ইকরা

ইকরা

Share

ইকরা কুরআনিক অ্যারাবিক ল্যাংগুয়েজ এবং হাফিজিয়া ও সহীহ কুরআন লার্নিং সেন্টার।

16/05/2024

ফজরের সালাতের ১০টি ফজিলত।
এগুলো জানার পর কারো আর
ফজর সালাতে গাফেলতি, অলসতা আসবেনা... ইনশাআল্লাহ্

১.ফজরের সালাত মুমিন ও মুনাফিকের মধ্যে পার্থক্যকারী,কেননা
রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
মুনাফিকের জন্য ফজর সালাত আদায় কষ্টকর!
__(বুখারী ৬৫৭,৬৪৪,২৪২০,৭২২৪...মুসলিম--৬৬১)

২.রাসূল (সাঃ) বলেন,
"যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করে,
সে ব্যক্তি ঐ দিন আল্লাহর জিম্মায় চলে যায়।
অর্থাৎ স্বয়ং আল্লাহ তালা ঐ ব্যক্তির দায়িত্ব নেন।
__(সহিহ মুসলিম,তিরমিজি--২১৮৪)

৩.রাসূল (সাঃ) বলেছেন,
"যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করবে,
আল্লাহর ফেরেশতাগন আল্লাহর কাছে ঐ ব্যক্তিকে ভালো মানুষ হিসেবে সাক্ষী দিবে।
__(বুখারী-মুসলিম)

৪. রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
"যে ব্যক্তি ফজর সালাত জামাতের সাথে আদায় করে,আল্লাহতালা তার আমলে দাঁড়িয়ে সারারাত নফল নামাজ আদায়ের সওয়াব দিয়ে দেন!
__(সহিহ মুসলিম-১০৯৬)

৫. রাসূল (সাঃ) বলেছেন,
" যে ব্যক্তি ভোরে হেঁটে হেঁটে ফজরের সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে প্রবেশ করবে,আল্লাহতালা কিয়ামতের দিন তার জন্য পরিপূর্ণ আলো দান করবেন।
__(আবু দাউদ --৪৯৪,,,,তিরমীযি)

৬.যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করবে,
আল্লাহ তাকে জান্নাতের সবচেয়ে বড় নিয়ামত দান করবেন।অথাৎ সে আল্লাহর দিদার লাভ করবে, এবং জান্নাতি ঐ ব্যক্তি আল্লাহকে পূর্নিমার রাতের আকাশের চাঁদের মত দেখবে।
(বুখারী-৫৭৩)

৭.যে নিয়মিত ফজরের সালাত আদায় করবে,
সে কখোনোই জাহান্নামে প্রবেশ করবেনা।
__(সহিহ মুসলিম ৬৩৪)

৮.ফজরের সালাত আদায়কারী,রাসূল (সাঃ)-এর বরকতের দোয়া লাভ করবেন।
__(সুনানে আবু দাউদ,মুসনাদে আহমাদ)

৯.ফজরের দু রাকাত সুন্নত সালাত, দুনিয়া ও তার মাঝে যা কিছু আছে তারচেয়ে উত্তম।
__(জামে তিরমিজি - ৪১৬)

১০..ফজরের সালাত আদায়ের ফলে ব্যক্তির মন ফুরফুরে,প্রফুল্ল হয়ে যায়।
__(সহিহ বুখারী, সহিহ মুসলিম)

সুবহানআল্লাহ......
আল্লাহর আমাদের উপরোক্ত সব নিয়ামতের
ভাগীদার করুন।

15/05/2024

সবাইকে পড়ার অনুরোধ করছি।
১৬ টি কুফরি বাক্য যা আমরা নিয়মিত বলে থাকি :-

১. আল্লাহও লাগে ইল্লাও লাগে।
(নাউজুবিল্লাহ)

২. তোর মুখে ফুল চন্দন পড়ুক। (ফুল চন্দন হিন্দুদের পূজা করার সামগ্রী)।

৩. কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে।
(কেষ্ট হিন্দু দেবির নাম, তাকে পাবার জন্য কষ্ট করছেন?)

৪. মহাভারত কি অশুদ্ধ হয়ে গেল?
(মহাভারত একটি উপন্যাস, যা সবসময় অশুদ্ধ)।

৫. মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত।
(এটি ইসলামের নামে কটুক্তি করা)।

৬. লক্ষী ছেলে, লক্ষী মেয়ে লক্ষী স্ত্রী বলা।
(হিন্দুদের দেব-দেবির নাম লক্ষী তাই ইসলামে এটি হারাম)।

৭. কোন ওষুধকে জীবন রক্ষাকারী বলা।
(জন্ম-মৃত্যু একমাত্র আল্লাহর হাতে)।

৮. দুনিয়াতে কাউকে শাহেনশাহ বলা।
(এর অর্থ রাজাদের রাজাধীকার)।

৯. নির্মল চরিত্র বোঝাতে ধোয়া তুলসি পাতা বলা।
(এটি অনইসলামিক পরিভাষা যা হারাম)।

১০.ইয়া খাজাবাবা, ইয়া গাউস, ইয়া কুতুব ইত্যাদি বলা।
(এটি শির্ক, ইসলামের সবচেয়ে বড় পাপ)।

১১. ইয়া আলি, ইয়া রাসূল (সঃ) বলে ডাকা।
(মানে দোয়া করা অর্থে, আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে কিছু চাওয়া) (আল্লাহ ছাড়া পৃথিবীর কারোর কাছে কিছু পার্থনা করা শির্ক)।

১২. বিসমিল্লায় গলদ বলা।
(এটি সরাসরি কুফরি)।

১৩. মৃত্যুর সাথে পান্জালড়া বলা।
(কুফরি বাক্য, তাই সাবধান)।

১৪. মধ্যযুগ বর্বরতা বলা।
(মধ্যযুগ ছিল ইসলামের স্বর্ণযুগ)।

১৫. মন ঠিক থাকলে পর্দা লাগে না।
( ইসলাম ধ্বংসকারী মতবাদ)।

১৬. নামাজ না পড়লে ঈমান ঠিক আছে বলা।
(ইসলাম থেকে বের করার মূলনীতি)।

তাই মুসলিম ভাই ও বোনেরা যখন কথা বলবেন খুব সাবধানে কথা বলবেন

আর এসব কথা ভুলেও মুখে আনবেন না,,,প্লিজ,
আল্লাহতায়ালা আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন।
(আমীন)।

10/04/2024

ঈদের দিনের তাকবীর এবং তা পড়ার নিয়ম:

প্রিয় পাঠক!ঈদের রাতের অন্যতম সুন্নত হল, তাকবীর পাঠ করা। তাই আসুন, যে যেখানে আছি উঁচু আওয়াজে তাকবীর পাঠ করবো। ‌নারীরা চুপিসারে তাকবীর পাঠ করবে। তাকবীর পাঠ করার বিশুদ্ধ সময় হচ্ছে,ঈদের আগের দিন সূর্যাস্ত থেকে শুরু করে ঈদের সালাত আদায় করা পর্যন্ত তাকবীর তথা ‘‘আল্লাহু আকবর’’ বলতে থাকা। এ হচ্ছে বিশ্ববাসীর সামনে মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরা। তাকবীর বলা শুরু হবে ঈদের রাতের সূর্য ডোবা থেকে; যদি সূর্য ডোবার আগেই জানা যায় যে, শাওয়াল মাস প্রবেশ করেছে; সেটা এভাবে যে, মানুষ যদি মাসের ত্রিশদিন পূর্ণ করে। কিংবা শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার মাধ্যমে। আর তাকবীর দেওয়া শেষ হবে ঈদের নামায আদায় করার মাধ্যমে। অর্থাৎ মানুষ যখন ঈদের নামায শুরু করবে তখন তাকবীর দেওয়ার সময় শেষ। (মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন; ১৬/২৬৯-২৭২)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন; ‘‘আর যাতে তোমরা সংখ্যাপূর্ণ কর এবং তিনি যে তোমাদেরকে হিদায়াত দিয়েছেন তার জন্য ‘আল্লাহ মহান’ বলে ঘোষণা দাও এবং যাতে তোমরা শোকর কর।’’ (সূরা আল- বাকারাহ; ১৮৫)।যুহরী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, ‘নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে পৌঁছে সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত তাকবীর বলতেন। যখন সালাত আদায় করতেন, তারপর আর তাকবীর বলতেন না।’ (মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪৮৭; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৭১)।শাইখ আলবানী বলেন, যদিও হাদীসটি মুরসাল কিন্তু এর অনেকগুলো শাহেদ হাদীস থাকার কারণে এটি সহীহ। তাকবীরের শব্দগুলো হলো;
الله أكبر ، الله أكبر ، لا إله إلا الله ، والله أكبر ، الله أكبر ، ولله الحمد
‘‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার,লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়াল্লাহু আকবার,ওয়ালিল্লাহিল হামদ।’কিংবা আপনি তিনবার করে এভাবেও বলতে পারেন:
الله أكبر، الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلا الله . والله أكبر ، الله أكبر ، ولله الحمد
(উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ)
(অনুবাদ: আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান। আল্লাহ্‌ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই। আল্লাহ্‌ মহান, আল্লাহ্‌ মহান। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য।)

দুটো তাকবিরই জায়েজ। জমহুর আলেমের নিকট এই তাকবীর দেওয়া সুন্নত। এই তাকবীর পুরুষরা মসজিদে,বাজারে ও ঘরে এ তাকবীর ধ্বনি জোরে দিতে থাকবে। আর মহিলারা তাকবীর বলবে আস্তে।(মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, হা/৫৬৯৭; সনদ সহীহ, ইরওয়াউল গালীল, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১২৫ তাফসীরে কুরতুবী, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩০৭, ৩য় খণ্ড, পৃ. ২-৪; বায়হাক্বী, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩১৬ ইসলামি সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-৪৮৯৬৯) আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)

02/03/2024

রোজা ভঙ্গের ভয়াবহ শাস্তি এবং এর কাজা ও কাফফারা আদায়ের পদ্ধতি
(বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ)
▬▬▬▬◆◯◆ ▬▬▬▬
প্রশ্ন: ইচ্ছাকৃত রোজা ভঙ্গ করার শাস্তি ও বিধান কি? কেউ যদি কোন কারণ ছাড়া রোজা ভঙ্গ করে তাহলে তার করণীয় কি?

উত্তর:
নিম্নে রোজা ভঙ্গের ভয়াবহ শাস্তি এবং এর কাজা ও কাফফারার পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করা হল:

◍◍ ক. শরিয়ত অনুমোদিত কারণ ছাড়া রোজা না রাখার বা রোজা ভেঙ্গে ফেলার ভয়াবহ শাস্তি:

রমাযান মাসে রোজা রাখা প্রত্যেক সুস্থ, মুকিম (আবাসে অবস্থানকারী/সফরকারী নয়) প্রাপ্ত বয়স্ক ও সক্ষম ব্যক্তির উপর ফরজ। এটি ইসলামের ৫টি স্তম্ভের মধ্যে ৪র্থ। শরিয়ত অনুমোদিত ওজর ছাড়া (যেমন: অসুস্থতা, সফর, ক্ষুধা-পিপাসায় প্রাণনাশ বা অঙ্গহানির আশংকা ইত্যাদি) রোজা ভঙ্গ করা কবিরা গুনাহ ও কঠিন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। হাদিসে বিনা কারণে রোজা ভঙ্গের ভয়ঙ্কর শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। (আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করুন)
হাদিসে এসেছে:
আবু উমামা বাহিলি রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, ‎

بينَا أنَا نَائِمٌ إذْ أَتَاني رَجُلانِ فأخَذَا بضَبْعِي -أي: عَضُدِي- فَأَتَيَا بي جَبَلاً وَعْراً فَقَالَا لي: اصْعَدْ، فقلت: إني لا أُطِيقُه، فقَالَ: إنا سَنُسَهِّلُه لك،فَصَعَدتُ حتى إذا كُنتُ في سَواءِ الجَبَل إذا أنا بِأصْواتٍ شدِيدَةٍ،فَقُلْتُ: مَا هَذهِ الأَصْواتُ؟ قَالَوا: هَذا عِوى أَهْلِ النَّارِ، ثمَّ انْطُلِقَ بي فَإِذا أَنا بِقَومٍ مُعَلَّقِين بِعَرَاقِيبهِم، مُشَقَّقَةٍ أَشْدَاقُهُم تَسِيلُ أشْداقُهُم دَماً، قَالَ: قُلتُ: مَن هَؤُلاءِ؟ قَالَ: هؤُلاءِ الَّذين يُفطِرُون قَبلَ تَحِلَّة صَوْمِهِم

“আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। সহসা দু জন লোক এসে আমার বাহু ধরে আমাকেসহ তারা এক দুর্গম পাহাড়ে গমন করল।
তারা আমাকে বলল: পাহাড়ে উঠো।
আমি বললাম: এ পাহাড়ে উঠা আমার দ্বারা সম্ভব নয়।
তারা ‎বলল: আমরা তোমাকে সাহায্য করব।
যাহোক আমি ওপরে উঠতে শুরু করলাম। যখন পাহাড়ের চূড়ায় ‎‎পৌঁছলাম তখন বিকট আওয়াজের সম্মুখীন হলাম।
জিজ্ঞাসা করলাম: এগুলো কিসের আওয়াজ?
তারা ‎বলল: এগুলো জাহান্নামীদের আর্তনাদ।
অতঃপর তারা আমাকে নিয়ে রওনা করার পর আমি এমন লোকদের সম্মুখীন হলাম, যাদেরকে হাঁটুতে বেধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের চোয়াল ‎‎ক্ষতবিক্ষত। সেখান থেকে অনবরত রক্ত ঝরছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: আমি জিজ্ঞাসা করলাম: এরা কারা?
তারা বলল: এরা ‎হল সেসব লোক যারা রোজা পূর্ণ করার আগে ভেঙ্গে ফেলত।” [নাসাঈ ফিল কুবরা: ৩২৮৬, তাবরানি ফিল কাবির: ৭৬৬৭-শাইখ আলাবানী হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। দ্রষ্টব্য: সিলসিলা সহিহা, হা/৩৯৫১]
আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমীন উক্ত হাদিস উল্লেখ করার পর বলেন: “এই হল যারা রোজা ভঙ্গ করত তাদের শাস্তি। তাহলে যারা আদতেই রোজা রাখে না তাদের কী পরিণতি হতে পারে?! আল্লাহর নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।” (মাজমু ফতোয়া ওয়া রাসায়েল ১৯/৮৯)

সুতরাং কেউ শরিয়ত সম্মত ওজর ছাড়া শয়তানের প্ররোচনা বা কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় রোজা ভঙ্গ করে বা আদতেই রোজা না রাখে তাহলে তার জন্য আবশ্যক হল, অনতিবিলম্বে লজ্জিত অন্তরে খাঁটি ভাবে আল্লাহর কাছে তওবা করা এবং ভবিষ্যতে আর কখনো জেনে-বুঝে এমনটি না করার অঙ্গীকার করা। অত:পর নিম্নে বর্ণিত শরিয়তের বিধান অনুযায়ী কাজা বা কাফফারা আদায় করা।

◍◍ খ. রোজা ভঙ্গের কাজা ও কাফফারা আদায়ের পদ্ধতি:

রোজা ভঙ্গের কারণের উপর কাজা বা কাফফারার বিষয়টি নির্ভর করছে। যেমন:

(১) স্ত্রী সহবাস ছাড়া অন্য কোন উপায়ে রোজা ভঙ্গ করলে তওবার পাশাপাশি উক্ত রোজাটি কাজা করাই যথেষ্ট (কাফফারা নেই):

কেউ যদি স্ত্রী সহবাস ছাড়া অন্য কোন উপায়ে (যেমন: ইচ্ছাকৃত পানাহার, হস্তমৈথুন, ইচ্ছাকৃত বমি ইত্যাদি) রোজা ভঙ্গ করে তাহলে খাঁটি অন্তরে তওবা করার পাশাপাশি যে রোজাটা ভেঙ্গেছে সেটা কাজা করাই যথেষ্ট। এভাবে যে কয়টা রোজা ভঙ্গ করবে সে কয়টা কাজা করতে হবে।

তবে এতে কাফফারা দিতে হবে কি না এ বিষয়ে সম্মানিত ফকিহদের মাঝে দ্বিমত থাকলেও অধিক বিশুদ্ধ মতে এর জন্য কাফফারা নেই। কেননা হাদিসে কেবল স্ত্রী সহবাসের ক্ষেত্রে কাফফারা দেয়ার কথা এসেছে। অন্য কোন ক্ষেত্রে কাফফারা দেয়ার ব্যাপারে কোন সহিহ হাদিস নেই। যে হাদিস দ্বারা কাফফারার দলিল পেশ করা হয় সেটার কোন ভিত্তি নাই।

সুতরাং এটিই অধিক বিশুদ্ধ অভিমত যে, এতে অন্তরে খাঁটি ভাবে তওবার পাশাপাশি কাজা করাই যথেষ্ট।

এ পক্ষে মত ব্যক্ত করেছেন, ইমাম শাফেঈ, ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, সাঈদ বিন জুবাইর, নাখঈ, ইবনে শিরীন রহ. প্রমুখ।
শাইখ বিন বায এ প্রসঙ্গে বলেন:
والصواب أن عليه التوبة ولا يلزمه إلا قضاء اليوم الذي أفطره فقط، هذا هو الصواب، وعليه التوبة
“সঠিক কথা হল, তার জন্য তওবা করা এবং যে দিনের রোজা ভেঙ্গেছে কেবল সে দিন রোজাটা কাজা করা আবশ্যক।” (শাইখের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট)

(২) সহবাসের মাধ্যমে রোজা ভঙ্গ করলে তওবার পাশাপাশি যে রোজাটি ভেঙ্গেছে সেটি কাজা করার পাশাপাশি কাফফারা আদায় করা আবশ্যক:

স্ত্রী সহবাসের মাধ্যমে রোজা ভঙ্গ করলে তাতে অনুতপ্ত হয়ে খাঁটি অন্তরে তওবার পাশাপাশি যে রোজাটি ভেঙ্গেছে সেটি কাজা করা তারপর তার কাফফারা দেয়াও আবশ্যক। ।

হাদিসে একমাত্র এই কারণে রোজা ভঙ্গ করলে কাফফারা দেয়ার কথা এসেছে। অন্য ক্ষেত্রে আসে নি।
লক্ষণীয় হল, রোজা অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করলে-বীর্যপাত হোক না হোক-তাতে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে।

➧ কাফফারা:
কাফফারার বিষয়গুলোর ধারাক্রম নিম্নরূপ। (অর্থাৎ একটি আদায় করতে সক্ষম না হলে অপরটি করতে হবে।)
● ১. একটি রোজার বিনিময়ে একটি দাস মুক্ত করা। (বর্তমান যুগে যেহেতু দাস-দাসীর প্রথা নেই তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।)
● ২. একটানা (বিরতি হীনভাবে) ৬০টি রোজা রাখা।
● ৩. তাও সম্ভব না হলে ৬০জন মিসকিন তথা গরিব-অসহায় মানুষকে একবেলা পেট পুরে খাবার খাওয়ানো অথবা প্রতিটি রোজার বিনিময়ে অর্ধ সা তথা সোয়া বা দেড় কিলোগ্রাম চাল দেয়া।
- টাকা দেয়া ঠিক সুন্নাহ পরিপন্থী।
- একজন মিসকিনকে ৬০ বেলা খাবার‌ খাওয়ানো যেমন জায়েজ তেমনি ৬০জন মিসকিনকে এক বেলা খাওয়ানোও জায়েজ।
[কাফফারা প্রসঙ্গে একটি প্রসিদ্ধ লম্বা হাদিস সহিহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। পোস্টের কলেবর বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় তা উল্লেখ করা হল না]

সারাংশ:

- শরিয়ত সম্মত কারণ ছাড়া রোজা ভঙ্গ করা বা রোজা না রাখা কবিরা গুনাহ এবং ভয়ানক শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
- কেউ শয়তানের প্ররোচনা বা কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় রোজা নষ্ট করে তাহলে তার জন্য অনুতপ্ত হৃদয়ে তওবা করা আবশ্যক।
- স্ত্রী সহবাস ছাড়া অন্যভাবে রোজা ভাঙলে তওবার পাশাপাশি যে রোজাটা ভেঙ্গেছে তা কাজা করাই যথেষ্ট। কিন্তু স্ত্রী সহবাসের মাধ্যমে রোজা ভাঙলে তওবার পাশাপাশি যে রোজাটি ভেঙেছে সেটি কাযা করতে হবে। সেই সাথে কাফফারা দেয়াও ওয়াজিব।
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬◆◯◆ ▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানী
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

24/02/2024

প্রশ্ন: অর্ধ শাবানের রাতে (কথিত শবে বরাতে) ব্যক্তিগতভাবে বাড়ীতে বা মসজিদে কি বিশেষ কিছু এবাদত-বন্দেগী করা শরিয়ত সম্মত?

উত্তর:

এ ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য কথা হল, কথিত শবে বরাতকে কেন্দ্র করে বিশেষ কোন ইবাদত-বন্দেগী করা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত। চাই তা বাড়িতে হোক বা মসজিদে হোক। একাকী হোক বা দলবদ্ধভাবে হোক। (যদিও কতিপয় আলেম মনে করেন এতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু তাদের কথা দলীল দ্বারা সমর্থিত নয়।)

কেননা, এ রাতে ইবাদত করার বিশুদ্ধ কোন দলীল নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম থেকে কোন প্রমাণ নেই যে, তারা এ রাতে কোন ধরণের এবাদত-বন্দেগী করতেন।
সুতরাং এটি একটি দ্বীনের মধ্যে একটি সংযোজিত বিদআত। যার পক্ষে কুরআন, সুন্নাহর দলীল নেই এবং সাহাবী-তাবেঈগণেরও এজমা তথা সম্মিলিত কোন সিদ্ধান্তও পাওয়া যায় না।

এ রাতে যদি বিশেষ কোন ইবাদত-বন্দেগী করা ফযীলতপূর্ণ হত তাহলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে আমল করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে শিক্ষা দিতেন এবং সাহাবীগণ তা পালনে পিছুপা থাকাটা অকল্পনীয় ব্যাপার।

তবে কারও যদি আগে থেকে অন্যান্য রাতে কুরআন তিলাওয়াত, যিকির-আযকার, দুআ, তাসবীহ পাঠ এবং নফল সালাত আদায়ের অভ্যাস থাকে তাহলে সে এ রাতেও তা অব্যাহত রাখতে পারে। কিন্তু আগেও নাই পরেও নাই...হঠাৎ করে এ রাতে উঠে বিশেষ ইবাদত-বন্দেগীতে লিপ্ত হতে হলে এ বিষয়ে অবশ্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবীদের আমল থাকতে হবে। অন্যথায় তা বিদআত হিসেবে পরিগণিত হবে।

অর্ধ শাবানে দিনে রোযা রাখা ও রাতে নফল সালাত সম্পর্কে বর্ণিত কতিপয় জাল ও যঈফ হাদীস:
------------------------------
সাধারণত: মানুষ অর্ধ শাবানের দিনের বেলা রোযা রাখা ও রাতে নফল নামায পড়ে কতিপয় বানোয়াট ও দুর্বল হাদীসের উপরে ভিত্তি করে। নিম্নে এ ধরণের কিছু হাদীস পেশ করা হল মুহাদ্দিসদের পর্যালোচনা সহ:

● ক) আলী ইবনে আবী তালিব রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যখন শাবান মাসের পনের তারিখ আসে তোমরা দিনে রোযা রাখ আর রাতে নফল নামায আদায় কর। কারণ, এ রাতে আল্লাহ তায়ালা নিচের আসমানে নেমে আসেন এবং বলতে থাকেন, এমন কেউ আছো যে আমার নিকট ক্ষমা চাও আমি তাকে ক্ষমা করে দিব? এমন কেউ আছো যে আমার নিকট রিযিক চাও আমি তাকে রিযিক দিব? এমন কেউ আছো যে আমার কাছে বিপদ থেকে মুক্তি চাও আমি তাকে বিপদ থেকে মুক্তি দিব?…এভাবে আল্লাহ তায়ালা ফজর উদীত হওয়া পর্যন্ত ডাকতে থাকেন।”

► হাদীসটির মান: মুহাদ্দিসের মতে এ হাদীসটি মাউযু (জাল/বানোয়াট) হাদীস। [পর্যালোচনা দেখুন- ১]

● খ) “হে আলী, যে ব্যক্তি অর্ধ শাবানের রাত্রিতে এমনভাবে একশত রাকাত নামায আদায় করবে যে, প্রতি রাকাআতে সূরা ফাতিহার পরে দশবার কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’সূরা পাঠ করবে আল্লাহ তাআলা তার সে রাত্রির যাবতীয় প্রার্থনা পূরণ করবেন।”

► হাদীসটির মান: এটি একটি মাউযু (জাল/বানোয়াট) হাদীস। [পর্যালোচনা দেখুন-২]

গ) “যে ব্যক্তি অর্ধ শাবানের রাতে বার রাকাত নামায পড়বে-প্রতি রাকাতে কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’সূরাটি পড়বে ত্রিশ বার-তাহলে সে জান্নাতে তার আসন না দেখে বের হবে না।”

► হাদীসটির মান: এটি একটি মউযু বা বানোয়াট হাদীস। [পর্যালোচনা দেখুন-৪]

● ঘ) আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “এক রাতে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে (আমার ঘরে) না পেয়ে তাঁকে খুঁজতে বের হলাম। খুঁজতে খুঁজতে তাকে বাকী গোরাস্থানে পেলাম। তিনি আমাকে দেখে বললেন, “তুমি কি এ আশংকা কর যে, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তোমার প্রতি অবিচার করবেন?” আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমি ধারণা করে ছিলাম যে, আপনি হয়ত আপনার অন্য কোন স্ত্রীর ঘরে গিয়েছেন।
একথা শুনে তিনি বললেন: “আল্লাহ তায়ালা অর্ধ শাবানের রাতে নিচের আসমানে নেমে আসেন এবং কালব গোত্রের ছাগল সমূহের লোম সমপরিমান মানুষকে ক্ষমা করে দেন।”
► হাদীসটির মান: এটি যঈফ বা দুর্বল। [ পর্যালোচনা দেখুন-৪]

● ঙ) “রজব আল্লাহর মাস। শাবান আমার মাস এবং রামাযান আমার উম্মতের মাস।”
► হাদীসটির মান: এটি যঈফ বা দুর্বল। [ পর্যালোচনা দেখুন-৫]
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
টিকা:
[১] ইবনে মাজাহ, নামায অধ্যায়: নামায প্রতিষ্ঠা করা। ইমাম বুসীরী যাওয়ায়েদে ইবনে মাজাহ গ্রন্থে বলেন: উক্ত হাদীসের বর্ণনাসূত্রে একজন বর্ণনাকারী রয়েছে তার নাম ابن أبي سبرة ইবনে আবী সুবরাহ (তার প্রকৃত নাম: আবু বকর ইবনে আব্দুিল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবী সুবরাহ)।
ইমাম ইয়াহয়া ইবনে মাঈন এবং আহমদ বিন হাম্বল রাহ. বলেন, এ ব্যক্তি হাদীস তৈরি করত (অর্থাৎ জাল হাদীস বর্ণনা করত)। ইবনে হাজার আসকালানী রহ. তাকরীব কিতাবে (২/৩৯৭) বলেন, মুহাদ্দিসগণ এই ব্যক্তিকে হাদীস জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। উকাইলী ‘আল যুআফা আল কাবীর’ গ্রন্থে (২/২৭১) একই কথা বলেছেন।

[২ ] ইবনুল জাওযী উক্ত হাদীসটি মাওয়ুআত কিতাবে তিনটি সনদে উল্লেখ করে বলেছেন, এটি যে বানোয়াট তাতে কোন সন্দেহ নেই। তিনটি সনদেই এমন সব বর্ণনাকারী রয়েছে যাদের অধিকাংশরই পরিচয় অজ্ঞাত। আরও কতিপয় বর্ণনাকারী খুব দুর্বল। সুতরাং হাদীসটি নিশ্চিতভাবে জাল। অথচ আমরা অনেক মানুষকে দেখি যারা এ সারা রাত ধরে নামায পড়ার পর এদের ফজর নামায ছুটে যায় কিংবা সকালে যখন উঠে অলসতা সহকারে উঠে। কিছু মসজিদের ইমাম শবে বরাতের এ সব নামাযকে সাধারণ জনগণকে একত্রিত করার এবং এর মাধ্যমে নিজেদের রুটি-রুযি ও উন্নতির মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছে। এরা জনগণকে একত্রিত করে তাদের আলোচনা সভাগুলোতে বিভিন্ন কিচ্ছা-কাহিনী আলোচনা করে থাকে। মুলত: এ সবই ভ্রান্ত এবং হকের সাথে সম্পর্ক হীন।

ইব্‌নুল কায়্যেম জাওযিয়াহ আল মানারুল মুনীফ কিতাবে উক্ত হাদীসটি উল্লেখ করে বলেন: জাল হাদীস সমূহের মধ্যে অর্ধ শাবানের রাত্রের নামায পড়া সম্পর্কীত উক্ত হাদীসটি অন্যতম। এর পর তিনি বলেন: আজব ব্যাপার হল, কিছু মানুষ যারা হাদীসের কিছু ঘ্রাণ পেয়েছে তারাও এ সকল উদ্ভট হাদীস দেখে প্রতারিত হয়ে শবে বরাতের নামায পড়া শুরু করে দেয়।

অনুরূপভাবে ইমাম সুয়ূতী রা. উপরোক্ত হাদীসটি আল লাআলী আল মাসনূআ ’ কিতাবে উল্লেখ করে সেটিকে জাল বলে আখ্যায়িত করেছেন। তদ্রুপ ইমাম শাওকানী রা. এটিকে আল ফাওয়ায়েদুল মাজমূআহ কিতাবে জাল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

[৩] এ হাদীসটিও ইব্‌নুল জাওযী রা. তার আল মাওযূআত কিতাবে উল্লেখ করেছেন। এ হাদীসটিও জাল। এ হাদীসটির সনদে এমন একদল বর্ণনাকারী রয়েছে যাদের সকলের পরিচয় অজ্ঞাত। অনুরূপভাবে ইমাম সূয়ূতী রাহ. আল লাআলী কিতাবে এবং ইমাম ইব্‌নুল কয়্যেম রাহ. আল মানারুল মুনীফ কিতাবে উক্ত হাদীসটি উল্লেখ করে এটিকে জাল হাদীস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

[৪ ] তিরমিযী। অনুচ্ছেদ; অর্ধ শাবানের ব্যাপারে যা এসেছে। তবে তিনি নিজেই এর পরে উল্লেখ করেছেন, মুহাম্মাদ অর্থাৎ ইমাম বুখারী রাহ. কে বলতে শুনেছি তিনি এ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন।
ইমাম দারাকুতনী রাহ. বলেন: এ হাদীটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তবে সনদগুলো মুযতারাব এবং সুপ্রমাণিত নয়।
বর্তমান শতকের শ্রেষ্ঠ হাদীস বিশারদ আল্লামা আলবানী রাহ. ও এ হাদীসটিকে যঈফ বলে সাব্যস্ত করেছেন। দেখুন: সহীহ ওয়া যঈফ তিরমিযী, হাদীস নং ৭৩৯, মাকতাবা শামেলা)

[৫] ইমাম সুয়ূতী রাহ. কর্তৃক লিখিত আল জামিউল কাবীর বা জামউল জাওয়ামি’গ্রন্থে‘র ১২৮৩০ নং হাদীস। তিনি নিজেই বলেছেন: হাদীসটি মুরসাল। আরও হাদীসটি দায়লামী আনাস রা. থেকে বর্ণনা করেন। আল্লামা আলবানী রাহ. বলেন: হাদীসটি যঈফ বা দূর্বল। দেখুন: সিলসিলা যঈফা মুখতাসারাহ হাদীস নং ৪৪০০ মাকতাবা শামেলা।
------------------------
উৎস: ‘আল বিদাআতুল হাউলিয়াহ’ গ্রন্থ থেকে অনুদিত ও সংক্ষেপায়িত।
অনুবাদ ও গ্রন্থনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল (মাদানী)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

22/02/2024

পর্দা করা আমাদের সমাজে সহজ কোনো কাজ না। এক নারীর জন্য পর্দা করা রীতিমত এক যুদ্ধ করার সমতুল্য।

স্বাভাবিক বোরকা পড়া কিংবা মাথায় পট্টি বেধে ঘোরা এতটুকু পর্দা করলে বাহবা পাওয়া যায় সবার কাছেই। কারন এই সমাজে এতটুকু গ্রহন করে। বরং এই জন্য প্রশংসা ও শোনা যায়। সমস্যা হয় পরিপুর্ন পর্দার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে যাদের দেখা দেয়া জায়েজ নয় তাদের দেখা না দেয়া -শ্বশুর বাড়িতে নন মাহরাম ব্যক্তিদের থেকে এড়িয়ে চলা বা নিজেরই চাচাতো ভাই খালাতো ভাই কিংবা বোন জামাই অথবা ননমাহরাম আত্মীয়দের দেখা না দিলেই আবার মেয়ে খারাপ হয়ে যায়.. উগ্র হয়ে যায়। এক্ষেত্রে অনেক সময় নিজের বাবা মাও কথা শোনায়.! শ্বশুর শ্বাশুড়ীর কথা বাদই দিলাম..!

কারন এই সমাজে সাধারন পর্দা প্রসংশার বিষয় হলেও পরিপুর্ন পর্দা তাদের কাছে উগ্রতা বা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি মনে হয়।

কিন্তু ইমানের পরিক্ষাটা আমাদের এখানেই দিতে হয়..! এখানেই আমাদের ইমামি জজবার প্রকাশ ঘটে..! ধর্ম পালনে বাধা আসলে ইমানদার ব্যক্তির ধর্ম পালনের প্রতি জজবা বেশি তৈরি হয়। আর যে মোনাফেক টাইপের এই সময় যে সে তার ধর্ম ছুটে যায়।

পর্দা আসলে একটা ইমোশনাল একটা আমল।এটা অন্যে বলে কিংবা বাধ্য করে কখনই পরিপুর্ন করানো যায় না- সুযোগ পেলেই পর্দা শেষ.. "

কিন্তু যারা ইমানি জজবার কারনে পর্দা করে প্রতিকুল পরিবেশেও তাদের পর্দা ঠিক থাকে..!

শাইখ সুলাইমান আল-‘উলওয়ান (নাওয়ারা আল্লাহ ক্বলবাহু) যখন নিজ মায়ের মৃত্যুর পর প্যারোলে কারাগার থেকে কিছু দিনের জন্য মুক্তি পেয়েছিলেন, তখন জালিমের কারাগারে দিন কাটানো এক বোনের কথা বলেছিলেন।

শুধুমাত্র তার কারাগারের কক্ষে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাটির কারণে সেই বোন ৪ বছর মুখের ওপর থেকে তাঁর নিক্বাব সরান নি।

এই বোনের ইমামি জজবা দেখুন: অথচ প্রতিকুল পরিবেশে তার জন্য পর্দা না করার ওজর বিদ্যমান ছিলো..! কিন্তু তার ইমানি জজবা- তার আত্মমর্যাদাবোধ এই ওজরেও তাকে পর্দা করিয়েছে।

আর ভাবুন আমাদের দেশের বোনদের অবস্থা..! তারা নিজেরা কত অজুহাত পেশ করছে
স্বামী পর্দা করতে দেয় না- শশুড় বাড়িতে পর্দার পরিবেশ নাই..! ইত্যাদি ইত্যাদি- অথচ তারা স্বাধীন নারী।

কিছুদিন আগে সৌদির নিউজ দেখলাম; দুজন নারী পশ্চিমা ড্রেস পড়ে বের হয়ে সেটাই নিউজ।এরা পর্দা প্রথা ভেঙ্গে দিয়েছে-! এতদিন সৌদিতে পর্দা বাধ্য করা ছিলো - একটু শিথিল হওয়ার ফলেই কেউ কেউ সুযোগের সৎ ব্যবহার করেছে। এমনটা আমাদের দেশেও আছে - যেমন বছরের ৩০০ দিনই পরিপুর্ন পর্দা করা বোনটাও ক্লাসপার্টি -বিয়ের পার্টি কিংবা অন্য কোনো অনুষ্ঠানেই পুরো পর্দা থেকে মুক্ত হয়ে নায়িকা হয়ে উঠেন..!

এসব পর্দা আসলে পর্দাই না. পর্দা করার জন্য প্রয়োজন নিজের সৎ ইচ্ছা- কার জন্য পর্দা করছি সেটা বুঝা..!তাহলে যতই প্রতিকুল পরিবেশ হোক না কেন তখন ইমানি জজবার কারনেই এই পর্দার বিধান লঙ্ঘন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে..!

একটু ভাবুন- মহান রব আল্লাহর হুকুমের চেয়ে আর কার হুকুম বড়?
জাহান্নামের আগুন থেকে আর কোন পরিবেশ বেশি কষ্টদায়ক?
কিয়ামতের দিন লজ্জিত হওয়ার চেয়ে আর কোন পরিস্থিতি অধিক লজ্জার?

তাহলে কার ভয়ে কোন অজুহাতে এই পর্দায় শিথিলতা?

একবার সংকল্প নিন: পৃথিবী উলটে যাক.. কিন্তু মহান রবের এই হুকুমের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় হবে না। যে যা বলার বলুক..! জীবনে যা কিছু মনে চায় ঘটে যাক.. কিন্তু রবের হুকুম এই পর্দার সাথে কোনো আপোষ নেই। আপনার এই সংকল্পই আপনার ইমানকে বাড়িয়ে নিয়ে যাবে অনেক উচুস্থরে।
ইন শা আল্লাহ।

19/02/2024

চাশতের নামাজকে হাদীসে
‘সালাতুদ্‌ দুহা’ বলা হয়েছে।
‘দুহা’ শব্দের অর্থ ‘প্রভাত সূর্যের ঔজ্জল্য’,
যা সূর্য স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে শুরু হয়।

এই নামাজ প্রথম প্রহরের পর থেকে
দ্বিপ্রহরের পূর্বেই পড়া হয় বলে একে ‘সালাতুদ দুহা’ বা ‘চাশতের নামাজ’ বলা হয়।

নফল নামাজগুলোর মধ্যে
চাশতের নামাজ গুরুত্বপূর্ণ একটি।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এই নামাজ সব সময় পড়েছেন এবং সাহাবাদেরকে নিয়মিত পড়তে উপদেশও দিয়েছেন।

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে,
‘রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে
তিনটি বিষয়ে অসিয়ত করেছেন –
যা আমি মৃত্যু পর্যন্ত কখনো ছাড়বো না।
১. প্রতি মাসের তিন রোজা,
২. চাশতের নামাজ (সালাতুদ্‌ দুহা),
৩. এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে বিতর নামাজ আদায় করা।’
(বুখারী, হাদিস : ১১২৪; মুসলিম, হাদিস : ৭২১)

বুরাইদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে,
রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বলেছেন,
মানুষের শরীরে ৩৬০টি জোড় রয়েছে।
অতএব, মানুষের কর্তব্য হলো
প্রত্যেক জোড়ের জন্য একটি করে সদকা করা।’

সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) বললেন,
‘ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌! কার শক্তি আছে এই কাজ করার?’ তিনি (সাঃ) বললেন, ‘মসজিদে কোথাও কারো থুতু দেখলে তা ঢেকে দাও অথবা রাস্তায় কোনো ক্ষতিকারক কিছু দেখলে সরিয়ে দাও। তবে এমন কিছু না পেলে, চাশতের দুই রাকাত নামাজই এর জন্য যথেষ্ট।’ (আবু দাউদ, হাদীস : ৫২২২)

উপরোক্ত হাদীসটি মুলত চাশতের নামাজের অপরিসীম গুরুত্ব ও মাহাত্ম্যের কথাই তুলে ধরে। এর থেকে আরো বুঝা যায় যে, চাশতের নামাজ ৩৬০টি সাদাকার সমতুল্য।

চাশতের নামাজের রাকাত সংখ্যা:
চাশতের নামাজের সর্বনিম্ন ২ রাকাত পড়া যায়।
উপরে ৪, ৮, ১২ রাকাত পর্যন্ত হাদীসে পাওয়া যায়। মক্কা বিজয়ের দিন দুপুরের পূর্বে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আলী (রাঃ) এর বোন উম্মে হানী (রাঃ) এর গৃহে খুবই সংক্ষিপ্তভাবে ৮ রাকাত পড়েছিলেন।
সংক্ষিপ্তভাবে পড়লেও রুকু এবং
সিজদায় তিনি পূর্ণ ধীরস্থিরতা বজায় রেখেছিলেন এবং প্রতি দুই রাকাত অন্তর সালাম ফিরিয়ে ছিলেন।
(বুখারী, হাদীস : ২০৭)

হাদিস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আবু যর (রাঃ)-কে বলেছেন,
তুমি যদি চাশতের নামাজ দুই রাকাত পড়ো,
তাহলে তোমাকে গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।

আর যদি চার রাকাত পড়ো,
তাহলে তুমি নেককার মধ্যে গণ্য হবে।

আর যদি আট রাকাত পড়ো,
তবে সফলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

আর যদি দশ রাকাত পড়ো তাহলে
কেয়ামত দিবসে তোমার কোনো গুনাহ থাকবে না।

আর যদি বারো রাকাত পড়ো,
তাহলে আল্লাহ তোমার জন্য
জান্নাতে একটি বাড়ি তৈরি করবেন।’
(সুনানে কুবরা লিল-বাইহাকী, পৃষ্ঠা : ৩/৪৮)

চাশতের নামাযের নিয়ম:
চাশতের নামাজ অন্য যেকোনো দুই রাকাত বিশিষ্ট সুন্নত বা নফল নামাজ আদায়ের মতই।
কোনো নফল নামাজে যেমন দুই রাকাত পড়ে ডানে ও বামে সালাম ফিরিয়ে থাকেন, এখানেও তেমনই। হজরত ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
‘দিন ও রাতের নফল নামাজ দুই দুই রাকাত করে।’
(তিরমিযি, হাদিস : ৫৯৭; আবু দাউদ, হাদিস : ১২৯৫)

চাশতের নামাজের সময়:
চাশতের নামাজের সময়টা আমরা ধরে নিতে পারি সকাল ৯ : ০০ থেকে বেলা ১১ : ০০ পর্যন্ত।
সূর্যের তাপ যখন প্রখর হতে শুরু করে তখন এই নামাজ আদায় করা উত্তম।
কেননা, নবী কারীম (সাঃ) বলেছেন,
চাশতের নামাজ পড়া হবে যখন সূর্যের তাপ প্রখর হয়।’ (সহীহ্‌ মুসলিম, হাদীস : ৭৪৮)

বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন দিনের এক চতুর্থাংশ অর্থাৎ, দিনের চার ভাগের একভাগ পার হয় তখন এই নামাজ আদায় করা উত্তম। কাজেই, চাশতের নামাজ বা সালাতুদ্‌ দুহা আদায় করার উত্তম সময়টি হচ্ছে সূর্যোদয় এবং যোহর নামাযের মধ্যবর্তী সময়টা। (মাজমূ’ ফাতাওয়াহ্‌ লিল ইমাম আন-নাবাউয়ী, ৪/৩৬; আল-মাওসূ’য়াহ্‌ আল-ফিক্‌হিয়্যাহ্‌, ২৭/২২৪)

19/02/2024

বরাত অর্থ কী? এবং প্রকৃত ভাগ্য রজনী বা মুক্তি রজনী কোনটি?

বরাত শব্দের অর্থ: কপাল, ভাগ্য বা অদৃষ্ট। যেমন: বলা হয়, "বরাত মন্দ" (কপাল খারাপ), "বদ-নসিবের বরাত খারাব।” [জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, কবিতা: কামাল পাশা]

এর আরেকটি অর্থ, প্রতিনিধিত্ব বা দায়িত্ব ও কার্যভার। এখান থেকেই বলা হয়, বিয়ের বরাত অর্থাৎ বিয়ের ব্যাপারে কথাবার্তা বলার দায়িত্ব। আরেকটি অর্থ: বরযাত্রীদল। [বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান]

যাহোক, শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে আমাদের সমাজে "শবে বরাত" বা ভাগ্য রজনী বলে অভিহিত করা হয়। অর্থাৎ মানুষ মনে করে, শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে মানুষের ভাগ্য লেখা হয়। কিন্তু এ কথা ভুল। কেননা, মূলত ‘ভাগ্য রজনী’ হল, রমজান মাসের শেষ দশকের ‘শবে কদর’। কেননা, এ রাতেই মানুষের বাৎসরিক ভাগ্য বণ্টিত হয়। আর আমাদের অজানা নয় যে, তা রয়েছে রমজান মাসের শেষ দশকের কোন এক বেজোড় রাতে। মহাগ্রন্থ কুরআনে এই রাতকে ১০০০ মাসের থেকেও উত্তম বলা হয়েছে। [সূরাতুল কদরের ব্যাখ্যা পড়ুন]
আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ
“আমি ইহা (কুরআনুল কারিম) অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রাতে। কেননা, আমি মানুষকে সতর্ক কারী। এ রাতে প্রতিটি প্রজ্ঞা পূর্ণ বিষয় স্থির করা হয়।”

❑ এ 'বরতকময় রাত' দ্বারা কোন রাত উদ্দেশ্য?

অধিকাংশ তাফসির বিশারদগণ বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, শবে কদর/লাইলাতুল কদর-যা রমজান মাসে রয়েছে।

ইমাম ইবনে কাসির রহ. উক্ত আয়াতের তাফসিরে বলেন,

أي : في ليلة القدر يفصل من اللوح المحفوظ إلى الكتبة أمر السنة ، وما يكون فيها من الآجال والأرزاق ، وما يكون فيها إلى آخرها . وهكذا روي عن ابن عمر ، وأبي مالك ، ومجاهد ، والضحاك ، وغير واحد من السلف

“শবে কদর (কদরের রাতে) লাওহে মাহফুজ থেকে লেখক ফেরেশতাদের নিকট বছর ব্যাপী জীবন-মৃত্যু, রিজিক ইত্যাদি যা কিছু ঘটবে সেগুলো বণ্টন করা হয়। এমনটি বর্ণিত হয়েছে, ইবনে ওমর রা., আবি মালিক, মুজাহিদ, যাহহাক প্রমূখ একাধিক সালাফ থেকে।” [তাফসিরে ইবনে কাসির]

◆ এ রাতটিকে ‘অর্ধ শাবানের রাত’ বলা কুরআন বিরোধী:

যারা বলে, এ রাত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, ’লাইলাতুন নিসফে মিন শাবান’ বা অর্ধ শাবানের রাত তাদের কথা সঠিক নয়।
নিম্নে এ ব্যাপারে পর্যালোচনা উপস্থাপন করা হল:
- ইবনে কাসির রহ. বলেন, “উক্ত আয়াতে আল্লাহ তাআলা এ মর্মে সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি এ কুরআনকে এক বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছেন। আর সেটি হল কদরের রাত। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন,

إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْر

“আমি তো ইহা (কুরআন) কদরের রাতে অবতীর্ণ করেছি।” [সূরা কদর: ১] আর এ রাতটি ছিল রমজান মাসে। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন,

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ

“রমজান মাস হল, সে মাস যাতে আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি।” [সূরা বাকারা: ১৮৫] এ প্রসঙ্গে হাদিসগুলো সূরা বাকারায় উল্লেখ করেছি যা পুণরোল্লেখ করা নিষ্প্রয়োজন মনে করছি। আর যারা বলে যে, উক্ত রাতটি হল, অর্ধ শাবানের রাত-যেমন ইকরিমা বর্ণনা করেছেন-তাদের এ মত অনেক দূরবর্তী। কারণ, তা কুরআনের সুস্পষ্ট বক্তব্যের বিরোধী।" [তাফসিরে ইবনে কাসির, ৪র্থ খণ্ড ৫৭০ পৃষ্ঠা]

- যারা বলে, উক্ত আয়াতে বরকতময় রাত দ্বারা অর্ধ শাবানের রাত বলে থাকে তারা উক্ত আয়াতের তাফসিরে ইকরিমা থেকে বর্ণিত বক্তব্যটি দলিল হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি (ইকরামা) বলেন, “এ রাত হল, অর্ধ শাবানের রাত। এ রাতেই সারা বছরের সকল ফয়সালা চূড়ান্ত করা হয়…।” [আল জামিউল কুরতুবি, ১৬/১২৬।] কিন্তু এ দাবী মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ তা সরাসরি কুরআন বিরোধী। আর এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসগুলো সহিহ তো নয়ই বরং সেগুলো ভিত্তিহীন। যেমনটি ইবনুল আরবি প্রমুখ গবেষক আলেমগণ দৃঢ়তার সাথে বলেছেন। সেই সাথে সেগুলো কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক (যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে)।
সুতরাং অবাক হতে হয় সে সকল মুসলমানদের অবস্থা দেখে, যারা কুরআন ও সহিহ হাদিসের দলিল ছাড়া কুরআনের স্পষ্ট বক্তব্যের বিরোধিতা করে!" [তাফসিরে আযওয়াউল বায়ান, ৭/৩১৯]

সুতরাং শাবান মাসের ১৫ তারিখ রাতকে শবে বরাত বা ভাগ্য রজনী (অথবা মুক্তি রজনী) বলা নিতান্তই ভুল।

❑ এই রাতকে কেন্দ্র করে প্রচলিত বিদআতি কার্যক্রম:

তথাকথিত 'শবে বরাত' উপলক্ষে শাবান মাসের ১৪ তারিখে দিনে রোজা রাখা এবং রাতে বিশেষ ধরনের ইবাদত-বন্দেগি করা, ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়া, হালুয়া-রুটি খাওয়া, বিভিন্ন প্রাণীর মূর্তি সদৃশ বিভিন্ন মিষ্টান্ন দ্রব্য তৈরি করা, দল বেঁধে কবর জিয়ারত করা, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, দোকানপাট, মার্কেট ইত্যাদি আলোক সজ্জা করা, মাজারে আগরবাতি-মোমবাতি জ্বালানো, সম্মিলিত দুআ ও জিকিরের মাহফিল, মিলাদ মাহফিল, কাওয়ালি বা নাশিদ মাহফিল, এ উপলক্ষে গোসল করা, আতর-সুগন্ধি মাখা, নতুন জামা কাপড় পরা, চোখে কাজল লাগানো ইত্যাদি সব বিদআত। কেননা বিশেষভাবে এই সকল ইবাদতের পক্ষে কোন বিশুদ্ধ দলিল নেই। অনুরূপভাবে 'এ রাতে ভালো খাবার খেলে সারা বছর ভালো খাওয়া যাবে'-এমন বিশ্বাস নিতান্তই কুসংস্কার আচ্ছন্ন।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে সব ধরনের ভুল বিশ্বাস, বিদআতি কার্যক্রম এবং কুসংস্কার থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
- আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

19/02/2024

সকলের জানা জরুরি! একবার পড়ুন!

প্রশ্ন: রমজান মাসে কোনটির দিকে বেশি গুরুত্ব দিব? কুর'আনের অক্ষরের তিলাওয়াতের দিকে? নাকি অনুবাদসসহ তিলাওয়াতের দিকে?
উত্তর :
এক্ষেত্রে আলেমদের মাঝে দ্বিমত পরিলক্ষিত হয়। অনেক আলেম বলেছেন, এ মাসে অধিকমাত্রায় তিলাওয়াত করা উত্তম। আর অনেক আলেম বলেছেন কুরআনের অর্থ, ব্যাখ্যা জেনে কুরআন গবেষণার মনোভাব নিয়ে তিলাওয়াত করা অধিক উত্তম।
তবে দলিলের আলোকে ‘কুরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি এর মমার্থ জানার চেষ্টা করা অধিক উত্তম’ এটি অধিক অগ্রগণ্য মত বলে বিবেচিত হয়। কেননা,
◈ তিনি আরও বলেন,
كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِّيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ
“এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি বরকত হিসেবে অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং বুদ্ধিমানগণ যেন তা অনুধাবন করে।” [সূরা স্বদ:২৯]
◈ তিনি আরও বলেন,
أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَىٰ قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا
“তারা কি কুরআন সম্পর্কে গভীর চিন্তা করে না? না তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?” [সূরা মুহাম্মদ: ২৪]
◈ তিনি আরও বলেন,
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدىً لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ
“রমজান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী।” [সূরা বাকারা: ১৮৫]
কুরআনের মমার্থ জানার চেষ্টা ছাড়া তিলাওয়াত করলে সওয়াব অর্জন হলেও কুরআন থেকে হেদায়েত পেতে হলে এবং হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পাওয়া কুরআনের ব্যাখ্যা জানা ও কুরআন নিয়ে গবেষণা ছাড়া কী করে সম্ভব?
◈ সহীহ বুখারী ও মুসলিম বর্ণিত হয়েছে,
وكان جبريل يأتي النبي صلى الله عليه وسلم كل ليلة في رمضان فيدارسه القرآن . رواه البخاري- ومسلم
“জিবরাঈল আলাইহিস সালাম রমাযানের প্রতিরাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে তার সাথে কুরআন নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করতেন।”
◈ সহীহ বুখারীতেও বর্ণিত হয়েছে যে,
أن جبريل كان يعْرضُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْقُرْآنَ كُلَّ عَامٍ مَرَّةً ، فَعرضَ عَلَيْهِ مَرَّتَيْنِ فِي الْعَامِ الَّذِي قُبِضَ فِيهِ
জিবরাঈল আ. প্রতি রমজানে রাসূল সা. এর নিকট একবার করে পূরো কুরআন পেশ করতেন কিন্তু যে বছর তিনি মৃত্যু বরণ করেন সে বছর দুবার কুরআন পেশ করেছেন।” [বুখারী, হা/৪৬১৬]

এখান থেকে প্রমাণিত হয় যে, রমজান মাসে অধিক পরিমাণে কুরআন পাঠ করা, কুরআন খতম করা এবং কুরআন নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করা মুস্তাহাব।
তবে আমরা এভাবেও বলতে পারি যে, যারা কুরআনের ভাষা জানেন এবং কুরআন পড়ে তার মৌলিক মর্মবাণী উপলদ্ধি করতে সক্ষম তাদের জন্য বেশি বেশি তিলাওয়াত করা অধিক উত্তম। যেমন অনেক সালাফ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তারা রমজানে অধিকমাত্রায় কুরআন তিলওয়াতের দিকে ঝুঁকতেন। আর যারা কুরআনের ভাষা বুঝেন না এবং তিলাওয়াত করেই এর মমার্থ বুঝতে পারেন না তাদের জন্য তরজমা ও তাফসির জানার চেষ্টা করা সর্বাধিক উত্তম এতে কোন সন্দেহ নাই।
সুতরাং আমাদের করণীয় হল, রমজানে সাধ্যানুযায়ী অধিক পরিমানে কুরআন তিলাওয়াত করা সেই সথে কুরআনের তরজমা ও তাফসির জানার চেষ্টা করা।
মোটকথা, রমজান হল কুরআনের মাস। আমরা যেন বিশেষ করে এ মাসে কুরআন পাঠ, পঠন, শিক্ষাদান, মুখস্থ করণ, কুরআনের শিক্ষা পর্যালোচনার পাশাপাশি বাস্তব জীবনে তা বাস্তবায়নের প্রেরণা গ্রহণ করি সে জন্য আামাদের সর্বাত্মক তৎপরতা থাকা কতর্ব্য। আল্লাহ তাওফিক দানকারী। আল্লাহু আলাম।
-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

Want your school to be the top-listed School/college in Nawabganj?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address


Shibganj, Rajshahi
Nawabganj