23/11/2021
>>>একটি বাচ্চাকে পড়ানোর সময় কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে....?
আমাদের মায়েদের প্রতিদিনের কাজের মধ্যে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল বাচ্চাদের পড়াতে বসানো। বাচ্চারা বড় হলে কেবল তাদের স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়না, বরং স্কুলের পড়াগুলো ঠিক মতো তৈরি করতে বাচ্চাকে সাহায্য করা ও তার পড়াশোনার প্রতি সঠিক মনোযোগ স্থাপনে সাহায্য করতে একজন অভিভাবক হিসেবে মায়ের দায়িত্বের কথা বলে শেষ করা যাবে না।
শুধু যে একটি নির্দিষ্ট রুটিন মাফিক আপনার বাচ্চাকে পড়াতে বসালেই আপনার বাচ্চা ঠিকমতো পড়বে এমনটা নয়। আপনাকেও এমন কোন ভালো উপায় খুঁজে বের করতে হবে যাতে আপনার বাচ্চা পড়তে বসতে আগ্রহী হয়ে ওঠে ও তার পড়ার সময়টুকু বাচ্চা সম্পূর্ণভাবে উপভোগ করবে ।
বাচ্চাদের পড়াতে বসিয়ে মায়েরা মনে রাখবেন যে বিষয়গুলো।
>>>(১)পড়াতে বসানোর একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করুনঃ
আপনার বাচ্চাকে পড়াতে বসানোর জন্য প্রথমে যা করতে হবে তা হল একটি নির্দিষ্ট সময়সূচী অনুসরণ করা। তবে মনে রাখবেন টাইম টেবিলটা হবে আপনার শিশু কখন পড়তে বসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে তার উপর নির্ভর করে। আপনি যদি আপনার সময় অনুযায়ী আপনার বাচ্চার পড়ার সময় বাছাই করেন এতে আপনার বাচ্চার পড়ার প্রতি আগ্রহ কমতে থাকবে।
(২)বাচ্চাকে পড়তে উৎসাহী করতে প্রশংসা করুনঃ
আপনার বাচ্চার পড়ার গতি ও মনোযোগ উভয়ই বাড়াতে তাকে তার পড়ার ভালো ফলাফলের জন্য প্রশংসা করুন। সে কোন বিষয়ে ভালো অগ্রগতি দেখালে হাততালি দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করুন।
(৩)বাচ্চার সাথে সাথে আপনিও পড়ুনঃ
বাচ্চারা একা একা পড়ার থেকে সাথী নিয়ে পড়তে বেশী পছন্দ করে। আর তাই বাচ্চাকে পড়াতে বসিয়ে আপনি চুপচাপ না থেকে বাচ্চার সাথে সাথে পড়ুন। এতে আপনার বাচ্চা দ্রুত পড়া আয়ত্ব করতে পারবে।
(৪)পড়ার ফাঁকে ফাঁকে বাচ্চার সাথে খেলুনঃ
পড়া যাতে একঘেঁয়েমি কোন ব্যাপারে পরিণত না হয় ,তা নিশ্চিত করতে বাচ্চার সাথে পড়ার ফাঁকে ফাঁকে খেলায় অংশগ্রহণ করুন। হতে পারে সেটা পড়া বিষয়কই কোন খেলা, যার মাধ্যমে বাচ্চা খেলতেও পারবে, আবার সাথে পড়াও হবে।
(৫)বাচ্চাকে বার বার প্রশ্ন করুনঃ
বাচ্চার জানার আগ্রহ বাড়িয়ে তুলতে পড়ার ফাঁকে তাকে জানা বিষয়ে বার বার প্রশ্ন করুন। আর আপনার বাচ্চা যদি প্রশ্নের ঠিক ঠিক উত্তর দেয়। তাহলে তার প্রশ্নের উত্তরের বিপরীতে ভালোবাসা আর আদর দিন।
(৬)বাচ্চাকে পড়াতে বসানোর জায়গা প্রসার করুনঃ
আপনার বাচ্চার পড়ার জায়গা শুধু একটি নির্দিষ্ট ঘরে না রেখে একটু প্রসার করুন। যেমন টেবিল চেয়ারে একটানা না পড়িয়ে বিছানায় বসাতে পারেন, মেঝেতে বসাতে পারেন কিংবা বারান্দায়। এতে স্থান পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে বাচ্চার পড়ার একঘেঁয়েমি কেটে যাবে।
(৭)পড়ানো শেষে বাচ্চাকে খেতে দিন তার পছন্দের কোন খাবারঃ
প্রতিদিনের পড়ানোর শেষে সারপ্রাইজ হিসেবে আপনার সোনামণিকে দিতে পারেন, তার পছন্দের কোনো খাবার। দেখবেন এই উপায়ে আপনার বাচ্চার পড়াও হবে ,সাথে খাওয়াও হবে।
সর্বশেষে বলবো
বাচ্চাকে সময় পেলে তার ছুটির দিনগুলোতে শিক্ষণীয় ভিডিও গেম দেখান, যেখানে বাচ্চারা মজা করে পড়া লেখা করছে, কবিতা পাঠ করছে, টিচাররা বাচ্চাদের সাথে মজা করছে, তাদের অনেক কিছু শিখাচ্ছে এমন ভিডিও দেখলে বাচ্চারা খুব আগ্রহ বোধ করে, তাদের পড়ালেখা ঠিক মতো করতে।
আর এখানে দেওয়া প্রতিটি বিষয় আমার [ চিন্তা+তথ্য+অভিজ্ঞতা+সংগ্রহীতের সাথে সংযোজন ] সব মিলিয়ে লেখা । কোন বিষয় ভুল মনে হলে ,সেটা ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে শোধরে দিন এবং এখানে দেওয়া প্রতিটি বিষয় প্রয়োগ করার আগে হাজারবার ভেবে নিন। হীতে বিপরীত হলে আমি দায়ী নই।
-হৃদয় আহমেদ