17/09/2026
শরীয়া-সম্পর্কিত আইন প্রণয়নে জাতীয় শরীয়া কাউন্সিল পুনর্গঠন করা হোক -পীর ছাহেব, নেছারাবাদী
"সম্প্রতি জাতীয় সংসদে 'হেবা' সংক্রান্ত একটি আইন পাশ করা হয়েছে যা 'মুসলিম পারিবারিক আইনে'র অন্তর্গত একটি স্পর্শকাতর বিষয়। এ বিষয়ে ফকীহগণের স্পষ্ট রায় বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও নতুন করে সরকারি আইন প্রণয়ন খোদার ওপর খোদ্দারির শামিল। রাষ্ট্র তার প্রয়োজনে যে-কোনো আইন করতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় ব্যাপার, বিশেষ করে যেসমস্ত বিষয়ে আল্লাহ ও আল্লাহর রসূলের স্পষ্ট নির্দেশ বিদ্যমান, সেসমস্ত বিষয়ে হস্তক্ষেপের ক্ষমতা কাউকে দেয়া হয়নি।"
গত ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার বাদ-আসর নেছারাবাদ শিল্পকলা কেন্দ্র, ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত ওলামায়ে কেরামের এক মতবিনিময় সভায় আমীরুল মুছলিহীন হযরত মাওলানা মুহম্মদ খলীলুর রহমান 'পীর ছাহেব নেছারাবাদী' এসব কথা বলেন।
পীর ছাহেব নেছারাবাদী আরও বলেন--'দেশের পীর-মাশায়েখ-ওলামায়ে কেরামসহ ধর্মপ্রাণ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করুক, এটা কোনো সরকারের কাম্য হতে পারে না। ধর্মদ্রোহী নাস্তিকরা সরকারের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে কিভাবে সরকারকে জনবিচ্ছিন্ন করে; কিভাবে ধর্মপ্রাণ মানুষকে রাস্তায় নামিয়ে জঙ্গি নাটক সাজায়---তা আমরা অতীতে বহুবার দেখেছি। আশা করি চব্বিশোত্তর বাংলাদেশে বিএনপি এমন কারো ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের সর্বনাশ ডেকে আনবে না। আমরা সরকারকে স্পষ্ট বলতে চাই, ধর্মীয় কোনো বিষয়ে হাত দেয়ার আগে 'জাতীয় শরীয়া কাউন্সিল' পুনর্গঠন করুন। ১৯৯৮ সালের ১৫ই ডিসেম্বর রাজধানীর দারুস সালাম ফুরফুরা দরবার শরীফে হযরত কায়েদ ছাহেব হুজুর রহ.-এর নেতৃত্বে দেশের সর্বজনশ্রদ্ধেয় শীর্ষস্থানীয় ৬৩জন ওলামা-মাশায়েখ নিয়ে 'জাতীয় শরীয়া কাউন্সিল' গঠিত হয়। এ কাউন্সিল এজন্যই গঠন করা হয়েছিলো---যাতে আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার ও নাগরিকসমাজ শরীয়তের মূল্যবোধ রক্ষা করতে পারে; একইসঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতি ও ধর্মদ্রোহিতার মোকাবেলায় ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত হতে পারে।'
পীর ছাহেব নেছারাবাদী আরও বলেন---'আমরা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা কামনা করি। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে কেউ ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করুক--এমনটা চাই না। আশা করি সরকার দেশের মুহাক্কেক ওলামায়ে কেরামের পরামর্শ মোতাবেক প্রণীত আইন বাতিল করে জনগণের ক্ষোভের আগুন থেকে নিজেদের রক্ষা করবে।'