05/05/2017
জনাব মফিজের একদিন
-------------------------------
জনাব মফিজ নোয়াখালীকে একেবারেই পছন্দ করেন না। একদিন তিনি নোয়খালীকে গালি দিতে দিতে নীলক্ষেত দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করিতেছিলেন। ঢুকিবার মুখেই দেখিলেন সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, এফ রহমান হল। যখন শুনিলেন দুইজনেরই জন্মস্থান নোয়াখালী, মফিজ তীব্র স্বরে আর্তনাদ করিয়া উঠিলো।
এরপর তিনি রওনা দিলেন শামসুন্নাহার হলের উদ্দেশ্যে। জৈনক রমনীর সাথে তাহার ইটিশ পিটিশ চলিতেছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি ব্রেকাপ করিবার সিদ্ধান্ত নিলেন, কারন বেগম শামসুন্নাহারও নোয়াখাইল্যা।
এরপর, তিনি বুকের কষ্ট চাপা দিয়া বাংলা একাডেমির বই মেলায় প্রবেশ করিলেন। বই মেলা থেকে তিনি মুনীর চৌধুরী এবং শহীদুল্লাহ কায়সারের দুইখান বই কিনিয়া লইলেন। মেলায় ঘুরিতে ঘুরিতে এক্স গার্লফ্রেন্ডের সাথে দেখা। এক্স জানাইলো বাংলা একাডেমীর বই মেলার জনক চিত্ত রঞ্জন সাহা একজন নোয়াখাইল্যা। আর সেই বই মেলা থেকে কেনা বই এর লেখক মুনীর চৌধুরি, শহীদুল্লাহ কায়সারের বাড়িও নোয়াখালী। এই কথা শুনিয়া তিনি দ্রুত বেগে বই মেলা প্রস্থান করিলেন।
বই মেলা থেকে বের হয়ে তিনি বেঙ্গল বিস্কুট চিবাইতে চিবাইতে সেজান জুস পান করিতেছিলেন। পাশের এক দোকানদার বলিলো ওভাই এগিন নোয়াখাইল্ল্যা প্রোডাক্ট। দুঃখে তিনি বেঙ্গল বিস্কুট আর সেজান জুস ছুঁড়িয়া ফালাইলেন।
রাগে দুঃখে তিনি বিচার নিয়ে রওনা হইলেন স্পিকারের কাছে। কিন্তু পথিমধ্যে জানিতে পারিলেন স্পিকাও নোয়াখাইল্যা।
এইবার রাজনৈতিক সহানুভূতির জন্য যাত্রা করিলেন আওয়ামী লীগ সেক্রেটারীর কাছে। বেচারা মফিজ আবারও জানিতে পারিলেন আওয়ামী লীগ সেক্রেটারীরও ম্যান অফ নোয়াখালী।
রাগে ক্ষোভে এরপর সামরিক আশ্রয় পাইতে ক্যান্টনমেন্ট রওনা হইলেন। গেইটপাশ নিতে গেলে মিলিটারি পুলিশ সামরিক আশ্রয় চাওয়ার কারন জানতে চাইলেন। মফিজ সব খুলিয়া বলিলেন। শুনিয়া তারা জানাইল সেনাপ্রধান নিজেও একজন নোয়াখাইল্ল্যা। ওহ কি নিদারুন কষ্ট!
আস্থার জায়গা স্থানীয় সরকার। তাই তিনি বিচার নিয়ে রওনা হইলেন ঢাকা-উত্তরের মেয়রের কাছে। এবারও জানিতে পারিলেন ঢাকা-উত্তরের মেয়র নোয়াখাইল্যা জিনিস।
সরকারের কাছ থেকে ছ্যাকা খেয়ে গেলেন বিরোধী জোটের কাছে। সেখানে গিয়ে আরো ভৎসনার শিকার হইলেন, কারন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও জামায়াত আমীরের বাড়িও নোয়াখালী।
রাগ সামলাতে না পারিয়া, শরীফ মেলামাইনের বাটি আছাড় মারিলেন মাটিতে। জানিতে পারলেন ওটার কোম্পানিও নোয়াখাইল্যা।
নোয়াখাইল্যাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি গেলেন আত্মহত্যা করিতে। ঘুমের ঔষধ খাইতে গিয়া দেখেন ঐটাও নোয়াখাইল্ল্যা কোম্পানী গ্লোবের তৈরি।
এহেন অবস্থা দেখিয়া তিনি অফিসের দেয়ালে মাথা ঠুকিতে লাগিলেন। হায়, অফিসে দেয়াল যে হার্ডবোর্ডের তৈরি সেই পারর্টেক্স কোম্পানীও নোয়াখাইল্যা।
এরপর তাহারর মুখ দিয়া অজান্তেই বাহির হইয়া আসিল "নোয়াখালী ছাড়া আমাদেরকে দিয়ে হবে না।" ফেইসবুকে গিয়ে স্ট্যাটাস দিলেনঃ
"নোয়াখালী বিভাগ চাই "