

※ হযরত আবু হাফস শাহীন গ্রহণযোগ্য সনদে বর্ণনা করেনঃ
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لَا يَزَالُ صِيَامُ الْعَبْدِ مُعَلَّقًاۢ بَيْنَ السَّمَآءِ وَالْأَرْضِ حَتّٰى يُؤَدِّىَ صَدَقَةَ الْفِطْرِ.
হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
বান্দাহর রোযা রবের নিকট পৌঁছে না, আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী ঝুলন্ত অবস্থায় রয়ে যায়, যতক্ষণ পর্যন্ত না সদকাতুল ফিতর আদায় করে। (কানযুল উম্মাল ২৪১৩০ হাদীস৷ ফয়জুল কালাম ৩৬০ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪০ পৃষ্ঠা৷ দুররাতুন নাসিহীন ৪৯৩ পৃষ্ঠা৷)

🔷 ১৷ মাসআলাঃ
#যাদের_উপর_সদকাতুল_ফিতর_ওয়াজিবঃ
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَضَ زَكَاةَ الْفِطْرِ مِنْ رَمَضَانَ عَلَى النَّاسِ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيْرٍ عَلَى كُلِّ حُرٍّ أَوْ عَبْدٍ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى مِنْ الْمُسْلِمِيْنَ.
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমার রাযিঃ থেকে বর্ণিত৷ হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, আযাদ-গোলাম, বালেগ-নাবালেগ সকলের উপর রমযানে সদকাতুল ফিতর হিসেবে একসা খেজুর কিংবা একসা যব নির্ধারন করে দিয়েছেন৷ সনদ সহীহ৷ (সুনানে ইবনে মাজাহ ১৮২৬ হাদীস৷ সহীহুল বুখারী ১৫০৪ হাদীস৷ সহীহু মুসলিম ২১৬৮ হাদীস৷ সুনানে তিরমিযী ৬৭৬ হাদীস৷ সুনানে নাসায়ী ২৫০৪ হাদীস৷)

🔶 ২৷ মাসআলাঃ
ঈদুল ফিতরের দিন যে ব্যক্তির মালিকানায় প্রয়োজন অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে তথা- সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা কিংবা এই পরিমাণ অর্থসম্পদ থাকে, তার উপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব। আর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর হস্তগত থাকা শর্ত নয়৷ (সহীহুল বুখারী ১৫১১ হাদীস৷ মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৮১ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪৬৬ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে জামেয়া ৬/৫৫২ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ২/১৫৫ পৃষ্ঠা৷ শরহে মুখতাসারুল কুদুরী ১/১৪৯ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪০ পৃষ্ঠা৷)

🔷 ৩৷ মাসআলাঃ
সদকাতুল ফিতর নিজের পক্ষ থেকে এবং নিজের অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানদের পক্ষ থেকে আদায় করা ওয়াজিব। তাছাড়া নিজের স্ত্রী, প্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান, মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী, নানা-নানী বা ঘরের অন্যান্য সদস্যদের পক্ষ থেকে আদায় করা ওয়াজিব নয়। তবে তাদের অনুমতিক্রমে ফিতরা দিলে আদায় হয়ে যাবে। (সহীহুল বুখারী ১৫১২ হাদীস৷ মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৮১ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪৭০ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ১/২৮৮ পৃষ্ঠা৷ কানযুদ দাকায়িক ১/২৬৫ পৃষ্ঠা৷ শরহে বেকায়া ১/৫৬৮ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪১ পৃষ্ঠা৷)

🔶 ৪৷ মাসআলাঃ
ঈদুল ফিতরের দিন সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়৷ কাজেই কোন বাচ্চা যদি সুবহে সাদিকের পুর্বে জন্ম গ্রহণ করে তবে তার উপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে৷ আর কেহ যদি সুবহে সদিকের পুর্বেই মৃত্যবরণ করে তবে তার উপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবেনা৷ তাছাড়া পেটের বাচ্চার পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর দেয়া ওয়াজিব হয় না, কিন্তু কেহ যদি ফিতরা দেয় তবে নফল সদকা হিসেবে বিবেচিত হবে। (সহীহু মুসলিম ২১৭৮ হাদীস৷ মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৮১ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪৬৭-৪৬৮ পৃষ্ঠা৷ শরহে বেকায়া ১/৫৬৯ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৭৪-২৭৫ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪০-৪১ পৃষ্ঠা৷)

🔷 ৫৷ মাসআলাঃ
#সদকাতুল_ফিতরের_পরিমাণঃ
عَنْ أَبِىْ سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضى الله عنه ـ يَقُولُ كُنَّا نُخْرِجُ زَكَاةَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ طَعَامٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ أَقِطٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ زَبِيبٍ‏.‏
হযরত আবূ সা’ঈদ খুদরী রাযিঃ থেকে বর্ণিত৷ তিনি বলেনঃ হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাঝে থাকাবস্থায় আমরা একসা পরিমাণ খাদ্য অথবা একসা পরিমাণ যব অথবা একসা পরিমাণ খেজুর অথবা একসা পরিমাণ পনির অথবা একসা পরিমাণ কিসমিস দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করতাম। সনদ সহীহ৷ (সহীহুল বুখারী ১৫০৬ হাদীস৷ সহীহু মুসলিম ২১৭৫ হাদীস৷ সুনানে তিরমিযী ৬৭৩ হাদীস৷ মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৮২ পৃষ্ঠা৷)

🔶 ৬৷ মাসআলাঃ
যব, খেজুর, কিসমিস, পনির এই চার প্রকার খাদ্য দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করতে চাইলে মাথাপিছু একসা পরিমাণ দিতে হবে৷ একসা এর পরিমাণ হলো- ৩কেজি ৩০০গ্রাম৷ সতর্কতাবশত সাড়ে তিন কেজি দেয়া উত্তম হবে৷ আর গম বা আটা দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করতে চাইলে পাথাপিছু আধাসা পরিমাণ দিতে হবে৷ আধাসা এর পরিমাণ হলো- ১কেজি ৬৫০গ্রাম৷ সতর্কতাবশত পৌনে দুই কেজি দেয়া উত্তম হবে৷ (সুনানে ইবনে মাযাহ ১৮২৯ হাদীস৷ সুনানে তিরমিযী ৬৭৩ হাদীস৷ মুয়াত্তা মালিক ৯৯০ হাদীস৷ মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৮২ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/২৬৪ পৃষ্ঠা৷ ইমদাদুল ফতোয়া ২/৭৮ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে জামেয়া ৫/২২০, ৬/৫৫০ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪১ পৃষ্ঠা৷ শরহে বেকায়া ১/৫৬৫ পৃষ্ঠা৷)

🔷 ৭৷ মাসআলাঃ
#পাঁচ_প্রকার_খাদ্যদ্রব্য_দ্বারা_ফিতরা_আদায়_করা_উত্তমঃ
১৷ যব৷
২৷ খেজুর৷
৩৷ কিসমিস৷
৪৷ পনির৷
৫৷ গম বা গমের আটা৷
উক্ত পাঁচ প্রকার খাদ্যদ্রব্য থেকে অধিক মূল্যবান বস্তু দ্বারা ফিতরা আদায় করা উত্তম৷ এছাড়া উক্ত মূল্যের অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য দ্বারাও ফিতরা আদায় করা যায়৷ অতএব সাধ্যানুযায়ী সদকাতুল ফিতর আদায় করা উচিত৷ (সহীহু মুসলিম ২১৭৪ হাদীস৷ মুসনাদে আহমাদ ১০৭৯৮ হাদীস৷ সুনানে দারামী ১৬৬৩ হাদীস৷ মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৮৩ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪১-৪২ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়া ও মাসায়িল ৪/১১৪ পৃষ্ঠা৷)

🔶 ৮৷ মাসআলাঃ
#টাকা_দ্বারাও_সদকাতুল_ফিতর_আদায়_করা_যায়ঃ
যেমন হাদীস শরীফে এসেছে-
«مصنف ابن أبي شيبة» (2/ 404 ت الحوت - الناشر: دار التاج - لبنان): 10438 - حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ عَطَاءٍ، أَنَّ عُمَرَ، كَانَ «يَأْخُذُ الْعُرُوضَ فِي الصَّدَقَةِ ‌مِنَ ‌الْوَرِقِ ‌وَغَيْرِهَا»
হযরত উমর রাযিঃ সদকাতুল ফিতরের ক্ষেত্রে টাকা ইত্যাদি গ্রহণ করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১০৪৩৮ হাদীস৷ আহকামুস সিয়াম ৪১ পৃষ্ঠা৷)

※ অপর বর্ণনায় এসেছে-
«مصنف ابن أبي شيبة» (2/ 398 ت الحوت - الناشر: دار التاج - لبنان): 10371 - حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ زُهَيْرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا إِسْحَاقَ، يَقُولُ: «أَدْرَكْتُهُمْ وَهُمْ يُعْطُونَ فِي صَدَقَةِ رَمَضَانَ الدَّرَاهِمَ بِقِيمَةِ الطَّعَامِ»
হযরত সাহাবায়ে কেরাম রাযিঃ রমযানে সদকাতুল ফিতরে খাদ্যের মূল্য পরিমাণ দিরহাম আদায় করেছেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১০৩৭১ হাদীস৷ আহকামুস সিয়াম ৪১ পৃষ্ঠা৷)

※ প্রসিদ্ধ তাবেয়ী হযরত হাসান বসরী রহিঃ বলেছেনঃ
«مصنف ابن أبي شيبة» (2/ 398 ت الحوت - الناشر: دار التاج - لبنان):10370 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: «لَا بَأْسَ أَنْ تُعْطِيَ الدَّرَاهِمَ فِي صَدَقَةِ الْفِطْرِ»
সদকাতুল ফিতর দিরহাম দ্বারা প্রদান করতে কোন সমস্যা নেই। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১০৩৭০ হাদীস৷ আহকামুস সিয়াম ৪২ পৃষ্ঠা৷)

🔷 ৯৷ মাসআলাঃ
সকল ফকীহগণের ঐকমত্য হলো- গরিবদের জন্য যা বেশী উপকারী হয় তা দ্বারা ফিতরা দেয়া উত্তম। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, বর্তমাণে টাকা-পয়সাই সবচেয়ে বেশী উপকারী বস্তু৷ কেননা এর দ্বারা সহজেই যে কোন প্রয়োজন পূরণ করা সম্ভব হয়৷ কাজেই টাকা দ্বারা ফিতরা দেয়াই উত্তম৷ আর হাদীসে যেসব বস্তু ফিতরার জন্য নির্ধারন করা হয়েছে তা মূলত সহজতার জন্যই ছিল৷ নির্দিষ্ট করার জন্য ছিলনা৷ তবে মূল্যের পরিমাণ নির্ধারন করার ক্ষেত্রে অবশ্যয়ই উক্ত বস্তুসমূহ দ্বারা নির্ধারণ করতে হবে৷ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১০৩৭১ হাদীস৷ মুয়াত্তা মালিক ৬১৫ হাদীস৷ মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৮২ পৃষ্ঠা৷ আল মুগনী ৪/২১৯ পৃষ্ঠা৷ শরহে মুয়াত্তা মালিক আওজাযুল মাসালিক ৬/১২৮ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪৬৬ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ২/১৬৯ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/৩৩২ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪১ পৃষ্ঠা৷)

🔶 ১০৷ মাসআলাঃ
ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পুর্বেই সদকাতুল ফিতর আদায় করা উচিত৷ তবে ঈদের নামাযের পরে দিলেও তা আদায় হয়ে যাবে৷ কিন্তু তা অনুত্তম৷ কেননা হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদগাহে যাওয়ার পুর্বেই সদকাতুল ফিতর প্রদান করার নির্দেশ দিয়েছেন৷ তাই ঈদগাহে যাওয়ার পুর্বেই ফিতরা প্রদান করে দিবে৷ (সুনানে ইবনে মাজাহ ১৮২৭ হাদীস৷ সুনানে আবু দাউদ ১৬১০ হাদীস৷ মুয়াত্তা মালিক ৬১৫ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৪৬৭ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ২/১৫৪ পৃষ্ঠা৷ শরহে বেকায়া ১/৫৬৫ পৃষ্ঠা৷ ইসলামী ফিকাহ ২/১৫৫ পৃষ্ঠা৷)

🔷 ১১৷ মাসআলাঃ
যাদেরকে যাকাত দেওয়া যায় ফিতরাও তাদেরকেই দেওয়া যায়৷ এক ফিতরা একজনকে দেওয়া উত্তম৷ তবে একাধিক ব্যক্তিকেও দেওয়া যায়৷ তেমনিভাবে একাধিক ফিতরাও একজনকে দেওয়া যায়৷ (সুনানে আবু দাউদ ১৬১১ হাদীস৷ ফতোয়ায়ে জামেয়া ৬/৫৫০ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৭৬ পৃষ্ঠা৷ আহকামুস সিয়াম ৪০ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়া ও মাসায়িল ৪/১১২ পৃষ্ঠা৷)
والله اعلم بالصواب

24/08/2022
 #মুহাররম_মাসের_সুন্নাত_ও_বিদআতভূমিকা :আল্লাহ তা‘আলা বার মাসের মধ্যে মুহাররম, রজব, যুলক্বা‘দাহ ও যুলহিজ্জাহ এই চারটি মাস...
27/07/2022

#মুহাররম_মাসের_সুন্নাত_ও_বিদআত

ভূমিকা :

আল্লাহ তা‘আলা বার মাসের মধ্যে মুহাররম, রজব, যুলক্বা‘দাহ ও যুলহিজ্জাহ এই চারটি মাসকে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। এই মাসগুলো ‘হারাম’ বা সম্মানিত মাস হিসাবে পরিগণিত। ঝগড়া-বিবাদ, লড়াই, খুন-খারাবী ইত্যাদি অন্যায়-অপকর্ম হ’তে দূরে থেকে এর মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। যেমন আল্লাহ বলেন, فَلاَ تَظْلِمُوْا فِيْهِنَّ أَنْفُسَكُمْ ‘এই মাসগুলিতে তোমরা পরস্পরের উপরে অত্যাচার কর না’ (তওবা ৯/৩৬)। রাসূল (ছাঃ) কর্তৃক আশূরার ছিয়াম পালন ও এর ফযীলত বর্ণনার মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই এ মাসের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দুঃখের বিষয় হ’ল, রাসূল (ছাঃ) যে উদ্দেশ্যে আশূরার ছিয়াম পালন করেছেন, আমরা তাঁর উদ্দেশ্যের কথা ভুলে গিয়ে এমন উদ্দেশ্যে ছিয়াম পালন করছি যা কুরআন ও সুন্নাতের সম্পূর্ণ বিরোধী। সাথে সাথে এমন সব বিদ‘আতে লিপ্ত হয়েছি যা থেকে বেঁচে থাকা একান্ত যরূরী। নিম্নে মুহাররম মাসের সুন্নাত ও বিদ‘আত সম্পর্কে আলোকপাত করা হ’ল।-

মুহাররম মাসের সুন্নাতী আমল

মুহাররম মাসের সুন্নাতী আমল সম্পর্কে ছহীহ হাদীছ সমূহে যা বর্ণিত হয়েছে তা হ’ল আশূরার ছিয়াম পালন করা। রাসূল (ছাঃ) ১০ই মুহাররমে ছিয়াম পালন করেছেন। ইহূদী ও নাছারারা শুধুমাত্র ১০ই মুহাররমকে সম্মান করত এবং ছিয়াম পালন করত। তাই রাসূল (ছাঃ) তাদের বিরোধিতা করার জন্য ঐ দিন সহ তার পূর্বের অথবা পরের দিন সহ ছিয়াম পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব সুন্নাত হ’ল, ৯ ও ১০ই মুহাররম অথবা ১০ ও ১১ই মুহাররমে ছিয়াম পালন করা। আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন,

حِيْنَ صَامَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ عَاشُوْرَاءَ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ قَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّهُ يَوْمٌ تُعَظِّمُهُ الْيَهُوْدُ وَالنَّصَارَى. فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ إِنْ شَاءَ اللهُ صُمْنَا الْيَوْمَ التَّاسِعَ قَالَ فَلَمْ يَأْتِ الْعَامُ الْمُقْبِلُ حَتَّى تُوُفِّىَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم-

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যখন আশূরার ছিয়াম পালন করলেন এবং ছিয়াম পালনের নির্দেশ দিলেন, তখন ছাহাবায়ে কেরাম রাসূল (ছাঃ)-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! ইহূদী ও নাছারাগণ এই দিনটিকে (১০ই মুহাররম) সম্মান করে। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘আগামী বছর বেঁচে থাকলে ইনশাআল্লাহ আমরা ৯ই মুহাররম সহ ছিয়াম রাখব’। রাবী বলেন, কিন্তু পরের বছর মুহাররম আসার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়ে যায়।[1] অন্য হাদীছে এসেছে, ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, صُوْمُوْا يَوْمَ عَاشُوْرَاءَ وَخَالِفُوْا فِيْهِ الْيَهُوْدَ صُوْمُوْا قَبْلَهُ يَوْماً أَوْ بَعْدَهُ يَوْماً- ‘তোমরা আশূরার দিন ছিয়াম রাখ এবং ইহূদীদের বিরোধিতা কর। তোমরা আশূরার সাথে তার পূর্বে একদিন বা পরে একদিন ছিয়াম পালন কর’।[2]

আশূরার ছিয়ামের ফযীলত :

ফযীলতের দিক থেকে রামাযানের ছিয়ামের পরেই আশূরার ছিয়ামের অবস্থান। এটা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা স্বরূপ। অর্থাৎ এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা হয়। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ شَهْرُ اللهِ الْمُحَرَّمُ وَأَفْضَلُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْفَرِيْضَةِ صَلاَةُ اللَّيْلِ- ‘রামাযানের পরে সর্বোত্তম ছিয়াম হ’ল মুহাররম মাসের ছিয়াম (অর্থাৎ আশূরার ছিয়াম) এবং ফরয ছালাতের পরে সর্বোত্তম ছালাত হ’ল রাতের নফল ছালাত’ (অর্থাৎ তাহাজ্জুদের ছালাত)।[3] অন্য হাদীছে এসেছে, আবু ক্বাতাদাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, وَصِيَامُ يَوْمِ عَاشُوْرَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِى قَبْلَهُ- ‘আমি আশা করি আশূরা বা ১০ই মুহাররমের ছিয়াম আল্লাহর নিকটে বান্দার বিগত এক বছরের (ছগীরা) গোনাহের কাফফারা হিসাবে গণ্য হবে’।[4]

আশূরার ছিয়াম পালনের উদ্দেশ্য :

১০ই মুহাররম তারিখে অত্যাচারী পাপিষ্ঠ ফেরাঊন ও তার কওম আল্লাহর প্রিয় নবী মূসা (আঃ)-কে হত্যার ঘৃণিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হ’লে ফেরাঊনের সাগরডুবি হয় এবং মূসা (আঃ) ও তাঁর সম্প্রদায় বনু ইস্রাঈল আল্লাহ তা‘আলার বিশেষ রহমতে অত্যাচারী ফেরাঊনের হাত থেকে মুক্তিলাভ করে। তার শুকরিয়া হিসাবে মূসা (আঃ) এ দিন নফল ছিয়াম রাখেন। মূসা (আঃ)-এর তাওহীদী আদর্শের সনিষ্ঠ অনুসারী হিসাবে স্বয়ং মুহাম্মাদ (ছাঃ) এ দিনে নফল ছিয়াম পালন করেছেন এবং তাঁর উম্মতকে পালন করতে বলেছেন। ইহূদীরা কেবল ১০ তারিখে ছিয়াম রাখত। তাই তাদের বিরোধিতার লক্ষ্যে তার আগের অথবা পরের দিনকে যোগ করার কথা রাসূল (ছাঃ) বলেছেন। হাদীছে এসেছে, আব্দুল্লাহ বিন আববাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মদীনায় হিজরত করে ইহূদীদেরকে আশূরার ছিয়াম রাখতে দেখে কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন,

هَذَا يَوْمٌ عَظِيمٌ أَنْجَى اللهُ فِيْهِ مُوْسَى وَقَوْمَهُ وَغَرَّقَ فِرْعَوْنَ وَقَوْمَهُ فَصَامَهُ مُوْسَى شُكْرًا فَنَحْنُ نَصُوْمُهُ. فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَنَحْنُ أَحَقُّ وَأَوْلَى بِمُوْسَى مِنْكُمْ. فَصَامَهُ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ

‘এটি একটি মহান দিন। এদিনে আল্লাহ মূসা (আঃ) ও তাঁর কওমকে নাজাত দিয়েছিলেন এবং ফেরাঊন ও তার লোকদের ডুবিয়ে মেরেছিলেন। তাঁর শুকরিয়া হিসাবে মূসা (আঃ) এ দিন ছিয়াম পালন করেন। তাই আমরাও এ দিন ছিয়াম পালন করি। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, তোমাদের চাইতে আমরাই মূসা (আঃ)-এর (আদর্শের) অধিক হকদার ও অধিক দাবীদার। অতঃপর তিনি ছিয়াম রাখেন ও সকলকে রাখতে বলেন’।[5]

উল্লেখ্য যে, আশূরায়ে মুহাররম উপলক্ষে ৯ ও ১০ই মহাররম অথবা ১০ ও ১১ই মুহাররম এই দু’টি ছিয়াম পালন করা সুন্নাত। এছাড়া অন্য কোন ইবাদত সুন্নাত নয়। আর তাও হ’তে হবে একমাত্র ফেরাঊনের কবল থেকে মূসা (আঃ)-এর নাজাতের শুকরিয়া স্বরূপ। শাহাদতে হুসাইনের শোক বা মাতম স্বরূপ কখনোই নয় ।

মুহাররম মাসের বিদ‘আত সমূহ

(১) শাহাদতে হুসাইনের শোক পালনের উদ্দেশ্যে ছিয়াম পালন করা : উপরোক্ত আলোচনায় মুহাররম মাসের সুন্নাতী আমল এবং তা পালনের উদ্দেশ্য ছহীহ হাদীছ দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হ’ল। আর তা হ’ল, অত্যাচারী শাসক ফেরাউনের কবল থেকে মূসা (আঃ)-এর নাজাতের শুকরিয়া স্বরূপ ৯ ও ১০ই মুহাররম অথবা ১০ ও ১১ই মুহাররম ছিয়াম পালন করা। বর্তমান সমাজে উক্ত দু’টি ছিয়াম পালনের প্রচলন রয়েছে। তবে তা শাহাদতে হুসাইনের শোক পালনের উদ্দেশ্যেই পালিত হয়ে থাকে। যা সম্পূর্ণরূপে ছহীহ হাদীছ বিরোধী এবং স্পষ্ট বিদ‘আত। কেননা এই ছিয়ামের সূচনা হয়েছে মূসা (আঃ)-এর সময় থেকে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁর জীবদ্দশাতেই মুহাররমের ছিয়াম পালন করেছেন। আর কারবালার ঘটনা ঘটেছে রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যুর ৫০ বছর পরে ৬১ হিজরীতে। তাহ’লে কি করে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) হুসাইন (রাঃ)-এর শাহাদতের কারণে এই ছিয়াম পালন করলেন? অতএব এসব নিছক ভিত্তিহীন কথা মাত্র। রাসূল (ছাঃ) আশূরার ছিয়াম পালন করেছিলেন অত্যাচারী শাসক ফেরাঊনের কবল থেকে মূসা (আঃ)-এর নাজাতের আনন্দে আল্লাহর শুকরিয়া স্বরূপ। পক্ষান্তরে আমরা আজ তা পালন করছি হুসাইন (রাঃ)-এর শাহাদতের শোক স্বরূপ। অথচ ওমর (রাঃ), ওছমান (রাঃ) সহ আরো অনেক ছাহাবী শাহাদত বরণ করেছেন। আমরা তাঁদের স্মরণে কিছুই করি না। যদি হুসাইন (রাঃ)-এর শাহাদতের কারণে শোক দিবস পালন করা হয়, তাহ’লে ওমর ও ওছমান (রাঃ)-এর শোক দিবস পালনের অধিক হক রাখে। বিদ‘আতীদের নিকট এ সমস্ত ছাহাবায়ে কেরামের শাহাদত বরণে শোক তো দূরের কথা; বরং আনন্দ দিবসে পরিণত হয়। যেমন- আববাসীয় খলীফা মুত্বী‘ বিন মুক্বতাদিরের সময়ে (৩৩৪-৩৬৩হিঃ/৯৪৬-৯৭৪ খৃঃ) তাঁর কট্টর শী‘আ আমীর আহমাদ বিন বূইয়া দায়লামী ওরফে মুইযযুদ্দৌলা ৩৫১ হিজরীর ১৮ই যিলহজ্জ তারিখে বাগদাদে ওছমান (রাঃ)-এর শাহাদত বরণের তারিখকে তাদের হিসাবে খুশীর দিন মনে করে ‘ঈদের দিন’ (عيد غدير خم) হিসাবে ঘোষণা করেন। শী‘আদের নিকটে এই দিনটি পরবর্তীতে ঈদুল আযহার চাইতেও গুরুত্ব পায়। অতঃপর ৩৫২ হিজরীর শুরুতে ১০ই মুহাররমকে তিনি হুসাইন (রাঃ)-এর শাহাদত বরণের ‘শোক দিবস’ ঘোষণা করেন এবং সকল দোকান-পাট, ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালত বন্ধ করে দেন এবং মহিলাদেরকে শোকে চুল ছিঁড়তে, চেহারা কালো করতে, রাস্তায় নেমে শোকগাথা গেয়ে চলতে বাধ্য করেন। শহর ও গ্রামের সর্বত্র সকলকে শোক মিছিলে যোগদান করতে নির্দেশ দেন। শী‘আরা খুশী মনে এই নির্দেশ পালন করে। কিন্তু সুন্নীরা নিষ্ক্রিয় থাকেন। পরে সুন্নীদের উপরে এই ফরমান জারি করা হ’লে ৩৫৩ হিজরীতে উভয় দলে ব্যাপক সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে বাগদাদে তীব্র নাগরিক অসন্তোষ ও সামাজিক অশান্তির সৃষ্টি হয়।[6] আমরা বর্তমানে যে উদ্দেশ্যে আশূরার ছিয়াম পালন করছি তা শী‘আদের থেকে গৃহীত; যা অবশ্যই বর্জনীয়।

(২) ১০ই মুহাররমকে আনন্দ উৎসবে পরিণত করা : রাফেযীরা (কট্টর শী‘আ) হুসাইন (রাঃ)-এর শাহাদতের শোক স্বরূপ শোক দিবস পালন করে। পক্ষান্তরে একটি গোষ্ঠী রাফেযীদের বিরোধিতা করার লক্ষ্যে এ দিনটিকে আনন্দ উৎসবে পরিণত করে। এ দিনে রাফেযীদের শোক দিবস যেমন বিদ‘আত; তেমনি তাদের বিরোধিতার লক্ষ্যে এ দিনে আনন্দ উৎসব করাও বিদ‘আত। এটা যেন বিদ‘আত দিয়ে বিদ‘আত এবং মিথ্যা দিয়ে মিথ্যা প্রতিহত করার চেষ্টা। অথচ উচিত ছিল সুন্নাত দিয়ে বিদ‘আত প্রতিহত করা। সত্য দিয়ে মিথ্যা প্রতিহত করা। রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম এ দিনটিকে শোক দিবস হিসাবেও পালন করেননি। আবার আনন্দ উৎসবেও পরিণত করেননি। তাঁরা শুধুমাত্র ফেরাউনের কবল থেকে মূসা (আঃ)-এর নাজাতের শুকরিয়া স্বরূপ ছিয়াম পালন করেছেন।[7]

(৩) তা‘যিয়া : তা‘যিয়া অর্থ বিপদে সান্ত্বনা দেওয়া। যেটা বর্তমানে শাহাদাতে হোসাইনের শোক মিছিলে রূপ নিয়েছে। অথচ ইসলামে কারো মৃত্যুতে তিন দিনের অধিক শোক পালন করা নিষেধ।[8] কিন্তু বাগদাদের গোঁড়া শী‘আ আমীর মু‘ইযযুদ্দৌলা ৩৫২ হিজরীর ১০ই মুহাররমকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করেন এবং শহর ও গ্রামের সকলকে তা‘যিয়া মিছিলে যোগদানের নির্দেশ দেন। সেদিন থেকেই এই বিদ‘আতী প্রথা চালু হয়েছে। শী‘আদের উদ্ভাবিত এই বিদ‘আতী প্রথার অনুসরণেই বাংলাদেশের বিদ‘আতীরা ১০ই মুহাররমে মিছিল বের করে থাকে। প্রত্যেক আল্লাহভীরু মুসলমানের এই সব বিদ‘আত হ’তে দূরে থাকা আবশ্যক।

(৪) ১০ই মুহাররমে চোখে সুরমা লাগানো : অনেকেই আশুরার দিন বা ১০ই মুহাররমে বিশেষ ফযীলতের আশায় চোখে সুরমা লাগিয়ে থাকে; যা সুস্পষ্ট বিদ‘আত। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম আশূরার দিনে চোখে সুরমা লাগাননি এবং এর কোন ফযীলত বর্ণনা করেননি। ‘আশূরার দিনে চোখে ইছমিদ সুরমা লাগালে কখনোই চোখে রোগ হবে না’ মর্মে প্রচলিত হাদীছটি মাওযূ বা জাল।[9]

(৫) ১০ই মুহাররমে বিশেষ ফযীলতের আশায় বিশেষ পদ্ধতিতে ছালাত আদায় করা : ১০ই মুহাররমে বিশেষ ফযীলতের আশায় বিশেষ পদ্ধতিতে ছালাত আদায় করা হয়ে থাকে; যা সুস্পষ্ট বিদ‘আত। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম এ দিনে বিশেষ কোন ছালাত আদায় করেছেন মর্মে কোন ছহীহ দলীল পাওয়া যায় না। এ সম্পর্কে যা পাওয়া যায় তার সবগুলিই জাল বা বানোয়াট। যেমন-

(ক) আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘আশূরার দিনে যে ব্যক্তি চার রাক‘আত ছালাত আদায় করবে এবং প্রত্যেক রাক‘আতে একবার সূরা ফাতিহা ও পঞ্চাশবার সূরা ইখলাছ তেলাওয়াত করবে, আল্লাহ তা‘আলা তার অতীতের পঞ্চাশ বছরের গুনাহ এবং ভবিষ্যতের পঞ্চাশ বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন’। উল্লিখিত হাদীছটি জাল বা বানোয়াট।[10]

(খ) রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আশূরার দিনে যোহর ও আছরের ছালাতের মাঝখানে চল্লিশ রাক‘আত ছালাত আদায় করবে। প্রত্যেক রাক‘আতে একবার সূরা ফাতিহা, দশবার আয়াতুল কুরসী, দশবার সূরা ইখলাছ, পাঁচবার সূরা ফালাক্ব এবং পাঁচবার সূরা নাস তেলাওয়াত করবে আল্লাহ তা‘আলা তাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করবেন’। অত্র হাদীছটিও জাল বা বানোয়াট।[11]

শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন,ليس في حديث عاشوراء حديث صحيح غير الصوم، وما يروي في فضل صلاة معينة فيه فهذا كله كذب موضوع باتفاق أهل المعرفة، ولم ينقل هذه الأحاديث أحد من أئمة أهل العلم في كتبهم- ‘ছিয়াম ব্যতীত আশূরা সম্পর্কিত কোন ছহীহ হাদীছ নেই। এই দিনে নির্দিষ্ট ছালাতের ফযীলত সম্পর্কে যে বর্ণনা এসেছে প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিছগণের ঐক্যমতে তার সবগুলিই মিথ্যা ও বানোয়াট। মুহাক্কিক আলেমদের কেউই তাদের কিতাব সমূহে এ সমস্ত হাদীছ সংকলন করেননি।[12]

অতএব এ উপলক্ষে আশূরার দু’টি ছিয়াম ব্যতীত অন্য কোন ইবাদত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ), ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈনে ইযাম, ইমাম চতুষ্টয়ের কেউ কখনোই করেননি। আর তাঁরা ছিয়াম দু’টি পালন করেছেন কেবল ফেরাউনের কবল থেকে মূসা (আঃ)-এর নাজাতের শুকরিয়া স্বরূপ; শাহাদতে হুসাইনের শোক স্বরূপ নয়। সুতরাং বর্তমানে আশূরা উপলক্ষে যা হচ্ছে তার সবগুলিই পরবর্তী যূগের বিদ‘আতীদের আবিষ্কার; যা অবশ্যই বর্জনীয়।

(৬) তাবেঈ ইয়াযীদ বিন মু‘আবিয়া-কে ‘মালঊন’ বা অভিশপ্ত বলে গালি দেওয়া : ইয়াযীদ বিন মু‘আবিয়াকে ‘মালঊন’ বা অভিশপ্ত বলে গালি দেওয়া আদৌ ঠিক নয়। বরং সকল মুসলমানের ন্যায় তার মাগফেরাতের জন্য দো‘আ করা উচিত। কেননা মানুষ হিসাবে তার কিছু ভুল-ত্রুটি থাকলেও কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার জন্য তিনি দায়ী নন। এজন্য মূলতঃ দায়ী বিশ্বাসঘাতক কূফাবাসী ও নিষ্ঠুর গভর্ণর ওবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদ। কেননা ইয়াযীদ কেবল হুসাইন (রাঃ)-এর আনুগত্য চেয়েছিলেন, তাঁর খুন চাননি। হুসাইন (রাঃ) সে আনুগত্য দিতেও প্রস্ত্তত ছিলেন। ইয়াযীদ স্বীয় পিতার অছিয়ত অনুযায়ী হুসাইনকে সর্বদা সম্মান করেছেন এবং তখনও করতেন। হুসাইন (রাঃ)-এর ছিন্ন মস্তক ইয়াযীদের সামনে রাখা হ’লে তিনি কেঁদে বলে ওঠেন, ‘ওবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদের উপর আল্লাহ লা‘নত করুন। আল্লাহর কসম! যদি হুসাইনের সাথে ওর রক্তের সম্পর্ক থাকত, তাহ’লে সে কিছুতেই তাঁকে হত্যা করত না। তিনি আরো বলেন, হুসাইনের খুন ছাড়াও আমি ইরাকীদেরকে আমার আনুগত্যে রাযী করাতে পারতাম’।[13]

কূফার নেতাদের লিখিত ১৫০টি পত্র পেয়ে হুসাইন (রাঃ) কূফায় আসলে বছরার গভর্ণর ওবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদ কূফার গভর্ণর মুসলিম বিন আকীলকে গ্রেফতার করে হত্যা করে। এদিকে হুসাইন (রাঃ) প্রদত্ত তিনটি প্রস্তাবের কোনটি গ্রহণ না করায় দুষ্টমতি ওবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদের সাথে সংঘর্ষ অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। এতে হুসাইন (রাঃ) সপরিবারে নিহত হন।[14]

উপসংহার :

সম্মানিত পাঠক! পরিপূর্ণভাবে ইসলামের উপর টিকে থাকতে হ’লে ফিরে যেতে হবে একমাত্র পবিত্র কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহর দিকে। মুসলিম জাতি আজ কুরআন-সুন্নাহ থেকে ছিটকে পড়েছে। ফলে বিদ‘আতের কাল মেঘে আচ্ছাদিত হয়েছে ইসলামী শরী‘আতের স্বচ্ছ আকাশ। এ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য শারঈ জ্ঞানার্জন অপরিহার্য। মুহাররম মাসে রাসূল (ছাঃ) কি করেছেন আর আমরা কি করছি তা মিলিয়ে দেখতে হবে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহর সাথে। কারবালার ঘটনা সম্পর্কে সকল প্রকার আবেগ ও বাড়াবাড়ি হ’তে দূরে থাকতে হবে এবং আশূরা উপলক্ষে প্রচলিত শিরক ও বিদ‘আতী আক্বীদা-বিশ্বাস ও রসম-রেওয়াজ পরিহার করতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে বিদ‘আত মুক্ত জীবন-যাপন করার তওফীক্ব দান করুন- আমীন!

মুহাররম মাসের সুন্নাত ও বিদ‘আত

মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম

লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব; দাঈ, আল-ফুরক্বান ইসলামিক সেন্টার, মানামা, বাহারাইন।

[1]. মুসলিম হা/১১৩৪।

[2]. বায়হাক্বী ৪র্থ খন্ড, পৃঃ ২৮৭। অত্র রেওয়ায়াতটি ‘মারফূ’ হিসাবে ছহীহ নয়, তবে ‘মওকূফ’ হিসাবে ‘ছহীহ’। দ্রঃ হাশিয়া ছহীহ ইবনু খুযায়মা হা/২০৯৫, ২/২৯০ পৃঃ। ৯, ১০ বা ১০ ও ১১ দু’দিন ছিয়াম রাখা উচিত। তবে ৯ ও ১০ দু’দিন রাখাই সর্বোত্তম।

[3]. মুসলিম হা/১১৬৩, মিশকাত হা/২০৩৯ ‘নফল ছিয়াম’ অনুচ্ছেদ; ঐ, বঙ্গানুবাদ হা/১৯৪১।

[4]. মুসলিম হা/১১৬২, মিশকাত হা/২০৪৪; ঐ, বঙ্গানুবাদ হা/১৯৪৬।

[5]. মুসলিম হা/১১৩০।

[6]. ইবনুল আছীর, তারীখ ৮/১৮৪ পৃঃ; মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব, আশূরায়ে মুহাররম ও আমাদের করণীয়, পৃঃ ৬-৭।

[7]. ড. সুলাইমান ইবনে সালেম আস-সুহাইমী, আল-আ‘ইয়াদ ওয়া আছারুহা, পৃঃ ২৭৩।

[8]. আবুদাঊদ, নাসাঈ, মিশকাত হা/৪৪৬৩ ‘চুল আচঁড়ানো’ অনুচ্ছেদ।

[9]. ইবনুল জাওযী, আল-মাওযূ‘আত পৃঃ ২/২০৩; মোল্লা আলী ক্বারী, আসরারুল মারফূ‘আহ, পৃঃ ৪৪।

[10]. আল-মাওযূ‘আত পৃঃ ২/১২২ ।

[11]. আল-মাওযূ‘আত পৃঃ ২/১২২-১২৩; শাওকানী, আল-ফাওয়াইদুল মাজমূ‘আহ পৃঃ ৪৮ ।

[12]. শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ ৪/১১৬ ।

[13]. ইবনু তায়মিয়া, মুখতাছার মিনহাজুস সুন্নাহ, ১/৩৫০; আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ৮/১৭৩; আশূরায়ে মুহাররম ও আমাদের করণীয়, পৃঃ ৭-১০।

[14]. ইবনু হাজার, আল-ইছাবাহ ২/২৫২; ইবনু কাছীর, আল-বিদায়াহ ৮/১৫৪, ১৭১।

#নওয়াপাড়া_ইফতা_বিভাগ

Address

Nowapara

Telephone

+8801902219271

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when নওয়াপাড়া ইফতা বিভাগ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to নওয়াপাড়া ইফতা বিভাগ:

Shortcuts

Share