04/07/2024
সারাদেশে একই পাঠ্যসূচির আলোকে একযোগে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ষাণ্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা উদগ্রীব, উৎকন্ঠায় সময় পাড় করছিল। প্রশ্ন পত্রের ধরন সম্পর্কে শিক্ষকদেরও কোন প্রকার ধারনা ছিলনা। তবে সবচেয়ে বেশী আতংক কাজ করছিল নৈপূণ্য এপ্স নিয়ে। এপ্সের বিরুদ্ধ অভিযোগের অন্ত নেই। আশংকা ছিল প্রশ্নপত্র ডাউনলোড করা যায় কি না! এটি একটি মাথা নষ্ট এপ্স। মানষিক রোগী যেরকম আচরণ করে এ এপ্স একই রকম আচরণ করে। তথ্য ইনপুট দিলে পরক্ষনই উধাও। সঠিক ইউজার আইডি পাসওয়ার্ড দিলেও ভুল দেখায়। লগইন করতে গেলে ঘুরতেই থাকে ঘুরতেই থাকে। তবে নৈপূণ্য এপ্সে শেষমেশ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই সফল ভাবে প্রশ্ন পত্র ডাউনলোড করে মূল্যায়ন করতে পেরেছে। তাই কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।
নতুন কোন পদ্ধতিতে প্রয়োগের পূর্বে সক্ষমতা তৈরি করতে হয়। দেশে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ভগ্নপ্রায়। পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাব। প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার/ ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ইন্টারনেট কানেকশন ও ফটোকপিয়ার মেশিন নেই। এসব ব্যবহারে দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। সঙ্গত কারনেই শিক্ষকগন বাইরে থেকে প্রশ্নপত্র প্রিন্ট করতে হয়েছে। তাতে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড অন্যরা/ব্যবসায়ীরা জেনে যাচ্ছে। এভাবেই প্রশ্নপত্র ফেজবুক ও ইউটিউবে সয়লাব হয়ে গেছে। এক্ষেত্র কতিপয় অতি উৎসাহী শিক্ষকগনও দায়ী ।
পরিক্ষার শুরুর পুর্বে শিক্ষার্থীদের বেশ বিমর্ষ দেখা গেলেও প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর তাদের মাঝে স্বস্তি মেলে। নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা পাঠ্য বই নিয়েই হলে আসছিল। কিন্তু পাঠ্য বই দেখেও কোন উত্তর লিখতে পারছিলনা। তবে যেসকল শিক্ষার্থীরা শিখনকালীন মূল্যায়নে বা নিয়মিত উপস্থিত ছিলো তারা উত্তর লিখতে পেরেছে। কারন প্রশ্ন গুলোর উত্তর অভিজ্ঞতা বা কাজের উপর ভিত্তি করেই লিখতে হবে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই বিমুখতার ঝুকিতেও ফেলতে পারে।
নতুন শিক্ষা ব্যাবস্থাকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক স্বল্পতা দূরীকরণ, প্রতিটি বিদ্যালয়কে ওয়াইফাই জোনের আওতায় আনয়নসহ কম্পিউটার সামগ্রী বিতরণ করতে হবে। দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে। শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে বেতন বৃদ্ধিসহ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দিতে হবে। তবেই স্বার্থক হবে তীর্থ পরিক্রমা।