বিদ্যালয়ের ইতিহাস--
সাবেক ভুলুয়া জেলা বর্তমান নোয়াখালী জেলার অন্তর্গত সাবেক রামগঞ্জ থানাধীন বর্তমানে চাটখিল উপজেলার অন্তর্গত সাবেক ১৫ নং বর্তমানে ৪ নং বদলকোট ইউনিয়নের সাবেক ১৬৪ নং বদলকোট মৌজা বর্তমানে ৩১ নং বদলকোট মৌজার দক্ষিণ পূর্ব প্রান্তে অত্র ইউনিয়নের শ্রেষ্ঠ ও অন্যতম প্রাচীন বিদ্যাপীঠ বদলকোট উচ্চ বিদ্যালয়টি অবস্থিত। বিদ্যালয়ে বর্তমানে দ্বিতল বিশিষ্ট পাকা ভবন ০৩ টি উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষি
ণ পার্শ্বে অবস্থিত। উত্তর পার্শ্বের দ্বিতল ভবনের দৈর্ঘ্য ৭০ ফুট ও প্রস্থ ৩২ ফুট। এতে নীচতলা ও দোতালাসহ ০৪ টি কক্ষ আছে। এর মধ্যে দোতালার ২ টি কক্ষে শ্রেণীকক্ষ এবং নীচতলার ০১ টি প্রধান শিক্ষকের কক্ষ ও অপরটি লাইব্রেরী কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অপর দ্বিতল ভবনের নীচতলায় একটি শিক্ষক সাধারণ কক্ষ, ০১টি সহ-প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, ০১ টি ছাত্রীদের মিলনায়ন কক্ষ, ০১ টি অফিস সহকারীর কক্ষ ও ১টি মালামাল রাখার কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দক্ষিণ পশ্চিমের একতলা বিশিষ্ট পাকা ভবনটিতে ০৩ টি শ্রেণীকক্ষ আছে যার প্রত্যেকটির দৈর্ঘ্য ৩০ ফুট ও প্রস্থ ২৬ ফুট এবং ০১ টি কক্ষে ০২ টি স্যানেটারী ল্যাট্রিন, ০২ টি প্রস্রাবখানা আছে। দক্ষিণ পার্শ্বের ভবনের নীচ তলায় ০৩ কক্ষ আছে যার ০২ টিতে বিজ্ঞানাগার ও একটি স্কাউট-স কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দ্বিতল অংশে চুক্তিনামার মাধ্যমে অগ্রনী ব্যাংক, বদলকোট বাজার শাখা অবস্থিত। দক্ষিণ-পশ্চিম ভবনের উত্তর পার্শ্বে নীচে ছাত্রদের প্রস্রাবখানা ও উপরে ছাত্রীদের নামাজের কক্ষ অবস্থিত। এর উত্তর পার্শ্বে একটি মসজিদ আছে। বিদ্যালয়ের সামনে ১২০ ফুট দৈর্ঘ্য ৬০ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট একটি খেলার মাঠ আছে। বিদ্যালয়ের পূর্ব পার্শ্বে উত্তর-দক্ষিনে পাকা দেওয়ালের বাউন্ডারী আছে। বিদ্যালয়ে প্রবেশ করার জন্য একটি প্রশস্ত প্রবেশ পথ এবং এর উত্তর পার্শ্বে একটি ছোট প্রবেশ পথ আছে। বিদ্যালয়ের মাঠের পূর্ব ও দক্ষিণ পার্শ্বে অবস্থিত পাম গাছগুলো বিদ্যালয়ের দৃশ্যকে অতি মনোরম করে তুলছে। বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণরূপে একটি ধূমপানমুক্ত ক্যাম্পাস। বিদ্যালয়ের উত্তর পার্শ্বে নিজস্ব একটি বড় পুকুর আছে। পুকুর পাড়ের দক্ষিণ পার্শ্বে দুই কক্ষ বিশিষ্ট ভবনটি শ্রেণীকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পুকুরের পশ্চিম পার্শ্বে বিদ্যালয়ের অর্থায়নে ৮.৫ শতাংশ ক্রয়কৃত সম্পত্তি আছে। সাথে ৪৮ শতাংশ সম্পত্তি বিশিষ্ট শিল্পপতি, সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী এবং অত্যন্ত সাদামনের মানুষ জনাব ফরিদ আহম্মদ ভূঁইয়া ক্রয় করে তা পুনঃ বিদ্যালয়ের নামে সাফ কবলা রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছেন। কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তিনি আজীবন সন্মানিত দাতা সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। পুকুরের ভিতরের কতেক অংশ অর্থাৎ ৩.৭৫ শতাংশ সম্পত্তি অত্র বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবি জনাব এ,কিউ,এম সফি উল্যাহ সাহেব ক্রয় করে বিদ্যালয়ের নামে সাফ কবলা রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছেন এবং আজীবন সন্মানীত দাতা সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। আরও ৩.৭৫ শতাংশ ভূমি বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র জনাব এ.বি.এম ফারুক সাহেবের নিকট হতে অনুদান হিসেবে প্রাপ্ত ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা দিয়ে ক্রয় করা হয়েছে এবং জনাব এ.বি.এম ফারুক সাহেবকে আজীবন দাতা সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। দক্ষিণ পার্শ্বের ভবনের দ্বিতল অংশ নির্মানের কাজে ৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা অনুদান দিয়ে সহযোগীতা করেছেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র আমেরিকা প্রবাসী বাবু রতন লাল মজুমদার। বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশ দিয়ে ২০ ফুট প্রশস্ত চাটখিল টু পানিওয়ালা রোড অবস্থিত। দক্ষিণ পাশ দিয়েও ২০ ফুট প্রশস্ত ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে যাওয়ার পাকা রাস্তা আছে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪০.২৫ শতাংশ (একর) সম্পত্তি আছে। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ০৯ জন স্থায়ী শিক্ষক/শিক্ষিকা, ০৫ জন খন্ডকালীন শিক্ষক, একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী ও ০২ জন ৪র্থ শ্রেণীর স্থায়ী কর্মচারী ০১ চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী খন্ডকালীন হিসেবে কর্মরত আছেন। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৭৩০ জন ছাত্রছাত্রী অধ্যয়নরত আছে। বিদ্যালয়ে লেখা পড়ার মান সন্তোষজনক এবং তা উত্তোরোত্তর বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে।