24/11/2025
প্রাথমিক সহকারি শিক্ষকদের নায্য দাবী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা নেতৃবৃন্দের প্রতি/ উদ্দ্যেশে ঃ
গত ৮ নভেম্বরে শিক্ষকদের এত রক্ত ঝরলো, যা দেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের নায্য দাবী আদায়ের জন্য শিক্ষক আন্দোলনের ইতিহাসে কখনই ঘটেনি। গত ১৬ নভেম্বর আহতদের একজন শহিদ হলেন, যা শিক্ষক আন্দোলন ইতিহাসে কখনই হয়নি। গত ৮ নভেম্বরের ১০ম গ্রেডের আন্দোলনকে স্বশরীরে এসে সমর্থন জানালেন, এবং সেটা প্রধান শিক্ষক সমিতি, এটিইও সমিতি, টিইও সমিতি, পিটিআই ইন্সট্রাক্টর সমিতি সহ সকলেই লিখিতভাবে সমর্থন করলো। আবার সচিবগন আপনাদের কথা দিলেন যে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সহকারি শিক্ষকদের ১১ তম গ্রেডের চিঠি বা প্রজ্ঞাপন করবেন, অথচ কিছুই করলেন না, ১৫ নভেম্বর পার হলেওে আজ পর্যন্ত কোন চিঠি বা প্রজ্ঞাপন ইস্যু করলেন না।
তাহলে ১৬ তারিখ থেকে কেন পূর্ণ কর্ম বিরতির ডাক দিলেন না?
এত কিছুর পরও গত ১৬ নভেম্বর থেকে আন্দোলনকে বেগবান না করে এখন ২৩/২৪ নভেম্বরে বিভাজিত অর্ধ দিবস কর্ম বিরতি? আবার বার্ষিক পরীক্ষার আগের দিন ৩০ নভেম্বরে কেন বিভাজিত পূর্ণ দিবস কর্ম বিরতি?
১৬ নভেম্বর থেকে আপনারা কি করছেন?
করছেন শুধু নেতায় নেতায়, সমিতি সমিতিতে, পরিষদ পরিষদে কাদা ছোড়াছুড়ি আর গুতোগুতি।
কথায় আছে সময়ের এক ফোঁড় আর অসময়ের দশ ফোঁড়।
ফলাফর দেখুন নিচের চিঠিতে প্রাথমিক সহকারি শিক্ষকদের জন্য কোন গ্রেডই প্রস্তাবনা করা হয়নি।
09/11/2025
প্রিয় সহকর্মী শিক্ষকবৃন্দ,
আসসালামু আলাইকুম।
গতকাল ০৮/১১/২৫ ইং তারিখে ঢাকার শাহবাগে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের উপর দেশের ইতিহাসে নজির বিহীন পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শিক্ষকদের নায্য অধিকার চাইতে গিয়ে বেধড়ক লাঠিপেটা, টিয়ার শেল নিক্ষেপ,সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং নিরীহ শিক্ষক যাদের হাতে কোন ইট পাটকেলও ছিলোনা, ছিল শুধু শিক্ষার বাহন কলম,তাদেরকে রাবার বুলেটের আঘাতে রক্তাত্ত করেছে এবং তারা ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে।জাতি আজ লজ্জিত আজ আমরা শিক্ষক মর্মাহত। যে শিক্ষকদের ন্যায্য পাওনা সার্ভিস বেনিফিট ১০ বছর ও ১৬ বছরের উন্নত গ্রেড দিতে ব্যর্থ হয় একই পদে সারা জীবন চাকরি করে পিআরএল এ যেতে হয় সেই শিক্ষক কি করে আজ শিক্ষার আলোকবর্তিকা বহন করে সমাজে তথা রাস্ট্রে শিক্ষার আলো ছড়াবে? এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত এবং সেই সাথে বিক্ষুব্ধ। একজন শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন বলে শুনেছি, অসংখ্য সহকর্মী আহত—এমন ঘটনা আমাদের হৃদয় এ রক্তক্ষরণের সৃষ্টি করেছে। কিন্তু আমরা শিক্ষক আমরা জাতির বিবেক। তাই এই মুহূর্তে আমাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে শান্ত, সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ থাকা অত্যন্ত জরুরি।
আমরা চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার সকল শিক্ষককে অনুরোধ করছি—
দয়া করে কেউ উত্তেজিত আচরণে না করে শান্ত থাকুন এবং আমরা শান্তভাবে সকলে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণের লক্ষে আজ বিকাল ৪ টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইউআরসিতে এসে ঐক্যমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহন করি।
শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে সংঘবদ্ধ ও সুসংগঠিত হয়ে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যায়।
বিজয় আমরা হবোই ইনসাল্লাহ।
আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।
📌 আজ বিকাল ৪:০০ টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ইউআরসিতে উপস্থিত হয়ে আমরা একত্রিত ভাবে পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে সুশৃঙ্খল আলোচনা ও ঐক্যমত্য ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো ইনসাল্লাহ।
মনে রাখবেন:
আমরা শিক্ষক, আমরা জাতির বিবেক আমরা মানুষ গড়ার কারিগর। সুতরাং
আমাদের ভাষা,
আমাদের প্রতিবাদ বিবেকবান ও শৃঙ্খলাপূর্ণ হওয়া জরুরী।
ধন্যবাদান্তে।
মোঃ সরিফুল ইসলাম
ও
আব্দুল্লাহ আল ফারুক
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক,
বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর,
চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
08/11/2025
শিক্ষকদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে পুলিশের বর্বরোচিত সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল, জল কামান ও রাবার বুলেট নিক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।
28/10/2025
প্রসঙ্গ ৮ (আট) তারিখ...
সহকারী শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য- অনেক পরিশ্রম, অনেক অর্থ ব্যয়, অনেক সময় ব্যয়, পরিবারকে বঞ্চিত করা, অনেক ত্যাগ.... করেছি। কোনদিন নিজের স্বার্থের কথা ভাবিনি। গ্রেড পরিবর্তন সময়ের দাবি, আর তা যদি হয় ১০ম, তাহলে তো কথাই নেই। চাকরির শেষ জীবনে উন্নত মর্যাদা কে না চায়? সকল শিক্ষক যেমন চায়, আমিও চাই।
তাই মর্যাদার লড়াইয়ে দাবি আদায়ের নিশ্চয়তা যদি ৮ তারিখ দিতে পারে, তাহলে ৮ তারিখের জন্য শুভ কামনা। যারা দাবি আদায় করবে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা, স্যালুট, সহযোগিতা।
তবে সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদে সহকারী ও মিশ্র সহ ১২ টি সংগঠন মহা ঐক্য করে কাজ করছে। দাপ্তরিকভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে দেন দরবার চলছে। জানিনা কতটুকু সফলকাম হতে পারবো। তবে কর্তৃপক্ষকে দেয়া সময় অতিবাহিত হলে সকল সংগঠন নিয়ে ঐক্য পরিষদ এবার মরণ কামড় দিবে ইনশাআল্লাহ। সময় কথা বলবে।
আন্দোলন করলেই হবে না, ফলাফল পেতে হবে। আমার মনে হয় হুটহাট আন্দোলনের সিদ্ধান্ত দাবি আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে ব্যার্থ হবে। শিক্ষকরা কষ্ট করবে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারলে সকলের খারাপ লাগবে। তাই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই। কেবলমাত্র ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় সম্ভব।
তার পরেও কারো বিরোধিতা করবো না, যে বা যারা দাবি আদায়ে কাজ করবে সকলের জন্য শুভ কামনা থাকবে, সহযোগিতা থাকবে।
ঐক্য বড়ো কঠিন জিনিস। কত কিছু সহ্য করে ঐক্যবদ্ধ আছি, তা আপনারা অনেকেই জানেন না। তার পরেও শুধুমাত্র শিক্ষকদের দাবি আদায়ের জন্য অনেক কিছুই সহ্য করছি। ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছি।
নতুন সহযোদ্ধাদের অনুরোধ করবো, আপনাদের মধ্যে যারা অশিক্ষক সুলভ ভাষা ব্যবহার করছেন, তারা শিক্ষক আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস, ত্যাগ, পরিশ্রম এগুলো জানলে হয়তো এসব নেতিবাচক শব্দচয়ন করতে পারতেন না। আপনাদের জন্য শুভ কামনা।
সবাই ভালো থাকবেন। সকলের জন্য শুভ কামনা। আট (৮) তারিখের জন্য শুভ কামনা।।
মহান আল্লাহ্ আমাদের সহায় হন।
Anisur Rahman এর টাইমলাইন থেকে।
03/05/2025
সুপ্রিয় সহকর্মী বৃন্দ,
আসসালামু আলাইকুম।
আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগনের বেতন, ভাতা ও মর্যাদা বৃদ্ধির যৌক্তিক দাবীতে বর্তমান সরকার একটি কনসাল্টেশন কমিটি তৈরি করেছিলেন এবং তাদের সুপারিশ মোতাবেক প্রধান শিক্ষকগনের ২য় শ্রেনির মর্যাদা সহ ১০ম গ্রেড এবং সহকারি শিক্ষকগনের ১২ তম গ্রেড প্রদান সংক্রান্ত সম্প্রতি একটি চিঠি আমরা এফবিতে দেখতে পাচ্ছি, যেখানে বেতন সংক্রান্ত সহকারি শিক্ষকগনের যৌক্তিক দাবীর প্রতিফলন ঘটেনি। কারন সহকারি শিক্ষকগন ২০১৪ সাল থেকেই যৌক্তিক দাবী ১১ তম গ্রেডের জন্য বিভিন্ন কর্ম সূচি পালন করে আসছে। বর্তমানে সহকারি শিক্ষকের প্রায় সকল সংগঠন একই প্লাটফরমে এসে প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ নামে একটি যৌক্তিক দাবী আদায়ের লক্ষে অভিন্ন কর্মসূচী প্রদান করেন ( নিচে কর্মসূচীর চিঠি রইলো)।